প্রবাসী কবি মইনুল হক এর "বাউণ্ডুলে" এখন বইমেলাতে

এ বাড়ির নিয়মটাই এমন। সময়মতো দুপুরের খাবার খেতে না এলে কিছু না কিছুর অভাব থাকতো। ভাত থাকে তো তরকারি থাকেনা আবার তার উল্টোটাও হতো । একদিন দুপুরের খাবার দেরি করে খেতে এসে ছেলেটা দ্যাখে খাবার টেবিলে আজ সবাই আছে। এমন কি ভাপ ওঠা গরম ভাত। ছেলেটি আশ্চর্য হলেও খাবারে মন দেয় । সবকিছু খেয়ে চেটেপুটে সাফ করতেই সেজদি এসে বল্লো ;
- তুই কতো ভাত খেতে পারিস তা জানিস ? 
- কতো আর ! যতসামান্য ! 
- তুই আজ আধা কেজি চালের ভাত খেয়েছিস !! 
- তোর যা কথা ! 
- খোদার কসম। আমি নিজ হাতে রান্না করে রেখেছি শুধু দেখার জন্যে যে, তুই কতো খেতে পারিস।

সেই ছেলেটি ১৯৯০ সনের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সিঙ্গাপুর যাবে কিন্তু চলে গেল হংকং। বাড়ির কাউকে না বলে, বন্ধু বান্ধব কাউকেই না জানিয়ে হঠাৎ করেই উধাও হয়ে গেল । তিন মাস পর চিঠি লিখেছিলো মায়ের কাছে। লিখেছিলো ; 
- মা আমাকে তুমি ক্ষমা করে দিও। আমাকে যে কিছু একটা করতেই হবে মা , তাই তো এ পথ বেছে নেওয়া। আমি যে তোমার সুখের জন্য পৃথিবীটাকে তোমার পায়ের কাছে এনে দিত চাই।

সেই বাউণ্ডুলে ছেলেটার যখন সব কিছু করার সামর্থ হলো ঠিক তখনি " মা " আর রইলো না। তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে কিন্তু ছেলেটির মনে কতো যে না বলা কথা সব তাঁর অন্তরের গভীরে রয়েই গেল। কেউ কোনদিন একটিবারের জন্যও জানতে চায়নি তাঁর মনের কথা ...।

উনত্রিশ বছর ধরে মনের গভীরে লুকিয়ে রেখেছিলো সব। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে এই ফেব্রুয়ারির কোন একদিন ফিরে আসবে সে ...

" বাউণ্ডুলে "
মইনুল হক। 
প্রচ্ছদ : মোহাম্মদ মুনির । প্রকাশক : যুক্ত 
বইমেলা : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান । 
যুক্ত : স্টল নং : ৫৯৯-৬০০

মন্তব্য


আরো নতুন খবর...

ABOUT US

এটি একটি অনলাইন খবরের তথ্য ভান্ডার। যা কুষ্টিয়াকে সমৃদ্ধ করতে তথ্য নির্দেশ করে।

This is a online news portal.
Which contain directory of enriched kushtia.