বিনোদনের খবর

বিনোদনের খবর আমার কুষ্টিয়া হতে প্রকাশিত

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনলেন যেসব তারকা

দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনছেন তারকারাও। এখন পর্যন্ত ১১ জন তারকা আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন। এরা হলেন চিত্রনায়িকা সারাহ বেগম কবরী, অভিনেত্রী তারানা হালিম, শিল্পী মমতাজ, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, চিত্রনায়ক শাকিল খান, অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান, অভিনেতা ডিপজল, অভিনেতা ফারুক, অভিনেত্রী শমী কায়সার, ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা ও ক্রিকেটার দুর্জয়।

এবার নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে ঢাকা-১৭ আসনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন চিত্রনায়িকা সারাহ বেগম কবরী। রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে তিনি নিজেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। কবরী ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ওই আসনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন এ কে এম শামীম ওসমান।

তথ্যপ্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম টাঙ্গাইল-৬ (দেলদুয়ার নাগরপুর) আসন থেকে নির্বাচন করবেন। এর আগে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ছিলেন তিনি। তথ্যপ্রতিমন্ত্রীর আগে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করছেন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ (সিঙ্গাইর-হরিরামপুর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এবারেও একই আসন থেকে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ের পাশে নির্বাচনী অফিস থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন তিনি।

ফেনী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন ফরম কিনেছেন অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী। মহিলা আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া প্রাচী ফেনী জেলার সোনাগাজী-দাগনভূঞা উপজেলায় নৌকার হাল ধরতে চান।

বাগেরহাট-৩ আসনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন চিত্রনায়ক শাকিল খান। আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

টাঙ্গাইল-১ আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র কিনেছেন অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান। মধুপুর-ধনবাড়ী এই দু’টি উপজেলা নিয়ে টাঙ্গাইল-১ আসন গঠিত। এই আসনের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সারের কন্যা অভিনেত্রী শমী কায়সার ফেনী-৩ আসনে জন্য মনোনয়নপত্র কিনেছেন।

ঢাকা-১৪ (মিরপুর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন চলচ্চিত্র অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল।

নড়াইল-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করতে মনোনয়নপত্র কিনেছেন জাতীয় ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। এসময় তিনি জানিয়েছেন, নড়াইলকে সুন্দর ও আধুনিক করে সাজাতে চান তিনি।

মানিকগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন বর্তমান সংসদ এ,এম, নাঈমুর রহমান দুর্জয়।

গাজীপুর-৫ আসনে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ পেতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনলেন চলচ্চিত্র অভিনেতা ঢাকাই সিনেমার মিঞাভাই খ্যাত গ্রাম-বাংলার মানুষের প্রিয় নায়ক ফারুক।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৩ ডিসেম্বর (রোববার)। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৯ নভেম্বর (সোমবার)। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২২ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার)। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার)।

আজ নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মদিন

 আজ মঙ্গলবার নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মদিন। হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে আজ দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। টিভিওতেও প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। গতকাল রাত ১২টা এক মিনিটে হুমায়ূন আহমেদের বাসা দখিন হাওয়ায় কেক কেটে তাঁর ৭০তম জন্মদিন উদযাপন করেন পরিবারের সদস্যরা।

নুহাশপল্লীর ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, হুমায়ূন আহমেদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নুহাশপল্লীর পক্ষ থেকে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল রাতেই স্যারের কবর আর নুহাশ পল্লীতে মোমবাতি জ্বালানো হয়েছে। আজ সকালে হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে নূহাশপল্লীতে কবর জিয়ারত করবেন।

এদিকে এই কথাসাহিত্যিকের জন্মদিন উপলক্ষে আজ বিকেলে পাবলিক লাইব্রেরী প্রাঙ্গণে সপ্তাহব্যাপী হুমায়ূন আহমেদ বইমেলা শুরু হবে। এ ছাড়াও হুমায়ূনকে নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করেছে জাতীয় জাদুঘর।

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে হুমায়ূন আহমেদ জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক তিনি। ১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পর পরই তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। উপন্যাসে ও নাটকে তার সৃষ্ট চরিত্রগুলো বিশেষ করে ‘হিমু’, ‘মিসির আলী’, ‘শুভ্র’ তরুণ-তরুণীদের কাছে হয়ে ওঠে অনুকরণীয়।

নব্বই দশকের মাঝামাঝি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করে লেখালেখিতে পুরোপুরি মনোযোগ দেন। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে নন্দিত নরকে, লীলাবতী, কবি, শঙ্খনীল কারাগার, গৌরিপুর জংশন, বহুব্রীহি, এইসব দিনরাত্রি, দারুচীনি দ্বীপ, নক্ষত্রের রাত, কোথাও কেউ নেই, আগুনের পরশমনি, শ্রাবণ মেঘের দিন, জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি। পাশপাশি তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- আগুনের পরশমনি, শ্যামল ছায়া, শ্রাবন মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা ও নয় নম্বর বিপদ সংকেত। তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ও জয় করেছে দর্শক ও সমালোচকদের মন।

বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক ‘একুশে পদক’ লাভ করেন হুমায়ন আহমেদ। এ ছাড়াও তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ূন কাদিও স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কার (১৯৮৮) লাভ করেন। দেশের বাইরেও তাকে নিয়ে ১৫ মিনিটের তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছে ‘হু ইজ হু ইন এশিয়া’।

ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

যে কারণে নির্বাচন থেকে সরে গেলেন শাকিব খান

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হবেন চিত্রনায়ক শাকিব খান। সেজন্য রোববার তার মনোনয়নপত্র কেনারও কথা ছিলো। এমনটাই শোনা যাচ্ছিলো শনিবার বিকেল থেকে।

কিন্তু শনিবার রাত ১০টার দিকে নিজের সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন তিনি। নির্বাচন করবেন না বলেই সিদ্ধান্ত নেন। গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিজেই নিশ্চিত করেছেন শাকিব খান।

কেন সরে দাঁড়ালেন শাকিব খান? আওয়ামী লীগে অনাগ্রহ নাকি অন্য কোনো সমস্যা? সে নিয়ে চলছে নানা কানাঘুষা। তবে শাকিব খান জানান, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমার নির্বাচনে আসার সংবাদ প্রকাশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ভক্তদের মধ্যে অনেকেই চাইছেন না এখনই কোনো ধরনের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হই আমি। তারা শাকিবকে শুধু সিনেমাতেই দেখতে চান। যে ভক্তদের জন্য আমি তারকা সেইসব ভক্তদের আমি কষ্ট দিতে চাই না।’

ভক্তদের কথা রেখেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন শাকিব খান। শনিবার রাতে ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে তিনি আলোচনায় বসে ভক্তদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেন।

ভবিষ্যতে আবারও সিদ্ধান্ত বদল হবে কি না এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শাকিব খান বলেন, ‘আপাতত সম্ভাবনা নেই। তবে ভবিষ্যৎ কেবল আল্লাহ জানেন।’

তবে তিনি জানান, আসছে শিল্পী সমিতির নির্বাচনে তিনি সভাপতি পদে অংশ নেবেন।

বিএনপি থেকে মনোনয়ন পত্র কিনেছেন যেসব তারকা

 আসন্ন সংসদ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্যে আওয়ামী লীগ থেকে বেশকিছু তারকামুখকে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করতে দেখা গেছে। একইভাবে বিএনপি থেকেও মনোনয়ন ফরম কিনেছেন কয়েকজন তারকা। এরা হলেন হেলাল খান, বেবী নাজনীন, কনকচাঁপা ও মনির খান।

অভিনেতা হেলাল খান সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র কিনেছেন। গতকাল দুপুরে সিলেট-৬ আসনে প্রার্থী হিসেবে লড়তে নয়াপল্টনের কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

এছড়াও কণ্ঠশিল্পী মনির খান ঝিনাইদহ-৩ আসনের জন্য, বেবী নাজনীন নীলফামারী-৪ আসনের জন্য রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর) আসনের জন্যে মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেছেন।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়ন ফরম বিক্রি কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজ কাজ করছে বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর হাত থেকে তারকাদের কয়েকজন তাদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

আচমকা জড়িয়ে ধরেন নওয়াজ: নিহারিকা সিং

 নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনে ঝড় তোলেন ‘আশিক বানায়া আপনে’ খ্যাত অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। তার পথ ধরে একাধিক প্রযোজক, পরিচালক ও নামি ব্যক্তির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেন বলিউড অভিনেত্রীরা।

সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলেন সাবেক মিস ইন্ডিয়া নিহারিকা সিং। তিনি মিটু ঝড় তুলেছেন অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকির বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি তার লেখা একটি বই প্রকাশ করেন। যেখানে ‘মিস লাভলি’ খ্যাত নিহারিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, নিহারিকার সঙ্গে তার বেশ ভাল সম্পর্ক। তবে অনুমতি না নিয়ে এই কথা লেখায় প্রশ্ন তুলেছন সাবেক এই মিস ইন্ডিয়া।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মিস লাভলি শুটিংয়ের সময় বন্ধুত্বকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে যান নওয়াজ। এছাড়া নওয়াজ তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে জোর করেছেন বার বার।

তাছাড়া, বুদ্ধদেব দাসগুপ্তের ‘আনওয়ার কা আজিব কিসসা’ ছবি শুটিং চলাকালে নওয়াজ একদিন তাকে ফোন করে জানান তিনি অভিনেত্রীর বাড়ির কাছেই শুটিং করছেন, যা শুনে নিহারিকা বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান তাকে।

নিহারিকার আমন্ত্রণ পেয়ে তড়িঘড়ি তার বাড়িতে আসেন নওয়াজ। কিন্তু, দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আচমকাই নিহারিকাকে জড়িয়ে ধরেন বলে অভিযোগ করেছেন নিহারিকা। তিনি বলেন, বার বার চেষ্টা করেও ওই সময় নওয়াজের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে পারেননি। ওই সময় ঘটনাটি হালকাভাবে নিলেও পরে বুঝতে পারেন নওয়াজের আসল উদ্দেশ্য ।

তবে নিহারিকার এসব অভিযোগ সামনে এলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেননি নওয়াজ।

‘নিজের স্বার্থেই অনেক নারী পুরুষকে কাছে টানে

‘হ্যাশট্যাগ মি টু’ আন্দোলন।বিশ্বজুড়ে এখন আলোচিত বিষয়। নিজেদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া যৌন হয়রানি নিয়ে মুখ খুলছেন একের পর এক গায়িকা-নায়িকা-মডেল, অভিনেত্রীরা। অভিযোগ উঠেছে, অনেক প্রভাবশালী প্রযোজক, অভিনেতার বিরুদ্ধে।

এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী পামেলা অ্যান্ডারসন। তিনি মনে করেন, যৌন নিপীড়ন নিয়ে প্রতিবাদ হওয়া উচিত। কিন্তু এখন বিষয়টা নিয়ে কেউ কেউ বাড়াবাড়িই করছেন।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন পামেলা। সেখানেই এমন মন্তব্য করেন তিনি। পামেলা বলেন, আমি নিজে নারীবাদী। তবে এখন যে নারীবাদী আন্দোলনের জোয়ার এসেছে, তাতে মোটেও সায় নেই আমার। ব্যাপারটা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই হয়ত আমার সঙ্গে একমত হবেন না। এমন মন্তব্যের জন্য হয়ত মেরেও ফেলা হতে পারে আমাকে। তবে দুঃখিত, এই আন্দোলনকে সমর্থন করতে পারছি না।

হলিউড প্রযোজক হার্ভি উইনস্টিনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিনেত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ করার পর সোশ্যাল শুরু হয় ‘হ্যাশট্যাগ মিটু’ আন্দোলন। হলিউড-বলিউডের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেন।

এবার পামেলা বললেন উল্টো কথা। যারা যৌন হয়রানির শিকার, তাদেরকেও দায়ী করেন এই অভিনেত্রী। পামেলা বলেন, কেউ কেউ নিজের স্বার্থের কারণেই পুরুষ মানুষকে কাছে টানেন। তাহলে এখন এই প্রতিবাদ কেন?

দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করবেন সামান্থা

ভারতের দক্ষিণী সিনেমার দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু। একাধিক সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত তিনি। এর মধ্যে ‘মিস গ্র্যানি’ সিনেমায় দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করবেন সামান্থা। দাদি ও নাতনির দুই চরিত্র রূপায়ন করবেন তিনি। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম এ খবর প্রকাশ করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যবসাসফল সিনেমা ‘মিস গ্র্যানি’। তেলেগু ভাষায় এটি রিমেক হচ্ছে। এতে সামান্থা ও নাগা সুরিয়া একসঙ্গে অভিনয় করবেন। সুরিয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে। এটি পরিচালনা করবেন নন্দিতা রেড্ডি। সিনেমাটি যৌথভাবে প্রযোজনা করবেন সুরেশ বাবু ও সুনিতা।  আগামী ডিসেম্বর থেকে এর শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

সামান্থা বর্তমানে তেলেগু ভাষার রোমান্টিক-কমেডি ঘরানার একটি সিনেমার শুটিং করছেন। প্রাথমিকভাবে সিনেমাটির নাম রাখা হয়েছে ‘মজিলি’ এতে স্বামী নাগা চৈতন্যর সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করছেন তিনি। এছাড়াও তামিল ভাষার ‘সুপার ডিলাক্স’ সিনেমার কাজও তার হাতে রয়েছে।

চার শিল্পীকে প্রধানমন্ত্রীর ৯০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান

চিকিৎসা ও অসহায়ত্ব দূর করতে দেশের চার গুণী শিল্পীর পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। এরা হলেন অভিনেতা প্রবীর মিত্র, রেহানা জলি, নূতন ও কণ্ঠশিল্পী কুদ্দুস বয়াতি।

আজ বৃহস্পতিবার এই চার গুণী শিল্পীকে  সকাল ১০ টার দিকে গণভবনে ডেকে ৯০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চার শিল্পী উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে এই অনুদান গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।

প্রবীণ অভিনেতা প্রবীর মিত্র ও অসুস্থ অভিনেত্রী রেহানা জলি পেয়েছেন ২৫ লাখ করে অন্যদিকে অভিনেত্রী নূতন ও শিল্পী কুদ্দুস বয়াতি ২০ লাখ টাকা করে পেয়েছেন। সকলকে উক্ত মূল্যের সমমান সঞ্চয়পত্র তুলে দেয়া হয়েছে।

শিল্পী ঐক্য জোটের সভাপতি ও অভিনেতা ডি এ তায়েবের পরামর্শে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও নাট্য নির্মাতা জিএম সৈকতের তত্ত্বাবধানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন কুদ্দুস বয়াতি বাদে বাকি তিনশিল্পী। অনুদান গ্রহণের সময় শিল্পী ঐক্য জোটের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা জিএম সৈকত।

জিএম সৈকত বলেন, গত সপ্তাহে চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুদান চেয়ে আবেদন জমা দেওয়া হয়। একসপ্তাহের মধ্যেই এই আবেদনে সাড়া পাওয়া গেছে। সঞ্চয়পত্র হিসেবে প্রতিমাসে একটি করে কিস্তিতে টাকা পাবেন তারা।

ঢাকা আসছেন মণীষা কৈরালা

ঢাকা লিট ফেস্টে আসছেন বলিউডের এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মণীষা কৈরালা। এছাড়াও ইতোমধ্যে চলে এসেছেন ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও পরিচালক নন্দিতা দাস। অস্কার জয়ী অভিনেত্রী টিলডা সুইন্টন নিজের লেখালেখি নিয়ে কথা বলতে আসছেন। মণীষা লিট ফেস্টে তিনি নিজের আত্মজীবনী নিয়ে কথা বলবেন।

জানা গেছে, টিল্ডা সুইন্টন ও নন্দিতা দাস ঢাকায় ইতোমধ্যে চলে এসেছেন। মণীষা কৈরালা আজ রাতে ঢাকায় পৌঁছবেন বলে লিট ফেস্ট সূত্র জানিয়েছে।

শাস্ত্রীয় সংগীতের তালে কত্থক নৃত্যের পরিবেশনা দিয়ে শুরু হয়েছে ঢাকা লিট ফেস্ট-২০১৮। বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- উৎসবের তিন পরিচালক কাজী আনিস আহমেদ, সাদাফ সায্ এবং আহসান আকবার। এরপর ফিতা কেটে আসরের উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন- ফেস্টের পরিচালকরা, অভিনেত্রী নন্দিতা দাস এবং পুলিৎজার বিজয়ী লেখক এডাম জনসন।

এবারের আসরে থাকছেন ১৫ দেশের দুই শতাধিক সাহিত্যিক, অভিনেতা, রাজনীতিক, গবেষক এবং বাংলাদেশের প্রায় দেড়শ’ লেখক, অনুবাদক, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ। অনুষ্ঠানের শেষ দিন যোগ দেবেন ভারতীয় লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়।

বিদেশি অতিথিদের মধ্যে অংশ নিচ্ছেন পুলিৎজার জয়ী মার্কিন সাহিত্যিক অ্যাডাম জনসন, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক মোহাম্মদ হানিফ, ব্রিটিশ উপন্যাসিক ফিলিপ হেনশের, বুকার বিজয়ী ব্রিটিশ উপন্যাসিক জেমস মিক, ভারতীয় জনপ্রিয় লেখিকা জয়শ্রী মিশরা, লন্ডন ন্যাশনাল একাডেমি অব রাইটিংয়ের পরিচালক রিচার্ড বেয়ার্ড, ভারতীয় লেখিকা হিমাঞ্জলি শংকর, শিশুতোষ লেখিকা মিতালি বোস পারকিন্স, ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল এশিয়ার প্রধান হুগো রেস্টল, মার্কিন সাংবাদিক প্যাট্রিক উইন, লেখক ও সাংবাদিক নিশিদ হাজারি।

এছাড়া বাংলাদেশের লেখক, অনুবাদক, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে থাকছেন- ড. আনিসুজ্জামান, আফসান চৌধুরী, আসাদুজ্জামান নূর, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, কামাল চৌধুরী, আসাদ চৌধুরী, ফখরুল আলম, ইমদাদুল হক মিলন, মঈনুল আহসান সাবের, আলী যাকের, সেলিনা হোসেন, শামসুজ্জামান খান, আনিসুল হক, কায়সার হক, খাদেমুল ইসলাম, অমিতাভ রেজা, মুন্নী সাহা, শাহনাজ মুন্নী ও নবনীতা চৌধুরী।

লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার ঘোষণা করা হবে ‘জেমকন সাহিত্য পুরস্কার’। একই দিনে লঞ্চ করা হবে ক্যামব্রিজ শর্ট স্টোরি প্রাইজ। তিন দিনের এই সাহিত্য উৎসব চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত।

স্পেশাল খবর দিলেন শুভশ্রী!

স্পেশাল খবর দিলেন অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। নতুন খবরই বটে। আর তা প্রকাশ্যে অনুরাগীদের সঙ্গে শেয়ার করলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সদ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেছেন শুভশ্রী। সেখানেই জানিয়েছেন তাঁর জীবনের নতুন খবর।

শুভশ্রীর কথায়, ‘তোমাদের সকলের জন্য খুব স্পেশাল খবর দেব আমি। গেস করতে পারছ? আমার সম্বন্ধে আরও বেশি খবর জানতে শেয়ার চ্যাট অ্যাপ এই মুহূর্তে ডাউনলোড কর। আমার অ্যাকাউন্ট ফলো কর। আমার সম্বন্ধে অনেক কিছু জানতে পারবে। কিছু এক্সক্লুসিভ কনটেন্টও পাবে।’

সদ্য জন্মদিন পেরিয়েছেন নায়িকা। বিয়ের পর প্রথম জন্মদিন তাঁর কাছে খুবই স্পেশাল ছিল। স্বামী রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে সেলিব্রেশনের মুহূর্তও শেয়ার করেছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। এর মধ্যেই তাঁর অনুরাগীদের জন্য নতুন খবর। এ বার শেয়ার চ্যাট অ্যাপের মাধ্যমেও তাঁর সম্বন্ধে জানতে পারবেন ভক্তরা।

মোনালিসার নাচের ভিডিও ভাইরাল

 ভারতের ভোজপুরি সিনেমার আলোচিত নায়িকা মোনালিসার নাচের একটি ভিডিও ভাইরাল অনলাইনে। সোমবার নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি পোস্ট করেন তিনি। এতে কোরিওগ্রাফারের সঙ্গে সালমান খানের ‘কিক’ সিনেমার ‘জে ম্যানু পিয়ার না মিলে’ গানের তালে নাচতে দেখা গেছে মোনালিসাকে।

স্টার পরিবার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে নাচবেন মোনালিসা। সেটির রিহার্সালের সময় ভিডিওটি ধারণ করা হয়। এরইমধ্যে ৪৪ হাজারের বেশি লাইক পড়েছে ভিডিওটিতে।

 

‘অন্ধকার জগৎ’ ছবির আইটেম গান ‘নাচুনি বুড়ি’তে নায়লা নাঈম

‘অন্ধকার জগৎ’ ছবির আইটেম গান ‘নাচুনি বুড়ি’তে দেখা যাবে আলোচিত মডেল-অভিনয়শিল্পী নায়লা নাঈমকে। গানটির কোরিওগ্রাফি করেছেন মাসুম বাবুল। এরইমধ্যে সাভারে গানের শ্যুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন তিনি।

এর আগে ‘রাত্রীর যাত্রী’ ছবির আইটেম গানে নেচেছেন নায়লা নাঈম। নতুন আইটেম গানটি সম্পর্কে তিনি বলেন, অনেক সুন্দর ও বড় আয়োজনের সেটে ‘নাচুনি বুড়ি’ গানটির শুটিং হয়েছে। বেশ ভালো কোরিওগ্রাফিও ছিল। এত অভিজ্ঞ একটি টিমের সঙ্গে কাজ করতে পেরে ভালো লেগেছে। বরাবরের মতো এ গানেও আবেদনময়ী নায়লা নাঈমকে সবাই দেখতে পাবেন। আশা করছি ভালো লাগবে।

‘অন্ধকার জগৎ’ নামের ছবিটি পরিচালনা করছেন বদিউল আলম খোকন। ছবিটিতে আরও অভিনয় করছেন ডি এ তায়েব, মাহিয়া মাহি ও গুলশান আরা পপি।

‘আইয়ুব বাচ্চুর ছায়া না পেলে আমি আজ এসআই টুটুল হতাম না’

আইয়ুব বাচ্চুর সাথে কি বোর্ড বাজাতেন এসআই টুটুল। এলআরবি ব্যান্ডের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। কিন্তু ২০০৪-০৫ সালে এলআরবি থেকে বেরিয়ে নিজেই একটি ব্যান্ড গঠন করেন নাম দেন ‘এফটুএফ’ যার অর্থ ফেইস টু ফেইস। এই ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবাম ‘ধ্রুবতারা’ তুমুল হিট হয়।

এলআরবি ছিল টুটুলের সঙ্গীত জীবনের পীঠস্থান। এলআরবি’র জনপ্রিয় গানগুলোর একটি ‘শেষ চিঠি’ যেটা এসএই টুটুলের গাওয়া।  আইয়ুব বাচ্চুর সাথে টুটুলের ক্যারিয়ার নিয়ে ভিন্নতা তৈরি হয়। এলআরবি থেকে আলাদা হয়ে টুটুলের অর্জন কম কিছু না।

দারুচিনি দ্বীপ চলচিত্রে সঙ্গীত পরিচালনার জন্য তিনি ২০০৭ সালে বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র সেরা সঙ্গীত পরিচালকের এবং ২০১০ সালে সেরা প্লেব্যাক সঙ্গীত শিল্পীর পুরষ্কারে ভূষিত হন। তিনি ভারতের চেন্নাইয়ের আন্তর্জাতিক চলচিত্র উৎসবে নিরন্তর চলচিত্রের জন্য সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৫ সালে বাপজানের বায়োস্কোপ চলচ্চিত্রের সেরা সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

টুটুল ও এলআরবির পথ আলাদা হয়ে গেলেও আইয়ুব বাচ্চুর জন্য ভালোবাসা কমেনি তার। গতকাল সন্ধ্যায় আইয়ুব বাচ্চুর স্টুডিও এবি কিচেনে স্ত্রী তানিয়াকে নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন টুটুল। ১৪ বছর পর আইয়ুব বাচ্চুর স্টুডিওতে আসেন তিনি।

আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারের আয়োজনে এবি কিচেনে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বাচ্চুর স্ত্রী-সন্তানের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সংগীতাঙ্গনের অনেক তারকা, সাংবাদিক ও আইয়ুব বাচ্চুর কাছের মানুষজন। এসেছিলেন এস আই টুটুলও।

টুটুল উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আমার একজন জন্মদাতা বাবা আছেন যিনি আমাকে এই পৃথিবীতে এনেছেন। কিন্ত আমার আরেকজন বাবা ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু যিনি আমাকে মিউজিকের জগতে জন্ম দিয়েছেন। তার ছায়া না পেলে, তার আশ্রয়-স্নেহ না পেলে আমি কোনোদিন আজকের টুটুল হতাম না। বাচ্চু ভাইয়ের কাছ থেকে দূরে গিয়েও আমি তার ছায়া কাটাতে পারিনি। লোকে আমাকে এলআরবি’র টুটুল বলেই চিনে এসেছে সবসময়।

এস আই টুটুল আরও বলেন, ‘বাচ্চু ভাই আমার গুরু। তিনি ইমোশনাল একজন মানুষ ছিলেন। এই ইমোশন তাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে, তার কাছের মানুষ হিসেবে আমরাও অনেকে অনেক কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু সেসবই কেবল মিছে অভিমান। আমি দোয়া করি, আল্লাহ বাচ্চু ভাইকে যেন বেহেস্ত দান করেন। তার মৃত্যুর পর বোঝা যাচ্ছে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির কত বড় জায়গাজুড়ে তিনি ছিলেন।

এস এই টুটুল যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন সম্প্রতি আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর দেশে ফেরেন তিনি।

আমাকেও ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছিল: আলিয়া ভাটের মা

মিটু আন্দোলনের জেরে এবার মুখ খুললেন আলিয়া ভাটের মা অভিনেত্রী সোনি রাজদান। চলচ্চিত্র ও ছোট পর্দার সঙ্গে দীর্ঘদিন জড়িত থাকা সোনি জানিয়েছেন, কাজ চাওয়ার জন্য তাকে কখনো যৌন হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রীর কাথায়, কোনো ছবির শুটিং চলাকালীন কেউ তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে কিন্তু তাদের উদ্দেশ্যে সফল হয়নি।

কেনো এ নিয়ে এতদিন মুখ খোলেননি এমন প্রশ্নের উত্তরে সোনি রাজদান জানান, অভিযুক্তের নাম প্রকাশ্যে না আনার কারণ হচ্ছে তাদের নাম ফাঁস করলে ওই ব্যক্তি প্রবল সমস্যার মধ্যে পড়বে। তার একটা পরিবার আছে, সন্তানরা আছে। তার পরিবার ট্রমার মধ্যে পড়ে যাবে। তাই তখন নিজেকে বিরত রেখেছিলাম। তবে অবশ্যই ওই ব্যক্তির সঙ্গে পরে আমি আর কোন দিন কথা বলিনি।

একজন আইয়ুব বাচ্চুর মহানুভবতা ও গোপন দানের কাহিনী

আয়ান বাবুটা, সোনামনিটা, আল্লাহ্ তোমাকে ভালো করে দিবেন, সুস্থ করে দিবেন।’- ছেলেটির মাথায় হাত বুলিয়ে কথাগুলো বলতে বলতে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন কিংবদন্তি ব্যান্ড সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু।

সদ্য প্রয়াত এ জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীর এক অজানা মহানুভবতার গল্প তুলে ধরেছেন আবু বকর সিদ্দিকী নামে জনৈক ব্যক্তি।

নেত্রকোনার কৃষ্ণপুর বড়বাড়ির অধিবাসী ওই ব্যক্তি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দাবি জানিয়েছেন যে, ২০১৪ সালে তার বোনের আড়াই বছরের ছেলেকে বাঁচাতে চিকিৎসার্থে প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চু আর্থিক অনুদান দিয়েছিলেন।

সেই সময় আয়ানের জন্য সাহায্য চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন আবু বকর। সেই পোস্ট পড়েই আইয়ুব বাচ্চু সাহায্যের জন্য হাসপাতালে ছুটে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন আবু বকর।

শনিবার দুপুর ১টা ৫১ মিনিটে দেয়া তার স্ট্যাটাসটি ইতিমধ্যে তুমুল আলোচিত ও শেয়ার হয়েছে।

তার সেই স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হল- ‘২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আমার আড়াই বছর বয়সী ভাগিনা আয়ানকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে জরুরি ভিত্তিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপারেশন করানোর প্রয়োজন দেখা দেয়।

অপারেশনটা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল। আয়ানকে বাঁচাতে হলে এই অপারেশনের কোনো বিকল্প ছিল না।

বিভিন্ন সোর্স থেকে অপারেশনের জন্য টাকা সংগ্রহ করার পরও প্রায় দেড় লাখ টাকার ঘাটতি ছিল, যা কোনোভাবেই এই অল্প সময়ের মধ্যে জোগাড় করতে পারছিলাম না।

তখন আর উপান্তুর না দেখে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ফেসবুকে আয়ানের অপারেশনের জন্য সাহায্য চেয়ে একটি পোস্ট দিই। সময় হাতে ছিল আরও সাত ঘণ্টা।

কিন্তু সকাল ৯টা পর্যন্ত কারও কোনো সাহায্য না পেয়ে হতাশ হয়ে গেলাম। ডাক্তার সাহেবকে অনুরোধ করলাম অপারেশন শুরু করার প্রস্তুতি নিতে এবং সংগৃহীত টাকা পেমেন্ট করে বকেয়া টাকার জন্য তিন ঘণ্টা সময় নিলাম।

অপারেশন থিয়েটারের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম। ঠিক তখনই এক মহান ব্যক্তির আগমন ঘটল সেখানে।

এসেই তিনি আয়ানের অভিভাবককে খুঁজতে লাগলেন। আমরা তখন তার সঙ্গে কথা বললাম এবং খুবই অবাক হলাম ওনাকে দেখে। জানতে পারলাম উনি ফেসবুকের পোস্টটা দেখে আয়ানকে দেখতে এসেছেন।

জরুরি বিভাগ থেকে আয়ানকে অচেতন এবং অক্সিজেন মাস্ক পরানো অবস্থায় অপারেশন থিয়েটারের সামনে আনা হয়। ওই ভদ্রলোক আয়ানকে দেখে কাছে গেলেন এবং আয়ানের মাথায় হাত বুলিয়ে দুই-তিনবার বললেন, আয়ান বাবুটা, সোনামনিটা, আল্লাহ্ তোমাকে ভালো করে দিবেন, সুস্থ করে দিবেন।

এ কথাগুলো বলে তিনি হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করে দিলেন। তার কান্না দেখে আমরাও কেঁদে ফেললাম।

যাই হোক, কিছুক্ষণ পর এর মধ্যেই আয়ানকে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকানো হল। প্রায় চার ঘণ্টা লাগল অপারেশন শেষ হতে। আল্লাহ্র অশেষ রহমতে অপারেশন সফল হল।

ওই বিশেষ ব্যক্তিটি তখন জানালেন সম্পূর্ণ বকেয়া টাকা তিনি পরিশোধ করে দিয়েছেন এবং অনুরোধ করলেন যে উনি জীবিত থাকাবস্থায় আমরা যাতে ওনার এই আর্থিক সহযোগিতার কথা কাউকে না বলি।

আজ উনি জীবিত নেই। তাই নিজেকে কোনোভাবেই আর আটকাতে পারলাম না, বলে ফেললাম।

উনি আর কেউ নন- প্রিয় আইয়ুব বাচ্চু। মহান আল্লাহ্তায়ালা এই মহামানবকে বেহেশত নসিব করুক… আমিন, আমিন, আমিন।’

প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার মাত্র ৫৬ বছর বয়সে আইয়ুব বাচ্চু শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জনপ্রিয় এ শিল্পীর মৃত্যুতে সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যান্ড এলআরবির দলনেতা আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গায়ক, গিটারবাদক, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক।

১৯ অক্টোবর পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

এবার ভিন্ন লুকে আসছেন সুস্মি

মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের মডেল হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সুস্মি রহমান এবার তার প্রথম সিনেমা নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছেন। ছবির নাম ‘আসমানী’। ছবিটি আসছে ২রা নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। এ ছবিতে সুস্মি চিত্রনায়ক বাপ্পির বিপরীতে অভিনয় করেছেন। ছবিটি পরিচালনা করেছেন এম সাখাওয়াত হোসেন। নিজের নতুন ছবি নিয়ে বেশ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সুস্মি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর আগে মডেলিং করা হলেও বড় পর্দার জন্য এটাই ছিল আমার প্রথম কাজ। এ ছবির গল্পটিও ভিন্ন ধরনের।

ছবিতে ভিন্ন লুকে দর্শক আমাকে দেখতে পাবেন। এ ছবির নাম ভূমিকায় আমি অভিনয় করেছি। ছবির নায়ক

বাপ্পিসহ ইউনিটের সবাই আমাকে বেশ সহযোগিতা করেছেন। গাইবান্ধার রসুলপুর গ্রামের চরে এবং শহরের বেশকিছু জায়গায় এর দৃশ্যধারণের কাজ হয়েছে। নির্মাতা বেশ যত্ন নিয়ে কাজটি করেছেন। আশা করি, ছবিটি দর্শক পছন্দ করবেন। ছবির নির্মাতা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ ছবির মূল শক্তি হচ্ছে গল্প, গান এবং সকলের অভিনয়। প্রত্যেকে বেশ সাবলীল অভিনয় করেছেন। সুস্মি নবাগত হলেও বেশ ভালো অভিনয় করেছে।

আশা করি, বাপ্পি ও সুস্মি জুটি দর্শকরা পছন্দ করবেন। ঘাসফড়িং প্রযোজিত এ ছবিতে আরো বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শতাব্দী ওয়াদুদ,  জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, শম্পা  রেজা, অরুণা বিশ্বাস, এস এম মহসিন প্রমুখ।

তস‌লিমার সমা‌লোচনার জবা‌বে যা বল‌লেন মাসুদা ভা‌ট্টি

তসলিমা নাসরিনের বিস্ফোরক বক্তব্যের জবাব দিলেন সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি। যে সময়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিরাপত্তাহীনতায় আছেন তখন তসলিমার এ বক্তব্য তার জীবনকে আরও বেশি হুমকি ও প্রতিপক্ষের আক্রমণের সুযোগ করে দিয়েছে বলে এমনটাই ওঠে এসেছে তার পাল্টা বক্তব্যে।

তাকে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের অশালীন মন্তব্যের ঘটনায় নিজ ভেরিফায়েড পেজে মাসুদা ভাট্টিকে নিয়ে অতীত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছিলেন তসলিমা নাসরিন।

তসলিমা লেখেন, ‘কে মইনুল হোসেন, কী করেন, কী তাঁর চরিত্র, কী তাঁর আদর্শ আমি জানি না, তবে জানি মাসুদা ভাট্টি একটা ভীষণ রকম চরিত্রহীন মহিলা। চরিত্রহীন বলতে আমি কোনওদিন এর ওর সঙ্গে শুয়ে বেড়ানো বুঝি না।’

‘চরিত্রহীন বলতে বুঝি, অতি অসৎ, অতি লোভী, অতি কৃতঘ্ন, অতি নিষ্ঠুর, অতি স্বার্থান্ধ, অতি ছোট লোক। মাসুদা ভাট্টি এসবের সবই।’

তবে মাসুদা ভাট্টি তার পোস্টে বলেন, ‘আমি ‘ক’ বইটি সম্পর্কে বলতে চেয়েছিলাম যে, একজন ব্যক্তির সঙ্গে আরেকজন ব্যক্তির স্বেচ্ছা-সম্পর্কের দায় দু’পক্ষের সমান এবং তা প্রকাশের আগে অন্যপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন পড়ে – ‘ক’ বইটি পাঠে আমার তা মনে হয়নি। প্রায় কুড়ি বছর আগের লেখা এবং সেখানে আমি তসলিমা নাসরিনকে কোনো ভাবেই ব্যক্তিগত কোনো আক্রমণ করিনি।’

‘আমি সবসময় একথাই বলে এসেছি যে, আজকে যে আমরা মেয়েরা অনায়াস-লেখা লিখতে পারছি তার মূলপথ আমাদের জন্য উন্মুক্ত করেছেন তসলিমা নাসরিন। অথচ গত কুড়ি বছর যাবত তসলিমা নাসরিন অন্ততঃ কুড়িবারেও বেশি এই প্রসঙ্গে আমাকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন তার প্রকাশিত বইতে, লেখায় এবং তার ও আমার জানাশোনা ব্যক্তিবর্গের কাছে।’

তসলিমা তার লেখায় মাসুদা ভাট্টিকে তার পাবলিশার পরিচয় দিয়ে ব্রিটেনে তাকে নাগরিকত্ব পাইয়ে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। কিন্তু মাসুদা ভাট্টি জানান, তসলিমা নাসরিন কখনোই আমাকে তার পাবলিশার হিসেবে চিঠি দেননি, দিয়েছিলেন তার একজন ‘ফ্যান’ বা সমর্থক হিসেবে বর্ণনা করেন।

মাসুদা ভাট্টি লেখেন, ‘তসলিমা নাসরিনকে আমি ধন্যবাদ জানাই, কারণ তিনি এরকম একটি মোক্ষম সময়কে বেছে নিয়েছেন আমার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ক্ষোভকে প্রকাশ করে ২০ বছর আগে দেয়া আমার একটি বক্তব্যের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য।

যে সকল ঘটনার উল্লেখ তিনি করেছেন তা ২০০০ সালের এবং তিনি সত্যিই আমাকে চিঠি দিয়েছিলেন কারণ তখন আমাকে ব্রিটেন থেকে বের করে দেওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। একটি আলোচিত সাক্ষাতকার গ্রহণের পর থেকে আমার সে দেশে টিকে থাকা মুস্কিল হয়ে পড়েছিল এবং তখনও অনেক সাংবাদিক আমার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, এখন যেমন দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু তসলিমা নাসরিন কখনোই আমাকে তার পাবলিশার হিসেবে চিঠি দেননি, দিয়েছিলেন তার একজন ‘ফ্যান’ বা সমর্থক হিসেবে বর্ণনা করে। খুঁজলে সে চিঠি আমি নিশ্চয়ই পাবো।

যখন তার প্রথম আত্মজৈবনিক গ্রন্থ ‘ক’ বের হলো তখন এই বই নিয়ে প্রচারণার অংশ হিসেবেই আমি একটি পুস্তক সমালোচনা লিখি। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে, আমার তখন নারীবাদ, নারীর প্রতি সহিংসতা, উদারনৈতিক ও সমতাভিত্তিক সমাজব্যাবস্থা সম্পর্কে খুব বেশি একাডেমিক লেখাপড়া ছিল না। আমি সমালোচনায় বইটি সম্পর্কে এই কথাই বলতে চেয়েছিলাম যে, একজন ব্যক্তির সঙ্গে আরেকজন ব্যক্তির স্বেচ্ছা-সম্পর্কের দায় দু’পক্ষের সমান এবং তা প্রকাশের আগে অন্যপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন পড়ে – ‘ক’ বইটি পাঠে আমার তা মনে হয়নি। প্রায় কুড়ি বছর আগের লেখা এবং সেখানে আমি তসলিমা নাসরিনকে কোনো ভাবেই ব্যক্তিগত কোনো আক্রমণ করিনি। করতে পারি না কারণ আমি সবসময় একথাই বলে এসেছি যে, আজকে যে আমরা মেয়েরা অনায়াস-লেখা লিখতে পারছি তার মূলপথ আমাদের জন্য উন্মুক্ত করেছেন তসলিমা নাসরিন। অথচ গত কুড়ি বছর যাবত তসলিমা নাসরিন অন্ততঃ কুড়িবারেও বেশি এই প্রসঙ্গে আমাকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন তার প্রকাশিত বইতে, লেখায় এবং তার ও আমার জানাশোনা ব্যক্তিবর্গের কাছে।

২০০০ সালের পরে অসংখ্য লেখায় আমি তসলিমা নাসরিনের প্রশংসা করেছি এবং সে কারণে আমাকে সমালোচকরা ‘নতুন তসলিমা নাসরিন’ আখ্যা দিয়ে আমার বিচার, অপমান এবং ফাঁসিও চেয়েছে। তসলিমা নাসরিন এসব কথা কখনও উল্লেখ করেননি, তিনি সব সময় গত কুড়ি বছর ধরে বহুবার, বহু জায়গায় আমার এই পুস্তক-সমালোচনার কথা উল্লেখ করে আমাকে চরম আঘাত করেছেন। আমি বিরত থেকেছি জনসমক্ষে কিছু বলা থেকে কিন্তু তসলিমা নাসরিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছে আমি বহুবার একথা বলেছি যে, তার বইয়ের সমালোচনায় আমি যা বলেছি সেটা একেবারেই তার বইয়ে সন্নিবেশিত তথ্যের সমালোচনা, তার ব্যক্তি-সমালোচনা নয়। আমি একথা ২০০৩ সালেই প্রকাশ্যেও লিখেছি, এমনকি যখন তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তখন আমি প্রতিবাদ করেছি, লেখকের বিরুদ্ধে মামলা বা বই নিষিদ্ধের দাবীর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছি। আমার সেসব প্রতিবাদ, প্রতিরোধ সব ভেসে গেছে, থেকে গেছে কেবল সমালোচনাটুকু। এমনকি এই সেদিনও বাংলা একাডেমীতে আয়োজিত লিট ফেস্ট ২০১৭ তে আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছি যে, তিনি আমাদের পুরোধা লেখক যিনি পথ দেখিয়েছেন, অনেক শব্দকে ছাপার অক্ষরে নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছিল, তিনি মুক্ত করে দিয়েছেন।

তসলিমা নাসরিনের প্রতি আমার কোনো ধরনের বিদ্বেষ, রাগ কখনোই ছিল না। বরং আমার দুঃসময়ে তিনি পাশে ছিলেন সেটা আমি ভুলিনি। তাই বলে তার প্রকাশিত বইয়ের সমালোচনা আমি করতে পারবো না সেটাতো হতে পারে না। হতে পারে তিনি মনে করেছেন যে, আমার সমালোচনাটি কুৎসিৎ ব্যক্তি আক্রমণ, কিন্তু আমি নিজে জানি যে, তখনও আমি সেটা করিনি আর এখনতো আরও করবো না। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি একটি লেখার জন্য আমাকে ক’বার শাস্তি দেবেন? এরতো কোথাও না কোথাও একটা শেষ হতে হবে, নয়? হয়তো এবারই সেই চরম শাস্তিটুকু তিনি আমায় দিলেন। আমি মাথা পেতে নিলাম।

তসলিমা নাসরিন তার মতামত দিয়েছেন আমার সম্পর্কে। আমি সে সম্পর্কে আমার ব্যাখ্যা দিতে পারি মাত্র, এর বেশি আর কীই বা করতে পারি? তবে এমন একটি সময়কে ২০ বছর আগে লেখা সমালোচনার (যার জন্য বহুবার তিনি প্রকাশ্যে আমায় গাল দিয়েছেন) জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন যখন আমি কেবল আক্রান্তই নই, আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্নটিও তিনি আমলে আনেননি, আমার চেয়ে তার এই নিরাপত্তা-সংকটের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি বোঝার কথা ছিল। আজকে তার দেওয়া চারিত্রিক সার্টিফিকেট নিয়ে যারা আমাকে তুলোধনুা করছেন তারাই প্রতিদিন তার মাথা চায়, নোংরা আক্রমনে জর্জরিত করে, কখনও বা তাকে দেশছাড়া করতে চায়। কিন্তু আজ আমার বিরুদ্ধে তারই দেওয়া ‘ভীষণ চরিত্রহীন’ তকমার করাত দিয়ে আমাকে টুকরো টুকেরো করছে। জানি না, এতে কার লাভ কী হলো? কিন্তু কিছু একটা হলো নিশ্চয়ই।

এরকম একটি চরম সংকটকালে যখন পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার কবলে থেকে একদল মানুষ ন্যয়ের জন্য লড়ছে, তখন মইনুল হোসেনের দেওয়া তকমা “চরিত্রহীন”-কে একটি “ভীষণ” শব্দ জুড়ে দিয়ে আমার চরিত্রের সার্টিফিকেট-কে আরো শক্ত করেছেন তসলিমা নাসরিন – আমি এ জন্যও তার কাছে কৃতজ্ঞ। অগ্রজ লেখক হিসেবে হয়তো এটুকুই আমার প্র্রাপ্য তার কাছে।’

রাজনীতিতে যোগ দিলেন হাসিন

 হাসিন জাহান নামটি সংবাদ মাধ্যমে বেশ আলোচিত। চিয়ার লিডার থেকে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার মোহাম্মদ শামির সাবেক স্ত্রী হয়েছেন হাসিন জাহান। এরপর অভিনয়ও করেছেন। তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই। তবে সেসব পেছনে ফেলে এবার নতুন করে আলোচনায় এলেন হাসিন।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল কংগ্রেসে যোগ দেন হাসিন। এদিন মুম্বাই কংগ্রেস কমিটির সভাপতি সঞ্জয় নিরুপম ফুল দিকে তাকে দলে অভ্যর্থনা জানান। হাসিনের এই রাজনীতিতে যোগ দেওয়া অবাক করেছে অনেককেই। কারণ এর আগে এমন কোনো আভাসই দেননি তিনি।

‘আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন সংগীত যোদ্ধা’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন সংগীত যোদ্ধা। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন। তার চলে যাওয়া অকাল ও আকস্মিক বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জন্য আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ রাখা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানেই আইয়ুব বাচ্চুর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন,  নতুন প্রজন্ম তার দেখানো পথে চলে নব চেতনায় উজ্জীবিত হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা জানি প্রতিটি কনসার্ট তিনি জাতীয় সংগীত দিয়ে শুরু করতেন। মাদকমুক্ত সমাজ ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে তিনি ছিলেন সংগীত যোদ্ধা।  এছাড়া ব্যান্ড সংগীতকে তিনি এক অনন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন কাদের।

আইয়ুব বাচ্চুকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কিংবদন্তী শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহে ফুল দিয়ে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেন সাংস্কৃতিক জগতের ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণির-পেশার মানুষ। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেই শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। এর আগে সকাল সোয়া ১০টায় তার মরদেহ শহীদ মিনারে আনা হয়।

শ্রদ্ধা জানানো শেষে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ নেওয়া হবে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। সেখানে বাদ জুমা তার প্রথম জানাজা হবে।

পরে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে মগবাজারে তার নিজের স্টুডিও এবি কিচেনে। পরে আইয়ুব বাচ্চুর দ্বিতীয় জানাজা হবে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। দ্বিতীয় জানাজা শেষে এই শিল্পীর মরদেহ ফের হিমঘরে রাখা হবে।

অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে আইয়ুব বাচ্চুর মেয়ে ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব ও ছেলে আহনাফ তাজোয়ার আইয়ুব দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তারা এলে চট্টগ্রামে শনিবার মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন আইয়ুব বাচ্চু।

প্রসঙ্গত, গতকাল বৃহস্পতিবার মাত্র ৫৬ বছর বয়সে আইয়ুব বাচ্চু মারা যান। তার আকস্মিক মৃত্যুতে সাংস্কৃতিক জগতসহ সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।

তিনি ছিলেন একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার, প্লেব্যাক শিল্পী। এলআরবি ব্যান্ড দলের লিড গিটারিস্ট তিনি। তিনি ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আইয়ুব বাচ্চু, শ্রদ্ধা নিবেদন

বাংলা ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়েছে। সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাচ্চুর মরদেহ আনার পরপরই সেখানে উপস্থিত হন পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের তারকারা। গত রাতে মরহুমের লাশ রাখা ছিল স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে।

শ্রদ্ধা জানানোর পর শিল্পীর মরদেহ জাতীয় ঈদগাহ মাঠে বাদ জুমা জানাজার জন্য আনা হবে।

আইয়ুব বাচ্চু বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন তিনি।

হৃদরোগের কারণে আইয়ুব বাচ্চু গত কয়েক বছর বারবারই হাসপাতালে এসেছেন চিকিৎসার জন্য। ২০০৯ সালে তাঁর হার্টে রিং পরানো হয়। দুই সপ্তাহ আগে শেষ তিনি স্কয়ার হাসপাতালে এসেছিলেন।

শিল্পীর ছেলে ও মেয়ে দেশের বাইরে থেকে ঢাকায় ফিরে এলে চট্টগ্রামে মায়ের পাশে দাফন করা হবে আইয়ুব বাচ্চুকে।

জনপ্রিয় ব্যান্ড এলআরবির দলনেতা আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক। ১৯৭৮ সালে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ফিলিংস ব্যান্ডের মাধ্যমে। এরপর ১০ বছর সোলস ব্যান্ডে লিড গিটারিস্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন তিনি। আশির দশকে একাধিক একক অ্যালবাম বেরোলেও নব্বইয়ের দশকে ‘ডাবল অ্যালবাম’ দিয়ে এলআরবির যাত্রা শুরু হয়। তখন ব্যান্ডটির নাম ছিল ‘লিটল রিভার ব্যান্ড’। পরে ব্যান্ডের নাম পাল্টে রাখা হয় ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’।

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। ‘চলো বদলে যাই’, ‘ফেরারি মন’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘হকার’, ‘আমি বারো মাস তোমায় ভালোবাসি’, ‘বাংলাদেশ’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি। সংগীতজগতে তিনি এবি নামে পরিচিত হলেও তাঁর ডাকনাম ছিল রবিন। এ নামেও তিনি নব্বইয়ের দশকে একক অ্যালবাম বের করেন