বিদেশের খবর

বিদেশের খবর আমার কুষ্টিয়া হতে প্রকাশিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী

 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০২০ সালে অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী। তুসলী গব্বার্ড নামের ওই নারী চারবার সিনেট সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। ডেমোক্র্যাট দলের রাজনীতিতে তিনি দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত।

যুক্তরাষ্ট্রে এখনো পর্যন্ত কোনো নারী প্রেসিডেন্ট হননি। তবে এ বিষয়টি মার্কিন ভোটারদের অনেকেই ভাবছেন যে, কোনো নারীর প্রেসিডেন্ট হওয়া উচিত।

হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে ৩৭ বছর বয়সী তুলসী বেশ জনপ্রিয়। তবে সমগ্র আমেরিকাতেই প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়। তুসলী নিজে এখনো প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি। কিন্তু প্রার্থী হওয়ার সম্ভবানাকেও উড়িয়ে দেননি তিনি।

 
 

‘সুদর্শন’ পুরুষ ভাড়া নিচ্ছেন জাপানি মেয়েরা!

ডিভোর্সের একাকিত্ব হোক বা কোনও যন্ত্রণা— যে কোন কারণে চোখ দিয়ে পানি বেরনোর আগেই কম্পিউটার বা ফোনের সামনে বসছেন জাপানি মেয়েরা। কারণ তার কান্নায় সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ‘সুদর্শন’ পুরুষ দরকার। আর তাই অনলাইনে চলছে হ্যান্ডসাম ছেলের খোঁজ!

জাপানে এখন এমন রীতি চালু হয়েছে। আর এর জন্য খরচও করা হচ্ছে কিছুটা। সব মিলিয়ে একবার কান্নার খরচ বাংলাদেশি মুদ্রায় দু’-তিন হাজারের মতো। এ নিয়ে রীতিমতো ব্যবসা শুরু করেছেন জাপানি এক উদ্যোক্তা। খবর ওয়াসিংটন পোস্টের।

জাপানি মেয়েদের একাংশের বিশ্বাস, সুদর্শন পুরুষ চোখের পানি মোছালে তবে নাকি সে কান্না কেঁদেও সুখ! সঙ্গগুণে ঝরে যাবে দুঃখকষ্টও। একা কান্নার চেয়ে সুদর্শন পুরুষের সামনে কান্নায় মনের দুঃখ লাঘব হয় বলে মনে করেন জাপানিদের একাংশ।

জাপানি উদ্যোক্তা হিরোকি তেরাই এই নতুন ব্যবসা খুলে বসেছেন। মেয়েরা কাঁদলে সুন্দর চেহারার পুরুষ পৌঁছে যাবে তাঁদের কাছে। সান্ত্বনা দেওয়া, যত্ন করে চোখের পানি মোছানো বা গান শুনিয়ে মন ভালো করাই তাদের কাজ। আর এই যুবকদের নাম দিয়েছেন তিনি, ‘হ্যান্ডসাম উইপিং বয়’। জাপানি পরিভাষায় এই পদ্ধতির নাম ‘রুই-কাৎসু’। কাঁদতে চাইলে অনলাইনে বুক করতে হবে নিজের নাম ও কাঁদার সময়। ব্যস! এতেই যথেষ্ট। এবার সেই ঠিকানায় পৌঁছে যাবেন সুদর্শন যুবক।

কান্নার সময় খুব প্রিয় মানুষ সামনে থাকলে আবেগের গতি ও প্রকাশ বিশুদ্ধ হয়, কান্না প্রকাশের ঠিকঠাক মাধ্যম পেলে তা অনেক স্বাস্থ্যকর হয়— দুনিয়া জুড়ে এমন দর্শনে বিশ্বাস করেন অনেকেই। আর এই বিশ্বাসকে মূলধন করেই উদ্যোক্তা তেরাই এই পদ্ধতি চালু করেছেন।

কিন্তু এমন ভাবনা কেন ভাবলেন তেরাই?
তাঁর মতে, এই ভাবনার কথা প্রথম মাথায় আসে জাপানি দম্পতিদের ডিভোর্সের সময়ের কথা ভেবে। সেখানে কিছু পুরুষ সপ্তাহভর নানা কাজ ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকায় মেয়েরাই ডিভোর্সের আবেদন করে। তখন সংসার ভেঙে যাওয়ার কষ্ট তাঁদের উভয়কেই পীড়া দেয়। কিন্তু সে দুঃখ ভুলে থাকার কায়দা দু’জনের দু’রকম। স্বভাবজাত কারণে সাধারণত পুরুষরা সারা দিন নানা প্রমোদ, বিলাসিতা ও ঘুমিয়ে বা পরের সপ্তাহে কাজের পরিকল্পনা করে কাটিয়ে দেন। সে ক্ষেত্রে মেয়েরাই কান্নাকাটি করেন বেশি।

তা দেখেই এই ব্যবসার কথা মাথায় আসে তেরাইয়ের। তিনি ভেবে দেখেন, তাঁদের সামলাতে যদি সামনে কোনও বিপরীত লিঙ্গের মানুষ থাকেন, তা হলে তাঁরা অনেকটা ভরসা পাবেন, কান্নায় সমব্যথী হওয়ার জন্য মনের মতো মানুষ পাবেন।এতে এক জন দুঃখী মানুষ সঙ্গীও পাবেন, আবার মেয়েদের মনের চাপও কমবে।

কিন্তু সুদর্শন পুরুষই কেন?
তেরাইয়ের মতে, সামনের মানুষ বদলে গেলে একই ঘটনায় মানুষের আচরণও অনেকটা বদলে যায়। সামনে আকর্ষক কেউ থাকলে মানুষ কোথাও জীবনের প্রতি একটু বেশি আশাবাদী হয়। তাই সুন্দর মুখকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

তেরাই এই অভিনব ব্যবসা শুরু করে ফলও পান হাতেনাতে। অল্প দিনের মধ্যেই তাঁর এই ভাবনার কথা ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে ও বিপুল লাভবান হন তিনি। শুধু তা-ই নয়, তাঁর এই ভাবনাকে মূলধন করে ছবিও বানিয়ে ফেলেছেন দ্যারিয়েল থমস। তাঁর স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি ‘ক্রাইং উইথ দ্য হ্যান্ডসাম ম্যান’-এ তিনি এই তত্ত্বের ব্যাখ্যা ও বিশ্বাসকে তুলে ধরেছেন।

যদিও জাপান জুড়ে বিপুল জনপ্রিয় হওয়া এই অভ্যাসকে তাঁদের ‘সেরিমনিয়াল অ্যাটিটিউড’ বা ‘উদ্‌যাপনের অভ্যাস’ হিসাবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাষ্ট্রে দাবানলে নিহত ৫, ঘরছাড়া দেড় লাখ মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে ভয়াবহ দাবানলে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মৃতদেহগুলো একটি আগুনে পোড়া গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।

প্রাণে বাঁচাতে এলাকা ছেড়েছে অন্তত দেড় লাখ মানুষ। লস এঞ্জেলেসের দুটি বড় বনাঞ্চলের ১৪ হাজার একর অঞ্চল জুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। রাজ্যটির পশ্চিমাঞ্চলে মহাসড়ক পর্যন্ত দাবানলের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। খবর বিবিসির।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুরে (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা) দাবানল ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকল বাহিনী চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শুষ্ক আবহাওয়া ও তীব্র বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।

দাবানলে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি শহর পুরোপুরি পুড়ে গেছে। পুড়ে ছাই হয়ে গেছে প্রায় বিশ হাজার একর বনাঞ্চল। এরমধ্যে প্যারাডাইস শহরটি সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আশপাশের এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর।

বাস দুর্ঘটনায় জিম্বাবুয়েতে নিহত ৪৭

 জিম্বাবুয়েতে দুটি বাসের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৪৭ জন নিহত হয়েছে। রাজধানী হারারের কাছে গতকাল  বুধবার একটি হাইওয়েতে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার খবরটি নিশ্চিত করেছে জিম্বাবুয়ের পুলিশ। পুলিশ জানায়, যাত্রীবোঝাই একটি বাস রাজধানী রাজধানী হারারে ছেড়ে রুসাপে শহরের দিকে যাচ্ছিলো। অপর দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামীর বাসের  সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই বহু মানুষের মৃত্যু হয়।

দেশটির ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট মিনিস্টার ফরচুন চাছি এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বলেন, দেশের দুর্ঘটনা কমাতে অতি শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জিম্বাবুয়েতে চলতি বছরের জুন মাসে আরেক বাস দুর্ঘটনায় ৪৩ জনের মৃত্যু হয়। সম্প্রতি দেশটিতে সড়ক দুর্ঘটনার হার অনেক বেড়ে গেছে।

ক্যামেরুনে অপহৃত ৭৮ স্কুলশিক্ষার্থী মুক্তি পেল

 সোমবার সকালে কেনিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি স্কুল থেকে ৭৮ জন শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়।অপহৃত ওই ৭৮ শিক্ষার্থীকে মুক্তি দিয়েছে অপহরণকারীরা। দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, ৭৮ শিক্ষার্থীর সাথে একজন ড্রাইভারকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে স্কুলটির প্রিন্সিপাল ও একজন শিক্ষককে এখনো  মুক্তি দেয়া হয়নি।

এদিকে, শেষ খবর পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি কে বা কারা এই অপহরণের সাথে জড়িত ছিল।

কিন্তু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়ার পর তাদেরকে পরিবারের কাছে ফেরত দেয়া হবে।

ধনী দেশে কম আর গরিব দেশে বেশি শিশু জন্মে কেন ?

বিশ্বের প্রতিটি নারী নাকি গড়ে আড়াই জন শিশুর জন্ম দেন। কিন্তু ‘দরিদ্র’ দেশগুলোতে শিশু জন্মের হার ধনী দেশগুলোর তুলনায় বেশি কেন? হ্যাঁ, বিভিন্ন দেশে শিশু জন্মের হার সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের দেয়া কিছু ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো-

দরিদ্র দেশের কোনো দম্পতির ঘরে গড়ে পাঁচ থেকে ছয়টি শিশু জন্মগ্রহণ করে। এসব অনেক সময় বেশি সন্তানকে সংসারের সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়ে থাকে। যদিও অনেক ক্ষেত্রে শিশুকে সংসারের সচ্ছলতার জন্য কাজও করতে হয়। পূর্ব আফ্রিকার সোমালিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এখানে।

দরিদ্র দেশগুলোতে একজন নারী কয়টি সন্তানের জন্ম দেবে, তা নির্ভর করে পুরুষের ওপর। বিয়ে, চাকরি বা সন্তানের জন্ম দেয়ার মতো কোনো সিদ্ধান্তই নেয়ার অধিকার নেই নারীদের। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর উদাহরণ দিয়েছে। তারা আরও বলেছেন, শহরের তুলনায় গ্রামের নারীদের সন্তান বেশি হয়ে থাকে, যা আসলে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

এ ছাড়া অনেক দরিদ্র দেশের নারীদের গর্ভনিরোধক বা জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। স্কুল, ডাক্তার বা কোথাও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় না, অর্থাৎ বহু নারী না চাইলেও তারা গর্ভবতী হচ্ছেন।

জনসংখ্যা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মারাইকে ড্যোরিং বলেন, বিশ্বের ৪৩টি দেশের নারীরা গড়ে চারটি সন্তানের জন্ম দিয়ে থাকেন। আর এই দেশগুলোর মধ্যে ৩৮টি-ই আফ্রিকায়।

অন্যদিকে জার্মানি, আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ার মতো অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশের নারীরা গড়ে এক বা দুটি সন্তানের জন্ম দিয়ে থাকেন। এসব দেশে জনসচেতনতা তুলনামূলকভাবে বেশি, সন্তান জন্ম দেয়ার সিদ্ধান্ত নারী নিজেই নিতে পারেন। তাছাড়া শিল্পোন্নত দেশগুলোতে সন্তান জন্মের পরও নারীরা চাকরি করতে চান। এসব দেশের মায়েদের মতে, শুধু বাচ্চা জন্ম দিলেই হবে না, তাদের সুস্থ ও সুন্দর জীবন দেয়ার নিশ্চয়তাও থাকতে হবে।

গত বছর জার্মানিতে মোট ৭৮৫,০০০ শিশুর জন্ম হয়েছে, যা ২০১৬ সালের চেয়ে কিছুটা কম। জার্মানিতে কোন বছর কতজন শিশু জন্ম নেয় এবং কতজন শিশু কখন স্কুলে যাবে, তাদের কতজন শিক্ষকের প্রয়োজন তার একটি হিসেব থাকে। ভবিষ্যতে কতজন মানুষ জার্মানিতে বসবাস করবেন সে হিসাবও করে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

সূত্র : ডয়েচে ভেলে

আফগানিস্তানে তালেবান হামলা: ১৩ সেনা ও পুলিশ নিহত

আফগানিস্তানে একটি চেক পয়েন্টে হামলা চালিয়েছে তালেবান জঙ্গীরা। দেশটির গজনী প্রদেশে সোমবার সকালে এ হামলা  চালানো হয়। এতে আফগান সামরিক বাহিনী ও পুলিশের অন্তত ১৩ সদস্য নিহত হয়েছে। গজনীর প্রাদেশিক গভর্নরের মুখপাত্র আরিফ নূরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  আরিফ নূরী জানান, ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে সাতজন সেনাসদস্য বাকি ছয়জন পুলিশ সদস্য।  তিনি জানান, তিন ঘণ্টার লড়াইয়ে ছয় তালেবান সদস্যও নিহত হয়েছে।সরকারি বাহিনীর হামলায় ১০ তালেবান সদস্য আহত হয়।  এদিকে, তালেবানের পক্ষ থেকে এই হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে।

পাঁচটি স্যুটকেসে খাশোগির মরদেহ সৌদিতে নেয়া হয়

সাংবাদিক জামাল খাশোগির মরদেহের টুকরো করা অংশ পাঁচটি স্যুটকেসে করে সৌদি নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় দৈনিক সাবাহ’র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, খাশোগি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার পর তাকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে সাবাহ রোববারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কনস্যুলেটে খাশোগিকে হত্যার পর তার টুকরো করা মরদেহ কনস্যুলেটের পাশ্ববর্তী সৌদি কর্মকর্তাদের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।

কর্মকর্তারা বলছেন, খাশোগির মরদেহ লাপাত্তা করার কাজটি করেন ১৫ সদস্যের সৌদি কিলিং স্কোয়াডের অন্যতম তিন সদস্য মাহির মুতরিব, সালাহ তুবেগি ও তাহার আল হারবি। এর আগেও সংবাদ প্রকাশিত হয় মাহির আব্দুল আজিজ মুতরিব নামের ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগির মরদেহ একটি বড় ব্যাগে করে কনস্যুলেট থেকে বের করে নিয়ে যান।

মুতরিব সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত। প্রায়ই তাকে যুবরাজের সঙ্গে বিভিন্ন সফরে যেতে দেখা যায়। ২ অক্টোবর জামাল খাশোগির নিখোঁজ হওয়ার দিন তিনি ইস্তান্বুল থেকে স্যুটকেসে করে খাশোগির টুকরো মরদেহ নিয়ে একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে সৌদি আরবে যান।

খাশোগি হত্যার দিন তুরস্কের কামাল আতাতুর্ক বিমান বন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তার ব্যাগ পরীক্ষা করতে দেননি তিনি। এছাড়া ব্যক্তিগত ওই বিমানটির কোনও ফ্লাইট শিডিউল, বিমান ও ফ্লাইটের কোনও তথ্যও তিনি বিমানবন্দরে রাখেন নি। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন কূটনৈতিক পাসপোর্টধারী মুতরিবকে বিমান বন্দরে খুব দ্রুত চলাচল করতে দেখা যায়।

এছাড়া খাশোগির মরদেহ লাপাত্তা করার সঙ্গে জড়িত তুবেগি দেশটির সোবাহিনীর একজন কর্ণেল ও সৌদি সায়েন্টিফিক কাউন্সিল অব ফরেনসিকের প্রধান। আল হারাবি জেদ্দায় যুবরাজ সালমানের বাড়িতে প্রতিরক্ষা দেয়ার স্বীকৃতি স্বরুপ সম্প্রতি সৌদি সৌদি রয়্যাল গার্ডে লেফটেন্যান্ট হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন।

সম্প্রতি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন খাশোগি হত্যার নির্দেশ এসেছে সৌদি সরকারের উপরমহল থেকে। ওয়াশিংটন পোস্টে লেখা এক কলামে এরদোয়ান বলেন, ‘আমরা এটা ভালোভাবেই জেনে গেছি খাশোগি হত্যার নির্দেশ সৌদি রাজতন্ত্রের উপর মহল থেকে এসেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাছাড়া আমরা এটাও জানি যে, ওই ১৮ জন নির্দেশ অনুযায়ী তুরস্কে এসেছে এবং খাশোগিকে হত্যা করে চলেও গিয়েছে। অবশেষে আমরা জানতে পারলাম খাশোগিকে হত্যার নির্দেশ এসেছে সৌদি সরকারের উপর মহল থেকে।’ খাশোগি হত্যার নির্দেশদাতা সেই মাস্টার মাইন্ডের নাম প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন এরদোয়ান।

এদিকে এরদোয়ানের উপদেষ্টা ইয়াসিন আক্তার বলেছেন, খাশোগিকে হত্যার পর তার টুকরো টুকরো মরদেহ এসিড দিয়ে পোড়ানো হয়। হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে ও মরদেহ নিশ্চিহ্ন করতেই সৌদি কিলিং স্কোয়াড তার টুকরো টুকরো মরদেহ এসিড দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে বলে দাবি করেছেন তিনি।

প্রাথমিকভাবে এ হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছিল সৌদি আরব। তবে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিবেচনায় ও পশ্চিমা বিশ্বের চাপে শেষ পর্যন্ত সৌদি আরব স্বীকার করতে বাধ্য হয় খাশোগিকে তারাই হত্যা করেছে। তবে খাশোগির মরদেহের কোনো হদিস এখনও পাওয়া যায়নি।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দিন কি শেষ..?

সে শেষ হয়ে হয়ে গেছে”, “সে খুবই বিপজ্জনক”, “আমরা তাকে ভালোবাসি”, “তিনি আমার হিরো” – সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সম্পর্কে এসব কথা থেকে বোঝা যায় যে তাকে নিয়ে জনমত একেবারেই বিভক্ত।

ইস্তুাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে সাংবাদিক জামাল খাসোগজি খুন হবার পর পশ্চিমা দেশগুলোতে ‘এমবিএস ব্র্যান্ড’ এখন আরো বিপজ্জনক হয়ে গেছে। যদিও সৌদি আরব বারবার বলছে, ওই খুনের ঘটনার সাথে প্রিন্স সালমোনের কোন যোগাযোগ ছিল না – কিন্তু এ অস্বীকৃতি দেখা হচ্ছে গভীর সন্দেহের চোখে।

কারণ কি? এক কথায় – যে দেশে ওপরের নির্দেশ ছাড়া প্রায় কিছুই হয়না, সেখানে কিছু নিয়মভঙ্গকারী এজেন্ট মিলে জামাল খাসোগজিকে খুন করেছে, এটা শুনতে প্রায় অসম্ভব মনে হয়।

আরব দেশগুলোতে একটা ‘তত্ব’ বেশ চলছে। সেটা হলো এই রকম: খাসোগজি সৌদি সরকারের কড়া সমালোচক ছিলেন এবং তাই এমবিএস চেয়েছিলেন তার ব্যাপারে ‘কিছু একটা করা হোক’ – কিন্তু তিনি কখনো খুনের অনুমতি দেননি। বরং তার অফিস যিনি চালান সেই সাউদ আল-কাহতানি এমবিএসের নির্দেশের বাইরে গিয়ে হত্যাকারীদের বলেছিলেন যে ‘যুবরাজ সবকিছুরই অনুমোদন দিয়েছেন।’

সমস্যা হলো সৌদি আরবের বাইরে প্রায় কেউই এ কথা বিশ্বাস করে না। কারণ এ খুনের ঘটনা নিয়ে প্রথম থেকেই সৌদি আরবের দিক থেকে একেক বার একেক রকম কথা বলা হচ্ছিল। তাই এটাই অনুমান করে নেয়া যায় যে – প্রিন্স সালমান তার মোটা-বেতন-পাওয়া মিডিয়া উপদেষ্টাদের কথা কানে শুনলেও পাত্তা দেন নি।

ফলে এখন অবস্থা এমন হয়েছে যে এমবিএস এখন বিশ্বজনমতের কাঠগড়ায় -এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সরকার এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর যে তার সাথে কোন সংস্রব আছে এটা আর তারা দেখাতে চাইছে না।

কিছু পশ্চিমা সংস্থা এবং মার্কিন কংগ্রেসম্যান এখন দাবি করছেন, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হোক।

এখন সৌদি আরব দাঁড়িয়ে আছে এক মোড় বদলকারী মুহূর্তে। কি করতে পারে দেশটি?

এখন কি সৌদি রাজপরিবারের সিনিয়র প্রিন্সরা মিলে এমবিএসের ক্ষমতা কিছু কমিয়ে দেবেন – যাতে এই বিক্ষুব্ধরা খুশি হয়?

নাকি তাকে যুবরাজের পদ থেকে পুরোপুরি সরিয়ে দিয়ে একটা নামমাত্র এবং অর্থহীন পদোন্নতি দেয়া হবে?

নাকি তারা এই ঝড় কেটে যাবার জন্য অপেক্ষা করবেন?

বিবিসির ফ্রাংক গার্ডনার লিখছেন, সৌদি রাজপরিবারের অন্দরমহলে, বন্ধ দরজার ওপাশে এখন এ প্রশ্নগুলো নিয়ে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ আলোচনা চলছে।

ব্যাপারটা কত গুরুতর – তার একটা আভাস পাওয়া যায় একটি ঘটনা থেকে।

বিরাশি বছর বয়স্ক সৌদি বাদশাহ সালমানের একমাত্র জীবিত ভাই প্রিন্স আহমেদ বিন আবদেলআজিজ হঠাৎ করেই গত মঙ্গলবার রিয়াদে ফিরে এসেছেন। তিনি এতদিন লন্ডনে ছিলেন, কারণ তিনি ছিলেন এমবিএসের বিরোধীদের মধ্যে ‘গুরুস্থানীয়’ একজন ব্যক্তি যিনি ইয়েমেনে যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন, এবং এর জন্য সম্পূর্ণ দায়ী করেছিলেন যুবরাজ সালমান এবং তার পিতাকে। তার ভয় ছিল – দেশে ফিরলেই তাকে গৃহবন্দী করা হবে।

গভীর রাতে রিয়াদে নামার পর প্রিন্স আহমেদ বিন আবদেলআজিজকে আগরবাতির ধোঁয়া এবং অন্য প্রিন্সদের উষ্ণ আলিঙ্গন দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। অভ্যর্থনাকারীদের মধ্যে এমবিএসও ছিলেন।

প্রিন্স আহমেদ এখন চেষ্টা করছেন পুরো রাজপরিবারকে একসাথে করতে।

কিন্তু এমবিএসের ভবিষ্যৎ নিয়ে কি ধরণের আলোচনা করছেন তারা?

প্রথম কথা – ৩৩ বছর বয়স্ক প্রিন্স সালমানকে চ্যালেঞ্জ করার মত কেউ এখন নেই। যুবরাজ অনেক আগেই সব চ্যালেঞ্জারদের সরিয়ে দিয়েছেন। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করেন, রাজপরিবারের রক্ষক বাহিনী ন্যাশনাল গার্ডকে নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রীও তিনি – তাই সৌদি সশস্ত্র বাহিনীও তার নিয়ন্ত্রণে।

যদিও বাদশাহ হচ্ছেন তার অসুস্থ পিতা – কিন্তু রাজকীয় আদালত, অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়ন এবং দেশ পরিচালনার প্রকৃত কর্তৃত্ব – এগুলোও এমবিএসের হাতে।

বেশ কিছুদিন ধরেই এটা স্পষ্ট হচ্ছিল যে এমবিএস কোন গণতান্ত্রিক নেতা নন। তাকে জানেন এমন একজন বর্ণনা করেছেন – লোকটি আসলে ‘একজন বেপরোয়া, নিয়ন্ত্রণহীন গুন্ডা।’

কিন্তু তার অনেক বাড়াবাড়িই সৌদি আরবের মানুষ এতদিন ধরে মেনে নিচ্ছিল।

লক্ষ লক্ষ তরুণ সৌদির কাছে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান তাদের ভবিষ্যতের আশার প্রতীক – একজন সাহসী, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী নেতা, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সংস্কারক – যিনি ধর্মীয় নেতাদের ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছেন, মেয়েদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দিয়েছেন, সৌদি সমাজে বিনোদনের সুযোগ খুলে দিয়েছেন। তেলভিত্তিক সৌদি অর্থনীতিরও সংস্কার করছেন তিনি।

ওয়াশিংটন, লন্ডন বা প্যারিসের কূটনীতিক বা নীতিনির্ধারকদের কাছে মনে হতে পারে, প্রিন্স সালমানকে সরিয়ে দেয়া বা তাকে সংযত করাই এখন স্বাভাবিক বিকল্প।

কিন্তু সৌদি আরবের রক্ষণশীল রাজপরিবার ঝুঁকি নিতে অনাগ্রহী। তারা চাইবে এরকম কিছু না করতে।

তাই এমবিএসের দিন কি শেষ হয়ে গেছে? এ পর্যায়ে এটা বলা খুবই কঠিন।

মনে রাখবেন, ২০১১ সালের মাঝামাঝি ‘আরব বসন্তের’ সময় প্রায় সবাই ভেবেছিলেন – সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদ কয়েক মাসের মধ্যেই ক্ষমতাচ্যুত হবেন।

তার পর সাত বছর পেরিয়ে গেছে। আজও ক্ষমতায় আছেন তিনি।

-বিবিসি বাংলা

অভিযোগ প্রত্যাখ্যান: ‘ধর্ষন নয়, পল্লবির সঙ্গে সম্মতিতে সম্পর্ক হয়েছ’

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও সাংবাদিক এম জে আকবরের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ধর্ষণের অভিযোগ করেন দ্য এশিয়ান এইজ-এর সাবেক সাংবাদিক পল্লবী গগৈ।এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আকবর বলেছেন, উভয়ের সম্মতিতে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। কিন্তু আকবরের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন পল্লবী গগৈ।

এক বিবৃতিতে পল্লবী গগৈ বলেছেন, আমার ওপর যৌন নির্যাতনের দায় স্বীকার করে নেয়ার পরিবর্তে এম জে আকবর দাবি করেছেন, এ সম্পর্ক ছিল উভয়ের সম্মতিতে; আসলে তা নয়।

পল্লবী বলছেন, যে সম্পর্ক বল প্রয়োগ করে হয় তা উভয়ের সম্মতিতে কখনোই মেনে নেয়া যায় না।

উল্লেখ্য, ১লা নভেম্বর ওয়াশিংটন পোস্টে একটি লেখায় পল্লবী তার ওপর যৌন নির্যাতনের বর্ণনা দেন। তিনি জানান, ২৩ বছর আগে জয়পুরের একটি হোটেলে তাকে ধর্ষণ করেন আকবর। সে সময় আকবর সম্পাদিত দ্য এশিয়ান এইজ পত্রিকার একজন সহকর্মী ছিলেন পল্লবী।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরান থেকে তেল নেবে রাশিয়া

মার্কিন সরকারের নতুন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলা করতে ইরানকে সহযোগিতা করবে রাশিয়া।

রাশিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন। খবর ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই মস্কো ইরান থেকে তেল নেবে।

আলেকজান্ডার নোভাক আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি আমাদের এমন উপায় বের করা উচিত, যা ইরানসহ অন্য মিত্রদের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে সাহায্য করবে।

৪ নভেম্বর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় ধাপের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ঘোষণা দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, এ নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল বিক্রি শূন্যের কোঠায় নেমে যাবে। এ ক্ষেত্রে ইরানকে কোনো রকম সহযোগিতা করার বিষয়ে রাশিয়াকে হুশিয়ার করে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ইরান থেকে তেল নেয়ার বিষয়ে মার্কিন এ হুশিয়ারি সম্পর্কে রাশিয়ার কোনো উদ্বেগ নেই বলে জানান আলেকজান্ডার নোভাক।

তিনি বলেন, আমরা এরই মধ্যে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছি। জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া একতরফা কোনো নিষেধাজ্ঞাকে আমরা স্বীকৃতি দিই না। আমরা মনে করি এসব পদক্ষেপ অবৈধ।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আগে ২০১৪ সালে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে ‘পণ্যের বিনিময়ে তেল’ এ চুক্তি সই হয়েছিল। চুক্তির আওতায় পণ্য ও যন্ত্রপাতির বিনিময়ে ইরান থেকে তেল নিয়ে থাকে রাশিয়া।

নোভাক আরও বলেন, পণ্যের বিনিময়ে তেল কর্মসূচির আওতায় আমরা ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।

সৌদি যুবরাজ সালমানকে কি সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে?

খবর পাওয়া যাচ্ছে যে সৌদি আরবের যুবরাজ প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের এক ভাই প্রিন্স আহমেদ বিন আবদেলআজিজ ব্রিটেনে স্বেচ্ছা-নির্বাসন কাটিয়ে স্বদেশে ফিরেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তার প্রত্যাবর্তন গুরুত্বপূর্ণ কারণ অনেকে মনে করেন তিনি যুবরাজ সালমানের জায়গা নিতে পারেন।

যুবরাজ সালমান, যিনি এমবিএস নামেও পরিচিত, তিনি এখন ইস্তাম্বুলে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগজি হত্যাকাণ্ডের কারণে চাপের মুখে রয়েছেন।

প্রিন্স আহমেদ বিন আবদেলআজিজ এতদিন স্বেচ্ছা-নির্বাসনে লন্ডনে অবস্থান করছিলেন।

পশ্চিমা বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন সৌদি রাজপরিবারে তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি সৌদি যুবরাজ সালমানের জায়গা নিতে পারেন।

রিয়াদে তার প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষ সরকারিভাবে কিছু নিশ্চিত করে নি। এরকম কোন নিশ্চয়তা না-ও আসতে পারে।

কী শর্তে তিনি ফিরেছেন তাও স্পষ্ট নয়, তবে মনে করা হচ্ছে, তার নিরাপত্তার ব্যাপারে নিশ্চয়তা পেয়েই তিনি ফিরেছেন।

কিন্তু বিবিসির সংবাদদাতা ফ্রাংক গার্ডনার বলছেন, এই খবরটি সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে সৌদি রাজপরিবারের সূত্র থেকেই, এবং এ থেকে আভাস পাওয়া যায় যে ওই অঞ্চলে এখন প্রিন্স সালমানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যক্তিগত স্তরে ব্যাপক বিতর্ক চলছে।

এর কারণ -সম্প্রতি ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগজি খুন হবার ঘটনা। মি. খাসোগজি সৌদি রাজপরিবারের কঠোর সমালোচক ছিলেন।

সৌদি আরব বলেছে, নিয়ম ভঙ্গকারী একদল এজেন্ট তাকে হত্যা করেছে এবং সৌদি যুবরাজের সাথে এ ঘটনার কোন সম্পর্ক নেই। এর পর সৌদি আরবে কিছু লোককে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

কিন্তু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তায়েপ এরদোয়ান বলেছেন, সৌদি আরবের প্রধান কৌঁসুলিকে বের করতে হবে – জামাল খাসোগজির হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ কে দিয়েছিল, এবং হত্যার জন্য ১৫ জনের একটি দলকে কে ইস্তাম্বুল পাঠিয়েছিল।

সৌদি আরবের প্রধান সরকারি কৌঁসুলি এখন ইস্তাম্বুল সফর করছেন।

জামাল খাসোগজির হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের যোগ দিতে অনুমতি দেওয়ার জন্যে সৌদি আরবের প্রতি আহবান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান মিশেল ব্যাশেলেট বলেছেন, মি. খাসোগজির মৃতদেহ কোথায় আছে সৌদি কর্তৃপক্ষকে সেটা খোলাসা করতে হবে।

তার মৃতদেহে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হলে বহু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে বলে তিনি মনে করেন।

-বিবিসি বাংলা

বিধ্বস্ত হওয়া বিমানের কেউ বেঁচে নেই: উদ্ধারকারী সংস্থা

ইন্দোনেশিয়ার উত্তর জাভা দ্বীপের কাছে সমুদ্রে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানের কোন আরোহী বেঁচে নেই বলে জানিয়েছে দেশটির অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থা।

উদ্ধারকারী সংস্থার অপারেশনাল ডিরেক্টর সূর্য বামবাং জানিয়েছেন, লায়ন এয়ারলাইন্সের বিমানে ১৮৯ জন আরোহী ছিলেন এবং এদের কেউ বেঁচে নেই বলেই মনে হচ্ছে। কারণ অনেকের লাশ বহুদূরে পাওয়া গেছে। এখন আমাদের জন্য প্রয়োজন হচ্ছে বিমানের মূল ধ্বংসাবশেষ খুঁজে বের করা।

সোমবার সকালে রাজধানী জাকার্তা থেকে সুমাত্রা দ্বীপের পাংকাল পিনাং শহরে যাওয়ার সময় বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি ওড়ার ১৩ মিনিট পর কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলে। এসময় বিমানটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১,১১৩ মিটার উপরে ছিল। সমস্যা বুঝতে পেরে বিমানের পাইলট আবার বিমানটি নিয়ে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন এবং কন্ট্রোল টাওয়ার তাকে সে অনুমতিও দিয়েছিল কিন্তু এরপরই তিনি যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেন। বিমান দুর্ঘটনার কারণ জানা যায়নি।

ইতালিতে ঝড়ে ৬ জনের মৃত্যু

ইতালির ভেনিস শহরের তিন চতুর্থাংশ এখন বন্যার পানির নিচে।  বন্যার পানির সঙ্গে আছে ঝড়ো হাওয়া ও ভারি বৃষ্টি।  দুর্যোগপূর্ণ এ আবহাওয়ায় ইতালি জুড়ে এ পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।  রাস্তায় ৫ ফুটের মতো পানি যা ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ।

বিভিন্ন শহরে গাছ-পালা ভেঙে রাস্তায় পড়ে থাকায় যানবাহন চলাচলে সমস্যা দেখা দিয়েছে। দেশটির ছয়টি অঞ্চলে রেড এলার্ট জারি করেছে রোমান সিভিল প্রোর্টেকশন।  অঞ্চলগুলো লম্বারদিয়া, ভেনেতো, ফ্রিওলি ভেনেজিয়া, জুলিয়া, লিগুরিয়া, ত্রেনতিনো আলতো আদিজে এবং আব্রুচ্ছো।

ইতালির অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র ভেনিসে এ বছর উচ্চ জলাবদ্ধতা রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।  ৭৫ ভাগ পানিতে ভেসে গেছে শহরটি।  বৈরী আবহাওয়ার কারণে স্কুলগুলো বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।  পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচলে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বারি শহরের বিমানবন্দরে ফ্লাইটে সমস্যা দেখা দেয়।  তাই লিগুরিয়া থেকে লম্বারদিয়া ও পুলিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন রুটের ট্রেন চলাচল ও বিমানের ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

রোমের ইউর এলাকায় একজন ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকারী আহত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  এছাড়া ভেনেতোর অবস্থা খুবই গুরুতর বিশেষ করে ওই অঞ্চলের ত্রেভিসো ও বেল্লুনো সেখানে ১৬০ হাজারের বেশি বাসিন্দা বর্তমান বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছেন।

গভর্নর লুকা জাইয়া জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।  এ ব্যাপারে সিনেট সভাপতি মারিয়া এলিসাবেতা এ অবস্থার জন্য একটি তদন্ত কমিশন গঠন করার দাবি জানান।

সাগরের ওপর ৫৫ কি.মি. দীর্ঘ সেতু বানিয়ে ফেললো চীন

চীনের মুল ভূখণ্ডের ঝুহাই শহরের সাথে ৫৫ কিলোমিটার বা ৩৪ মাইল দীর্ঘ এ সেতু সংযুক্ত করবে হংকং ও ম্যাকাওকে।

কর্তৃপক্ষ বলছে এর ফলে আগে যেখানে এ পথ পাড়ি দিতে তিন ঘণ্টার মতো সময় ব্যয় হতো, সেক্ষেত্রে এখন লাগবে মাত্র আধা ঘণ্টা।

আজ ঝুহাইতে সেতুটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে প্রকৌশলী ও স্থাপত্যের দিক থেকে দুর্দান্ত হলে সেতুটি নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে বিস্তর এবং একে অনেকেই ইতোমধ্যে ‘শ্বেতহস্তী’ আখ্যায়িত করছে।

কারণ সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় বিশ বিলিয়ন ডলার বা দু হাজার কোটি ডলার।

আর নির্মাণকালীণ নিরাপত্তা নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা শুনতে হচ্ছে চীনকে কারণ নির্মাণ কাজ চলার সময় নিহত হয়েছে ১৮জন শ্রমিক।

সেতুটির বিশেষত্ব কী?

এ সেতুটি দক্ষিণ চীনের গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় শহর হংকং, ম্যাকাও এবং ঝুহাইয়ের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করবে।

শক্তিশালী মাত্রার টাইফুন কিংবা ভূমিকম্প প্রতিরোধী এ সেতুটি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে চার লাখ টন স্টিল ব্যবহার করা হয়েছে যা দিয়ে ৬০টি আইফেল টাওয়ার নির্মাণ করা সম্ভব।

সেতুটির প্রায় ত্রিশ কিলোমিটার পার্ল নদীর ওপর দিয়ে গেছে আর জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখার সুবিধার্থে ছয় দশমিক সাত কিলোমিটার রাখা হয়েছে সাগরের নীচে টানেলে এবং এর দু অংশের মধ্যে সংযোগস্থলে তৈরি করা হয়েছে একটি কৃত্রিম দ্বীপ।

আর বাকী অংশ সংযোগ সড়ক, ভায়াডাক্ট আর ভূমিতে টানেল যা ঝুহাই ও হংকংকে মূল সেতুর সাথে যুক্ত করেছে।

কিন্তু কেন এটি নির্মাণ করতে হলো?

এটি আসলে হংকং, ম্যাকাও এবং আরও নয়টি শহরকে যুক্ত করে একটি বৃহত্তর সাগর এলাকা তৈরি প্রকল্পের অংশ হিসেবে এ সেতু নির্মাণ করেছে চীন।

এর আগে ঝুহাই থেকে হংকং যেতে সময় লাগতো চার ঘণ্টার মতো। সেখানে নতুন এ সেতুর কারণে সেখানে লাগবে মাত্র আধা ঘণ্টা।

এ এলাকায় এখন প্রায় ছয় কোটি আশি লাখ মানুষ বসবাস করে।

কেউ চাইলেই সেতুটি অতিক্রম করতে পারবে ?

না পারবেনা।

যারা সেতু পাড়ি দিতে চান তাদের বিশেষ অনুমতি নিতে হবে আর সব যানবাহনকেই টোল দিতে হবে।

এ সেতুতে কোন গণ পরিবহণ থাকবেনা তবে যাত্রী ও পর্যটকদের জন্য শাটল বাস থাকবে।

কর্তৃপক্ষ আশা করছেন দিনে প্রায় নয় হাজার দুশো যানবাহন এ সেতু দিয়ে চলাচল করবে।

এর খরচ উঠবে তো?

সংযোগ সড়ক ও কৃত্রিম দ্বীপসহ সেতুটি নির্মাণে মোট খরচ হয়েছে দু হাজার কোটি ডলার।

এর মধ্যে শুধুমাত্র সেতুর মূল অংশ নির্মাণেই খরচ হয়েছে প্রায় সাত বিলিয়ন ডলার।

কর্মকর্তারা বলছে দেশটির অর্থনীতিতে এটি প্রায় ১ দশমিক ৪৪ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ করবে যদিও এ ব্যাখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

বিবিসি নিউজ চাইনিজ এর তানিয়া চান বলছেন, “যথেষ্ট পরিমাণ গাড়ি চলতে না দিলে এটি কিভাবে টেকসই হবে আমি নিশ্চিত নই। আমি নিশ্চিত যে নির্মাণ ব্যয় আমরা ফেরত আনতে পারবোনা”।

বিবিসি চাইনিজের হিসেবে টোল থেকে বছরে আসবে মাত্র আট কোটি ৬০ লাখ ডলার।

আর এ সব কারণেই সমালোচকরা এর নাম দিয়েছেন “শ্বেতহস্তী”।

-বিবিসি বাংলা

সৌদি শাসকরা কী আসলে ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করেন?

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার ঘটনায় সারা বিশ্ব দেশটির রাজতন্ত্র বিশেষ করে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে দায়ী করছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত খাসোগি তার রাজনৈতিক কলামের জন্য আরবি ও ইংরেজি ভাষাভাষীদের শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন। ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন তিনি।

এরপর ১৯ অক্টোবর সৌদি কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে, খাসোগিকে কনস্যুলেটের ভেতর হত্যা করা হয়েছে। এই স্বীকারোক্তির ফলে সৌদি রাজতন্ত্রের মানবাধিকারের করুণ অবস্থা এবং সমালোচনার প্রতি তাদের চরম অসহিষ্ণুতাই আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে।

এই ঘটনায় সৌদি আরব অন্যায় করায় ইসলামও তাদের সঙ্গে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সৌদি সরকারের হীন কার্যকলাপের উৎস মনে করা হয় ইসলামকে। খাসোগির ঘটনাতেও ইসলামেরই সমালোচনা করছেন সাধারণ মানুষ।

ধর্ম সম্পর্কে মোটা দাগের ধারণা নিয়ে চলেন এমন মানুষেরা সৌদির সরকারের কর্মকাণ্ডের উৎস মনে করছে ইসলামকেই। এই ঢালাও ধারণার চেয়েও ক্ষতিকারক হচ্ছে এর পেছনে থাকা অনুমান অর্থাৎ সৌদি আরবই ইসলামের প্রধান প্রতিনিধি।

কিন্তু, বাস্তবতা হলো, সৌদি আরব ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে না। নিজেদের ‘ইসলামের কেন্দ্র’ ও প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা সত্ত্বেও সৌদি রাজতন্ত্র অল্প কয়েকজন মানুষ, বিশেষ করে মোহাম্মদ বিন সালমানেরই প্রতিনিধিত্ব করে।

ইসলামের দুই পবিত্রতম শহর মক্কা ও মদিনা সৌদিতে থাকায় এগুলোর অভিভাবকত্ব করার মাধ্যমে ধর্মের বিষয়ে তাদের অন্যায্যতাকে ঢাকতে চেষ্টা করে শাসকগোষ্ঠী। বিশ্বের ১৮০ কোটি মুসলিমকে তাদের দেশে গিয়ে হজ পালনের অনুমতি দেয়ারও ক্ষমতা তাদের হাতে।

তাদের খনিজ তেলের অনিঃশেষ উৎসের ওপর নির্ভর করে সৌদি শাসকরা পেট্রোডলারের সঙ্গে ওয়াহাবি মতবাদের প্রচার চালিয়ে সৌদি আরব ও ইসলামকে সমার্থক করে তোলার চেষ্টা চালিয়েছে।

একটা জিনিস স্পষ্ট করা দরকার, ইসলাম আর সৌদি আরব একই জিনিস এবং সৌদি মোল্লা, শেখ, রাজারা ইসলামেরই আদিরূপ এটা ওরিয়েন্টালিস্টদের মতবাদ থেকে উদ্ভুত হলেও সৌদি আরব নিজে মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য মুসলিম দেশ এবং পশ্চিমে এই ধারণা প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ছিল।

বাস্তবতা হচ্ছে, ওয়াহাবি চিন্তাধারায় অন্যান্য ইসলামী ঐতিহ্যগুলোর প্রতি অসহিষ্ণু। তারা শুধুমাত্র নিজেদেরই প্রকৃত ইসলামী অনুশাসন বলে মনে করে। এর সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে ইসলামের প্রতিনিধি হিসেবে সৌদি আরবকে প্রতিষ্ঠিত করার কাজ চালিয়ে গেছে।

কিন্তু, দেশটি আগেও ইসলামের প্রতিনিধি ছিল না আর এখন তারা মোটেও তা নয়। সৌদি আরব কেবল একটি দেশ মাত্র, যা সুন্নি ইসলামের কঠোর ও সেকেলে ব্যাখ্যা ওয়াহাবি মতবাদ অনুসরণ করে।

আর সৌদির ৩.২ কোটি মানুষ এবং তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের প্রভাবে থাকা কয়েকটি দেশ এই মতবাদ মেনে চলে।

প্রকৃতপক্ষে, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও ভারতে সৌদি আরবের চেয়ে অনেক বেশি মুসলিম থাকে। নাইজেরিয়ার মুসলমানদের সংখ্যা সৌদির জনসংখ্যার আড়াই গুণ। সৌদি আরবের সঙ্গে ইসলামের সম্পর্ককেই বড় করে তুলে ধরতেই মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ— মানুষ উভয়ই সৌদির ওয়াহাবি মতবাদকে ইসলাম হিসেবে চিত্রিত করে। যদিও ইসলামের মধ্যেই বেশ কয়েকটি চিন্তাধারা প্রবাহিত হচ্ছে।

আবারো উল্লেখ করতে হচ্ছে, এর জন্য মূলত বিশিষ্ট ওরিয়েন্টালিস্টরা দায়ী। কিন্তু, সৌদি আরবও এই ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছে। সৌদি আরব বড়জোর সংকীর্ণ ও নিশ্চল ওয়াহাবি মতবাদের প্রতিনিধি। কিন্তু, দেশে-বিদেশে তাদের কর্মকাণ্ড দেখলে এটাও অসত্য মনে হবে। কারণ, প্রকৃতপক্ষে এক সৌদি যুবরাজের উচ্চাভিলাষ ও তার পেছনে থাকা ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের দ্বারাই পরিচালিত হচ্ছে দেশটি।

সততা, ন্যায়, সাহস ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতার প্রতিনিধিত্বকারী খাসোগি ওই দেশে একদম বেমানান ছিলেন। সৌদি আরবের লোক বললে পৃথিবীর মানুষের মনে যে ছবি ভেসে ওঠে, তার জলজ্যান্ত ব্যতিক্রম ছিলেন খাসোগি। তিনি তার বিশ্বাস ও জাতীয়তা নিয়ে গর্বিত ছিলেন। তার কাজ ও এমনকি তার অস্তিত্বও সৌদি শাসকদের জন্য অপমানজনক ছিল। স্বেচ্ছাচারী মোহাম্মদ বিন সালমানের উত্থানের পথে তিনি ছিলেন একটা বাধা।

খাসোগির সাহসী সাংবাদিকতা অনেকাংশে ইসলামের দ্বারাই অনুপ্রাণিত ছিল। সৌদি শাসকদের অপকর্মের জন্য ইসলামকে দোষারোপ করলে দ্বিগুণ অন্যায় করা হবে।

প্রথমত, এতে সাহসী এই সাংবাদিকের স্মৃতির প্রতি অন্যায় করা হবে। মৃত্যুর পরও তিনি সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে থাকবেন, যে স্বাধীনতা সৌদি আরবে নেই।

দ্বিতীয়ত, এতে বৈশ্বিক একটা ধর্মের প্রতি অন্যায় করা হবে, যা সৌদি শাসকদের অপকর্ম থেকে আলাদা তো বটেই, জাগতিক বাসনা পূরণ করতে ব্যগ্র এমন যেকোনো দেশ বা সরকারের থেকেও এটা পৃথক।

[খালেদ এ বেয়দুন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। একই সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বে ইসলাম-ভীতি সম্পর্কে গবেষণায় নিযুক্ত। তিনি ‘আমেরিকান ইসলামোফোবিয়া: আন্ডারস্ট্যান্ডিং দ্য রুটস অ্যান্ড রাইজ অফ ফিয়ার’ বইটির লেখক। ২০ অক্টোবর আলজাজিরায় প্রকাশিত তার লেখা ‘The Saudi regime does not represent Islam’ নিবন্ধটির ঈষৎ সংক্ষিপ্ত আকারে ভাষান্তর করেছেন মোহাম্মদ মামুনূর রশিদ ]

আফগানিস্তানে দেহরক্ষীর গুলিতে পুলিশ-গোয়েন্দা প্রধান নিহত

এক দেহরক্ষীর গুলিতে আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশের পুলিশ প্রধান জেনারেল আবদুল রাজিক নিহত হয়েছেন। তিনি দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, এক বৈঠকের পর এক দেহরক্ষীর গুলিতে আফগানিস্তানের অন্যতম শক্তিশালী নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেনারেল আবদুল রাজিক এবং কান্দাহারের গোয়েন্দা প্রধান আবদুল মোহমিন নিহত হয়েছেন।

তবে তালেবান জঙ্গিরা গভর্নরের কার্যালয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শেষে জানিয়েছে, তারা জেনারেল রাজিক এবং শীর্ষ মার্কিন কমান্ডার জেনারেল স্কট মিলারকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে। কিন্তু স্কট মিলার পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

অপরদিকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন কান্দাহার প্রদেশের গভর্নর। ওই হামলার ঘটনায় তিন মার্কিন নাগরিক আহত হয়েছেন।

শনিবার কান্দাহার প্রদেশে নির্বাচন অনুষ্টিত হবে। নির্বাচনের আগেই কান্দাহারে এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটল। এক বিবৃতিতে পুলিশ প্রধান জেনারেল রাজিককে নিষ্ঠুর পুলিশ প্রধান বলে উল্লেখ করেছে তালেবান।

আফগান এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠক শেষ করে ফিরে আসার সময় পেছন থেকে জেনারেল রাজিককে গুলি করা হয়।

কান্দাহারের প্রাদেশিক কাউন্সিলের প্রধান জান খাকরেজওয়াল জানান, গোলাগুলির সময় গভর্নর, প্রাদেশিক কর্মকর্তা, পুলিশ প্রধান এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশ কয়েকজন বিদেশী অতিথিও ছিল।

বেশ কিছু গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সেনা কমান্ডারও ওই হামলায় নিহত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বন্দুক হামলায় রাশিয়ার ক্রিমিয়ায় কলেজে নিহত ১৮

ইউক্রেন ছেড়ে রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া এবং দেশটির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্রিমিয়া উপদ্বীপের একটি কলেজে বন্দুক হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে।

রাশিয়া যেখানে ক্রিমিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি সেতু নির্মাণ করছে, সেই কার্চ এলাকার টেকনিক্যাল কলেজে বুধবার এ হামলা হয়।

কিছু সশস্ত্র লোক কলেজ ভবনে ঢুকে পড়ে হামলা চালায় বলে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন কলেজের পরিচালক। তিনি ঘটনাটিকে ২০০৪ সালের বেসলান স্কুল অবরোধের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন। ওই ঘটনায় প্রায় ৩৩০ জন নিহত হয়েছিল।

ক্রিমিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, হামলাকারীদের অন্তত একজন ক্যাফেটেরিয়ায় বোমা পেতেছে এবং ভবনের ভেতরে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে।

বিবিসি জানায়, প্রাথমিকভাবে কর্মকর্তারা বিস্ফোরক ডিভাইস বিস্ফোরণ ঘটার কথা বললেও পরে হামলার শিকার সবাই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে বলে জানিয়েছেন।

রাশিয়ার তদন্তকারীরা এ হামলার জন্য ভ্লাদিস্লাভ রোসলিয়াকভ নামের ১৮ বছরের এক ছাত্রকে দায়ী করেছেন এবং সে আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন।

ঘটনাটিকে প্রথমে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলা হলেও রাশিয়ার তদন্ত কমিটি এখন এ ঘটনাকে ‘নির্বিচার হত্যাকাণ্ড’ বলছে।

রাশিয়ার ন্যাশনাল গার্ড ইউনিটের সদস্যদেরকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় এক কর্মকর্তা বলেছেন, হামলার শিকার হওয়া বেশিরভাগই কলেজের শিক্ষার্থী।

উল্লেখ্য, ইউক্রেনের দক্ষিণের একটি উপদ্বীপ ক্রিমিয়া ২০১৪ সালে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়।

ভোটের প্রক্রিয়া-পরিবেশ দেখতে আসছে ইইউয়ের পর্যবেক্ষক

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও পরিবেশ দেখতে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) দুইজন প্রতিনিধি বাংলাদেশে আসবেন বলে জানিয়েছেন ইইউয়ের রাষ্ট্রদূত রেনজি টেরেংকে।

আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন তিনি।

রেনজি বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া ও পরিবেশ দেখতে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ইইউয়ের দুইজন প্রতিনিধি বাংলাদেশে আসবেন। তারা কয়েক সপ্তাহ এখানে অবস্থান করবেন।

তিনি আরো বলেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য কোনো সহযোগিতার দরকার হলে তা করবে ইইউ।

এরআগে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার বৈঠক করে।

সিইসির ব্যক্তিগত কর্মকর্তা একেএম মাজহারুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, বৈঠকে সাতটি দেশের রাষ্ট্রদূতসহ মোট ৭ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

এতে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

জামাল খাসোগি ইস্যুতে বিশ্ব রাজনীতি উত্তপ্ত

সৌদির নির্বাসিত সাংবাদিক জামাল খাসোগি ইস্যুতে উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতি। ২ অক্টোবর তুরস্কে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে যাওয়ার পর থেকে তার হদিস নেই। তুরস্কে শুরু থেকেই দাবি করেছে, কনস্যুলেটের ভেতরেই খুন করা হয়েছে এ সাংবাদিককে। কারণ খাসোগি সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে প্রবেশ করলেও তাকে বের হতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে প্রথমে সৌদি দাবি করেছিল, মূলদ্বার দিয়ে প্রবেশ করলেও খাসোগি বের হয়ে গেছেন পেছনের গেট দিয়ে। কিন্তু তুরস্ক পাল্টা দাবি করেছে, সিসিটিভি রেকর্ডে তা নেই। সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, জামাল খাসোগির মৃত্যুর কথা স্বীকারের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। সৌদির রাজপরিবারের প্রতিনিধিদের তদন্তের সময় মারা গেছেন খাসোগি- তাদের বিবৃতিতে এমনটা থাকতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাদশা সালমানের সঙ্গে খাসোগির বিষয়ে আলোচনা করতে সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে নির্দেশ দিয়েছেন। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করবেন পম্পেও। জামাল খাসোগি ইস্যুতে ক্রমাগতভাবে চাপ বাড়ছে সৌদি আরবের ওপর। খাসোগি নিখোঁজ হওয়ার ১৩ দিন পর গতকাল সোমবার তুরস্কের সৌদি কনস্যুলেটে তদন্তের অনুমতি পান তুরস্কের তদন্ত কর্মকর্তারা।

জামাল খাসোগির পুরো নাম জামাল আহমেদ খাসোগি। তার জন্ম ১৯৫৮ সালে মদিনায়। পড়াশুনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে। আল আরব নিউজের সাবেক প্রধান সম্পাদক ছিলেন ওয়াশিংটন পোস্টের এ কলামিস্ট। সৌদি সংবাদপত্র আল ওয়াতানের সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি সৌদি ছাড়েন। তার অভিযোগ ছিল, সৌদি সরকার তাকে টুইটারে নিষিদ্ধ করেছে। সৌদি সরকারের সমালোচনা করে নিবন্ধও লিখেছিলেন তিনি। সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ও সৌদি বাদশাহর কড়া সমালোচক ছিলেন জামাল। ইয়েমেনে সৌদি হস্তক্ষেপেরও বিরোধিতা করেছেন তিনি। চলতি বছরের মে মাসে সৌদি নারী মানবাধিকার কর্মীদের গ্রেফতার করলে কড়া সমালোচনা করেন ট্রাম্প।

এরইমধ্যে বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নেয়া শুরু করেছে সৌদি আরবের ওপর থেকে। যুক্তরাষ্ট্রও জানিয়েছে, হত্যার বিষয়টি প্রমাণিত হবে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে সৌদি আরবকে।

গোটা ভূখণ্ড ঘূর্ণিঝড়ে নিশ্চিহ্ন!

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোতে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মাইকেল’। ঘণ্টায় আড়াইশো কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়েছিল সেই ঝড়। ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে হ্যারিকেনটি। এই ঝড়ে মানচিত্র থেকে প্রায় মুছে গেছে মেক্সিকো বিচ-শহর সংলগ্ন একটি ভূখণ্ড। ‘মাইকেল’-এর এই তাণ্ডবলীলাকে ‘মাদার অফ অল বম্বস’-এর সঙ্গেও তুলনা করা হচ্ছে।

ফ্লোরিডা শহরের পশ্চিম উপকূলে মেক্সিকো বিচ শহরের কাছে আছড়ে পড়ে ‘মাইকেল’। ঘণ্টায় ২৫০ কি.মি. গতিবেগের ঝড়টির তীব্রতা এতটাই ছিল যে, বাড়িঘর, মালগাড়ির বগি খেলনার মতো উড়ে যায়। আগাম বন্দোবস্ত নিয়েও মৃত্যু এড়াতে পারেনি মার্কিন প্রশাসন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এখনও অনেকে নিখোঁজ।

এই হ্যারিকেনের জেরে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গোটা একটা ভূখণ্ড। সেই ধ্বংসস্তূপ সরালে আরও মৃত্যু বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, হ্যারিকেন মাইকেলের আঘাতে ফ্লোরিডা, জর্জিয়াসহ সংশ্লিষ্ট শহরগুলিতে বিদ্যুত্‍ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন। উপকূলীয় অঞ্চলে বাড়িঘর, গাছপালা উপড়ে পড়ে। খেলনার মতো উড়ে যায় ঘরবাড়ি, ট্রেনের বগি।