চলে গেলেন দেশের প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী কুষ্টিয়ার কন্যা পারুল পারভীন

চলে গেলেন আধুনিক, লালনগীতি ও ফোক গানের শিল্পী কুষ্টিয়ার কৃতিসন্তান পারুল পারভীন (৬১)। গত শুক্রবার রাত ৩টার দিকে পারুল পারভীন ঢাকা মিরপুরস্থ নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন।

তিনি কয়েক বছর যাবত কিডনির সমস্যায় ভূগছিলেন। শনিবার সাড়ে ৮টার দিকে কন্ঠশিল্পী পারুলের লাশ নিয়ে আসা হয় তার জন্মস্থান কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া (ক্রিসেন্ট ক্লাবের পাশে) মামার বাড়ীতে। রাত ৯টায় পৌর গোরস্থানে মরহুমার নামাজের যানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শিল্পী পারুল পারভীনের মৃত্যুতে কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম শোক জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, কুষ্টিয়ার মেয়ে পারুল পারভীন ছিলেন মিষ্টিকণ্ঠের অধিকারী।
সে লালন সংগীত, আধুনিক ও ফোক গান করে ৮০ থেকে ৯০দশকে বেশ সুনাম অর্জন করেছিল। এ ছাড়া ১৯৮০ সালের পরে জেলা শিল্পকলাতে শিল্পীপুল নামের সদস্য তালিকাতে ছিলেন।

তিনি জানান, পারুল পারভীনের সমসাময়িক শিল্পীরা হচ্ছে সুফিয়া মনোয়ার, ফরিদা পারভীন, অশোক শাহা, আতাউর রহমান বাধন, আশরাফুল, কহিনুর খানম, স্বপন দত্ত। এরা ক’জন শিল্পী একই সময়ে শিল্পী। এদের মধ্যে পারুল পারভিন বেশ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

১৯৭১ সালে কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ মাঠে স্বাধীন বাংলার গান পরিবেশন করেন সে সময় রূপান্তর ফটো স্টুডিও’র মালিক আব্দুল হামিদ রায়হানের ক্যামেরাবন্দি হন শিল্পী প্রয়াত আব্দুল জব্বার, ফরিদা পারভীন, আপেল মাহমুদ, তৈয়ব মিয়াসহ বেশ কয়েকজন শিল্পী। যার স্মৃতি এখনো কুষ্টিয়া রূপান্তর ষ্টুডিওতে সাদাকালো ফ্রেমে বন্দি রয়েছে।

পারুল পারভিনের একমাত্র মেয়ে শায়লা সাবরিন পলি জানান, খুব ছোট বেলাই তার বাবা সেলিম হোসেনকে হারান তিনি। এরপর কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া পৈত্রিক ভিটা ছেড়ে তারা ঢাকা মিরপুর বাড়িতে থাকতেন।

শায়লা সাবরিন জানান, ১৯৭১-৭২ সালে স্বাধীন বাংলায় গান পরিবেশ করায় পরবর্তিতে তাদের উপর অনেক ঝড় তুফান গেছে। যে কারনে একমাত্র মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে তার মা পারুল পারভীন অনেকটা নিজেকে আড়াল করে রাখতেন। ২০০১ সালে ও ২০০২ সালে তার মায়ের রবীন্দ্রসংগীত, আধুনিক ও লালন সংগীতের সিডি বের হয়। এছাড়া সে সময়ে বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশনের নিয়মিত শিল্পী ছিলেন বলে জানান।