কুষ্টিয়ার খবর

কুষ্টিয়ার খবর আমার কুষ্টিয়া হতে প্রকাশিত

কুষ্টিয়ায় শিশু আকিফা হত্যা মামলায় বাসচালক খোকন দুই দিনের রিমান্ডে

কুষ্টিয়ায় শিশু আকিফা হত্যা মামলায় গঞ্জেরাজ পরিবহনের সেই বাসের চালক মহিদ মিয়া ওরফে খোকনকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। আজ বুধবার দুপুর পৌনে ১২টায় কুষ্টিয়া জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম এম এম মোর্শেদ শুনানি শেষে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ফরিদপুর সদর উপজেলার বঙ্গেশ্বরদী এলাকা থেকে মহিদকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের সদস্যরা। পরদিন দুপুরে তাঁকে কুষ্টিয়া মডেল থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

কুষ্টিয়া আদালতের সদর জিআরও শাখা সূত্রে জানা যায়, গত রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কুষ্টিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক সুমন কাদেরী মহিদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আজ সকালে এ বিষয়ে শুনানি হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

গত ২৮ আগস্ট কুষ্টিয়ার চৌড়হাস মোড় এলাকায় ফয়সাল গঞ্জেরাজ নামের একটি বাস ওই শিশুসহ তার মাকে ধাক্কা দেয়। এতে সড়কে ছিটকে পড়ে আকিফা গুরুতর আহত হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা হয়। মামলায় বাসের মালিক, চালকসহ তিনজনকে আসামি করা হয়ে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকুষ্টিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন কাদেরী।

এ ঘটনায় গত ৯ সেপ্টেম্বর গঞ্জেরাজ পরিবহনের মালিক মো. জয়নাল আবেদীনকে (৬৩) গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে র‌্যাব। ১০ সেপ্টেম্বর তাঁকে আদালতে পাঠায় পুলিশ। একই সময় গঞ্জেরাজ বাসের চালক মহিদ মিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তাঁদের দুজনের আইনজীবী আদালতের মাধ্যমে তাঁদের জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

পরদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুমন কাদেরী মামলাটি ৩০২ ধারায় সংযোজন করার জন্য একই আদালতে আবেদন করেন। আবেদনটি আদালত মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আদালতের উপপরিদর্শক আজহার আলী বাসের মালিক ও চালকের জামিন আদেশ বাতিলের আবেদন করলে আদালত তাঁদের জামিন আদেশ বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব মহিদকে গ্রেপ্তার করে।

কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ অটো মেজর এন্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাংগঠনিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ অটো মেজর এন্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাংগঠনিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে জেলা কার্যালয়ে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অটো মেজর এন্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ অটো মেজর এন্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন প্রধান, কোষাধ্যক্ষ আলহাজ্ব লিয়াকত আলী, সাবেক সভাপতি আব্দুল মজিদ বাবলু, সদস্য মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্, সামছুল আরেফিন প্রমুখ।

সভায় বক্তারা, ঐক্যবদ্ধভাবে সকলকে সাথে নিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহবান জানান। এ সময় জেলা ও সকল উপজেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরে আনোয়ার হোসেনকে আহবায়ক করে সদর উপজেলার বাংলাদেশ অটো মেজর এন্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু

কুষ্টিয়ায় খেলতে খেলতে পুকুরের পানিতে ডুবে হুরাইয়া ইসলাম নামের দেড় বছরের একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়ার উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি কলেজপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত হুরাইয়া মহিষকুন্ডি কলেজপাড়া এলাকার রাইদুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শিশু হুরাইয়া খেলতে গিয়ে বাড়ির পার্শ্ববর্তী পুকুরে পড়ে ডুবে যায়। পরে তার মরদেহ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী বাড়ির লোকজনকে খবর দিলে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ক্রিকেটার হাবিবুল বাশার, বিজয়ের পর এবার আলোচনায় কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান মিথুন

ক্রিকেট ইতিহাসে হাবিবুল বাশার সুমন, এনামুল হক বিজয় পর এবার দেশব্যাপী আলোচনায় এসেছে কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান মোহাম্মদ মিথুন। ক্রিকেটার এই তিন কৃতি সন্তানের বাড়িই কুষ্টিয়ার ছোট্ট শহরে। শহরের পিয়ারাতলাই হাবিবুল বাশার সুমন ও আড়ুয়া পাড়ায় এনামুল হক বিজয় এর বাসা হলেও বর্তমানে এনামুল ও মিথুন শহরের থানা পাড়াই এক মহল্লাতেই থাকেন । এই তিন ক্রিকেটারই আজ কুষ্টিয়াবাসীর গর্ব । তবে পূর্বে ক্রিকেটার হিসেবে মিথুনের তেমন একটা অলোচনা না হলেও এবার এশিয়া কাপের শুরুতে এই ক্রিকেটার মিথুনকে নিয়ে বাংলাদেশ দলের প্রথম সারির ব্যাটসম্যানদের সাথে মিলিয়ে ক্রিকেটে নতুন সম্ভাবনা দিক তুলে ধরে তাকে নিয়ে অনেকেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।

মিথুন কুষ্টিয়া শহরের থানা পাড়ার সুনামধন্য কাঠব্যবসায়ী শওকত আলীর ছেলে। মা জাহানারা বেগম একজন গৃহিণী। দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে মিথুনই ছোট। ক্রিকেটের প্রতি উৎসাহ যোগাতে ফুটবলার বড় ভাই মিলন ও পরিবারের সদস্যরা ১৩ বছর বয়সে মিথুনকে বিকেএসপি'তে ভর্তি করে দেন। সেখান থেকে বেরিয়ে প্রথমে গাজী ট্যাংক দলের হয়ে খেলার পর কিছুটা আলোচনায় আসে মিথুন। পরে ঢাকা আবহানীতে খেলার সুযোগ পায়ে যান। সেখানে দুবছর খেলার পর জাতীয় দলে ডাক পেয়ে যান এই ক্রিকেটার মিথুন। ২৮ বছর বয়সী মিথুনের স্ত্রী নিগাড় ও এক মাত্র ছেলে দুই বছরের আরোশ।

ছোট বেলা থেকে ক্রিকেট পাগল মিথুনকে বরাবরই উৎসাহ যুগিয়েছে তার বড় ভাই একজন ক্রীড়াবিদ মিলন। যাকে কুষ্টিয়ার অনেকেই ফুটবলার মিলন হিসেবেই চেনেন।

জানাগেছে, কুষ্টিয়ার এই কৃতি খেলোয়াড় মিথুন গত কয়েক বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেট আসরে খেলেছেন । কিন্তু সম্প্রতি জাতীয় দলে যে ফরম্যাটেই সুযোগ পেয়ে সেখানে কিছুটা ব্যর্থ থাকায় পিছিয়ে পড়তে হয়েছে তাকে । যে কারনে দলের বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হয় মিথুনকে। জায়গা হয় 'এ' দলে। একটা অভিযোগও উঠে তাকে কখনোই একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলার সুযোগ দেয়া হয়নি বলে।
গত আগস্টে আয়ারল্যান্ড সফরে ভাল পারফর্ম করে এশিয়া কাপে জায়গা করে নেন মিথুন। সাব্বির, সৌম্যরা বাদ পড়ার পর মিথুন, শান্তর দলে জায়গা পাওয়াতে খুব একটা সমালোচনা না হলেও কিছুটা কানাঘুঁষা ছিল। আর এশিয়া কাপের মঞ্চটা মিথুনের কাছে বিশেষ এই কারণে যে, এখানে ভালো করতে না পারলে সহসা সুযোগ মিলবে না জাতীয় দলে। একথা মিথুন ও খুব ভালো করেই জানতেন।

এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ দল মাঠে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে হতাশ ক্রিকেট প্রেমী কোটি কোটি দর্শকদের হতশার জায়গা থেকে টেনে তুলে শেষ মেষ জয় এনে দেয়ার নায়কদের এক জন কুষ্টিয়ান মোহাম্মদ মিথুন।

খেলার শুরুতেই যখন প্রথম ওভারেই নেই লিটন, সাকিব। দলের রান তখন মাত্র ৩। ঠিক সে সময় কব্জিতে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন দলের সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। এমন পরিস্থিতিতে বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানদেরও চোয়াল বেয়ে ঘাম ঝরতে থাকে । কিন্তু এদিন মোটেও আড়ষ্ট ছিল না মিথুনের ব্যাট। ভাগ্যদেবীও এদিন করুণার আঁচল ফেলেছিল জাতীয় দলে নড়বড়ে মিথুনের মাথায়। মাত্র ১ রানে লাসিথ মালিঙ্গার বলে শর্ট মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান। এর পর মুশফিকুর রহমানের সাথে জুটিতে হাফ সেঞ্চুরিসহ নিজের খাতায় ৬৩ রান যোগ করে দলকে একটি লক্ষে পৌছে দেন মিথুন।

যদিও চাপ টা ছিল মিথুনের জন্য পাহাড়সম। অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারের জন্য তো সমুদ্র পাড়ি দেয়ার মতো। সেখান থেকেই তিনি চাপকে কাটিয়ে দলকে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের মত টেনে তোলেন। তবে নিজেকে সামলে নিতে খুব বেশি সময় নেননি মিথুন । মুশফিকের সঙ্গে গড়ে তোলেন ১৩১ রানের পার্টনারশিপ। নিজে খেলেন ৬৮ বলে ৬৩ রানের লড়াকু ইনিংস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১৩৭ রানের বিশাল জয়ের পর ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলা মুশফিক এবং তামিমের বিরত্বগাঁথায় অনেকেটা ঢাকা পড়ে গেছে মিথুনের অবদান! মুশি-তামিম, দুই প্রদীপের নিচে অন্ধকারে কিছুটা মিশে গেছেন মিথুন। তবে ক্রিকেট প্রেমীদের আলোচনা থেকে একেবারে বাদ পরেননি মিথুন।

বাংলাদেশ টিম এখন পুরোপুরি নির্ভরশীল 'পঞ্চ পাণ্ডবের' ওপর। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও ইনজুরি নিয়েই পাণ্ডবরাই লড়েছেন। যেখানে সৌম্য, লিটন, এনামুল, সাব্বির, মোসাদ্দেকরা একের পর এক সিরিজে ব্যর্থ হচ্ছেন সেখানে নতুনদের নিয়ে নতুন করে আশা দেখাতে পারে মিথুনের এই লড়াই। মিথুন যেন আরো ভালো খেলা উপহার দিয়ে দেশের সুনাম বয়ে আনতে পারে সে জন্য কুষ্টিয়াবাসীসহ সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছে মিথুনের পিতা শওকত আলী জাহানারাবেগম ও বড় ভাই মিলন আলী।

শেখ রাসেল হরিপুর কুষ্টিয়া সংযোগ সেতু ও হরিপুর রক্ষা বাঁধের দাবীতে মানব বন্ধন

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের গড়াই নদীর উপর নির্মিত কুষ্টিয়া- হরিপুর শেখ রাসেল সেতু রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছে সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ ও নদী ভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির। মানববন্ধন শেষে সোমবার বেলা ১১ টার দিকে সেতুর নিচে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নদী ভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব হাসান আলী।

সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ ও নদী ভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে নদী পাড়ে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়। এ সময় হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শম্পা মাহমুদ, জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি সাহাবুব আলী,ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অসিত সিংহ রায়, সাংস্কৃতিক কর্মী এ্যাড. লালিম হক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মিলন মন্ডল উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচী থেকে অবিলম্বে সেতু রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কুষ্টিয়া থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগকে উচ্ছেদের ঘোষণা দেন নদী ভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ। নদী ভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির দাবি অসম্পূর্ণ ডিজাইনে নির্মিত হওয়ায় নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যে গড়াই নদীর বাম তীর ভেঙ্গে সেতুর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় হরিপুর ইউনিয়নের ২নং হাটশ হরিপুর ওয়ার্ডের প্রায় দেড় হাজার পরিবারের বসতভিটাসহ গোটা জনপদের মসজিদ, মাদ্রাসা, সরকারী বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও রাস্তা-ঘাট নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সৃষ্ট ভাঙ্গনে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সেতুর হরিপুর অংশের পশ্চিম পার্শ্বে প্রায় ২শ মিটার নদীর তীর সংরক্ষণ বাধ ভেঙ্গে শেখ রাসেল সেতুর প্রটেকশন বাধে ঢুকে পড়ে। এতে এক রাতেই সেতু সংরক্ষণে নির্মিত সিসি ওয়ার্ক বাধের প্রায় ৩০মিটার নদীতে গর্ভে তলিয়ে যায়। এদিকে ভাঙ্গন রোধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে ঠেলাঠেলি শুরু করে সরকারি দুই প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ বলছেন, সেতুটি ঝুকিতে পড়লেও আমাদের আর কিছু করার নেই। নদী ভাঙ্গনের বিষয়টি এখন দেখার দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের। আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান ব্রীজের প্রটেকটিভ এরিয়ায় ভাঙ্গন হলে সেটা দেখবেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। শুধু সেতুর সংরক্ষণ বাধ নয়,ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে গড়াই নদীর বাম তীর সংরক্ষণ বাঁধেও।

কুষ্টিয়ার ভাদালিয়া বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদ মার্কেটের দখলকৃত দোকান ফিরে পেলো মসজিদ কমিটি

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া বাজার মসজিদ মার্কেটের বেদখল হওয়া দোকান ঘর দীর্ঘ ৮ বছর পর ফিরে পেলো মসজিদ কমিটি। আদালতের রায়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে মসজিদ কমিটিকে বেদখল হওয়া দোকান বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দোকানটি দীর্ঘ দিন স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর হোসেন (৬৫) ভাড়া নিয়ে একপর্যায়ে দোকান ঘরটি নিজের বলে দাবি করে আসছিলেন। ভাড়াটিয়ার এমন দাবির পেক্ষিতে তৎকালীন মসজিদ কমিটির সভাপতি জমির হোসেন খাঁ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ সময়ে সাক্ষ্য প্রমান শেষে মসজিদ কমিটির পক্ষে রায় দেন বিজ্ঞ আদালত।

মসজিদ কমিটি ও বাজার কমিটির উপস্থিতিতে দোকান ঘরটি মঙ্গলবার সকালে মসজিদ কমিটিকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় । এসময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া মেটালের চেয়ারম্যান হাজ্বী আব্দুর রশিদ, বাজার কমিটির সভাপতি ডাঃ মুক্তার হোসেন, ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন, মোস্তফা কামাল, দৌলত খাঁন, জমির হোসেন খাঁ, রহিম হোসেন খাঁ, মেম্বর আলাল উদ্দিন বিশ্বাস। এছাড়াও মসজিদ কমিটির বিভিন্ন সদসবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নানা অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছে জগতি সামাজিক বনায়ন নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে!

কুষ্টিয়ার জগতি সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নানা অনিয়মই নিয়মে পরিণত করেছে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম ফরেস্টার এবং বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আসলাম মজুমদার। সেখানে একের পর এক পুকুর চুরির ঘটনা ঘটলেও দেখার কেউ নেই!

অভিযোগ পাওয়া গেছে, দুইমাস আগে নার্সারিতে ৪০ বছরের পুরনো একটি আকাশমনি গাছ কর্তন করে সেটি লোপাট করা হয়েছে। আর সেই আকাশনি গাছের গুড়িটি পড়ে আছে মালি ইউনুসের ঘরের পেছনে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় জগতি সামাজিক বনায়ন নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মালি ইউনুস আলীর ঘরের পেছনে কৌশলে আকাশমনি গাছের গুড়ি পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গুড়িটি রেখে মালি ইউনূসকে হুমকি দিয়ে বলেছে, যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে তাহলে সে যেন বলে, গুড়িটি ঢাকা রোড থেকে নিয়ে এসেছে।

কিন্তু মালি ইউনূসের স্ত্রী বলেন, ২ মাস আগে নার্সারি বেড এর পাশ থেকে আকাশমনি গাছ কর্তন করা হয়। সেই গাছের গুড়ি এটি। শুধু তাই নয় নার্সারি বেড এর অধিকাংশ চারাই ৫/৩ ইঞ্চি পলিথিন ব্যবহার করা হয়েছে যা সরকারি আইন বহির্ভূত।

আসলাম মজুমদার পলিথিন এর ব্যাপারে বলেন, নার্সারিতে এই ধরনের পলিথিন রাখা যায়। একটি সূত্রের দাবি নার্সারীর চারা বিক্রি করে সেই টাকা আত্মসাৎ করে বাইরে থেকে চারা নিয়ে এসে বর্তমানে নার্সারিতে রাখা হয়েছে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আসলাম মজুমদারকে গাছ বহনকারী গাড়ি চলাচল পাস বাবদ ২০০০ টাকা গ্রহণ করা হয় কিন্তু তার কোন রাজস্ব খাতে জমা দেওয়ার তথ্য না থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই টাকা গ্রহণের কোন প্রমাণ নেই। তাদের অনিয়ম আমাদের কাছে ধরা পড়লে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আমলাম মজুমদার এবং ফরেস্টার রবিউল ইসলাম আমাদেরকে বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে থাকে এবং বিষয়গুলি এড়িয়ে যান।

ফরেষ্টার রবিউল ইসলাম বাইরে থেকে চারা নিয়ে আসার ব্যাপারে বলেন, আবু সাইদ ফরেষ্টার ও মুর্তজা স্যার থাকা অবস্থায় চারা ঘাটতি ছিল। যখন আমি আবু সাইদের কাছ থেকে চার্জ নিই ঐ সময় আমি প্রতিটা চারা গুনি। গুনে দেখার পরে চারা কম পাই। তখন আমি আবু সাইদ এর কাছ থেকে কিছু আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে ব্যাক্তিগত ভাবে তা পূরণ করি। এছাড়া আবু সাইদ এলপিআরে যাবে সেইজন্য তাকে রক্ষা করার জন্য টাকা নিয়ে এই ঘাটতি পূরণ করা হয়।

এর কোন আইনগত বৈধতা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন এটা আনঅফিসিয়াল। আকাশমনি গাছের কথা তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এধরনের কোন গাছ ছিল কিনা তা আমার জাানা নেই। এছাড়াও তিনি বলেন, পারলে আমাকে বদলী করার ব্যবস্থা করুন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসের এক কর্মচারী জানান, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এবং ফরেষ্টার এর যোগসাজশে এই অনিয়ম গুলো দিনের পর দিন চলে আসলেও দেখার কেউ নেই।

 

শিলাইদহে পদ্মার ধসে যাওয়া বাঁধ পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক

কু্ষ্টিয়া কুমারখালী শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রক্ষা বাঁধ কালোয়া নামক স্থান পরিদর্শন করলেন কুষ্টিয়ার নবাগত জেলা প্রশাসক মো: অাসলাম হোসেন।

মঙ্গলবার দুপুরে তিনি পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এবং কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহীনুজ্জামান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকতা ও কয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম স্বপন সহ প্রশাসনের কর্মকর্তা বৃন্দ।

ফলোআপ: ৬ বছরের শিশু সাবিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় !

সারিকা (১০) এবং সাবিয়া (৬)। এ দুই মেয়েকে নিয়ে ভাষা আলীর সংসার। বড় মেয়ে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী এবং ছোট মেয়ে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। ভাষা মাঠে দিনমজুরের কাজ করেন। অভাবের সংসার, তাই পারিবারিক একটু সচ্ছলতা আনতে তার স্ত্রী কাজলী খাতুন ওমানে থাকেন।

শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) অনান্য শিশুদের সঙ্গে বাড়ির আঙ্গিনায় খেলা করছিল সাবিয়া। সন্ধ্যা নেমে আসায় অন্য শিশুরা খেলা শেষে বাড়ি ফিরলেও, বাড়িতে ফেরেনি সাবিয়া।

পরদিন শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে লাশ হয়ে ফেরে শিশুটি। সারারাত বাড়ির লোকজন খোঁজাখুঁজি করে কোনো সন্ধান পায়নি তার। সকালে বাড়ি থেকে একটু দূরে মিটন শ্বশানের পাশে খাসিমারা মাঠের একটি ধান ক্ষেতের সেচ নালা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রোববার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) এসএম তানভীর আরাফাত।

তিনি জানান, শিশু সাবিয়াকে খুবই নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে আলামত পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত রয়েছে তাদের খুব শিগগির খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এ ধরনের কর্মকাণ্ড যারা করেছে তারা যেই হোক না কেনো, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান পুলিশের এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সন্ধ্যার পরে মিটন শ্বশানের পাশে আম বাগানে চলে মাদকের রমরমা ব্যবসা। মাদকসেবী আর মাদক বিক্রেতাদের আনা-গোনা থাকে ওই এলাকায়। সেজন্য সাধারণ মানুষ ওখানে যায় না। এ ধরনের ঘটনা যাতে আর কোনোদিন না ঘটে সেজন্য হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তির দাবি করেন এলাকাবাসী।

নিহত সাবিয়ার বাবা ভাষা আলী বলেন, ‘আমার মেয়েকে যারা এমন নির্দয়ভাবে হত্যা করেছে আমি তাদের কঠোর শাস্তি চাই। আমার বাচ্চা মেয়ে, সে কিছুই বোঝে না। তাকে হত্যা করেছে যারা তাদের দ্রুত বিচার দাবি করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সারিকা-সাবিয়ার মা বিদেশ থাকে। আমি এ দু’টি মেয়েকে সব সময় চোখে চোখে রাখি। বিকেলে যখন বাড়ি থেকে বাজারে যাই তখনও সাবিয়া আমার সঙ্গে কথা বলেছিল। সে খেলা করছিল অন্য শিশুদের সঙ্গে। তারপরে আর কথা হয়নি।’

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। স্থানীয় রবিউল নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে খুব শিগগির দোষীদের খুঁজে বের করা যাবে।

কুষ্টিয়ায় এক ব্যক্তির দুইবার মৃত্যু !

নিরাপদ দাস নামের এক ব্যক্তির দুই বার মৃত্যুর সার্টিফিকেট নিয়ে বিপাকে ওয়ারিশরা। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আব্দালপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রদান করা নিরাপদ দাশের দুটি মৃত্যুর সার্টিফিকেট দেয়া হয়েছে দুইটিতেই মৃত্যুর তারিখ সাল ও বয়স দুরকম। একটি রয়েছে ০৪/০৫/২০৮১ ইং সালে ৬২ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয় এবং অপর সার্টিফিকেটে ৩০/০৩/১৯৮৭ ইং তারিখে ৫২ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয় বলে উল্লেখ রয়েছে । সার্টিফিকেট দুটিতে তারিখ সাল ও বয়স ভিন্ন থাকায় মৃত্যু সার্টিফিকেট নিয়ে বিভ্রান্তিতে পরেছে মৃত নিরাপদ দাসের ওয়ারিশরা।

জানাযায়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ১১ নং আব্দালপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত ৫ নং ওয়ার্ডের দেরিপাড়ার বাসিন্দা মৃত কুঞ্জুলাল দাসের ছেলে নিরাপদ দাসের মৃত্যুর পর সদর উপজেলার জুগিয়া বারখাদার বর্তমান বাসিন্দা তার ওয়ারিশগণ নিরাপদ দাসের মৃত্যুর সার্টিফিকেট নিতে আব্দালপুর ইউনিয়ন পরিষদে যায়। সেখান থেকে দুইজন ওয়ারিশের কাছে নিরাপদ দাশের মৃত্যুর সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। কিন্তু দুটি সার্টিফিকেটে তারিখ,সাল ও বয়স ভিন্ন থাকায় ওই মৃত্যুর সার্টিফিকেট নিয়ে চরম বিভ্রান্তিতে পড়েছে ওয়ারিশগণ।

দুই মাস অচল কুষ্টিয়ার মিরপুর বাজারের বিশুদ্ধ পানি প্রবাহ

 বৃটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) অর্থায়নে কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌর বাজারের ঈগল চত্বরের পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় জনসাধারনের জন্য নির্মাণ করেন বিশুদ্ধ পানির নিরাপদ প্রবাহ প্রকল্প।

বিশুদ্ধ পানির নিরাপদ সংস্থান প্রবাহটি নির্মানের পর ২০১৫ সালের ১৫ মার্চ মিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন প্রধান অতিথি হিসাবে প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনের পর প্রবাহটি পরিণত হয় অত্র এলাকার মানুষের কাছে বিশুদ্ধ পানির নিরাপদ সংস্থান আশির্বাদ হিসাবে। পৌর এলাকার মানুষ ছাড়াও অনেকেই ওই প্রবাহ থেকে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করে ব্যবহার করতে থাকে। অনেকেই ওই প্রবাহের বিশুদ্ধ পানি পান করে পেটের অনেক ধরনের পীড়া থেকে নিরাময় পেয়েছেন বলেও কথিত আছে।

প্রবাহটি নির্মাণের পর নিয়মিত পরিচর্যা না করায় দিনে দিনেই প্রবাহের পানি সাপ্লাই ক্ষমতা হ্রাস পেতে পেতে এখন পানি সরবরাহ একেবারে তলাতিতে এসে ঠেকেছে। যে কারনে অনেকেই এখন ওই প্রবাহটি থেকে পানি নিতে এসে সাপ্লাই ক্ষমতা কমে যাবার কারনে পানি না নিয়েই ফিরে যাচ্ছে। ফলে আশির্বাদের পানি প্রবাহটি এখন পরিণত হয়েছে রীতিমত জনভোগান্তিতে।

কালুখালীতে ২ দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিতসা ক্যাম্পের উদ্বোধন

গতকাল শনিবার রাজবাড়ীর কালুখালীতে ২ দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্বোধন  করা হয়েছে। লায়ন এ্যাডঃ আব্দুর রাজ্জাক খানের সার্বিক সহযোগীতায় কিং জুট মিল লিঃ এর খেলার মাঠে  সকাল ৯ টায় আনুষ্ঠানিক ভাবে এ রোগী দেখা শুরু করা হয়। এসময় বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগী দেখেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন লায়ন ডাঃ সৈয়দ হামেদুল হক অন্যান্যের মধ্যে চক্ষু চিকিৎসক লায়ন ডাঃ শহিদুল আযম রাসেল, লায়ন ডাঃ পিযুস কান্তি দাস, লায়ন ডাঃ অনুতম বণিক। যে সমস্ত রোগের চিকিৎসা দেওয়া হবে তার মধ্যে বিনামূল্যে ডায়বেটিস নির্ণয়, সাধারণ রোগের চিকিৎসাপত্র, চোখের ছানি রোগী বাছাই কার্যক্রম এবং বাছাইকৃত ছানি রোগীদেরকে বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসক দ্বারা ল্যান্স সংযোজনের মাধ্যমে বিনামূল্যে অপারেশন করা হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন লায়ন্স এর প্রাক্তন জেলা গর্ভনর মোঃ আক্তারুজ্জামান এছাড়াও স্থানীয় মোঃ সাহাদত হোসেন সাইফুল, জিয়াউর রহমান জিরু, বাবুল হোসেন ও আলম সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এসময় সংক্ষিপ্ত এক আলোচনায় লায়ন এ্যাডঃ আব্দুর রাজ্জাক খান বলেন রাজবাড়ী-২ আসনের সাধারণ মানুষ সুখে শান্তিতে বসবাস করুক এবং জীবন জীবিকার জন্য সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ তাদের আত্মনিয়োগ করার জন্য ভালো কর্মস্থল পাক কামনা করে আরও বলেন মানুষ সেবার মাঝে নিজেকে আত্মনিয়োগ করতে চাই এবং মানব সেবাই পরম ধর্ম। জীবনে যতদিন বেঁচে থাকি ততদিন ভালো কাজের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখতে চাই। সর্বপরি তিনি জনসেবার মাধ্যমে মানুষের ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে থাকতে চান।

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণে সকলকে সচেতন হতে হবে; ডিসি আসলাম হোসেন

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভাপতি মো: আসলাম হোসেন বলেছেন, দূর্ঘটনার জন্য অন্যকে দোষারোপ করে লাভ নেই। সড়ক নিরাপদ রাখার জন্য চালক-যাত্রী আমাদের সকলের ভূমিকা রয়েছে। সড়ক পারাপার ও ট্রাফিক আইন মেনে চলে সবাই একতাবদ্ধভাবে কাজ করলে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব। তাই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করণে সকলকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। গাড়ী চালানোর সময় যেমন সবার আগে একজন চালককেই সচেতন এবং সতর্ক হতে হবে তেমনি পথচারী যাত্রী সাধারণকেও নিয়মকানুণ মেনে চলতে হবে।

গতকাল শনিবার কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং বিআরটিএ কুষ্টিয়া সার্কেলের আয়োজনে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাল্টিমিডিয়া মিলনায়তনে রভার স্কাউট, ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদেরকে নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি পরিবহন মালিকদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, চালকদের মানুসিক অবস্থা ঠিক আছে কিনা জেনেই তার হাতে গাড়ী তুলে দিবেন। একটানা ৮ ঘন্টার পর আর ওই চালককে দিয়ে গাড়ী চালাবেন না। অননুমোদিত ও ক্রটিপূর্ন যানবাহন, লাইসেন্সবিহিন ও অনভিজ্ঞ চালককে দিয়ে গাড়ী চালানো থেকে বিরত থাকুন। সাবধানে গাড়ি চালান, জীবন ও সম্পদ বাঁচান। মনে রাখবেন আপনার সতর্কতায় কমে যাবে দূর্ঘটনা বেঁচে যাবে অনেক জীবন। সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। কারন এর সাথে জড়িয়ে আছে পরিবারের অনেক স্বপ্ন। তিনি অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দ্যেশে বলেন, নিজ সন্তান ও ছাত্র-ছাত্রী ট্রাফিক আইন, ট্রাফিক সাইন ও রোড সাইন সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান ও ধারনা প্রদান করুন। ড্রাইভিং সীটে বসে জীবনের ঝুঁকি নিবেন না। চালকের সামান্য ভূলের জন্য বড় ধরনের মারাত্বক দূর্ঘটনা ঘটে অনেকগুলো জীবনহানী হতে পারে। আর এই দূর্ঘটনায় নিমিষেই সব শেষ। একটি পরিবারের স্বপ্ন ঘেরা সংসারে নেমে আসে অমানিশার অন্ধকার। অসহায় হয়ে পড়ে পরিবারের উপার্জনকারী ব্যক্তিটিকে হারিয়ে। এটি যে শুধু যাত্রীদের পরিবারের ক্ষেত্রে ঘটে তা কিন্তু নয়। ওই দূঘটনায় গাড়ী চালকও নিহত হন। এক্ষেত্রে আপনাদের পরিবারটিও এতিম হয়ে যেতে পারে। দূর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাই সচেতন হতে হবে। অনভিজ্ঞ ড্রাইভার যেমন দূর্ঘটনার জন্য দায়ী, তেমনিভাবে দায়ী পথচারী এবং যাত্রীগণের অসচেতনতা। কোন অনির্ধারিত জায়গায় গাড়ী ওঠার জন্য অপেক্ষা না করে আমরা নির্ধারিত ষ্টপেজে গাড়ীতে ওঠা-নামা করবো। ট্রাফিক আইন মেনে চলবো। সকলে মিলেই আমাদেরকে আনতে হবে পরিবর্তন। আসুন আগে আমরা নিজেকে বদলাই এবং অন্যকে বদলাতে সহায়তা করি। তাহলেই আমরা সড়ককে পরিপূর্ণ নিরাপদ করতে পারবো। সাবধানে গাড়ী চালান, জীবন ও সম্পদ বাঁচান এই শ্লোগান নিয়ে আলোচনা সভায়  কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এফতে খাইরুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হাসান হাবিব, কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ মীর মোশাররফ হোসেন, কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের উপাধ্যক্ষ ড.আবুল কালাম আজাদ, কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের উপাধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন। পরিবহন মালিকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নরেন্দ কুমার সাহা, অভিভাবকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা এবং স্বাগত বক্তব্য ও দিনব্যাপী কর্মশালার বিস্তারিত তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন বিআরটিএ কুষ্টিয়া সার্কেলের সহকারী পরিচালক আব্দুল হান্নান। শুভেচ্ছা বক্তব্য ও যন্ত্রাংশ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন বিআরটিএ কুষ্টিয়া সার্কেলের ইনসপেক্টর ওমর ফারুক।

চলতি মাসেই খুলছে কুষ্টিয়ার স্বপ্নের বাইপাস সড়ক

২০ লাখ মানুষের স্বপ্নের বাইপাস সড়ক দিয়ে এ মাস থেকে গাড়ি চলবে জেনে আনন্দিত জেলাবাসী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ বাইপাস সড়ক উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

১৬ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সড়কটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে বলে বিষয়টি জানিয়েছেন কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম। বাইপাসটি খুলে দেয়া হলে এ অঞ্চলের সড়ক ব্যবস্থায় নবদিগন্তের সূচনা হবে।

দেশের উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হবে কুষ্টিয়া শহর বাইপাস সড়ক। কুষ্টিয়া শহরকে নিরাপদ রাখতেই ব্যস্ততম সড়কের বিকল্প বাইপাস সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

শনিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ককের কাজ প্রায় শেষ। সড়ককের দুইপ্রান্ত বটতৈল মোড় ও ত্রিমোহনীতে গোলচক্করের কিছু কাজ চলছে। চলমান কাজ দুই-একদিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে বলে জানান কর্মরত শ্রমিকরা।

কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৮ জানুয়ারি ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ কিলোমিটার কুষ্টিয়া শহর বাইপাস সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হয়। সড়কটি নির্মাণে কার্যাদেশ পান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মনিকো লিমিটেড। ২০০৫ সাল থেকে বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় তা আটকে যায়। পরে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ফের শুরু হয় অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া। নানা অনিশ্চিয়তার পর শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালে আলোর মুখ দেখতে পায় প্রকল্পটি। এরপর দ্রুতগতিতে বাইপাস সড়ক নির্মাণকাজ এগিয়ে যায়। সব জল্পনা-কল্পনা শেষে চলতি মাসেই কুষ্টিয়া শহর বাইপাস সড়ককে গাড়ি চলতে যাচ্ছে। প্রকল্পের ৭ দশমিক ৩ মিটার প্রশস্তের ডাবল লেনবিশিষ্ট মূল সড়কের ৪ কিলোমিটার প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বাইপাস সড়ক, একটি পিসি গার্ডার সেতু ও ২১টি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।

এদিকে, সড়কটি চালু হলে জেলার আর্থ-সামাজিক চিত্র বদলে যাবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা কুষ্টিয়া। উর্বর কৃষিজমি এ জেলার অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলেও গত তিন দশকে এখানে গড়ে উঠেছে নানামুখি শিল্প। তবে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক দিয়ে জেলাটি দীর্ঘদিন পিছিয়ে ছিল। বিশেষ করে শহরের ওপর দিয়ে যাওয়া মহাসড়কটি নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। কারণ সড়কটিতে যানজট ও দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ছিল নিত্য ঘটনা। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরেই জেলাবাসীর দাবি ছিল, একটি শহর বাইপাস সড়ক নির্মাণের। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বাস্তবায়িত হয়েছে শহর বাইপাস সড়ক।

কুষ্টিয়া সড়ক জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে সকল কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বটতৈল মোড় ও ত্রিমোহনীতে গোলচক্করের কিছু কাজ চলমান রয়েছে। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সব কাজ শেষ হয়ে যাবে। ১৬ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যেকোনো দিন সড়কটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ বাইপাস সড়কের উদ্বোধন করবেন।

অনুশীলন সাহিত্য পরিষদের পুর্নাঙ্গ কুষ্টিয়া জেলা কমিটি গঠন

 কুষ্টিয়া ফুডপার্কের কনফারেন্স রুমে অনুশীলন সাহিত্য পরিষদ কুষ্টিয়া জেলার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমার সুমনের সভাপতিত্বে এবং অনুশীলন সাহিত্য পরিষদ কুষ্টিয়া জেলার সাধারণ সম্পাদক শ্যামলী ইসলামের উদ্যেগে এক স্বরচিত কবিতা পাঠ,গান,সাহিত্য সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত সাহিত্য সভায় প্রধান অতিথী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অনুশীলন সাহিত্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিক ও অনলাইন এ্যক্টিভিটিস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সেবামূলক সংগঠন “ভালোবাসার কুষ্টিয়া' চেয়ারম্যান হাসান টুটুল।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া ফটোজার্নালিস্ট সোসাইটির সভাপতি খলিলুর রহমান মজু , এ্যাড: সিরাজ প্রমানিক ,কবি এফ এম মজনু।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকালে স্বরচিত কবিতা পাঠ ,গান পরিবেশন এবং সাহিত্য বিষয়ে আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে ৩৫ জন সদস্য এবং ৩ জন উপদেষ্টা নিয়ে অনুশীলন সাহিত্য পরিষদের পুর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হয়

অনুশীলন সাহিত্য পরিষদের ৩৫ জনের পুর্নাঙ্গ কমিটি হলো:-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান (সুমন ), সিনিয়র সহ-সভাপতি রিতা ফারিয়া রিচি, রফিকুল ইসলাম সবুজ, ডা. শাহানা পারভিন রেখা, হাবিবুর রহমান রনজু।

সাধারন সম্পাদক শ্যামলী ইসলাম,যুগ্ন সাধারন সম্পাদক সাগরী খাতুন, এম ডি আসাদ, নজরুল ইসলাম জীবন, গাজী আনিস, সাব্বির মোর্শেদ।

সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উল্লাহ আহাম্মেদ,সহ সাংগঠনিক সম্পাদক
-জাহাঙ্গীর আলম শিপলু, এছাড়া আইন বিষয়ক সম্পাদক এস এম আকরাম হোসেন,সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক কবি আব্দুল খালেক, সহ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম মুকুল,
অর্থ সম্পাদক তাসমেরী জাহান,
তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক ঈশা খান অপূর্ব, প্রচার সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম অনিক, সহ-প্রচার সম্পাদক মো: তাসকিনুর জিন্নাত সৈকত, দপ্তর সম্পাদক শাফিকুর ইসলাম স্বাধীন সাংস্কৃতিক সম্পাদক হুমায়ন কবির, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাবহান সরদার,
পাঠাগার সম্পাদক মনিরুল ইসলাম,সহ পাঠাগার সম্পাদক রাহাতুল্লাহ, প্রকাশন সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, যোগাযোগ সম্পাদক সোহানুর রহমান সোহান, মহিলা ও শিশু বিষায়ক সম্পাদক রুপা খাতুন, সমাজ সেবা সম্পাদক আতিয়ার রহমান,সহ সমাজসেবা সম্পাদক শেখ আক্তার, ক্রীড়া সম্পাদক ডাবলু মীর,সদস্য মিফতাহুন জান্নাত

কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন উজানগ্রাম ইউনিয়ন

কু্ষ্টিয়া সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা শুক্রবার কু্ষ্টিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গ্রাম বাংলার অনুর্ধ্ব ১৭ ফুটবল খেলোয়ারের প্রতিভা খুজে বের করার জন্য প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার উদ্যোগে সারা দেশ ব্যাপী আন্ত:ইউনিয়ন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুর্ধ্ব-১৭ খেলা গত ৪ সেপ্টেম্বর কু্ষ্টিয়া স্টেডিয়ামে শুভ উদ্ধোধন হয়েছিলো।

খেলাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দিন রাত পরিশ্রম করে, সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক, জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য ও শহর যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক মোহাম্মদ আলী নিশান এর সঞ্চালনায় সুষ্ঠু ভাবে শেষ হয়েছে। ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কু্ষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক অনুপ কুমার নন্দী। কু্ষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান আতা,সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী।

ফাইনাল খেলায় অংশ গ্রহন করেছিলো মনোহরদিয়া ইউনিয়ন ও উজানগ্রাম ইউনিয়ন। নির্ধারিত সময়ে দু দল ১-১ গোলে ম্যাচ ড্র করে। পরে ট্রাইব্রেকারে ৪-২ গোলে জয় পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে উজানগ্রাম।

খেলায় সর্বচ্চ গোলদাতা উজানগ্রামের আব্দুর রহমান ৪ গোল করে, শ্রেষ্ঠ খেলোয়ার মনোহরদিয়ার জুয়েল, ম্যান অব-দ্যা ফাইনাল আবু বক্কর সেরাদের সেরা হয়ে পুরুষ্কার পেয়েছে।

ফাইনাল খেলা দেখতে দুর দুরান্ত থেকে ছুটে এসেছিলো হাজার হাজার ফুটবল প্রেমী দর্শকরা। তারা খেলাটি উপোভোগ করেন। এ সময় গ্যালারীতে দর্শকদের কানায় কানায় পুর্নছিলো। খেলা শেষে অতিথিরা খেলোয়াড়দের মাঝে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ ট্রফিসহ পুরস্কার তুলে দেন।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে স্কুল ছত্রীর আপত্তিকর ছবি ফেইসবুকে দেওয়ার অভিযোগে যুবক আটক

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের ইউসুফপুর গ্রামের সপ্তম শ্রেনির ছাত্রীর সহিত প্রেমের অভিনয় অত:পর ফেসবুকে ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি ফেইসবুকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বখাটে ছোটনের বিরুদ্ধে । এক অভিযোগের ভিত্তিতে পরে ওই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত বখাটে ছোটন (২৭) কে আটক করেছে পুলিশ। আটকৃত ছোটন একই গ্রামের মারজেল আলীর ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে আটকৃত ছোটন অবুঝ বালক নামের এক ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে ওই ছাত্রীর আপত্তিকর ছবিগুলো ফেসবুকে আপলোড করে। বিষয়টি ওই ছাত্রীর পরিবারের লোকজন জানার পরে তারা বাদি হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে।

পুলিশ গত বুধবার সন্ধ্যায় ওই ইউনিয়নের হৃদয়পুর নামক গ্রাম থেকে অভিযুক্ত ছোটনকে গ্রেফতার করে ।

দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ্ দারা খান জানায় এই অভিযোগ পাওয়ার পর প্রধান অভিযুক্ত ছোটন কে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এব্যাপারে দৌলতপুর থানায় দুইজনের নাম উল্লেখ্য করে পৃর্ণগ্রাফিক আইনে মামলা করা হয়, যার মামলা নং ২৩/১

কুষ্টিয়ায় ধান ক্ষেত নালা থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার

কুষ্টিয়ার মিরপুরে ধান ক্ষেতের সেচ নালা থেকে সাবিয়া (৬) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার আমলা ইউনিয়নের মিটন খাসিমারা মাঠ এলাকার একটি ধান ক্ষেতের সেচ নালা থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সাবিয়া মিটন মাঠপাড়া এলাকার ভাসা আলীর মেয়ে।

আমলা পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমান জানান, শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে সাবিয়া নিখোঁজ ছিলো। আজ সকালে ধান ক্ষেতের সেচ নালার মধ্যে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে কি কারনে বা কিভাবে ঐ শিশুর মৃত্যু হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। নিহতের মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।

কুষ্টিয়ায় নবাগত এসপির বরণ ও বিদায়ী এসপির সংবর্ধনা

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার এস এম মেহেদী হাসান এর বদলীজনিত বিদায় ও নবাগত পুলিশ সুপার এস, এম তানভীর আরাফাত এর যোগদান উপলক্ষ্যে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত বৃহস্পতিবার রাতে কুষ্টিয়া সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংবর্ধনা় অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন মহোদয় বিদায়ী পুলিশ সুপার মহোদয়কে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করেন এবং নবাগত পুলিশ সুপার মহোদয়কে ফুলেল অভিনন্দন জানান।

এ সময় জেলা প্রশাসনের অন্যান্য সদস্য, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

 

কুষ্টিয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে এসে হয়রানীর শিকার হচ্ছে পাসপোর্ট প্রত্যাশীরা

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা। কুষ্টিয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের মুল ফটক। কয়েকজন আনসার সদস্য। নারী ও পুরুষ গেট পেরিয়ে অফিসের দিকে যাচ্ছে। বাঁধা হয়ে দাঁড়ালেন আনসার সদস্য।

কোথায় যাচ্ছেন কেন যাচ্ছেন? আনসার সদস্যর এমন কথা বলতেই পুরুষ লোকটি বলে উঠলো মালেয়েশিয়া লাল সীল দিয়েছে পাসপোর্টটি স্যারেন্ডার করতে হবে। ততক্ষনেও বুঝতে পারেননি আনসার সদস্য।

তাকে বুঝি বলা হয় আমার পাসপোর্টটির মেয়াদ রয়েছে তবুও সেই আনসার সদস্য বাইরে দাঁড়ানো দুইজন দালালের কাছে পাঠিয়ে দেন। তিনি বলেন, অফিসে গিয়ে সমস্যা সমাধানের থেকে বাইরে থেকে তাদের মাধ্যমে সমাধান ভালো হবে। অগত্য তারা দুইজন বাইরে বের হয়ে তার পরিচিতজনকে ফোন দিয়ে ডেকে নিলো। এরকম শুধু তারাই নয়, আরও দেখা মিললো কয়েকজনের সাথে।

পাসপোর্ট করতে আসা আরেক তরুনের ফরমের সাথে সংযুক্ত করা কাগজে সত্যায়িত না থাকায় জমা নেওয়া যাবে না। সেখানকার কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় মুল ফটকের বাইরে থেকে দালালের মাধ্যমে সত্যায়িত করা হয় মাত্র দুইশ টাকার বিনিময়ে।

এভাবেই অনিয়ম আর দূনীর্তির রাহুগ্রাসে নিমর্জ্জিত হয়ে পড়েছে কুষ্টিয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। এ অফিসে বৃদ্ধি পেয়েছে দালালের দৌরাত্ম। ঘুষ ছাড়া কোন কাজ হচ্ছে না এ অফিসে। জিম্মি হয়ে পড়েছে পাসপোর্ট গ্রহকরা। দালাল থেকে শুরু করে কর্মচারী ও কর্মকর্তা পর্যন্ত পদে পদে প্রদান করতে হচ্ছে ঘুষ। এতে চরম হয়রানী ও দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে পাসপোর্ট প্রত্যাশীরা।

বিভিন্ন অজুহাতে পদে পদে হয়রানী’র শিকার হচ্ছেন পাসপোর্ট প্রত্যাশিতরা। আর ঘুষ দিলে সকল অবৈধ- বৈধ হয়ে যাচ্ছে এখানে। বাসায় পৌছেঁ যাচ্ছে পাসপোট। সরাসরি ঘুষ নিচ্ছেন, এমন অভিযোগ অনেকের। পাসপের্ট অফিসের দালালরা বলেন, আমরা ফরম পূরণ করে দিয়ে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা নিই। নিরাপত্তার নামে আনসার রাখা হলেও এদের দিয়েও ঘুষ গ্রহন করছেন অফিসের কর্মরতরা। এমন অভিযোগ অসংখ্য গ্রাহকের। কথিত অফিস স্টাফ, আনসার এবং আশেপাশের চায়ের দোকান ও প্রধান ফটকের বাইরে অপেক্ষমান থাকে দালালোরা।

ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার রশীদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ ফরম জমা দেয়ার সময় ঘুষের টাকা না দিলে নানান অজুহাতে হয়রানী করা হচ্ছে তাদের। আবার উপঢৌকন দিলেও কোন সমস্যা ছাড়াই সেটি ঠিক হয়ে যাচ্ছে।

দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য,অবাধ অনিয়ম-দূর্নীতি আর ঘুষ বাণিজ্যের অক্টোপাসে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে কুষ্টিয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। এসব বন্ধে জন্য জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি দেখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

‘কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরাম ঢাকা’ এখন এক বাস্তবতার নাম

 বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে ‌‌‌‘কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরাম ঢাকা’র কার্যক্রম পূনরায় শুরু করতে শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স রুমে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরাম ঢাকা‘কে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে ব্যাপারে কুষ্টিয়ার সিনিয়র সাংবাদিকদের মতামত নেওয়া হয়। চ্যানেল আইয়ের সিনিয়র বার্তা সম্পাদক আদিত্য শাহীন ও চ্যানেল আইয়ের স্টাফ রিপোর্টার মো. জাহিদুজ্জামানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ঢাকায় কর্মরত কুষ্টিয়ার সাংবাদিকদের প্রাণের সংগঠনের কার্যক্রম আবারো শুরু হতে যাচ্ছে।

সভায় সকলের সিদ্ধান্তমতে সংগঠনের সংবিধান প্রণয়ণের দায়িত্ব দেওয়া হয় মাছরাঙা টিভির বার্তা প্রধান রেজোয়ানুল হক,দৈনিক খবরের বার্তা সম্পাদক সনৎ নন্দী,দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের প্রদায়ক সম্পাদক মাহমুদ হাফিজকে।

এসময় দিক-নির্দেশনামূলক কথা বলেন ইত্তেফাকের সাবেক যুগ্ম-বার্তা সম্পাদক আব্দুল বারী,জাতীয় অর্থনীতির বিশেষ প্রতিবেদক আইয়ুব আনসারী,চ্যানেল আই এর সিনিয়র রিপোর্টার জহির মুন্না।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন বাংলার বিশেষ প্রতিবেদক মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন চৌধুরী, দৈনিক খোলা কাগজের সিনিয়র রিপোর্টার জাফর আহম্মদ, দি নিউ নেশনের বিশেষ প্রতিবেদক কাজী জাহিদুল হাসান (জাহিদ), দৈনিক খোলা কাগজের মফস্বল সম্পাদক আবু ব্ক্কর সিদ্দীক, চ্যানেল আই এর স্টাফ রিপোর্টার আসাদ ইসলাম, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস এর এনামুল হক, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস এর নিগার সুলতানা রুনি, মোহনা টিভির স্টাফ রিপোর্টার মনিরুল ইসলাম মনি, দৈনিক আমাদের অর্থনীতির স্টাফ রিপোর্টার ফাহিম ফয়সাল, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ইমাম মেহেদী, তাশরিক সঞ্চয়।

ফোরামের সদস্য সংগ্রহের জন্য কুষ্টিয়ার ৬ উপজেলায় (দৌলতপুর, ভেড়ামারা, মিরপুর, সদর, কুমারখালী ও খোকসা) ৬ জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ‘কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরাম ঢাকা’ সংগঠনটিতে গণমাধ্যমের সাথে জড়িত ঢাকায় কর্মরত কুষ্টিয়ার সবাই সদস্য হতে পারবে।

সদস্য সংগ্রহে উপজেলা ভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন- কুষ্টিয়া : জাহিদুজ্জামান, জাফর আহমেদ: দৌলতপুর, কুমারখালী: রঞ্জক রিজভী, আব্দুল বারী: মিরপুর, ভেড়ামারা: আইয়ুব আনসারি এবং মনিরুল ইসলাম মনি: খোকসা।

ইতোমধ্যে এ কার্যক্রমকে শুভকামনা জানিয়েছেন কুষ্টিয়ার অনেক সাংবাদিক।

 

 
 
 
Chat Conversation End
 
Type a message...