বিদেশের খবর

বিদেশের খবর আমার কুষ্টিয়া হতে প্রকাশিত

২৫ বছরের দাম্পত্যজীবনের ইতি টানলেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী জেফ

২৫ বছরের দাম্পত্যজীবনের ইতি টানলেন আমাজনের প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোস ও লেখিকা ম্যাকেঞ্জি। বুধবার টুইটারে যৌথ বিবৃতিতে তারা বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন।

তাতে বলা হয়, আমরা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বন্ধু হিসেবে আমার সামনের দিনগুলো কাটাবো।

৫৪ বছর বয়সী বেজোস এখন বিশ্বের শীর্ষ ধনী। তার দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার খবর প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পরই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম তার নতুন প্রেমিকা নিয়ে খবর ছাপিয়েছে। সেই প্রেমিকার নাম লরেন সানচেজ।

লরেন সানচেজ পেশায় উপস্থাপক। এছাড়া অভিনয়, মডেলিং, প্রযোজনা ও উদ্যোক্তা হিসেবেও পরিচিতি আছে তার।

মার খেয়েও ক্যামেরা সরাননি নারী সাংবাদিক.....

চারপাশে তখন বিক্ষোভকারীদের তুলকালাম তাণ্ডব চলছে। তার মধ্যে দিয়েই ক্যামেরা কাঁধে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন এ ধার ও ধার। আর প্রতিটি মুহূর্তকে তিনি চটপট ক্যামেরাবন্দি করছেন।

বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে বাঁচলেন না তিনিও। কিল-চড়-ঘুসি আছড়ে পড়ল তাঁর উপর। সঙ্গে চলল চরম হেনস্থাও। ব্যথায় কঁকিয়ে উঠলেন। চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল। কিন্তু কাঁধ থেকে ক্যামেরা সরাননি।

 

এমনকি বিক্ষোভকারীরাও তাঁর জেদের সামনে হার স্বীকার করতে বাধ্য হন। শত হেনস্থা সয়েও নিজের কর্তব্যে কিন্তু অবিচল থেকেছেন শাজিলা আব্দুল রহমান।

কেরলের কৈরালি টিভি চ্যানেলের চিত্র সাংবাদিক শাজিলা। তুঁতে রঙের সালোয়ার পরা, ডান কাঁধে ক্যামেরা, লেন্সে চোখ স্থির রেখে ছবি তুলছেন— এমনই একটি ছবি ভাইরাল হয়। শাজিলার সেই ছবি ভাইরাল হওয়ার পরই তাঁর কর্তব্যে অবিচল থাকা এবং তাঁর সাহসিকাতার বিপুল প্রংশসা আছড়ে পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

শবরীমালা নিয়ে কেরলের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভকারীদের তাণ্ডব চলছে। প্রতিবাদ-বিক্ষোভে উত্তাল গোটা রাজ্য।হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো ১২ ঘণ্টার বন্‌ধের ডাক দিয়েছিল রাজ্যে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে সংবাদমাধ্যমও বাদ যায়নি বিক্ষোভকারীদের তাণ্ডব থেকে। কিন্তু শাজিলা সেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যে যেন পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে থেকে নিজের কাজটাই করে গিয়েছেন!

শবরীমালা মন্দিরে দুই মহিলার প্রবেশের পরেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কেরলে। বিক্ষোভ চলছিল তিরুঅনন্তপুরমেও। সেই তাণ্ডবের ছবিই তুলতে গিয়েছিলেন চিত্র সাংবাদিক শাজিলা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখেও তিনি সেই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি  করছিলেন। তাঁর উপর নজর পড়তেই রে-রে করে তেড়ে আসেন বিক্ষোভকারীরা। মারধর তো বটেই, চলে হেনস্থাও। ক্যামেরা কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। সেই অবস্থাতেই ছবি তুলে গিয়েছেন। তবে তাঁর ঘাড়ে, পিঠে আঘাত লেগেছে বলে সূত্রের খবর।

এর আগে মহিলা সাংবাদিকরা শবরীমালায় ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের রোষের মুখে পড়ে পিছু হাঁটতে হয়েছিল তাঁদের। তবে শাজিলা বিক্ষোভকারীদের রক্তচক্ষুকেও যেন তাঁর কর্তব্যের কাছে নতিস্বীকার করিয়ে ছেড়েছেন। চার দিকে এখন তাঁকে নিয়েই আলোচনা, তাঁর সাহসিকতার প্রশংসার ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে!

সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা

ইতিহাস তৈরি করে চাঁদের অন্ধকার পিঠে চীনের মহাকাশযান

ইতিহাস তৈরি করে চাঁদের অন্ধকার পিঠে চীনের পাঠানো মহাকাশযান চ্যাং ই ৪ সাফল্যের সঙ্গে অবতরণ করল। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে চীন এই যোগ্যতা অর্জন করল। এর ফলে চন্দ্র গবেষণায় নতুন দিক খুলে গেল বলে মনে করছে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা।

জানা গেছে, চীনের পাঠানো মহাকাশযান চাঁদের সাউথ পোলের এইটকেন বেসিনে অবতরণ করেছে। চাঁদের এই অংশটি অদেখা৷ পৃথিবী থেকে সবসময়ে চাঁদের একটি দিকই দেখতে পাওয়া যায়। তাই চাঁদের উল্টো পিঠ অর্থাৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন দিকে কী আছে তা জানতে উৎসুক সবাই।

গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছে, চাঁদের গায়ে বড় ও গভীর গর্তগুলি এই অংশে অবস্থিত। এখনও অবধি চাঁদের এই অংশটি বিজ্ঞানীদের কাছে অজানা ছিল। কিন্তু এদিন চীনের চন্দ্রযান সাফল্যের সঙ্গে সেখানে অবতরণ করায় সেই রহস্যের উপর থেকে পর্দা উঠতে চলেছে।

প্রথমে চীনের চন্দ্রচান চ্যাং ই ৪-এর সফল অবতরণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। চীনা সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমে চীনা ডেইলি ও সিজিটিএম প্রথমে ট্যুইট করে পরে তা মুছে দেয়। তার দু’ঘণ্টা পর সরকারি ভাবে এই খবরের সত্যতা স্বীকার করে নেওয়া হয়। চন্দ্র গবেষণায় নিঃসন্দেহে এটি একটি বড় মাইলস্টোন।

৯/১১ হামলা সংক্রান্ত গোপন নথিপত্র চুরি !

চুরি হয়ে গেল ৯/১১ হামলা সংক্রান্ত গোপন নথিপত্র। একাধিক বীমা ও আইনি সংস্থার সাইট থেকে সেগুলো চুরি করেছে হ্যাকাররা। মোট ১৮ হাজার গোপন নথি হাতিয়ে নিয়েছে তারা। মোটা টাকা না পেলে সব প্রকাশ করে দেবে বলে হুমকি দিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্তে নেমেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।

একজন হ্যাকারই গোটা ঘটনা ঘটিয়েছে, নাকি তাতে যুক্ত রয়েছে অনেকে, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। কারণ বর্ষবরণের রাতে হুমকি আসে ‘দ্য ডার্ক ওভারলর্ড’ নামের একটি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডল থেকে। চুরি করা তথ্য ও নথি শেয়ারের ওয়েবসাইট পেস্টবিনে ১৮ হাজার নথি চুরির কথা ঘোষণা করে তারা। তাতে ‘হিসকক্স’, ‘লয়েডস অফ লন্ডন’-এর মতো বেশ কিছু বিমা সংস্থা এবং আইনি সংস্থা ‘হাস্ক ব্ল্যাকওয়েল’-এর নাম উল্লেখ করে।

নিউ ইয়র্কের রিয়েল এস্টেট সংস্থা ‘সিলভারস্টাইন প্রপার্টিজ’, ২০০১ সালে হামলার আগে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের মালিকানা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব যাদের হাতে ছিল, তাদের কাছ থেকেউ গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতিয়ে নিয়েছে বলে দাবি করে ‘দ্য ডার্ক ওভারলর্ড।’তারা জানায়, ৯/১১ হামলা নিয়ে গোপনীয়তা রক্ষার চুক্তি আদানপ্রদান হয়েছিল ওই সংস্থাগুলোর মধ্যে। তাদের ই-মেইল হ্যাক করে সেইসব নথিপত্র হাতে চলে এসেছে দ্য ডার্ক ওভারলর্ড-এর। মোটা টাকা পেলে সব নথি গোপন রাখা হবে। নইলে প্রকাশ করে দেয়া হবে জনসাধারণের জন্য।

তবে নগদে নয় ক্রিপটোকারেন্সি বিটকয়েনে পুরো টাকাটা দিতে হবে বলে শর্ত রেখেছে তারা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবক’টি রাজ্যসহ আইসিস এবং আলকায়দার মতো উগ্রবাদী সংগঠনকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে তারা। মোটা টাকা পেলে যে কাউকেই সব নথি বিক্রি করে দেবে। তাদের ঘোষণার পর বুধবার বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে চুরি যাওয়া নথিপত্রের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে। যাতে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার নিয়ে কথোপকথন সামনে আসে। তবে তা থেকে গোপন চুক্তির ব্যাপারে সবিস্তারে কিছু জানা যায়নি। নথিপত্র হ্যাকের খবর নিশ্চিত করেছে ‘হিসকক্স’।

সংস্থার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘‘আমাদের আইনি পরামর্শ দেয় একটি সংস্থা। ৯/১১ হামলা সংক্রান্ত মামলা-মকদ্দমার দায়িত্বে ছিল তারা। গত এপ্রিল মাসেই ওদের প্রযুক্তি হ্যাক হয়ে গিয়েছে বলে জানতে পারি আমরা। তবে পরিকাঠামোগতভাবে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত নই আমরা। তাই সরাসরি আমাদের থেকে কিছু হাতিয়ে নিতে পারেনি হ্যাকাররা।’’ মার্কিন ও ব্রিটিশ প্রশাসনের সঙ্গে গোটা ঘটনার তদন্তে অংশ নেবে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে ‘হিসকক্স’-এর পক্ষ থেকে। তবে নথি চুরি যাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে ‘হাস্ক ব্ল্যাকওয়েল’ সংস্থা। এখন পর্যন্ত সেরকম কিছু চোখে পড়েনি বলে দাবি করেছে ‘লয়েডস অফ লন্ডন’ও। তবে তদন্ত শুরু করে দিয়েছেন গোয়েন্দারা।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ওসামা বিন লাদেনের নির্দেশে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিমান হামলা চালায় আলকায়দা সদস্যরা। তাতে প্রায় ৩ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। ২০১৯ সালের হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। যার পুরোটাই বীমা সংস্থাগুলোর ঘাড়ে। কিন্তু ওই বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির দায় নিতে রাজি হয়নি কেউই। তা নিয়ে মামলা-মকদ্দমা চলছে আজও।

পেঁয়াজের দাম শুনে কৃষকের মৃত্যু!

 ভারতের মধ্যপ্রদেশে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে, যা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এ কারণে পেঁয়াজের দাম কমে গেছে অনেকটাই।  এক কৃষক বাজারে গিয়ে জানতে পারেন পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৩ দশমিক ৭২ রুপি (পৌনে ৫ টাকা)। এ কথা শোনার সাথে সাথে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তিনি।

জানা গেছে, মধ্যপ্রদেশের ওই কৃষকের নাম বেহরুলাল মালব্য। তিনি ২৭ কুইন্টাল পেঁয়াজ বিক্রি করতে স্থানীয় মন্দসৌর মান্ডি বাজারে যান। বিক্রির পর জানতে পারেন প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ধরা হয়েছে মাত্র পৌনে ৫ টাকা। এই হিসেবে ২৭ কুইন্টাল পেঁয়াজ বিক্রি করে দাম পান মাত্র সাড়ে ১২ হাজার টাকা। এই সস্তা দামে বিক্রি করার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি ওই কৃষক।

বাজারের মধ্যেই বুকে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয় তার, হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা  তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

সৌদি আরব আমাদের খুব ভালো বন্ধু: ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘বিন সালমান সৌদি আরবের নেতা। তারা আমাদের খুব ভলো বন্ধু।’

সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র রিপোর্ট এবং সিনেটের বিরোধিতা সত্ত্বেও তিনি সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানের পাশে রয়েছেন।

সিআইএ’র সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে- জামাল খাশোগি হত্যার জন্য সৌদি যুবরাজ নিজেই নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে খাশোগি হত্যার ঘটনায় সৌদি যুবরাজের সমর্থন ছিল কিনা- ট্রাম্প তা বলতে চান নি। এর পরিবর্তে বার বার তিনি তেলসমৃদ্ধ সৌদি আরবের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়- সৌদি আরবকে সমর্থন করার অর্থ উচ্চাভিলাষি যুবরাজকে সমর্থন করা নয় কি?

জবাবে ট্রাম্প কোনো রাখঢাক না করেই বলেন, ‘বর্তমানে অবশ্যই তাই।’ খাশোগি হত্যার ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন সিনেটের ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছেন। নিজের দলের সিনেটররাও সৌদি যুবরাজকে অন্ধভাবে সমর্থন না করার জন্য ট্রাম্পকে পরামর্শ দিয়েছেন।

রাজ্যসভা নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবি

ভারতের পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) ছাপিয়ে অন্তত তিনটিতে এগিয়ে গেছে বিরোধীদল কংগ্রেস পার্টি। কংগ্রেসের সভাপতি পদে আসিন হওয়ার ঠিক এক বছর পূর্ণ হওয়ার দিনেই রাহুল গান্ধীর এ বিজয় পেয়েছেন। কংগ্রেস পার্টির কাছে এই হারের পাশাপাশি কোনো রাজ্যেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এই ফলাফলকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপির ভরাডুবি হিসেবেই দেখছে দেশটির গণমাধ্যমগুলো।

এদিকে, মঙ্গলবার রাতে হার মেনে টুইটারে কংগ্রেসকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মোদি।

রাজস্থান ও ছত্তিসগড়ে কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সরকার গঠনের পথে রয়েছে। মধ্যপ্রদেশের ফলও সেপথেই যাচ্ছে।

তেলেঙ্গানার নির্বাচনে অবশ্য দুই দলই চন্দ্রশেখর রাওয়ের তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির কাছে উড়ে গেছে।

এ রাজ্যগুলোর তুলনায় মিজোরামের চিত্র অবশ্য একেবারেই ভিন্ন। কেন্দ্রে বিজেপি’র মিত্র মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এমএনএফ)এখানে কংগ্রেসকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে।

লোকসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে গুরুত্বপূর্ণ এ রাজ্যগুলোতে এমন বাজে ফল বিজেপির জন্য অশনি সংকেত, বলছেন পর্যবেক্ষকরা।

যদিও এই ফলাফলের একদিন আগেও  বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলছিলেন, সব রাজ্যেই জিতবে বিজেপি। সকালে সংসদে গেলেও ভোটের ফল স্পষ্ট হওয়ার পর তাকে আর দেখা যায়নি। রাতে টুইট করে তেলেঙ্গানায় জয়ের জন্য চন্দ্রশেখর রাওকে ধন্যবাদ জানালেও তিন রাজ্যের হার নিয়ে কিছু বলেননি তিনি।

আর টুইট করে মোদি বলেন, নির্বাচনে হারজিত থাকবেই। তিন রাজ্যে বিজয়ের জন্য কংগ্রেসকে অভিনন্দন জানালেন এবং সেই সঙ্গে নিজেদের এমন দুর্দিনেও কংগ্রেসকে তেলেঙ্গানা ও মিজোরামে তাদের ব্যর্থতার কথাও মনে করিয়ে দিলেন মোদি।

এ ব্যাপারে রাহুল বলেন, ‘লড়াই চলবে, কিন্তু কাউকে দেশ থেকে মুছে ফেলা আমাদের লক্ষ্য নয়।’  তিন রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকেও তাদের কাজের জন্য ধন্যবাদ জানান রাহুল গান্ধী।

তুষারঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণ গেল ৩ জনের

যুক্তরাষ্ট্রে তুষারঝড়ে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে এই তুষারঝড় আঘাত হেনেছে। তুষারঝড় ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ওই অঙ্গরাজ্যগুলোতে লাখো বাড়িঘর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, নর্থ ক্যারোলিনায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। সপ্তাহজুড়েই কিছু এলাকায় ১৮ দশমিক ৫ ইঞ্চি তুষারপাত হয়েছে।

নর্থ ও সাউথ ক্যারোলিনা, তেনেসে, ভার্জিনিয়া ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার দক্ষিণাঞ্চল ভয়াবহ তুষারঝড়ের কবলে পড়েছে। কয়েক হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

নর্থ ক্যারোলিনার গভর্নর রয় কোপার জানান, কয়েকটি এলাকায় একদিনেই যে পরিমাণ তুষারপাত হয়েছে তা এক বছরের তুষারপাতের সমান।

সব দেশেরই তেল রফতানি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ইরানের তেল রফতানি বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব নয়। এ কোনও প্রচেষ্টা চালানো হলে পারস্য উপসাগর দিয়ে সব দেশেরই তেল রফতানি বন্ধ করে দেওয়া হবে। গত মঙ্গলবার টিভিতে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে তিনি এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। রুহানি বলেন, আমেরিকার জানা উচিৎ, ইরানের তেল রফতানি অব্যাহত থাকবে। তাদের পক্ষে এটি থামিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তারা ইরানের তেল রফতানি বন্ধ করতে গেলে পারস্য উপসাগর দিয়ে সব ধরনের তেল সরবরাহ ব্যবস্থাই বন্ধ হয়ে যাবে। ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে ট্রাম্প প্রশাসন বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। ২০১৮ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ওই চুক্তি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব হ্রাস এবং দেশটির তেল রফতানি শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনাই এ নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য। এর প্রেক্ষিতেই ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমেরিকার পক্ষে অর্থনৈতিকভাবে পুরো দুনিয়া থেকে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা সম্ভব নয়। মার্কিন হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সিনিয়র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেকারচি। তিনি বলেন, ‘ইরানের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা নীতির আলোকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাসহ অন্যান্য সমরাস্ত্রের সক্ষমতা শক্তিশালী করা হচ্ছে। আমরা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও পরীক্ষা চালিয়ে যাবো।’ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও অভিযোগ করেছেন, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ২০১৫ পরমাণু চুক্তির  লঙ্ঘন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইরানবিষয়ক কর্মকর্তা ব্রায়ান হুক সাংবাদিকদের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করতে আগ্রহী। কিন্তু প্রয়োজনে সামরিক ব্যবাস্থা গ্রহণে পিছপা হবে না দেশটি। সে সংক্রান্ত প্রস্তাবও বিবেচনায় আছে। জেনারেল শেকারচি বলেন, “এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় বলে যেকোনো ধরনের আলোচনার কাঠামো থেকে এ বিষয়টিকে বাইরে রাখতে হবে। আমরা প্রতিরক্ষা নীতিতে অন্য কোনো দেশের কাছ থেকে অনুমতি নেব না।” ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এই মুখপাত্র বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোকে তেহরান এই বলে আশ্বস্ত করেছে যে, সেসব দেশের প্রতি আগ্রাসন চালানোর কোনো ইচ্ছে ইরানের নেই। শুধু আত্মরক্ষার জন্য প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করছে তেহরান।

নিউ ক্যালেডোনিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প

 নিউ ক্যালেডোনিয়া উপকূলে গতকাল বুধবার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূপৃষ্ঠের স্বল্প গভীরে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির রিখটার স্কেলে তীব্রতা ছিল ৭.৫। এতে সুনামি সতর্কতা জারি এবং লোকজনকে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ একথা জানায়। খবর এএফপি’র। প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, এ অঞ্চলে সুনামি ঢেউ ‘পর্যবেক্ষণ’ করা হচ্ছে। তবে কোথায় সে ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। কেন্দ্র জানায়, সর্বোচ্চ তিন মিটার উচ্চতার সামুদ্রিক ঢেউয়ের আঘাত হানার সম্ভাবনা থাকায় নিউ ক্যালেডোনিয়ার বাসিন্দাদের দ্রুত বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে নিউ ক্যালেডোনিয়া ও পার্শ্ববর্তী ভানুয়াতুর লোকজন জানায়, তাদের কাছে ভূমিকম্প অনুভূত হয়নি। ভানুয়াতুতে তাৎক্ষণিকভাবে সুনামি সতর্কীকরণের সাইরেন বাজানো হয়নি। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নউমিয়ার ৩শ’ কিলোমিটার পূর্বে। এদিকে নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ এ ভূমিকম্পের পর একই ধরনের সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। ভূমিকম্পের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোন খবর পাওয়া যায়নি।

২০১৯ শে সামরিক মহড়া চালানোর ঘোষণা রাশিয়ার

 সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে ২০১৯ সালে চার হাজার সামরিক মহড়া চালানোর ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। মস্কোতে রাশিয়ার সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে এ বিষয়ে কথা বলেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০১৯ সালে বিভিন্ন মাত্রার চার হাজার সামরিক মহড়া চালাবে রাশিয়া। সবচেয়ে বড় মহড়াটি হবে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে। গত গত মঙ্গলবার রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস (আইএনএফ) নামের রুশ-মার্কিন পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার পরিকল্পনার প্রেক্ষিতে মস্কো এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০১৮ সালের ২১ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ২০১৮ সালৈ সামরিক খাতে ৭১৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৬০ লাখ ৩৫ হাজার ৪১৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও রাশিয়ার বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র সীমিতকরণ চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন। ‘ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্স-আইএনএফ’ নামের ওই চুক্তি মেনে চলতে তিনি  রাশিয়াকে ৬০ দিন সময় দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার ব্রাসেলসে সামরিক জোট ন্যাটোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে পম্পেও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আজ ঘোষণা দিচ্ছে যে, তারা রাশিয়ার ওই চুক্তি ভঙ্গের বাস্তব প্রমাণ পেয়েছে। রাশিয়া যদি পূর্ণ ও যাচাইযোগ্যভাবে ওই চুক্তিতে ফিরে না আসে তাহলে ৬০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তার বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করবে।’ তিনি বলেন, ‘অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বাধ্যবাধকতার ব্যাপারে রাশিয়ার প্রতারণাকে আমাদের অবশ্যই মোকাবিলা করতে হবে।’ পম্পেও বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এখনও আশাবাদী। রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার এমন সম্পর্ক রয়েছে যাতে দেশটি লাভবান হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করার দায়িত্ব রাশিয়ার ওপর বর্তায়। শুধু তারাই এই চুক্তি বাঁচাতে পারে।’ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যদি রাশিয়া তাদের লঙ্ঘনের বিষয়টি স্বীকার করে এবং পূর্ণ ও যাচাইযোগ্য প্রক্রিয়ার ফিরে আসতে চায়, তাহলে আমরা অবশ্যই সেই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাবো।’ মাইক পম্পেও’র এই মন্তব্যের আগে সামরিক ন্যাটোর পক্ষ থেকেও রশিয়ার বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এক বিবৃতিতে ন্যাটো বলেছে, ‘আমরা রাশিয়াকে পূর্ণ ও যাচাইযোগ্যভাবে চুক্তিতে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

এখন আইএনএফ চুক্তি সংরক্ষণ করার দায়িত্ব রাশিয়ার।’ ১৯৮৭ সালে আইএনএফ নামের মাইলফলক চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা মিখাইল গর্ভাচেভ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান। এ চুক্তির মাধ্যমে ৫০০ থেকে সাড়ে ৫ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে মাঝারি দূরত্বের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ নিষিদ্ধ করা হয়।

আফগানিস্তান ইস্যুতে সাহায্য চেয়ে ইমরানকে ট্রাম্পের চিঠি

আফগানিস্তানে যুদ্ধের অবসান করে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সাহায্য চেয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার (৩ ডিসেম্বর ) এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইমরানকে লেখা চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুদ্ধে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র দু’দেশেরই  ক্ষতি হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, একইসঙ্গে ট্রাম্প পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে এবং একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের এই চিঠিকে স্বাগত জানিয়েছে।  গত আগস্টে ইমরান খান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম ট্রাম্প তাকে চিঠি দিলেন।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী রয়টার্সকে ট্রাম্পের চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তার কাছ থেকে আমরা একটি চিঠি পেয়েছি। চিঠিতে তিনি আফগান সরকারের সঙ্গে তালেবানকে আলোচনায় বসাতে পাকিস্তানের সহযোগিতা চেয়েছেন।

এ চিঠির বিষয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, আফগান নিরাপত্তা বা

ইরান ইস্যুতে পম্পেওয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন নেতানিয়াহু

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওয়ের সঙ্গে ইরানসহ আঞ্চলিক নানা ইস্যু নিয়ে কথা বলতে তার সঙ্গে বৈঠক করছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়। ইরানের পরমাণু পরীক্ষা নিয়ে প্রকাশ্যেই বিরোধিতা করে আসছেন নেতানিয়াহু ও পম্পেও। শনিবার ইরানের পরীক্ষা নিয়েও নিন্দা জানিয়েছেন পম্পেও। বৈঠক শুরুর আগে নেতানিয়াহু বলেন, ‘এই অঞ্চলে সিরিয়া, ইরাক ও লেবাননসহ অন্যান্য দেশে ইরানের আগ্রাসন কিভাবে কমানো যায় সেই বিষয়টিই আলোচনা করবো আমরা। প্রায়ই এমন আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে ইরানকে চাপে ফেলার চেষ্টা করেন নেতানিয়াহু। সিরিয়ায় ইরানের ঘাঁটি স্থাপনকেও আঞ্চলিক হুমকি বিবেচনা করে ইসরায়েল। গত সপ্তাহেই এই বৈঠকের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানান এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা।

মেক্সিকোয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: ৬ পুলিশ নিহত

মেক্সিকোতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৬ পুলিশ নিহত হয়েছে। সোমবার দেশটির জালিসকো প্রদেশে এ ঘটনা ঘটেছে। জালিসকো প্রদেশ কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার বর্বরোচিত বন্দুক হামলায় ৬ পুলিশ নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো এক ব্যক্তি।

প্রাদেশিক পুলিশ বলছে, হামলায় কারা জড়িত তা এখনও জানা যায়নি। তবে মেক্সিকোর প্রভাবশালী মাদকচক্র জালিসকো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজেএনজি) এ হামলায় জড়িত থাকতে পারে।

মার্কিন বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ২৩

আফগানিস্তানে একটি বেসামরিক আবাসিক এলাকায় মার্কিন বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হেলমান্দে তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে আফগান সৈন্যদের এক সংঘর্ষের সময় মার্কিন বাহিনী ওই হামলা চালায়।

মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো বলেছে, আফগান সেনা ও তালেবানের মধ্যে সংঘর্ষের সময় আফগান সৈন্যরা সাহায্য চাইলে ওই বিমান হামলা চালানো হয়।

স্থানীয়দের দাবি, মার্কিন হামলায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ৩০ জন। মার্কিন বাহিনী এর আগেও বিমান হামলা চালিয়ে বেসামরিক মানুষ হত্যা করেছে। সামরিক হোক আর বেসামরিক হোক, মার্কিনিদের লক্ষ্য হলো মুসলমানদের হত্যা করা।

খাশোগি হত্যা : ১৭ সৌদি নাগরিকের ওপর কানাডার নিষেধাজ্ঞা

সৌদির ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ সৌদি নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কানাডা। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিসটিয়া ফ্রিল্যান্ড এক বিবৃতিতে জানান, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং তাদের কানাডায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

কানাডা ছাড়া আরও কিছু দেশও খাশোগি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ২১ সৌদি নাগরিককে চিহ্নিত করে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চিহ্নিত ওই ব্যক্তিদের ভিসা বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়। তবে ওই ২১ জনের নাম পরিচয় এখনও প্রকাশ করেনি তারা।

এছাড়া সৌদির ১৮ নাগরিকের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জার্মানি। ওই ১৮ জন জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের শেনজেন জোনে প্রবেশ করতে পারবেন না বলে জানানো হয়।

গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন জামাল খাশোগি। প্রথমে তার বিষয়ে মুখ না খুললেও পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তাকে হত্যার কথা স্বীকার করে নেয় সৌদি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত জামাল খাশোগির লাশ পাওয়া যায়নি।

এদিকে, খাশোগি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন ফরাসী প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাঁক্রো। বৃহস্পতিবার আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনাস আয়ার্সে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ম্যাঁক্রো বলেন, জি২০ সম্মেলনের ফাঁকে এ বিষয়ে ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হবে, এ বিষয়ে আমার কোন সন্দেহ নেই।

রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট: পুতিনের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করবেন ট্রাম্প!

ইউক্রেন-রাশিয়ার চলমান সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শীর্ষ সম্মেলন বাতিল হয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সংকট রাশিয়ার সঙ্গে ‘পূর্ণ যুদ্ধ’ বাধিয়ে দিতে পারে ইউক্রেন এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করার পর ট্রাম্প এ মন্তব্য করলেন।

এদিকে মস্কো জানিয়েছে, তারা শিগগির অধিকৃত ক্রিমিয়ায় আরো অত্যাধুনিক এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করবে।

এ সপ্তাহের শেষ নাগাদ আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসে জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক করার কথা ছিল। তবে ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, পুরো বিষয়টিই নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রাশিয়ার ইউক্রেনের জাহাজ জব্দ করা নিয়ে কী প্রতিবেদন দেবেন তার ওপর। ওয়াশিংটন পোস্টকে গত মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘আমি হয়তো ওই বৈঠকে বসব না।’

এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেংকো হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, দুই সাবেক সোভিয়েত প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ‘আমি চাই না কেউ ভাবুক এটা নেহাতই ছেলেখেলা। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার হুমকির মধ্যে রয়েছে ইউক্রেন।’ তিনি জানান, ইউক্রেনের সঙ্গে সীমান্তে রাশিয়ার সেনা মোতায়েন ‘নাটকীয়ভাবে বাড়ানো’ হয়েছে। রাশিয়া গত রবিবার ইউক্রেনের ২৪ নাবিকসহ তিনটি জাহাজ জব্দ করার পর তিনি এসব কথা বলেন।

এদিকে গত মঙ্গলবার রাশিয়া অধিকৃত ক্রিমিয়ার প্রধান শহর সিফেরোপোলের আদালত আটক নাবিকদের মধ্যে ১২ জনকে দুই মাসে বিচারপূর্ব আটকাদেশ দিয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি আরো তিন নাবিককেও দুই মাসের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে। বাকিদের গতকাল বুধবার আদালতে হাজির করা হয়। এই পদক্ষেপ কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দেবে। রাশিয়ার দাবি নাবিকরা ইউক্রেনের জলসীমা অতিক্রম করে রাশিয়ায় ঢুকে পড়ায় জাহাজগুলো জব্দ করা হয়েছে। কিয়েভ আটক নাবিকদের মুক্তি চেয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর করার দাবি জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর রাশিয়ার তৎপরতাকে ‘ভয়ংকর’ হিসেবে অভিহিত করে ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য তাদের ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানায়।

এদিকে রাশিয়ার এক সামরিক কর্মকর্তা গতকাল জানান, মস্কো শিগগির ক্রিমিয়ায় আরো অত্যাধুনিক এ-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করবে। আরআইএ নভোস্তি সংবাদ সংস্থা জানায়, এ বছরের শেষ নাগাদ এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ওই উপদ্বীপে আগে থেকেই তিনটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে।

রাশিয়া ক্রিমিয়া দখলের পর সমুদ্রে এটিই প্রথম বড় ধরনের সংকট। ক্রিমিয়া সংকট নিয়ে ২০১৪ সালের পর থেকে অন্তত ১০ হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছে।

১৭৯ যাত্রী নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের বিল্ডিংয়ে ধাক্কা

১৭৯ আরোহী নিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান। সুইডেনের স্টকহোম আরলান্ডা বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিমানটির ডানা পাশের একটি ভবনকে আঘাত করে।

সুইডেনের স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টা দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

জানা গেছে, বুধবার দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ১৭৯ জন যাত্রী নিয়ে ফ্লাই করে এয়ার ইন্ডিয়ার ওই বিমান। স্টকহোমের আরলান্ডা বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিল্ডিংয়ের সঙ্গে বিমানটির ধাক্কা লাগে। এতে বিমানের একটি ডানা দেয়ালে ঘষা খায়। দুর্ঘটনার পর আরোহীদের জরুরি নির্গমন পথ দিয়ে বের করে আনা হয়। এরপর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে।

স্থানীয় পুলিশ জানায়, অবতরণের সময় বিমানটির ডানা বিমানবন্দরের পাশের একটি ভবনকে আঘাত করে। তবে দুর্ঘটনার কারণ এখনও জানা যায়নি।

মানসিক বিকারগ্রস্ত ঘটনা: মায়ের লাশের সঙ্গে ছেলের সেলফি!

 সেলফির জনপ্রিয়তা দিনদিন বেড়েই চলেছে। কয়েক বন্ধু এক হলেই পকেট থেকে স্মার্টফোন বের করে ‘হয়ে যাক সেলফি’। সঙ্গে সঙ্গে তা আপলোড হয়ে যায় ফেসবুকে। এরপর চলতে থাকে লাইক আর কমেন্ট।

পথে ঘাটে, মাঠে, শপিংমলে, ড্রয়িংরুমে, বিয়েবাড়ি, পিকনিকসহ নানা অনুষ্ঠানে সেলফি তোলা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন মৃত মায়ের সঙ্গে সেলফি তোলার কথা।

হ্যা, এমন মানসিক বিকারগ্রস্ত ঘটনাও এখন ঘটছে।

ভারতে মৃত মায়ের সঙ্গে সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছে এক যুবক। এ নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।

কলকাতার পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের বাসিন্দা গণেশ দাস। মৃত মায়ের সঙ্গে তোলা সেই সেলফি তিনি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করার পর সেই ছবি ভাইরাল হয়েছে।

গণেশ দাস সোনার গয়না তৈরির কাজ করেন। থাকেন অন্য রাজ্যে। গত বুধবার রাতে তার মা মারা যান। খবর পেয়ে বাড়ি ফেরেন গণেশ। এর মধ্যে তার ভাই-বোনেরা মায়ের দেহ নিয়ে শ্মশানে পৌঁছে যায়।

গণেশ বাড়ি ফিরে শ্মশানে ছোটেন। গীতার দেহ তখনও দাহ করা হয়নি। দাহ করার জন্য বাঁশের খাটিয়াতে শায়িত রয়েছে মায়ের লাশ। সেই মরদেহের সঙ্গেই সেলফি তোলেন গণেশ।

বিশ্বের শক্তিশালী ২৫ সেনাবাহিনীর তালিকা প্রকাশ

২০১৮ সালের সেরা ২৫ সেনাবাহিনীর তালিকা প্রকাশ করল গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার সংস্থা। দেখে নেওয়া যাক কারা জায়গা করে নিল সেরা পঁচিশে। তালিকা বানানোর সময় মোট ৫৫টি বিষয়কে মাথায় রাখা হয়েছে। ১৩৬টি দেশের তুল্যমূল্য বিচারের পরই ২০১৮ সালের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করেছে গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার। সেনাবাহিনীর সংখ্যার পাশাপাশি অস্ত্রের বৈচিত্রের বিষয়টিও মাথায় রাখা হয়েছে।

পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক সম্পদ, শিল্প পরিস্থিতি, পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়টিও তালিকা তৈরির সময় বিবেচনা করা হয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে বোনাস পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের বিষয়টিকে কোন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, সেক্ষেত্রে মেলেনি কোন অতিরিক্ত পয়েন্ট।

দেশের অর্থনীতিকে বিবেচনা করা হলেও রাজনৈতিক ক্ষমতা কার হাতে আছে, সেই বিষয়টিকে তালিকা তৈরির সময় কোন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। নিজেদের মধ্যে কৌশলগত যোগাযোগের কারণে ন্যাটো গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলোকে কিছু অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধে দেওয়া হয়েছে পয়েন্ট দেওয়ার সময়। ২০০৬ সাল থেকে এই তালিকা বানাচ্ছে গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার।

সেরা পঁচিশে জায়গা করে নিয়েছে এশিয়ার ১১টি দেশ, উত্তর আমেরিকার দু’টি, ইউরোপের আটটি, আফ্রিকার দু’টি, দক্ষিণ আমেরিকার একটি দেশ এবং অস্ট্রেলিয়া। সামরিক শক্তির দিক থেকে সেরা পঁচিশের তালিকায় ২১, ২২, ২৩, ২৪ এবং ২৫তম স্থানে আছে অস্ট্রেলিয়া, পোল্যান্ড, আলজেরিয়া, তাইওয়ান এবং কানাডা।

তালিকায় ১৬, ১৭,১৮,১৯ এবং ২০তম স্থানে আছে ইসরায়েল, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া, স্পেন এবং ভিয়েতনাম। পরমাণু অস্ত্রধর দেশ হওয়ার জন্যই সেরা পঁচিশে ঢুকে পড়েছে পাকিস্তান, এমনটাই জানিয়েছে গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার।

তালিকায় ১১, ১২, ১৩,১৪ এবং ১৫ নম্বর স্থানে আছে ইতালি, মিশর, ইরান, ব্রাজিল এবং ইন্দোনেশিয়া। দক্ষিণ আমেরিকার একমাত্র দেশ হিসেবে এই তালিকায় ঢুকে পড়েছে ব্রাজিল। প্রথম পনেরোতে জায়গা করে নিয়েছে এশিয়ার দুই দেশ ইরান এবং ইন্দোনেশিয়াও।

ছয় থেকে দশে ইউরোপীয় শক্তিরই প্রাধান্য। যারা অধিকাংশই ন্যাটো গোষ্ঠীভুক্ত দেশ। ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম এবং দশ স্থানে আছে যথাক্রমে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, তুরস্ক এবং জার্মানি।

পঞ্চম স্থানে আছে ইউরোপের আরেক শক্তি ফ্রান্স। আর চতুর্থ স্থানে ভারত। তালিকায় প্রথম তিনটি দেশ হল আমেরিকা, রাশিয়া আর চীন।

এইচআইভি সম্পর্কে কয়েকটি ভুল ধারণা জেনে নিন

বিশ্বব্যাপী এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত সাড়ে তিন কোটি (৩৫ মিলিয়ন) মানুষ মারা গেছে বলে জানাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এর মধ্যে শুধুমাত্র গত বছরই মারা গেছে দশ লাখ। বিশ্বব্যাপী আরও তিন কোটি সত্তর লাখ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত রয়েছেন।

আর প্রতি বছর নতুন করে আরও ১৮ লাখের মতো মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন।

এইচআইভি ভাইরাস থেকেই শুধুমাত্র আপনি এইডস আক্রান্ত হবেন।

এটি বিশ্বের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য বিষয়ক সংকটগুলোর একটি।

১৯৮০ সাথে প্রথম এই ভাইরাসটি ছড়াতে শুরু করেছে বলে জানা যায়। সে সময় থেকে এটি নিয়ে বিচিত্র সব ধারণা তৈরি হতে থাকে যার অনেকগুলোই একেবারে ভ্রান্ত।

আক্রান্তদের সাথে সাধারণ মেলামেশা

২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যার ২০ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করতো যে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্পর্শ করলে বা তার ত্বক ও মুখের লালা দ্বারা আপনিও আক্রান্ত হবেন।

কিন্তু এটি কোন ছোঁয়াচে রোগ নয়। একই বাতাসে নিশ্বাস নিলে, হাত মেলালে, জড়িয়ে ধরলে, চুমু খেলে, একই পাত্রে খাবার খেলে, পানি খেলে, আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত ব্যক্তিগত সামগ্রী ব্যবহার করলে, তার ব্যবহৃত টয়লেট ব্যবহার করলে আপনিও এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হবেন না।

এর নিরাময় সম্পর্কে প্রচলিত কিছু মিথ

আফ্রিকার কিছু দেশ, ভারত ও থাইল্যান্ডে অনেকের বিশ্বাস তৈরি হয়েছিলো যে আক্রান্ত হওয়ার পর কুমারী মেয়ে বা যৌন সম্পর্কের কোন অভিজ্ঞতা নেই এমন কারোর সাথে যৌন মিলনে এই ভাইরাস দুর হয়ে যায়।

কিন্তু এটি একেবারেই ভুল ধারনা। এতে বরং কুমারীরা আক্রান্ত হয়।

এই অঞ্চলে এই বিশ্বাসের কারণে কুমারীদের ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

১৬শ শতকে ইউরোপে সিফিলিস ও গনোরিয়া আক্রান্ত হলে একই ধরনের বিশ্বাস প্রচলিত ছিল।

তবে সেক্ষেত্রেও কুমারীদের সাথে যৌন মিলন কার্যকর নয়।

মশা দ্বারা কি এটি ছড়ায়?
মশা একই ঘরে থাকা মানুষজনে কামড়াতে থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ে যদি অন্য কামড়ায় তাহলেও এটি ছড়াতে পারে সেটি ভুল ধারনা।

যৌন মিলনের পর স্নান করলে এইচআইভি ভাইরাস পরিষ্কার হয় এই ধারনাও একেবারেই ভুল।

যদিও রক্তদ্বারা এই ভাইরাস ছড়ায় কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে মশা বা রক্ত খায় এমন কিট দ্বারা আপনি আক্রান্ত হবেন না।

তার দুটি কারণ। একটি হল একজনের শরীর থেকে রক্ত খেয়ে সে সেই রক্ত দ্বিতীয় কোন ব্যক্তির শরীরে ইনজেকশন দেয়ার মতো করে রক্ত ঢুকিয়ে দেয়না।

আর মশা বা অন্য কিটের শরীরে এই জীবাণু খুব সামান্য সময় বেচে থাকে।

ওরাল সেক্সে কি এটি হতে পারে?
আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে ওরাল সেক্স অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ। তবে এইচআইভি পজিটিভ নারী বা পুরুষের সাথে ওরাল সেক্সের মাধ্যমে আক্রান্ত হওয়া সম্ভব। কিন্তু এর হার খুব বিরল।

কনডমেও রয়েছে ঝুঁকি
কনডম ব্যবহার করলে এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার কোনই সম্ভাবনা এমন ধারনাও ঠিক নয়। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে যৌন মিলনের সময়ে কনডম ফুটো হয়ে গেলে আপনি বিপদে পড়তে পারেন।

তাই ইদানীং এর প্রতিরোধ বিষয়ক প্রচারণায় শুধু কনডম ব্যবহারে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে তা নয়, নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার ব্যাপারেও উৎসাহিত করা হচ্ছে।

এর আরেকটি কারণ হল আক্রান্ত প্রতি চারজন ব্যক্তির অন্তত একজন জানেননা যে তার এই শরীরে এটি রয়েছে। যাদের সংখ্যা এক কোটি।

সে হয়ত নিজের অজান্তে অন্যকে আক্রান্ত করছে।

কোন লক্ষণ না থাকলে কি ঘটে?
কোন লক্ষণ দেখা না দিলে এইচআইভি আক্রান্ত নন এটিও ভুল ধারনা। এই জীবাণুতে আক্রান্ত হওয়ার পরও একজন ব্যক্তির শরীরে দীর্ঘ দিন কোন রকমের লক্ষণ দেখা নাও দিতে পারে।

এভাবে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি দশ থেকে পনেরো বছরও বেঁচে থাকতে পারেন।

এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার পর শুরুর কয়েকটি সপ্তাহের মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জার ভাব দেখা দিতে পারে, হালকা জ্বর, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীরে র‍্যাশ দেখা দিতে পারে।

অন্যান্য লক্ষণগুলো দেখা দেবে যখন ধীরে ধীরে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করাই এইচআইভির মুল বিপদ।

প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকলে কাশি, ডাইরিয়া, লিম্ফ নোড বা চামড়ার নিচে ফুলে যাওয়া গোটার মতো দেখা দেবে, ওজন কমে যাবে।

চিকিৎসার অভাবে আরও ভয়াবহ অসুখও হতে পারে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে সামান্য অসুখেও মৃত্যুর সম্ভাবনা তৈরি হয় যদি তার চিকিৎসা না নেয়া হয় কারণ শরীর তার স্বাভাবিক নিয়ে আর অসুখের সাথে লড়াই করতে পারে না।

এইচআইভিতে আক্রান্তরা অল্প বয়সে মারা যায়
ইদানীং নানা ধরনের চিকিৎসার জন্য এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তিও দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করতে পারছেন।

জাতিসংঘের এইডস বিষয়ক সংস্থা বলছে আক্রান্তদের মধ্যে ৪৭ শতাংশের ক্ষেত্রে এইচআইভি জীবাণুর মাত্রা নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রয়েছে।

এমনকি অনেক সময় রক্ত পরীক্ষায়ও জীবাণুটি ধরা পরে না। তবে তারা যদি চিকিৎসায় অবহেলা করেন তবে এর মাত্রা আবার শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

মায়েরা সবসময় শিশুদের আক্রান্ত করে না
প্রচলিত ধারনা হচ্ছে আক্রান্ত নারী সন্তান জন্ম দিলে তার শিশুরও শরীরে এই জীবাণু চলে যাবে। কিন্তু সবসময় সেটি নাও হতে পারে।

আক্রান্ত মায়ের শরীরের জীবাণুর মাত্রা যদি নিয়ন্ত্রণে থাকে তবে সন্তান জন্মদানের সময় সে শিশুকে আক্রান্ত নাও করতে পারে।

যেভাবে আক্রান্ত হতে পারেন
আক্রান্ত নারী বা পুরুষের সাথে কনডম ব্যবহার না করে যৌন সম্পর্কে স্থাপন করার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হবেন।

অথবা আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত নিলে, এরকম কারো ব্যবহৃত একই সিরিঞ্জ শরীরে প্রবেশ করলেও আপনি এই জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হবেন।

এগুলোই সবচাইতে বড় কারণ। তবে ইদানীং রক্ত দেয়ার আগে যেভাবে তা পরীক্ষা হয় তাতে রক্ত গ্রহণে এর সম্ভাবনা কমে আসছে। এর বাইরে অল্প কিছু বিরল কারণ রয়েছে।-বিবিসি বাংলা

ABOUT US

এটি একটি অনলাইন খবরের তথ্য ভান্ডার। যা কুষ্টিয়াকে সমৃদ্ধ করতে তথ্য নির্দেশ করে।

This is a online news portal.
Which contain directory of enriched kushtia.