জাতীয় খবর

জাতীয় খবর আমার কুষ্টিয়া হতে প্রকাশিত

লিস্টে তো গোপালগঞ্জের কেউ নেই, সবার বাড়ি দেখি কুষ্টিয়া: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে সহায়তা, ভাতা ও অনুদানের চেক পাওয়া অসচ্ছল সাংবাদিকদের তালিকায় গোপালগঞ্জের কেউ না থাকায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন- ‘লিস্টে তো গোপালগঞ্জের কেউ নেই। সবার বাড়ি তো দেখি কুষ্টিয়া।’
আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনাজনিত আহত সাংবাদিক এবং নিহত সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের অনুকূলে আর্থিক সহায়তা ভাতা ও অনুদানের চেক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই প্রাণোচ্ছ্বল প্রধানমন্ত্রী এক পর্যায়ে খানিকটা রসিকতার সুরে বলে ওঠেন- ‘একটাই দুঃখ, অনুদান পাওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে গোপালগঞ্জের কেউ নেই। এতো এতো সাংবাদিক অনুদান পাচ্ছেন, এর মধ্যে একজনের নামও পেলাম না যার বাড়ি গোপালগঞ্জ।’
এসময় পাশে বসে থাকা তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর দিকে তাকিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলে ওঠেন- ‘লিস্টে তো দেখি সবার বাড়ি কুষ্টিয়া।’বলেই হেসে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় হেসে ওঠেন তথ্যমন্ত্রীও।
পরে প্রধানমন্ত্রী বলেন- ‘একদিক থেকে অবশ্য আমি খুশি। লিস্টে গোপালগঞ্জের কেউ নেই মানে গোপালগঞ্জের কোনও সাংবাদিক অসচ্ছল নন। আর তারা কেউ যেন অসচ্ছল না থাকেন, তার ব্যবস্থাও আমি করে দেবো।’
এসময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন- আমি যখন জানলাম সাংবাদিকদের অনেকেই কষ্টে আছেন, তখন একটা তহবিল করে দিয়েছিলাম। ২০ লাখ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম। পরে যখন সরকার গঠন করলাম, তখন সুযোগ পেয়ে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করে দিলাম। সেই ট্রাস্টে এখন ১৪ কোটি টাকা আছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের মালিকপক্ষকে এই ট্রাস্টে অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন- ‘এতো পত্রিকা, এতো রেডিও, এতো টিভির অনুমোদন দিয়েছি, আপনারা (মালিকপক্ষ) কেন এই ট্রাস্টে অনুদান দেবেন না? অনুদান চেয়ে মাত্র দু’জন মালিকের কাছ থেকে আমরা সাড়া পেয়েছি, একজন ইত্তেফাকের মালিক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, আরেকজন মাছরাঙা টিভির অঞ্জন চৌধুরী। আর কারও কাছে সাড়া পাইনি। কিন্তু এখন তো সবার অবস্থা ভালো। সবাই ভালো ব্যবসা করছেন। আপনারা সবাই টাকা দেবেন। আর মালিকপক্ষ যত বেশি টাকা দেবেন, আমার পক্ষ থেকেও এই ট্রাস্টে অনুদানের টাকা বাড়বে। আমি ১০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলেছি, দরকার হলে আরও দেবো।’

এসময় উপস্থিত তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীসহ উপস্থিত সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করলে তিনি সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে ২০ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আচ্ছা ঠিক আছে। আমি ২০ কোটি টাকা দেবো।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- আওয়ামী লীগ সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তাই সব ধরনের অপপ্রচার বন্ধে অনলাইন নীতিমালা গঠন করা হবে। মানু্ষের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে চায় সরকার। মানুষের জীবন মানের পরিবর্তন করা হলো আওয়ামী লীগের মূল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য শেষে অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক এবং নিহত সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চেক প্রদান করেন। (সূত্রঃ আর টি ভি)

১৩ অক্টোবর পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ৫৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে ১৩ অক্টোবর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটির উদ্বোধন করবেন।

মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে দলীয় সংসদ সদস্য কর্নেল ফারুক খানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

কাদের বলেন, ‘একইদিন ঢাকা-ফরিদুপর-ভাঙা পর্যন্ত ছয় লেন এক্সপ্রেসওয়েরও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা-ভাঙা ৫৫ কিলোমিটার ছয় লেন রাস্তার উদ্বোধনের পাশাপাশি পদ্মা সেতুতে রেল লাইনেরও ভিত্তিপ্রস্তুর উদ্বোধন করা হবে।‘

নিজাম উদ্দিন হাজারীর এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের জানান, মোটরযান অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ এর ৬০ এর ৩(৫) ধারায় নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া যত্রতত্র গাড়ি থামানো যাবে না মর্মে উল্লেখ রয়েছে। নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া যত্রতত্র গাড়ি থামানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থার পাশাপাশি বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।

তিনি আরও জানান, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি পেশাজীবী গাড়ি চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে লিফলেট, পোস্টার ও স্টিকার বিতরণ করা হচ্ছে।

বিএনপি নেতা হাবীব-উন-নবী খান সোহেল গ্রেফতার

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর বিএনপির (দক্ষিণ) সভাপতি হাবীব-উন-নবী খান সোহেলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গেছে।

ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেসন্স বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘তাকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ডিএমপি গ্রেফতার করেছে।’

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দীন দিদার জানিয়েছেন, ‘বিএনপি নেতা সোহেলকে গ্রেফতার করে গুলশান থানায় রাখা হয়েছে। তবে তাকে কোন মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে তা সম্পর্কে কিছুই জানায়নি পুলিশ।’

উল্লেখ্য, সোহেলের বিরুদ্ধে নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে। এজন্য দীর্ঘদিন আত্মগোপনেও ছিলেন তিনি। তাকে ধরতে তার শান্তিনগরের বাড়িতে একাধিকবার তল্লাশি চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ।

গত ১ সেপ্টেম্বর নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভায় প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল সোহেলকে। বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ওই জনসভায় বক্তব্যও দিয়েছিলেন তিনি।

মন্ত্রীর পা ধরেও চাষাঢ়া-আদমজী সড়কের কাজ শুরু করা যায়নি

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আমি তার হাত ধরে ছাত্র রাজনীতিতে এসেছি, তার পায়ের কাছে বসে রাজনীতি শিখেছি। তিনি এখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। একইসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুত নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া-আদমজী সড়কের কাজ শুরুর জন্য তার পায়ের কাছে বসে অনুরোধ করেছি। কিন্তু তিন বছর চেষ্টা করেও চাষাড়া থেকে আদমজি পর্যন্ত আট কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করতে পারিনি।

মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্নের জন্য সময় চেয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, মন্ত্রী নিজে সেখানে গেছেন। তিনি রেলমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথাও বলেছিলেন। ওই রাস্তাটি হলে ছয় লক্ষাধিক মানুষ উপকৃত হবে। তাই তার পায়ে ধরতে আমার একটুও খারাপ লাগেনি। কারণ আমি তার পা ধরেছি জনগণের জন্য। এরপরও কাজ হয়নি। এখন আমার করণীয় কী?

জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, চাষাঢ়া-আদমজী সড়কের কাজটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আছে। জায়গাটি রেলের। আমি রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। কাজটি দ্রুত শুরুর জন্য আবার পরিকল্পনামন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করবো।

এর আগে শামীম ওসমান বলেন, চাষাঢ়া-আদমজী রাস্তাটি আগে রেলওয়ের ছিল। রেলওয়ের কাছ থেকে জায়গাটি অবমুক্ত করতে দুই বছর সময় লেগেছে।

তিনি বলেন, মন্ত্রীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ঘোষণা দিয়েছিলাম ওই রাস্তার কাজ দ্রুত শুরু হবে। মন্ত্রী ডিপিপিতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলেন। ডিপিপিতে কিছু ত্রুটি থাকায় পরিকল্পনা কমিশন সেটি ফেরত দিয়েছিল। ত্রুটি সংশোধন করে আবারো পরিকল্পনা মন্ত্রণালায়ে পাঠানো হয়েছে। সেটি ৪-৫ মাস হয়ে গেছে।

এরপর জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত ওই সড়কের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জে জনসভা শেষেই সেখান থেকে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করি। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। যা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। পরিকল্পনামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ওই সড়কের কাজ দ্রুত শুরুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

‘ব্যাংক লুটের তদন্ত না করায় আসামি হবে সরকার’

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, হাজার কোটি টাকা ব্যাংক লুটের কোনো তদন্ত করেনি সরকার। এ জন্য আপনারা আসামি হতে পারেন।

চার হাজার কোটি টাকাকে অর্থমন্ত্রী সামান্য বলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই অর্থের মালিক আপনি নন, জনগণ। দেশের সকল স্তরে দুর্নীতি ও লুট হয়েছে। সরকারি দলের নেতারা এর সাথে জড়িত। তাদের বিচার হয়নি।

সুশাসন প্রতিষ্ঠা, তফসিলের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে খুলনায় জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রথম জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. কামাল এসব কথা বলেন।

মঙ্গলবার বিকালে স্থানীয় হাদিস পার্কে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৪টায় জাতীয় সংগীতের মধ্যদিয়ে জনসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়। এছাড়া মঞ্চে গণসংগীত পরিবেশন করা হয়।

জনসভায় জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সরকার জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। আগামী নির্বাচনে ভোট দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করুন।

তিনি বলেন, সরকার প্রধানের পদত্যাগ, মন্ত্রিসভা বাতিল, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন দিন। নির্বাচনকালীন সরকারের কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন আর হতে দেয়া হবে না।

এসময় ইভিএমকে যাদুর মেশিন আখ্যায়িত করে জেএসডি সভাপতি বলেন, ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা বাতিল করতে হবে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, যে কোনো মূল্যে সরকারের ভোট চুরি ঠেকাতে হবে। জনগন এবার ভোট দিতে চায়। মানুষ তার অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেমেছে। গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মানুষ রাজপথে নামবে।

ইভিএম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ভোট কারচুপির একটি কৌশলমাত্র। প্রায় চার হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে দেয়া যাবে না।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, কিশোরদের কোটা ও নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের মতো ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। লাখো জনতার গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরকার দাবি মানতে বাধ্য হবে।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেএসডির জেলা সভাপতি আ ফ ম মহসীন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও জেএসডির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন।

এতে বক্তৃতা করেন গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, জেএসডির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক আতাউর করিম ফারুক, বিকল্পধারার কেন্দ্রীয় সাংগঠকি সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি শেখ আব্দুর নূর, নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ।

রাবির সাংবাদিকতা বিভাগে সপ্তাহব্যাপী সিনেমা প্রদর্শনী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে সাত দিনব্যাপী সিনেমা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে এ প্রদর্শনী শুরু হবে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর। বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র ভবনের ১২৩ নম্বর কক্ষে এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান আয়োজক কমিটির সদস্য নাজমুল ইসলাম।

তিনি জানান, ২১ সেপ্টেম্বর এ প্রদর্শনী শুরু হয়ে চলবে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ২১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় প্রদর্শন করা হবে ‘ক্ষত’ (ভারত), ওইদিন সন্ধ্যা ৬টায় ‘হলিডে’। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় ‘অজ্ঞাতনামা’ এবং বিকেল ৫টায় ‘দঙ্গল’ প্রদর্শন করা হবে। ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় ‘দ্যা বো’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় ‘পারি’। ২৪ সেপ্টেম্বর ৪টায় ‘স্বপ্নজাল’ এবং সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় প্রদর্শন করা হবে ‘রেইড’।

২৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় ‘দ্য গ্রেট ডিকটেটর’ এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ‘পোস্ত’। ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় প্রদর্শন করা হবে ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ এবং সন্ধ্যা ৭টায় ‘র‌্যামপেজ’। ২৭ সেপ্টেম্বর শেষ দিনে বিকেল ৪টায় প্রদর্শন করা হবে ‘ব্ল্যাক প্যানথার’ এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ‘পিঙ্ক’।

আয়োজক কমিটির আরেক সদস্য নাসরিন আক্তার বলেন, বিশ্বের বাছাইকৃত জনপ্রিয় ১৪টি সিনেমা নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। রবীন্দ্র ভবনের সামনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সিনেমাগুলোর টিকেট সংগ্রহ করা যাবে। প্রতিটি টিকেটের মূল্য ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি)  ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধীনে ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ১০ দশমিক ৯৮ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।

আজ সোমবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল প্রকাশ করেন ঢাবি উপাচার্য  অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের ১ হাজার ২৫০টি আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ২৫ হাজার ৯৫৮ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২ হাজার ৮৫০ জন।

আগামী ১৯ সে‌প্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে পছন্দ তালিকা পূরণ করতে পারবেন তারা।  আরো জানা গেছে, পরীক্ষার বিস্তারিত ফলাফল এবং ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট admission.eis.du.ac.bd-এ জানা যাবে। এছাড়া  DU GA লিখে রোল নম্বর লিখে ১৬৩২১ নম্বরে send করে ফিরতি SMS এ ভর্তিচ্ছুরা তার ফলাফল জানতে পারবেন।

চেয়ারম্যান হত্যার প্রধান আসামি গণপিটুনিতে নিহত

সাতক্ষীরায় ইউপি চেয়ারম্যান হত্যা মামলার প্রধান আসামী কৃষ্ণনগর ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল গনপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর বাজারে স্থানীয় গ্রামবাসী তাকে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলে তিনি নিহত হন।

নিহত আব্দুল জলিল (৪০) কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও শঙ্করপুর গ্রামের হাবিবুল্লাহ গাইনের ছেলে।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান জানান, ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলের পরিকল্পনায় জাপা নেতা কৃষ্ণনগর ইউপির চেয়ারম্যান কে এম মোশাররফ হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে। তাকে আটক করে চেয়ারম্যানকে হত্যার স্থল কৃষ্ণনগর বাজারে অস্ত্র উদ্ধারে নিয়ে আসা হলে স্থানীয় হাজার হাজার মানুষ তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

তিনি আরও বলেন, হাজারও মানুষের চাপে এখনও মরদেহটি আমরা আয়ত্তে নিতে পারিনি।

আব্দুল জলিল স্বীকার করেছিলেন চেয়ারম্যানকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র কৃষ্ণনগর বাজারেই লুকানো রয়েছে। পুলিশ তার ভাষ্যমতে সেই অস্ত্র উদ্ধার করতেই কৃষ্ণনগর বাজারে অভিযানে আসে। কিন্তু বিক্ষুব্ধ হাজার হাজার জনতা তাকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দেয়।

কে এই জলিল

একের পর এক রাজনৈতিক দল বদল করেন জলিল। জাতীয় পার্টি, বিএনপি এরপর দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যোগ দেন আওয়ামী লীগে। বেপরোয়া আব্দুল জলিল এলাকায় ‘কিলার জলিল’ হিসেবে বেশি পরিচিত। এছাড়া তার আরেকটি পরিচয় ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির হাত ধরে তার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগদান। তবে ২০১৩ সালের সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে আব্দুল জলিলের সরব উপস্থিতি ছিল।

একসময়ে দিন মজুরের কাজ করতেন জলিল। তবে বর্তমানে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাড়িতে এসি লাগিয়ে বসবাস করছিলেন জলিল ও তার পরিবার। খুন, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বহু অপরাধের নেপথ্য নায়ক এই জলিল।

পুলিশ বলছে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। ২০০৯ সালে কাশিমাড়ি ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে আওয়ামী লীগ কর্মী মাজেদ পাড় খুন হন। এই হত্যাকাণ্ডেও জলিল সরাসরি জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়।

২০১৩-১৪ সালে বিএনপি নেতা ওলিউর রহমান পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। নিহতের পরিবারের দাবি, জলিল তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়ে হত্যা করিয়েছিলেন।

গত ৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১১টার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান কে এম মোশাররফ হোসেনকে হত্যার পর থেকে পলাতক ছিলেন ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল।

জোর করে ক্ষমতায় থাকার ইচ্ছা আ’লীগের নেই : কাদের

জোর করে রাষ্ট্র ক্ষমতা ধরে রাখার কোনো অভিপ্রায় আওয়ামী লীগের নেই বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শনিবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটউশনে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপকমিটির ওয়েবসাইটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের নেত্রীতো বলেই দিয়েছেন, জনগণ ভোট দিলে ক্ষমতায় থাকব, না দিলে নয়। জোর করে ক্ষমতায় থাকার ইচ্ছা আওয়ামী লীগের নাই।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার প্রতি মানুষের আস্থা আছে। আমরা জনগণের শক্তিতে ভরসা রাখি।

ক্ষমতায় আসার জন্য দেশের জনগণের আস্থা হারিয়ে বিএনপি এখন জাতিসংঘে গিয়ে কান্নাকাটি করছে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, দেউলিয়াপনার পরাকাষ্ঠা যখন কোনো রাজনৈতিক দল প্রদর্শন করে, দেশকে ছোট করে জনগণের আস্থা হারিয়ে জাতিসংঘে গিয়ে কান্নাকাটি করে আসছে।

‘আজকে বিএনপি কত দেউলিয়া দল, কথায় কথায় নালিশ করে বিদেশে। দেশের জনগণের কাছে তো নালিশ করছেই। নালিশ সত্য হলে জনগণ আপনাদের ভোট দেবে, আমাদের নয়।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের মানুষ ভোট না দিলে কোনো বিদেশি প্রভু বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশিত বইয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি নেই- এমন এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, এটি আমি জানি না। জেনে মন্তব্য করব।

তবে আমাদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠক আছে। সেখানে নেত্রী কথা বলবেন। সেখানে হয়ত এটি আলোচনা হবে বলে জানান সেতুমন্ত্রী।

সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি দেশের অর্জনে কোনো গর্ববোধ করে না। শেখ হাসিনার স্বপ্ন নেক্সট জেনারেশন, আর বিএনপির স্বপ্ন নেক্সট ইলেকশান।

‘এরা ক্ষমতা ছাড়া আর কিছুই বুঝে না। বিএনপি নামক দলটি ও তার দোসররা ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনীতি করে,’ যোগ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

এসময় ফেসবুকের খারাপ দিক মোকাবেলা করার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, আমরা যদি মনে করি, ফেসবুক বন্ধ করলে সব ঠিক হয়ে যাবে, সেটা ঠিক নয়। এটার ভালো এবং খারাপ- দুটো দিকই আছে। খারাপ দিকটার মোকাবেলা করতে হবে। তথ্য সৃষ্টি ও বন্টন করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি দুটো আন্দোলনে (কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক) যে অপপ্রচার হয়েছে, সে অপপ্রচারের মুখে আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি যথাযথভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছি; সাইবার এটাকের কাউন্টার করতে পারিনি।

‘এই অভিজ্ঞতা থেকে বিজ্ঞান প্রযুক্তি উপকমিটি যে উদ্যোগ নিয়েছে, সামনে যেন এই গ্যাপগুলো পূরণ হয়, খেয়াল রাখতে হবে।’

আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপ-কমিটির চেয়ারম্যান মো. হোসেন মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন বক্তব্য দেন।

৫ দফা দাবি ও ৯ লক্ষ্য ঘোষণা বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের

জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নিজেদের দাবি দাওয়া উপস্থাপন করেছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও ডা. এ কি এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট। সংগঠনটি তাদের ৫ দফা দাবি ও ৯ দফা লক্ষ্য ঘোষণা করেছে।

শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত জনাকীর্ণ এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয়া হয়। এই ঘোষণা জাতীয় শহীদ মিনারে দেয়ার কথা থাকলেও সেখানে তাদের অনুষ্ঠান করতে না দেয়ায় পরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে তারা এই ঘোষণা দেন।

এই দাবিগুলো হলো :

১. আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার জন্য সবার সমান সুযোগ সুবিধা। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। নির্বাচনকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা প্রার্থী হতে পারবেন না।

২. অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে।

৩. কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্র-ছাত্রীসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আনা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে হবে। এখন থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা যাবে না।

৪. নির্বাচনের এক মাস আগে থেকে নির্বাচনের পর ১০ দিন পর্যন্ত মোট ৪০ দিন প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে।

৫. নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা ও পরিকল্পনা বাদ দিতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর যুগোপযোগী সংশোধন করতে হবে।

জাতীয় ঐক্য নয়টি লক্ষ্যের কথাও জানিয়েছে। রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে তারা কী করবে, এই লক্ষ্যে তা বলা হয়েছে। তাদের লক্ষ্য হলো :

১. বাংলাদেশে স্বেচ্ছাচারী শাসন ব্যবস্থা থেকে পরিত্রাণ এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক নির্বাহী ক্ষমতা অবসানের লক্ষ্যে সংসদ, সরকার, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা এবং প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ, ন্যায়পাল নিয়োগ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকর করা। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ ও সৎ যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের জন্য সাংবিধানিক কমিশন গঠন করা।

২. দুর্নীতি দমন কমিশনকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা। দুর্নীতিমুক্ত, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দুর্নীতি কঠোর হাতে দমন ও দুর্নীতির দায়ে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা।

৩. বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিবেশ সৃষ্টি, বেকারত্বের অবসান ও শিক্ষিত যুব সমাজের সৃজনশীলতা ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাকে একমাত্র যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা।

৪. কৃষক-শ্রমিক ও দরিদ্র মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সরকারি অর্থায়নে সুনিশ্চিত করা।

৫. জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় সরকারসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতি ও দলীয়করণ থেকে মুক্ত করা।

৬. বাংলাদেশ ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা আনা, সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, সুষম বণ্টন ও জনকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

৭. জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য গঠন এবং প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা ও নেতিবাচক রাজনীতির বিপরীতে ইতিবাচক সৃজনশীল এবং কার্যকর ভারসাম্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা।

৮. ‘সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’-এই নীতির আলোকে পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা। এর নীতির আলোকে জনস্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তাকে সমুন্নত রেখে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা। প্রতিবেশি দেশগুলো সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সমতার ভিত্তিতে ব্যবসা বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ ইত্যাদির ক্ষেত্রে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া।

৯. বিশ্বের সব প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও সমর সম্ভারে সুসজ্জিত, সুসংগঠিত ও যুগোপযোগী করা।

কারাগারে খালেদার মেডিক্যাল বোর্ড

দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা তাঁকে দেখতে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছেছেন।

আজ শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে পাঁচ সদস্যের এই মেডিক্যাল বোর্ড কারাগারে পৌঁছায়। তবে এখন পর্যন্ত মেডিক্যাল বোর্ড কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি বলে জানা গেছে কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে।

এর আগে, দুপুর ২টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রওনা দেন মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা।

জানা গেছে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য সরকার গত বৃহস্পতিবার পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে। বোর্ডের সদস্যরা হলেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইন্টারনাল মেডিসিনের অধ্যাপক আব্দুল জলিল চৌধুরী, কার্ডিওলজির অধ্যাপক হারিসুল হক, অর্থোপেডিক সার্জারির অধ্যাপক আবু জাফর চৌধুরী, চক্ষুর সহযোগী অধ্যাপক তারেক রেজা আলী ও ফিজিকেল মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক বদরুন্নেসা আহমেদ।

এ ব্যাপারে জেলার মাহবুবুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল থেকে আমাদের লিখিতভাবে জানানো হয়েছে, শনিবাল সকাল সাড়ে ১১টায় মেডিক্যাল বোর্ড খালেদা জিয়ার কাছে আসবে। চিকিৎসকদের সব ধরনের সহায়তা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি আমরা।

এদিকে খালেদার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন। বিএনপির পক্ষ থেকে এই বোর্ডে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে যা বললেন ফখরুল

 খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিপ্রায়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার সাথে বৈঠক করলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শুক্রবার সকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক দফতরের একজন ডেস্ক অফিসারের সাথে এ বৈঠক হয়। এ সময় বাংলাদেশের ‘বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-অপশাসনের ফিরিস্তি’ উপস্থাপনের পর আসন্ন নির্বাচনের আগেই শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ লোকজনের সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের সহায়তা চান মির্জা ফখরুল।

এ বৈঠকের সত্যতা স্বীকার করে স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন মুখপাত্র এদিন বিকালে এই সংবাদদাতাকে জানান, ‘আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতায় সবসময়ই বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে।’ এর বেশি আর কোন তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন ওই মুখপাত্র।

অপর একটি সূত্র নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, বর্তমান সরকারের বৈরী আচরণের শিকার হয়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে যেতে হয়েছে, সারাদেশে বিএনপির বহু নেতাকর্মীকে গ্রেফতার এবং অনেক নেতা গুম হয়েছেন বলেও মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেছেন। ‘শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে বাংলাদেশে কোনভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না’ বলেও মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেছেন। বৈঠকে বিএনপি নেতা তাবিথ আওয়াল এবং হুমায়ূন কবীরও ছিলেন। মির্জা ফখরুলের দেয়া ডক্যুমেন্টগুলো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গোচরে আনা হবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এর আগের দিন ১৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে সহকারি মহাসচিব (রাজনীতি) মিরোস্লাভ জেনকার সাথে বৈঠক করেন মির্জা ফখরুল। এসময় বাংলাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সরকারের দমন-পীড়নের কিছু ডক্যুমেন্টও হস্তান্তর করেন তিনি। সে সময়ে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আবেদনও জানান মির্জা ফখরুল।

প্রসঙ্গত, গত মাসে বিএনপির পক্ষ থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে একটি লবিং ফার্ম ভাড়া করা হয়েছে। সেই ফার্মের তৎপরতার প্রকাশ ঘটলো জাতিসংঘে মির্জা ফখরুলের বৈঠকের পরই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের মধ্য দিয়ে। এ বৈঠকও বিএনপির অনুরোধেই হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী, উচ্চ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার দেখা পাননি মির্জা ফখরুল। এখানেও বিএনপির যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত কাউকে সাথে রাখা হয়নি। অনেকে চেষ্টা করেও মির্জা ফখরুলের সাথে দলীয় বৈঠকের সুযোগ পাননি। এ নিয়ে এক ধরনের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে প্রবাসের বিএনপি পরিবারে।

অপরদিকে, গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এ সংবাদদাতাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং দীর্ঘ সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আসবেন। তার সফরের প্রাক্কালে জামায়াত-শিবিরের মদদে বিএনপি যাতে কোন ধরনের অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সে ব্যাপারে আওয়ামী পরিবারের সকলে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় রয়েছে। এজন্যই মির্জা ফখরুল অত্যন্ত গোপনে সরকার তথা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বৈঠকের প্রয়াস নেন।’

জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলেই লন্ডনের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল ওয়াশিংটন ডিসি ত্যাগ করেছেন।

৩০ দেশ পায়ে হেঁটে হজে গিয়েছিলেন মহিউদ্দিন

দিনাজপুর রামসাগর জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ করে রাস্তা দিয়ে পশ্চিম দিকে গিয়ে বামে ঘুরে কিছুদুর যেতেই চোখে পড়বে রামসাগরের পাষাণ বাঁধা ঘাট আর পশ্চিম দিকে দেখা যাবে একটি মসজিদ। সেখানেই চোখে পড়বে অতিকায় বৃদ্ধ একজন মানুষ। যিনি রামসাগরে আগত সকল পর্যটকদেরকে আহবান যানাচ্ছেন রামসাগর দীঘিপাড়া হাফেজিয়া ক্বারিয়ানা মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দান করার জন্য। এই মানুষটি বাংলাদেশ থেকে পাঁয় হেঁটে সৌদি আরব গিয়ে পবিত্র হজ পালন করেছেন ।

তিনি হচ্ছেন দিনাজপুর সদর উপজেলার রামসাগর দিঘীপাড়া গ্রামের মৃত ইজার পন্ডিত ও মমিরন নেছার ছেলে জাতীয় উদ্যানের বায়তুল আকসা জামে মসজিদের সাবেক ইমাম হাজি মোঃ মহিউদ্দিন।

পায়ে হেঁটে হজ করতে যেতে তার সময় লেগেছিলো আঠারো মাস। এ আঠারো মাসে তিনি পাড়ি দিয়েছেন কয়েক হাজার কিলোমিটার পথ। এ সময় তিনি সফর করেছেন ৩০টি দেশ। যে দেশ গুলি তিনি সফর করেছেন সে দেশ গুলির নাম এখনও মুখস্ত বলতে পারেন।

১৯১৩ সালে জন্ম নেওয়া এই অদম্য মানুষটি বয়স এখন ১০৬। হাজি মহিউদ্দিন দীর্ঘদিন রামসাগরে অবস্থিত বায়তুল আকসা মসজিদের ইমাম ছিলেন।

বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) বাদ আছর কথা হয় হাজি মোঃ মহিউদ্দিনের সঙ্গে পায়ে হেঁটে হজপালন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৬৮ সালে হজ করার উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে দিনাজপুর থেকে রওনা দেন৷দিনাজপুর থেকে রংপুর হয়ে প্রথমে ঢাকার কাকরাইল মসজিদে যান। সেখানে গিয়ে পায়ে হেঁটে হজ পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করলে, তৎকালীন কাকরাইল মসজিদের ইমাম মাওলানা আলী আকবর পায়ে হেঁটে যেতে ইচ্ছুক অন্য এগারো জন হাজীর সঙ্গে তাকে পরিচয় করিয়ে দেন। শুরু হয় বারো জনের হজযাত্রা। চট্টগ্রাম দিয়ে ভারত হয়ে পাকিস্তানের করাচি মক্কি মসজিদে গিয়ে অবস্থান করে সৌদি আরবের ভিসার জন্য আবেদন করেন। আট দিন পর সৌদি ভিসা পান। পাসপোর্ট ও ভিসা করতে খরচ হয় ১ হজার ২০০ টাকা। ভিসা পেয়ে পাকিস্তানের নোকঠি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ইরানের তেহরান হয়ে ইরাকের বাগদাদ ও কারবালা দিয়ে মিসর পাড়ি দিয়ে সৌদি আরব পৌঁছান। পথে ফেরাউনের লাশ দেখার ইচ্ছাও পূরণ হয় তাদের।

সৌদি আরবে গিয়ে হজ পালন শেষে আল্লাহর রাস্তার ধুলো পায়ে লাগিয়ে হেঁটে হেঁটেই ফিরে আসেন নিজ পরিবারের কাছে। এ সময় তিনি ৩০টি দেশ পাড়ি দেন।

এমন কষ্ট করে হজ পালন প্রসঙ্গে তার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র স্থান থেকে ঘুরে আসার অনুভূতি বলে প্রকাশ করা যাবেনা। তবে নিজেকে ধন্য মনে করি । কেমন কষ্ট হয়েছিল জানতে চাইলে তিনি কোনো কষ্ট করেছেন বলে মনে করেন না। তিনি বলেন কষ্ট করেছেন আমার সহধর্মিনি আবেদা বেগম। অভাব অনটনের মধ্যে আমার ইচ্ছার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে আমাকে উৎসাহীত করেছেন। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি বেশ ভাল আছেন বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন চার মেয়ে দুই ছেলেন সবার বিয়ে হয়ে গেছে। অভাব বলে কিছু নেই।

হাজী মোঃ মহিউদ্দিন বয়সের কারণে মসজিদের ইমামতি ছেড়ে দিয়েছেন। মেয়েদের সহযোগীতায় বেশ চলে যায় তার সংসার। সময় কাঁটে রামসাগর দীঘিপাড়া হাফেজিয়া ক্বারিয়ানা মাদ্রাসা ও এতিমখানার জন্য মানুষের কাছে সহায়তা চেয়ে।

হজ পালন করতে সে সময় কত টাকা খরচ হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাসপোর্ট ও ভিসা করতে খরচ হয় ১ হজার ২০০ টাকা আর ১ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে রওয়ানা দেন। কিন্তু পথে ১২ জনের হাজির দল দেখে যেখানে কেতে গেছেন, কেউ টাকা নেননি। ফিরে আসার সময়ও একই অবস্থা হয়। এ কারণে কোন টাকা খরচ হয়নি । পুরো টাকাই তার ফেরত এসেছিল।

বয়সের কারণে মুড়িয়ে যাওয়া হাজি মোঃ মহিউদ্দিনের দৃষ্টি শক্তি ও শ্রবণ শক্তি কিছুটা কমে গেছে। লাঠি ছাড়া ঠিকমত হাঁটতে পারেননা। কিন্তু সে সময়ের কোন স্মৃতিই তিনি ভূলে যাননি। কেউ জিজ্ঞাসা করতেই মুখ থেকে ঝড়তে থাকে কথার ফুলঝুরি। সকলের কাছে বলতে চান সেই সব দিনের কথা। সর্বপরি তিনি সবাইকে একবার হলেও আল্লাহর ঘর তওয়া করার আহবান যানান।

বর্তমান সরকার ভীরু ও কাপুরুষ: রুহুল কবির রিজভী

বর্তমান সরকার ভীরু ও কাপুরুষ,  তাদের কোনো সাহস নেই। আছে শুধু ভয় ও শঙ্কা। যদি সাহস থাকতো তবে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ সুগম করার জন্য নির্দলীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী সরকার জনবিচ্ছিন্ন হওয়াতে অপরিণামদর্শী স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকার এখন হিতাহিত জ্ঞানশূন্য। যেকোন মুহূর্তে পিছলে যাওয়ার ভয়ে তারা পুলিশের ওপর নির্ভর করে মামলা হামলা ও গ্রেপ্তারের শৃঙ্খলে জনগণকে বন্দি করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। পুলিশ মামলা হামলার বন্যা বইয়ে দিয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামসহ সিনিয়র নেতাদের বাসায় তল্লাশির নামে তাণ্ডব চালানো হয়েছে।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, মতিঝিল থানায় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আমিনুল হক, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং আইন বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, পল্টন থানার একটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালামসহ অসংখ্য নেতাদের নামে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, অসাংবিধানিকভাবে কারাগারে আদালত বসিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায় চায় রাষ্ট্রপক্ষ। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে বলেছেন, যেহেতু খালেদা জিয়া আদালতে আসতে চাইছেন না, তাই মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করুন। আদালতের কার্যক্রম শেষ করতে লিখিত আবেদনও দিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। রাষ্ট্রের অবৈধ কর্তৃপক্ষ আওয়ামী সরকার চক্রান্তমূলকভাবেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাকে সাজা দিয়েছে। তা আবারও প্রমাণ করলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

মাইক্রো ও সিএনজি’র মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারীতে সিএনজি-চালিত অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুইজন। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১২টার পর উপজেলার চারিয়া বুড়িডুকুর পাড় নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

হাটহাজারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বেলাল উদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এই খবর নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন- ফটিকছড়ির নানুপুর গ্রামের মো. ইদ্রিস মিয়ার পুত্র মো. নুরুল হুদা (৪৫) এবং একই গ্রামের মো. রফিকের পুত্র মো.আবু তৈয়ব (১৫)।

স্থানীয় আবু শাহেদ জানান, রাত ১২টার কিছুটা পর চট্টগ্রামমুখী একটি মাইক্রোবাস ও ফটিকছড়িমুখী সিএনজি-চালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংর্ষে অটোরিকশাটি ধুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মো. নুরুল হুদা নামক এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন।

ওই সময় সিএনজি-চালিত অটোরিকশায় থাকায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়। তাদেরকে উদ্ধার করে দ্রুত হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে মো. আবু তৈয়ব নামের এক যুবক মৃত্যুবরণ করেন।

একই ঘটনায় আহত দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বেপোরোয়া চলাফেরায় বাধা দেয়ায় মাকে মারলো মেয়ে

রাজধানীতে বাবা-মাকে নির্মমভাবে হত্যা করে মাদকাসক্ত মেয়ে ঐশী। আলোচিত সেই হত্যাকণ্ডের কাহিনী সকলেরই জানা। ঠিক যেন ঐশীর মতোই আরেকটি ঘটনার জন্ম হলো সাতক্ষীরায়। মাদকাসক্ত মেয়ের বেপোরোয়া চলাফেরায় বাধা দেয়ায় প্রাণ দিতে হলো মাকে। এ ঘটনায় ঘাতক মেয়ে টুম্পা খাতুনের নামে থানায় মামলা হয়েছে।

মেয়ে টুম্পা খাতুনের (২৪) রডের আঘাতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মা মমতাজ বেগম (৪৮)। মাথায় ও ঘাড়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কয়েকবার বমি করেন তিনি। এরপর আর জ্ঞান ফেরেনি।

স্থানীয়রা উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় মমতাজ বেগমকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে নেয়ার পথে রাতে মারা যায় মমতাজ বেগম।

গত (১০ সেপ্টেম্বর) সোমবার সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটা এলাকায় এ নির্মম ঘটনা ঘটে।

মমতাজ বেগমের স্বামী আব্দুস সবুর সরদার মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। একমাত্র ছেলে শরীফও মাদকাসক্ত। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর মেয়ে টুম্পা খাতুন ইয়াবাসেবী।

এ ঘটনায় বুধবার রাতে পাটকেলঘাটা থানায় এসআই আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে মেয়ে টুম্পা খাতুনকে আসামি করে হত্যা মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলা নং-৫।

স্থানীয়রা জানান, মেয়ে টুম্পা খাতুন ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকসেবন করতেন। বেপোরোয়া চলাফেরার কারণে তিন বছর আগে তার স্বামী তাকে তালাক দেয়। মা এগুলোর বিরোধিতা করায় মাকে প্রায়ই মারধর করতেন টুম্পা। মাকে হত্যার পর স্ট্রোক করে মারা গেছে বলে প্রচার করতে থাকে টুম্পা। স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেওয়ার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধারকালে টুম্পা পালিয়ে যায়। সেই থেকে পলাতক রয়েছে মেয়ে টুম্পা।

পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল ইসলাম জানান, নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। তাই পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। আসামি টুম্পাকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযানে নেমেছে।

খালেদার অনুপস্থিতিতে মামলা চলবে কিনা, সিদ্ধান্ত ২০ সেপ্টেম্বর

লেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম চলবে কিনা, সে বিষয়ে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর আদেশ দেবেন আদালত।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে অবস্থিত ঢাকার অস্থায়ী ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান এদিন ঠিক করেন।

আদালতে তিনি যেতে ইচ্ছুক নন বলে আজও তিনি জানিয়েছেন কারা কর্তৃপক্ষকে।

এর আগে বুধবার এ মামলায় হাজিরা দিতে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের অস্থায়ী আদালতে আসেননি বিএনপি চেয়ারপারসন। তার অনুপস্থিতিতে আদালত এ মামলার শুনানি করে আজকের দিন ধার্য করেন।

চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ সব আসামির সর্বোচ্চ সাজা অর্থাৎ সাত বছর কারাদণ্ড দাবি করে দুদক প্রসিকিউশন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করে দুদক।

তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এর পর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিচার শুরু হয়।

খালেদা জিয়া ছাড়া মামলায় অপর আসামিরা হলেন তার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন সহকারী একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। মামলায় হারিছ চৌধুরী পলাতক। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। আর অপর দুই আসামি জামিনে আছেন।

প্রসঙ্গত চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা করা হয়।

একই সঙ্গে তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং প্রত্যেকের ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করে রায় ঘোষণা করেন আদালত।

রায় ঘোষণার পর পরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। প্রথম শ্রেণির কারাবন্দি হিসেবে বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।

নৌকা ভাসতে ভাসতে জয়ের বন্দরে পৌঁছাবে : ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনে নৌকা ভেসে যাবে না, ভাসতে ভাসতে জয়ের বন্দরে পৌঁছাবে। একই সঙ্গে কোনো চাপে আওয়ামী লীগ নতিস্বীকার করবে না।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে নির্মাণাধীন সড়ক ভবন পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

বুধবার খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেছিলেন- আমাদের যে আন্দোলন চলছে, এই আন্দোলন বেগবান হবে। এমন কর্মসূচি দেয়া হবে যেই কর্মসূচির মাধ্যমে এই সরকারের নৌকা পানিতে ভেসে যাবে।

মওদুদ আহমদের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।

সড়ক আইন নিয়ে তিনি বলেন, সংসদের চলতি অধিবেশনে নতুন সড়ক আইন উত্থাপন করা হবে এবং এ অধিবেশনেই আইনটি পাস হবে বলে আশা করছি।

লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য বাঁচলেন কয়েক শ যাত্রী

চাঁদপুর নৌ-টার্মিনালে যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি রফরফে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৯টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে দমকল বাহিনী। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। কিন্তু ঘাটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় অল্পের জন্য রক্ষা পায় কয়েক শ যাত্রী। মাঝ নদীতে এ ঘটনা ঘটলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে যেত বলে জানিয়েছেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক।

যাত্রী ও লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানায়, সকাল সাড়ে ৯টায় লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে যাত্রী তুলছিল। কিন্তু পৌনে ৯টার দিকে হঠাৎ লঞ্চের পেছনের অংশে ইঞ্জিনে আগুন লেগে যায়। দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে দমকল বাহিনীর সদস্যরা ছুটে আসেন এবং এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘটনার পর পরই স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্তকর্তারা এসে পরিবেশ-পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। কীভাবে আগুন লেগেছে এবং কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছে না দমকল বাহিনী।

চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোবারক হোসেন জানান, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে খুব দ্রুতই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করতে কমিশন হবে: প্রধানমন্ত্রী

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা সরকার দেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। তিনি জানান, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগ দাবি বাস্তবায়িত হয়েছে। এ ছাড়া জাতির পিতাকে হত্যার পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করতে কমিশন গঠন করা হবে।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অধিবেশন শুরু হয়।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মো. মনিরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুষ্ঠুভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুসারে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার জন্য জনবলের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

জাতীয় পার্টির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বেগম নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপদ সড়ক সংক্রান্ত ৯ দফা দাবির বেশির ভাগই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এরই মধ্যে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ বিলটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে, যা সংসদের চলতি অধিবেশনে উপস্থাপিত ও বিবেচিত হবে। এ আইনে অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ঘাতক বাস দুটির চালক, হেলপার, মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের আইনের আওতায় কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের প্রতি আমি অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটর করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ ছাড়া চার বছর মেয়াদি ন্যাশনাল রোড সেফটি অ্যাকশন প্ল্যান ২০১৭-২০ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি গাড়ি না চালানোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। দূরপাল্লার বাসে দুজন চালক রাখার জন্য মালিকদের অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, কোনো অবস্থাতেই স্পেসিফিকেশনবহির্ভূত মোটরযান রেজিস্ট্রেশন না দেওয়া, ত্রুটিপূর্ণ মোটরযানের ফিটনেস নবায়ন না করা এবং স্পেসিফিকেশনবহির্ভূত বাস ও ট্রাকের বডি নির্মাণের কারখানাগুলো পরিদর্শন করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মহাসড়কে চলন্ত গাড়ির স্পিড কন্ট্রোলের বিষয়ে দূরপাল্লার বিভিন্ন বাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার এবং ট্রাকের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে একাধিক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘নিরাপদ সড়কের জন্য যতই ব্যবস্থা নিই না কেন, দেশের মানুষের মানসিকতা পরিবর্তন না হলে কিছুই হবে না। অনেকেই ফুট ওভারব্রিজ কিংবা আন্ডারপাস ব্যবহার না করে ছোট শিশুকে নিয়ে চলন্ত গাড়ির মধ্য দিয়েই রাস্তা পারাপার হতে দেখা যায়। এ সময় দ্রুত যানবাহন কিভাবে হঠাৎ করে থামবে? সে বিষয়টিও দেখতে হবে। এ কারণেই দুর্ঘটনা হয়। এখানে ড্রাইভারের দোষ কতটুকু আর ট্রাফিক আইন না মেনে যিনি ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছেন তাঁর দোষ কতটুকু, তা-ও বিবেচনায় আনা দরকার।’ তিনি বলেন, কোথাও দুর্ঘটনা হলে আইন নিজের হাতে না নিয়ে ড্রাইভারকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা উচিত। সবার প্রতি অনুরোধ, ট্রাফিক আইন মেনে চলুন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করতে কমিশন হচ্ছে : সংসদ সদস্য মো. আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ পর পর দুইবার সরকার গঠন করার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার আগে ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে অনেক তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এতে দেখা যায় যে পরোক্ষভাবে দেশি ও বিদেশি কিছু লোক ও সংস্থা বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। তাই জাতির পিতা হত্যার ব্যাপারে অন্যান্য পরিকল্পনাকারীকে শনাক্ত করার জন্য একটি কমিশন গঠনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বঙ্গবন্ধুর যেসব খুনি বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছে এবং আশ্রয় গ্রহণ করেছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

দেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা অব্যাহত : সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে, দেশের জনগণের সার্বিক মুক্তি অর্জন এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণে আওয়ামী লীগ সরকার নানা রকম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে বর্তমান সরকার রূপকল্প ২০২১, দিনবদলের সনদ, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ঢাকার চারদিকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে : সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ্র প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগ সরকার রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকল্পে এলিভেটেড এক্সপ্রেস সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্প, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প এবং ঢাকা  ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, ঢাকা শহরে রিং রোড করারও পরিকল্পনা আছে। এ রিং রোড এলিভেটেড করা হবে। বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পিতভাবে ল্যান্ডিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। স্থাপিত এলিভেটরগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনে সংযোগ দেওয়া হবে। বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগ নদে নৌপথ এবং এগুলোর পার ধরে ভবিষ্যতে রিং রোড করে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

শরিকদের ৬৫ থেকে ৭০ আসন ছাড় দেয়া হবে : কাদের

আগামী নির্বাচনে শরিকদের জন্য ৬৫ থেকে ৭০টি আসন ছাড় দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য অক্টোবরেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন শুরু হবে। শরিকদের জন্য ছাড়া হবে ৬৫ থেকে ৭০ আসন।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের এ তথ্য জানান।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর (দলীয় সভানেত্রী) সঙ্গে আলাপ করেছি। নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা আকার ছোট হবে এবং টেকনোক্র্যাট কেউ থাকবে না। জাতীয় পার্টি থাকবে কিনা দলটির সাথে আলোচনা হচ্ছে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অতীতের যে কোনো সময়ে চেয়ে ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃংখল দল। বিএনপি পল্টনে যা করতে পারেনি, তা আমার উত্তরবঙ্গের ১৮ জনসভায় হয়েছে।

খালেদা জিয়ার দরকার চিকিৎসার বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দলটি এটাকে ইস্যু বানিয়ে রাজনীতি করছে। স্বাস্থ্য নিয়ে রাজনীতি চলছে।

মির্জা ফখরুলের আন্দোলনের ঘোষণার জবাব ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির আন্দোলন আষাঢ়ে তর্জন গর্জন। পাগলে কিনা বলে ছাগলে কিনা খায়। ১০ বছরে কিছু করতে পারেনি, আগামী ২ মাসে কী আন্দোলন করবেন উনারা? ‘ঘরে ঐক্য নেই। নিজেদের মধ্যে অবিশ্বাস, সন্দেহ। তারা দেশের ঐক্য কিভাবে করবে? সাম্প্রদায়িক শক্তিকে নিয়ে ঐক্য করবে?’ প্রশ্ন রাখেন কাদের।

দলের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা বিগত সিটি নির্বাচনে দলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো তাদের কড়া ভাষায় শোকজ করা হয়েছে। এমনকি সিলেটে পরাজিত প্রার্থীকেও ভোটে পরাজয়সহ অন্যান্য কারণে চিঠিও দেয়া হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে তাদেরকে জবাব দিতে বলা হয়েছে। কোন কোন এলাকার জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কাছে যাবার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।