ব্যবসার খবর

ব্যবসার খবর আমার কুষ্টিয়া হতে প্রকাশিত

দরপতনে নতুন রেকর্ড, এশিয়ার দুর্বল মুদ্রা ভারতীয় রুপি

মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির সর্বকালের সবচেয়ে কম মূল্যমানের নতুন রেকর্ড দেখা গেছে মঙ্গলবার।

হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকা জানায়, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ ভারতীয় রুপির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

এবছর ডলারের ভারতীয় রুপির মূল্যমান ১২ শতাংশ কমেছে। এবছর এখন পর্যন্ত এটাই এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা।

দিনের শুরুতে ডলারের সঙ্গে রুপির বিনিময় হার বাড়লেও, দিনের কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগে ডলারের বিপরীতে এটির দাম কমে ৭২.৯৭-তে এসে থেকে। গত সপ্তাহে রুপির সর্বনিম্ন দরের রেকর্ড ছিল ৭২.৯১।

একজন মুদ্রা বিনিময় কারবারি জানান, ‘রুপির দাম এতো পড়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। অপরিশোধিত জ্বালানির দাম বাড়ায় হঠাৎ করে মানুষ রুপির ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।’

একজন সরকারি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ডলারের বিপরীতে রুপির মূল্য ৭২-৭৩ হওয়াটা ভারত ‘যথার্থ মূল্য’ হিসেবে বিবেচনা করছে।

দেশটির সরকার গত সপ্তাহে রুপির মুল্য স্থিতিশীল করতে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু দুর্বল রুপির সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় বন্ডের দামও কমতে শুরু করেছে।

বাজারে শীতের আগাম সবজি, দাম চড়া

ঋতুর পরিক্রমায় শীত আসতে আরো বেশ কিছু দিন দেরি আছে। কিন্তু শীতের আগমনের আগেই বাজারে এসেছে শিম, টমেটো, ফুলকপি। সিজন না হওয়ায় বাজারের অন্যান্য সবজির তুলনায় এগুলোর দামও চড়া। এদিকে, বৃষ্টির কারণে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের।

শুক্রবার রাজধানীর মেরাদিয়া হাট ঘুরে দেখা যায়, বাজারে আসা নতুন শিম প্রতি কেজি ১২০ টাকা, টমেটো ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভাল মানের ফুল কপি প্রতি পিস ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এদিকে, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও গত সপ্তাহে প্রতি কেজি মরিচ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কম থাকায় কাঁচা মরিচের দাম বেশি।

এ ছাড়া পটল ৩০ টাকা, করলা ৩০ টাকা, ঢেঁড়স ২৫-৩০ টাকা, ঝিঙা ৩৫ টাকা, কাকরোল ৩০ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা, কচুর লতি কেজি ৫০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, কচু মুখী ৫০ টাকা, ধনে পাতা ১৪০ টাকা, শশা ৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রকারভেদে প্রতিটি ৩৫-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, পুঁই শাক প্রতি আঁটি ২০ টাকা, লাল শাক ১০ টাকা, লাউ শাক ৩০ টাকা, লেবুর হালি ২০-২৫ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১০৮ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল কেজি প্রতি ৮৪-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা পাম অয়েল প্রতি কেজি ৭৪-৭৫ টাকা, পাম অয়েল সুপার ৭৫ থেকে ৭৮ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে।

এদিকে, কোরবানির ঈদের পর ব্রয়লার মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকা। ঈদের আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এ ছাড়া দেশি মুরগি ২২০ থেকে ৪০০ টাকা পিস, লেয়ার মুরগি ২৫০ টাকা এবং পাকিস্তানি লাল মুরগি আকারভেদে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ঈদের পর বৃষ্টি বাড়ার সাথে বাজারে ইলিশের সরবরাহও বেড়েছে। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। ১ কেজি বা ১২০০ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১১ শ থেকে ১২ শ ৫০ টাকা।

এ ছাড়া রুই মাছ ৩৫০ টাকা, প্রকার ভেদে চিংড়ি মাছ ৩৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা, আড় মাছ ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

তবে বাজারে শীতের আগাম সবজির দাম চড়া হলেও অন্যান্য সবজির দাম রয়েছে মোটামোটি সহনীয় পর্যায়ে

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮০০০ টাকা নির্ধারণ

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে। বর্তমানে ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু এ তথ্য জানান।

চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি পোশাক শ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। স্থায়ী চার সদস্যের সঙ্গে পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি ও শ্রমিকদের একজন প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত এই মজুরি বোর্ড সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে মজুরি নির্ধারণ করেছে।

এর আগে ২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এই মজুরি কার্যকর হয় ওই বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে।

বাংলাদেশিদের হাতের ছোঁয়ায় মরুভূমি এখন কৃষি নগরী

প্রবাসের মাটিতেও বাংলাদেশিদের কৃষি সাফল্য-সুনাম কুড়িয়েছে সর্বত্র। বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর রয়েছে কৃষির প্রতি টান। রয়েছে মাটির প্রতি অন্যরকম মমতা। এ সত্য বারবারই প্রমাণিত হয় পৃথিবীর দেশে দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কৃষি সাফল্যের মধ্য দিয়ে।

সৌদি আরবের মদিনা থেকে উত্তর দিকে ১৪ কিলোমিটার দূরে হাইয়াল আল জাহরা নামক এলাকাটি বাংলাদেশিদের হাতের ছোঁয়ায় পরিণত হয়েছে কৃষি নগরীতে। একেবারেই নিষ্ফলা বালি ও কাঁকরময় মরুভূমিকে পরিণত করছেন ফসল উৎপাদনের উপযোগী ক্ষেত্র হিসেবে। সেখানে সবচেয়ে বড় কৃষি খামারটি পরিচালনা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর শাহপুর গ্রামের মোহাম্মদ কবির হোসেন।

অনাবাদি, পতিত ও বালি-কাঁকর মেশানো যেমন মাটিই হোক অথবা আবাদি ভূমির ব্যবস্থা না থাকলেও জৈব উপাদান ব্যবহার করে তাতে ফল, ফুল, সবজি ফলিয়ে দেখিয়ে দিতে পারেন একজন বাংলাদেশি। ওই স্হানে প্রায় এক বর্গকিলোমিটার আয়তনের খামারে আলো, তাপ, পানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় চলছে ওই খামারগুলো।

উৎপাদন হচ্ছে বিভিন্ন রকম ফুল ও ঔষধি গাছ। মোহাম্মদ কবির হোসেন তার নিজস্ব বুদ্ধি ও কৌশলকে কাজে লাগিয়ে আরবের মরুভূমিকে ফুলের বাগান করে চলেছেন।

একশ প্রজাতির ফুল ও ঔষধি গাছ রয়েছে এই বাগানে। ১৩ শ্রমিক কাজ করেন এখানে। বিভিন্ন দেশ থেকে ঔষধি ও ফুলের গাছের চারা নিয়ে এসে কলাপ করার পরে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে বিক্রয় উপযোগী হলে সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রদেশে বিক্রি করেন।মোহাম্মদ কবির হোসেনের এ উদ্যোগকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ থেকে এই সরকারিভাবে হজে আসা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব আশরাফ হোসেন, অ্যাডিশনাল ডিআইজি মিজানুর রহমান ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আব্দুল্লাহ আরিফ মোহাম্মদ।

দেশ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ শ্রমিক নিয়ে আসতে পারলে দেশের রেমিট্যান্স বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশি কৃষি খামারগুলোতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা।

কলরেটে প্রশ্নবিদ্ধ মুনাফা : বিকল্প মাধ্যমে ঝুঁকছেন গ্রাহক

দেশের সব মোবাইল অপারেটরে বর্তমানে অফলাইন-অনলাইন ভয়েস কলে ন্যূনতম ৪৫ পয়সা রেট ও সর্বোচ্চ দুই টাকা করা হয়েছে। এর আগে, একই অপারেটরে ফোন করলে সর্বনিম্ন কলরেট ছিল ২৫ পয়সা, আর এক অপারেটর থেকে অন্য যে কোনো অপারেটরে ফোন করলে কাটা হতো সর্বনিম্ন ৬৫ পয়সা।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিটিআরসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১৪ আগস্ট থেকে ইউনিফর্ম কলরেট বাস্তবায়ন করছে মোবাইল অপারেটরগুলো। বিটিআরসি মনে করছে, মোবাইল ফোন বাজারের সিংহভাগ শেয়ার একটি মোবাইল কোম্পানির দখলে থাকায় ভিন্ন কলরেটের কারণে এতদিন সুবিধা পেয়ে আসছিল তারা। নতুন আইন অনুযায়ী, বাজারের শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠান কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অপেক্ষাকৃত ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রতিযোগিতামূলক বাজার নিশ্চিত হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেছিলেন, ‘যারা একটু দুর্বল অপারেটর তারা এবার একটু শক্তিশালী হতে পারবে।’

সর্বনিম্ন কলরেট বাড়ানো ও সব অপারেটরে সমান করার ক্ষেত্রে বিটিআরসির আরেকটি যুক্তি হলো, সরকারের এই নির্দেশনার ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবে। বিটিআরসির এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছিল কয়েকটি মোবাইল অপারেটর। তবে মাস না পেরুতেই ইউনিফর্ম কলরেট-র এই সিদ্ধান্তে গ্রাহকদের যেমন খরচ বেড়েছে ঠিক তেমনি অপারেটরগুলোর মুনাফাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। সেক্ষেত্রে গ্রাহকেরা কথা বলার জন্য বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন।

বেড়েছে খরচ, মোবাইলে কথা বলছে কম বিটিআরসির সিদ্ধান্তের আগে দেশের প্রায় সব অপারেটর একই অপারেটরের নাম্বারে কথা বলার জন্য নানা সাশ্রয়ী অফার দিত। বাংলাদেশের মানুষ সাধারণত পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে বা গল্প করে বেশি। মোবাইল কোম্পানিগুলোও এ বৈশিষ্ট্যকে বিবেচনা করে নানা অফার ঘোষণা করত। কিন্তু বিটিআরসির সিদ্ধান্তের পর গ্রাহকদের অভিযোগ মোবাইল ফোনে কথা বলার ক্ষেত্রে তাদের খরচ বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিটিআরসির সিদ্ধান্তে ৩০ শতাংশ খরচ বেড়েছে গ্রাহকদের।

চ্যানেল আইয়ের স্টাফ রিপোর্টার লুৎফর রহমান সোহাগ জানান, মোবাইলে কথা বলার ক্ষেত্রে তার খরচ বেড়েছে। আগে কলরেট বিড়ম্বনা স্ফীত বিকল্প মোবাইলে কথা বলার জন্য মাসে তার খরচ হতো ৬০০ টাকার মতো। এখন যেভাবে খরচ বাড়ছে তাতে ৮০০ টাকার বেশি খরচ হবে বলে মনে করছেন তিনি।

সোহাগ বলেন, ‘বাধ্য হয়েই এখন মোবাইল ফোনে কথা বলা কমিয়ে দিয়েছি। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কারও সঙ্গে মোবাইলে কথা বলছি না। যোগাযোগের জন্য ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার ব্যবহার করছি।’

ঢাকার শ্যাওড়াপাড়ার বাসিন্দা গৃহকর্মী মিলি আক্তার বলেন, ‘হিসাব করে দেখিনি। তবে মোবাইলের ব্যালেন্স খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কারও সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলছি না।’

একটি বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা সুজন ওয়াহিদ বলেন, ‘মোবাইলে খরচ বেড়েছে। আগে নির্দিষ্ট অফারে যে পরিমাণ কলটাইম পাওয়া যেত, এখন তার প্রায় ৪০ ভাগ কমেছে। ফলে আগের তুলনায় আগেভাগেই অফারের বান্ডেল শেষ হয়ে যাচ্ছে।’

সর্বনিম্ন কল ৪৫ পয়সার চেয়ে কাটছে অনেক বেশি

বেসরকারি সংস্থা টিআইবির কর্মকর্তা প্রণব সাহার অভিযোগ, নতুন সিদ্ধান্তের পর সবগুলো অপারেটরে কলরেট অনেক বেড়েছে। বিটিআরসি ন্যূনতম খরচের জন্য যে ৪৫ পয়সা বেঁধে দিয়েছে সেটা থেকে অনেক বেশি কাটছে অপারেটরগুলো।

এ অভিযোগের সত্যতাও মেলে খোলা কাগজের অনুসন্ধানে। গ্রামীণফোন থেকে গ্রামীণফোনের নাম্বারে কল করে দেখা গেছে ৫৯ সেকেন্ডে কাটছে ১ টাকা ৩৩ পয়সা (ভ্যাটসহ)। বাংলালিংক থেকে রবি ৫৯ সেকেন্ডে ভ্যাটসহ কাটছে ৯১ পয়সা আর টেলিটক থেকে রবিতে ৫৯ সেকেন্ডে কাটছে ১ টাকা ৬ পয়সা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিটিআরসি অফলাইন-অনলাইন ভয়েস কলে ন্যূনতম কলরেট ৪৫ পয়সা করার পর বেশিরভাগ গ্রাহক মোবাইলে কথা বলা কমিয়ে দিয়েছেন। এর ফলে অপারেটরগুলো ন্যূনতম কলরেটের চেয়ে অনেক বেশি টাকা কাটছে প্রতিটি কলে। এর ফলে যে প্রান্তিক গ্রাহকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বিটিআরসি নতুন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রতি মিনিটে গ্রাহকদের কাছ থেকে ন্যূনতম কলরেটের চেয়ে অনেক বেশি টাকা কাটার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গ্রামীণফোনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান তা অস্বীকার করে বলেন, ‘এমনটি হওয়ার কথা নয়। যে সব গ্রাহক বেশি টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ করছেন সেটা আদৌ সত্য নয়। সুনির্দিষ্ট কাস্টমার তথ্য দিলে বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।’

বিটিআরসির নতুন সিদ্ধান্তে গ্রাহকরা যে ফোনে কথা বলা কমিয়ে দিয়েছেন সেটার প্রমাণ মিলেছে প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা সৈয়দ তালাত কামালের বক্তব্যে। তিনি বলেন, কলচার্জ সমন্বয়ের প্রভাব পরিমাপ করার সময় এখনো আসেনি, তবে আমরা গ্রাহকদের ফোন ব্যবহার কিছুটা হ্রাস পেতে দেখেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ইউনিফর্ম ট্যারিফ চালুর পক্ষে ছিলাম না, কারণ এর ফলে অন-নেট রেট বেড়েছে। কিন্তু আমরা বুঝতে পারছি যে রেগুলেটর বাজার কাঠামো পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা এখন গ্রাহকদের এই পরিবর্তনের সম্পূর্ণ সুবিধা দিতে বিভিন্ন প্যাকেজে আমাদের ট্যারিফগুলো পুনঃমূল্যায়ন করছি। আমাদের মিনিট প্যাকগুলো ব্যবহার করে গ্রাহকরা ৪৫ থেকে ৪৭ পয়সা ট্যারিফ উপভোগ করছেন।’

গ্রাহক ঝুঁকছে বিকল্পে

বিটিআরসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৫ কোটির বেশি। এদের একটা বড় অংশই বর্তমানে স্মার্টফোন ব্যবহার করছে। আর তাই দিন দিন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বাড়ছে। দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে আট কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ফোনে কথা বলার খরচ বাড়ায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের দিকে ঝুঁকছে অনেকে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম যোগাযোগ ও কথা বলার জন্য ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটস অ্যাপ, ভাইবার, ইমো প্রভৃতি ইন্টারনেটভিত্তিক মাধ্যমে ঝুঁকছে।

লুৎফর রহমান সোহাগ বলেন, ‘গত কয়েক দিনে যোগাযোগের জন্য ফেসবুক মেসেঞ্জার বেশি ব্যবহার করছি। এতে অভ্যস্ত হয়েও পড়ছি।’

সুজন ওয়াহিদ অবশ্য বলেন, ‘মাস শেষে আমাদের মাপা মাইনে। তাই আয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে ব্যয় করতে হয়। মোবাইল ফোনে কথা বলার জন্য আগে যে টাকা ব্যয় করতাম এখনো সেটাই করছি। শুধু কথা বলা কমিয়ে দিয়েছি। যোগাযোগের জন্য ইন্টারনেটভিত্তিক অ্যাপ বেশি ব্যবহার করছি।’

সক্রিয় চামড়া পাচার সিন্ডিকেটে দামে ধস

কুরবানির চামড়া ভারতে পাচার ঠেকাতে যশোরের বেনাপোল ও শার্শা সীমান্তে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সীমান্ত এলাকাগুলোতে টহল জোরদারের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

চামড়া চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের তালিকা তৈরি করে তাদেরও কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি চামড়াবোঝাই কোনো ট্রাক সীমান্ত অভিমুখে যেতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিজিবি ও পুলিশের কর্মকর্তারা। ঈদের দিন আজ বুধবার সকাল থেকে পরবর্তী এক মাস এই সতর্কতা জারি থাকবে বলে জনিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

চামড়া ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ট্যানারি মালিকরা সিন্ডিকেট করে চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করেছেন ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট ৩৫-৪০ টাকা, খাসির চামড়া ১৮-২০ টাকা, বকরির চামড়া ১৩-১৫ টাকা।

পার্শ্ববর্তী দেশে চামড়ার দাম বেশি। বাংলাদেশ থেকে কম দামে চামড়া কিনে সীমান্ত পার করলেই বেশি দামে বিক্রি করা যায়। এই লক্ষ্যে উভয় দেশের সীমান্তে পাচারকারীদের চক্রগুলো ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তারা সুযোগ বুঝে এসব চামড়া ভারতে পাচার করার পরিকল্পনায় রয়েছে।

জানা গেছে, দেশের চাহিদার মোট চামড়ার মধ্যে কুরবানির ঈদে ৪০ শতাংশ সংগ্রহ করা হয়। বাকি ৬০ শতাংশ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ হয় বছরজুড়ে। চামড়া ব্যবসায়ীদের মতে, পার্শ্ববর্তী দেশের চেয়ে বাংলাদেশের চামড়ার গুণগত মান উন্নত। প্রতিবেশী দেশের পশুর চামড়া নিম্নমানের বিধায় এদেশি চামড়ার সঙ্গে মিশিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হয়।

চোরাকারবারিরা প্রতিবেশী দেশে চামড়া পাচার করে ওই অর্থ দিয়ে ভারত থেকে অন্যান্য মালামাল ক্রয় করে থাকেন। যশোর সীমান্তবর্তী অঞ্চল হওয়ায় এখান থেকে খুব সহজে ভারতে চামড়া পাচার করা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চামড়া ব্যবসায়ী এক নেতা জানান, যশোর ও তার আশপাশের কোন কোন সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচার হতে পারে সেসব স্থানের মধ্যে বেনাপোল, শার্শা, ঝিকরগাছা, সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্ত পথ দিয়ে পাচারের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, চামড়ার দাম সঠিকভাবে নির্ধারণ করলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি থাকে। ফলে পাচার হওয়ার আর সম্ভাবনা থাকে না। তিনি চামড়ার সঠিক দাম নির্ধারণের জন্য ট্যানারি মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, চামড়া পাচার রোধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সীমান্তে কড়া নজর রাখা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ, আনসারসহ সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে যাতে একটি চামড়াও পাচার হতে না পারে।

যশোর ২৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল হক বলেন, চামড়া পাচার প্রতিরোধে সীমান্তে কড়া সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে বিজিবিকে। ফলে পাচারকারীরা সুবিধা করতে পারবে না। তিনি বলেন, চামড়া যাতে পাচার না হতে পারে সেজন্য প্রতি হাটে বিজিবির পক্ষ থেকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

চামড়ার হাটগুলো থেকে ব্যবসায়ীরা যাতে চামড়া ফেরত নিয়ে আসতে না পারে সে ব্যবস্থাও  রাখা হয়েছে। প্রধান সড়ক ছাড়া কোনও আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে যাতে চামড়া আনা-নেওয়া না করতে পারে সেজন্য সতর্ক রয়েছে বিজিবি।

কোরবানির আগে ও পরে করণীয়

বুধবার (২২ আগস্ট) বাংলাদেশে উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব। মানুষ প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের ভাগাভাগি করে নিয়ে গ্রামে ফিরছেন। 

এরই মধ্যে কোরবানির প্রস্তুতিও শেষের দিকে। পশু কেনা থেকে শুরু করে সার্বিক প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। কোরবানি দাতার জন্য রয়েছে ইসলামের বিশেষ কিছু নির্দেশনা।

‘কোরবানি’ শব্দটির আরবি ‘কুরব’; আর আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় আত্মোৎসর্গ করাকে বলা হয় কোরবানি। শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তার উদ্দেশ্যে পশু জবাই করাকে কোরবানি বলা হয়। কোরবানির পশু নিজে জবাই করা উত্তম।

এছাড়া হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর ছেলে ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করার ঐশী নির্দেশের পরীক্ষা থেকে বর্তমান পদ্ধতির কোরবানির সূচনা হয়েছে।

ঈদুল আজহার তিনদিনের মধ্যে (জিলহজ মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত) আল্লাহের নামে জীবন্ত চার পা ওয়ালা পশু জবাই করা হয়। 
প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের যদি সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার মালিক হয় অথবা এর সমপরিমাণ নগদ অর্থের মালিক হয় তার জন্য কোরবানি করা হবে ওয়াজিব। 

কোরবানির পশু ক্রয়ের আগে

** হালাল উপার্জন দিয়ে কোরবানির পশু ক্রয় করুন।

** আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের স্পৃহা ও ওয়াজিব আদায়ের প্রেরণা মনে জাগ্রত করুন।

** কোরবানিকে সুখ্যাতি ও প্রদর্শন ইচ্ছার চিন্তা মন থেকে দূর করুন।

** ভাগে কোরবানি দেওয়ার ইচ্ছা থাকলে পশু কেনার আগেই ভাগিদার নির্বাচিত করুন। এটা মোস্তাহাব আমল।

** যার ব্যাপারে নিশ্চিত জানা আছে, তার উপার্জন হারাম, তাকে কোর‍বানির শরিক করবেন না।

** কোরবানি দেওয়ার ইচ্ছা করলে, জিলহজ মাসের চাঁদ উঠার আগে নখ, চুল এবং অবাঞ্চিত লোম কেটে ফেলুন। এটাও মোস্তাহাব আমল।

পশু কেনার সময় করণীয়
** যে পশুর ব্যাপারে ধারণা হবে যে, তা চুরি করে আনা তা কিনবেন না।

** কোরবানি পশু ক্রয়-বিক্রয়কালে মিথ্যা কথা ও মিথ্যা শপথ বর্জন করুন।

** কোনো পশুর মূল্য চূড়ান্ত করার পর কোনো দাম বলবেন না অথবা ক্রয়ের প্রস্তাব দেবেন না। এটা মাকরূহ।

** কেনা পশুটি ভালোভাবে দেখে নিন।

** খেয়াল রাখতে হবে গরু, মহিষের বয়স যেনো দুই বছরের কম না হয়, উটের বয়স যেনো পাঁচ বছরের কম না হয়, ছাগলের বয়স যেনো এক বছরের কম না হয়। ছয় মাস বা তদূর্ধ্ব বয়সের ভেড়া, দুম্বা দেখতে যদি এক বছর বয়সের মতো মনে হয় তবে তা দ্বারা কোরবানি করা যাবে। গরু, মহিষ, উট ও ছাগলের জন্য বয়সের কোনো ছাড় নেই। যতোই হৃষ্ট-পুষ্ট হোক নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হতে হবে।

** কান, জিহ্বা ও লেজ যেনো অর্ধেকের বেশি কাটা না থাকে। চোখের দৃষ্টি শক্তি অর্ধেকের বেশি যেনো নষ্ট না থাকে।

** পশুর শিং যেনো এ পরিমাণ ভাঙা না থাকে যার প্রভাব মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।

** জানাশোনায় প্রসব সময় নিকটবর্তী এমন পশু ক্রয় করে কোরবানি করা মাকরূহ। তবে কোরবানি আদায় হবে।

** বন্ধ্যা পশুর কোরবানি জায়েজ। অণ্ডকোষ কাটা পশু কোরবানি করা উত্তম।

** খাবার খেতে পারে না বা নড়া-চড়া করতে পারে না এতো দুর্বল পশুর কোরবানি শুদ্ধ নয়।

** বন্য ও হিজড়া প্রজাতির পশুর কোরবানি জায়েজ নেই।

কোরবানির পশু ক্রয়ের পর করণীয়:

** পশুর সেবা-যত্ন করুন। অহেতুক পশুকে কোনো কষ্ট দেবেন না।

** পশু এমন স্থানে বাঁধুন যেনো পথচারীদের কষ্ট না হয়। পশুর গলায় ঘণ্টি বাঁধবেন না।

** কোরবানির জন্য ক্রয়কৃত পশুর ওপর আরোহণ করবেন না বা কোনো কাজে ব্যবহার করবেন না।

** যদি দুধ দোহন করা হয় তবে গরিব-মিসকিনকে দান করে দিন। আবার দুধের বাজার মূল্য দান করে নিজেও সে দুধ পান করতে পারবেন।

** কোনো অবস্থাতেই কোরবানির পশুর প্রদর্শনী করবেন না।

** ভাগে কোরবানি দিলে ভাগিদার সবাইকে সবকাজে সঙ্গে রাখার চেষ্টা করুন

কোরবানির জন্য সুস্থ ও অসুস্থ পশু চেনার উপায়

কোরবানির জন্য সুস্থ গরু সনাক্তের ব্যাপারে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু বিশেষজ্ঞরা। তারা মূলত কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। আসুন পরামর্শগুলো জেনে নেয়া যাক-

১. রাসায়নিক বা ওষুধ দেয়া গরুর মাংসপেশি থেকে শুরু শরীরের অন্য অঙ্গগুলো অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকে। শরীরে পানি জমায় বিভিন্ন অংশে চাপ দিলে সেখানে গর্ত হয়ে দেবে যাবে, এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে সময় নেবে।

৩. অতিরিক্ত ওজনের কারণে এ সব গরু চলাফেরা বা স্বাভাবিক নাড়াচাড়া করতে পারেনা। শান্ত থাকে।

৪. রাসায়নিকযুক্ত গরু ভীষণ ক্লান্ত থাকবে এবং ঝিমাবে। সুস্থ গরুর গতিবিধি চটপটে থাকে। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বুঝে প্রতিক্রিয়া দেখায়। কান ও লেজ দিয়ে মশা মাছি তাড়ায়।

৫. রাসায়নিক বা ওষুধ খাওয়ানো গরুর শরীরের অঙ্গগুলো নষ্ট হতে শুরু করায় এগুলো শ্বাস প্রশ্বাস দ্রুত হয়। মনে হবে যেন হাঁপাচ্ছে।

৬. অতিরিক্ত স্টেরয়েড দেয়া গরুর মুখ থেকে প্রতিনিয়ত লালা ঝরবে। কিছু খেতে চাইবে না। সুস্থ গরুর মুখের সামনে খাবার ধরলে সেটা টেনে খাবে। না হলে জাবর কাটবে।

৭. সুস্থ গরুর নাকের উপরের অংশটা ভেজা বা বিন্দু বিন্দু ঘাম জমা থাকবে। অন্যদিকে অসুস্থ গরুর নাক থাকবে শুকনা।

৮. সুস্থ গরুর শরীরের রঙ উজ্জ্বল থাকবে। গরুর পিঠের কুজ মোটা, টানটান ও দাগমুক্ত হবে।

৯. সুস্থ গরুর রানের মাংস শক্ত থাকবে। যেখানে রাসায়নিক দেয়া গরুর পা হবে নরম থলথলে।

১০. গরুর শরীরে হাত দিয়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মনে হলে বুঝতে হবে গরুটি অসুস্থ।

১১. সুস্থ গরুর চামড়ার ওপর দিয়ে কয়েকটা পাঁজরেরহাড় বোঝা যাবে।

গাবতলী হাটে ১টি মাত্র উট, দাম ১৮ লাখ !

পা গুটিয়ে শুয়ে শুয়ে জাবর কাটছে উদাস মনে। পানি, খাবার রাখা আছে কাছেই। তাতে নজর নেই। অলসতা দেখানোর সময়-ই বটে। কখনও তীব্র রোদ, আবার কখনও ভ্যাপসা গরম। এমন গরমে শরীর এলিয়ে দিয়ে বিশ্রাম নেয়াই উত্তম বটে।

আয়োজন বিশ্রামের, তবে সে বিশ্রামে স্বাদ মিলছে না। মরু দেশের প্রাণী উটটি দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে দর্শনার্থীরা। একটি মাত্র উট। আর তাকে ঘিরেই যেন গাবতলী হাটের মধ্যে আরেকটি হাট। যিনি-ই আসছেন এই গলিতে, তিনিই দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন উট দেখতে। কেউ দেখছেন উৎসাহ নিয়ে, কেউবা দেখছেন অবাক চোখে। গরুর হাটে উটের দেখা!

হাজারো গরুর মাঝে নিজেকে ভিনদেশি মেহমান হিসেবেই জাহির করছে যেন। নইলে মানুষের এত ভিড় কেনো! কেউ সেলফি তুলছেন। কেউ দাম জিজ্ঞেস করছেন। কোন দেশ থেকে আনা হয়েছে, এমন সব প্রশ্নে বিরক্ত দেখভালের দায়িত্বে থাকা জাফর। বিরক্ত উটটিও। উটের পাশে দুটি দুম্বাও বাঁধা।

আমজাদ ব্যাপারী উট এবং দুম্বা দুটি কিনে এনেছেন পাশের দেশ ভারতের রাজস্থান থেকে। প্রতি বছরই আনেন উট এবং দুম্বা। মূলত কোরবানির বাজার উপলক্ষেই তার এই উটের ব্যবসা। গত বছর ব্যবসা ভালো যায়নি। তাই এবার একটি উট তুলেছেন হাটে। গত বছর কিনে আনার পর থেকেই উটটি রাখা হয়েছে গাবতলী হাটে।

আমজাদ ব্যাপারীর ছেলে জাফর উটের পাশে চেয়ারে বসেই আগুন্তকদের সঙ্গে কথা বলছেন। কত দিয়ে কিনে আনা হয়েছে, তা বলতে রাজি হলো না। দুম্বা দুটির কেনা দামও বলল না। তবে বিক্রির জন্য উটটির দাম হাঁকিয়েছেন ১৮ লাখ। আর দুম্বা দুটির দাম চাইছে ৭ লাখ।

জাফর বলেন, প্রতি বছরই এই হাটে উট আর দুম্বা বিক্রি করে থাকেন। মূলত ভারত থেকেই আনা হয় এসব পশু। অনেকেই উৎসাহ থেকে এসব পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। তবে এবার একটি উট আর দুটি দুম্বা আনা হয়েছে। উটের দাম ১৮ লাখ টাকা আর দুম্বা জোড়ার দাম চাইছি ৭ লাখ টাকা। তবে কত টাকায় বিক্রি করবেন, তা বাবা ভালো জানেন।

নজর কাড়লো দুলালের ‘কালা মানিক

কোরবানির ঈদের বাকি মাত্র চারদিন। শুক্রবার (১৭ আগস্ট) সকাল থেকে জমে উঠেছে রাজধানীর গাবতলীর পশুর হাট। হাটের সম্প্রসারিত অংশও গরুতে পরিপূর্ণ হতে শুরু করেছে। হাটের প্রবেশপথে বিশাল আচ্ছাদনের মধ্যে হঠাৎ চোখে পড়লো উৎসুক জনতার সমাগম। সবাই দাঁড়িয়ে কালো রঙের একটা গরু দেখছেন। দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে হাতি দাঁড়িয়ে। বিশালদেহী গরুটির নাম ‘কালা মানিক’।

বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) সকালে কুষ্টিয়া জেলার হালশা গ্রাম থেকে গরুটি এসেছে রাজধানীর গাবতলীর হাটে। গরুটির মালিক ‘কালা মানিক’র দাম হাঁকাচ্ছেন ২০ লাখ। এখনও পর্যন্ত ১১ লাখ টাকা দাম উঠেছে হাটে। ‘কালা মানিক’র বয়স সাড়ে তিন বছর।

গরুটির দেহের ওজন ৪২ মণ বলে দাবি ‘কালা মানিক’র মালিক দুলাল ব্যাপারীর। একবছর আগে দিনাজপুর জেলার একটি ফার্ম থেকে ‘কালা মানিক’কে কেনা হয়।

গরুটির মালিকের দাবি, একবছরে একশো কেজি ছোলা, তিনশ কেজি খুদের ভাত খাওয়ানো হয়েছে ‘কালা মানিক’কে। পাশাপাশি ৬০ বস্তা (প্রতি বস্তা ৫৫ কেজি) গমের ছাল খাওয়ানো হয়েছে। চিটা গুড়, খৈল,  ধানের খড় খাওয়ানো হতো। প্রতিদিন ৩০ কেজি খাবার লাগে ‘কালা মানিক’র। সকালে ও রাতে তাকে গোসল করানো হয়। ২৪ ঘণ্টা ফ্যানের নিচে থাকতে পছন্দ করে ‘কালা মানিক’।

দুলাল ব্যাপারী বাংলানিউজকে বলেন, ‘কালা মানিক’র জন্য দৈনিক খরচা এক হাজার টাকা। একবছরে তিন লাখের উপরে খরচা করেছি। দাম চাইছি ২০ লাখ টাকা। তবে ১১ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে।

(বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর)

পোশাক শিল্প এলাকায় শনিবার ব্যাংক খোলা

পবিত্র ঈদুল আজহার আগে তৈরি পোশাক শিল্প এলাকায় শনিবার ছুটির দিনেও খোলা থাকবে ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠায়। মঙ্গলবার প্রজ্ঞানপনটি জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পোশাক শ্রমিক এবং কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের সুবিধার্থে শনিবার তফসিলি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো খোলা রাখতে হবে।

এতে আরো বলা হয়, আসন্ন কুরবানির ঈদের আগে পোশাক শ্রমিক ও কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও ভাতা পরিশোধের জন্য ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পোশাক শিল্প এলাকার তফসিলি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা ১৮ আগস্ট শনিবার পূর্ণ দিবস খোলা রাখার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ

কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের জন্য দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। ট্যানারি ব্যবসায়ীরা এবার ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া কিনবেন ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়; ঢাকার বাইরে এর দাম হবে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। এছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়া ১৮-২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৩-১৫ টাকায় সংগ্রহ করবেন ব্যবসায়ীরা।

বৃহষ্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কোরবানির পশুর চামড়ার দর সংক্রান্ত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, লবণযুক্ত অথবা লবণ ছাড়া, যাই হোক না কেন, প্রতিবর্গফুট গরুর চামড়া দাম (ঢাকায়) ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, খাসি ১৮ থেকে ২০ টাকা, বকরি ১৩ থেকে ১৫ টাকা।

তিনি বলেন, চামড়া যাতে পাচার না হয়, সে জন্য সীমান্ত এলাকায় সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতবছর ট্যানারি ব্যবসায়ীরা ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় সংগ্রহ করেন। এছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়া ২০-২২ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৫-১৭ টাকায় সংগ্রহ করা হয়।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কোরবানি উপলক্ষে সারা দেশে এক কোটি পাঁচ লাখের মত গবাদিপশু বিক্রি হয়েছিল। আর এবার দেশের খামারগুলোতে কোরবানিযোগ্য পশু আছে এক কোটি ১৬ লাখ।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে সরকার এবার কোরবানির ঈদের ছুটি রেখেছে ২১ থেকে ২৩ অগাস্ট। অর্থাৎ, ১২ অগাস্ট জিলহজ মাসের চাঁদ উঠলে ২২ অগাস্ট বাংলাদেশের মুসলমানরা কোরবানির ঈদ উদযাপন করবেন।

শেষ মুহুর্তে জমে উঠছে কোরবানীর পশুর হাট

নওগাঁর আত্রাইয়ে আসন্ন ঈদুল আজহা ঈদের শেষ মুহুর্তে জমে উঠেছে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আহসানগঞ্জ ও বান্ধাইখাড়া গরুর হাট । সপ্তাহে একদিন বৃহস্পতিবার আহসানগঞ্জ হাট বসে। সপ্তাহের সোমবার ও শুক্রবার বান্ধাইখাড়া হাট বসে। এদিকে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন জাতের গরু-ছাগলের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য আত্রাই পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি হাট ইজারাদার তার নিজস্ব লোকজন প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন ।

এবারের ঈদের হাট গুলোতে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা থাকলেও দাম ভালো নেই বড় গরুর। এ বছর গরু-ছাগলের দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম লক্ষ করা যাচ্ছে। এতে সন্তষ্ট নয় খামার ও গরু ব্যবসায়ীরা। যথেষ্ট উচ্চ মূল্য না পাওয়াতে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। অন্যদিকে ক্রেতাদের সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে ধর্মীয় কাজটি সম্পন্ন করতে পশু কিনছেন মানুষ। তাই বিক্রিও কম নয়। এবার আহসানগঞ্জ হাটে ভারতীয় গরু না থাকায় দেশি গরুর আগমন কয়েক গুন বেশি হওয়ায় অনেক গরুই অবিক্রিত থেকে যাওয়ার আশংঙ্কা করছেন বিক্রেতারা।

সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার উপজেলার আহসানগঞ্জ গরুর হাট ঘুরে দেখা গেছে হাটের হাল চিত্র। এবার হাটে ছাগলের পাশাপাশি ভেরাও যোগ হয়েছে অনেক বেশি। হাটে বেচাকেনা জমে উঠেছে পুরোদমে। হাটে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে দেশী গরু। জেলার অন্যান্য গরুর হাট গুলোতে এবার বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশি গরু আসছে। তবে ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে কিছু গরু না আসায় বেশি দামে দেশী গরু কিনতে আগ্রহী নয় অনেকেই। হাটে ছাগলের আমদানীও যথেষ্ট।

এ হাটে গত কয়েক হাটের তুলনায় বিক্রিও অনেক বেশি। হাটে ৩০ থেকে শুরু করে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত দাম চাইছেন বিক্রেতারা তবে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার গরু ও ২৬ হাজার টাকার ছাগল বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এছাড়া ৪৫ থেকে ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের গরু বেশি বিক্রি হয়েছে বলেও জানা গেছে। ৭৫-৮৫ হাজার টাকা মূল্যের গরু বেশ কিছু বিক্রি হয়েছে। ছাগল ও ভেরা বিক্রি হয়েছে অনেক বেশি। দাম ৭ হাজার টাকা থেকে ২৬ হাজার টাকার মধ্যে। তবে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা মূল্যের ছাগল বিক্রি হয়েছে অনেক বেশি।

এ ব্যাপারে জয়পুরহাট থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী মজিবর রহমান জানান, তার গরুর দাম ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা চেয়েছে কিন্তু ক্রেতারা ৯০ হাজারের বেশি দাম দিতে চাইছে না।

উপজেলার ঘোষপাড়া গ্রামের গরু ব্যবসায়ী মানু মিঞা জানান, তিনি হাটে ১২ টি গরু নিয়ে এসেছেন প্রতিটি গরুর মূল্য ৯০ থেকে একলক্ষ ১০ হাজার টাকা কিন্তু হাটে গরু আমদানী বেশী হওয়ায় সন্ধ্যা পর্যন্ত ৭টি গরু বিক্রি হয়েছে।

এ বিষয়ে আহসানগঞ্জ হাট ইজারাদার মোঃ আবুল কালাম বলেন, এ বছর ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে কিছু গরু না আসায় দেশীয় গরুর আমদানি একটু বেশি তবে দেশী গরুর দামও অনেক বেশি। তিনি আরো বলেন ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য আত্রাই পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি হাট ইজারাদার তার নিজস্ব লোকজন প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন ।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে আহসানগঞ্জ গরু হাটের আইন শৃঙ্খলা ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য আত্রাই পুলিশ প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে আত্রাই থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোবারক হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আশা করছি কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা ঘটবে না।

শ্রমিকদের ‘ঈদ বোনাস’ ১৬ আগস্টের মধ্যে প্রদানের নির্দেশ

শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, শ্রমিকদের জুলাইয়ের বেতন ১০ আগস্টের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে এবং বোনাস দিতে হবে ১৬ আগস্টের মধ্যে। তিনি বলেন, আর শ্রমিকদের চলতি মাসের বেতন ১৯ আগস্টের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পোশাক কারখানা এবং অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কারখানার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টবিষয়ক কোর কমিটি’র বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

বরাবরের মতোই পর্যায়ক্রমে শ্রমিকদের ছুটি দিতে বলা হয়েছে জানিয়ে মুজিবুল হক বলেন, ঈদুল ফিতরের আগে নেয়া সভার সিদ্ধান্তগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হওয়ায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, ঈদুল ফিতরে এক পোশাক কারখানার মালিক শ্রমিকদের বেতন না দিয়ে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে সরকার ওই মালিকদের সঙ্গে কথা বলে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন দেয়ার ব্যবস্থা করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ঈদেও সমস্যা হয়নি, শ্রমিকদের কোনো অসন্তোষ দেখা যায়নি। এই ঈদেও হবে না।

বিকেএমইএর সহসভাপতি মোস্তফা কামাল পাশা, বিজিএমইএর সহসভাপতি এসএম মান্নান কচি এবং শ্রমিকদের পক্ষে রায় রমেশ, সিরাজুল ইসলাম রনি ও লিশা ফেরদৌস বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি আগামীকাল থেকে শুরু

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি আগামীকাল বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে। যা চলবে ১২ আগস্ট (রবিবার) পর্যন্ত। প্রথম দিন বিক্রি করা হবে ১৭ আগস্টের টিকিট। এছাড়া ১৫ আগস্ট থেকে বিক্রি করা হবে ফিরতি ট্রেনের টিকিট। যা চলবে ১৯ আগস্ট (সোমবার) পর্যন্ত।

প্রতিদিন ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে টিকিট বিক্রি। এর মধ্যে ঢাকায় ২৬টি কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রি করা হবে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ৯ আগস্ট বিক্রি হবে ১৮ আগস্টের টিকিট। ১০ আগস্ট বিক্রি হবে ১৯ আগস্টের, ১১ আগস্ট বিক্রি হবে ২০ আগস্টের, ১২ আগস্ট বিক্রি হবে ২১ আগস্টের টিকিট।

একইভাবে ১৫ আগস্ট থেকে ঈদ ফেরত যাত্রীদের জন্য ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। ফিরতি টিকিট ১৫ আগস্টে পাওয়া যাবে ২৪ আগস্টের টিকিট। একইভাবে ১৬, ১৭, ১৮ ও ১৯ আগস্টে যথাক্রমে পাওয়া যাবে ২৫, ২৬, ২৭ ও ২৮ আগস্টের টিকিট।

কমলো স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে দাম হ্রাস পাওয়ায় বাংলাদেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম ভরিতে কমেছে ১ হাজার ১৬৬ টাকা। স্বর্ণের নতুন এই দাম সোমবার (৬ আগস্ট) থেকে সারাদেশে কার্যকর হবে।

আজ বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের দাম কমানোর খবর জানানো হয়েছে। এর আগে গত ২০ জুলাই স্বর্ণের দাম কমেছিল। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় বলে দাবি বাজুসের। এর আগে চলতি বছরের ২১ জুন স্বর্ণের দাম কমেছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ধরা হয়েছে ৪৭ হাজার ৪৭২ টাকা। আজ রবিবার পর্যন্ত এ মানের স্বর্ণ ভরিপ্রতি বিক্রি মূল্য ছিল ৪৮ হাজার ৬৩৮ টাকা। অর্থাৎ প্রতি ভরিতে এ মানের স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমেছে। ২১ ও ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরিতেও একই পরিমাণে দাম কমেছে।

তবে ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমানো হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম। সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরির দাম রয়েছে ২৭ হাজার ৫শ’ ৮৫ টাকা।
এদিকে, বেশ কিছুদিন ধরে রূপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি ভরি রূপার দাম রয়েছে ১ হাজার ৫০ টাকা।

অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয়

২০১৮ সালে অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল পঞ্চম। বুধবার জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন-এফএও) সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য উপস্থাপন করে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৮ উপলক্ষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এ তথ্য জানান।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন-এফএও) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে এখন অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে চীন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। তালিকার পরের অবস্থানে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ইকোনমিক রিভিউয়ের তথ্যমতে, দেশের জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান এখন ৩.৫৭ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপিতে এ খাতের অবদান ২৫.৩০ শতাংশ। আর দেশের মোট জনগোষ্ঠির ১১ শতাংশের অধিক লোক মৎস্য আহরণে জড়িত। ২০১৭-১৮ সালে দেশ প্রায় ৬৯ হাজার মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রফতানি করে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে।

বাংলাদেশ মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ায় দেশের জনগণ এখন জনপ্রতি গড়ে ৬২.৫৮ গ্রাম মৎস্যগ্রহণ করছে, যদিও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, জনপ্রতি দরকার মাত্র ৬০ গ্রাম। জাটকা নিধন রোধের কার্যকারিতার দরুণ ব্যাপক ইলিশ উৎপাদনের কারণে ২০১৭-১৮ সালে প্রায় ৫ লাখ টন ইলিশ উৎপাদিত হয়েছে। ২০০৮-০৯ সালে যা ছিল প্রায় ৩ লাখ টন।

কয়েন লেনদেনে অনীহা, উঠে যাচ্ছে ১ টাকার ব্যবহার !

শেখ শাফায়াত হোসেন ৩৪৯ টাকার কেনাকাটা করে দোকানদারকে ৫শ’ টাকার একটি নোট দিয়েছেন। দোকানদার ফেরত দিয়েছেন ১৫০ টাকা। বাকি ১ টাকা দাবি করলে দোকানদার ধরিয়ে দিলেন একটি চকলেট। শাফায়াত তা নিতে অস্বীকৃতি জানালে দোকানি বললেন এক টাকার কয়েন-নোট নেই তার কাছে।

রফিকুল ইসলাম নতুন বাজার থেকে ২৫ টাকা ভাড়ায় রিকশায় চড়ে ছোলমাইদ এসেছেন। রিকশা থেকে নেমে চালককে ৩০ টাকা দেওয়ার পর রিকশাচালক তাকে ফেরত দিয়েছেন দুটি দুই টাকার নোট মানে ৪ টাকা। বাকি ১ টাকা দাবি করলে চালক বললেন তার কাছে ১ টাকা নেই।

শুধু শাফায়াত হোসেন ও রফিকুল ইসলাম নন, সবার সঙ্গে কমবেশি মুদি দোকানদার, রিকশাচালক, বাসচালকরা ১ টাকার বিকল্প চকলেট অথবা না থাকার অজুহাত দেখিয়ে দায় সারছেন।

১ টাকার নোট নিয়ে জটিলতার ব্যাপারটি নিয়ে ভাটারা বাজারের দোকানদার আশরাফুল ইসলাম বলেন, ক্রেতাদের কাছ থেকে ১ টাকার কয়েন আমরা নিলেও ব্যাংক কয়েন জমা নিতে চায় না। এজন্য আমরা ১ টাকার কয়েন নেই না। ব্যাংক আমাদের কাছ থেকে কয়েন নিলে আমাদের নিতে তো কোনো সমস্যা নাই।

আশরাফুল ইসলাম আরও বলেন, অনেক ক্রেতাও আছে যারা ১-২ টাকার কয়েন দিলে নিতে চায় না। বলে, নোট নাই, নোট দেন। আমরা দুই ধরনের সমস্যাতেই আছি।

ওই এলাকার সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় গিয়ে ১ টাকার এক হাজার কয়েন জমা দিতে চাইলে আগ্রহ দেখাননি দায়িত্বরত ক্যাশিয়ার। রূপালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখাও ১ টাকার কয়েন জমা নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রূপালী ব্যাংকের ক্যাশিয়ার জানান তাদের ভল্টে বিপুল পরিমাণ ১ টাকার কয়েন জমা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যসব বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলোর ভল্টে বিপুল পরিমাণ ১ টাকার কয়েন জমা রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ব্যাংকগুলো ১ টাকার কয়েন আনে না। আবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও গ্রাহককে চাহিদামতো ১ টাকার কয়েন সরবরাহ করে না।

১ ও ৫ টাকার কয়েন জমা নেওয়া ও গ্রাহককে দেওয়ার বিষয়ে বেশ কয়েকবার বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ধাতব মুদ্রা বা কয়েন বিনিময় না করলেও ব্যাংকগুলোকে জরিমানা করা হবে বলে হুঁশিয়ারী দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে। তারপরও ব্যাংকগুলো গ্রাহকের সঙ্গে ১ টাকার কয়েন লেনদেন করছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব মতে দুইশ কোটি টাকার বেশি ১ টাকার কয়েন ও প্রায় ৫০ কোটি টাকার মতো ১ টাকার নোট বাজারে রয়েছে। কয়েনের চেয়ে নোট ছাপানোর খরচ বেশি হওয়ায় কয়েনের দিকেই নজর সরকারের। আবার নোট অনেক দিন ব্যবহারের ফলে ছিঁড়ে যায়, যেটা কয়েনের ক্ষেত্রে হয় না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ধাতব মুদ্রার প্রচলন বাড়াতে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। রাজধানীর বাইরেও প্রচার চালাতে হবে। তাহলে বাড়বে এই মুদ্যার ব্যবহার।

এদিকে বিভিন্ন সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ৫ টাকার নিচে সব মুদ্রা তুলে দেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের পর থেকে সাধারণ মানুষ, রিকশাচালক, লোকাল বাসের সুপারভাইজার ও দোকানদাদের মধ্যে একটি আতঙ্ক বিরাজ করছে। যে কোন সময় ট্রেজারি নোট ও ধাতব মুদ্রা অচল হয়ে যেত পারে বলে মানুষের আশঙ্কা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। কোনো গ্রাহক অভিযোগ করলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পারবো।

বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া যাবে পল্লী বিদ্যুতের বিল

পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা এখন থেকে বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে যেকোন স্থান থেকে যেকোন সময় বিল পরিশোধ করতে পারবেন।

সোমবার (০৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এক অনুষ্ঠানে বিকাশের এ সেবার উদ্বোধন করেন।

মোস্তাফা জব্বার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, সহজ ও নিরাপদ লেনদেনের জন্য সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করে একটি ‘ক্যাশলেস সোসাইটি’ গড়ার প্রয়াস চালাচ্ছে। টেলিটকের কারিগরি সহায়তায় বিকাশের মাধ্যমে ‘পে বিল’র মতো ডিজিটাল পেমেন্ট এই প্রক্রিয়াকে আরো গতিশীল করবে।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘বাংলাদেশের যে ক’টি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আমার পছন্দের, তার মধ্যে বিকাশ সবার উপরে। বাংলাদেশের মতো কৃষিনির্ভর দেশের তথ্যপ্রযুক্তিতে সফল প্রতিষ্ঠান পাওয়া ভাগ্যের বিষয়। সারা বিশ্বের কাছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে স্বনামধন্য হয়েছে বিকাশ। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছাতে বিকাশের ভূমিকা নিঃসন্দেহে প্রসংশিত। বাংলাদেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবা বলতে বিকাশকেই বোঝায়। 

বিল পরিশোধ করতে গ্রাহককে *২৪৭# ডায়াল করে মেন্যু থেকে ৫ নম্বর ‘পে বিল’ নির্বাচন করতে হবে। এরপর কিছু ইন্টারঅ্যাকটিভ ধাপ অনুসরণ করে বিল পরিশোধ সম্পন্ন করা যাবে।

শুরুতে বিকাশের ইউএসএসডি মেনু থেকে এই সেবা নেওয়া যাবে। পরবর্তীতে বিল পেমেন্ট সেবাটি বিকাশ অ্যাপেও অর্ন্তভুক্ত হবে।

সারাদেশে পল্লী বিদ্যুতের দুইকোটিরও বেশি গ্রাহকের বিল পরিশোধ ঝামেলামুক্ত, সহজ, সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ করতে সোমবার দেশের বৃহত্তম মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান টেলিটকের কারিগরি সহায়তায় ‘পে বিল’ সেবা চালু করেছে। কেবল বিল পরিশোধই নয়, পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণও তাদের বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে চেক করতে পারবেন।

বিকাশের চিফ কর্মশিয়াল অফিসার মিজানুর রশীদ নতুন সেবা সর্ম্পকে বলেন, এই সেবার কল্যাণে গ্রাহকরা সহজে ও সাচ্ছন্দ্যে তাদের ঘরে বসেই বিল দিতে পারবেন। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য তাদের এখন থেকে আর দূরে কোথাও যেতে হবে না। প্রথম তিনমাস কোন ধরনের চার্জ ছাড়াই বিল পরিশোধ করতে পারবেন। পরবর্তীতে ন্যূনতম একটি চার্জ নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, বিকাশ অন্যান্য ইউটিলিটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিল প্রদান সেবা সহজ, খরচ সাশ্রয়ী এবং ঝামেলামুক্ত করতে তাদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, গ্রাহকদের বিল পরিশোধ সেবায় বিকাশকে টেলিটকের সঙ্গী হিসেবে পেয়ে আমরা খুশি। এই পদক্ষেপ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। 

তিনি আরও বলেন, এখন থেকে গ্রামের মানুষের ব্যাংকে গিয়ে লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে না। এভাবে নতুন নতুন সেবা প্রদানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিকাশের চিফ এক্সর্টানাল অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর (অব.) জেনারেল শেখ মো. মনিরুল ইসলাম।

লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে বস্ত্র খাত

গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৬২১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে বস্ত্র খাত। 

শনিবার লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে বস্ত্র খাতের লেনদেন হয়েছে ৬২০ কোটি ৭৬ টাকার শেয়ার। আর গড়ে লেনদেন হয়েছে ১৫৫ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার।

গত সপ্তাহজুড়ে ৫৫৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে প্রকৌশল খাত। গড়ে লেনদেন হয়েছে ১৩৯ কোটি ১৬ টাকার শেয়ার। ২৫৭ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে পেপার এ্যান্ড পিন্টিং খাত। গড়ে লেনদেন হয়েছে ৬৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার।

২৫৭ কোটি ৬৮ লাখ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেনে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। গড়ে লেনদেন হয়েছে ৬৪ কোটি ৪২ লাখ কোটি টাকার শেয়ার। ২৪১ কোটি ৮০ লাখ টাকা শেয়ার লেনদেনে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে জ্বালানী খাত। গড়ে লেনদেন হয়েছে ৬০ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার। ২৩৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা শেয়ার লেনদেনে ষষ্ঠ স্থানে আছে বিবিধ খাত। গড়ে লেনদেন হয়েছে ৫৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকার শেয়ার।

১৫১ কোটি ২৮ লাখ টাকা শেয়ার লেনদেনে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩৭ কোটি ৮২ লাখ টাকার শেয়ার। ১৩১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা শেয়ার লেনদেনে অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে ব্যাংক খাত। গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ৯১ লাখ টাকার শেয়ার। ১২৫ কোটি টাকা শেয়ার লেনদেনে নবম স্থানে ওঠে এসেছে সিরামিক খাত। গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ২৫ লাখ টাকার শেয়ার। ১০৯ কোটি ১২ লাখ টাকা শেয়ার লেনদেনে দশম স্থানে নন চামড়া খাত। গড়ে লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ২৮ লাখ টাকার শেয়ার।