জাতীয় খবর

জাতীয় খবর আমার কুষ্টিয়া হতে প্রকাশিত

পল্টনে পুলিশের সাথে বিএনপি কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

পল্টনের বিএনপি কার্যালয়ে তৃতীয় দিনের মত মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করতে যাওয়া নেতা-কর্মীদের সাথে পুলিশের সাথে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায় এই সংঘর্ষ শুরু হয়।

বিএনপির সমর্থকরা সেখানে পুলিশের একট গাড়িতে আগুন দেয় এবং রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিএনপি অভিযোগ করেছে, তাদের দলীয় মনোনয়নপত্র নিতে আসা প্রার্থীর সমর্থকদের মিছিলের ওপর পুলিশ রাবার বুলেট এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে।

পুলিশ বলেছে, বিএনপি নেতাকর্মীদের মিছিল থেকে পুলিশের ওপর প্রথম ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঐ এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছে।

ঘ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা : নতুন জটিলতায় ঢাবি প্রশাসন

চলতি শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। পরে সমালোচনার মুখে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পুনরায় যাচাই পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। আগামী ১৬ নভেম্বর শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের বিভিন্ন কেন্দ্রে উত্তীর্ণ ১৮ হাজার ৪৬৩ শিক্ষার্থীর এ ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এর আগেই সৃষ্টি হয়েছে নতুন জটিলতা।

১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষা কেন ‘অবৈধ’ ঘোষণা করা হবে না মর্মে গত ২১ অক্টোবর হাইকোর্টের এক আইনজীবী রিট আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষায় অকৃকার্য এক শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেয়ার নির্দেশ দেন।

যেখানে রিটকারীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুধু অকৃতকার্য একজনকে সুযোগ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু যদি সুযোগ দিতে হয় তাহলে কেন একজনকে- সবাই কেন এ সুযোগ পাবে না- এখন এই প্রশ্ন উঠেছে।

যাকে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ নির্দেশ দিয়েছেন আদারত তিনি সুপ্রিম কোর্টর আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দের মেয়ে আনিকা বিনতে ইউনুছ। এই আইনজীবী ওই রিট আবেদন করেছিলেন।

‘যদি অকৃতকার্য হওয়ার পরও সুযোগ দিতে হয় তাহলে কেন বাবিরা কেন সুযোগ পাবে না-‘ ‘ঘ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের প্রতি কাছে এই প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর নিজে দিতে চাননি।

তিনি জানান, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, আদালত একটি নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু নির্দেশের কপি এখনও আমাদের হাতে আসেনি। আগে নির্দেশের কপি হাতে আসুক, তারপর বিষয়টি আমাদের আইন উপদেষ্টাদের সঙ্গে বসে সুরাহা করা হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা আব্দুল হালিম চাকলাদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

মঙ্গলবার আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক টুটুল।

শুনানিকালে আদালত বলেন, যেহেতু ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফের পরীক্ষা গ্রহণেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাহলে শুধু উত্তীর্ণদের কেন? পরীক্ষা নিলে সকলেরই নিতে পারতো। বাকিদের কেন নেয়া হবে না এমন প্রশ্ন করেন আদালত।

জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি বরং ডিজিটাল জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে, যার সঙ্গে স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। এমনকি এর সঙ্গে জড়িত কিছু সংখ্যককে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টে এমনটিই উঠে এসেছে। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধু উত্তীর্ণদের ফের পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ সময় আদালত বলেন, সকলেরই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া উচিত ছিল। পরে আদালত আইনজীবী ইউনুছ আলীর মেয়ে আনিকা বিনতে ইউনুছকে ফের ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ দিতে ঢাবি কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে তফসিল পেছানোর দাবিতে আজ ইসিতে যাচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা জাতীয় নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল এক মাস পেছানোর দাবি নিয়ে বিকাল সাড়ে ৩টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

আজ বুধবার নির্বাচন কমিশনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ওই দাবির পাশাপাশি নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকা, সারা দেশে গায়েবি মামলা, গ্রেফতার-হয়রানি ছাড়াও ইভিএম ব্যবহার না করার বিষয়ে মতামত তুলে ধরবে।

নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার বিষয়টি অবহিত করার জন্য মঙ্গলবার দুপুরে একটি চিঠি নিয়ে ফ্রন্টের নেতা শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন নির্বাচন কমিশনে যান। এরপর তাদের দাবির প্রেক্ষিতে বিকাল সাড়ে ৩টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সাক্ষাতের সময় দেওয়া হয়।

সব প্রার্থীকে সমান সুযোগ দিতে হবে: সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচনে সব প্রার্থীকে সমান সুযোগ দিতে হবে। কেউ যেন বঞ্চিত না হন, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনের সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

সিইসি এ সময় নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করে যেতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

এর আগে মঙ্গলবার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের মাধ্যমে নতুন একটি ইতিহাস তৈরি হবে। কেননা এ নির্বাচন যদি সফল হয়, তা হলে এর পর থেকে হয়তো সরকার ও সংসদ থেকেই নির্বাচন পরিচালিত হবে। স্থিতিশীল অবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, আসলেই এ বছরের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। কখনও রাষ্ট্রপতি শাসিত, কখনও সেনাবাহিনীর অধীনে আবার কখনও কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু এবারই সরকারের অধীনে নির্বাচন।

তদন্ত করলে দুদকেও দুর্নীতি বের হবে !

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলে দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) নানা ধরনের দুর্নীতি বের হবে। উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিতভাবে হলে দুর্নীতি কমে যায়। তিনি আরও বলেন, শুধু কর ও শুল্ক বিভাগকে লক্ষ্য করে কোনো কিছু করা হলে এবং এসব বিভাগে দুদকের অফিস করতে চাইলে সেটা হতে দেওয়া হবে না। আয়কর অধ্যাদেশ ও শুল্ক আইনে নেই এমন কিছু করা যাবে না।

আজ রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এনবিআরের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এসব কথা বলেন। কর মেলা ও করদাতাদের সম্মাননা দেওয়া উপলক্ষে সেগুনবাগিচার এনবিআর ভবনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 
দুদকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর বিভাগে ১৩ ধরনের দুর্নীতি হয়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এ কথা বলেন। আয়কর বিভাগের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির ১৩ উৎস এবং এসব ‍দুর্নীতি প্রতিরোধে ২৩টি সুপারিশ সংবলিত একটি প্রতিবেদন গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব বরাবর জমা দেয় দুদক।

সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের করসংক্রান্ত শর্ত পূরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, নতুন করে কোনো বিধিবিধান পরিবর্তন করা হচ্ছে না। শেষ মুহূর্তে কোনো সংশোধনী আনা হলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এ ছাড়া নির্বাচনের কারণে রাজস্ব আদায়ে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন তিনি। 
আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যপদে প্রার্থী হতে হলে বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী মঙ্গলবার থেকে দেশব্যাপী আয়কর মেলা শুরু হচ্ছে। রাজধানীর কর মেলা বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাব প্রাঙ্গণে হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই মেলা চলবে। মেলায় নতুন কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেওয়া থেকে শুরু করে আয়কর বিবরণী পূরণ, জমা ও কর পরিশোধ—সবই করা যাবে। অন্যদিকে আগামীকাল সোমবার সারা দেশের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতাদের কর কার্ড ও সম্মাননা দেওয়া হবে।

রাজধানীসহ দেশের সব বিভাগীয় শহরে সপ্তাহব্যাপী এই মেলা হবে। শেষ হবে ১৯ নভেম্বর। এ ছাড়া সব জেলা শহরে চার দিন কর মেলা হবে। এ ছাড়া ৩২ টি উপজেলায় দুই দিন মেলা হবে। উপজেলা পর্যায়ে যেসব স্থানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ভালো, এমন ৬৮ উপজেলায় বা গ্রোথ সেন্টারে এক দিন মেলা হবে। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো ঢাকা ও চট্টগ্রামে আয়কর মেলার আয়োজন করা হয়।

এবারের কর মেলায় করদাতারা ১০ ধরনের সেবা পাবেন। সেবাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমা; রিটার্ন জমার জন্য কর অঞ্চলভিত্তিক আলাদা বুথ; নতুন ইলেকট্রনিক কর শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) ও পুরোনো টিআইএনের বদলে নতুন ইটিআইএন নেওয়ার সুবিধা; কর পরিশোধে ই-পেমেন্টের সুযোগ; মুক্তিযোদ্ধা, নারী, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ করদাতাদের জন্য আলাদা বুথ; সোনালী, জনতা ও বেসিক ব্যাংকের বুথের মাধ্যমে কর পরিশোধের সুবিধা; অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (ইআরডি) বিভিন্ন সংস্থার তথ্য জানার জন্য আলাদা বুথ; মেলা প্রাঙ্গণে আয়কর রিটার্ন, ই-টিআইএন আবেদন ফরম ও চালান ফরম সরবরাহ; করদাতার জন্য সহায়তা কেন্দ্র এবং ফটোকপি সুবিধা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, প্রতিবারের মতো এবারও ব্যবসায়ী, নতুন করদাতা, তরুণ করদাতা, সাংবাদিক, শিল্পীসহ বিভিন্ন শ্রেণিতে কর কার্ড ও সম্মাননা দেওয়া হবে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন ও জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ করদাতা ও দীর্ঘ সময় ধরে কর দেন এমন করদাতাকে বিশেষ সম্মাননা দেবে এনবিআর। 
আগামীকাল সোমবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এই সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান হবে।সূত্র প্রথম আলো

 
 

 

রাজনৈতিক কারণে কাউকে গ্রেফতার না করার নির্দেশ

রবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে কাউকে গ্রেফতার না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে পুলিশকে। এছাড়াও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে না জানিয়ে কোনো রাজনৈতিক মামলাও করা যাবে না।

শনিবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ১১ মিনিটে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ক্ষুদে বার্তায় এই নির্দেশ দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

ক্ষুদে বার্তার শিরোনামে লেখা ছিল ‘SUSPENSION OF POLITICAL ARREST (রাজনৈতিক গ্রেফতারে স্থগিতাদেশ)’। পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) ও তার ঊর্ধ্বতনদের পাঠানো এই ক্ষুদে বার্তায় কমিশনার বলেন, ‘You are requested not to make any political arrest and not to record any political case without our knowledge until further order as instructed by hon home minister. Thanks, PC DMP’ (পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত আমাদের অবগত না করে কোনো রাজনৈতিক গ্রেফতার ও মামলা না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)।

এই বার্তার কিছুক্ষণ পর আরেক বার্তায় কমিশনার জানান, ‘CLARIFICATION : No bar to execute warrants of Arrest, No bar to lodge case if any incident happens, It’s a short term strategy to see the political developments in the country.’ (ব্যাখ্যা : গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার ও কোনো দুর্ঘটনার মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়নে এটি একটি স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা)।

এ বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা বলেন, ‘পুলিশ কখনও সুস্পষ্ট অভিযোগ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা গোত্র বিশেষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না। বাংলাদেশ পুলিশ একটি জাতীয় সংস্থা হিসেবে কখনওই এমন করে না। এটি পুলিশের পেশাগত আচরণ ও নীতির পরিপন্থী। পুলিশ আগে থেকেই রাজনৈতিকভাবে কাউকে গ্রেফতার করতো না, মামলা দিত না। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক (লিখিত) কোনো নির্দেশনা পাইনি।’

তবে পুলিশের একাধিক উপ-কমিশনার (ডিসি), অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ডিএমপি কমিশনারের মোবাইল থেকে এই ক্ষুদে বার্তা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম একটি দাবি ছিল নেতাকর্মীদের গ্রেফতার না করা। এমনকি ঐক্যফ্রন্টের গত বৃহস্পতিবারের রাজশাহী অভিমুখের রোডমার্চটিও বাতিল করা হয় এই কারণে। এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান বলেন, এই নির্দেশনা যদি আন্তরিক হয় তাহলে মঙ্গল, আর যদি রাজনৈতিক হয় বিপজ্জনক। আমাদের অন্যান্য দাবিগুলোকেও তাদের মানতে হবে।

দ্বিতীয় দফা সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা-গায়েবি মামলা ও গ্রেফতারকৃতদের তালিকা দেন।

এমপি পদে প্রার্থী হতে যেসব যোগ্যতা প্রয়োজন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোতে চলছে মনোনয়ন ফরম কেনাবেচার উৎসব। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে অনেকেই মজা করে নিজেরাও মনোনয়ন ফরম কেনার কথা বলে পোস্ট দিচ্ছেন।

নিছক মজা করেই হোক আর সত্যিকারেই রাজনীতিতে নাম লেখানোর উদ্দেশ্যেই হোক, বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে এবং সংসদ সদস্য বা এমপি নির্বাচিত হতে চাইলে জেনে রাখতে হবে সংসদ সদস্য হবার প্রাথমিক যোগ্যতাসমূহ।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চম ভাগের প্রথম পরিচ্ছেদে বলা হয়েছে কী কী যোগ্যতা থাকলে এমপি হওয়া যাবে, কোন কোন অযোগ্যতা সংসদ সদস্য হবার অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।

১. প্রথমত বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, বয়স ২৫ পূর্ণ হতে হবে। তবে আদালত কাউকে অপ্রকৃতিস্থ ঘোষণা করলে তিনি এমপি হতে পারবেন না।

২. আদালত যদি কাউকে দেউলিয়া ঘোষণা করেন তাহলে সে দায় থেকে তাকে মুক্ত হতে হবে। অন্যথায় তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারবেন না।

৩. প্রার্থী যদি অন্য কোনও দেশের নাগরিকত্ব অর্জন বা গ্রহণ করেন বা অন্য কোনও বিদেশি রাষ্ট্রের আনুগত্য স্বীকার করেন, তবেও তিনি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

৪. প্রার্থী যদি কোনও ফৌজদারি মামলায় দোষী হয়ে কমপক্ষে দুই বছর কারাদণ্ড ভোগ করেন, তবে নির্বাচিত হতে হলে তাকে কমপক্ষে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে। অর্থাৎ পাঁচ বছর পার হওয়ার আগে তিনি আর নির্বাচিত হতে পারবেন না।

৫. প্রার্থী যদি বাংলাদেশ যোগসাজসকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ১৯৭২) আদেশের অধীন যে কোনও অপরাধের জন্য দণ্ডিত হয়ে থাকেন, তবেও তিনি অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

৬. তাছাড়া ব্যক্তি যদি প্রজাতন্ত্রের কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন; যা আইন দ্বারা তাকে নির্বাচনের যোগ্য ঘোষণা না করে, তবেও তিনি নির্বাচনে লড়াই করতে পারবেন না।

এসব ছাড়াও বাংলাদেশে বিদ্যমান কোনও  আইনে যদি প্রার্থী অযোগ্য বিবেচিত হন, তবেও তিনি নির্বাচিত হতে পারবেন না।

তবে ব্যক্তি যদি জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকেন, তবে তিনি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে পুনরায় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে এবং উপরোক্ত কোনও শর্ত দ্বারা নিষিদ্ধ না হলে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

ব্যক্তির প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকার ক্ষেত্রে তিনি যদি কেবল রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী পদে আসীন থাকেন, তবে তিনি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।

আবার নির্বাচনের পরেও যদি কখনও তিনি অযোগ্য প্রমাণিত হন, তবে সে আসন শূন্য হবে কি না তা শুনানি ও নিষ্পত্তির মাধ্যমে মীমাংসা করা হবে এবং এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

সেই সাথে উপরোক্ত বিধানগুলোকে কার্যকর করতে নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করতে সংসদ যেমন মনে করবে, তেমন ক্ষমতা প্রদান করতে পারবে।

নির্বাচনের তারিখ আর পেছনোর সুযোগ নেই : সিইসি

নির্বাচনের তারিখ আর পেছনোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ব্রিফিং ও প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। এতে কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম ও কবিতা খানম বক্তব্য রাখেন।

এসময় নির্বাচন পেছনো প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘৩০ তারিখ নির্বাচনের দিন নির্ধারিত হয়েছে। এরপর আর তারিখ পেছানোর সুযোগ নেই। কারণ, নির্বাচনের পর ফলাফল আসবে, এরপর গেজেট করা। এই তিনশ’ আসনের গেজেট করার জন্য সময় লাগে। এছাড়া, টঙ্গীর ইজতেমা হবে জানুয়ারির ১১ তারিখে। এটি আমাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ সময় সারাদেশ থেকে আইশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আনতে হয়, যাতে কোনও সহিংসতা না ঘটে।’

তিনি আরও বলেন, ‘৩০ তারিখও একটি যথেষ্ট সময় নয়, আরও সময় নেওয়া দরকার ছিল। কিন্তু আমরা সেটি করতে পারিনি। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বড়দিনসহ বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখে ২৩ তারিখ নির্বাচনের বিষয়টি পরিকল্পনা করা হয়। যেহেতু নির্বাচনে সব দল অংশ নিয়েছে,তাতে আমরা খুশি হয়েছি। কিন্তু ভোটের তারিখ আর পেছানোর সুযোগ নেই।’

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেশি-বিদেশি সবস্তরের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এবছর নির্বাচনের পরিবেশ হবে ভিন্ন। আমাদের দেশে কখনও নির্বাচন হয়েছে রাষ্ট্রপতি শাসিত নির্বাচন, কখনও সেনাবাহিনী, কখনও কেয়ারটেকারের অধীনে। কিন্তু অন্যান্য নির্বাচন থেকে এই নির্বাচন সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ, সংসদ থেকে, সরকার থেকে এই নির্বাচন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৪ সালে এমন একটি নির্বাচন হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্বাচনে সব দল অংশ নেয়নি। আমরা সেজন্য আনন্দিত যে, এই নির্বাচনে সব দল অংশ নিতে যাচ্ছে। সে কারণে আপনাদের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে।’

এখন থেকে নির্বাচনের সব দায়িত্ব রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘নির্বাচন হতে হবে সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। ভোট একটি উৎসব। ভোটের দিন ভোটাররা আনন্দমুখর পরিবেশে ভোট দিতে যাবে। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথ পালন করবেন। ভোটের বুথ ছাড়া বাকি সব স্থানে পর্যবেক্ষকসহ সবাই যেতে পারবেন এবং তা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। যে নির্বাচন জনগণ গ্রহণ করবে, যে নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে— সেটিই হবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। এই অবস্থা আপনাদের (রিটার্নিং কর্মকর্তা) সৃষ্টি করতে হবে। এখন থেকে নির্বাচনের সব দায়িত্ব আপনাদের। কীভাবে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ করবেন, ভোটকক্ষ তৈরি করবেন সব দায়িত্ব আপনাদের। সবাই আন্তরিকভাবে নির্বাচন পরিচালনা করেন, তাহলে সামগ্রিকভাবে আমাদের ওপর জনগণের সন্দেহ হবে না।’

প্রার্থী এবং রাজনীতিবিদরা সম্মানিত ব্যক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেকেই এমপি ছিলেন, অনেকে যারা এমপি ছিলেন না, তারাও এলাকায় সম্মানিত ব্যক্তি। তাদের সঙ্গে যদি সুসম্পর্ক রাখেন— তাহলে কেউই নির্বাচনে সমস্যা সৃষ্টি করবেন না। তাদেরকে কখনেও প্রতিপক্ষ হিসেবে নেবেন না। তাদের সহযোগিতা করলে তারাও আপনাদের সহযোগী ও বন্ধু হিসেবে কাজ করবেন, বিরোধিতা করবেন না। নিরপেক্ষতা হবে একমাত্র মাপকাঠি।’

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কোনও হাত থাকে না। ইসির গুরুত্বপূর্ণ অংশ রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সব দায়িত্ব আপনাদের। আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে আপনাদের ওপর মানুষের সন্দেহ তৈরি হবে না।’

আইন মেনে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন করলে এবং অংশীজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখলে, আপনাদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা বাড়বে।তারা সহযোগিতাও করবে।’

সিইসি বলেন, ‘ব্যক্তিগত ব্যর্থতার দায়ে যেন কমিশন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। এবার নির্বাচনে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে। সরকার বহাল থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়— এই নির্বাচনের মাধ্যমে সেটা প্রমাণ হবে।’

কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘এই নির্বাচন কমিশনের আত্মমর্যাদার নির্বাচন। জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেবার নির্বাচন। এটা বিবেচনা করে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সরকারি চাকরি করলেও নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে।’

বিদেশি পর্যবেক্ষকের জন্য নির্বাচন পেছানোর দাবি ভিত্তিহীন

বিদেশি পর্যবেক্ষকের জন্য জাতীয় নির্বাচন পেছাতে হবে -বিএনপির এমন দাবি ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডি রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে অংশ নিয়েও পুরনো নালিশের অভ্যাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে বিএনপি। বিদেশিদের উপর নির্ভর করে নির্বাচন পেছাবে না। সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হবে। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য জাতীয় নির্বাচনের তারিখ পেছাতে হবে এর চেয়ে হাস্যকর, অবান্তর, অবাস্তব, ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক দাবি আর হতে পারে না।

তিনি বলেন, বিএনপি যদি আন্দোলনের চিন্তা করে তাহলে সারাদেশের জনগণেই তাদের প্রতিরোধ করবে। কারণ, জনগণ এখন নির্বাচনের মুডে রয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, কর্নেল (অব.) ফারুক খান ও রমেশ চন্দ্র সেন দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

দলীয় মনোনয়ন সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, মনোনয়ন ব্যক্তিগত ব্যাপার, যে কেউ চাইতে পারে। কাকে দেয়া হবে তা জানেন দলের সভাপতি। পুনঃতফসিলের কারণে তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই। কেউ আসলে তার মনোনয়ন ফরম জমা নেয়া হবে। দলের মনোনয়ন তালিকা চূড়ান্ত হতে ৪-৫ দিন সময় লাগবে। এখন প্রার্থীদের সার্ভে রিপোর্ট পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন

আ.লীগের মনোনয়ন ফরম নিলেন ৪ ‘ইয়াবা ব্যবসায়ী

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ২১ জন। তাঁদের মধ্যে চারজন রয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা এ চারজন হলেন বর্তমান সাংসদ আবদুর রহমান বদি, টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আলম, ভাইস চেয়ারম্যান মৌলভি রফিক উদ্দিন ও বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মৌলভি আজিজ উদ্দিন। এসব ব্যক্তির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এলাকাবাসীর ধারণা, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কালোটাকার কাছে হেরে যাচ্ছেন দলের ত্যাগী ও যোগ্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনে এ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ২১ জন। তাঁদের মধ্যে টেকনাফের ১২ ও উখিয়ার ৯ জন। তাঁদের অন্তত ১৫ জন সাংসদ বদির পক্ষে ডামি মনোনয়নপ্রত্যাশী বলে মনে করছেন দলের নেতা–কর্মীরা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৭৩ জনের হালনাগাদ করা ‘ইয়াবা গডফাদারের’ তালিকায় সাংসদ বদির নাম ১ নম্বরে। জাফর আলম, মৌলভি আজিজ ও মৌলভি রফিকের (এ দুজন সহোদর) নাম যথাক্রমে ৬, ২৫ ও ২৬ নম্বরে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকে তাঁদের কয়েকজনকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না।

এ আসন থেকে আরও যাঁরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন, তাঁদের মধ্যে আছেন সাবেক সাংসদ ও টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর, কক্সবাজার জেলা পরিষদের সদস্য মো. শফিক মিয়া ও জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর।

মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করেন, সাংসদ বদির কারণে টেকনাফ আজ ইয়াবার উৎসভূমিতে পরিণত হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের লোকজনকে নিয়ে তিনি ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করেন। আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে বদির কোনো সম্পর্ক নেই।

সোহেল আহমদ বলেন, ইয়াবার বদনাম থেকে টেকনাফ ও উখিয়ার মানুষকে দূরে রাখতে তিনি প্রার্থী হয়েছেন। কিন্তু মনোনয়ন বোর্ডে সাংসদ বদির পক্ষে সাফাই গাইতে ১০-১৫ জন ডামি মনোনয়নপ্রত্যাশী হয়েছেন। কয়েকজন তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীর দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করার বিষয়টি লজ্জাজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জাফর আলম ও মৌলভি রফিক উদ্দিন বলেন, নির্বাচন করার জন্যই দলের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। জনপ্রিয়তা না থাকলে তাঁরা জনপ্রতিনিধি হতে পারতেন না। ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গেও তাঁরা জড়িত নন।

ডামি প্রার্থী হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ওই দুজনই বলেন, তাঁরা ডামি প্রার্থী নন। তবে সাংসদ বদিই এ আসনের সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী।

এদিকে উখিয়া থেকেই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন নয়জন। তাঁদের উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, তাঁতী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভাপতি সাধনা দাশ গুপ্তা, সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরী, মেজর (অব.) আবু তাহের ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলী আহমদ।

হামিদুল হক সাংসদ বদির শ্বশুর এবং জাহাঙ্গীর কবির শ্যালক। জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ডামি প্রার্থী নয়, দলের মূল প্রার্থী হতে তিনি মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। সাধনা দাশ বলেন, তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হবে। ভোটাররাও হতাশ হবেন। এ প্রসঙ্গে জানতে সাংসদ বদির মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।-প্রতিবেদন প্রথম আলো’র সৌজন্যে প্রকাশিত।

নৌকার মনোনয়ন চাইছেন চার হাজারের বেশি প্রার্থী

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনশ আসনে নৌকার মনোনয়ন চাইছেন চার হাজারের বেশি প্রার্থী। শুক্রবার থেকে টানা চারদিন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শেষে সোমবার এ তথ্য পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, চারদিনে চার হাজার ২৩ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। এদের মধ্য থেকে ৩০০ জনকে বাছাই করতে হবে আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি বোর্ডকে।

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্য থেকে ৩০০ আসনে প্রার্থী বাছাইয়ে বুধবার থেকে সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু করবে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড।
৩০০ আসনে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করার পর জোটে আসন ভাগাভাগি হলে এর কেউ কেউ প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়বেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল পেছানোয় এখন ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ভোটগ্রহণ হবে ৩০ ডিসেম্বর।

আওয়ামী লীগের প্রতিটি ফরমের দাম ছিল ৩০ হাজার টাকা। অর্থাৎ মনোনয়ন ফরম বিক্রি থেকে ১২ কোটি ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার তহবিল গড়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।

মনোনয়ন ফরম বিক্রিতে সংশ্লিষ্ট নেতারা জানাচ্ছেন, শুক্রবার প্রথম দিনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩২৯টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়। শনিবার ১ হাজার ১৩২ জন এবং রবিবার ৮৩৫ জন মনোনয়ন ফরম কেনেন। শেষ দিন সোমবার ফরম বিক্রির পর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুল-উল আলম হানিফ সাংবাদিকদের বলেছেন, চার দিনে ৪ হাজারের বেশি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। তবে শেষ দিনে ফরম বিক্রির সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঢাকার ধানমণ্ডিতে দলীয় সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা নেওয়া চলে। এই উপলক্ষে নেতা-কর্মী ও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উপস্থিতিতে সরব ছিল। ফলে যানজটের ধকলও পোহাতে হয় ওই এলাকার বাসিন্দাদের।

সাতটি আসনে একজনের বেশি প্রার্থী নেই

সারাদেশে সাতটি আসনে আওয়ামী লীগের একটি করে মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ সেসব আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী।

এর মধ্যে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের আসন রয়েছে।

শুক্রবার সকালে শেখ হাসিনার জন্য দুটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের মধ্যে দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

শেখ হাসিনার নিজের আসন গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গীপাড়া-কোটালীপাড়া) এর জন্য একটি ফরম নেয়া হয়। ওবায়দুল কাদের ফরমটি কিনে আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক গোপালগঞ্জের শেখ আবদুল্লাহর কাছে হস্তান্তর করেন।

শেখ হাসিনার জন্য কেনা অন্য ফরমটি কোন আসনের, তা পরে প্রকাশ করা হবে বলে কাদের জানিয়েছেন।

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ-৩ আসনের পাশাপাশি তার শ্বশুরবাড়ির এলাকা রংপুরের পীরগঞ্জ (রংপুর-৬) আসনে নির্বাচিত হন। পরে তিনি রংপুর-৬ আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে ওই আসনের এমপি হন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

এবারও শিরীন শারমিন চৌধুরীর জন্য রংপুর-৬ আসনের মনোনয়ন ফরম কিনে সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজের কাছে হস্তান্তর করেন কাদের।

সাধারণ সম্পাদক কাদেরের জন্য নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ) আসনের একটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ।

কাদেরের আসনে আর কেউ মনোনয়ন ফরম কেনেননি।

গোপালগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বাদে আর কেউ মনোনয়নপত্র কেনেননি।

বরিশাল-১ (গৌরনদী) আসনেও একক মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। বাগেরহাট-১ আসনে শেখ হেলাল উদ্দিন এবং খুলনা-২ আসনে শেখ সালাহ উদ্দীন জুয়েল একমাত্র মনোনয়ন প্রত্যাশী।।

এদের মধ্যে শেখ সেলিম ও হাসানাত আবদুল্লাহ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ফুপাত ভাই। অন্য দিকে শেখ হাসিনার চাচাত ভাই হলেন শেখ হেলাল ও শেখ জুয়েল।

মৌলভীবাজার-১ (কুলাউড়া) আসন থেকে শাহাবুদ্দিন আহমেদ একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। তিনি বর্তমানে সংসদের হুইপ।

মনোনয়ন ফরম কেনার ক্ষেত্রে এক আসনে এক পরিবারের দুইজনও ফরম কিনেছেন।

সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম অসুস্থ থাকায় কিশোরগঞ্জ সদর আসনে তার জন্য নেওয়ার পাশাপাশি তার তিন ভাই নিজেরাও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচনের জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও তার ভাই এ কে মোমেন মনোনয়নপত্র কিনেছেন। মুহিত এই আসনে বর্তমানে এমপি; কিন্তু আর ভোটে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা রয়েছে তার।

সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এবং তার ছেলে তানভীর শাকিল জয় ফরম কিনেছেন। নবম সংসদ নির্বাচনে আইনি জটিলতায় নাসিম ভোট করতে না পারায় ছেলে জয় নির্বাচন করেছিলেন।

চাঁদপুর-২ আসনে ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং তার ছেলে সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দিপু মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য খন্দকার আসাদুজ্জামান, তার ছেলে মশিউজ্জামান রোমেল দুজনেই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। আসাদুজ্জামান বর্তমানে অসুস্থ।

হাজি মোহাম্মদ সেলিম অসুস্থ থাকায় ঢাকা-৭ আসনে তার পাশাপাশি ছেলে সোলায়মান সেলিমও মনোনয়নপত্র কিনেছেন।

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে একই পরিবারের কয়েকজন মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

তারা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শহীদ মমতাজ উদ্দীন, তার ছোট ভাই বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, আরেক ভাই শহীদ মমতাজ উদ্দীনের স্ত্রী ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেফালী মমতাজ, শেফালী মমতাজের ছেলে ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক শামীম আহম্মেদ সাগর।

নাটোর-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস এবং তার মেয়ে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনে একই পরিবারের তিন ভাইবোন মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। তাদের একজন বর্তমান সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল। তার বড় ভাই রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজলও বসে নেই। অন্যদিকে তাদের ছোট বোন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনিন সরওয়ার কাবেরীও মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

পাবনা-৪ আসনে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর পাশাপাশি তার মেয়ে মাহাজাবিন শিরিন পিয়া ও তার স্বামী আবুল কালাম পিন্টুও মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

একই পরিবার থেকে কয়েকজন ফরম কেনেন

আর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ ফরম কিনেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসন থেকে। তার ভাই রশিদুল আলম কিনেছেন কুষ্টিয়া-১ ও কুষ্টিয়া-২ আসনের জন্য।

আ’লীগের প্রার্থী হতে চান বিএনপির মেয়র মনজুর

রাজনীতির ‘গুরু’কে হারিয়ে বিজয় ছিনিয়ে নেয়া বিএনপির মেয়র মনজুর আলম এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চান।

ইতোমধ্যে তিনি দলীয় মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করেছেন।

শনিবার ঢাকার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয় থেকে মনজুর মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। চাচাতো ভাই আবুল কালাম আজাদ তার পক্ষে মনোনয়ন ফরমটি সংগ্রহ করেছেন।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ২০১০ সালে বিএনপির সমর্থন নিয়ে তিনবারের সাবেক মেয়র ও নিজের রাজনৈতিক ‘গুরু’ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে পরাজিত করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের চেয়ারে বসেন মনজুর।

এরপর বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান মেয়র মনজুর।

তবে দলীয় কর্মসূচি ও সরকার-বিরোধী আন্দোলনে তার কোনো দেখা মিলেনি।

২০১৫ সালে ফের বিএনপির টিকেটে মেয়র নির্বাচন করে ‘ধরাশায়ী’ হন মনজুর আলম। সকাল আটটায় ভোট শুরু হওয়ার পর বেলা এগারটায় বাড়ির পাশের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন তিনি। এরপর নিজের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনের মধ্যদিয়ে নির্বাচন বর্জন করেন।

সে থেকেই চট্টগ্রামের সংসদীয় আসন- ১০ ডবলমুরিং-এ সংসদ সদস্য পদে তিনি নির্বাচনে অংশ নিবেন এমন আলোচনা শুরু হয়।

সেই আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন শনিবার।

এদিকে এ আসনে বর্তমানে সংসদ সদস্য হিসেবে আছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমীন। তিনিও একদিন আগে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মনজুর আলম বলেন, নির্বাচন করতে চাইছি। মনোনয়ন বোর্ডের কাছে ফরম জমা দেওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত।

মনজুর আলম চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিরর হওয়ার মধ্যদিয়ে রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। তার বাবা আবদুল হাকিম চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। আর মনজুর হন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য।

১৯৯৪ সাল থেকে টানা ১৬ বছর মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে মনজুর ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর। সেসময় একাধিকবার প্যানেল মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মহিউদ্দিন গ্রেফতার হলে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পান মনজুর আলম। এরপরই ২০১০ সালের ১৭ জুন প্রায় এক লাখ ভোটের ব্যবধানে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে পরাজিত করে মেয়রের চেয়ার দখলে নেন।

মনজুর আলমকে ২০১৬ সাল থেকেই আওয়ামী লীগে ফিরাতে চেয়েছিলেন এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী। এরপর তিনি নিজেও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সেসময় তিনি বলেছিলেন ‘উপযুক্ত’ সময়ের অপেক্ষায় আছেন। যদিও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নাসির উদ্দীনের কাছে ধরাশায়ী হয়ে গণমাধ্যমের সামনে সরাসরি ঘোষণা দিয়েছিলেন সারাজীবনের জন্য রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছেন তিনি।

২ দিনে মনোনয়নপত্র বিক্রি ৩২০০, প্রতি আসনে ১০জন প্রত্যাশী

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৩ হাজার ২০০ মনোনয়নপত্র বিতরণ করেছে আওয়ামী লীগ। আর জমা পড়েছে ৪৬০টি। দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, মনোনয়নপত্র বিতরণের প্রথমদিন ১ হাজার ৩২৮টি বিতরণ হয়েছিল। দ্বিতীয় দিন শনিবার বিতরণ হয়েছে ১ হাজার ৮৭২টি। অর্থাৎ দুইদিনে ৩ হাজার ২০০ মনোনয়নপত্র বিতরণ করেছে আওয়ামী লীগ। সেই হিসাবে, প্রতি আসনে প্রায় ১০ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী ফরম সংগ্রহ করেছেন।

প্রতিটি মনোনয়নপত্র বাবদ সম্ভাব্য প্রার্থীদের পরিশোধ করতে হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। সে হিসাবে, ৩ হাজার ২০০টি মনোনয়নপত্র বিক্রি থেকে আওয়ামী লীগের আয় হয়েছে ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন শুক্রবার (৯ নভেম্বর) সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জন্য দুটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের মধ্যদিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ২ হাজার ৬০৮ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন।

ফরম নিলেন তথ্যপ্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম

 আসন্ন সংসদ নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম তুলেছেন তথ্যপ্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম। তিনি টাঙ্গাইল- ৬ (দেলদুয়ার নাগরপুর ) আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। আজ (শনিবার) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এসে ফরম সংগ্রহ করেন তিনি।

এর আগে অ্যাডভোকেট তারানা হালিম সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি নির্বাচিত হন। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। প্রথমে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি অদ্যবধি তথ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৩ ডিসেম্বর (রোববার)।

নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৯ নভেম্বর (সোমবার)। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২২ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার)। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার)।

এবারের সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০, যা গত ৩১ জানুয়ারি হালনাগাদ করা ভোটারের থেকে ৪৮ হাজার ৯৯ জন বেশি। ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ অক্টোবর- এই সময়ের মধ্যে নতুন ভোটার হয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার।

তফসিল ঘোষণার পরই দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে (ইসি)। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক রিটার্নিং কর্মকর্তার এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা/জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আ’লীগের সংঘর্ষে গাড়ি চাপায় ২ কিশোর নিহত

ঢাকার মোহাম্মদপুরে শনিবার সকালে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের মধ্যে গাড়িচাপায় দুই কিশোরের মৃত্যু ঘটেছে।

এলাকাবাসী জানায়, স্থানীয় এমপি জাহাঙ্গীর কবির নানক ও এবার মনোনয়নপ্রত্যাশী সাদেক খানের সমর্থকদের মধ্যে ওই সংঘর্ষ বাঁধে।

এ সময় মোহাম্মদিয়া হোমসের সামনে একটি পিকআপ তাড়া খেয়ে পালানোর সময় আরিফ (১৫) ও সুজন (১৭) নামে দুই কিশোরকে চাপা দিলে তারা নিহত হন। এ ঘটনায় আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ঘটনাস্থলে যাওয়া মোহাম্মদপুর থানার এসআই মুকুল রঞ্জন দেব জানান, শনিবার সকালে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় ওই এলাকার মোহাম্মদিয়া হোমসের একটি পিকআপে করে আসা বেশ কিছু তরুণ লোহার গেটের কাছে এলে বিপরীত দিক থেকে সেই পিকআপ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

এসময় পিকআপভ্যানটি দ্রুত ঘোরাতে গেলে তার নিচে চাপা পড়েন আরিফ ও সুজন।

আরিফকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা দুজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য নিহত দুই কিশোরের লাশ হাসপাতাল দুটির মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশের দাবি পরিস্তিতি এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ঢাকা-পঞ্চগড় ট্রেন চলাচল শুরু

 দেশের সর্ব উত্তরের জেলা থেকে সরাসরি ঢাকা-পঞ্চগড় ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে পঞ্চগড়বাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হলো। এ নিয়ে পঞ্চগড়ে বইছে আনন্দের বন্যা। ট্রেন ষ্টেশনে হাজারো মানুষের ভিড়- যেন আনন্দঘন উৎসব পালন করছেন তারা।

দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন, ও স্থানীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচির আয়োজন করছে। শনিবার সকাল ৭.টা ২০ মিনিটে দেশের দীর্ঘতম রেলপথের এই ষ্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় দ্রুতযান এক্সপ্রেস।

রেলের পতাকা উড়িয়ে ঢাকা-পঞ্চগড় আন্তনগর ট্রেনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল কালাম আজাদ। এসময়  উপস্থিত ছিলেন, পঞ্চগড় ২ আসনের সাংসদ এ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সূজন,  রেলওয়ের মহাপরিচালক কাজী মো. রফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন, পুলিশ সুপার গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট প্রমুখ।

উদ্বোধনী ট্রেন দেখতে গতকাল রাত থেকে এলাকার সর্বকনিষ্ঠ শিশু থেকে শুরু করে বয়োজেষ্ঠরাসহ নানা পেশার নানা বয়সী মানুষ আসেন ষ্টেশনে। গতকাল রাতেই উদ্বোধনী ট্রেন দ্রুতযান এক্সপ্রেসের একটি কোচ এসে পৌছে ষ্টেশনে। আজ রাত ৯ টায় ছাড়বে একতা এক্সপ্রেস। এদিকে এখন থেকে প্রতিদিন ঢাকা থেকে দ্রুতযান ছাড়বে রাত আটটায় এবং একতা ছাড়বে সকাল দশটায়।

৯৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে রেল মন্ত্রণালয়ের আওতায় পার্বতীপুর থেকে ঠাকুরগাঁও হয়ে পঞ্চগড় পর্যন্ত ১৫০ কিলোমিটারের এ রেললাইনের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১০ সালে। ঐ বছরের ৩১ জানুয়ারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই রেল লাইনের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করে কাজের শুচনা করেন। রেললাইনের কাজ শেষ হয় ২০১৬ সালে।  ২০১৭ সালের ১৭ জুন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক দিনাজপুর পর্যন্ত একটি ইর্ন্টাসিটি শাটল ট্রেন উদ্বোধন করেন। পরে এই নিয়ে স্থানীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো আন্দোলন শুরু করে। তারা সরাসরি ঢাকা-পঞ্চগড় ট্রেন চলাচলের দাবি করে।

এ বছরের ২৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠাকুরগাঁওয়ের এক জনসভায় এ জাতীয় দাবি সংবলিত ব্যানার দেখতে পেয়ে তার বক্তব্যে বলেন, ব্যানার নামিয়ে ফেলুন পঞ্চগড় ট্রেন যাবে। প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতি আজ সকালে বাস্তবায়নের ফলে সকল শ্রেণীপেশার মানুষ আনন্দিত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত সচিব বলেন, এই ট্রেন লাইনকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পর্যন্ত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে সমীক্ষা হবে। তারপরেই কাজ শুরু হবে। এই বন্দর দিয়ে আশেপাশের দেশগুলোর সাথেও রেল যোগাযোগের চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত পঞ্চগড় রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে ট্রেন যাত্রার এই শুভক্ষণটির জন্য নানা আয়োজনে করেছে পঞ্চগড়বাসী। এ উপলক্ষ্যে ভোর সাড়ে ছয়টা রেলস্টেশনে সাধারণ মানুষ আসতে থাকে।

‘৩০ নভেম্বর প্রতীক বরাদ্দের আগে নির্বাচনী প্রচার চালানো যাবে না’

৩০ নভেম্বর প্রতীক বরাদ্দের আগে নির্বাচনী প্রচার চালানো যাবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, প্রতীক বরাদ্দের পর ২১ দিন প্রচার চালাতে পারবেন প্রার্থীরা। অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবে; এতে আইনগত বাধা নেই বলেও জানান ইসি সচিব।

 শুক্রবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন হেলালুদ্দীন আহমদ।

নির্দেশনা মেনে প্রার্র্থীদের আগামী সাত দিনের মধ্যে ব্যানার, পোস্টার ও তোরণ নামিয়ে ফেলারও নির্দেশ দেয় কমিশন। নির্দেশ না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের রাজনীতি মানেই খালেদা জিয়া: ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় কাদের সিদ্দিকী

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের চেয়ারম্যান ও ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরীক দলের নেতা বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, বিএনপিকে খালেদার মুক্তির জন্য ছটফট করতে হবে না। বাংলাদেশের রাজনীতি মানেই খালেদা জিয়া।

শুক্রবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি বিএনপির সমাবেশে আসিনি, আমি ড. কামালের ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে এসেছি। আর সময় নাই। সবাইকে মাঠে নামতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা কিন্তু বিএনপির তামুক খেতে আসি নাই। আজ সমাবেশে যে মহিলারা এসেছে তারা আমার দলে থাকলে শেখ হাসিনাকে তিনদিনে টেনে ফেলবো।

কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সভাপতি বলেন, আমাকে সমাবেশ আসতে পাতিনেতা পুলিশ বাঁধা দিয়েছে। যারা পুলিশে টাকা দিয়ে চাকুরী করেছেন আমি ক্ষমতায় আসলে টাকা ফেরত দেব। যেসব নেতাদের ৮-১০ লাখ টাকা দিয়েছেন তাদের কাছ থেকে ফেরত নিবেন।

বঙ্গবীর বলেন, আমার এখানে আসার কথা ছিলো না। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রাজনীতি করি। যতদিন বাঁচব তার আদর্শ বুকে নিয়ে রাজনীতি করে যাব।

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে ঘাতক বাস কেড়ে নিল চার নির্মাণ শ্রমিকের প্রাণ

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা একটি বাস শ্রমিকবাহী নসিমনকে ধাক্কা দেয়ার ঘটনায় চার নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ১১ জন। আহতদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

মোংলা মহাসড়কের জেলার মোল্লাহাট উপজেলার বোয়ালিয়া ব্রীজ সংলগ্ন বৃহস্পতিবার রাতের এই দুর্ঘটনায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, মো. রুবেল শেখ (৩০), জাহাঙ্গীর (৩০), রানা (২২), ও মঞ্জুর (৬৫)। নিহত চার নির্মাণ শ্রমিকের বাড়ি জেলার মোল্লাহাটের চরকান্দা গ্রামে।

জানা যায়, বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা আল্লাহ মহান পরিবহনের একটি বাস শ্রমিকবাহী একটি নসিমনকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এসময় আহত হয় আরও ১৪ জন শ্রমিক। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জাহাঙ্গীর, রানা ও মঞ্জুর। এছাড়া আশঙ্কা জনক অবস্থায় গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী নির্মাণ শ্রমিক কামালকে ঢাকায় নেয়া হয়েছে।

মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী গোলাম কবির জানান, বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা আল্লাহ মহান পরিবহনের একটি বাস  নির্মান শ্রমিকবাহী নসিমনকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে রুবেল শেখ নামে একজন নিহত হয়। এসময় গুরুতর অবস্থায় আরও কয়েকজনকে উদ্ধার করে মোল্লাহাট উপজেলা হাসপাতাল ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে রাতেই খুলনা মেডিকেলে আরও দুজন ও শুক্রবার সকালে আরও একজনসহ মোট চার জন মারা যায়। এই ঘটায় পুলিশ ঘাতক বাসটি আটক করলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।

বিএনপি কি শেষ পর্যন্ত ভোটে যাবে..?

একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই বৃহস্পতিবার(৮ নভেম্বর) রাতে গুলশানে দলের চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। মূলত নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতেই এই বৈঠক হলেও এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি কেউ। যদিও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে নির্বাচনের বিষয়ে ইতিবাচক বিএনপি।

এখন সবার মনে একটাই প্রশ্ন বিএনপি কি আদৌ নির্বাচনে অংশ নেবে নাকি আন্দোলনের পথে হাঁটবে।

এদিকে, নির্বাচনে অংশ নেয়া নিয়ে দ্বিমত এখন বিএনপিতেই। দলের ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন বলছেন, জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে দলটির চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবেই নির্বাচনের যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

অন্যদিকে, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলছেন, সংলাপে কোনো দাবি না মানার পরেও এই নির্বাচনে অংশ নিলে তা হবে সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সময় সংবাদকে সাফ জানিয়ে দেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি। বিএনপিকে বাইরে রেখে আবারো নির্বাচন করার সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার জন্যই বিএনপি আন্দোলনে যাবে। নির্বাচন আন্দোলনেরই একটি অংশ। সরকারের লক্ষ্যই হল বিএনপি যেন নির্বাচনে না যায়। সুতরাং তাদের এই লক্ষ্য সিদ্ধ হতে দেব না। আমরা এবার নির্বাচনে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি তৈরি হয়ে আছি।’

তবে, বেগম জিয়া কিংবা তারেক রহমানকে ছাড়া নির্বাচনে যাওয়া আত্মঘাতীমূলক সিদ্ধান্ত হবে বলে মনে করেন দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সরকারের কাছে যদি আমরা এভাবে আত্মসমর্পণ করি তাহলে তো হল না, কারণ সরকার ৭ দফার কোনটাই তোয়াক্কা করে না। সেহেতু এ অবস্থায় আমাদের নির্বাচনে যাওয়া মানেই সরকারের ইচ্ছা পূরণ করা।’

ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনা শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হবে বলেও জানান তারা।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভা থেকে কী বার্তা এলো?

সংলাপে সরকার কোনো দাবি মানেনি মন্তব্য করে তুমুল আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট৷ জনসভায় বক্তারা বলেন: দাবি না মানলে লংমার্চ, রোডমার্চ হবে, জনসভা হবে, নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা হবে, লড়াই হবে, গণতন্ত্রের মুক্তি, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে৷

শুক্রবার রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিভাগীয় জনসভায় এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে বক্তব্য রাখেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা৷

প্রধান অতিথি ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন অসুস্থতার কারণে জনসভায় অংশ নিতে পারেননি৷ তবে তিনি ঢাকা থেকে মোবাইলে বক্তব্য রাখেন।

ড. কামাল বলেন: আমরা সরকারের সাথে আলোচনায় গিয়েছিলাম। বলেছিলাম, অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান করুন৷ দেশের ১৬ কোটি মানুষের কথা ভাবুন৷ নির্বাচন যেন গ্রহণযোগ্য হয় সে পদক্ষেপ নিন৷ কিন্তু আমাদের কথা উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি করে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে৷তারা তড়িঘড়ি করে নির্বাচন করতে চায়৷ ১৬ কোটি মানুষকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। সংবিধান পরিপন্থী কাজ করছে।

জনসভার প্রধান বক্তা মির্জা ফখরুল বলেন: আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি আদায় করতে হবে।

তিনি বলেন: আমরা সরকারকে খুব স্পষ্ট কথা বলেছি। ৭ দফা দাবি মেনে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংকট সমাধানের কথা বলেছি। আমরা ঐক্য করেছি। শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংলাপে গিয়ে ৭ দফা দিয়েছি৷ আমরা বলেছি সংসদ ভেঙে দিতে হবে, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে, তার মুক্তি ছাড়া নির্বাচন হতে পারে না। কিন্তু তারা মানেনি।

এসময় সরকার দাবি না মানলে গণতন্ত্রের জন্য খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য জীবন দিয়ে হলেও আন্দোলন করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন ফখরুল।

জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন: তড়িঘড়ি করে তফসিল ঘোষণা করেছেন, যেন আমরা নির্বাচনে যেতে না পারি। সাবধান! দেশের ৯০ ভাগ মানুষ আমাদের সাথে আছে৷

তিনি বলেন: সংলাপে গিয়েছিলাম। দেশকে, জাতিকে বাঁচাতে গিয়েছিলাম। সংঘাতে যেতে চাই না। আমরা নির্বাচনে আসতে চাই। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দিন, গায়েবী মামলা, মিথ্যা মামলা তুলে নিন, সংসদ ভেঙে দিন৷ আমাদেরকে উস্কানি দেবেন না। দাবি মানেন, মানতে হবে। মরতে হলে মরবো, দাবি আদায় করতে হবে। মানুষ আমাদের সাথে আছে৷ আল্লাহ আমাদের সাথে আছে। জেলের ভয় দেখাবেন না আমাকে। আমি ১০ বছর জেলে ছিলাম৷ আমার ফাঁসি হয়েছিলো। আমি ৬ বার মারা গিয়েছিলাম।

রব বলেন: লড়াই হবে,এই লড়াই গণতন্ত্রের। দাবি না মানলে, তফসিল যদি না পেছান, লড়াই হবে। লংমার্চ হবে, রোডমার্চ হবে, সভা হবে, নির্বাচন কমিশনে পদযাত্রা করবো৷ ভয় দেখাবেন না।

কাদের সিদ্দিকী তার বক্তৃতায় বলেন: বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য ঐক্য ধরে রাখতে হবে৷ খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য ছটফট করতে হবে না। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে না চাইলে লড়তে হবে। লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হোন৷ আজকে এখানে যে পরিমাণ নারী এসেছেন তার অর্ধেক পাশে পেলে আমি মাত্র ৩ দিনে শেখ হাসিনার পতন ঘটাতাম।

তিনি বলেন: খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে নেতাকর্মীদের বলেছিলেন, আমি যদি মরেও যাই তবু হরতাল দেবে না। মানুষকে কষ্ট দিবে না৷ তার একথা মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছে। আমি মনে করি, বাংলাদেশের রাজনীতি বলতেই খালেদা জিয়া৷ বাংলাদেশ বন্দী থাকতে পারে না। বেগম খালেদা জিয়া বন্দী থাকতে পারে না।

কাদের সিদ্দিকী বলেন: আমি বঙ্গবন্ধুর জন্য রাজনীতিতে এসেছিলাম৷ আমি আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে যাব। আমি কথা দিচ্ছি,বঙ্গবন্ধু এবং জিয়াউর রহমানের মধ্যে দ্বন্দ্ব বেঁধে যারা দেশকে লুটেপুটে খাচ্ছে তাদের থেকে এই দেশকে মুক্ত করবো। আমি জিয়াউর রহমান এবং বঙ্গবন্ধুর দ্বন্দ্ব মুছে দেব৷

এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ বলেন: আমরা নির্বাচনে যাব কিনা সে সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে সে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাকে মুক্ত করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন: এখনও সময় আছে। নির্বাচনের তফসিল পেছান৷ আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, এখনো পর্যন্ত ঐক্যফ্রন্ট কোনো সংঘাতের রাজনীতি চায় না। আমরা কোনো ষড়যন্ত্র করিনি। আমরা বলেছি দুই সংসদ একসাথে রাখা যায় না।

তিনি বলেন: আমরা সামরিক শাসন চাই না। শেখ হাসিনাকেও চাই না। শেখ হাসিনা আপনাকে সরে যেতে হবে৷ তারপর নির্বাচন হবে। আপনি দূর থেকে দেখবেন। নির্বাচনে দাঁড়ালে দাঁড়াবেন। ভোট দেবেন। কিন্তু ক্ষমতার ডাণ্ডা আমাদের উপর চালাতে পারবেন না।

মান্না বলেন: আমরা যদি আমাদের দাবি আদায়ের জন্য একদিন মানুষকে বলি, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া সমস্ত গাড়ি বন্ধ করে দেই, তখন কী করবেন? সময় আসবে।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন: আমরা ৭ দফা দাবি নিয়ে সংলাপ করেছি। কিন্তু সরকার মানেনি। আমাদের সংলাপ সফল হয়নি৷ প্রধানমন্ত্রী একটি কথা দিয়েছিলেন, গ্রেপ্তার করবেন না। সভা সমাবেশে বাধা দেবেন না। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কথার বরখেলাপ করেছেন। তিনি আমাদের নেত্রীকে ভালো চিকিৎসা দেয়ার কথা বলেছিলেন৷ কিন্তু কথা দেয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের নেত্রীকে চিকিৎসা না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন। এই সরকার কথা রাখে না। তা প্রমাণ হলো।

তিনি বলেন: যতদিন খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না ততোদিন আমাদের আন্দোলন চলবে। আমাদেরকে প্রস্তুত থাকতে হবে। বিনা চ্যালেঞ্জে তাদেরকে এবার ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন করতে দিতে পারি না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭ দফা দাবিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। একটি দাবিও মানেননি। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে গেলে শেখ হাসিনা আজীবন প্রধানমন্ত্রী, খালেদা জিয়া আজীবন কারাগারে থাকবেন, তারেক রহমান দেশে আসতে পারবেন না। শেখ হাসিনা, নুরুল হুদাকে নামান। তারপর নির্বাচনের কথা বলুন। তা না হলে আপনারা ভোট দিতে পারবেন না। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচন নয়।

শুক্রবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, ত্রিপিটক, গীতা, বাইবেল থেকে পাঠের মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া জনসভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিএনপির নেতা ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু।

জনসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি, গণফোরাম, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, এলডিপি, কৃষক শ্রমিক জনতালীগ সহ বিভিন্ন দলের স্থানীয় ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ।

জেএসসি পরীক্ষার কারণে মাদ্রাসা মাঠ বন্ধ ছিলো ১২টা পর্যন্ত। মূলত পরীক্ষা শেষে মাঠে প্রবেশের অনুমতি দেয় পুলিশ৷ এরপর রাজশাহীর বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিলে মিছিলে জনসভায় আসতে থাকেন। বিকেল ৩টার মধ্যে মাদ্রাসা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে আশপাশের সড়কে ছড়িয়ে পড়ে।

আয়োজকদের অভিযোগ, জনসভাকে সামনে রেখে অঘোষিত ধর্মঘট ডাকে সরকার৷ ঢাকার সঙ্গে রাজশাহীর বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়৷

পুলিশের বেঁধে দেয়া সময় ৫টার ভেতর শেষ হয় জনসভা।