জাতীয় খবর

জাতীয় খবর আমার কুষ্টিয়া হতে প্রকাশিত

রায়পুরায় আ.লীগের দুই পক্ষের গোলাগুলিতে নিহত ২

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে দুইজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছে আরও তিনজন। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার চরাঞ্চল মির্জাচরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- মির্জাচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিকের ভাতিজা ইকবাল হোসেন (৩০), ও একই গ্রামের আমানউল্লাহ (২৭)। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত সাজ্জাদ হোসেন (২৮), আজিজুল ইসলাম (২৬) ও রহমত উল্লাহকে (১৮) ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানায়, এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও দেড় বছর আগে হয়ে যাওয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জাফর ইকবাল মানিকের সঙ্গে একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মিয়ার ছেলে ফারুক ইসলামের বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রতিপক্ষের হামলার মুখে চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিকের সমর্থকরা এলাকা ছাড়া হয়।

মঙ্গলবার তারা এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত পাঁচজনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়াও গুরুতর অবস্থায় তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রায়পুরা থানা পুলিশের ওসি (অপারেশন) মোজাফফর হোসেন জানান, হতাহতরা সবাই চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিকের সমর্থক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এবার শিক্ষার্থীদের ফাঁসাতে বাসে পরিবহন শ্রমিকের আগুন

রাজধানীর বসুন্ধরা গেট এলাকার সড়কে অবস্থানরত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ফাঁসাতে এক পরিবহন শ্রমিক নিজেই বাসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। পরে খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা ওই আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়।

মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিইউপি’র আইআর বিভাগের শিক্ষার্থী আবু তালহা ও শামীম আল হাসান বলেন, বাসটিতে দুই ব্যক্তি আগুন দেন। তারা বিইউপি’র ছাত্র নয়। আগুন ধরালে ধোঁয়া বের হয়। পরে ছাত্ররা ধাওয়া দিলে একজন পালিয়ে যায়। আরেকজনকে ধরে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তবে তার নাম জানা যায়নি।

ছাত্রদের বক্তব্য, দাবি আদায়ে তাদের আন্দোলন অহিংস। সেখানে পরিস্থিতি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পরিকল্পিতভাবে সু-প্রভাত বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

আগুনে বাসটির দুটি সিট পুরোপুরি পুড়ে গেছে। বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরাই বাসটির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সড়কে অবস্থান নিয়ে অহিংস বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। তারা রাস্তা অবরোধ করে স্লোগান দিচ্ছেন। ‘নিয়মের চক্রে মরে শেষ হচ্ছি’; ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’; আবিরের বুকে রক্ত কেন?, কয়লার সড়কে রক্ত কেন?; ‘নিরাপদ সড়ক চাই; ভাইয়ের বুকে রক্ত কেন?; ‘প্রশাসনের প্রহসন মানি না মানব না’; ‘জেগেছে রে জেগেছে ছাত্রসমাজ জেগেছে’; ‘সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ হোক’; ‘আমার ভাইয়ের বুকের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’; ‘আবরার তোর স্মরণে, ভয় পাই না মরণে’ স্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছে বসুন্ধরা গেট সংলগ্ন এলাকা।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা গেট এলাকায় সু-প্রভাত বাসের চাপায় বিইউপি’র শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী নিহত হন।

দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রিসাইডিং অফিসারসহ পাঁচজন নিহত

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার কংলাক থেকে নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রিসাইডিং অফিসারসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় সাতজন আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

বাঘাইছড়ি থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মঞ্জুরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন

জাতির পিতার সমাধিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জম্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়ায় সমাধি সৌধে বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার সকাল সোয়া ১০টায় ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে অভ্যর্থনা জানান।

সকাল ১০টা ২০ মিনিটে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ প্রথম জাতির জনকের সমাধিতে পুষ্পস্তাবক অর্পন করে শ্রদ্ধা জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাধি সৌধে ফুল দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

এরপর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সমাধি সৌধের পাশে রক্ষিত পরিদর্শন বইয়ে মন্তব্য লিখে সেখানে স্বাক্ষর করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু ভবনে চলে যান।

সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রীপরিষদের সদস্যদের নিয়ে জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এ সময় আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা আমীর হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুর করিম সেলিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, মুহাম্মাদ ফারুক খান, এমপি সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, ডেপুটি স্পিকার অ্যাড. ফজলে রাব্বী, তথ্যমন্ত্রী চৌধুরী হাসান মাহমুদ, ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ, সংসদ সদস্য শেখ হেলাল, শেখ জুয়েল, আকরাম উদ্দিন আহম্মদসহ আওয়ামী লীগ নেতা উপস্থিত ছিলেন । 

নুনু মিয়ার পক্ষে ভোট চাইলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নুনু মিয়ার পক্ষে ভোট চেয়েছেন। নৌকা প্রতীকে এবার বিশ্বনাথ উপজেলা থেকে লড়ছেন তিনি।

এছাড়া আওয়ামী লীগ মনোনীত ওই উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলতাব হোসেনের তালা ও জুলিয়া বেগমের কলস প্রতীকেও ভোট চান তিনি।বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে নতুনবাজারে নুনু মিয়ার সমর্থনে বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এক পথসভার আয়োজন করা হয়। ওই সভায় আওয়ামী লীগের তিন প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন মুহিত। এ সময় সাধারণ মানুষের কাছে নৌকায় ভোট চান তিনি । উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পংকি খানের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক আমির আলী, মকদ্দছ আলী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আজিজ সুমনের যৌথ পরিচালনায় পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। জনসভায় ওই প্রার্থী ছাড়াও আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।-সূত্র: সময় নিউজ।

চালের বাজারে কারসাজিতে কুষ্টিয়ার ব্যবসায়ীসহ নিয়ন্ত্রণ করছেন দেশের চার-পাঁচ জন বড় ব্যবসায়ী

 । দেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় হচ্ছে চালের বাজার। আর তাই সরকার প্রতিনিয়ত চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে। যদিও কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী প্রয়োজনীয় এই পণ্যটি নিয়ে বছরের পর বছর ধরে চালবাজি করে যাচ্ছে। কখনো সরবরাহ ঘাটতি, কখনো মিলাররা অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন, চালের পাইকারি বাজারে মূল্যবৃদ্ধিতে এমন অজুহাত চলছে দিনের পর দিন। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নিজেদের ইচ্ছেমতো মুনাফা নিচ্ছেন এসব বড় ব্যবসায়ী। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, দেশের চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন চার-পাঁচ জন বড় ব্যবসায়ী। তাই হঠাৎ হঠাৎ চালের দাম বেড়ে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মৌসুমের শুরুতেই কম দামে ধান ও চাল কিনে গোডাউন ভর্তি করেন আড়তদার ও মজুদদাররা। পরে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করে ‘লালে লাল’ হচ্ছেন তারা। বিভিন্ন সময়ে অভিযান চললেও থেমে থাকে না এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি। আর এভাবেই কিছুদিন পরপরই বাড়ছে চালের দাম এবং এতে বেকায়দায় পড়ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। গত শনিবার (৯ মার্চ) রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানে চাল সিন্ডিকেটকারীদের কথা স্বীকার করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। প্রতিযোগিতা কমিশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন নতুন সরকার গঠন করলাম তার কয়েক দিনের মধ্যেই হঠাৎ চালের বাজার বেড়ে গেল। তখন আমি খাদ্যমন্ত্রীসহ চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করলাম। তারপর আমরা জানতে পারলাম দেশে মাত্র চার-পাঁচ জন বড় ব্যবসায়ী চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন। তাদের মধ্যে একটা যোগসাজশ তৈরি হয়। ব্যবসায়ীদের মধ্যে এ ধরনের যোগসাজশ থাকলেই সাধারণ জনগণ ক্ষতির মুখে পড়ে।
বাণিজ্যমন্ত্রীর এ কথার তীব্র প্রতিবাদ জানান বগুড়ার শান্তাহারের নাহিদ অ্যারোমেটিক অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী আহম্মেদ আলী সরদার স্বপন। তিনি বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রীর এ কথা আমি কোনোভাবেই বিশ্বাস করি না। কারণ চাল মিল মালিকদের অবস্থা এখন ভালো নেই। বড় ব্যবসায়ীরা বেশি ঋণ পাচ্ছেন। যেমন ৫ কোটি টাকার মিলের মালিক ৫০ কোটি টাকা ঋণ পাচ্ছেন। আবার ২০ লাখ টাকার মিলের মালিক ১০ লাখ টাকা কিংবা ১০ লাখ টাকার মিলের মালিক ঋণ পাচ্ছেন এক লাখ টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ১০-১২ বছর আগে দেশে প্রায় ২০ হাজার চাতালের পাশাপাশি প্রায় ১২শ থেকে ১৫শ অটো রাইস মিল ছিল। কিন্তু চালের সে বাজার এখন কেন্দ্রীভূত হচ্ছে মুষ্টিমেয় কয়েকটি শিল্প গোষ্ঠীর হাতে। সরকার ও ব্যাংক থেকে নানা সুবিধা পেয়ে তারা ফুলে-ফেঁপে উঠছে। বিপরীতে হাত গুটিয়ে নিচ্ছেন মাঝারি ব্যবসায়ীরা। মুখচেনা সেই কয়েকটি গোষ্ঠীর খেয়াল-খুশিতেই চালের বাজার জিম্মি হয়ে আছে। চালের বাজারে সবচেয়ে বড় অস্থিরতা সৃষ্টি হয় ২০১৭ সালে। এ সময় প্রতি কেজি চালে প্রায় ১৮-২০ টাকা দাম বেড়ে যায়। অবৈধভাবে চাল মজুদকারীদের গ্রেপ্তারে সারা দেশে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চালের গুদামে অতিরিক্ত মজুদের অভিযোগে বাংলাদেশ রাইস মিল এসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়া হয়। অটো রাইস মিলের মালিক আবদুর রশিদের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। ‘মিনিকেট রশিদ’ নামেও পরিচিত তিনি। কুষ্টিয়া ও নওগাঁয় তার চালের মিল ও গুদাম আছে। লায়েক আলীর বাড়ি জয়পুরহাটে। ৪০ টন সক্ষমতার হাসকিং মিল ‘মদিনা চালকল’ রয়েছে তার। তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এক অনুষ্ঠানে বলেন, রশিদ বিএনপির অর্থ জোগানদাতা। লায়েক আলী জামায়াতের রাজনীতি করেন। তারাই ষড়যন্ত্র করে চালের বাজার অস্থির করেছেন। এ ছাড়া কুষ্টিয়ায় সরকারি একটি গোয়েন্দা সংস্থা অনুসন্ধান চালায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলায় ৫০০ মিলের মধ্যে ৭০টি মিলে চালের অস্বাভাবিক মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি হাস্কিং এবং ২০টি অটোমেটিক রাইস মিলও রয়েছে। আর মজুদের শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে রশিদ অ্যাগ্রো ফুড, বিশ্বাস অ্যাগ্রো ফুড, দাদা রাইস মিল, স্বর্ণা রাইস মিল, ব্যাপারী এবং থ্রি স্টার রাইস মিল। তবে সে সময় আপাতত বাজার স্থিতিশীল হয়ে আসায় সরকারের সে হুঁশিয়ারি আর এগোয়নি। বরং সেসব ব্যবসায়ীই হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ নিয়ে ধান মজুদ করে সিন্ডিকেশন করছে বলে এখনো অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে কথা হয় বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম খোরশেদ আলম খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, মুখচেনা কয়েকটি শিল্পগ্রুপ এ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি অভিযোগ করেন, এ বছর আমি ব্যাংকঋণ পেয়েছি ৫০ লাখ টাকা, যা তিন দিন ধান কিনলেই শেষ হয়ে যাবে। অথচ কুষ্টিয়ার রশিদ রাইস মিল দেড় হাজার কোটি টাকা ঋণ পেয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তারা সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও ইএফ ফান্ডের টাকা পেয়েছে।

বিনা ভোটে চেয়ারম্যান হচ্ছেন নৌকার ১১০ জন প্রার্থী

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথম চার ধাপ মিলে বিনা ভোটে চেয়ারম্যান হচ্ছেন নৌকা প্রতীকের অন্তত ১১০ জন প্রার্থী। বুধবার (১৩ মার্চ) চতুর্থ ধাপের ১২২টি উপজেলায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে সরে যান বেশ কয়েকটি উপজেলার নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। এতে অন্তত ৪০টি উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ভোট করতে হচ্ছে না।

এর আগে প্রথম ধাপে বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন ১৫ জন। দ্বিতীয় ধাপে বিনা ভোটে ২৫ এবং তৃতীয় ধাপে ভোট ছাড়া জিতেছেন নৌকা প্রতীকের ৩০ জন। চার ধাপেই বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে অন্তত ১১০ জনে।

প্রসঙ্গত, এবার পাঁচটি ধাপে নির্বাচন হচ্ছে দেশের ৪৯০টি উপজেলায়। এই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করছে না।

১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা ভোট

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৮ মার্চ। নির্বাচনে অপরাধ বিচার করার জন্য পাঁচদিনে উপজেলা প্রতি একজন করে বিচারিক হাকিম নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) সংস্থাটির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইব্রাহিম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণে ১৫ জেলার ১১৭ উপজেলায় নির্বাচনী অপরাধে শাস্তি প্রদানের জন্য ১১৭ জন বিচারিক হাকিম কাজ করবেন। তারা ১৬ মার্চ থেকে ২০ মার্চ ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। মেট্রোপলিটন হাকিম, বিচারিক হাকিম ও জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমদের এ দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়েছে।

এবার পাঁচ ধাপে উপজেলাগুলোর ভোটগ্রহণ শেষ করবে নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। তিন পৌরসভায় ভোট ১৫ এপ্রিল

এদিকে দেশের তিনটি পৌরসভার বিভিন্ন পদে উপ-নির্বাচনের সময় দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ১৫ এপ্রিল ভোটগ্রহণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

এক্ষেত্রে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদ, মৌলভীবাজার বড়লেখা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদ এবং জামালপুর ইসলামপুরের ৩ নম্বর সাধারণ কাউন্সিলর পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ডাকসুতে পুনঃভোটের দাবিতে ছয় শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে

ভোট কারচুপির অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ ও হল সংসদে নতুন করে নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) রাতে হলের মূল ফটকের ভেতরে ছাত্রীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। অপরদিকে ডাকসুর পুনঃতফসিলের দাবিতে আমরণ অনশন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থী।

গতকাল (মঙ্গলবার) দিনভর ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলোর পক্ষ বিপক্ষের নানা ধরনের কর্মকাণ্ড দেখা গেলেও রাত ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের ভেতরে হঠাৎই বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা। হল সংসদ নির্বাচনে রোকেয়া হলের প্রভোস্ট জিনাত হুদার বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ করেন ছাত্রীরা।

তাদের দাবি, পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা। ছাত্রলীগ প্যানেলের প্রার্থীরা ছাড়া অন্য সংগঠনের প্রার্থীরা বিক্ষোভে অংশ নেন। রাতভর থেমে থেমে চলে বিক্ষোভ আর স্লোগান। তালাবন্ধ ফটকের ভেতরেই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এবং অংশগ্রহণকারীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ঘটনার প্রতিবাদ জানান।

তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ডাকসু নির্বাচন বাতিল কোরে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে অনশন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ছয় শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যকের পাদদেশে অনশন শুরু করেন তারা। তাদের দাবি, ডাকসু নির্বাচনের ফল বাতিল কোরে দ্রুত পুনঃ তফসিল দিতে হবে। এসময় উপাচার্য ও প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং অন্য পাঁচ রিটার্নিং কর্মকর্তার পদত্যাগের দাবিও জানান তারা।

অনশনরত এক শিক্ষার্থীরা বলেন, নির্বাচনটা সুষ্ঠু ছিল না। আমরা যারা শিক্ষার্থী ছিলাম তারা দেখেছি, গণমাধ্যমে সেটা দেখিয়েছে। এই প্রহসনের নির্বাচনের জন্য যারা দায়ী তাদেরকে দায় স্বীকার করে সকলকে পদত্যাগ করতে হবে।

সবকিছু ছাপিয়ে দাবি পূরণ হবে এমনটাই প্রত্যাশা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের।

টাঙ্গাইলে নির্মাণাধীন ভবন ধসে ১৮ শ্রমিক আহত

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবন ধসে ১৮ শ্রমিক আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা মামুন মিয়া জানান, রাত ১২টার দিকে ১২ তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। এসময় হঠাৎ ছাদের ২য় তলার পশ্চিম প্রান্তের উত্তর কোণা ভেঙে পড়ে যায়।

এতে চাপা পড়ে ১৮ শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিরাজুল ইসলাম জানান, ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ১৮ শ্রমিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে সেখানে তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ছাড়া গুরুতর তিনজনকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

রাজশাহীর হরিয়ানে ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় সারা দেশের সঙ্গে রাজশাহীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সোমবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সুপারিনটেনডেন্ট আমজাদ হোসেন জানান, মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাজবাড়ী থেকে রাজশাহী রেল স্টেশনের উদ্দেশে আসছিল। পথে হরিয়ান রেলওয়ে স্টেশনের কাছে একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ ঘটনার পর থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

ডাকসুর ফলাফল ‘অস্বাভাবিক’: রিজভী

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু নির্বাচনের ফলাফল ‘অস্বাভাবিক’ উল্লেখ করে এতে ‘ক্ষমতাসীনদের ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার কথা বলেছে বিএনপি। ডাকসুর নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করেন। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

রিজভী বলেন, ‘এই ফলাফল অস্বাভাবিক ও অনেক অসামঞ্জস্য। ছাত্র সংগঠনের যে নির্বাচনগুলো হয়, তাদের ভিপি থেকে সদস্য পর্যন্ত একটা ফিক্সড প্যানেল ভোট থাকে। এই প্যানেল ভোটটা সবাই পায়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, ছাত্রলীগের যিনি ভিপি-জিএস এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের যিনি ভিপি-জিএস এর মধ্যে প্যানেল ভোটের অনেক পার্থক্য।’

রিজভী বলেন,‘সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কোনো কারিগরি হয়েছে বা সেই কারিগরির কোনো ব্লু প্রিন্ট ফুলার রোডে ভাইস চ্যান্সলরের বাসভবনে হয়েছে কিনা এটা বলা যাবে দুই-একদিন পর। আগে সব ফলাফল নিয়ে বিশ্লেষণ করি আমি দেখি। তবে এখন পর্যন্ত মনে হয়েছে এটা অস্বাভাবিকই বটে।’

অনিয়মের অভিযোগের পর অধিকাংশ প্যানেলের প্রার্থীদের বর্জনের মধ্যে সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু ও হল সংসদগুলোতে ছাত্রলীগ একচেটিয়া বিজয়ী হয়েছে। ভিপি পদে শুধু বিজয়ী হয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নেতা নুরুল হক নুর।

রিজভী বলেন, ‘গতকাল ডাকসুর ইতিহাসের নজিরবিহীন ঘটনা ঘটালো। মিডনাইট ভোটের সরকারের ফতোয়া শুনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ‘ভূতের বেগার’ খেটে বিশ্ববিদ্যালয় সুমহান ঐতিহ্যকে ধুলোয় লুটিয়ে দিলেন। সরকার যেহেতু বিরোধীদের এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়তে নারাজ তাই আজ্ঞাবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডাকসু নির্বাচন করলেন প্রহসন ও সন্ত্রাসী বার্তা বরণে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসির অতৃপ্ত আত্মাকে নিজের দেহে ধারণ করলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রখ্যাত কবি আল-মাহমুদ তার এক কবিতায় লিখেছিলেন, ‘জানতে সাধ জাগে’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কি ডাকাতদের গ্রাম?’ তিনি কেন এ কবিতা লিখেছিলেন আমি জানি না। এই বরেণ্য কবির ওই কবিতার লাইনটি প্রমাণ করলো গতকাল ছাত্রলীগ। তবে এই ছাত্রলীগ নামধারী বর্গী ও মগদের অভয়ারণ্যের মধ্যেও উদ্দীপ্ত প্রাণের সাহসী তরুণরা ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে রক্তরঞ্জিত হয়েও প্রতিবাদ করেছে অমিতবিক্রমে। আমি মনে করি এই প্রতিবাদের অংশ নিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কোটা সংস্কার আন্দোলনের ছাত্ররা ও বাম ছাত্র সংগঠনগুলো প্রমাণ করেছে তারা আলোর পথের যাত্রী।’

সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সাহিদা রফিক, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল আউয়াল খান, শামসুজ্জামান সুরুজ, কাজী রফিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ডাকসু ভিপি নুরুলকে অভিনন্দন জানালেন ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরের সঙ্গে দেখা করলেন ছাত্রলীগ সভাপতি ও ভিপি পদে পরাজিত প্রার্থী রেজওয়ানুল হক শোভন। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের টিএসসিতে গিয়ে নুরের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।  

টিএসসিতে পৌঁছেই নুরুকে পেয়ে জড়িয়ে ধরেন শোভন। উভয়ে তখন হাস্যজ্জ্বোল ছিলেন।

এ সময় নুরু বলেন, তিনি স্বাগত জানাতে এসেছেন। অভিনন্দন জানিয়েছেন। আমিও তাকে স্বাগত জানিয়েছি। ছাত্রলীগ সভাপতি বলেছেন তারা আমাদের সঙ্গে একসাথে কাজ করতে চান। আমরা একসাথে কাজ করতে আগ্রহী।

নুরু আরও বলেন, আমরা চেয়েছিলাম একটা দৃষ্টান্তমূলক নির্বাচন হোক। কিন্তু বিভিন্ন অনিয়ম কারচুপির কারণে আমাদের সেই আশা পূরণ হয়নি।

এছাড়া আজ ও গতকাল নুরুসহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল ঘোষিত ক্লাস বর্জন কর্মসূচি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন নবনির্বাচিত ভিপি নুরু।

ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন বলেন, আমরা নুরুকে সার্বিক সহায়তা করবো। এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকবো।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে বিজয়ী হয়েছেন কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর। তিনি ১১ হাজার ৬২ ভোট পেয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে বিজয়ী হয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তিনি পেয়েছেন ১০ হাজার ৪৮৪ ভোট। গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে এ ফল ঘোষণা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালেয়ের ভিসি ড. মো. আখতারুজ্জামান।

বিএনপি না থাকায় উপজেলা নির্বাচন নিয়ে কোন উত্তাপ নেই

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের শুরুটা হলো কোন ধরনের উত্তাপ ছাড়াই।

প্রিজাইডিং অফিসার গ্রেফতারসহ কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও এই ভোট নিয়ে ভোটারদের মধ্যে তেমন আগ্রহ একটা দেখা যায় নি।

প্রথম ধাপের নির্বাচনে অনেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

স্থানীয় পর্যায়ের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের এই হাল কেন?

রোববার নানা অনিয়মের অভিযোগে ২৪টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এর মধ্যে একটি ছিল সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার মাহমুদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র।

সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা জানিয়েছেন, সেখানে রাতের বেলা ব্যালটে সিল মারার অভিযোগে রোববার সকালে একজন প্রিজাইডিং অফিসার ও দুইজন সহকারি প্রিজাইডিং অফিসারকে আটক করা হয়েছে।

এর বাইরে কুড়িগ্রাম ও হবিগঞ্জে কয়েকটি কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাই এর অভিযোগ উঠেছে। সিলেটে একটি কেন্দ্রে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

পাঁচ ধাপের এই নির্বাচনের প্রথম ধাপে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের ১২টি জেলার ৭৮ উপজেলায় এই নির্বাচন হল।

এই সবগুলি উপজেলা মিলিয়ে প্রায় দেড় কোটি ভোটার রয়েছেন।

সাধারণত স্থানীয় সরকার পর্যায়ের নির্বাচনে যে ধরণের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিস্থিতি থাকে, সেটা এবার অনুপস্থিত।

স্থানীয় পর্যায়ের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের এই হাল কেন?

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ব্রতীর নির্বাহী পরিচালক শারমিন মুর্শিদ বলছেন, “এটা সহজেই অনুমেয়। প্রথম কথা হল সব দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে যেভাবে হতো, তখন সকলে একরকম ভাবে অংশগ্রহণ করতো। তখন বেশ একটা ব্যাপকতা ছিল।”

“এখন যেহেতু দলীয়ভাবে নির্বাচন হচ্ছে, দলগুলোর অংশগ্রহণ যদি না থাকে তাহলে সেই ব্যাপকতা তো আর থাকবে না স্বাভাবিকভাবেই।”

বাংলাদেশে ৩০শে ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের কারচুপির অভিযোগ করেছে বিএনপি সহ বিরোধী রাজনৈতিক জোট।

একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কিনা সেই প্রশ্ন তুলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে বিরত রয়েছে বিএনপি ও তার শরীক দলগুলো। জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশ না থাকার ক্ষেত্রে কতটা ছাপ ফেলেছে?

শারমিন মুর্শিদ বলছেন, “আমাদের জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচন নানাভাবে কনট্রোভারসিয়াল হয়েছে। বিরোধী দলগুলো যারা আছে, তাদের ভেতরে এই ধরনের আশংকা একটা হতে পারে যেহেতু অনেক অনিয়মের প্রশ্ন উঠেছিলো। সেই একই রকম হয় কিনা। সেই কারণে অনীহার যায়গাটা তৈরি হতে পারে।”

আর দলকে ভোটের মাঠে না পেয়ে সেই দলের ভোটাররাও হতাশ হতে পারেন বলে মনে করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে প্রথম ধাপের নির্বাচনে ইতোমধ্যেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান পদে ১৫ জন ও ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ১৩ জন নির্বাচিত হয়েছেন।

একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব কতটা পালন করেছে?

সেই প্রশ্ন রেখেছিলাম কমিশনের সচিব হেলালুদ্দিন আহমদের কাছে।

তিনি বলছেন, “সংসদ নির্বাচনকে নানা দলকে নিয়ে আসার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের দায় থাকে। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে কিন্তু আমাদের এত দায় থাকেনা। স্থানীয় সরকারের নির্বাচন হল লোকাল গভমেন্ট মিনিস্ট্রির অনুরোধের প্রেক্ষিতে আমরা এটা করে থাকি। কে দাঁড়াবে কে দাঁড়াবে এটার অপশন ফ্রি থাকে।”

কিন্তু সামনে এই নির্বাচনের যে ধাপগুলো রয়েছে সেখানেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন আরও অনেকে। সেই ধাপ গুলোতেও ভোট কতটা আগ্রহ তৈরি করবে সেই প্রশ্ন এখনি উঠছে।

তবে অনেকের ধারণা বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করাই উপজেলা নির্বাচন নিয়ে কোন উত্তাপ নেই ।

 

ডাকসু নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি : তোপের মুখে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা

ডাকসু নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়ম হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক এসএম মাহফুজুর রহমান।

সোমবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে রোকেয়া হল থেকে বের হওয়ার সময় তোপের মুখে পড়েন তিনি।

এ সময় প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

পরে তিন শিক্ষার্থী তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।

জানা গেছে, বেগম রোকেয়া হল ভোটকেন্দ্র থেকে তিনটি ব্যালটবাক্স সরিয়ে ফেলার অভিযোগ করেছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা।

এ ছাড়া ট্রাংকভর্তি ব্যালট উদ্ধারের পর রোকেয়া হলে ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে।

এ ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরে সেখানে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক এসএম মাহফুজুর রহমান আসেন। তিনি কেন্দ্রের অন্যান্য শিক্ষকের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বের হয়ে যাওয়ার সময় তিনি তোপের মুখে পড়েন।

সোমবার সকালে ভোট শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আসতে শুরু করে।

বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল থেকে বস্তাভর্তি সিল মারা ছাত্রলীগ প্যানেলের ব্যালট উদ্ধার করা হয়।

পরে শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের প্রতিবাদের মুখে প্রায় তিন ঘণ্টা সেখানে ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল।

এ ছাড়া ভোট জালিয়াতির অভিযোগে শিক্ষার্থীরা প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ ও প্রক্টর ড. একেএম গোলাম রাব্বানী ও হল প্রভোস্ট শবনম জাহানকে অবরোধ করে রাখেন।

এ সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা প্রোভিসির প্রাইভেটকারটি জালভোটের ব্যালট দিয়ে ঢেকে দেন। ভোট জালিয়াতিকে তারা লজ্জার ভোট বলে স্লোগান দেন।

এ ঘটনায় হল কুয়েত মৈত্রী হলের প্রভোস্ট শবনম জাহানকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ডাকসু নির্বাচনের ভোট শুরুর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলে ব্যালটবাক্স না দেখানোর প্রতিবাদে ভোট প্রদান বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ডাকসু নির্বাচনে ভোট বর্জন, ভিসির পদত্যাগ চায় ছাত্রলীগ ছাড়া সবাই

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোট শুরুর আগেই ছাত্রলীগ প্যানেলের প্রার্থীদের পক্ষে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোট প্রদানে বাধা, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মারধরসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রলীগ ছাড়া সবকটি প্যানেল ভোট বর্জন করেছে। একই সঙ্গে ভিসির পদত্যাগ দাবি করেছে তারা।

সোমবার (১১ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী চারটি প্যানেলের পক্ষে এই ঘোষণা দেন। পরে পৃথক সংবদা সম্মেলনে একই ঘোষণা দেন ছাত্রদল।

এদিকে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। অবিলম্বে নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়ে ক্যাম্পাসে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিটন নন্দী বলেন, কুয়েত মৈত্রী হলে বস্তা ভর্তি সিল মারা ব্যালট পাওয়া গেছে। এস এম হলে ছাত্রলীগের ছাড়া অন্য কোনো দলের লিফলেটিং করতে দেয়া হয়নি।

রোকেয়া হলে ১ ঘণ্টা পর ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। রোকেয়া হলে ৩টা ব্যালট বাক্স আলাদা করে রাখা হয়। সেখানে বাক্স দেখতে চাইলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। তাদের উপস্থিতিতে ভিপি প্রার্থী নুরুল হক নুরুর ওপর আক্রমণ হয়। জিয়া হলে ভোট দিয়ে আবার লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। দুই-তিন ঘণ্টা হবার পরেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে পারছে না। মহসীন হলে আমরা ঢুকতে গেলে আমরা ঢুকতে পারি নাই।

এসব কারণে প্রশাসনের প্রতি ঘৃণা জানিয়ে আমরা ভোট বর্জন করছি। বর্জন করা প্যানেলের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য, স্বাধীকার স্বতন্ত্র পরিষদ ও স্বতন্ত্র জোট।

পরে আলাদা সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলও একই ঘোষণা দেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নির্বাচনের সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে ভোট ডাকাতির এই নির্বাচন আমরা বর্জন করলাম।

ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে মারধরের শিকার ভিপি প্রার্থী নুরুল হক নুরু

ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে মারধরের শিকার ও লাঞ্চিত হয়েছেন ডাকসু নির্বাচেন ভিপি প্রার্থী নুরুল হক নুরু। আজ দুপুর বারোটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, দুপুরে ভিপি প্রার্থী ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভন ও জিএস প্রার্থী সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী তাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে রোকেয়া হলে যান।

 

এসময় কোটা আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও ভিপি প্রার্থী নুরুল হক নুরুও সেখানে যান। এরপরই ছাত্রলীগের ছেলে ও মেয়ে কর্মীরা তার উপর হামলা চালায়। পরে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ডাকসু নির্বাচনে কুয়েত মৈত্রী হলে বস্তাভর্তি সিল মারা ব্যালট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে আজ সোমবার কুয়েত মৈত্রী হলে বস্তাভর্তি সিল মারা ব্যালট পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ব্যালটে ছাত্রলীগের হল সংসদের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেওয়া ছিল। এরপর এই হলের ভোট গ্রহণ স্থগিত হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

কুয়েত মৈত্রী হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভাষ্য, আজ সকাল আটটায় ভোট গ্রহণ শুরুর কথা থাকলেও ঘণ্টাখানেক আগে থেকেই অন্যান্য হলের মতো এখানেও ছাত্রীদের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। সাড়ে সাতটার দিকে নির্বাচনে প্রার্থীরা হল প্রভোস্টের কাছে তাঁদের সামনে ব্যালট বক্স খোলার দাবি করেন। তবে তাঁদের সামনে বাক্স খোলা হয়নি। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে হলে প্রক্টর আসেন। এরপর প্রক্টর ও হল প্রভোস্ট মিলে ব্যালট বাক্স হলের রিডিংরুমে নিয়ে যান। এরপর ছাত্রীরা গিয়ে রিডিং রুম থেকে বস্তাভর্তি ব্যালট পান।

হলের স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী নুরুন্নাহার কলি অভিযোগ করেন, তাঁরা একটি বস্তা পান। আরও কয়েকটি বস্তা ছাত্রলীগের কর্মীরা নিয়ে গেছেন। এসব ব্যালটে ছাত্রলীগের হল সংসদের প্রার্থীদের পক্ষে ক্রসচিহ্ন বা ভোট দেওয়া ছিল।

প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেছেন, ‘সিল মারা ব্যালটের সত্যতার প্রমাণ আমরা পেয়েছি।

’এ ঘটনার পর কুয়েত মৈত্রী হলে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য মুহাম্মদ সামাদ। তিনি বলেন, এ হলে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি নির্বাচনী কমিটিতে তুলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যাবে। 

সূত্র: প্রথম আলো।

প্রথম ধাপের ভোট শান্তিপূর্ণ : ইসি সচিব

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ২৮টি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি মনে করছে, এই নির্বাচনে ভোট মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হয়েছে।

রোববার (১০ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে প্রথম ধাপের ভোট শেষে ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘চার বিভাগের ১২ জেলার ৭৮ উপজেলায় নির্বাচন হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে যে তথ্য এসেছে, তাতে মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাঁচ হাজার ৮৪৭টি কেন্দ্রে ভোট হয়েছে। তার মধ্যে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ২৮টি কেন্দ্রের ভোট বাতিল করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোতে পরবর্তী সময় ভোটগ্রহণ হবে। অন্যান্য কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে।’

‘প্রথম ধাপের যে উপজেলা নির্বাচন হয়েছে, নির্বাচন কমিশন মনে করে, মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে’, যোগ করেন ইসি সচিব।

হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘কত শতাংশ ভোটার উপস্থিত ছিল, সেই তথ্য আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। তবে আমরা যা জেনেছি, তাতে ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক। তবে এখন পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতির হার আমাদের কাছে আসেনি।’

সব রাজনৈতিক দল অংশ নিলে ভোটার উপস্থিতি বাড়ত কি না, জানতে চাইলে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘যখন সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে, তখন ভোটার উপস্থিতি বাড়া স্বাভাবিক।’

শাস্তির বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘অনিয়মের অভিযোগে সিরাজগঞ্জে দুইজন প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর লালমনিরহাটের পাটগ্রামে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়াও অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার দায়ে ১০ জনের অধিক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ রোববার সকাল ৮টায় শুরু হয়ে শেষ হয় ৪টায়।

ইতোমধ্যে প্রথম ধাপে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মোট ২৮ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭ জন।

ইসির তথ্য মতে, ৭৮ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা এক কোটি ৪২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫০ জন। মোট ভোটকেন্দ্র পাঁচ হাজার ৮৪৭টি। প্রথম ধাপে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে চেয়ারম্যান ২০৭ জন, ভাই চেয়ারম্যান ৩৮৬ জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান ২৪৯ জন

১২ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠান পাচ্ছেন স্বাধীনতা পুরস্কার

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠান ২০১৯ সালের রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন।

রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

স্বাধীনতা ‍ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য এবার এ সম্মাননা পাচ্ছেন শহীদ বুদ্ধিজীবী মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী (মরণোত্তর), শহীদ এটিএম জাফর আলম (মরণোত্তর), আ ক ম মোজাম্মেল হক, ইঞ্জি. মোশাররফ হোসেন, ডা. কাজী মিসবাহুন নাহার, মরহুম আবদুল খালেক (মরণোত্তর)।

এ ছাড়া মরহুম অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ (মরণোত্তর), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম, ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, মুর্তজা বশীর, হাসান আজিজুল হক, অধ্যাপক ড. হাসিনা খান ও একটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে মনোনীত বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কার তুলে দেবেন।

এটি দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর এ পুরস্কার দিচ্ছে সরকার।

স্বাধীনতা পদকের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ১৮ ক্যারেট মানের পঞ্চাশ গ্রাম স্বর্ণের পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, ৩ লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেয়া হয়।

এক বছরে বাংলাদেশ বিমানের লোকসান ২০১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী জানিয়েছেন, গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেটেড এর ২০১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এই অর্থবছরে বিমানের মোট আয় ছিল ৪ হাজার ৯৩১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ১৩৩ কোটি ১১ লাখ টাকা।

রোববার সংসদে প্রশ্নোত্তরে গাজী শাহ নওয়াজের (হবিগঞ্জ-১) এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এই তথ্য জানান।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী জানান, এর আগের তিন অর্থবছরে বিমান লাভে ছিল। তার মধ্যে ২০১৬-১৭ সালে ৪৬ কোটি ৭৬ টাকা, ২০১৫-১৬ সালে ২৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ২০১৪-১৫ সালে ২৭৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা লাভ করেছে বিমান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, গত অর্থবছরে উড়োজাহাজের জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির কারণে খরচ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন ও এয়ারক্রাফট ক্রু মেইনটেনেন্স ইনুস্যুরেন্স (এসিএমআই) ভিত্তিতে উড়োজাহাজ ব্যবহারের কারণে বিমানকে ২০১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা লোকসান দিতে হয়েছে।

লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, বিমানকে লাভজনক করার লক্ষ্যে নতুন নতুন রুট চিহ্নিতকরণ এবং বর্তমান লাভজনক রুটে ফ্রিকুয়েন্সি বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন গন্তব্য হিসেবে গুয়াংজু, মদিনা, কলম্বো মালে ইত্যাদি রুটে অদূর ভবিষ্যতে বিমানের সার্ভিস চালু করা হবে। এ ছাড়া এয়ারক্রাফট ক্রু মেইনটেনেন্স ভিত্তিতে গৃহীত উড়োজাহাজের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ABOUT US

এটি একটি অনলাইন খবরের তথ্য ভান্ডার। যা কুষ্টিয়াকে সমৃদ্ধ করতে তথ্য নির্দেশ করে।

This is a online news portal.
Which contain directory of enriched kushtia.