কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সোনালী হস্তশিল্পের দোকান ঘর মেরামত কাজে কর্মচারীর উপর সন্ত্রাসী হামলা

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সোনালী হস্তশিল্পের দোকান ঘর মেরামত কাজে বাঁধা ও কর্মচারীর উপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় কুমারখালী পৌরসভাধীন শেরকান্দি গ্রামের হযরত সোনাবন্ধু শাহ সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে। হামলার ঘটনায় আংকিত হয়ে স্থানীয় প্রায় দেড় শতাধিক দোকানপাট বন্ধ করে রাখে ব্যবসায়ীরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে।

হামলায় সোনালী হস্তশিল্পের কর্মচারী নয়ন(২৪) গুরুত্বর আহত হয়। সে উপজেলা তেবাড়িয়া গ্রামের মৃত মনিরুজ্জামানের ছেলে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের মালিক জসিম উদ্দিন কুৃমারখালী থানায় বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। ঐ মামলায় পুলিশ হামলাকারী রাসেল কবির, রাসেদুল ইসলাম রানা ও রেজাউল হক নামে তিনজনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমারখালী পৌরসভাধীন হযরত সোনাবন্ধু শাহ সড়কের পাশে অবস্থিত জসিম উদ্দিনের মালিকানাধীন সোনালী হস্তশিল্পের দোকান ঘর মেরামত করতে যায় তার কর্মচারী নয়ন। এ সময় জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে উপজেলার পুরাতন চড়াইকোলের বাসিন্দা আব্দুল মজিদের দুই ছেলে রাসেল,রানা ও তাদের সহযোগি রেজাউলসহ ৭/৮ জন দেশীয় অস্ত্র্র শস্ত্র নিয়ে দোকান মেরামত কাজে বাঁধা দেয়।

এ সময় কর্মচারী নয়ন বাঁধা দিলে তারা উপর হামলা চালায় হামলাকারীরা। এতে ঘাড়ে আঘাত পেয়ে রক্তাত্ব অবস্থায় মাটিতে পড়ে যায় নয়ন। পরে স্থানীয়রা নয়নকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাজারে আতংক ছড়িয়ে পরলে প্রায় দেড় শতাধিক ব্যবসাযী তাদের দোকানপাট বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনা ব্যবসায়ীরা কুমারখালী থানাকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারী রাসেল,রানা ও তাদের সহযোগি রেজাউলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

দোকান মালিক জসিম উদ্দিন জানান, কুমারখালী পৌরসভার হযরত সোনাবন্ধু শাহ সড়কের পাশে সেরকান্দি মৌজার ১৭৯ আর,এস, ও ১২৬৩ দাগে .০১৩১ একর জমির উপর অবস্থিত আমার সোনালী হস্তশিল্পের দোকান ঘর মেরামত কাজ করছিল আমার কর্মচারী নয়ন। এ সময় আব্দুল মজিদের দুই ছেলে রাসেলও রানাসহ বেশ কয়েকজন অন্ত্র শস্ত্র নিয়ে দোকান মেরামত কাজে বাঁধা দেয় এবং কর্মচারীর উপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় রাসেল, রানা,রেজাউল হক রেজা, লিটন,আশরাফ, আমিরুল ও ইশতির নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করি। ঐ মামলায় পুলিশ রাসেল, রানা ও রেজাউল হক রেজাকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আব্দুল মজিদ পরিবার এলাকায় জামায়তপন্থী রাজনীতির সাথে জড়িত। মামলা তুলে নেয়ার জন্য আমাকে ভয় দেখাচ্ছে। সেই সাথে আব্দুল মজিদ কুষ্টিয়া কোর্টে পেশকারের চাকুরী করার সুবাধে উল্টো আমার ও ওসি স্যারের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ভয় দেখাচ্ছে। এ ব্যাপারে আব্দুল মজিদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আব্দুল খালেক জানান, এ ঘটনায় আতংকিত হয়ে স্থানীয় প্রায় দেড় শতাধিক ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ রেখেছিল। বিষয়টি তারা আমাকে জানানোর পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। হামলার ঘটনায় দোকান মালিক জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ তিনজন আসামীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

মন্তব্য