কুষ্টিয়ার খবর

কুষ্টিয়ার খবর আমার কুষ্টিয়া হতে প্রকাশিত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দেশীয় মদসহ আটক-১

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ১০০ লিটার দেশীয় মদসহ নরেশ বিশ্বাস (৬২) নামে একজনকে আটক করেছে র‌্যাব। গতকাল মঙ্গলবার বেলা পৌনে ২টার দিকে উপজেলার খলিশাকুন্ডি পুরাতন কলেজ রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে নরেশ বিশ্বাসকে দেশীয় মদসহ আটক করা হয়। র‌্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের অভিযানিক দল খলিশাকুন্ডি পুরাতন কলেজ রোড এলাকার নরেশ বিশ্বাসের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১০০ লিটার দেশীয় মদসহ নরেশ বিশ্বাসকে আটক করা হয়। সে একই এলাকার মৃত নব কুমার বিশ্বাসের ছেলে। এঘটনায় দৌলতপুর থানায় মামলা হয়েছে।

দৌলতপুর সীমান্তে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত-১ : আটক-২

 কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে পূর্ব শক্রতার জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় কাবুল হোসেন (৪০) নামে একজন নিহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। নিহত কাবুল হোসেন উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল হানিফের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকার নজু কারিগরের ছেলে নাজমুলকে দু’দিন পূর্বে মাঠের জবকাটা নিয়ে কাবুল হোসেন মারধর করে। এরই জের ধরে গতকাল সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টার দিকে নাজমুলের নেতৃত্বে ফড়ং, নয়ন, জয়েন, বাবুল ও সনিরুল সশস্ত্র সংগবদ্ধ হয়ে মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকার রমজান মোল্লার বাড়ির পেছনে কাবুল হোসেনকে ডেকে নেয়। পরে তারা এক সাথে বসে মদপান করে। একপর্যায়ে নাজমুলসহ সঙ্গীরা কাবুল হোসেনকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মাঠের মধ্যে ফেলে রাখে। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন কাবুল হোসেনকে গুরুতর রক্তাক্ত জখম অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে একই এলাকার শুকুর আলী ছেলে মকলেচ আলী (৪৫) ও লাবুর ছেলে রানা (২২) কে আটক করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) আজগর আলী জানান, পূর্ব শত্র“তার জের ধরে নাজমুল ধারাল অস্ত্র দিয়ে কাবুল হোসেনকে কুপিয়ে জখম করলে কুষ্টিয়া হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

কুষ্টিয়ার খাজানগর মোকামে কেজিতে ২ টাকা কমেছে চালের দাম

 কুষ্টিয়ায় খাজানগর মোকামে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চালের দাম বৃদ্ধির যে প্রবণতা চলছিল তাতে আপাতত লাগাম পড়েছে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেতে শুরু করেছে সাধারণ ক্রেতারা ।

সোমবার সকালে মিলগেটে চালের দাম কেজিপ্রতি ১ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত কমেছে। ধানের বাজার পড়ে যাওয়ায় কারনেই চালের বাজারও কমেছে বলে দাবি মিল মালিকদের। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দাম আরও কিছুটা কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন তারা। এর আগে গত সপ্তাহে সব ধরনের চালের দাম মানভেদে কেজিতে ৩ থেকে ৬ টাকা বেড়ে যায়। ধানের দাম বৃদ্ধি ও সংকটের কথা বলে চালের দাম বাড়িয়ে দেন মিল মালিকরা। তবে গত তিন দিনে নতুন করে দাম বাড়েনি। গতকাল থেকে বাজার কমেছে। দাম কমার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন সাধারন ভোক্তারা।

এফ এম এনামুলসহ বেশ কয়েক জন ধান চাল ব্যবসায়ী জানান, ব্যবসায়ীরা বলেন, শুক্রবারের পর থেকে কমতে শুরু করেছে। যেসব জেলায় ধানের বড় বড় আড়ৎ আছে সেখানেও দাম পড়ে গেছে। প্রতি মণ ধানের আগের থেকে তারা ৫০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত কমে পাচ্ছেন। ধানের বাজার কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচেও হেরফের হচ্ছে। এ কারনে চালের দাম তারা কমিয়ে দিয়েছেন।’

গতকাল খাজানগর মোকামে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, যে কাজললতা চাল দুই দিন আগে বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকায় সেই চাল এখন বিক্রি হচ্ছ্ ে২ হাজার ৮০ টাকা থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায়। সুরু চাল (মিনিকেট) আগে ২ হাজার ৪৫০ টাকা প্রতি বস্তা (৫০কেজি) বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০টাকায়। ৫০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে প্রতি বস্তা। ২৮ জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১০০ টাকায়। যেটি আগে বিক্রি হয়ে আসছিল ২ হাজার ২০০ টাকায়। আর মোটা চালের আগের দর আগের মত আছে। বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকায়।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনের কয়েকদিন আগে থেকে হুট করে চট্টগ্রাম ও ঢাকার ব্যবসায়ীরা ব্যাপকভাবে অর্ডার দিতে থাকে। তাতে মিলের ওপর চাপ পড়ে। এ সুযোগে মোকামের বড় বড় মিল মালিকরা দাম বাড়িয়ে দেন। আগের কয়েক মাসের ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই তারা বাড়তি দাম জুড়ে দেন। যার ফলে দাম বেড়ে যায় পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে। খাজানগরের একাধিক মিল মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,‘ চাল কেনাবেচা অনেকদিন ধরেই কম ছিল। নির্বাচনের পর সারা দেশ থেকে বিপুল পরিমান চালের অর্ডার আসে। সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হয় মিল মালিকদের। এ সুযোগটি কাজে লাগান মিল মালিকরা। তারা ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত লাভ করেন। এতে করে এক সপ্তাহে কোটি কোটি টাকা লুটে নেন ব্যবসায়ীরা। তবে ছোট মিল মালিকদের কোন লাভ হয়নি। অটো মিল মালিকরা এ লাভ করেছেন।

এদিকে ধানের মোকামেও কমেছে দাম। চালকল মালিকরা ধান কেনা কমিয়ে দেয়ার কারনেই দাম কমে গেছে বলে মনে করছেন কৃষক ও ব্যসায়ীরা। গতকাল স্বর্ণা জাতের ধান ৮০০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে ৭৩০ টাকায়। ২৮ জাতের ধান বিক্রি হয়েছে ৯২০ টাকা। যার আগের দর ছিল হাজার টাকা। আর কাজললতা জাতের ধানও বিক্রি হয়েছে একই দরে। আর সরু ধানের দামও কমেছে। ১ হাজার ২০০ টাকার ধান এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতিমণ ১ হাজার ১০০ টাকায়।

তবে কুষ্টিয়া জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক জয়নাল আবেদিন সিন্ডিকেটের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বলেন,‘ ঢাকা ও চট্টগ্রামের যারা বড় বড় খুচরা ব্যবসায়ীরা তারা সিন্ডিকেট করে বেশি দামে চাল বিক্রি করছেন। খাজানগর মোকামে ২ টাকা বাড়লে তারা ৫ টাকা বাড়িয়ে দেন। নির্বাচনের পর বিপুল পরিমান চালের অর্ডার আসে। এ সুযোগটি নিয়েছেন আড়ৎদাররা। তাদের গোডাউনগুলোতে বিপুল চাল মজুদ আছে এখন। তারা বেশি দামে চাল বিক্রি করছে। আমাদের সিন্ডিকেট করার কোন সুযোগ নেই। প্রতিযোগিতার বাজারে সিন্ডিকেট করা যায় না। তিনি বলেন, ধানের দাম কমে গেছে। এখন খাজানগর মোকামে চালের বাজার ধীরে ধীরে কমছে। সব ধরনের চালে কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা কমেছে। আশা করা যাচ্ছে আরো কমবে।’

মিরপুরে ইউএনও’র স্কুল ব্যাগ বিতরণ

 কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জামাল আহমেদ ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিশুদের মাঝে স্কুল ব্যাগ বিতরণ করেন। গতকাল সোমবার সকালে পৌরসভার খন্দকবাড়ীয়া কাচারীপাড়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষার্থীদের মাঝে এ ব্যাগ বিতরণ করেন। শিক্ষা কেন্দ্রের সভাপতি মোতালেব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জামাল আহমেদ বলেছেন, বর্তমান সরকার আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার মান উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। শিক্ষার আলো প্রতিটি শিশুর মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, শিক্ষা মানুষকে আলোকিত করে। যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত, সেই জাতি তত বেশি উন্নত। তাই দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে শিক্ষিত জাতি গঠনের বিকল্প নেই। তিনি শিক্ষার্থীদেরকে সৎ যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম, মিরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রিমন, সাবেক আহ্বায়ক হুমায়ূন কবির হিমু, উপজেলা শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম হীরা, পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বেলাল আহমেদ, সাংবাদিক সুমন মাহমুদ, দলিল লেখক রফিকুল ইসলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মডেল মসজিদের কেয়ার টেকার ইব্রাহীম খলিল প্রমুখ। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ডসুপারভাইজার মুরাদুল ইসলামের পরিচালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন খন্দকবাড়ীয়া কাচারীপাড়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক তানিয়া আক্তার।

আবু তৈয়ব বাদশাকে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চান নেতা-কর্মিরা

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে শক্ত প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবু তৈয়ব বাদশা। ছাত্রলীগের সাবেক এ নেতাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজপথের লড়াকু এ নেতার তৃণমূলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলে তরুণ যে নেতৃত্ব সৃষ্টি করার পদক্ষেপ নিয়েছেন তাতে আবু তৈয়ব বাদশা যে কোন নেতার  থেকে সবদিক থেকে এগিয়ে বলে মনে করছেন দলটির নেতা-কর্মিরা। উপজেলা নির্বাচনের হাওয়া শুরু হয়েছে সর্বত্র। দলীয় নেতা-কর্মিরাও চাঙ্গা হয়ে উঠছেন। অনেকেই আগাম প্রচার-প্রচারনায় নেমেছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথেও নিয়মিত লবিং চালিয়ে আসছেন নেতারা। যে কোন মূল্যে মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করছেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। সেক্ষেত্রে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবু তৈয়ব বাদশা। একেবারে তৃণমূল থেকে ওঠে আসা এ নেতার জনপ্রিয়তা রয়েছে ছাত্র ও যুব সমাজের মাঝে। সদর উপজেলা যুবলীগের দায়িত্ব নেয়ার আগে একাধারে তিনি ছিলেন ছাত্রলীগের নেতা।১৯৯৯ সালে মজমপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক পদে আসীন হওয়ার মাধ্যমে আবু তৈয়ব বাদশা শুরু করেন তার রাজনীতি। সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ২০০৫ সালে তাকে সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মনোনীত করে দলীয় হাইকমান্ড। ২০০৮সালের সম্মেলনে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদ পান তিনি। ২০১৩ সালে জেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য মনোনিত হন বাদশা। এরপর তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে সদর উপজেলা যুবলীগের পদটি বাগিয়ে নেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্বে আছেন। যুবলীগের নেতারা জানান,‘ আবু তৈয়ব বাদশার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। ছাত্র ও যুব সমাজের মাঝেও তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। দীর্ঘদিন রাজপথে সরব থাকা এ নেতাকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চান দলীয় কর্মিরাও। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কারনে বিভিণœ সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আবু তৈয়ব বাদশা। বিগত ওয়ান ইলেভেনের সময় জরুরী বিধি ভেঙ্গে বাদশার নেতৃত্বে কুষ্টিয়ায় প্রথম মিছিল করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মিরা। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাষ্টার্স তরুণ এ নেতাকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হলে জয় পাওয়া সহজ হবে বলে মনে করেন আওয়ামীলীগসহ সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতারা। ব্যবসায়ীক ভাবে এগিয়ে থাকা এ নেতাকে প্রার্থী হিসেবে চান যুবলীগের সর্বস্তুরের নেতা-কর্মিরা।ইউনিয়ন পর্যায়ের একাধিক যুবলীগ নেতা জানান, বাদশা তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতা। সব সময় তাকে মাঠে পাওয়া যায়। বিপদে-আপদে নেতা-কর্মিরা তাকে কাছে পান। যে কোন দলীয় সভায় তার সরব উপস্থিতি থাকে। সব থেকে বেশি নেতা-কর্মি আছে তার সাথে। এ কারনে আমরা জনপ্রিয় নেতা হিসেবে বাদশা ভাইয়ের মনোনয়ন চাই। আবু তৈয়ব বাদশা বলেন,‘ দীর্ঘদিন রাজনীতির মাঠে আছি। ছাত্রলীগের পর এখন যুবলীগের হাল ধরেছি। প্রতিটি এলাকায় সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছি। সরকারের ভিশন সবার মাঝে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছি। শত নির্যাতনের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছাড়িনি। দলীয় সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তরুণ নেতাদের তৃণমূল থেকে তুলে আনছে। তিনি যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে অন্যদের তুলনায় বেশি ভোটে জয়ী হয়ে আসতে পারব ইনশা আল্লাহ।

মিছিলে যেতে অস্বীকার করায় কলেজে ক্লাস রুমে ঢুকে এক ছাত্রকে পিটালো ছাত্রলীগ নেতা

 মিছিলে যেতে অস্বীকার করায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আজ ১৩ জানুয়ারি বি এম (ভোকেশনাল) শাখার অনার্স ১ম বর্ষের এক ছাত্রকে ক্লাস রুমে ঢুকে শিক্ষিকার সামনে বেধড়ক পিটিয়েছে ছাত্রলীগ নেতা ।

 রোববার বেলা ১১ টার দিকে ক্লাস চলাকালীন সময়ে বি এম (ভোকেশনাল) শাখার ছাত্রলীগ নেতা সম্রাট অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্র জহুরুলকে মিছিলে যাবার জন্য বলে। জহুরুল ক্লাস শেষ করেযাবার কথা বললে সম্রাট হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে সে ক্ষিপ্ত হয়ে শামীমা ম্যাডাম ও শিউলী ম্যাডামের সামনেই ওই ছাত্র জহুরুল কে বেধড়ক মারপিট ফেলে রাখে । পরবর্তীতে জহুরুলকে অন্যান্য ছাত্র ও শিক্ষকরা উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এবিষয়ে এই ধরনের ন্যাক্কারজনক আচরণের জন্য কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জিজ্ঞাসা করলে অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান ইতিমধ্যে সম্রাটকে শোকজ করা হয়েছে এবং জরুরী ভিত্তিতে মিটিংয়ের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গৃহীত হবে।

কুমারখালী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে এ ধরনের গর্হিত কাজের জন্য ছাত্র ও অভিবাবকদের মধ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

কুষ্টিয়া ভেড়ামারা পাবনা সুইটস মালিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত বাজার অভিযান পরিচালনা করা হয় ।

পরিচালনাকালে মেয়াদউত্তীর্ণ কোমল পানীয় সংরক্ষণ ও বিক্রির দায়ে এবং ওজনে কম দেওয়াই অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান পাবনা সুইটস্ মালিক শ্রী শ্যামল চৌধুরী কে ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ এর ৫১ ধারা মোতাবেক ২০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয় ।

এসময় বাজার কর্মকর্তার প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন ।

কুষ্টিয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক মহিলা শ্রমিকের মৃত্যু

 কুষ্টিয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে সজিনা বেগম(৪৫) নামে এক মহিলা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

আজ সোমাবার দুপুরে কুষ্টিয়া শহরতলীর দবির মোল্লা রেলগেট এলাকায় এই দূর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মহিলা শ্রমিক কুষ্টিয়া সদর উপজেলার
রাহিনী ক্যানালপাড়া এলাকার আজাদ শেখের স্ত্রী। সে স্থানীয় একটি ডালমিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে কুষ্টিয়া রেলওয়ে পুলিশের ইনচার্জ রাজিউর রহমান ও এস আই আবুল হাসেম জানান, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা গোয়ালন্দগামী নকশীকাথা মেইল ট্রেনে কাটা পড়ে আজ ঘটনার সময় সজিনা বেগম নামের ঐ মহিলা শ্রমিক নিহত হন। রেলওয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরন করেছে।

কুষ্টিয়ার মিরপুরে মাদক বিরোধী সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে সোমবার সকালে মিরপুর নাজমুল উমুল সিদ্দিকীয়া সিঃ ফাজিল মাদ্রাসায় "মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দেশ, পথ হারাবে না বাংলাদেশ" স্লোগানকে সামনে রেখে মাদক বিরোধী সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম জামাল আহমেদ।

এসময় তিনি বলেন, আমরা কখনও ভুল করেও মাদক সেবন করব না। তিনি সকল ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানান তোমরা কখনও মাদক সেবন করবে না, ইভটিজিং করবে না, বাল্য বিবাহ থেকে বিরত থাকবে। এরপর তিনি সকলকে মাদক বিরোধী শপথ পাঠ করান।

উক্ত অনুষ্ঠানে মিরপুর নাজমুল উমুল সিদ্দিকীয়া সিঃ ফাজিল মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সালেহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মিরপুর পৌর মেয়র হাজী মোঃ এনামুল হক, জেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রিজু, মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম, মিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সিরাজুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম সোহাগ হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল, শরিফুল ইসলাম শরিফ, প্রকৌশলী মাহমুদ আল হাফিজ অভি, মিরপুর উপজেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল করিম, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসানুর খান তাপস, আলম মন্ডল, কুষ্টিয়া জেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির সহ-প্রচার সম্পাদক আল-আমিন খান রাব্বি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এস কে চঞ্চল প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মিরপুর নাজমুল উমুল সিদ্দিকীয়া সিঃ ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যক্ষ মতিয়ার রহমান।

ইবি ইংরেজি বিভাগের নতুন সভাপতি ড. সালমা সুলতানা

 ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে নতুন সভাপতি হিসেবে যোগদান করেছেন প্রফেসর ড. মোসাঃ সালমা সুলতানা। ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) তাঁকে ৩ বছরের জন্য এ নিয়োগ প্রদান করেন। ড. সালমা সুলতানা বিদায়ী সভাপতি প্রফেসর ড. এ এইচ এম আক্তারুল ইসলাম জিল্লুর স্থলাভিষিক্ত হলেন।

আজ (রবিবার) সকালে রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনে ইংরেজি বিভাগের সভাপতির কার্যালয়ে এক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে দিয়ে ড. সালমা সুলতানা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সফল ও সার্থক বিভাগ হচ্ছে ইংরেজি বিভাগ। এ বিভাগে শিক্ষক হিসেবে আমি তৃতীয় মেয়াদে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। তিনি বলেন, বিদায়ী সভাপতি বিভাগের উন্নয়নে অনেক ইতিবাচক কাজে সফল হয়েছেন, আশারাখি নতুন সভাপতি বিভাগের উন্নয়নে আরও পরিবর্তন আনবেন। তিনি বলেন, বিদায়ী সভাপতি ফরিদপুর টাইমস্ বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়া ভিসি হিসেবে নতুন কর্মস্থলে দক্ষতার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন আঙ্গিকে গড়ে তুলবেন এই প্রত্যাশা করি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, এ বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা বন্ধু সুলভ বলেই আজ এ বিভাগের উন্নয়ন দ্রুত গতিতে চলছে। বিভাগটিকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান। বিদায়ী সভাপতির অসমাপ্ত কাজ নতুন সভাপতির মাধ্যমে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অপর বিশেষ অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, বিদায়ী সভাপতি ইংরেজি বিভাগে নতুন জাগরণ সৃষ্টি করেছিলেন। নতুন সভাপতির মাধ্যমে আরও নব জাগরণের সুচনা হবে এ প্রত্যাশা করি।

অনুষ্ঠানে বিদায়ী সভাপতি প্রফেসর ড. এ এইচ এম আক্তারুল ইসলাম জিল্লু বলেন, ছাত্র জীবনে আমি এই বিভাগের ছাত্র ছিলাম। সৌভাগ্যবশতঃ এ বিভাগে চাকুরীর সুবাধে বিভাগটিকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আশারাখি নতুন সভাপতির কর্মদক্ষতায় বিভাগের আরও উন্নয়ন হবে।

নতুন সভাপতি প্রফেসর ড. মোসাঃ সালমা সুলতানা বলেন, আপনাদের সকলের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি। তিনি বলেন, আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব আমি যেন সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালনের মাধ্যমে বিভাগের আরও উন্নয়ন ঘটিয়ে আপনাদের প্রত্যাশা পুরন করতে পারি, এজন্য আমি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করি। 
বিদায়ী সভাপতি প্রফেসর ড. এ এইচ এম আক্তারুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও প্রফেসর ড. মিয়া মোঃ রসিদুজ্জামানের পরিচালনায় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নাসিম বানু, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. অরবিন্দ সাহা, বায়োলজিক্যাল সায়েন্স অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাঃ আনোয়ারুল হক স্বপন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া, শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান, বিভাগের সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ মামুনুর রহমান ও প্রফেসর ড. মোঃ মিজানুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বিদায়ী ও নতুন সভাপতিকে বিভাগের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

কুষ্টিয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ডিসি'র টিফিন বক্স বিতরণ

 কুষ্টিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে টিফিন বক্স বিতরণ করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশহরিপুর ইউনিয়নের কান্তিনগর বোয়ালদাহ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শনিবার শিক্ষার্থীদের মাঝে এসব বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে এসব বিতরণ করেন।

এসময় তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরাই আগামীর ভবি । তাদের লেখাপড়ার মানসম্মত ঠিক রাখতেই মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমাদের ভালো করে পড়ালেখা শিখে ভালো মানুষ হতে হবে। কারন আগামীতে তোমরাই ডিসি হবে এসপি হবে। তোমরাই দেশের নেতৃত্ব দেবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনজুমান আরা চৌধুরীর সভাপতিত্বে এসময় কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আজাদ জাহান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, বিদ্যালয়ের ম্যঅনেজিং কমিটির সভাপতি মো: বাবু আহমেদ, সহসভাপতি নাজমুন নাহার, সদস্য আব্দুল মান্নানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিদ্যালয়ের মিড ডে মিল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আড়াইশ শিক্ষার্থীদের মাঝে টিফিন বক্স তুলে দেওয়া হয়।

কুষ্টিয়ার মিরপুরে একটি ব্যতিক্রমি অভিভাবক সমাবেশ

 শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষে ছাত্র শিক্ষক অভিভাবক ও গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের সমন্বয়ে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আটিগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চলছে একটি ব্যতিক্রমি অভিভাবক সমাবেশ।

অনুষ্ঠানটিতে শুধু সভাপতি ছাড়া কোন প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি রাখা হয়নি। সভাপতিত্ব করছেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বর্তমান ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব টিপু সুলতান।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র খুলনার তেরখাদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন আলী, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জামাল আহমেদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জুলফিকার হায়দার, মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম, ছাতিয়ান ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, অত্রবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খেলাফত হোসেন।

হাইওয়ে সড়কে তিন চাকার গাড়ী চলাচল বন্ধে কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশের মাইকিং

 হাইওয়ে সড়কে তিন চাকা বিশিষ্টসকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধে মাইকং করছে কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশ। এই নির্দেশনায় বলা হয় হাইওয়ে সড়কে তিন চাকা বিশিষ্ট কোন ধরনের গাড়ী চলাচল করতে পারবে না।

বিষয়টি নিয়ে কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ এসআই জয়নুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মন্ত্রনালয় থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা মোতাবেক হাইওয়ে সড়কে তিন চাকা বিশিষ্ট সকল ধরনের গাড়ী চলাচলে নিষেধাঙ্গার বিষয়টি জানানো হয়।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, হাইওয়ে সড়কে তিন চাকা বিশিষ্ট সকল ধরনের গাড়ী চলাচলে এর আগেই নিষেধাঙ্গা ছিলো সেটা বাস্তবায়নে পূনরায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, কুষ্টিয়া হাইওয়ে সড়ক এলাকা হচ্ছে ভেড়ামারা লালন শাহ সেতুর আগে থেকে কুষ্টিয়া ত্রিমোহনী পর্যন্ত এবং বটতৈল থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পর্যন্ত। তবে ত্রিমোহনী থেকে কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর গেট হয়ে বটতৈল এলাকা পর্যন্ত এবং কুষ্টিয়া থেকে মেহেরপুর রোডসহ কুষ্টিয়া শহরের অন্যান্য রাস্তায় তিন চাকা বিশিষ্ট গাড়ী চলাচল করতে পারবে।তিনি জানান অতিদ্রুতই এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠে নামবে হাইওয়ে পুলিশ।

শব্দ দূষণ প্রতিযোগীতায় এক ধাঁপ এগিয়ে কুষ্টিয়া !

কুষ্টিয়া জেলায় বসবাসকারী মানুষের প্রতি দিন সকালে ঘুম ভাঙ্গে বিভিন্ন স্কুল, কোচিং সেন্টার, কলেজ ও বিভিন্ন ডাক্তারের বিজ্ঞাপনে।এ মাইক বাজানোর কারনে একদিকে যেমন হচ্ছে শব্দ দূষন তেমনি হচ্ছে যানযট।বর্তমানে কুষ্টিয়া শহরে অধিকাংশ সময় যানজট থাকে যেমন: কলেজ মোড় , চার রাস্তার মোড় হাসপাতাল মোড় , বড় বাজার রেল গেটে আর তার ভেতর ৪-৫ টা মাইক বাহি রিস্কা,ভ্যান ।

এলাকায় কারোর বিয়ে ,গায়ে হলুদ, সুন্নতেখাৎনা অনুষ্ঠানের গান বাজানোর কথা শুনলেই মনের মধ্যে ভয় কাজ করে। এছাড়া নানা সামাজিক-রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে মাইকে গান বাজানো একটা স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।জন্মদিন, মৃত্যুবার্ষিকী বা বিশেষ দিবসগুলোতে সারাদিন-রাত ধরে উচ্চশব্দে মাইক বাজালেও কেউ তার প্রতিবাদ করার সাহস পান না৷আর শীতকাল এলেই এলাকায় এলাকায় ওয়াজ মাহফিল, পূঁজা কোথাও আবার কীর্তন ,এসব মাহফিলে একাধিক মাইক বাজানো হয় উচ্চশব্দে৷ ফলে শব্দ দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করে৷ আর শহরে যানবাহনের অতিরিক্ত 
শব্দ তো আছেই৷

২০০৬ সালে বাংলাদেশ শব্দ দূষণ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। এই নীতিমালা অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ শব্দসীমা হলো ৫৫ ডেসিবেল এবং রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ৪৫ ডেসিবেল। একইভাবে নীরব এলাকার জন্য এ শব্দসীমা যথাক্রমে সর্বোচ্চ ৫০ ও ৪০ ডেসিবেল, মিশ্র এলাকায় ৬০ ও ৫০ ডেসিবেল, বাণিজ্যিক এলাকায় ৭০ ও ৬০ ডেসিবেল এবং শিল্প এলাকায় ৭৫ ও ৭০ ডেসিবেল সর্বোচ্চ শব্দসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এর ওপরে শব্দ সৃষ্টি করাকে দন্দনীয় অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালায় বলা আছে, আবাসিক এলাকার সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে নির্মাণকাজের ইট বা পাথর ভাঙার যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।

এছাড়া যানবাহনে অপ্রয়োজনে উচ্চ শব্দে হর্ন বাজানো যাবে না। এই বিধির আওতায় স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালতকে নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের চতুর্দিকে ১০০ গজের ভেতরে কোনো প্রকার হর্ন বা মিউজিক সিস্টেম বাজানো যাবে না। আরো বলা হয়েছে, কোনো উৎসব, সামাজিক বা রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে লাউড স্পিকার, এমপ্লিফায়ার বা কোনো যান্ত্রিক কৌশল ব্যবহার করতে হলে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি লাগবে। এসব কার্যক্রম সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টার বেশি হবে না। পাশাপাশি রাত ১০টার পর কোনোভাবেই শব্দ দূষণকারী যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী কোনো এলাকা ৬০ ডেসিবেল মাত্রার বেশি শব্দ হলে সেই এলাকা দূষণের আওতায় চিহ্নিত হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে ৩০ থেকে ৪০ ডেসিবেল, হাসপাতালে ২০ থেকে ৩৫ ডেসিবেল, রেস্তোরাঁ ৪০ থেকে ৬০ ডেসিবেল শব্দ মাত্রা সহনীয়। ৬০ ডেসিবেল শব্দ মানুষের সাময়িক শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দে চিরতরে শ্রবণশক্তি হারাতে পারে। বসরকারি সংস্থা ‘ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট’ নির্ধারিত মানবদহের চেয়ে গড়ে প্রায় দেড় গুণ বেশি শব্দ সৃষ্টি হয় আমাদের দেশে৷ ‘ঢাকা শহরের বেশিরভাগ এলাকায় এখন শব্দের সার্বক্ষণিক গড় মাত্রা ১০০ ডেসিবেল। কোথাও কোথাও শব্দের মাত্রা গ্রহণযোগ্য মাত্রার তিনগুণেরও বেশি৷ আমরা ইনডোর শব্দ দূষণের দিকটি বিবেচনায় নেই তাহলে টাইলস লাগানো, মিউজিক সিস্টেমে জোরে গান বাজানো, ড্রিলিং এগুলোর শব্দ রয়েছে৷

”উচ্চমাত্রার শব্দের কারণে মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস, বধিরতা, হৃদরোগ, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, আলসার, বিরক্তি সৃষ্টি হয়৷ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন শিশু এবং বয়স্করা৷ এমনকি গর্ভে থাকা সন্তানও শব্দদূষণে ক্ষতির শিকার হয়, অর্থাৎ তাদের শ্রবণশক্তি খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় শব্দ দূষণের ফলে সড়কে দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে৷ কারণ শব্দ দূষণে মেজাজ খিটখিটে হয়, মনোযোগ নষ্ট হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর ক্ষমতাবলে শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০০৬ প্রণয়ন করা হয়৷ বিধিমালার আওতায় নীরব, আবাসিক, মিশ্র, বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকা চিহ্নিত করে শব্দের মানমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে৷ আইন অমান্য করলে প্রথমবার অপরাধের জন্য এক মাস কারাদন্ড বা অনধিক পাঁচ হাজার টাকা অর্থদন্ড এবং পরবর্তী অপরাধের জন্য ছয় মাস কারাদন্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে৷ কিন্তু বাস্তবে এই আইনের তেমন প্রয়োগ দেখা যায় না‘‘আইনে ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ আরো কিছু বিষয়ে ব্যতিক্রম আছে ৷ পুলিশের স্বপ্রণোদিত হয়ে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার আছে৷ আর পাবলিক অনুষ্ঠানের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আগাম অনুমতি নেয়ার বিধান রয়েছে। কুষ্টিয়া নগরীর মানুষ শব্দ দূষনের বিষয়টিতে, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষ্যেপ গ্রহন এমনটিই প্রত্যাশা সচেতন মহলের।

কুষ্টিয়ায় এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়ে হাসপাতালে ! ধর্ষক আটক

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার উপজেলায় ১১ বছরের এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই ছাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে ক্ষেমিড়দিয়াড় বিশ্বাসপাড়া এলাকার অসহায় বাবার স্কুলপড়ুয়া ১১ বছর বয়সী নাবালিকা মেয়েকে প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে একই এলাকার ২ ছেলের পিতা লম্পট মান্নান জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে বাচ্চা মেয়েটির চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দেখে রাত আনুমানিক ১ টার দিকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে।

রাতেই ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: মিজানুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, বাচ্চা মেয়েটি আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। তবে প্রাথমিক চিকিৎসা চলছে। এখন গভীর রাত তাই পরামর্শ দিয়েছি সকালে কুষ্টিয়া সদরে নেওয়ার জন্য।

এদিকে ভেড়ামারা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে লম্পট ধর্ষক মান্নানকে তাৎক্ষণিক আটক করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

তবে এলাকাবাসী দাবি তুলেছেন, মানুষ রুপি এই জানোয়ার লম্পট ধর্ষক মান্নানের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। যাতে করে সমাজে এধরনের জঘন্য ঘটনা পুনরাবৃত্তি যেন না হয়।

ভেড়ামারা থানার এস আই রাশেদুল ইসলাম ঘটনাটির সতত্যা স্বীকার করে বলেন, এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। লম্পট মান্নানকে আটক করা হয়েছে

কুষ্টিয়া ভেড়ামারায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজে রং করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা হার্ডিঞ্জ ব্রিজে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শরিফুল ইসলাম (২৮) নামে এক রংমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে হার্ডিঞ্জ ব্রিজে রং করার সময় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শরিফুল ইসলাম ঈশ্বরদীর চররূপপুর গ্রামের ফটু মার্কেট এলাকার চুন্নু প্রামাণিকের ছেলে।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের রং করার কাজে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

পাকশি ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস জানান, শরিফুল হার্ডিঞ্জ ব্রিজের গার্ডারের উপরে উঠে রং-এর কাজ করছিল। এ সময় গার্ডারের পাশে বিদ্যুৎ লাইনের সঙ্গে তার শরীর স্পর্শ হলে তিনি গার্ডার হতে ব্রিজের রেল লাইনের উপর পড়ে যায়। এতে তার মাথা, মুখ ও পায়ে আঘাত লাগে। তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ শামিম উদ্দিন জানান, হার্ডিঞ্জ ব্রিজে রং করার সময় শরিফুল ইসলাম (২৮) নামে এক রংমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে।

লাইব্রেরিয়ান ও শিক্ষকদের সিন্ডিকেটে বন্ধ হচ্ছে না কুষ্টিয়ায় নিষিদ্ধ নোট গাইড বই বিক্রি

নতুন বছর শুরু হয়েছে। স্কুল-কলেজেও শুরু হয়েছে নতুন শিক্ষাবর্ষ। ইতোমধ্যে সরকার বিনামূল্যে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিয়েছে নতুন বই। কিন্তু বছর শুরু হলেও বিগত বছরগুলোর মতো এবারো নিষিদ্ধ নোট-গাইড বইয়ের অবাধ বাণিজ্য বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন অভিভাবক-শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকরা। নিষিদ্ধ এসব নোট-গাইড বইয়ের বাণিজ্যের সঙ্গে এক শ্রেণির শিক্ষকদের সহায়তায় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে মনে করেন অভিভাবকরা। তাদের ধারণা, ওই সিন্ডিকেটের কারণেই বন্ধ করা যাচ্ছে না অসাধু এই ব্যবসা। ফলে শিক্ষকদের সহায়তায় গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটটি প্রতিবছরই হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

কুষ্টিয়াতে এইসব নিষিদ্ধ গাইড বই বিক্রয় জন্য করা হয়েছে একটি কমিটি। এই কমিটির মাধ্যমেই সিন্ডিকেট করে বিক্রয় করছে নিষিদ্ধ গাইড বই।

একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ৫০% কমিশনে ওইসব নিষিদ্ধ গাইড বই ঢাকা থেকে কিনে নেয় কুষ্টিয়াতে ১৫% কমিশনে বিক্রয় করছে ওই সিন্ডিকটি।

জানা যায়, ১৯৮০ সালে একটি আইনে এসব বই ছাপা ও বাজারজাত করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এ আইন কার্যকর হচ্ছে না। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশেই অনেকটা প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে নোট-গাইড বই। এবছর জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচন পরবর্তীতে নির্বাচিতদের শপথ, মন্ত্রিসভা গঠনসহ নানাবিধ কারণে ব্যস্ত সরকারসহ আইনশৃক্সক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনী। আর এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে চক্রটি বিপুল উদ্দীপনা নিয়ে বিক্রি শুরু করেছে এসব নোট-গাইড বই।

শিক্ষার্থীরা বলছে, স্কুল থেকেই এসব বই কিনতে অনেক সময় শিক্ষকরা উদ্বুদ্ধ করেন। শিক্ষকরা ক্লাসে এসে বুকলিস্ট দিয়ে দেন। ওই লিস্ট অনুযায়ী নোট, গাইড, গ্রামার ও ব্যাকরণ বই কিনতে বলা হয়। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়েই কিনতে হয় নির্দিষ্ট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের এসব সহায়ক বই। অভিভাবকরা বলছেন, শিক্ষকদের পরামর্শ অনুযায়ী ছেলে-মেয়েদের ভালো ফলের আশায় বুকলিস্ট অনুযায়ী বই কিনতে হচ্ছে। এসব নোট বা গাইড বই কেনার সময় ভাবারও অবকাশ থাকে না নিষিদ্ধ কিনা। মূলত এক ধরনের বাধ্যবাধকতা থেকেই এসব বই কেনা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ মার্কেটের পুথিঘর, পপি লাইব্রেরীসহ বিভিন্ন লাইব্রেরিতে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ নোট ও গাইড বই। এসব লাইব্রেরিতে গ্যালাক্সি, লেকচার, অনুপম, জননী, জুপিটার, আদিল, দিগন্ত, ক্যামব্রিয়ান, গ্লোবাল, ক্লাস ফ্রেন্ড, অ্যাপোলো, সংসদ, ক্যাপ্টেন, সুপার, ছাত্রকণ্ঠসহ অন্তত ৫০টি পাবলিকেশন্সের বই বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিযোগিতার এই বাজারে বেশি ব্যবসা করার জন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষকদের ম্যানেজ করছে কমিশন দিয়ে নিষিদ্ধ নোট ও গাইড বই এর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে এসব বই কিনতে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বাধ্যও করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বই ব্যবসায়ী বলেন, এক সময় আমরা বোর্ড বই বিক্রি করতাম। বছরের শুরুতে বোর্ড বই বিক্রি করে সারা বছরের ব্যবসা হয়ে যেতো। কিন্তু এখন আমাদের দুরাবস্থা। সরকার গত ১০ বছর ধরে বিনামূল্যে বই বিতরণ করছে। ফলে আমাদের সেই ব্যবসা আর নেই। তাই কিছু গাইড বই বিক্রি করে টিকে আছি। কুষ্টিয়ার প্রতিটি বই এর দোকানে গাইড বইয়ের বাণিজ্য চলছে অবাধে। আর এসব বাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তি স্থানীয় স্কুলগুলোর অসাধু কিছু শিক্ষক। তারা লাইব্রেরির সাথে যোগাযোগ রেখে কমিশনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বই কিনতে বাধ্য করছে। ফলে নিষিদ্ধ হলেও বন্ধ হচ্ছে না এসব নোট-গাইড বিক্রি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বছরের শুরুতেই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষকদের আকৃষ্ট করতে নানাভাবে প্রস্তাব দেয়। কখনো বিভিন্ন উপহার দিয়ে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বই কিনতে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিতে বলা হয়। কখনো কখনো ঘুষ দেয়া হয় নগদ টাকা। টাকার পরিমাণ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ভেদে ২০ হাজার থেকে লাখও ছাড়িয়ে যায়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়কে আসবাবপত্র দিয়ে থাকে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, আমাদের এলাকার বই বিতানগুলোতে বিভিন্ন কোম্পানির নোট, গাইড বই বিক্রি হচ্ছে। শ্রেণিভেদে দামের ভিন্নতা রয়েছে। তারা বলেন, অবাধে নিষিদ্ধ গাইড বই বিক্রির কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পশ্চিম আব্দালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘আমরা আসলে অনেকটা বাধ্য হয়েই নোট, গাইড কিনি। কেননা, সৃজনশীল পদ্ধতিটা এখনো রপ্ত করতে কষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া নোট, গাইড বাসায় থাকলে ছেলে-মেয়েরা মাঝে মাঝে নিজেরাই পড়তে পারে।’ তবে ভিন্নমত প্রকাশ করেন ঝাউদিয়া বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর ষষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রীর মা। তিনি বলেন, নোট-গাইড পড়ার কারণেই আমাদের ছেলে-মেয়ের মেধার বিকাশ হচ্ছে না। এগুলো পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা দরকার। নবম শ্রেণির এক ছাত্র বলে, ‘গত বছর যখন অষ্টম শ্রেণিতে উঠলাম, ক্লাস শুরু হওয়ার কিছুদিন পরই ক্লাসে এসে স্যার একটি বুকলিস্ট দিয়ে বললেন গাইড বই কিনলে এই লিস্ট দেখে কিনতে হবে। আমরাও সেই লিস্ট দেখেই বই কিনেছি।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান গণমাধ্যমকে বলেন, সারাদেশে প্রায় একই চিত্র বিরাজ করছে। নোট-গাইড বইয়ের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেয়া হবে। যারা এসব বই পড়াবে তাদের সবাইকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অবৈধ নোট ও গাইড বই বন্ধের দায়িত্ব আমাদের নয়। এমনকি অনুমোদনহীন বই পড়ানোর বিষয়ে তদারকি ব্যবস্থা বা বন্ধের কার্যক্রম এনসিটিবিতে নেই।

কুষ্টিয়া জেলা মহিলা ফুটবল দলের কৃতি খেলোয়াড় ধর্ষনের শিকার !

কুষ্টিয়া জেলা মহিলা দলের এক কৃতি খেলোয়াড় ধর্ষনের শিকার হয়েছেন। গত ৯ ডিসেম্বর ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুরের পুরাতন কুষ্টিয়া গ্রামে দরিদ্র পরিবারের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী উক্ত কৃতি ফুটবলার এমন পাশবিকতার শিকার হন।

এ ব্যাপারে ধর্ষিতার দাদী বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় এৎাহার করেছেন। লিখিত এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, কুষ্টিয়া হাইস্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে বেশ কিছুদিন ধরে শহরের কমলাপুরের আসলাম আলীর বখাটে ছেলে নয়ন উত্যক্ত করে আসছে। বিষয়টি তার পরিবারকে জানালে তারা কোন গুরুত্ব না দেয়নি।

গত ৯ ডিসেম্বর আনুমানিক রাত ৯.৩০ টার দিকে আমার নাতনী শয়ন কক্ষ থেকে এসে আমার রুমে রাতের খাবার শেষে তার রুমে ফিরে যায়। এই ফাঁকে বখাটে নয়ন আমার নাতনীর ঘরের খাটের নীচে ওৎ পেতে থাকে। রাতে ঘুমিয়ে পড়লে রাত আনুমানিক ১১.৩০ টার সময় আসামী আমার নাতনীকে ঝাপটিয়ে ধরে এবং মুখে কাপড় বেঁধে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে ধর্ষিতার শোর চিৎকারে দাদী, দাদাসহ প্রতিশেীরা ছুটে এসে মেয়েকে উদ্ধার করে ধর্ষককে উক্ত কক্ষে তালা দিয়ে রাখে।

পরের দিন সকাল ৭টার দিকে ধর্ষকের আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ধর্ষককে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার নাম করে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। বিষয়টি জেলা ক্রীড়া সংগঠকদের নজরে এলে তারা পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন।

গতকাল পুলিশ সুপারের নির্দেশে কুষ্টিয়া মডেল থানায় ধর্ষণ মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি।

কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান বিচারপতি ডক্টর রাধা বিনোদ পালের ৫২ তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ

আজ ১০ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান বিচারপতি ডক্টর রাধা বিনোদ পালের ৫২ তম মৃত্যু বার্ষিকী। এ উপলক্ষে বিচারপতির বাস্তুভিটা কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের কাকিলাদহে বিচারপতি রাধাবিনোদ পাল মডেল স্কুলে দিনব্যাপী নানা কর্মসুচীর মধ্যদিয়ে পালিত হবে।

উল্লেখ্য, ডঃ রাধাবিনোদ পাল ( জন্ম ২৭ জানুয়ারি ১৮৮৬ - মৃত্যু ১০ জানুয়ারি ১৯৬৭, ) একজন বাঙালি আইনবিদ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ছিলেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দূরপ্রাচ্যে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচারার্থে স্থাপিত আন্তর্জাতিক সামরিক আদালতের বিচারক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর "জাপান-বন্ধু ভারতীয়" বলে খ্যাতি রয়েছে । জাপানের ইতিহাসে রাধা বিনোদের নাম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। জাপানের টোকিও শহরে তাঁর নামে জাদুঘর, সড়ক ও স্ট্যাচু রয়েছে। জাপান বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি রিসার্চ সেন্টার রয়েছে। তিনি আইন সম্পর্কিত বহু গ্রন্থের রচয়িতা।

গভীররাতে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন কুষ্টিয়ার ডিসি

কুষ্টিয়ায় গভীররাতে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ আসলাম হোসেন মহোদয়। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ আসলাম হোসেন মহোদয় এ কম্বল বিতরণ করেন। তিনি শহরের কোর্ট স্টেশন, বড় স্টেশন, বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ’র মাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নেয়া ছিন্নমূল মানুষের মাঝে এই কম্বল বিতরণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আজাদ জাহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ ওবাইদুর রহমান, এনডিসি এম.এ. মুহাইমিন আল জিহান, সহকারী কমিশনার (আইসিটি) এ.বি.এম আরিফুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পার্থ প্রতিম শীলসহ জেলা প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

মিরপুরে ইউএনও’র শীতবস্ত্র বিতরণ

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম জামাল আহমেদ অসহায় ও দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় মিরপুর পৌরসভার বিভিন্ন মহল্লায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জামাল আহমেদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল কায়ূম খাঁন, সাংবাদিক সুমন মাহমুদ প্রমুখ।

ABOUT US

এটি একটি অনলাইন খবরের তথ্য ভান্ডার। যা কুষ্টিয়াকে সমৃদ্ধ করতে তথ্য নির্দেশ করে।

This is a online news portal.
Which contain directory of enriched kushtia.