ব্যবসার খবর

ব্যবসার খবর আমার কুষ্টিয়া হতে প্রকাশিত

প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা পূরণে এলএনজি

প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের প্রধান জ্বালানি সম্পদ। দেশের মোট বাণিজ্যিক জ্বালানি ব্যবহারের শতকরা প্রায় ৭১ ভাগ এ গ্যাস পূরণ করছে। কিন্তু চাহিদার সাথে যোগানের তফাৎটা অনেক। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ২৭টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এ ক্ষেত্রগুলোতে ১৯৬০ সাল থেকে শুরু করে ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিত গ্যাস উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ১৫.২২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট এবং জানুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত উত্তোলনযোগ্য নিট মজুদের পরিমাণ ১২.৫৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। পেট্রোবাংলার সর্বশেষ প্রাক্কলন অনুযায়ী মোট গ্যাস মজুদের পরিমাণ ৩৯.৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট এবং উত্তোলনযোগ্য প্রমাণিত  এবং সম্ভাব্য মজুদের পরিমাণ ২৭.৭৬ ট্রিলিয়ন  ঘনফুট। এ গ্যাস সম্পদ আমাদের কতদিন চাহিদা পূরণ করতে পারবে? ভবিষ্যতে এ গ্যাস যখন আমাদের শেষ হয়ে যাবে তখন আমাদের বিকল্প উপায় কী হবে? এ চিন্তা থেকেই পরিকল্পনা এবং প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রাকৃতিক গ্যাস সাধারণ চাপ ও তাপমাত্রায় গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে। রেফ্রিজারেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে তাপমাত্রা কমিয়ে মাইনাস ১৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনলে তা তরলে পরিণত হয়। এই তরল প্রাকৃতিক গ্যাসকেই বলা হয় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সংক্ষেপে এলএনজি। সরকার এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্প গ্রহণ করে এবং তা ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের আওতাধীন করে।

পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি এলএনজি রপ্তানি করে কাতার ও ইন্দোনেশিয়া আর সবচেয়ে বেশি আমদানি করে জাপান। এলএনজি বাণিজ্য মূলত কয়েকটি দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং এর ক্রেতা মূলত প্রথম বিশ্বের ধনী দেশ। বাংলাদেশ আজ একইসাথে এলএনজি রপ্তানি ও আমদানি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ করছে। আবার সেই টার্মিনাল হবে গভীর সাগরে, ভাসমান একটি টার্মিনাল। দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সরকারের এ উদ্যোগ খুবই যুগোপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ।

এলএনজি আমদানির বিষয়টি অত্যন্ত প্রতিক্ষিত এবং বহুল আলোচিত । আমাদের দেশে যে গ্যাস সম্পদ আছে তা অফুরন্ত নয় । এ সম্পদ শেষ হওয়ার আগেই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন কারণ বিদ্যুৎখাতসহ ব্যবসাবাণিজ্য ত্বরান্বিত রাখা জরুরি। চট্টগ্রাম অঞ্চলের ইতোমধ্যে ২৬৫টি শিল্প কারখানাকে এলএনজি সরবরাহের চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে এবং আরো ৩৫৭টি শিল্পকারখানার আবেদন পেট্রো-বাংলার কাছে পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের সক্ষমতা স্পষ্ট প্রতীয়মান। পেট্রোবাংলার মতে দেশে দৈনিক ৩৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে ২৭৫ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ ছিল। এ ঘাটতি পূরণের জন্য দ্রুতই সদ্য এলএনজি আমদানি করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই কক্সবাজারের মহেশখালিতে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করে এর ব্যবহার শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সূত্রমতে, ভবিষ্যত জ্বালানি নিরাপত্তায় ২০১৫ সালে গঠন করা হয় জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল। এলএনজি নিঃসন্দেহে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি দৃষ্টান্ত। বর্তমান সরকারের প্রতিটি ঘরে ও কারখানায় গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিতকরণে এটি বড়ো ভূমিকা রাখবে। এর ব্যবহারে দেশের গ্যাস সম্পদের ওপর চাপ কমবে। জনসাধারণ গ্যাস ব্যবহারে সচেতন হবে। একইসাথে দেশের অর্থনীতিতে এলএনজির ব্যবহার বড়ো ভূমিকা রাখবে। এ কথা স্পষ্ট যে, ভবিষ্যৎ বিকল্প জ্বালানি হিসেবে আমাদের দেশে এলএনজি আমদানি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর রক্ষণাবেক্ষণ ও যথার্থ ব্যবহারে আমাদের সকেলকে সচেতন হতে হবে।

মাত্র ১৯৫ টাকায় কম্পিউটার মাউস দিচ্ছে ওয়ালটন

মাত্র ১৯৫ টাকায় কম্পিউটার মাউস দিচ্ছে দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। সাশ্রয়ী মূল্যের উচ্চমানের এই মাউস টেকসই। দেখতে আকর্ষণীয়। ওয়ালটন প্লাজা এবং ব্র্যান্ড আউটলেটে চার মডেলের নতুন এই স্ট্যান্ডার্ড অপটিক্যাল মাউস পাওয়া যাচ্ছে চারটি ভিন্ন রঙে।

ওয়ালটন কম্পিউটার পণ্য ব্যবস্থাপক আবুল হাসনাত জানান, ১০০০ ডিপিআই সমৃদ্ধ এই মাউসগুলোতে রয়েছে ৩টি করে কি বা বাটন। এগুলোতে ব্যবহৃত হয়েছে সিএস৪৫৩৪ চিপসেট। ইউএসবি ক্যাবলের মাধ্যমে মাউসগুলো কম্পিউটার বা ল্যাপটপে সংযোগ দিয়ে দৈনন্দিন সব কাজই করা যাবে।

তিনি আরো জানান, এই নিয়ে ওয়ালটনের গেমিং এবং স্ট্যান্ডার্ড অপটিক্যাল মাউসের মডেল সংখ্যা দাঁড়ালো ২৬টিতে। দাম মাত্র ১৯৫ টাকা থেকে ৭৫০ টাকার মধ্যে। সব ধরনের ওয়ালটন মাউসে রয়েছে ৬ মাসের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি।

অন্যদিকে, বর্তমানে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ১৫ মডেলের ওয়ালটন গেমিং এবং স্ট্যান্ডার্ড কিবোর্ড। এগুলোর দাম ২৪০ থেকে ৯৫০ টাকার মধ্যে। ওয়ালটন কিবোর্ডের বিশেষত্ব হলো বাংলা ফন্টের সংযোজন। স্ট্যান্ডার্ড ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ফন্ট থাকায় বাংলা ভাষাভাষী যে কেউ অনায়াসেই ব্যবহার করতে পারবেন এসব কিবোর্ড। সব ধরনের ওয়ালটনের কিবোর্ডেও রয়েছে ৬ মাসের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি।
ওয়ালটনের কম্পিউটার বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গেমিং এবং স্ট্যান্ডার্ড কিবোর্ড ও মাউস ছাড়াও ওয়ালটনের কম্পিউটার এক্সেসরিজে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পেন ড্রাইভ। ১৬ জিবি ওয়ালটন পেন ড্রাইভ পাওয়া যাবে ৫৭০ টাকা থেকে ৮৯০ টাকার ভেতর। আর ৩২ জিবির মূল্য ৭৯০ থেকে ১,৩৯০ টাকার মধ্যে।

এছাড়াও, ওয়ালটনের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন দাম ও কনফিগারেশনের ২৩ মডেলের ল্যাপটপ, ১৩ মডেলের ডেস্কটপ পিসি এবং ২ মডেলের মনিটর। সব মডেলের ওয়ালটন ল্যাপটপে থাকছে সর্বোচ্চ ২ বছরের এবং ডেস্কটপ পিসিতে সর্বোচ্চ ৩ বছরের ফ্রি বিক্রয়োত্তর সেবা।

উল্লেখ্য, মাত্র ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ক্রেতারা ১২ মাসের কিস্তিতে কিনতে পারেন সব ধরনের ওয়ালটন ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ। আছে জিরো ইন্টারেস্টে ইএমআই সুবিধায় কেনার সুযোগও।
আরো জানতে যোগাযোগ করুন ওয়ালটনের কাস্টমার কেয়ারে। যেকোনো মোবাইল এবং ল্যান্ডফোন থেকে ০৯৬১২৩১৬২৬৭ নম্বরে অথবা মোবাইল থেকে ১৬২৬৭ নম্বরে কল করে। ভিজিট করতে পারেন ওয়ালটনের ওয়েবসাইট www.waltonbd.com ।

৪ বছরে বন্ধ ১২শ’ গার্মেন্টস, আরও বন্ধের আশঙ্কা

বাংলাদেশে গত চার বছরে ১২০০ গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, যেসব বাধ্যবাধকতা পূরণের কথা রয়েছে তার পূরণে সম্মতির অভাব এবং প্রতিযোগিতামুলক পরিবেশে পিছিয়ে পড়ার কারণে এসব কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

সিদ্দিকুর রহমান মনে করছেন, ব্যবসায় লাভ করতে না পারলে শিগগিরই আরো অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। তাকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন ফাইবার টু ফ্যাশন।

সিদ্দিকুর রহমানকে উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের মিডিয়ায় রিপোর্ট হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প প্রতিযোগিতায় হেরে যাচ্ছে।

এর কারণ, দীর্ঘস্থায়ী প্রতিযোগিতা, দুর্বল উৎপাদনশীলতা এবং বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা পড়ে যাওয়া। ২০১৪ সালে বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাকের চাহিদা ছিল ৪৮৩০০ কোটি ডলারের। ২০১৭ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫৪০০ কোটি ডলারে।

২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশী তৈরি পোশাকের মূল্য মার্কিন বাজারে শতকরা ১১.৭২ শতাংশ কমে গেছে। বিজিএমইএ প্রধান বলছেন, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ২৯.৫৪ শতাংশ। একই অবস্থা দেখা গেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বাজারে। অ্যাকর্ড ও এলায়েন্সের বিশেষজ্ঞদের সুপারিশমতো, অবকাঠামো খাত ও বৈদ্যুতিক সুবিধা ঠিক করতে গিয়ে গার্মেন্ট মালিকদেরকে বড় অংকের অর্থ খরচ করতে হয়েছে।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এ বছরের ডিসেম্বর থেকে সর্বনিম্ন বেতন ৮০০০ টাকা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে উৎপাদন খরচ আরো বেড়ে যাবে। ক্লিন ক্লথস ক্যাম্পেইন, ইন্টারন্যাশনাল লেবার রাইটস ফোরাম ও মাকুইলা সলিডারিটি নেটওয়ার্কের দেয়া বিবৃতির প্রশংসা করেছেন বিজিএমইএ প্রধান সিদ্দিকুর রহমান। ওই বিবৃতিতে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ২৫টি খুচরা ক্রেতার প্রতি বাংলাদেশী গার্মেন্ট পণ্য কেনার জন্য মূল্য বাড়ানোর আহ্বান জানায়।

আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার এসোসিয়েশনের প্রতি সিদ্দিকুর রহমান আহ্বান জানিয়েছেন যে, তারা যেন বায়ার বা ক্রেতা কোম্পানিগুলোকে পণ্যমূল্য বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানায়। উল্লেখ্য, এই প্রতিষ্ঠানটি গত বছর বাংলাদেশী প্রধানমন্ত্রীর কাছে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির জন্য একটি চিঠি পাঠিয়েছিল।

মন্দির সংস্কার-মেরামতে ২৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ

নির্বাচনের আগে সারা দেশে মন্দির সংস্কার ও মেরামতের জন্য পৌনে তিনশ’ কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একশ কোটি টাকা সিড মানি হিসেবে দেয়া হবে হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টকে।

অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে গেছে। বাকি ১৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে অর্থমন্ত্রী নিজেই আধা সরকারিপত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রীকে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টকে ১০০ কোটি টাকা প্রদান সংক্রান্ত প্রস্তাব সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের ১০০ কোটি টাকার একটি এনডোসমেন্ট ফান্ড দেব। আর বার্ষিক যে অনুদান দেয়া হয়, তা দেব না। মন্দির সংস্কার ও মেরামত সংক্রান্ত নেয়া প্রকল্পগুলো তো সরকারিভাবেই হচ্ছে। পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তারা ওই ফান্ডের ওপর নির্ভর করবে।’
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টকে ইতঃপূর্বে সিড মানি হিসেবে ২১ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। বাকি ৭৯ কোটি টাকা দেয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে অর্থমন্ত্রীর কাছে। অর্থমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বাকি টাকা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সূত্রমতে, অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো মেরামত ও সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবে বলা হয়, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের নামে গচ্ছিত ২১ কোটি টাকা থেকে প্রাপ্য সুদ এবং সরকারের রাজস্ব খাত থেকে নিয়মিত বরাদ্দ দিয়ে ট্রাস্টের কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে। অর্থ সংকটের কারণে দেশের বাইরে হিন্দুদের তীর্থভ্রমণ, দুস্থ ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়ন, অন্তঃধর্মীয় সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে ট্রাস্টের মূলধন বাড়লে সরকারের রাজস্বের ওপর চাপ কমবে। পাশাপাশি ট্রাস্টের পরিকল্পিত কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা যাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, আগে অর্থ বিভাগ ২১ কোটি টাকা সিড মানি হিসেবে হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টকে দিয়েছে। আর কল্যাণ ট্রাস্টকে ১০০ কোটি টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন অর্থমন্ত্রী। এক্ষেত্রে কল্যাণ ট্রাস্টকে এককালীন টাকা না দিয়ে প্রতিবছর বাজেটে বরাদ্দ দেয়ার পক্ষে মতামত দিয়েছে অর্থ বিভাগ। কিন্তু এ প্রস্তাবকে গ্রহণ করেননি অর্থমন্ত্রী। হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টকে তিনি ১০০ কোটি টাকা এককালীন দেয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। ফলে এ অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে উল্লিখিত বরাদ্দের বাইরে সারা দেশের মন্দির সংস্কার ও মেরামতের জন্য ৪৭৭ কোটি টাকার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে আপাতত ১৭৬ কোটি টাকা ছাড় করার জন্য পরিকল্পনামন্ত্রীকে ডিও লেটার দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী নিজেই।

সূত্র জানায়, দেশব্যাপী সংস্কার ও মেরামত কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৮৩৩টি মন্দির, আশ্রম, মঠ, আখড়া, শ্মশান সংস্কার-মেরামত-উন্নয়ন ও সংরক্ষণের জন্য ৯১৭ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। এছাড়া চট্টগ্রামসহ চারটি জেলার বিদ্যমান ১৪৯টির হিন্দু প্রতিষ্ঠান সংস্কার মেরামত ও উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় ধরা হয় ৯৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

অন্যান্য সংস্কার কর্মসূচির মধ্যে শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির এবং শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী কালীমন্দিরের জন্য ৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, হবিগঞ্জ জেলার বিদ্যমান ৪৮টি হিন্দুধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য ৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়।

সংস্কার কর্মসূচির বাইরে ধর্মীয় ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে পুরোহিত ও সেবাইতদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য ২৪৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা, মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ২১৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং লাঙ্গলবন্দ মহাষ্টমী পুণ্যস্নান উৎসবের অবকাঠামো উন্নয়নে ১২১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়।

এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ১৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে পরিকল্পনামন্ত্রীকে ডিও লেটার দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। আর এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, এ টাকা বরাদ্দের আগে হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে একটি পত্র দেয়া হয় অর্থমন্ত্রীকে। এতে হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট সুব্রত পাল বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে ধ্বংস হওয়া বহু মন্দির পুনঃস্থাপন সম্ভব হয়নি। অর্থমন্ত্রীর আন্তরিকতায় এ অর্থবছরে তিনটি কর্মসূচির মাধ্যমে ঢাকেশ্বরীসহ দেশের ১৯৯টি মন্দির সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট আপামর হিন্দু জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী একমাত্র রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে ট্রাস্ট সীমিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। তাই হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম স্বাভাবিক পরিচালনার জন্য ১০০ কোটি টাকার স্থায়ী আমানতের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।

ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বের রোল মডেল বাংলাদেশ

মা ইলিশ রক্ষায় চলছে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা। এ নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছিল ৭ অক্টোবর, শেষ হবে ২৮ অক্টোবর। ২৯ অক্টোবর থেকে দেশের সব নদ-নদীতে পুরোদমে চলবে ইলিশ আহরণ, বিতরণ ও বিপণন। দেশের ৩৭টি জেলার প্রায় ৭ হাজার কিলোমিটার নদীতে স্বাচ্ছন্দ্যে ইলিশের ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতেই এ নিষেধাজ্ঞা চলছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল। অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে ইলিশ মাছ। বাংলাদেশের (মোট দেশজ উৎপাদন) জিডিপিতে ইলিশের অবদান এক দশমিক ১৫ শতাংশ। এদেশের মোট মাছের ১২ শতাংশ অবদান রাখছে ইলিশ। ওয়ার্ল্ড ফিসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে মোট ইলিশের ৬০ শতাংশই বাংলাদেশে উৎপাদন হচ্ছে। এছাড়া, ভারতে ২০ শতাংশ, মিয়ানমারে ১৫ শতাংশ, আরব সাগর তীরবর্তী দেশগুলো এবং প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগরের তীরবর্তী দেশগুলোতে বাকি ৫ শতাংশ ইলিশ মাছ ধরা পড়ে।

সূত্র আরও জানায়, বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশের পরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড। এসব দেশের উপকূলেও ইলিশ ধরা পড়ে। তবে শুধুমাত্র বাংলাদেশে প্রতিবছর ৯-১০ শতাংশ হারে ইলিশ উৎপাদন বাড়লেও ওই ১০টি দেশেই উৎপাদন কমেছে।

কারণ হিসেবে জানা গেছে, ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য বেছে নেয় বাংলাদেশকে। এজন্য বর্ষায় এদেশের নদীগুলো ‘মা’ ইলিশে ভরে ওঠে। মোহনা থেকে নদীর ১২০০ থেকে ১৩০০ কিলোমিটার উজানে ও উপকূল থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত সমুদ্রে ইলিশ পাওয়া যায়। দিনে ৭১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে ইলিশের। সাগর থেকে ইলিশ যত ভেতরের দিকে আসে, ততই শরীর থেকে লবণ কমে যায়। এতে ইলিশের স্বাদ বেড়ে যায়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছরই বাড়ছে ইলিশের উৎপাদন। মাত্র দেড় দশকের ব্যবধানে এসংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে দুই লাখ টনের ওপরে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৮৬-৮৭ সালে দেশে ইলিশ উৎপাদন হতো ১ লাখ ৯৫ হাজার টন। ২০০২-০৩ অর্থবছরে ১ লাখ ৯১ হাজার টন ইলিশ উৎপাদিত হয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৫ হাজার টনে। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ৫ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, ১০ বছর আগে দেশের ২১টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যেত। আর বর্তমানে ১২৫টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। পদ্মার শাখা নদী মহানন্দা থেকে শুরু করে মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেদির হাওরেও এবছর ইলিশ পাওয়া গেছে।

তবে জাটকা নিধনের কারণে ইলিশ মাছের সংখ্যা আরও ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে না। মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২৫ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের চেয়ে ছোট ইলিশকে জাটকা বলা হয়। ২০১২ সালে দেশে ১০ হাজার ৯০০ টন, ২০১৩ সালে সাড়ে ১১ হাজার টন, ২০১৪ সালে ১১ হাজার ৮০০ টন জাটকা ধরা হয়। এগুলোর আকার ১৪-২০ সেন্টিমিটারের মধ্যে। আর ওজন গড়ে ৩০ গ্রাম। হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতি বছর প্রায় ৩৮ কোটি জাটকা ইলিশ ধরা পড়ছে দেশে।

এ দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ জীবিকার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইলিশের ওপর নির্ভরশীল। এ প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ জানান, উপকূলীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ইলিশ আহরণে সরাসরি সম্পৃক্ত। এছাড়া, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের আরও ২০-২৫ লাখ মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস ইলিশ। তারা পরিবহন, বিক্রয়, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, রফতানি ইত্যাদি কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে।-প্রতিবেদন বাংলা ট্রিবিউনের সৌজন্যে প্রকাশিত।

৬ ঔষধ কোম্পানির ২৩ টি ঝুঁকিপূর্ণ ঔষধ প্রত্যাহারে নির্দেশ

বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর দেশের ছয়টি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির উৎপাদিত ২৩ প্রকারের ঝুঁকিপূর্ণ ঔষধ প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে। কারণ হিসেবে চীন থেকে আমদানিকৃত কাঁচামালে উৎপাদিত ২৩ প্রকারের ওষুধ ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নত করেছে  ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

কোম্পানিগুলো হলো- মেসার্স ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, মেসার্স পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, মেসার্স দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড, মেসার্স ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, মেসার্স রেনাটা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও মেসার্স হেলথকেয়ার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড।

১৪ অক্টোবর ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। চিঠিতে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আগামী সাত দিনের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধগুলো কোনো ফার্মেসিতে পাওয়া গেলে তা সিলগালা করে পরিমাণ উল্লেখসহ সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান/নিকটস্থ ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল/প্রতিনিধিকে ফার্মেসি থেকে তা সংগ্রহের নির্দেশ প্রদানের জন্য বলা হয়েছে।

যে ওষুধগুলো প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে-

ইনসেপটা কোম্পানির উৎপাদিত আমলোসারটিন (৫/৮০ ট্যাবলেট) নামক ওষুধটির বিভিন্ন ব্যাচের ১৮০৬২ থেকে ১৮০৭৫ ওষুধ প্রত্যাহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

দি একমি কোম্পানি উৎপাদিত সব ব্যাচের ভালটিন ৮০ এমজি ট্যাবলেট, ভালটিন ১৬০ এমজি ট্যাবলেট, কো-ভালটিন ৫/৮০ এমজি ট্যাবলেট, কো-ভালটিন ৫/১৬০ এমজি ট্যাবলেট।

পপুলারের বিভিন্ন ব্যাচে উৎপাদিত এমলোভাস ভিএস ৫/৮০ ট্যাবলেট, এমলোভাস ভিএস ৫/১৬০ ট্যাবলেট, এমলোভাস ভিএস ১০/১৬০ ট্যাবলেট, ভালভাস এইচসিটি ১০/১৬০/২৫ ট্যাবলেট।

ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের বিভিন্ন ব্যাচে উৎপাদিত এভি-৫ ট্যাবলেট, এভি-১০ ট্যাবলেট, এভি-৫/৮০ ট্যাবলেট, কার্ডিভাল ৮০ ট্যাবলেট।

রেনেটা কোম্পানির ভালডিপিন এফসি ৮০ এমজি ও ১৬০ এমজি ট্যাবলেট, ভালজিডি এফসি (১৬০ গ্রাম+১২ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট), ভালজিডি এফ সি (৮০ গ্রাম+ ১২ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট)।

এ ছাড়া হেলথ কেয়ারের ডিসিস ৮০ মিলিগ্রাম (এফসি) ট্যাবলেট, ডিসিস ১৬০ মিলিগ্রাম (এফসি) ট্যাবলেট ও ডিসিস প্লাস ৮০/১২ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম (এফসি) ট্যাবলেট প্রত্যাহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এ সম্পর্কে রুহুল আমিন বলেন, ‘চীনের জোহাই রোনদো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত ভালসারটান নামক সক্রিয় কাঁচামালে ইমপিউরিটি হিসেবে সম্ভাব্য কার্সিনোজেনিক এজেন্ট এনডিএমএ (এন-নাইট্রোসোডিমেথিলামাইন) শনাক্ত হওয়ায় ওই কাঁচামালে উৎপাদিত ওষুধ বাজার হতে এএমএ, ইউএসএফডিএসহ ২৩টি দেশ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়। এ কারণে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরও একই কাঁচামালে উৎপাদিত ওষুধ বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশনা দেয়।’

যাত্রা শুরু হলো গ্রামীণফোনের ০১৩ সিরিজ

 বাংলাদেশের গ্রাহকদের সেবার জন্য ‘০১৭’ সিরিজের পাশাপাশি নতুন নম্বর সিরিজ ‘০১৩’ সিরিজ চালু করার মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ খাতে আরো একটি সূবর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করলো গ্রামীণফোন।

রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সিরিজের নম্বর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) মহাপরিচালক (ইঅ্যান্ডও) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোস্তফা কামাল।

নতুন সিরিজের একটি নম্বর থেকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারকে প্রথম কলটি করেন গ্রামীণফোনের ডেপুটি সিইও ইয়াসির আজমান।

টেলিফোনে কথা বলার সময় মন্ত্রী বলেন, যে সাহসের সাথে আপনারা সারাদেশে নেটওয়ার্ক বিস্তার করেছেন তার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই, আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে এই বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের জন্য সেবার মান বজায় রাখাও আপনাদের জন্য কঠিন হবে না।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ০১৩ নম্বর সিরিজ চালু করতে পারায় গ্রামীণফোনকে অভিনন্দন জানিয়ে আশা করেন যে, প্রতিষ্ঠানটি তাদের সুনাম অনুযায়ী উন্নত সেবা বজায় রাখতে সক্ষম হবে।

প্রসঙ্গত, গ্রামীণফোনের ০১৭ সিরিজের দশ কোটি নম্বরের বেশির ভাগই বিক্রি হয়ে যাওয়ায় নতুন নম্বর সিরিজ দেওয়ার জন্য ২০১৫ সালের শুরুতে বিটিআরসির কাছে আবেদন করে। সে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসি গ্রামীণফোনের জন্য ০১৩ সিরিজের দুই কোটি নম্বর বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেয়।

বর্তমানে বিটিআরসির হাতে ০১৩ সিরিজের নম্বর ছাড়া রয়েছে ১০ সংখ্যার ০১০, ০১২ এবং ০১৪ সিরিজের নম্বর। বরাদ্দ দেওয়া রয়েছে সিটিসেলের জন্য ০১১, টেলিকটের জন্য ০১৫, এয়ারটেলের জন্য ০১৬, গ্রামীণফোনর জন্য ০১৭, রবির জন্য ০১৮ ও বাংলালিংকের জন্য ০১৯ সিরিজের নম্বর।

অনুষ্ঠানে এ সময় গ্রামীণফোনের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মাহমুদ হোসেনসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২০ বছরের মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন দিয়েও চালানো হচ্ছে ট্রেন

স্বাধীনতার সময় রেলওয়েতে লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন ছিল ৪৮৬ টি। স্বাধীনতার ৫০ বছরের কাছাকাছি সময়ে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও রেলেরর ইঞ্জিন কমে দাড়িয়েছে ২৭৩টি তে। যার মধ্যে মেয়াদ্দোত্তীর্ণ হয়ে গেছে ৭০ শতাংশেরও বেশী। ৫০-৬০ বছরের পুরনো ইঞ্জিন দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে ট্রেন। ঠিকমত সেবা দিতে পারছে মাত্র ৭৮টি ইঞ্জিন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অকার্যকর ইঞ্জিনের কারনে প্রতি বছর বাড়ছে দূর্ঘটনা কমছে রেলের গতি। সংকট সমাধানে নতুন ইঞ্জিন কেনার কথা কথা জানাচ্ছেন রেলমন্ত্রী।

বাশেঁর খুটিঁ বাঁধার সাধারণ জি আই তার দিয়ে ব্রেক জোড়া লাগানো ইঞ্জিনটি বগিগুলো টেনে নিয়ে যাচ্ছে ওয়াশ ফিডে। হালকা সেই তার ছিড়ে গেছে অনেক আগে, লোহার যে পাতটি চাকাকে চেপে রেখে ব্রেক নিয়ন্ত্রণ করে সেটিও ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে চাকা থেকে সরে গেছে অনেক দূরে।

ইঞ্জিনটির অন্যচাকার ব্রেকও একই তার দিয়ে বাঁধা ছিড়বে যে কোন সময়। প্রায় ৪০ বছর আগে জাপান থেকে কেনা ইঞ্জিনটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে আরও ২০ বছর আগে। সম্প্রতি এই ইঞ্জিনটিকে ঝুকিপূর্ণ ঘোষণাও করেছে রেলওয়ে।

ইঞ্জিন মেরামতে ওয়ার্কশপে ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, ১০- ১২ ইঞ্জিন মেরামতের জন্য আনা হয়েছে। তবে যাত্রার পূর্বে নিয়মিত পরীক্ষার অংশ হিসেবে দু’একটি ইঞ্জিন থাকলেও, বেশির ভাগ ইজ্ঞিনেরই যান্ত্রিক ত্রুটি ভয়াবহ রকমের। এখনকার মেকানিকরা বলছেন, প্রতিদিনই ২৫-৩০টি ইঞ্জিন মেরামতের জন্য আনা হয় ওয়ার্কশপে, যার অধিকাংশেরই মেয়াদ পেরিয়ে গেছে বহু আগে।

১৯৬৯-৭০ সালে রেলওয়েতে ইঞ্জিন ছিল ৪৮৬টি স্বাধীনতার ৫০ বছরের কাছাকাছি সময়ে এসে তা কমে দাড়িয়েছে ২৭৩টিতে। দীর্ঘদিন নতুন ইঞ্জিন না কেনার ফলে বছর বছর বিকল হয়ে কমে যাচ্ছে লোকোমোটিভের সংখ্যা।

মেকানিকরা বলেন, ‘এই ওয়ার্কশপে পাকিস্তান আমলের ইঞ্জিনও আছে। জোড়া তালি দিয়েই চলছে।’

মেকানিকরা বলছেন, ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা ২০ বছর হলেও রেল বহরে ৪০, ৫০ এমনকি ৬০ বছরেরও পুরনো ইঞ্জিন আছে, যেগুলো বিশ্ব বাজার থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে অনেক আগেই।

মেয়াদ্দোত্তীর্ণের কারনে রেলের গতি কমার পাশাপাশি, পুরো রেল ব্যাবস্থাকে ঝুকিপূর্ণ করে তুলছে বলে মনে করেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল হক।

তিনি বলেন, ‘এইগুলো অনেক আগেই মিউজিয়ামে চলে যাওয়া উচিত ছিলো।’

ইঞ্জিন সংগ্রহের পরিকল্পনার কথা জানালেন রেলমন্ত্রী

গত দশ বছরে দুইবারে ৪৬ টি নতুন ইঞ্জিন যোগ হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়েতে।

জাপানী কোম্পানি ইয়ানমারের সাথে যুক্ত হল এ এসিআই মটরস: চুক্তি সই

 বিশ্ব বিখ্যাত জাপানী কোম্পানী ইয়ানমারের সাথে যুক্ত হলো বাংলাদেশের আরেক সুনামধন্য কোম্পানী এসিআই মটরস। গত ৩ অক্টোবর দু’ কোম্পানীর সাথে এ নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে । তেজগাঁয়স্থ এসিআই সেন্টারে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর কালে দু’ কোম্পানীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এসিআই মটরস বাংলাদেশের কৃষকদের কাছে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরন সেবায় একটি পরিচিতনাম। কৃষকের জীবনযাত্রার মানউন্নয়ন ও কৃষিকাজকে আধুনিকায়নের উদ্দেশ্যে ২০০৭ সাল থেকে এসিআই মটরস লিমিটেডের যাত্রা শুরু। বর্তমানে এসিআই বাংলাদেশের কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সকল প্রকার আধুনিক ও মানসম্মত কৃষি যন্ত্রপাতি দেশব্যাপী সরবরাহ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ধানের চারা রোপন যন্ত্র (রাইস-ট্রান্সফার) এবং ধান বা গম কাটামাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তাবন্দী করার যন্ত্র (কম্বাইনহারভেস্টার) বিপননে এসিআই মটরস- এর সাথে রাজধানীর তেজগাঁয়ে এসিআই সেন্টারে ব্যবসায়িক চুক্তি সম্পাদিত উপলক্ষ্যে এক সাংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানেই ১০০ বছরের পুরনো ও আধুনিক কৃষি যন্ত্র প্রস্তুতকারী জাপানী প্রতিষ্ঠান ইয়ানমারের সাথে চুক্তিটি সই হয়েছে । এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এফ এইচ আনসারী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এসিআই মটরস লিঃ, সুব্রতরঞ্জন দাস, নির্বাহীপরিচালক, এ সিআই মটরস লিঃ, মোঃ আজমআলী, পরিচালক, বিক্রয় এসিআই মটরসলিঃ এবং ইয়ানমারইন্টারন্যাশনালএর সেলস ও মার্কেটিং ম্যানেজার সোগোডাতে ও এসিআইমটরস এরঅন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তিন শতাধিক গার্মেন্টসের রপ্তানি

সংস্কারে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় তিন শতাধিক পোশাক কারখানার রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার৷ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হচ্ছে৷

চিঠিতে মূলত কারখানার বন্ড সুবিধাসংক্রান্ত সেবা বন্ধ করার অনুরোধ জানানো হবে৷ রবিবার এই চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ডিআইএফই এর মহাপরিদর্শক সামছুজ্জামান ভূঁইয়া৷ তিনি বলেন, বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও এই কারখানাগুলোতে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়নি৷ কেউ কেউ তো কোনো কাজই শুরু করেনি৷

ডিআইএফই জানিয়েছে, কোনো কারখানা সাব কন্ট্রাক্ট ভিত্তিতে পোশাক তৈরি করে থাকলেও ওই সুবিধাও (বন্ড ট্র্যান্সফার) বাতিল করার অনুরোধ জানানো হবে৷ এর মধ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএভুক্ত কারখানা রয়েছে ২১৫টি৷ এর আগে একই কারণে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএকেও আলাদা দু’টি চিঠিতে সদস্যভুক্ত কারখানাকে দেওয়া ইউডি (ইউটিলিটি ডিকারেশন বা কাঁচামালের প্রাপ্যতার ঘোষণা) সংক্রান্ত সেবা প্রদানে নিষেধাজ্ঞার অনুরোধ জানানো হয়৷ এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কারখানাগুলোর রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে৷ অবশ্য বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ এ নিষেধাজ্ঞা এখন পর্যন্ত কার্যকর করেনি বলেই জানা গেছে৷

ডিআইএফই’র মহাপরিদর্শক সামছুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ‘কারখানাগুলোকে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্বেও কারখানার ভবনের কাঠামো, অগ্নি কিংবা বৈদ্যুতিক নিরাপত্তায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি৷ বহুবার তাদের সঙ্গে সভা করেছি৷ এরপর তাদের সময়সীমাও বেঁধে দেয়া হয়েছে৷ অনেক কারখানা তো কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি৷ এখন কারখানার শ্রমিকের নিরাপত্তা, দেশের ভাবমূর্তির স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। কেননা, এসব কারখানার কোনো একটিতে দুর্ঘটনা ঘটলে এবং তাতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হলে, তার দায় পুরো গার্মেন্টস খাতকেই নিতে হবে৷ ইতিমধ্যে গার্মেন্টস খাতের দুটি সংগঠনকে চিঠি পাঠানো হয়েছে৷’

বন্ধের তালিকায় থাকা গার্মেন্টসগুলোর মধ্যে কোনো নামকরা প্রতিষ্ঠান আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, এই ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান নেই৷ এগুলো ক্ষুদ্র গার্মেন্টস, অনেকেই সাব কন্ট্রাক্টে কাজ করে।’

ডিআইএফই’র মহাপরিদর্শক বলেন, ‘কারখানাগুলো যাতে বন্ড ট্র্যান্সফার বা সাব কক্ট্রাক্টভিত্তিতেও কোনো কাজ পরিচালনা না করতে পারে, বন্ড কমিশনারেটকে সে অনুরোধও জানাবো৷ যেসব কারখানার সংস্কার ২০ শতাংশের নিচে, তাদের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ তবে কারখানাগুলো সংস্কারে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি করতে পারলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।’

এর আগে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএতে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, কারখানাগুলোর মালিক কিংবা প্রতিনিধিদের সঙ্গে গত বছরের মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে অন্তত ৩২টি সভা করা হয়েছে এবং দুই দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে৷

রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের দেওয়া বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল ও এক্সেসরিজ আমদানি করতে পারে৷ এক্ষেত্রে কাঁচামালের প্রাপ্যতার ঘোষণা বা ইউডি অনুমোদনের ক্ষমতা পোশাক মালিকদের দুটি সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র হাতে৷ এই ঘোষণা দেওয়ার মাধ্যমে কাঁচামাল আমদানি করতে পারে কারখানাগুলো৷ আর এসব কাঁচামাল আমদানি কিংবা স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করার পর তা চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের এখতিয়ার বন্ড কমিশনারেটের হাতে৷ এসব সেবা বন্ধ থাকলে প্রকৃতপক্ষে কোনো কারখানার পক্ষে রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করা একেবারেই সম্ভব নয়৷

ডিআইএফই’র চিঠি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কারখানার প্রনিতিধিদের সঙ্গে সভা করেছে গার্মেন্টস শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ৷ বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘যেসব কারখানা সংস্কার চালিয়ে যেতে পারবে, সেগুলোর ইউডি আমরা বন্ধ করতে চাই না৷ আগামী সপ্তাহে ডিআইএফই’র সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে৷’

‘হঠাৎ করে বন্ধ করে দিলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷ যারা সংস্কার করতে পারবে, তাদের তো মারার মানে হয় না৷ আর যারা সংস্কার করতে পারবে না, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাদের ‘এক্সিটের’(বন্ধ করা) উপায় বের করতে হবে৷ আমরা সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি৷ যাদের নাম তালিকায় এসেছে, তাদের অনেকের পক্ষে যুক্তিও আছে৷ আমি নিজে আগামী সপ্তাহে চট্টগ্রামে যাচ্ছি, সেখানে যাদের নাম আছে, তাদের সঙ্গে বৈঠক করব৷ তবে ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা কোনোভাবে চলবে না৷’

২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় বহু শ্রমিক হতাহতের পর দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানা সংস্কারের জোর দাবি ওঠে৷ এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরই ইউরোপ ও অ্যামেরিকার ক্রেতাদের কাছে রপ্তানি করে এমন দুই হাজার ২০০ কারখানা সংস্কারে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স নামে দুটি জোট গঠিত হয়৷ তাদের কার্যক্রম এখন শেষ হওয়ার পথে৷ অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সভুক্ত কারখানাগুলোর সংস্কারে অগ্রগতি ৯০ শতাংশের ওপরে৷ তবে এ দুটি জোটভুক্ত ক্রেতাদের কাছে পোশাক রপ্তানি হয় না, এমন দেড় হাজার কারখানা সংস্কারের লক্ষ্যে ২০১৫ সালের শুরুতে উদ্যোগ নেয় সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়৷

তিন বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এ কারখানাগুলোর সংস্কার হয়েছে গড়ে এক তৃতীয়াংশ৷ এই সময়ের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া, স্থানান্তর কিংবা অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সে যুক্ত হওয়া কারখানা বাদ দিয়ে এখন ৭৪৫টি কারখানার সংস্কার দেখভাল করছে ডিআইএফই৷ গত এক বছর ধরে দফায় দফায় সভা করেও খুব কম সংখ্যক কারখানায়ই আশানুরূপ সংস্কার হয়েছে৷ সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে কারখানাগুলোকে ছয় মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়৷ অন্যথায় বন্ধ করার হুমকিও দেওয়া হয়৷ এরপরই হার্ডলাইনে গেল ডিআইএফই৷

ডিআইএফই’র এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানতে চাইলে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন বলেন, ‘হঠাৎ করেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়৷ বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ এতদিন কী করেছে? কেন এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো? আমার শ্রমিকরা বেকার হোক সেটা যেমন আমি চাই না, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কারখানায় কোনো শ্রমিক কাজ করুক, সেটাও চাই না৷ আমরা বিষয়টির একটা সুষ্ঠু সমাধান চাই৷’-ডয়েচে ভেলে

৭ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ

আগামী ৭ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন প্রজনন ক্ষেত্রের সাত হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় মা ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। আজ সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের সভাপতিত্বে প্রধান প্রজনন মৌসুমে ‘মা-ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০১৮’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রজননক্ষেত্রগুলো হলো- মীরসরাই উপজেলার শাহের খালী থেকে হাইতকান্দী পয়েন্ট, তজুমুদ্দীন উপজেলার উত্তর তজুমুদ্দীন থেকে পশ্চিম সৈয়দপুর আওলিয়া পয়েন্ট, কলাপাড়া উপজেলার লতা চাপালি পয়েন্ট এবং কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর কুতুবদিয়া থেকে গণ্ডামার পয়েন্ট।

ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, শরীয়তপুর, ঢাকা, মাদারীপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, জামালপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মুন্সীগঞ্জ, খুলনা, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও গোপালগঞ্জ জেলার সব নদ-নদীতে এসময় সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে বলে জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহ আলম।

এসময় দেশের সুন্দরবনসহ সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা এবং মোহনাগুলোতেও মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। দেশের মাছঘাট, আড়ৎ, হাটবাজার, চেইনশপসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় ওই ২২ দিন অভিযানও পরিচালিত হবে।

আজ অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রী জেলে সম্প্রদায়, মৎস্য সমিতি, সাধারণ জনগণসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের এসময় সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানান।

বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মাল্টা চাষ

পাইকগাছায় বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মাল্টা চাষ। চলতি বছর ৪৫ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ শুরু করা হয়েছে। এলাকার পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও লবণ সহিষ্ণ হওয়ায় মাল্টা চাষ জনপ্রিয় করে তুলতে ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম (এনএটিপি-২) প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ১ হাজার ৮শ বারি মাল্টা-১ চারা বিতরণ করা হয়েছে। যেভাবে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ শুরু হয়েছে এবং কৃষকরা মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠাই আগামীতে মাল্টা চাষের অপার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে মাল্টা জনপ্রিয় ও লাভ জনক একটি ফল। এটি প্রায় সারা বছরই বাজারে পাওয়া যায়। মাল্টা প্রায় সকলের কাছে প্রিয় একটি ফল। পরিবারের শিশুরাও এটি খেতে বেশ পছন্দ করে। জনপ্রিয় এ ফলটির অনেক পুষ্টি গুনাগুনও রয়েছে। এতে আছে, ভিটামিন ‘সি’ ভিটামিন ‘বি’ ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং চর্বিমুক্ত ক্যালরি। এর ঔষধী গুনাগুনও কম নয়। শীতকালীন ঠোঁট ফাটা, পায়ের তালু ও হাতের তালু ফাটা রোগ রোধ করে মাল্টা। সর্দি, নাক বন্ধ থাকা, টনসিলের সমস্যা, গলাব্যথা, জ্বর জ্বর ভাব, হাঁচি-কাশি, মাথাব্যাথা, ঠান্ডাজনিত দূর্বলতা সহ এ জাতীয় সমস্যা দূর করে মাল্টা। মাল্টা পাকস্থলীকে সুস্থ রাখে। মাল্টা ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল যা এন্টি অক্সিডেন্ট সমূহের উৎস। এটি ত্বকে সজীবতা বজায় রাখে এবং ত্বকের বলি রেখা প্রতিরোধ করে লাবণ্য ধরে রাখে।

মাল্টা ইনফেকশন প্রতিরোধে সহায়তা করে। এটি প্রদাহ জনিত রোগ সারিয়ে তোলে। দাঁত, চুল , ত্বক ও নখের পুষ্টি জোগায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত মাল্টা খায় তাদের দাঁতের রোগ অনেক কম হয়। জিহবায় ঘা, ঠোঁটের ঘা, জ্বরের সময় জ্বর ঠোসা সহ ত্বক জিহবার অনেক রোগ ভালো করে। নিয়মিত মাল্টা খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। মাল্টার ভিটামিন ‘সি’র উপাদান আমাদের শরীরে ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এটি আমাদের শরীরের কোলন ক্যান্সার ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের অন্যতম প্রতিশোধক হিসাবে কাজ করে। প্রতিদিন একটি করে মাল্টা খাওয়ার অভ্যাস দৃষ্টি শক্তিকে ভাল রাখে। রক্তের চর্বির পরিমান কমাতে মাল্টা সাহায্য করে। প্রবীণ, গর্ভবতী নারী, মাতৃদৃগ্ধদানকারী মহিলাদের নিয়মিত মাল্টা খাওয়া উচিৎ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

মাল্টার বহুগুণ থাকলেও এটি সচরাচর শখের বসে টবে কিংবা বাড়ির আঙ্গিনায় চাষ করা হতো। মাল্টাকে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু করতে নানা উদ্যোগ নেয় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এনএটিপি-২ প্রকল্পের আওতায় চলতি বছরে অত্র উপজেলায় কৃষকদের মাঝে ১ হাজার ৮শ চারা বিতরণ করা হয়েছে। মাল্টা একদিকে বহু পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধি ফল, অপরদিকে এটি লবণ সহিষ্ণ এবং এর চাষ অত্যান্ত লাভ জনক হওয়ায় সাধারণ ফল চাষীরা বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষে এগিয়ে এসেছেন। মূলত এলাকায় ফল বলতে এক সময় সবাই আমকে বুঝতো। লবণ অধ্যুষিত এলাকায় আমের চেয়ে মাল্টা চাষ লাভ জনক হওয়ায় সবাই এখন মাল্টা চাষের দিকে ঝুঁকছে। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এ বছর ৪৫ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ হয়েছে।

উপজেলার মটবাটী গ্রামের শাহবুদ্দীন বিশ্বাসের ছেলে জিয়াউল বিশ্বাস ৫ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ করেছেন। অনুরূপভাবে মালথের ইসহাক আলী ২ বিঘা, হরিঢালীর আব্দুর রাজ্জাক ৩ বিঘা, মঠবাটীর শ্যামলী সরকার, লস্করের তাপস কুমার সানা, রেজাকপুরের আম্বিয়া খাতুন, রামনগরের সালাম মোড়ল, রামচন্দ্রনগরের তপতী পাল, সলুয়ার অর্চনা দাশ, রিপন মোড়ল, আগড়ঘাটার রেজাউল করিম, হরিঢালীর ইলিয়াস হোসেন, সোনাতনকাটীর কামরুল ইসলাম, ভিলেজ পাইকগাছার মুজিবর রহমান, দেবদুয়ারের গোপাল চন্দ্র দাশ, কাটিপাড়ার শফিকুল ইসলাম, সুব্রত মন্ডল, বাঁকার শহিদুল গাজী, গোলজার রহমান, ভবানীপুরের সাত্তার গাজী সহ দেলুটি ইউনিয়নের ২২ নং পোল্ডারে বিভিন্ন সিআইজি গ্রুুপ সদস্যরা বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ করেছেন। মঠবাটী গ্রামের জিয়াউল বিশ্বাস জানান, এ বছর আমি ৫ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে বারি মাল্টা-১ চাষ করেছি। এ বছর কিছু কিছু গাছে ফলও ধরেছে।

আশা করছি আগামী বছর থেকে ভাল ভাবে ফল ধরা শুরু করবে। আমাকে দেখে অনেকেই মাল্টা চাষে এগিয়ে এসেছেন। গদাইপুর গ্রামের আক্তারুল ইসলাম জানান, মাল্টা চাষ অত্যান্ত লাভ জনক। উপজেলা কৃষি অফিসার এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, এক সময় এ এলাকায় সবাই আমের চাষ করতো। কিন্তু লবণাক্ততার কারণে আম চাষ করে খুব বেশি লাভ হতো না। এদিক থেকে লবণ অধ্যুষিত অত্র এলাকায় মাল্টা চাষ অত্যান্ত উপযোগী। এ বছর এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ শুরু হয়েছে। কৃষকরা যেভাবে মাল্টা চাষে এগিয়ে আসছেন তাতে আগামীর জন্য অত্র এলাকা মাল্টা চাষের জন্য অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এলাকার পুষ্টির চাহিদা পুরণে মাল্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি। কৃষকরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার শাস্রায় হবে। মাল্টা বহুগুনাগুন সম্বলিত একটি ফল। এর উপকারিতার শেষ নেই। সুস্থ ও নিরোগ থাকার জন্য সবাইকে প্রত্যেক দিন মাল্টা খাওয়া উচিত। আর এজন্য বাণিজ্যিক চাষাবাদের পাশাপাশি সকলকে মাল্টা চাষে এগিয়ে আশা দরকার বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা মনে করেন।

বিশ্বমানের শেয়ারবাজার পাচ্ছে বাংলাদেশ

চীনের সেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম যুক্ত হওয়ার পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে শতভাগ প্রফেশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন ২০১৯ সালের জুনের পর সম্পূর্ণ বদলে যাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। আর আগামী দেড় বছরের মধ্যে বিশ্বমানের শেয়ারবাজার পাবে বাংলাদেশ। এ জন্য দুই ধরনের (দীর্ঘ ও স্বল্প মেয়াদি) উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, শেয়ারবাজারকে আধুনিক করে গড়ে তুলতে অল্প দিনের মধ্যে চীনের দুই প্রতিষ্ঠান ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া শুরু করবে। এ ছাড়া ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও দেবে তারা।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান পরিচালক মো. রকিবুর রহমান বলেন, ‘চীনের সেনজেন ও সাংহাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণে আগামী দেড় বছরের মধ্যে আমরা বিশ্বমানের শেয়ারবাজার পাবো, আর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ হবে আন্তর্জাতিক মানের।’ ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বদলে যাবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘চীনের সেনজেন ও সাংহাই থেকে আমরা যে প্রযুক্তিগত শিক্ষা পাবো তা দিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে শতভাগ প্রফেশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ হিসাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্প মেয়াদী দুই ধরনের উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে।

রকিবুর রহমান বলেন, চীনের সেনজেন ও সাংহাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণে চীনের ভালো ভালো কোম্পানিগুলো আমাদের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। এতে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগও বাড়বে। আর চীনের কোম্পানিগুলো যদি আমাদের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়, তাহলে অন্যদেশের কোম্পানিও বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে আসবে। এতে আমাদের শেয়ারবাজার শুধু শক্তিশালীই হবে না, আমরা বিশ্বের প্রধান প্রধান শেয়ারবাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা পাবো। বাংলাদেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।

জানা গেছে, শিগগিরই বিনিয়োগকারীদের সেবা স্বয়ংক্রিয় ফ্রেমওয়ার্কে আনার উদ্যোগ নেবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। লেনদেনে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, পণ্যের উন্নয়ন ও বাজারের বিভিন্ন বিষয়ের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিতে ৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারের প্রযুক্তিগত সহায়তা (টেকনিক্যাল সাপোর্ট) দেবে চীনা কনসোর্টিয়াম। দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসাবে তারা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মানবসম্পদ উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের বাজারে একটি এসএমই বা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের বাজার তৈরিতেও ভূমিকা রাখবে চীনা কনসোর্টিয়াম।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য ব্রোকারেজ হাউসের মালিকদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী বলেন, সেনজেন ও সাংহাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে বিশ্বমানের স্টক এক্সচেঞ্জে পরিণত করতে চায়। তাদের প্রযুক্তিগত ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সহায়তায় অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ একটি প্রফেশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ হিসাবে পরিচালিত হবে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে অনেক পরিবর্তন আসবে। স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে বাজার। বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকে তখন চেয়ে থাকতে হবে না। দেড় বছরের মধ্যে চোখে পড়ার মতো অনেক কিছু দেখা যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মার্কেটকে শক্তিশালী করতে বন্ড মার্কেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া এসএমই বোর্ড বা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ৫ কোটি টাকার কোম্পানিগুলো এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত হবে। এছাড়া ২০২০ সালের শুরুতে রিস্ক বেইজড ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েন্সি আসবে। এটি তুন দিগন্ত উম্মোচন করবে।’

ডিমিউচুয়ালাইজেশনের শর্ত বাস্তবায়নে ডিএসইর ২৫ শতাংশ শেয়ার চীনা কনসোর্টিয়ামের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে শেয়ার হস্তান্তর করেছে ডিএসই। শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের আইটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল জি ওয়েনহাইকে ডিএসই পরিচালনা পর্ষদের সদস্যও করা হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রায় ৯৬২ কোটি টাকা ডিএসইর ব্যাংক হিসাবে জমা দিয়েছে চীনা কনসোর্টিয়াম। এর মধ্যে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হওয়ার কথা রয়েছে।

চীনের সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কৌশলগত বিনিয়োগকারী হওয়ায় দেশের শেয়ারবাজারে তিন ধরনের উপকার বা সুবিধা হবে বলে মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম।

বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন,‘চীনা কনসোর্টিয়াম ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী হওয়ায় প্রথমত, শেয়ারবাজারে কারসাজি কমবে। তারা বাংলাদেশে শেয়ারবাজারে গর্ভনেন্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে। ফলে এই বাজার তারা স্বচ্ছ রাখার চেষ্টা করবে। তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে বাজার ম্যানুপুলেশন বন্ধ করা যাবে। দ্বিতীয়ত তারা যেহেতু বিদেশি প্রতিষ্ঠান, সেহেতু তাদের দেখে এই বাজারে আরও বিদেশি প্রতিষ্ঠান আকৃষ্ট হবে। বিদেশিদের আস্থা বাড়বে। বাড়বে বিদেশি বিনিয়োগ। পাশাপাশি বিদেশি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগও সৃষ্টি হবে। তৃতীয়ত দেশের শেয়ারবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্তরা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ পাবে। ফলে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার আর্ন্তজাতিক মানের শেয়ারবাজারে রূপ নেবে।’

পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদও মনে করেন শিগগিরই বাংলাদেশের শেয়ারবাজার আর্ন্তজাতিক মানের শেয়ারবাজারে রূপ নেবে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বাজারে চীনা প্রতিষ্ঠান প্রবেশের কারণে স্টক মার্কেটের করপোরেট গভর্নেন্স উন্নত হবে। কারণ তারা (চীনা প্রতিষ্ঠান) যেহেতু গ্লোবাল স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে জড়িত সে জন্য তারা ভালোভাবে জানে স্টক ডেভেলপমেন্টে কী ধরনের কন্ট্রিবিউশন রাখা যায়।’ সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন।

দরপতনে নতুন রেকর্ড, এশিয়ার দুর্বল মুদ্রা ভারতীয় রুপি

মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির সর্বকালের সবচেয়ে কম মূল্যমানের নতুন রেকর্ড দেখা গেছে মঙ্গলবার।

হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকা জানায়, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ ভারতীয় রুপির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

এবছর ডলারের ভারতীয় রুপির মূল্যমান ১২ শতাংশ কমেছে। এবছর এখন পর্যন্ত এটাই এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা।

দিনের শুরুতে ডলারের সঙ্গে রুপির বিনিময় হার বাড়লেও, দিনের কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগে ডলারের বিপরীতে এটির দাম কমে ৭২.৯৭-তে এসে থেকে। গত সপ্তাহে রুপির সর্বনিম্ন দরের রেকর্ড ছিল ৭২.৯১।

একজন মুদ্রা বিনিময় কারবারি জানান, ‘রুপির দাম এতো পড়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। অপরিশোধিত জ্বালানির দাম বাড়ায় হঠাৎ করে মানুষ রুপির ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।’

একজন সরকারি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ডলারের বিপরীতে রুপির মূল্য ৭২-৭৩ হওয়াটা ভারত ‘যথার্থ মূল্য’ হিসেবে বিবেচনা করছে।

দেশটির সরকার গত সপ্তাহে রুপির মুল্য স্থিতিশীল করতে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু দুর্বল রুপির সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় বন্ডের দামও কমতে শুরু করেছে।

বাজারে শীতের আগাম সবজি, দাম চড়া

ঋতুর পরিক্রমায় শীত আসতে আরো বেশ কিছু দিন দেরি আছে। কিন্তু শীতের আগমনের আগেই বাজারে এসেছে শিম, টমেটো, ফুলকপি। সিজন না হওয়ায় বাজারের অন্যান্য সবজির তুলনায় এগুলোর দামও চড়া। এদিকে, বৃষ্টির কারণে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের।

শুক্রবার রাজধানীর মেরাদিয়া হাট ঘুরে দেখা যায়, বাজারে আসা নতুন শিম প্রতি কেজি ১২০ টাকা, টমেটো ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভাল মানের ফুল কপি প্রতি পিস ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এদিকে, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও গত সপ্তাহে প্রতি কেজি মরিচ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কম থাকায় কাঁচা মরিচের দাম বেশি।

এ ছাড়া পটল ৩০ টাকা, করলা ৩০ টাকা, ঢেঁড়স ২৫-৩০ টাকা, ঝিঙা ৩৫ টাকা, কাকরোল ৩০ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা, কচুর লতি কেজি ৫০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, কচু মুখী ৫০ টাকা, ধনে পাতা ১৪০ টাকা, শশা ৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রকারভেদে প্রতিটি ৩৫-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, পুঁই শাক প্রতি আঁটি ২০ টাকা, লাল শাক ১০ টাকা, লাউ শাক ৩০ টাকা, লেবুর হালি ২০-২৫ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১০৮ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল কেজি প্রতি ৮৪-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা পাম অয়েল প্রতি কেজি ৭৪-৭৫ টাকা, পাম অয়েল সুপার ৭৫ থেকে ৭৮ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে।

এদিকে, কোরবানির ঈদের পর ব্রয়লার মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকা। ঈদের আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এ ছাড়া দেশি মুরগি ২২০ থেকে ৪০০ টাকা পিস, লেয়ার মুরগি ২৫০ টাকা এবং পাকিস্তানি লাল মুরগি আকারভেদে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ঈদের পর বৃষ্টি বাড়ার সাথে বাজারে ইলিশের সরবরাহও বেড়েছে। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। ১ কেজি বা ১২০০ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১১ শ থেকে ১২ শ ৫০ টাকা।

এ ছাড়া রুই মাছ ৩৫০ টাকা, প্রকার ভেদে চিংড়ি মাছ ৩৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা, আড় মাছ ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

তবে বাজারে শীতের আগাম সবজির দাম চড়া হলেও অন্যান্য সবজির দাম রয়েছে মোটামোটি সহনীয় পর্যায়ে

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮০০০ টাকা নির্ধারণ

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে। বর্তমানে ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু এ তথ্য জানান।

চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি পোশাক শ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। স্থায়ী চার সদস্যের সঙ্গে পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি ও শ্রমিকদের একজন প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত এই মজুরি বোর্ড সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে মজুরি নির্ধারণ করেছে।

এর আগে ২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এই মজুরি কার্যকর হয় ওই বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে।

বাংলাদেশিদের হাতের ছোঁয়ায় মরুভূমি এখন কৃষি নগরী

প্রবাসের মাটিতেও বাংলাদেশিদের কৃষি সাফল্য-সুনাম কুড়িয়েছে সর্বত্র। বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর রয়েছে কৃষির প্রতি টান। রয়েছে মাটির প্রতি অন্যরকম মমতা। এ সত্য বারবারই প্রমাণিত হয় পৃথিবীর দেশে দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কৃষি সাফল্যের মধ্য দিয়ে।

সৌদি আরবের মদিনা থেকে উত্তর দিকে ১৪ কিলোমিটার দূরে হাইয়াল আল জাহরা নামক এলাকাটি বাংলাদেশিদের হাতের ছোঁয়ায় পরিণত হয়েছে কৃষি নগরীতে। একেবারেই নিষ্ফলা বালি ও কাঁকরময় মরুভূমিকে পরিণত করছেন ফসল উৎপাদনের উপযোগী ক্ষেত্র হিসেবে। সেখানে সবচেয়ে বড় কৃষি খামারটি পরিচালনা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর শাহপুর গ্রামের মোহাম্মদ কবির হোসেন।

অনাবাদি, পতিত ও বালি-কাঁকর মেশানো যেমন মাটিই হোক অথবা আবাদি ভূমির ব্যবস্থা না থাকলেও জৈব উপাদান ব্যবহার করে তাতে ফল, ফুল, সবজি ফলিয়ে দেখিয়ে দিতে পারেন একজন বাংলাদেশি। ওই স্হানে প্রায় এক বর্গকিলোমিটার আয়তনের খামারে আলো, তাপ, পানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় চলছে ওই খামারগুলো।

উৎপাদন হচ্ছে বিভিন্ন রকম ফুল ও ঔষধি গাছ। মোহাম্মদ কবির হোসেন তার নিজস্ব বুদ্ধি ও কৌশলকে কাজে লাগিয়ে আরবের মরুভূমিকে ফুলের বাগান করে চলেছেন।

একশ প্রজাতির ফুল ও ঔষধি গাছ রয়েছে এই বাগানে। ১৩ শ্রমিক কাজ করেন এখানে। বিভিন্ন দেশ থেকে ঔষধি ও ফুলের গাছের চারা নিয়ে এসে কলাপ করার পরে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে বিক্রয় উপযোগী হলে সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রদেশে বিক্রি করেন।মোহাম্মদ কবির হোসেনের এ উদ্যোগকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ থেকে এই সরকারিভাবে হজে আসা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব আশরাফ হোসেন, অ্যাডিশনাল ডিআইজি মিজানুর রহমান ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আব্দুল্লাহ আরিফ মোহাম্মদ।

দেশ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ শ্রমিক নিয়ে আসতে পারলে দেশের রেমিট্যান্স বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশি কৃষি খামারগুলোতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা।

কলরেটে প্রশ্নবিদ্ধ মুনাফা : বিকল্প মাধ্যমে ঝুঁকছেন গ্রাহক

দেশের সব মোবাইল অপারেটরে বর্তমানে অফলাইন-অনলাইন ভয়েস কলে ন্যূনতম ৪৫ পয়সা রেট ও সর্বোচ্চ দুই টাকা করা হয়েছে। এর আগে, একই অপারেটরে ফোন করলে সর্বনিম্ন কলরেট ছিল ২৫ পয়সা, আর এক অপারেটর থেকে অন্য যে কোনো অপারেটরে ফোন করলে কাটা হতো সর্বনিম্ন ৬৫ পয়সা।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিটিআরসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১৪ আগস্ট থেকে ইউনিফর্ম কলরেট বাস্তবায়ন করছে মোবাইল অপারেটরগুলো। বিটিআরসি মনে করছে, মোবাইল ফোন বাজারের সিংহভাগ শেয়ার একটি মোবাইল কোম্পানির দখলে থাকায় ভিন্ন কলরেটের কারণে এতদিন সুবিধা পেয়ে আসছিল তারা। নতুন আইন অনুযায়ী, বাজারের শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠান কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অপেক্ষাকৃত ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রতিযোগিতামূলক বাজার নিশ্চিত হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেছিলেন, ‘যারা একটু দুর্বল অপারেটর তারা এবার একটু শক্তিশালী হতে পারবে।’

সর্বনিম্ন কলরেট বাড়ানো ও সব অপারেটরে সমান করার ক্ষেত্রে বিটিআরসির আরেকটি যুক্তি হলো, সরকারের এই নির্দেশনার ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবে। বিটিআরসির এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছিল কয়েকটি মোবাইল অপারেটর। তবে মাস না পেরুতেই ইউনিফর্ম কলরেট-র এই সিদ্ধান্তে গ্রাহকদের যেমন খরচ বেড়েছে ঠিক তেমনি অপারেটরগুলোর মুনাফাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। সেক্ষেত্রে গ্রাহকেরা কথা বলার জন্য বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন।

বেড়েছে খরচ, মোবাইলে কথা বলছে কম বিটিআরসির সিদ্ধান্তের আগে দেশের প্রায় সব অপারেটর একই অপারেটরের নাম্বারে কথা বলার জন্য নানা সাশ্রয়ী অফার দিত। বাংলাদেশের মানুষ সাধারণত পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে বা গল্প করে বেশি। মোবাইল কোম্পানিগুলোও এ বৈশিষ্ট্যকে বিবেচনা করে নানা অফার ঘোষণা করত। কিন্তু বিটিআরসির সিদ্ধান্তের পর গ্রাহকদের অভিযোগ মোবাইল ফোনে কথা বলার ক্ষেত্রে তাদের খরচ বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিটিআরসির সিদ্ধান্তে ৩০ শতাংশ খরচ বেড়েছে গ্রাহকদের।

চ্যানেল আইয়ের স্টাফ রিপোর্টার লুৎফর রহমান সোহাগ জানান, মোবাইলে কথা বলার ক্ষেত্রে তার খরচ বেড়েছে। আগে কলরেট বিড়ম্বনা স্ফীত বিকল্প মোবাইলে কথা বলার জন্য মাসে তার খরচ হতো ৬০০ টাকার মতো। এখন যেভাবে খরচ বাড়ছে তাতে ৮০০ টাকার বেশি খরচ হবে বলে মনে করছেন তিনি।

সোহাগ বলেন, ‘বাধ্য হয়েই এখন মোবাইল ফোনে কথা বলা কমিয়ে দিয়েছি। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কারও সঙ্গে মোবাইলে কথা বলছি না। যোগাযোগের জন্য ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার ব্যবহার করছি।’

ঢাকার শ্যাওড়াপাড়ার বাসিন্দা গৃহকর্মী মিলি আক্তার বলেন, ‘হিসাব করে দেখিনি। তবে মোবাইলের ব্যালেন্স খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কারও সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলছি না।’

একটি বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা সুজন ওয়াহিদ বলেন, ‘মোবাইলে খরচ বেড়েছে। আগে নির্দিষ্ট অফারে যে পরিমাণ কলটাইম পাওয়া যেত, এখন তার প্রায় ৪০ ভাগ কমেছে। ফলে আগের তুলনায় আগেভাগেই অফারের বান্ডেল শেষ হয়ে যাচ্ছে।’

সর্বনিম্ন কল ৪৫ পয়সার চেয়ে কাটছে অনেক বেশি

বেসরকারি সংস্থা টিআইবির কর্মকর্তা প্রণব সাহার অভিযোগ, নতুন সিদ্ধান্তের পর সবগুলো অপারেটরে কলরেট অনেক বেড়েছে। বিটিআরসি ন্যূনতম খরচের জন্য যে ৪৫ পয়সা বেঁধে দিয়েছে সেটা থেকে অনেক বেশি কাটছে অপারেটরগুলো।

এ অভিযোগের সত্যতাও মেলে খোলা কাগজের অনুসন্ধানে। গ্রামীণফোন থেকে গ্রামীণফোনের নাম্বারে কল করে দেখা গেছে ৫৯ সেকেন্ডে কাটছে ১ টাকা ৩৩ পয়সা (ভ্যাটসহ)। বাংলালিংক থেকে রবি ৫৯ সেকেন্ডে ভ্যাটসহ কাটছে ৯১ পয়সা আর টেলিটক থেকে রবিতে ৫৯ সেকেন্ডে কাটছে ১ টাকা ৬ পয়সা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিটিআরসি অফলাইন-অনলাইন ভয়েস কলে ন্যূনতম কলরেট ৪৫ পয়সা করার পর বেশিরভাগ গ্রাহক মোবাইলে কথা বলা কমিয়ে দিয়েছেন। এর ফলে অপারেটরগুলো ন্যূনতম কলরেটের চেয়ে অনেক বেশি টাকা কাটছে প্রতিটি কলে। এর ফলে যে প্রান্তিক গ্রাহকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বিটিআরসি নতুন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রতি মিনিটে গ্রাহকদের কাছ থেকে ন্যূনতম কলরেটের চেয়ে অনেক বেশি টাকা কাটার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গ্রামীণফোনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান তা অস্বীকার করে বলেন, ‘এমনটি হওয়ার কথা নয়। যে সব গ্রাহক বেশি টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ করছেন সেটা আদৌ সত্য নয়। সুনির্দিষ্ট কাস্টমার তথ্য দিলে বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।’

বিটিআরসির নতুন সিদ্ধান্তে গ্রাহকরা যে ফোনে কথা বলা কমিয়ে দিয়েছেন সেটার প্রমাণ মিলেছে প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা সৈয়দ তালাত কামালের বক্তব্যে। তিনি বলেন, কলচার্জ সমন্বয়ের প্রভাব পরিমাপ করার সময় এখনো আসেনি, তবে আমরা গ্রাহকদের ফোন ব্যবহার কিছুটা হ্রাস পেতে দেখেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ইউনিফর্ম ট্যারিফ চালুর পক্ষে ছিলাম না, কারণ এর ফলে অন-নেট রেট বেড়েছে। কিন্তু আমরা বুঝতে পারছি যে রেগুলেটর বাজার কাঠামো পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা এখন গ্রাহকদের এই পরিবর্তনের সম্পূর্ণ সুবিধা দিতে বিভিন্ন প্যাকেজে আমাদের ট্যারিফগুলো পুনঃমূল্যায়ন করছি। আমাদের মিনিট প্যাকগুলো ব্যবহার করে গ্রাহকরা ৪৫ থেকে ৪৭ পয়সা ট্যারিফ উপভোগ করছেন।’

গ্রাহক ঝুঁকছে বিকল্পে

বিটিআরসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৫ কোটির বেশি। এদের একটা বড় অংশই বর্তমানে স্মার্টফোন ব্যবহার করছে। আর তাই দিন দিন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বাড়ছে। দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে আট কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ফোনে কথা বলার খরচ বাড়ায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের দিকে ঝুঁকছে অনেকে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম যোগাযোগ ও কথা বলার জন্য ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটস অ্যাপ, ভাইবার, ইমো প্রভৃতি ইন্টারনেটভিত্তিক মাধ্যমে ঝুঁকছে।

লুৎফর রহমান সোহাগ বলেন, ‘গত কয়েক দিনে যোগাযোগের জন্য ফেসবুক মেসেঞ্জার বেশি ব্যবহার করছি। এতে অভ্যস্ত হয়েও পড়ছি।’

সুজন ওয়াহিদ অবশ্য বলেন, ‘মাস শেষে আমাদের মাপা মাইনে। তাই আয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে ব্যয় করতে হয়। মোবাইল ফোনে কথা বলার জন্য আগে যে টাকা ব্যয় করতাম এখনো সেটাই করছি। শুধু কথা বলা কমিয়ে দিয়েছি। যোগাযোগের জন্য ইন্টারনেটভিত্তিক অ্যাপ বেশি ব্যবহার করছি।’

সক্রিয় চামড়া পাচার সিন্ডিকেটে দামে ধস

কুরবানির চামড়া ভারতে পাচার ঠেকাতে যশোরের বেনাপোল ও শার্শা সীমান্তে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সীমান্ত এলাকাগুলোতে টহল জোরদারের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

চামড়া চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের তালিকা তৈরি করে তাদেরও কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি চামড়াবোঝাই কোনো ট্রাক সীমান্ত অভিমুখে যেতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিজিবি ও পুলিশের কর্মকর্তারা। ঈদের দিন আজ বুধবার সকাল থেকে পরবর্তী এক মাস এই সতর্কতা জারি থাকবে বলে জনিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

চামড়া ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ট্যানারি মালিকরা সিন্ডিকেট করে চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করেছেন ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট ৩৫-৪০ টাকা, খাসির চামড়া ১৮-২০ টাকা, বকরির চামড়া ১৩-১৫ টাকা।

পার্শ্ববর্তী দেশে চামড়ার দাম বেশি। বাংলাদেশ থেকে কম দামে চামড়া কিনে সীমান্ত পার করলেই বেশি দামে বিক্রি করা যায়। এই লক্ষ্যে উভয় দেশের সীমান্তে পাচারকারীদের চক্রগুলো ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তারা সুযোগ বুঝে এসব চামড়া ভারতে পাচার করার পরিকল্পনায় রয়েছে।

জানা গেছে, দেশের চাহিদার মোট চামড়ার মধ্যে কুরবানির ঈদে ৪০ শতাংশ সংগ্রহ করা হয়। বাকি ৬০ শতাংশ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ হয় বছরজুড়ে। চামড়া ব্যবসায়ীদের মতে, পার্শ্ববর্তী দেশের চেয়ে বাংলাদেশের চামড়ার গুণগত মান উন্নত। প্রতিবেশী দেশের পশুর চামড়া নিম্নমানের বিধায় এদেশি চামড়ার সঙ্গে মিশিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হয়।

চোরাকারবারিরা প্রতিবেশী দেশে চামড়া পাচার করে ওই অর্থ দিয়ে ভারত থেকে অন্যান্য মালামাল ক্রয় করে থাকেন। যশোর সীমান্তবর্তী অঞ্চল হওয়ায় এখান থেকে খুব সহজে ভারতে চামড়া পাচার করা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চামড়া ব্যবসায়ী এক নেতা জানান, যশোর ও তার আশপাশের কোন কোন সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচার হতে পারে সেসব স্থানের মধ্যে বেনাপোল, শার্শা, ঝিকরগাছা, সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্ত পথ দিয়ে পাচারের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, চামড়ার দাম সঠিকভাবে নির্ধারণ করলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি থাকে। ফলে পাচার হওয়ার আর সম্ভাবনা থাকে না। তিনি চামড়ার সঠিক দাম নির্ধারণের জন্য ট্যানারি মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, চামড়া পাচার রোধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সীমান্তে কড়া নজর রাখা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ, আনসারসহ সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে যাতে একটি চামড়াও পাচার হতে না পারে।

যশোর ২৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল হক বলেন, চামড়া পাচার প্রতিরোধে সীমান্তে কড়া সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে বিজিবিকে। ফলে পাচারকারীরা সুবিধা করতে পারবে না। তিনি বলেন, চামড়া যাতে পাচার না হতে পারে সেজন্য প্রতি হাটে বিজিবির পক্ষ থেকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

চামড়ার হাটগুলো থেকে ব্যবসায়ীরা যাতে চামড়া ফেরত নিয়ে আসতে না পারে সে ব্যবস্থাও  রাখা হয়েছে। প্রধান সড়ক ছাড়া কোনও আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে যাতে চামড়া আনা-নেওয়া না করতে পারে সেজন্য সতর্ক রয়েছে বিজিবি।

কোরবানির আগে ও পরে করণীয়

বুধবার (২২ আগস্ট) বাংলাদেশে উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব। মানুষ প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের ভাগাভাগি করে নিয়ে গ্রামে ফিরছেন। 

এরই মধ্যে কোরবানির প্রস্তুতিও শেষের দিকে। পশু কেনা থেকে শুরু করে সার্বিক প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। কোরবানি দাতার জন্য রয়েছে ইসলামের বিশেষ কিছু নির্দেশনা।

‘কোরবানি’ শব্দটির আরবি ‘কুরব’; আর আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় আত্মোৎসর্গ করাকে বলা হয় কোরবানি। শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তার উদ্দেশ্যে পশু জবাই করাকে কোরবানি বলা হয়। কোরবানির পশু নিজে জবাই করা উত্তম।

এছাড়া হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর ছেলে ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করার ঐশী নির্দেশের পরীক্ষা থেকে বর্তমান পদ্ধতির কোরবানির সূচনা হয়েছে।

ঈদুল আজহার তিনদিনের মধ্যে (জিলহজ মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত) আল্লাহের নামে জীবন্ত চার পা ওয়ালা পশু জবাই করা হয়। 
প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের যদি সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার মালিক হয় অথবা এর সমপরিমাণ নগদ অর্থের মালিক হয় তার জন্য কোরবানি করা হবে ওয়াজিব। 

কোরবানির পশু ক্রয়ের আগে

** হালাল উপার্জন দিয়ে কোরবানির পশু ক্রয় করুন।

** আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের স্পৃহা ও ওয়াজিব আদায়ের প্রেরণা মনে জাগ্রত করুন।

** কোরবানিকে সুখ্যাতি ও প্রদর্শন ইচ্ছার চিন্তা মন থেকে দূর করুন।

** ভাগে কোরবানি দেওয়ার ইচ্ছা থাকলে পশু কেনার আগেই ভাগিদার নির্বাচিত করুন। এটা মোস্তাহাব আমল।

** যার ব্যাপারে নিশ্চিত জানা আছে, তার উপার্জন হারাম, তাকে কোর‍বানির শরিক করবেন না।

** কোরবানি দেওয়ার ইচ্ছা করলে, জিলহজ মাসের চাঁদ উঠার আগে নখ, চুল এবং অবাঞ্চিত লোম কেটে ফেলুন। এটাও মোস্তাহাব আমল।

পশু কেনার সময় করণীয়
** যে পশুর ব্যাপারে ধারণা হবে যে, তা চুরি করে আনা তা কিনবেন না।

** কোরবানি পশু ক্রয়-বিক্রয়কালে মিথ্যা কথা ও মিথ্যা শপথ বর্জন করুন।

** কোনো পশুর মূল্য চূড়ান্ত করার পর কোনো দাম বলবেন না অথবা ক্রয়ের প্রস্তাব দেবেন না। এটা মাকরূহ।

** কেনা পশুটি ভালোভাবে দেখে নিন।

** খেয়াল রাখতে হবে গরু, মহিষের বয়স যেনো দুই বছরের কম না হয়, উটের বয়স যেনো পাঁচ বছরের কম না হয়, ছাগলের বয়স যেনো এক বছরের কম না হয়। ছয় মাস বা তদূর্ধ্ব বয়সের ভেড়া, দুম্বা দেখতে যদি এক বছর বয়সের মতো মনে হয় তবে তা দ্বারা কোরবানি করা যাবে। গরু, মহিষ, উট ও ছাগলের জন্য বয়সের কোনো ছাড় নেই। যতোই হৃষ্ট-পুষ্ট হোক নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হতে হবে।

** কান, জিহ্বা ও লেজ যেনো অর্ধেকের বেশি কাটা না থাকে। চোখের দৃষ্টি শক্তি অর্ধেকের বেশি যেনো নষ্ট না থাকে।

** পশুর শিং যেনো এ পরিমাণ ভাঙা না থাকে যার প্রভাব মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।

** জানাশোনায় প্রসব সময় নিকটবর্তী এমন পশু ক্রয় করে কোরবানি করা মাকরূহ। তবে কোরবানি আদায় হবে।

** বন্ধ্যা পশুর কোরবানি জায়েজ। অণ্ডকোষ কাটা পশু কোরবানি করা উত্তম।

** খাবার খেতে পারে না বা নড়া-চড়া করতে পারে না এতো দুর্বল পশুর কোরবানি শুদ্ধ নয়।

** বন্য ও হিজড়া প্রজাতির পশুর কোরবানি জায়েজ নেই।

কোরবানির পশু ক্রয়ের পর করণীয়:

** পশুর সেবা-যত্ন করুন। অহেতুক পশুকে কোনো কষ্ট দেবেন না।

** পশু এমন স্থানে বাঁধুন যেনো পথচারীদের কষ্ট না হয়। পশুর গলায় ঘণ্টি বাঁধবেন না।

** কোরবানির জন্য ক্রয়কৃত পশুর ওপর আরোহণ করবেন না বা কোনো কাজে ব্যবহার করবেন না।

** যদি দুধ দোহন করা হয় তবে গরিব-মিসকিনকে দান করে দিন। আবার দুধের বাজার মূল্য দান করে নিজেও সে দুধ পান করতে পারবেন।

** কোনো অবস্থাতেই কোরবানির পশুর প্রদর্শনী করবেন না।

** ভাগে কোরবানি দিলে ভাগিদার সবাইকে সবকাজে সঙ্গে রাখার চেষ্টা করুন