জাতীয় খবর

জাতীয় খবর আমার কুষ্টিয়া হতে প্রকাশিত

প্রাথমিকের শিক্ষকদের সন্তানকে সন্তানরা কিন্ডার গার্টেন স্কুলে ভর্তি হতে পারবে না

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের সন্তানরা কিন্ডার গার্টেন (কেজি) স্কুলে ভর্তি হতে পারবে না। দ্রুত এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। মঙ্গলবার ঢাকা জেলার সাভার, দোহার, ধামরাই ও নবাবগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন একটি করে নতুন ইংরেজি শব্দ শেখানো হচ্ছে। সে হিসাবে বছরে প্রতি ক্লাসে ২২৫টি নতুন শব্দ শিখতে পারছে শিশুরা। বিষয়টি মনিটরিংয়ে সারাদেশে ৬৩ জন মাঠ পর্যায় কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ক্লাসে পাঠদানের জন্য আমরা একটি ইউনিক লেসন প্ল্যান তৈরি করে দেব। এর মাধ্যমে নানা রকম দুর্নীতি দূর করা সম্ভব হবে।’

সকল শিক্ষার্থীদের একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে চাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা নতুন একটি জাতি গঠনে ডিজিটালাইজড করার দিকে বেশি গুরত্ব দিচ্ছি। যার প্রতিফলন হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমাদের ছোটখাটো যে সকল সমস্যা রয়েছে তা নিরসন করা হবে। নতুন করে ৫০ হাজার ভবন নির্মাণ করা হবে। নতুন নতুন আধুনিক পদ্ধতিও চালু করা হবে।’

আমি মন্ত্রী হয়েছি তো কী হয়েছে- এমন প্রশ্ন তুলে শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা জাতি গঠনের হাতিয়ার। সমাজে আপনারা অনেক সম্মানিত ব্যক্তি। আমি এখনো আমার শিক্ষককে দেখলে তাকে কদমবুচি করি। পাকিস্তানের শিক্ষকদের চাইতে আপনারা অনেক ভালো আছেন। হালালভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেন, তবেই সোনার বাংলা গড়া সম্ভব হবে।’

কেজি স্কুলে শিক্ষার্থীরা কেন ভর্তি হচ্ছে প্রশ্ন তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা (শিক্ষকরা) সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে অভিভাবকরা তাদের সন্তানকে কেজি স্কুলে ভর্তি করাবে না। তাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকরা তাদের সন্তানদের কেজি স্কুলে ভর্তি করাতে পারবেন না।’ দ্রুত এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা জারি করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা সচিব আকরাম আল হাসান বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলী কার্যক্রম নিয়ে অনেক ঝামেলা হয়। অনেক শিক্ষক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে থাকেন। যদি এমন অভিযোগ পাওয়া যায় তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘দুই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত করা হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীদের বইয়ের বোঝা কমে যাবে, কেজি স্কুলের দিকে আর কেউ ঝুঁকবে না।’

ভিডিও কনফারেন্সের সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উইং প্রধান, কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিকের ‘সহকারী শিক্ষক’ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা আগামী ১৫ মার্চ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক’ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা আগামী ১৫ মার্চ থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পরীক্ষা শুরুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়। তবে এসএসসি পরীক্ষার কারণে তা পিছিয়ে মার্চে নেয়া হয়েছে। এবার পরীক্ষা পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এ এফ এম মনজুর কাদির বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১৮’ পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৫ মার্চ থেকে লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ায় নিয়োগ পরীক্ষা মার্চে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ পাবলিক পরীক্ষার জন্য পরীক্ষা কেন্দ্র সংকট থাকায় লিখিত পরীক্ষ ৪টি অথবা ৫টি ধাপে আয়োজন করা হবে।’ নিয়োগ-সংক্রান্ত সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সভা সূত্রে জানা গেছে, এবার নিয়োগ পরীক্ষা সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড পদ্ধতিতে নেয়া হবে। নির্ধারিত জেলায় পরীক্ষা আয়োজনের আগের রাতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রশ্নপত্রের সকল সেট পাঠানো হবে। পরীক্ষার দিন সকাল ৮টায় প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে তা কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হবে।

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, সারাদেশে ১২ হাজার পদে ২৪ লাখের বেশি আবেদনকারী হওয়ায় এবার প্রথমবারের মতো লিখিত পরীক্ষা কয়েকটি ধাপে আয়োজন করা হবে। তবে এবার একসঙ্গে সকল জেলার ফল প্রকাশ করা হবে না। যে জেলার পরীক্ষা আগে শেষ হবে সেখানে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে আগেই মৌখিক পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। এভাবে যে জেলার পরীক্ষা আগে শেষ হবে পর্যায়ক্রমে আগেই মৌখিক পরীক্ষা আয়োজন করে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে।

কর্মকর্তারা জানান, পাশাপাশি বসা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ যাতে একই সেট না পায় সেই জন্য এবার ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রার্থীদের প্রশ্ন সেট নির্ধারণ করা হবে। পরীক্ষার্থীর রোল নম্বরের ওপর প্রশ্ন সেট নির্ধারণ করা হবে। এবার পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শক নিয়োগের ক্ষমতা কেন্দ্র সুপারের কাছে থাকছে না। এক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষককে অন্য প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেয়া হবে। সেন্ট্রাল থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শকদের শুধু দায়িত্ব বুঝে দেবেন কেন্দ্র সুপার।

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনজুর কাদির বলেন, ‘স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে নিয়োগ পরীক্ষায় আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। পরীক্ষার দিন প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। যদি কেউ কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে লিপ্ত হয় তাহলে পরীক্ষা কেন্দ্রে তাকে বহিষ্কার করে সেই প্রার্থীর খাতা বাতিল করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা পদ্ধতি ডিজিটালাইজড করতে আমরা বুয়েটের সহায়তায় একটি আধুনিক সফটওয়্যার তৈরি করেছি। সেই সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীর সিট বিন্যাস, পরিদর্শক নির্বাচনসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে, অন্যান্য বারের চাইতে ২০১৮ সালের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে রেকর্ডসংখ্যক প্রার্থী আবেদন করেছেন। গত বছরের ১ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শেষ হয়। এ সময়ের মধ্যে ২৪ লাখের বেশি আবেদন জমা হয়েছে। তার মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪ লাখ ৫২ হাজার ৭৬০টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩ লাখ ৮২ হাজার ৩৩৫টি, রাজশাহী বিভাগে ৩ লাখ ৬২ হাজার ৯২৫টি, খুলনা বিভাগে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৭৩০টি, বরিশাল বিভাগে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৮২৭টি, সিলেট বিভাগে ১ লাখ ২০ হাজার ৬২৩টি, রংপুর বিভাগে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৩৬৮টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২ লাখ ৮২ হাজার ৪৩৭টি আবেদন জমা হয়েছে।

ডিপিই কর্মকর্তারা জানান, সর্বশেষ নিয়োগে প্রায় ১২ লাখ প্রার্থী আবেদন করেছিল। এই হিসাবে এবার আবেদনকৃত প্রার্থীর সংখ্যা এবার দ্বিগুণ। গত নিয়োগে সারাদেশে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬৬২। এবার দ্বিগুণ প্রার্থী হওয়ায় কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে নেয়ার জন্য মন্ত্রণালয় ২০ সেটের বেশি প্রশ্নপত্র তৈরি করা হবে। পরীক্ষার সময়সূচি, ওএমআর ফরম ডিজাইন ও মূল্যায়ন, ফলাফল প্রকাশ কার্যক্রম কোন পদ্ধতিতে করা হবে তা বুয়েট কর্তৃক নির্ধারণ করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। এবারও আগের মতোই লিখিত ও মৌখিক দুই স্তরেই পরীক্ষা নেয়া হবে। আগের নিয়ম অনুযায়ী এমসিকিউ পদ্ধতির লিখিত পরীক্ষা ৮০ নম্বর ও ভাইভায় ২০ নম্বর থাকবে।

প্রার্থীরা dpe.teletalk.com.bd ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। এ ছাড়া ওএমআর শিট পূরণের নির্দেশাবলী এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য ওয়েবসাইট (www.dpe.gov.bd) এ পাওয়া যাবে।

প্রবীণ সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর আর নেই

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক প্রবীণ সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর (৭২) আজ বুধবার রাত ১টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)।

আমানুল্লাহ কবীরের মৃত্যুর খবর তার ছেলে শাতিল কবীর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

আমানুল্লাহ কবীর ডায়াবেটিস ও লিভারের নানা জটিলতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বছরের শুরুতে অসুস্থতার কারণে আমানুল্লাহ কবীর শ্যামলীর ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে ধানমণ্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ইবনে সিনা থেকে তাকে বিএসএমএমইউতে নেওয়া হয়।

প্রবীণ সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর ১৯৪৭ সালের ২৪ জানুয়ারি জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন। সাংবাদিকতা জগতে রয়েছে তার সাড়ে চার দশকের অবদান।

২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে দেশের প্রথম অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন আমানুল্লাহ কবীর।

বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশো অনুষ্ঠানগুলোতে আমানুল্লাহ কবীর ছিলেন নিয়মিত অালোচক।

আমানুল্লাহ কবীর বাংলা দৈনিক আমার দেশ ও ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফের (বর্তমানে বিলুপ্ত) প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী সম্পাদ ছিলেন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) ব্যবস্থাপনা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এস এম আলীর সম্পাদনায় প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের শুরুর দিকের বার্তা সম্পাদক ছিলেন তিনি।

ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্বের কাতারে ছিলেন প্রবীণ এই সাংবাদিক।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৫০টির মধ্যে ৪৭ আসনে অনিয়ম হয়েছে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৫০টির মধ্যে ৪৭ আসনে অনিয়ম হয়েছে। ৩০০ আসনের মধ্য থেকে দৈবচয়নের (লটারি) ভিত্তিতে এই ৫০ আসন বেছে নেয়া হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রকাশিত এক প্রাথমিক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত আসনগুলোতে আওয়ামী লীগ ৪০, জাতীয় পার্টি ছয়, বিএনপি এক, গণফোরাম দুই এবং অন্যান্য দল একটি আসনে জয়ী হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সারাদেশের বেশিরভাগ কেন্দ্র আওয়ামী লীগসহ মহাজোটের নেতাকর্মীদের দখলে থাকার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ ভূমিকা পালনে সমর্থ হয়নি।

মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ও প্রতিবেদন পাঠ করেন গবেষক দলের শাহজাদা এম আকরাম।

গত বছরের নভেম্বর থেকে শুরু করে ভোটের দিন ও চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদক প্রকাশ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

নির্বাচনে যত অনিয়ম

অনিয়মগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর নীরব ভূমিকা ৪২ আসনে, জাল ভোট দেয়া ৪১ আসনে, নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে রাখা ৩৩ আসনে, বুথ দখল করে প্রকাশ্যে সিল মেরে জাল ভোট ৩০ আসনে, পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া ও কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া ২৯ আসনে, ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া ২৬ আসনে, ভোটারদের জোর করে নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করা ২৬ আসনে, ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া ২২ আসনে, আগ্রহী ভোটারদের হুমকি দিয়ে তাড়ানো ২১ আসনে, ব্যালট বাক্স আগে থেকে ভরে রাখা ২০ আসনে, প্রতিপক্ষ দলের প্রার্থীর নেতাকর্মীদের মারধর করা ১১ আসনে, পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া ২৯ আসনে এবং ১০ আসনে কোনও এজেন্ট ছিল না।

জাতীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ২৫৭, জাতীয় পার্টি ২২, বিএনপি ছয়, গণফোরাম দুই, স্বতন্ত্র তিন ও অন্যান্য দল নয়টি আসনে জয়ী হয়। ভোটের দিন সারা দেশে ২৪ জেলায় নির্বাচনী সহিংসতার ফলে ১৮ জনের মৃত্যু হয় এবং ২০০ জন আহত হন।

সুপারিশ

প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়, সৎ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেয়া; নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ অন্যান্য অংশীজনদের দলীয় প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ রাখতে হবে; নির্বাচনে সহিংসতা ও বলপ্রয়োগসহ নির্বাচনী আচরণবিধির বহুমুখী লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত ও তার ওপর ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্তের উদ্যোগ নেয়া, আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে তাদের ব্যর্থতা নিরূপণ করা, নির্বাচন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজ করা, নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের তথ্য সংগ্রহের জন্য অবাধ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে, সে পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য এ ধরনের নির্বাচন ইতিবাচক নয়। এ জন্য আমরা বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছি।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, ‘এই নির্বাচনে প্রচুর ত্রুটি রয়েছে। আগামী নির্বাচনগুলোতে যাতে ত্রুটি না হয়, সেজন্য যে সরকারই আসুক না কেন, তাদের প্রতি আহ্বান থাকবে।’

ঘন কুয়াশা আর কনকনে শীতে বিপর্যস্ত উত্তরাঞ্চল

ঘন কুয়াশা আর কনকনে শীতে বিপর্যস্ত পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের জনজীবন। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষ। পঞ্চগড়ে কনকনে ঠাণ্ডার কারণে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না বেশিরভাগ মানুষ।

কুয়াশার কারণে দিনের বেলায় হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। রাস্তার পাশে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকেই। মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঠাকুরগাঁওয়ে কয়েকদিন ধরে বেড়ে চলেছে শীতের তীব্রতা। ঘনকুয়াশায় ঢাকা পড়েছে চারদিক। শীত উপেক্ষা করে কাজের সন্ধানে বের হতে হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষদের

মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ৫ জন নিহত

হ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলেই ৫ জন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিজয়নগরের বীরপাশা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

খাটিহাতা হাইওয়ে পুলিশ থানার ওসি মোহাম্মদ হোসেন সরকার এ তথ্য জানিয়েছেন।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।

স্থানীয়রা জানায়, মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে রাস্তার পাশের গাছে ধাক্কা লাগে। পরে সেটি খাদে পড়ে যায়। আহত তিনজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

নারী শিক্ষা নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখা দিলেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী

‘মেয়েদের স্কুল-কলেজে দিবেন না। বেশি হলে ক্লাস ফোর বা ফাইভ পর্যন্ত পড়াতে পারবেন।’ সম্প্রতি নারী শিক্ষা নিয়ে এমন বক্তব্য দিয়ে দেশব্যাপী সমালোচনার জন্ম দেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

তবে তার এই বক্তব্য ভুলভাবে গণমাধ্যমে উপস্থাপিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

শনিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আল্লামা শফী দাবি করেন, মাহফিলে দেয়া তার বক্তব্যের একটি খণ্ডাংশ বিভিন্ন মিডিয়ায় ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

হাটহাজারী মাদ্রাসার মুখপাত্র মাসিক মুঈনুল ইসলামের নির্বাহী সম্পাদক সরওয়ার কামাল প্রেরিত ওই বিবৃতিতে হেফাজত আমির বলেন, বক্তব্যে আমি মূলত বলতে চেয়েছি ইসলামের মৌলিক বিধান পর্দার লঙ্ঘন হয়, এমন প্রতিষ্ঠানে নারীদের পড়াশোনা করানো উচিত হবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এখানে শিক্ষা থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনাসহ যাবতীয় সব কিছুই রয়েছে। ইসলামে নারীদের শিক্ষার বিষয় উৎসাহিত করা হয়েছে এবং সবাই অবগত যে, উম্মুল মুমিনিন হজরত মা আয়েশা (রা.) ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস। তিনি শিক্ষাগ্রহণ না করলে উম্মত অনেক হাদিস থেকে মাহরুম হয়ে যেত।

ইসলামের একটি মৌলিক বিধান হচ্ছে পর্দা উল্লেখ বিবৃতিতে তিনি বলেন, নারীদের পর্দার বিষয় ইসলামে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। আমি আমার বক্তব্যে বলতে চেয়েছি, শিক্ষাগ্রহণ করতে গিয়ে যেন পর্দার বিধান লঙ্ঘন করা না হয়। কারণ আমাদের দেশের বেশিরভাগ সাধারণ শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সহশিক্ষা দেয়া হয়, অর্থাৎ ছেলেমেয়ে একই সঙ্গে শিক্ষাগ্রহণ করে থাকে। এতে করে পর্দার লঙ্ঘন হয়। আমি মূলত এই সহশিক্ষা গ্রহণেই মানুষকে সতর্ক করতে চেয়েছি।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আমাকে নারীবিদ্বেষী ও নারী শিক্ষাবিদ্বেষী বলে প্রচার চালানো হচ্ছে এমন অভিযোগ এনে আল্লামা শফী বলেন, সংবাদমাধ্যমে আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছে। আমি কওমিপন্থী ছয় বোর্ডের নিয়ন্ত্রণকারী হাইয়াতুল উলইয়ালিল জামিয়াতিল কওমিয়ার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বপালন করছি। আপনারা জানেন যে, ওই ছয় বোর্ডের অধীনে হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সনদ গ্রহণ করে থাকেন। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান প্রদান করেছেন। এতে করে আমাদের দেশের লাখো মাদ্রাসাছাত্র ও ছাত্রীরা দাওয়ারে হাদিস পাস করে মাস্টার্সের সমমান অর্জন করছেন। যে সম্মিলিত বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিয়ে হাজার হাজার নারী রাষ্ট্র স্বীকৃত উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত বলে পরিগণিত হচ্ছে, সেই বোর্ডের প্রধান হয়ে আমি কীভাবে নারী শিক্ষার বিরোধী হলাম তা বোধগম্য নয়।

হেফাজত আমির বলেন, নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে নই, তবে নারীর জন্য নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয় আমরা আগেও সতর্ক করেছি, এখনো করছি। আমরা চাই নারীরা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হোক, তবে সেটা অবশ্যই নিরাপদ পরিবেশে থেকে এবং ইসলামের মৌলিক বিধানকে লঙ্ঘন না করে। শিক্ষাগ্রহণ অবশ্যই জরুরি, তবে সেটা গ্রহণের জন্য আমরা আমাদের কন্যাদের অনিরাপদ পরিবেশে পাঠাতে পারি না।

‘আমি চাই এ দেশের নারীরা শিক্ষিত হোক, কারণ মা শিক্ষিত হলেও সন্তান সঠিক শিক্ষা পাবে। নারীদের শিক্ষা গ্রহণের জন্য পরিবেশ তৈরি করুন। যেখানে পরিচালক থেকে শুরু করে কর্মকর্তারা সবাই নারী থাকবেন। সে ধরনের শিক্ষাদানের ব্যবস্থা থাকলে আমরা তাতে উৎসাহিত করব।

বিএনপি’র তৃণমূল নেতারা আগামী উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিতে চায়

মার্চের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপি’র তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেলেও বিপরীত অবস্থানে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটেই দলটির শীর্ষ নেতারা আর উপজেলা নির্বাচনে যেতে আগ্রহী নন । কিন্তু তৃণমূলের নেতারা বলছেন, স্থানীয় নির্বাচনে জয় ঘরে তোলার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতিই তাদের রয়েছে।

জাতীয় নির্বাচন শেষে গেল সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন উপজেলা নির্বাচন নিয়ে তাদের প্রস্তুতির কথা জানান দেয়ার পর থেকে তৃণমূলের বিএনপি’তে শুরু হয়েছে এমনই উৎসাহের জোয়ার। এক্ষেত্রে তারা সর্বশেষ সংসদ নির্বাচন নয়, হিসাব কষছেন, ৫ বছর আগের উপজেলা নির্বাচনে তাদের ভোটের প্রাপ্তিকে। ময়নমনসিংহ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল ইসলাম মো ওয়ালিদ বলেন, ‘আমি গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী থেকে ৫০ হাজার ভোট বেশি পেয়েছিলাম। দল যদি নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং মনোনয়ন দিলে আমি অবশ্যই নির্বাচন করবো।’ বিএনপির বেশ কয়েকজন তৃণমূলের নেতা বলেন, ‘আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত। যদি দল নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয় আমরা অংশগ্রহণ করবো।’

কিন্তু তৃণমূলের এই হিসাব-নিকাশ মানতে পারছেন না কেন্ত্রীয় নেতৃত্ব। তাদের ভাষায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে যা হয়েছে, আসন্ন উপজেলা নির্বাচন তা থেকে ভিন্ন কিছু হবে না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে এই মুহুর্তে নির্বাচন বলে কিছু নাই। যেখানে নির্বাচন নাই সেখানে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আলোচনা থাকে না।’

গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকেই জরুরি হিসেবে দেখছেন কেন্দ্রের নেতারা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘কঠিন সময় এখন। জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে মালিকানা ফিরে পেতে চায়।’

৩০শে ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফল প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি’সহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। জোটের নির্বাচিত ৮ এমপি’ও শপথ নেবেন না বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

১০ বছরে জনগণের সেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে বলেই মানুষ ভোট দিয়ে আবারও বিজয়ী করেছে

 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ গত ১০ বছরে জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে বলেই মানুষ ভোট দিয়ে নির্বাচনে আবারও বিজয়ী করেছে। জনগণ বুঝতে পেরেছে শুধু আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলেই তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়, দেশের উন্নয়ন হয়। দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এটি মনে করে বলেই সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তারা নির্বিশেষে সমর্থন দিয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আটটি আসন পাওয়া বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে সংসদে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি মনোনয়ন বাণিজ্য না করলে হয়তো আরো কয়েকটি আসন তারা (ঐক্যফ্রন্ট) পেতে পারত। তার পরও যে কয়টি আসনে তারা জিতেছে, গণতন্ত্রের স্বার্থে তারা যদি চায়, তাদের এই পার্লামেন্টে আসা প্রয়োজন।

গতকাল শনিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যৌথ সভার সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব এ কথা বলেন। সূচনা বক্তব্যের পর রুদ্ধদ্বার সভা অনুষ্ঠিত হয়। ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো দলীয় নেতারা আনুষ্ঠানিক এ যৌথ সভায় মিলিত হলেন। এতে বেশির ভাগ নেতা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গণভবনে ২০১৮ সালের ৬ জুলাই যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আরো পাঁচ বছরের জন্য আমরা ম্যান্ডেট পেলাম। বাংলাদেশের ইতিহাসে আওয়ামী লীগই দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। জনগণ সে আস্থা, বিশ্বাস রেখেছে। কাজেই জনগণের প্রতি আমাদের কর্তব্য অনেক বেড়ে গেছে। আমাদের এখন একটাই চিন্তা করতে হবে যে আমরা যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছি সেগুলো যেমন বাস্তবায়ন করতে হবে, তেমনি বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য আরো কী কী করতে পারি, সে সিদ্ধান্তও নিতে হবে।’

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জনগণের জন্য স্বর্ণযুগ ছিল দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিন্তু ষড়যন্ত্র কখনো থেমে যায় না। ২০০১ সালে চক্রান্ত করে আমাদের ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হয়নি। আমরা ভোট বেশি পেলাম; কিন্তু সরকার গঠন করতে পারলাম না। ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের জীবনে যে দুর্বিষহ অবস্থা ছিল, সেটা আমরা সবাই জানি। সেটা নিয়ে আর আমার বেশি বলার প্রয়োজন নেই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৮ সালে আমরা সরকার গঠন করার পর থেকে আমাদের যেটা লক্ষ্য ছিল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে তুলব এবং দেশের প্রত্যেক মানুষের কাছে স্বাধীনতার সুফল পৌঁছাতে পারে, সেভাবে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছি বলেই মানুষের এই উপলব্ধিটা এসে গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার থাকলে তারা ভালো থাকে, তাদের জীবনমান উন্নত হয়। তাদের দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত হতে হয় না। তারা শান্তিতে থাকতে পারে। তাদের অর্থনৈতিক উন্নতি হয়, এটা তারা উপলব্ধি করতে পারে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০১৪ সালে আবার আমরা সরকার গঠন করি। আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা একটানা ১০ বছর হাতে সময় পেয়েছিলাম; যার ফলে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে একটা উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় আমরা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে পেরেছি। তার ফলে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জয়লাভ করতে পেরেছি।’ টানা তৃতীয় মেয়াদে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পাওয়ায় তিনি দেশের সব স্তরের মানুষের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ এবং ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি মনোনয়ন বাণিজ্য নিয়ে নিজেদের মধ্যে কোন্দল-মারামারি করেছে। বিজয়ী হওয়ার মতো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। সকালে একজন, বিকেলে আরেকজনকে মনোনয়ন দিয়েছে। মানুষ জানতে পেরেছে এদের চরিত্রটা কী। এদের চরিত্র শোধরায়নি। বাংলাদেশের জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির প্রধান দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত, যাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান করা হয়েছে, সে-ও খুনি, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা ও  দুর্নীতির মামলায় বিদেশে পলাতক, তখন তাদের এমন ফল বিপর্যয় স্বাভাবিক।’

শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা মাঠে-ঘাটে, টেলিভিশনে দেখেছেন কিভাবে তারা প্রচেষ্টা চালিয়েছিল নির্বাচনটা যেন বানচাল করা যায়। কিন্তু তা তারা পারেনি। এখন বিএনপি নির্বাচনে হেরেছে, এই দোষটা তারা কাকে দেবে? দোষ দিলে তাদের নিজেদের দিতে হয়। কারণ একটি রাজনৈতিক দলের যদি নেতৃত্ব না থাকে, মাথাই না থাকে, তাহলে সেই রাজনৈতিক দল কিভাবে নির্বাচনে জয়ের কথা চিন্তা করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটুকু বলতে পারি যে আমরা যখন সরকারে এসেছি, আমরা দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছি, জনগণের জন্য কাজ করেছি। আমরা কিন্তু কোনো রিভেঞ্জ নিতে চাইনি বা আমরা কাউকে কোনো হয়রানিও করতে যাইনি। তাদের কৃতকর্মের জন্য বা দুর্নীতির জন্য যে মামলা হয়েছে সে মামলা আপন গতিতে চলবে। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। কাজেই সেভাবেই চলবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, এবারের নির্বাচনে সব থেকে লক্ষণীয় বিষয় ছিল, মানুষের মধ্যে একটা স্বতঃস্ফূর্ততা এবং ভোট দেওয়ার জন্য আগ্রহ। বিশেষ করে এ দেশের তরুণসমাজ, যারা প্রথম ভোটার এবং নারীসমাজের। এবারের নির্বাচনটা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে হলেও কিছু জায়গায় বিএনপি-জামায়াত জোট মিলে কোথাও ব্যালট বাক্স ছিনতাই করতে গেছে। কোথাও তারা নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করেছে এবং তাদের এই অপকর্মের কারণে বেশ কিছু প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে দলীয় নেতাকর্মী অনেক আছে।

বক্তব্যের শুরুতে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক প্রকাশ করা হয়।

১৯ জানুয়ারি মহাসমাবেশ : আগামী ১৯ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। গতকালের যৌথ সভায় আরো জানানো হয়, ২০২০-২১ মুজিব বর্ষ পালন করবে আওয়ামী লীগ। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ পূর্ণ হবে। এ উপলক্ষে ওই বছর থেকে পরের বছর ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত ‘মুজিব বর্ষ’ পালন করা হবে। ওই বছর মার্চে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীও পালন করবে সরকার।

সভায় সিপিবি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তাব দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মুকুল বোস। তিনি বলেন, তাঁরা সংবাদ সম্মেলনে বলেছে, নির্বাচনে আগেই বাক্স ভরা ছিল। এই মিথ্যা অভিযোগের জন্য সিপিবি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হোক। কিন্তু তাঁর এই প্রস্তাব নাকচ করে দেন শেখ হাসিনা।

সভায় আসন্ন উপজেলা পরিষদের নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতীয় নির্বাচনের অ্যাচিভমেন্ট উপজেলা নির্বাচনেও ধরে রাখতে হবে। এ জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একের অধিক প্রার্থী হওয়া যাবে না।

আগামীকাল থেকে শ্রমিকরা কাজে না ফিরলে কারখানা বন্ধ : বিজিএমইএ

আগামীকাল থেকে শ্রমিকরা কারখানায় কাজ না করলে তাহলে কোন মজুরি প্রদান করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

রোববার দুপুরে পোশাক শিল্পে উদ্ভূত পরিস্হিতি বিষয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।

নতুন মজুরি কাঠামো অনুযায়ী প্রতিশ্রুত মজুরি এবং মজুরি কাঠামোর পরিবর্তনের দাবিতে গত বেশ কয়েকদিন ধরেই কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন পোশাক শ্রমিকরা।

আবার অস্থিতিশীল চালের বাজার....

 চাল নিয়ে চাল বাজিতে হঠাৎ করেই নতুন বছরের (২০১৯ সাল) শুরুতে ধান ও চালের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। এতে ক্ষুব্ধ সাধারণ ক্রেতারা। মান ভেদে ধানের দাম মনে বেড়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। আর চালের দাম ৫০ কেজির বস্তায় বেড়েছে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। সে হিসাবে নতুন বছরে কেজিতে ধানের দাম বেড়েছে আড়াই থেকে ৩ টাকা। আর চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ৬ টাকা।

অভিযোগ উঠেছে- চালের মিল মালিকরা কারসাজি করে চালের দাম বাড়ি দিচ্ছেন। তবে মিল মালিকদের একটি পক্ষের দাবি চালের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। সরকারের বেঁধে দেয়া দামের মধ্যেই চাল বিক্রি হচ্ছে। আর ব্যবসায়ীদের একপক্ষ থেকে বলা হচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে চালের দাম কমে স্বাভাবিক হয়ে আসবে। কারণ বর্তমানে ধান বা চালের কোনো ঘাটতি নেই।

গত দুই দিনে বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় দিন বা বুধবার থেকে চালের দাম বাড়া শুরু হয়। বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে ভালো মানের মিনিকেট চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৪ থেকে ৫৮ টাকা, যা নির্বাচনের আগে ছিল ৫০ থেকে ৫২ টাকা। সে হিসাবে মিনিকেট চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪ থেকে ৬ টাকা।

তবে সব থেকে বেশি বেড়েছে মাঝারি মানের চালের দাম। বর্তমানে মাঝারি মানের চাল বিআর-২৮ ও লতা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ৩৮ থেকে ৪২ টাকা। অর্থাৎ নতুন বছরে মাঝারি মানের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৬ টাকা।
নির্বাচনের আগে ৩৪ থেকে ৩৬ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মোটা চালের দাম বেড়ে হয়েছে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। এ হিসাবে মোটা চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা।

বগুড়া সুবাদ বাজারের এক ধান ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম বলেন, কয়েকদিন ধরেই ধানের দাম একটু বাড়তি। সব ধরনের ধানের দাম মণে ১০০ থেকে ১২০ টাকা বেড়েছে। ধানের দাম বাড়ার এই প্রভাব পড়েছে চালের দামের ওপরে।

ঢাকার খিলগাঁও তালতলা মার্কেটের মেসার্স আল্লারদান রাইস স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. জানে আলম ভূঁইয়া বলেন, তিন-চারদিন ধরে চালের দাম বাড়তি। প্রথমে রশিদের চালের দাম বেড়েছে। এরপর একে একে সব কোম্পানি চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই ব্যবসায়ী বলেন, নির্বাচনের আগে ৫০ কেজির এক বস্তা মিনিকেট চাল বিক্রি করেছি ২৬০০ থেকে ২৬৫০ টাকা। এখন সেই চাল ২৭৫০ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। ১৯৫০ টাকা বিক্রি করা বিআর-২৮ চালের বস্তা এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ২২৫০ টাকা। এভাবে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে।

বগুড়া কাহালুর ধান ব্যবসায়ী সোবহান বলেন সব ধরনের চালের দাম বাড়তি। দুই-তিনদিনের মধ্যে সব ধরনের চালের দাম কেজি ৫ থেকে ৬ টাকা বেড়ে গেছে। হঠাৎ কি কারণে যে চালের দাম এমন বাড়লো কিছুই বুঝতে পারছি না। বাবুবাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মিল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
চালের দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, এখন চালের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। বন্যা, খরা, বৃষ্টি কোন কিছুই হয়নি। সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে। তাহলে কেন চালের দাম বাড়বে। চালের দাম বাড়ার যদি কোনো কারণ থাকে তাহলো সিন্ডিকেট। মিল মালিকেরা সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, চালের দাম বাড়ানোর এই সিন্ডিকেটের মূলহোতা রশিদ (রশিদ এগ্রো ফুট প্রডাক্টস লিমিটেডের মালিক মো. আব্দুর রশিদ)। কোনো কারণ ছাড়াই নির্বাচনের পর রশিদের চালের দাম বস্তায় বাড়ানো হয়েছে ৩০০ টাকা। দেশে কি এমন ঘটল যে হঠাৎ করে চালের দাম এমন বাড়িয়ে দিতে হবে। চালের দাম স্বাভাবিক করতে হলে মিল মালিকদের সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। সেই সঙ্গে বাজারে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে।

বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং ওনার অ্যাসোসিয়েশনের কুষ্টিয়া সদর থানা আহবায়ক হোসেন বলেন, নির্বাচনের পর থেকে ধানের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে চালের বাজারও তার কিছুটা প্রভাব পড়েছে এবং চালের দাম কিছুটা বেড়ে গেছে।

চালের দাম বাড়ার জন্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল আজিজ। পাবনার ঈশ্বরদীর রোজ এগ্রো প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক আবদুল আজিজ বলেন, নির্বাচনের কারণে সরবরাহে কিছু সমস্যা হয়েছিল, যে কারণে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে সার্বিকভাবে দেশে চালের কোনো সংকট নেই। আগামী সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে চালের দাম কমে যাবে। ইতোমধ্যে আমরা হাসকি চালের দাম বস্তায় প্রায় ২০০ টাকা কমিয়ে দিয়েছি। ঢাকার বাজারে দাম কমতে হয় তো দুই-একদিন সময় লাগবে।

বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং ওনার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও রশিদ এগ্রো ফুট প্রডাক্টস লিমিটেডের মালিক মো. আব্দুর রশিদ’র সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

 
 

ভুঁইফোড়’ অনলাইনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ তাঁর কর্মদিবসের প্রথম দিনেই সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ‘ভুঁইফোড়’ অনলাইনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনার কথা জানান৷ প্রশ্ন উঠেছে, ‘ভুঁইফোড়’ কীভাবে চিহ্নিত করা হবে? আর ব্যবস্থা কারা,কিভাবে নেবে?

তথ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার ‘ভুঁইফোড়’ অনলাইনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলতে গিয়ে এর প্রেক্ষাপটও বর্ণনা করেছেন৷ তিনি বলেছেন,‘‘বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক হারে ইন্টারনেট গ্রাহক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোর জনপ্রিয়তাও বেড়েছে৷ এই সুযোগে তৈরি হয়েছে অনেক ভূঁইফোড় অনলাইন সংবাদমাধ্যম৷ অনেকে ফেসবুকে বিভিন্ন মনগড়া খবরও ছড়াচ্ছে৷ ভুল তথ্য পরিবেশন করায় অনেকের চরিত্র হননের ঘটনাও ঘটে৷ তাই এসব অনলাইন গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷’’
তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘‘বাংলাদেশে অনলাইন মিডিয়ার ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে৷ এটা শেখ হাসিনার হাত ধরেই হয়েছে৷ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই অনেকগুলো বেসরকারি টেলিভিশনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে৷ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই প্রধানমন্ত্রী দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন৷’’

নির্বাচনের আগে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন(বিটিআরসি) নিউজ পোর্টালসহ ৫৮টি অনলাইন বন্ধ করে দেয়৷ বন্ধের একদিন পর আবার সবগুলো খুলে দিয়ে ৫৪টি আবার বন্ধ করে দেয়া হয়৷ অর্থাৎক ৫৮টি থেকে চারটি নিউজ পোর্টাল খোলা থাকে৷ এগুলো হলো: ঢাকাটাইমস, রাইজিংবিডি, পরিবর্তন ও প্রিয়ডটকম৷ তবে এই অনলাইনগুলো কেন বন্ধ করা হলো আর কেনইবা পরে আবার চারটি খুলে দেয়া হলো তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি বিটিআরসি৷

বাংলাদেশে সরকারের পক্ষ থেকে অনলাইন নিউজ পোর্টালের অনুমোদন দেয়ার কোনো পদ্ধতি এখনো নেই৷ তবে অনলাইন ও সম্প্রচার নীতিমালা করা হয়েছে৷ অনলাইনগুলো ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে কোম্পানি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে তাদের কাজ চালাচ্ছে৷ তথ্য মন্ত্রনালয় অবশ্য অনুমোদন দেয়ার জন্য প্রায় দুই বছর আগে অললাইনগুলোর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট ফরমে আবেদন আহ্বান করেছিল৷ গত বছরের জানুয়ারি মাসে তখনকার তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সংসদে জানিয়েছিলেন, নিবন্ধনের জন্য দুই হাজার ১৮টি অনলাইন আবেদন করেছে৷ কিন্তু বাস্তবে কতটি অনলাইন আছে তার কোনো হিসাব তথ্য মন্ত্রনালয়ের কাছে নেই৷

নিবন্ধনের জন্য তথ্যমন্ত্রনালয়ে আবেদন করেছেন এরকম কয়েকটি অনলাইনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, আবেদনের পর তথ্য মন্ত্রনালয় থেকে একটি প্রতিনিধি দল তাদের অফিস পরিদর্শন এবং অবকাঠামোগত অবস্থা দেখে গেছেন৷ পুলিশ তথ্য যাচাইয়ের কাজও করেছে৷ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও নিয়ে গেছে৷ কিন্তু এরপর আর কোনো খবর নেই৷ নিবন্ধন দেয়ার বিষয়টি ঝুলে আছে৷ নিবন্ধন না দেয়ায় সরকার চাইলে যে-কোনো অনলাইন যে-কোনো সময় বন্ধ করে দিতে পারে৷ তাছাড়া ওই অনলাইনগুলো এখন সরকারি বিজ্ঞাপনও পাচ্ছে না৷

গত অক্টোবরে মন্ত্রিসভা ‘সম্প্রচার আইন-২০১৮’-এর খসড়া অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা৷ আর তাতে বলা হয়, সম্প্রচার নীতিমালার আওতায় একটি কমিশন গঠন করা হবে৷ ঐ কমিশন হবে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, যার গঠন হবে অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে৷ কমিশন গঠন করতে হবে ৭ সদস্যের, যার মধ্যে একজন নারীও থাকবেন৷

এ কমিশন সম্প্রচার যন্ত্রপাতির লাইসেন্স দেবে৷ অনলাইন গণমাধ্যমের নিবন্ধন দেয়ার ক্ষেত্রে কমিশনের একক কর্তৃত্ব থাকবে৷ কমিশনের কাজ হবে সম্প্রচার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করা৷ এছাড়া বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের নতুন লাইসেন্সের অনুমোদন দেয়া হবে কিনা, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়া৷ একই সঙ্গে একটি অনলাইন নীতিমালা ও সম্প্রচার নীতিমালারও খসড়া করা হয়েছে৷ এই নীতিমালা নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা রয়েছে৷
বাংলাদেশে এখন অনলাইন গণমাধ্যম ওইসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী চলছে৷ আর নীতিমালা ও নিবন্ধন না থাকায় এর সুযোগ নিচ্ছে সরকার৷

তাই তথ্যমন্ত্রী যে বলেছেন ‘ভুঁইফোড়’ অনলাইনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় হবে সেটা কিভাবে নেয়া হবে এই প্রশ্ন উঠেছে৷ আর সেটা তথ্য মন্ত্রণালয় নিতে পারবে কিনা তা-ও প্রশ্নসাপেক্ষ৷

অনলাইন নিউজ পোর্টাল সারাবাংলাডটনেট এবং জিটিভি’র প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমি হঠাৎ করেই তথ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যে হতাশ হয়েছি৷ প্রথমত আমরা অনেক দিন ধরেই অনলাইন গণমাধ্যমের জন্য একটি নীতিমালা চেয়ে আসছি৷ আমরা আশা করেছিলাম এই নীতিমালাটি চূড়ান্ত করার ব্যাপারে তিনি কথা বলবেন৷ দ্বিতীয়ত, সরকার একটি গণমাধ্যমকর্মী আইন করতে যাচ্ছে৷ তাঁর উচিত ছিল সেই গণমাধ্যমকর্মী আইনে অনলাইনকে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে তা দেখে কথা বলা৷ সব দেখে তিনি একটা সার্বিক কথা বলতে পারতেন৷’’

তিনি বলেন, ‘‘আমরা জানি, অনেক অনলাইনে অনেক সমস্যা আছে৷ কোনোটা পেশাদারিত্বের সাথে চলছে, কোনোটা চলছে না৷ কোনোটা এক ব্যক্তিনির্ভর, কোনোটা একটি ল্যাপটপনির্ভর৷ তিনি যে ‘ভুঁইফোড়’-এর কথা বলেছেন তার সংজ্ঞা কী? সুতরাং আগে ভুঁইফোড়-এর সংজ্ঞা নির্ধারণ করা প্রয়োজন৷ তারপরে তাঁর বলাটা যৌক্তিক হতে পারত৷’’

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘এক ধরনের শঙ্কা তো তৈরি হয়েছে৷ নির্বাচনের আগে কতগুলো অনলাইন বন্ধ করে দেয়া হলো৷ আবার পরে কিছু বন্ধ রেখে কিছু খুলে দেয়া হলো৷ এসব ঘটনায় আমার কাছে মনে হয়েছে এমন একটা নির্দেশনা দেয় যে, আমরা আসলে কোনো সিস্টেমের মধ্যে থাকছি না৷ আমার কথা হলো, তিনি (তথ্যমন্ত্রী) যেটা বলেছেন তা যদি বাস্তবায়ন করতে চান তার আগে এর স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে, অনলাইন নীতিমালা চূড়ান্ত করতে হবে৷’’
আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. সফিউল আলম ভূঁইয়া ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মন্ত্রী মহোদয় যে ভুঁইফোড় অনলাইন গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন, এটা গুরুত্বপূর্ণ কথা৷ অনেক দিন ধরেই এটা নিয়ে কথা হচ্ছে৷ কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কিভাবে নেবেন? অনলাইন নীতিমালার কথা বলা হচ্ছে৷ সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় যে সম্প্রচার আইন অনুমোদন দেয়া হয়েছে সেখানে জাতীয় সম্প্রচার কমিশনের কথা বলা হয়েছে৷ এই কমিশনটা এখন গঠন করা জরুরি৷ তারাই কেবল তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ এবং যাচাই-বাছাই করে অনলাইন অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে৷ কিছু অনলাইনের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর পরিবেশনের অভিযোগ আছে৷ সেগুলোর বিরুদ্ধে যেমন ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন, তেমনি যারা পেশাদারিত্বের সাথে খবর পরিবেশন করে, তারা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তা-ও দেখতে হবে৷’’

এই ধরনের অভিযোগ তো কিছু পত্রিকা বা টেলিভিশনের বিরুদ্ধেও রয়েছে৷ তাহলে ব্যবস্থা কী সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় নেবে, না স্বাধীন কোনো কমিশন নেবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘সম্প্রচার মাধ্যম এবং অনলাইনের বিরুদ্ধে যদি কোনো ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন পড়ে, তাহলে তা সম্প্রচার কমিশনের মাধ্যমে এবং পত্রিকার বিরুদ্ধে প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে তা করা উচিত৷ অন্যথায় জনমনে ধারণা হতে পারে যে, সরকার নিয়ন্ত্রণমূলক হয়ে উঠছে৷’’-ডয়চে ভেলে

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে তার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় রাজধানীর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর জাতির জনকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। পরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে দলের সভাপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।

১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন দেশে ফিরেছিলেন বঙ্গবন্ধু।

আল্লাহর রহমতে হজে আর কোনও অনিয়ম হতে দেবো না।: ধর্মমন্ত্রী

নতুন ধর্মমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘হজে গিয়ে আমি নিজেই দুর্ভোগের শিকার হয়েছিলাম। ভুক্তভোগী হিসাবে আমি জানি সেখানে কী করতে হবে। আল্লাহর রহমতে হজে আর কোনও অনিয়ম হতে দেবো না।’

মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে দুপুর পৌনে ১টার দিকে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর পর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল জলিলসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘হজ নিয়ে অতীতে অনেক অভিযোগ উঠেছিল, সেগুলো যেন ভবিষ্যতে আর না উঠে সেসব ব্যবস্থা আমি ভবিষ্যতে নিশ্চিত করবো। সুন্দরভাবে যেন মানুষ হজ পালন করতে পারেন বিষয়টি আমি নিশ্চিত করবো। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও নিষ্কণ্টক হজ উপহার দেবো।’

তিনি বলেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটির অনেকেই অপব্যাখ্যা করে। ধর্মনিরপেক্ষতা মানে হচ্ছে সব ধর্মই সমান। সবাই সবার ধর্ম পালন করবে।’

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যেসব উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে সেগুলো অব্যাহত রাখা হবে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী ।

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা উপলক্ষে যেসব পথে গাড়ি চলবে

প্রতিবারের মতোই রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশের খোলা জায়গায় শুরু হতে যাচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা (ডিআইটিএফ-২০১৯)। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) আয়োজিত মাসব্যাপী এ মেলা শুরু হবে বুধবার (০৯ জানুয়ারি)।

মেলায় আগত যানবাহন কোন পথে প্রবেশ করবে, পার্কিং ও বের হওয়াসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার নিয়মিত যানবাহন চলাচলেও রাখা হয়েছে কিছু বিধি নিষেধ। এসব বিষয়ে সর্বাত্মক নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়েছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।

মেলায় আগত যানবাহন পার্কিং স্থান

ক। ১ নং পার্কিং (ডিআইটিএফ-২০১৯-এর ভিআইপি গেট থেকে প্রধান গেট পর্যন্ত খালি জায়গা)।

খ। ২ নং পার্কিং (ডিআইটিএফ-২০১৯-এর ২ নং গেট সংলগ্ন খালি জায়গা)।

গ। ৩ নং পার্কিং (র‌্যাব-২ অফিসের বিপরীত কলোনি মাঠ)।

ঘ। ৪ নং পার্কিং (র‌্যাব-২ অফিসের উত্তর পাশে সরকারি কলোনি মাঠ)।

ঙ। ৫ নং পার্কিং (জি টাইপ কলোনি মাঠ)।

চ। মোটরসাইকেল পার্কিং (বিআইসিসি এর পশ্চিম পাশের ফাঁকা জায়গা, মেলা ‘ট্রাফিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার’র সামনে এবং পিডব্লিউডি অফিসের ভিতরে ফাঁকা জায়গায়)।

মেলায় প্রবেশ পথ

১। যেসব দর্শনার্থী যানবাহন নিয়ে নিউমার্কেট-ধানমন্ডির দিক থেকে মিরপুর রোড ব্যবহার করে মেলায় আসবেন, তারা রেসিডেন্সিয়াল কলেজের বিপরীতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার রাস্তা/শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল কলেজ, নতুন সড়ক ব্যবহার করে গণভবন হাইস্কুল ক্রসিং হয়ে মেলায় প্রবেশ করবেন এবং ২ নং পার্কিং ব্যবহার করবেন।

২। যেসব দর্শনার্থী যানবাহন নিয়ে গাবতলী, মোহাম্মদপুর ও আশপাশ এলাকা থেকে মেলায় আসবেন, তারা শিশুমেলা ক্রসিং হয়ে শ্যামলী-আগারগাঁও লিংক রোড ব্যবহার করে শেরেবাংলা আদর্শ মহিলা কলেজ গেট দিয়ে প্রবেশ করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও র‌্যাব-২ অফিসের বিপরীতে সরকারি কলোনি মাঠে (৩ নং পার্কিং) গাড়ি পার্ক করে মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন।

৩। যেসব দর্শনার্থী যানবাহন নিয়ে পল্লবী-কাজীপাড়া-শেওড়াপাড়া ও আশপাশ এলাকা থেকে মেলায় আসবেন, তারা আগারগাঁও লাইট ক্রসিং ডানে মোড় নিয়ে শ্যামলী-আগারগাঁও লিংক রোড ব্যবহার করে শেরেবাংলা আদর্শ মহিলা কলেজ গেট হয়ে র‌্যাব-২ অফিস এর বিপরীত কলোনি মাঠের (৩ নং পার্কিং) পাশের মাঠে ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে (৪ নং পার্কিং) ও (৫ নং পার্কিং) গাড়ি পার্ক করে মেলায় প্রবেশ করবেন।

৪। যেসব দর্শনার্থী যানবাহন নিয়ে উড়োজাহাজ ক্রসিং হয়ে মেলায় আসবেন, তারা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র (বিআইসিসি) ও পরিকল্পনা কমিশন এর মধ্যবর্তী রাস্তা দিয়ে মেলায় প্রবেশ করবেন এবং ১ নং পার্কিং ব্যবহার করবেন।

৫। মোটরসাইকেল নিয়ে যারা মেলায় আসবেন, তারা বিআইসিসি’র পশ্চিম পাশের ফাঁকা জায়গা, ‘ট্রাফিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার’র সামনে এবং পিডব্লিউডি অফিসের ভেতরে ফাঁকা জায়গায় পার্ক করে মেলায় প্রবেশ করবেন। হেলমেট নিজ হেফাজতে রাখবেন।

৬। মেলা প্রাঙ্গণে নির্দিষ্ট ‘ফি’র বিনিময়ে গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা থাকবে এবং পার্কিং এলাকায় গাড়িতে মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখবেন।

মেলা থেকে বহির্গমন পথ

১। মেলার ১ নং পার্কিং থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে পিডব্লিউডি ক্রসিং হয়ে শেরে বাংলানগর শিক্ষা প্রকৌশল ভবন ডানে মোড় নিয়ে বেগম রোকেয়া সরণিতে প্রবেশ করবেন।

২। মেলার ২ নং পার্কিং থেকে বের হওয়ার সময় গণভবন স্কুল ক্রসিং থেকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযোগ সড়ক হয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের দক্ষিণ পাশ দিয়ে মিরপুর রোডে প্রবেশ করবেন।

৩। মেলার ৩, ৪ এবং ৫ নং পার্কিং থেকে বের হওয়ার সময় শ্যামলী-আগারগাঁও লিংক রোড হয়ে মিরপুর রোড ও বেগম রোকেয়া সরণি উভয় রাস্তায় প্রবেশ করতে পারবেন।

সরকারি ছুটির দিন

১। মেলা চলাকালীন সরকারি ছুটির দিনে খামারবাড়ি থেকে আগারগাঁও লাইট ক্রসিং পর্যন্ত রিক্সা, ভ্যান ও ঠেলাগাড়িসহ অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

২। যানবাহন নিয়ন্ত্রণের সুবিধার্থে শুক্রবার ও শনিবারসহ সরকারি ছুটির দিনে আগারগাঁও (নতুন সড়ক) ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ক্রসিং হয়ে মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করা যাবে না। উক্ত সড়ক ব্যবহারকারীদেরকে আগারগাঁও লাইট ক্রসিং হয়ে মেলায় প্রবেশ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

রোড ডাইভারশন

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা চলাকালীন অত্র এলাকায় বসবাসকারী, সরকারি-বেসরকারি দফতরে আগত গাড়ি ও শুধুমাত্র মেলায় প্রবেশকারী গাড়ি ছাড়া অন্যান্য সবাকে নিম্নলিখিত সড়ক ব্যবহার না করে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ।

১। বিআইসিসি ক্রসিং থেকে গণভবন স্কুল হয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ক্রসিং পর্যন্ত।

২। শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল কলেজ নতুন সড়ক (পশ্চিম মাথা) ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল কলেজ গেট থেকে গণভবন স্কুল হয়ে পিডব্লিউডি ক্রসিং হয়ে বিআইসিসি পর্যন্ত।

৩। শেরেবাংলা আর্দশ মহিলা কলেজ গেট থেকে শিক্ষা প্রকৌশল ক্রসিং হয়ে প্যারেড স্কয়ার রোকেয়া সরণি ক্রসিং (শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গ্যাপ) পর্যন্ত।

ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ

ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন পোশাক শ্রমিকেরা।

সরকারি মজুরি কাঠামো বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে বিমানবন্দর সড়ক অবরোধের চেষ্টা করছেন নীপা গার্মেন্টস, চৈতি গার্মেন্টস, ফ্লোরা ফ্যাশন, অ্যাপারেলস গার্মেন্টসসহ কয়েকটি গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে গার্মেন্টসের সামনে বিক্ষোভের পর বিমানবন্দরের দিকে সড়ক অবরোধের চেষ্টা চালালে বাধা দেয় পুলিশ।

আজমপুর রেলক্রসিংয়ের কাছে পুলিশের সঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। এর আগে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা নীপা গার্মেন্টসে আগুন লাগিয়ে দেন। চৈতি গার্মেন্টসের শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান থেকে গরম পানি ছোড়ে।

আশপাশের কয়েকটি গার্মেন্টসের কর্মীরা জসীমউদ্দিনের কাছে রাস্তায় বিক্ষোভ করছেন। আরেকটি দল আজমপুরে এক হওয়ার চেষ্টা করছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ উত্তরা বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার নাবিদ কামাল শৈবাল বলেন, যেকোনো মূল্যেই হোক, রাস্তায় শ্রমিকদের নামতে দেওয়া হবে না। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ও জনগণের নিরাপত্তার জন্য তাঁদের মহাসড়কে নামতে দেওয়া হবে না।

সরকার ঘোষিত কাঠামো পর্যালোচনা করে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে গত রোববার থেকে বিমানবন্দর সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন পোশাক শ্রমিকেরা। শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে রোববার সকাল ৯টা থেকে পাঁচ ঘণ্টা বিমানবন্দর থেকে উত্তরা আজমপুর পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।

সাভারে বিক্ষোভ
ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের দাবি আজ সাভারের অন্তত ছয়টি স্থানে পোশাক শ্রমিকেরা বিক্ষোভ দেখায়। এসব জায়গার রাস্তায় নেমে আসে ১৫টি কারখানার শ্রমিক।

হেমায়েতপুরের বাগবাড়ি, আশুলিয়ার খেজুরটেক, পুকুরপাড়, কাঠগড়া, সাভারের উড়াইল, রাজাবাড়ি এলাকায় বিক্ষোভ হয়।

কয়েকটি জায়গায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় শ্রমিকদের।

ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের দাবি আজ মঙ্গলবার সাভারের অন্তত ছয়টি স্থানে পোশাক শ্রমিকেরা বিক্ষোভ দেখায়। এসব জায়গার রাস্তায় নেমে আসে ১৫টি কারখানার শ্রমিক। হেমায়েতপুরের বাগবাড়ি, আশুলিয়ার খেজুরটেক, পুকুরপাড়, কাঠগড়া, সাভারের উড়াইল, রাজাবাড়ি এলাকায় বিক্ষোভ হয়। কয়েকটি জায়গায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় শ্রমিকদের।

কুষ্টিয়ায় দেওয়াল চাপা পড়ে দুই শিশু নিহত

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার গংগাবর কান্দি গ্রামে নির্মাণাধীন ইটের দেয়ালে চাপা পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে ।

সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে এই ঘটনা ঘটে । নিহতরা হলেন গংগাবর কান্দি গ্রামের ইমারুল হক বাবলুর মেয়ে লিজা (৩) ও মৃত মশিউর রহমানের মেয়ে মরিয়ম (৩) ।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রতন শেখ জানান, নিহত শিশুরা প্রতিবেশী ফজলুর রহমানের নির্মাণাধীন বিল্ডিং এর পাশে খেলছিল । এ সময় নির্মাণাধীন বিল্ডিং এর একটি দেওয়াল 
শিশুদের গায়ের উপর পড়ে যায় । এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয় বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা ।

কুষ্টিয়ায় আ'লীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষে ছাত্রলীগ নেতার পিতা নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার -১১

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পশ্চিম আব্দালপুর গ্রামে গত রোববার ভোরে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে মঈনুদ্দিন বিশ্বাস নিহতের ঘটনায় ইবি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং ৩ তারিখ- ৭/১/২০১৯ । ধারা-৩০২। মামলাটি দায়ের করেছেন নিহতের ছেলে ইবি ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানা হালিম।

হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে মামলার এজাহার নামীয় আসামী সাব্বিরসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে ইবি থানার পুলিশ। এদিকে একই ঘটনায় গুরুতর আহত আমিরুল ইসলাম ওরফে আমীরের স্ত্রী চকেলা খাতুন বাদী হয়ে ইবি থানায় আরেকটি মামলা করেছেন । মামলা নং-৪ । জানা গেছে আমিরুল ইসলাম কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

ইবি থানার ওসি রতন শেখ বিজয় নিউজকে জানান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ইউপি চেয়ারম্যান আলী হায়দার স্বপন ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফার মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল । আধিপথ্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই হত্যাকান্ড সংঘঠিত হয়।

তিনি আরো জানান অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের জন্য আব্দালপুর এলাকায় অভিযান অব্যহত রেখেছেন।

বহিষ্কার সুবর্ণচরের সেই রুহুল আমিন

সুবর্ণচরে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিন মেম্বারকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার রাত ৮টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ওমর ফারুক। তিনি বলেন, ‘আজ থেকে দলের সকল কার্যক্রম থেকে রুহুল আমিন মেম্বারকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, সুবর্ণচর উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক হানিফ চৌধুরী, সহ-সভাপতি ছানা উল্যা বি.কম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আবুল বাসার প্রমুখ।

রবিবার একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পর রাত ১২টার দিকে ঘরে ঢুকে ওই গৃহবধূকে দল বেঁধে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় তার স্বামীকে মারধর ও চার সন্তানকে বেঁধে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্য বাগ্যা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পরে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী নয় জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ মামলায় মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঘটনাটি প্রকাশ হলে ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, ধানের শীষে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে তিনি পরে করা মামলায় বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর নিন্দার ঝড় ওঠে। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার ইলিয়াস শরীফ বলেছেন, তারা সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করবেন। তার দাবি, ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার নির্যাতিতার শরীর থেকে ধর্ষণের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তা চূড়ান্ত রিপোর্ট করে আদালতে উপস্থাপন করা হবে। বুধবার মানবাধিকার কমিশনের একটি দল নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা করেছেন।

আ’লীগের মহাসমাবেশ ১৯ জানুয়ারি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় উদযাপনে আগামী ১৯ জানুয়ারি ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ আয়োজন করবে আওয়ামী লীগ। শুক্রবার আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ব্যালটে নৌকায় সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছিল: মন্টু

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ব্যালটে নৌকায় সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান সমন্বয়ক মোস্তফা মোহসীন মন্টু।

শনিবার রাজধানীর শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে গণফোরামের বর্ধিত সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন।

নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে মন্টু বলেন, নির্বাচনের আগের রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মহাজোটের কর্মীবাহিনী একজোট হয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রের আশেপাশে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে বাড়িতে হানা দেয়। রাতভর তাদের তাড়া করে বেড়ায়। আর এ সুযোগে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসাররা রিটার্নিং অফিসারের পূর্বনির্দেশ অনুযায়ী নৌকা মার্কায় সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়ে রাখে। প্রতিটা কেন্দ্রে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ব্যালটে সিল মারার নির্দেশ থাকলেও অধিকাংশ কেন্দ্রে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়ে পূর্বের রাতেই নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অকার্যকর করে ফেলেছে।

তিনি বলেন, শহরের ভোট জালিয়াতির কৌশল কিছুটা ভিন্ন ছিল কোনো কোনো কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। কোনো কোনো কেন্দ্রে এজেন্টদের সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে স্বাক্ষর রেখে সকাল ৮টায় কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। সকাল ১১টার পর ঢাকা মহানগরের কোনো কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্ট থাকতে দেয়া হয়নি। বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের চোখে ধুলো দেয়ার জন্য শহরাঞ্চলে ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের কৃত্রিম লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে ভেতরে সিল মারার কাজ অব্যাহত থাকে।

মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, শহরের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ধানের শীষের প্রতীকের এজেন্ট যে ছিল না সে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার আগেই সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। এই নির্বাচনে ৮০ পার্সেন্ট ভোট কাস্ট হওয়াকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইতিবাচকভাবে ব্যাখ্যা করলেও যেসব কেন্দ্রে ১০০ ভাগের ওপরে ভোট কাস্ট হয়েছে এবং যেসব আসনে নৌকার প্রার্থী আড়াই লক্ষাধিক ভোটের বিপরীতে ধানের শীষ ১৩৭টি ভোট পেয়েছে সে বিষয়ে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

মন্টু আরও অভিযোগ করেন, ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর মহাজোটের প্রার্থীরা নির্বিঘ্নে নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রাখতে পারলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের পোস্টার লাগাতে, ভোটের স্লিপ বিতরণ ও মাইকিং করতে দেয়া হয়নি। পুলিশের সাহায্যে নৌকার কর্মীরা ধানের শীষের অনেক প্রার্থীকে নিজ নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে। পুলিশ বাহিনীর সাথে সরকারদলীয় কর্মীরা পুলিশের পোশাক পরে ধানের শীষের কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে গ্রামে গ্রামে ত্রাস সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল বলেই ১৯৭১ সালে আমরা প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক হয়েছি, ১৯৯০ সালে স্বৈরশাসনের পতন ঘটিয়েছি। জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে অচিরেই বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন কার্যকর গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নিশ্চিত হবে

ABOUT US

এটি একটি অনলাইন খবরের তথ্য ভান্ডার। যা কুষ্টিয়াকে সমৃদ্ধ করতে তথ্য নির্দেশ করে।

This is a online news portal.
Which contain directory of enriched kushtia.