' ১৩ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী 'জামাই মেলা

প্রায় ৪'শ বছরের ঐতিহ্যবাহী বগুড়া জামাই মেলা ( পোড়াদহ মেলা ) হচ্ছে না আগামী কাল। প্রতিবছর মাঘ মাসের শেষ বুধবার এই জামাই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসলেও এবার নানা জটিলতায় এ মেলা'র নিদিষ্ট দিন তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারী বুধবার এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। বগুড়া জেলা শহর হতে ১১ কিলোমিটার পূর্বদিকে ইছামতি নদীর তীরে পোড়াদহ নামক স্থানে প্রতি বছর যে মেলা বসে তাই স্থানীয়দের কাছে পোড়াদহ মেলা (জামাই মেলা) নামে পরিচিত। বাংলাদেশে যে কয়টি গ্রাম্য মেলা পুরাতন জৌলুষ নিয়ে সগর্বে টিকে আছে তার মধ্যে বগুড়ার এই মেলা অন্যতম। প্রায় চার শত বছর পূর্বে শুরু হওয়া মেলাটি আজও তার পুরাতন ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। তবে এ বছর মেলার দিন তারিখ পরিবর্তনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলা যা স্থানীয়দের কাছে পোড়াদহ মেলা নামেই পরিচিত।

এ মেলা শুরুর সঠিক সাল কেউ জানাতে না পারলেও প্রায় ৪শ' বছর আগে কোন এক সময়ে ওই পোড়াদহ নামক স্থানে একটি বিশাল বটবৃক্ষ ছিল। একদিন হঠাৎ করে সেখানে এক সন্ন্যাসীর আবির্ভাব হয়। তারপর সেখানে দলে দলে সন্ন্যাসীরা এসে একটি আশ্রম তৈরি করে। ওই সময় থেকে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়েরর কাছে সেটি একটি পূণ্য স্থানে পরিনত হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন সেখানে প্রতিবছর মাঘ মাসের শেষ বুধবার সন্ন্যাসী পূজার আয়োজন করে। দুরদুরান্ত থেকে ভক্তরা প্রতি বছর সেই দিনটিতে এসে সমাগত হতে থাকে। দিন গড়ানোর সাথে সাথে প্রতিবছর লোকসমাগম বাড়তে থাকে। আস্তে আস্তে পূজার দিনটিতে একটি গ্রাম্য মেলার গোড়াপত্তন হয়। এক সময় সন্ন্যাসীরা স্থানটি ত্যাগ করে চলে গেলেও হিন্দু সম্প্রদায় সন্ন্যাসী পুজাটি বন্ধ করে দেয়নি। ধীরে ধীরে মেলাটির পরিচিতি বাড়তে থাকে। দুর দুরান্তথেকে মেলা দেখতে লোকজন আসে। পুজা পার্বণ মুলত হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব হলেও এই মেলা ধর্মের গন্ডি পেরিয়ে সব ধর্মের মানুষকে উৎসবে একত্র করে। এখন সন্ন্যাসী পুজাটি চালু থাকলেও সকল ধর্মের হাজার হাজার মানুষ মেলাতে এসে উপস্থিত হতে থাকে। সেই থেকেই এই মেলার হয়ে আসছে। সন্ন্যাসী পুজা উপলক্ষে মেলাটি শুরু হলেও পোড়াদহ নামক স্থানে হওয়ায় মেলাটি পোড়াদহ নামক করন হয়ে যায় স্থানীয় দের কাছে । লোক মুখে স্থানের নাম অনুসারে পোড়াদহর মেলা হিসাবে চলতে চলতে একসময় এর নাম পোড়াদহ মেলা বা জামাই মেলা হিসাবে প্রচলিত হয়ে আসছে। মেলা উপলক্ষে আশেপাশের গ্রামের যেসব মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে তারা জামাই নিয়ে বাপের বাড়িতে হাজির হয় বলে অনেকে একে 'জামাই মেলা' হিসাবে সম্মোধন করেন। আবার মেলায় বড় বড় হরেক প্রজাতির মাছ পাওয়া যায় বলে কিছু লোক একে 'মাছের মেলা' বলে ডেকে থাকেন। বিভিন্ন জন বিভিন্ন নামে সম্মোধন করলেও এটি মূলত 'পোড়াদহ মেলা' বা জামাই মেলা নামেই পরিচিত। জামাই মেলার প্রধান আকর্ষন মাছ। ভোর থেকে অস্থায়ী আড়ৎগুলোতে এসে জমা হয় বড় বড় মাছ নিয়ে। সেখান থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা মাছগুলো কিনে মেলার নিজ নিজ দোকানে নিয়ে যায়। দোকানগুলোতে দিনভর শ্বশুর- জামাইরা মাছ কেনাকাটা করতে থাকে । মেলায় সবচেয়ে বেশি বিক্রয় হয় 'বাগাড়' মাছ। মেলা মূলত মাঘ মাসের শেষ বুধবার একদিনের মেলা যুগ যুগ ধরে হয়ে আসলেও এবার তার পরিবর্তন করা হয়েছে। এই বছর মেলা অনুষ্ঠিত হবে ১৩ ফেব্রুয়ারি । স্থানীয় নেতা কর্মিরদের বিরোধ, জমির মালিকরা মেলা উপলক্ষে জমি ছেড়ে দিতে রাজি না হওয়াসহ নানা জটিলতায় এ বছর মেলার দিন তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। (ছবি:গত বছরের জামাই মেলা'র)

মন্তব্য


আরো নতুন খবর...

ABOUT US

এটি একটি অনলাইন খবরের তথ্য ভান্ডার। যা কুষ্টিয়াকে সমৃদ্ধ করতে তথ্য নির্দেশ করে।

This is a online news portal.
Which contain directory of enriched kushtia.