প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা পূরণে এলএনজি

প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের প্রধান জ্বালানি সম্পদ। দেশের মোট বাণিজ্যিক জ্বালানি ব্যবহারের শতকরা প্রায় ৭১ ভাগ এ গ্যাস পূরণ করছে। কিন্তু চাহিদার সাথে যোগানের তফাৎটা অনেক। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ২৭টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এ ক্ষেত্রগুলোতে ১৯৬০ সাল থেকে শুরু করে ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিত গ্যাস উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ১৫.২২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট এবং জানুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত উত্তোলনযোগ্য নিট মজুদের পরিমাণ ১২.৫৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। পেট্রোবাংলার সর্বশেষ প্রাক্কলন অনুযায়ী মোট গ্যাস মজুদের পরিমাণ ৩৯.৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট এবং উত্তোলনযোগ্য প্রমাণিত  এবং সম্ভাব্য মজুদের পরিমাণ ২৭.৭৬ ট্রিলিয়ন  ঘনফুট। এ গ্যাস সম্পদ আমাদের কতদিন চাহিদা পূরণ করতে পারবে? ভবিষ্যতে এ গ্যাস যখন আমাদের শেষ হয়ে যাবে তখন আমাদের বিকল্প উপায় কী হবে? এ চিন্তা থেকেই পরিকল্পনা এবং প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রাকৃতিক গ্যাস সাধারণ চাপ ও তাপমাত্রায় গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে। রেফ্রিজারেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে তাপমাত্রা কমিয়ে মাইনাস ১৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনলে তা তরলে পরিণত হয়। এই তরল প্রাকৃতিক গ্যাসকেই বলা হয় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সংক্ষেপে এলএনজি। সরকার এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্প গ্রহণ করে এবং তা ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের আওতাধীন করে।

পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি এলএনজি রপ্তানি করে কাতার ও ইন্দোনেশিয়া আর সবচেয়ে বেশি আমদানি করে জাপান। এলএনজি বাণিজ্য মূলত কয়েকটি দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং এর ক্রেতা মূলত প্রথম বিশ্বের ধনী দেশ। বাংলাদেশ আজ একইসাথে এলএনজি রপ্তানি ও আমদানি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ করছে। আবার সেই টার্মিনাল হবে গভীর সাগরে, ভাসমান একটি টার্মিনাল। দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সরকারের এ উদ্যোগ খুবই যুগোপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ।

এলএনজি আমদানির বিষয়টি অত্যন্ত প্রতিক্ষিত এবং বহুল আলোচিত । আমাদের দেশে যে গ্যাস সম্পদ আছে তা অফুরন্ত নয় । এ সম্পদ শেষ হওয়ার আগেই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন কারণ বিদ্যুৎখাতসহ ব্যবসাবাণিজ্য ত্বরান্বিত রাখা জরুরি। চট্টগ্রাম অঞ্চলের ইতোমধ্যে ২৬৫টি শিল্প কারখানাকে এলএনজি সরবরাহের চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে এবং আরো ৩৫৭টি শিল্পকারখানার আবেদন পেট্রো-বাংলার কাছে পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের সক্ষমতা স্পষ্ট প্রতীয়মান। পেট্রোবাংলার মতে দেশে দৈনিক ৩৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে ২৭৫ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ ছিল। এ ঘাটতি পূরণের জন্য দ্রুতই সদ্য এলএনজি আমদানি করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই কক্সবাজারের মহেশখালিতে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করে এর ব্যবহার শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সূত্রমতে, ভবিষ্যত জ্বালানি নিরাপত্তায় ২০১৫ সালে গঠন করা হয় জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল। এলএনজি নিঃসন্দেহে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি দৃষ্টান্ত। বর্তমান সরকারের প্রতিটি ঘরে ও কারখানায় গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিতকরণে এটি বড়ো ভূমিকা রাখবে। এর ব্যবহারে দেশের গ্যাস সম্পদের ওপর চাপ কমবে। জনসাধারণ গ্যাস ব্যবহারে সচেতন হবে। একইসাথে দেশের অর্থনীতিতে এলএনজির ব্যবহার বড়ো ভূমিকা রাখবে। এ কথা স্পষ্ট যে, ভবিষ্যৎ বিকল্প জ্বালানি হিসেবে আমাদের দেশে এলএনজি আমদানি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর রক্ষণাবেক্ষণ ও যথার্থ ব্যবহারে আমাদের সকেলকে সচেতন হতে হবে।

মন্তব্য


আরো নতুন খবর...

ABOUT US

এটি একটি অনলাইন খবরের তথ্য ভান্ডার। যা কুষ্টিয়াকে সমৃদ্ধ করতে তথ্য নির্দেশ করে।

This is a online news portal.
Which contain directory of enriched kushtia.