খেলার খবর

খেলার খবর আমার কুষ্টিয়া হতে প্রকাশিত

সাকিবের পর অনন্য কীর্তিতে তাইজুল

আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে টানা তিন ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেয়ার কীর্তি ছিল বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। এবার সাকিবের পর অনন্য কীর্তি গড়লেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

২০০৮ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নেন সাকিব। এরপর একই বছরের ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট তোলেন সাকিব। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম কোনো বোলার হিসেবে টানা তিন ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেয়ার কীর্তিটা গড়েছিলেন দেশসেরা এই অলরাউন্ডার।

এরপর ৯ বছরে সাকিবের এমন কীর্তিতে ভাগ বসাতে পারেননি দেশের কেউই। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চলতি সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট তোলেন তাইজুল। মিরপুরে চলছে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। এই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট তুলে নিলেন তাইজুল। তাতেই সাকিবের পর টানা তিন ইনিংসে ৫ উইকেট তোলার কীর্তি গড়লেন তাইজুল। তবে সাকিবের কীর্তিটা আলাদা দুটি দলের বিপক্ষে হলেও, তাইজুল গড়েছেন একই দলের বিপক্ষে (জিম্বাবুয়ে)।

বাংলাদেশের হয়ে এক টেস্টে ১০ উইকেট নেয়ার কীর্তি আছে চারজনের। প্রথমবার এক টেস্টে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন এনামুল হক জুনিয়র। সেই ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক টেস্টে ১২ উইকেট নিয়েছিলেন এই স্পিনার। এরপর টেস্ট ক্রিকেটে একই কীর্তি গড়েছেন সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ। এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে ১১ উইকেট নেন তাইজুল (৬,৫)।

তবে এক টেস্টে ১০ উইকেট চার জন নিলেও সাকিব আল হাসানের সেই কীর্তি আছে দুই বার। প্রথমবার ২০১৪ সালে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পেয়েছিলেন ১০ উইকেট। আর গত বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১০ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে এনে দিয়েছিলেন স্মরণীয় এক জয়।

এবার তাইজুলের সামনে সুযোগ থাকছে সাকিবের সঙ্গে আরেকটি কীর্তিতে ভাগ বসানোর। চলতি টেস্টের শেষ ইনিংসে ৫ উইকেট পেলেই বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে দুই টেস্টে ১০ উইকেট করে নেয়ার কীর্তি গড়বেন তাইজুল।
এ নিয়ে ২১তম টেস্টে ৮৫ উইকেট হলো তাইজুলের।

বিতর্কের মধ্যেই খুশির খবর: বাবা হচ্ছেন বিরাট কোহলি!

 বিতর্কের মধ্যেই খুশির খবর কোহলি পরিবারে। শোনা যাচ্ছে, আনুষ্কা শর্মা নাকি সন্তানসম্ভবা! আনুষ্কার ঘনিষ্ঠরা বলাবলি করছেন, নতুন বছরেই মা হতে চলেছেন বিরুষ্কা।

বলিউড পাড়ায় কান পাতলে এমনও শোনা যাচ্ছে রেড চিলিজ-এর জিরো রিলিজ করার পর আর কোনও সিনেমাতে সই করেননি আনুষ্কা। তিনি চিত্রনাট্য শুনছেন, তবে তাতে অভিনয় করার জন্য নয়। তিনি নাকি প্রযোজনার জন্যই চিত্রনাট্য লেখিয়েদের থেকে গল্প শুনছেন। যদিও মা হওয়ার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও কিছু নিজ মুখে স্বীকার করেননি আনুষ্কা। কোনও কথা বলেননি ক্রিকেট তারকাও। তাদের পরিবারের নতুন সদস্য নিয়ে একেবারে মুখে কুলুপ এঁটেছেন বিরাট-আনুষ্কা দু জনেই।

আনুষ্কার গর্ভবতী হওয়া নিয়ে আগেও অনেক জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে আদতে তেমন কিছু ঘটেনি। উল্টো দেখা গিয়েছে নিজের একের পর এক ছবি নিয়ে চুটিয়ে প্রচার করেছেন আনুষ্কা। সাম্প্রতিক সময়ে ‘সুই ধাগা’ ছবির প্রচারেই সব থেকে ব্যস্ত থাকতে দেখা গিয়েছে তাকে। যদিও সেই ছবি দর্শক মহলে তেমন ভাবে সাড়া ফেলতে পারেনি। এবার তার পরবর্তী ছবি আসছে ডিসেম্বরে। রেড চিলিজের প্রযোজনায় শাহরুখ, ক্যাটরিনার সঙ্গে ‘জিরো’-তে দেখা যাবে তাকে। ২১ ডিসেম্বর ছবি মুক্তি। আনন্দ এল রাই পরিচালিত ছবির প্রচারে ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে শাহরুখ অ্যান্ড কোং। তবে এই ছবি মুক্তির পর নতুন বছরে আনুষ্কার এখনও কোনও প্রোজেক্টে থাকার খবর নেই, এটা ভেবেই সন্দেহ দানা বেঁধেছে বি-টাউনে।

এই তারকা দম্পতি এখন এক সঙ্গেই সময় কাটাচ্ছেন। উইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট ও একদিনের সিরিজ খেলার পর টি-টোয়েন্টি-তে বিশ্রাম নিচ্ছেন কিং কোহলি। খেলছেন না একটি ম্যাচও। ছুটি পেয়ে জন্মদিনে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে এসেছেন দেরাদুনেও। সেখানে আনুষ্কার পারিবারিক গুরু মহারাজ অনন্ত বাবার সঙ্গেও দেখা করে এসেছেন তিনি।

অতীতে কোনও শুভ কাজ করার আগে একাধিক বার এই অনন্ত বাবার সঙ্গে দেখা করেই কাজে হাত দিয়েছেন আনুষ্কা এবং বিরাট। বিয়ের সময়ও তাই করেছেন তাঁরা। তাহলে, এবারও কি কোনও শুভ খবর আসছে, আর সে জন্যই কি পারিবিরিক গুরুর সঙ্গে দেখা করে এলেন তাঁরা? এ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

খলিল আহমেদ কষিয়ে চড় দিলেন রোহিত শর্মার গালে!

 লখনউয়ে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে খুব সহজেই জিতেছে ভারত। ক্যারিবিয়ানরা কোনও চ্যালেঞ্জই ছুড়ে দিতে পারেনি। এই ম্যাচ চলাকালীন একাধিক ঘটনা ঘটেছে, যা চোখ এড়িয়ে গিয়েছে ক্রিকেটপাগলদের।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই এড়িয়ে যাওয়া দৃশ্যগুলোই উঠে এসেছে।

একটি দৃশ্য হল, যশপ্রীত বুমরাহ ক্যাচ ধরার সময়ে কাইরন পোলার্ড ভারতীয় পেসারের ফোকাস নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও একটি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। তা হল, ভারতীয় দলের তরুণ সদস্য খলিল আহমেদ কষিয়ে চড় দেন রোহিত শর্মার গালে। খলিলের চড়ের আঘাতে রোহিত হতভম্ব হয়ে যান।

খলিল অবশ্য ইচ্ছাকৃতভাবে তার অধিনায়ককে মারেননি। উইকেট শিকারের পরে উল্লসিত হয়ে সতীর্থদের সঙ্গে সাফল্য উদযাপন করছিলেন। তখনই লেগে যায় রোহিতের গালে। দ্রুত নিজের ভুল বুঝতে পারেন খলিল। সঙ্গে সঙ্গে রোহিতের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি।

ধর্ষণ করতে গিয়ে খুন হন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার!

অবশেষে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার ড্যানিয়েল কোরেয়ার হত্যা রহস্যের কিনারা হলো। খুনের ১০ দিনের মাথায় সাও পাওলো পুলিশ প্রাথমিকভাবে খুনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা পেয়েছে। ধরা পড়া হত্যাকারী নিজেই জানিয়েছেন খুনের কারণ। এক ভিডিও বার্তায় তার স্পষ্ট স্বীকারোক্তি, ‘ও আমার স্ত্রীকে ধর্ষণ করছিল, তাই খুন করেছি।’

গত ২৮ অগস্ট ২৪ বছর বয়সি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার ড্যানিয়েল কোরেয়ার গলা কাটা মৃতদেহ উদ্ধার হয় পারানার রাজধানী শহর কিউরিটিবার দক্ষিণ প্রান্তের একটি গ্রামীণ অঞ্চল থেকে। কেটে নেওয়া হয়েছিল তার যৌনাঙ্গও। ২০১৫ সালে সাও পাওলো এফসিতে যোগ দেওয়া মিডফিল্ডারকে চলতি বছরেই লিয়েনে দলে নিয়েছিল ব্রাজিলের দ্বিতীয় ডিভিশন ক্লাব সাও বেনতো।

খুনের তদন্তে নেমে সাউদার্ন পারানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে ৩৮ বছর বয়সী এডিনসন ব্রিটস জুনিয়র নামক এক ব্যক্তিকে। অপরাধ স্বীকার করে নিয়ে সে জানিয়েছে, চোখের সামনে স্ত্রীকে ধর্ষিতা হতে দেখে সে ঠিক সেটাই করেছে, যেটা আর পাঁচজন পুরুষ করা স্বাভাবিক। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরও তার কোনো অনুতাপ নেই। পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে তার স্ত্রী ক্রিশ্চিনা ব্রিটস ও কন্যাকেও।

এডিনসনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ঘটনাটি ঘটে তার মেয়ের ১৮ তম জন্মদিনের পার্টিতে। ড্যানিয়েল এডিনসনের বেডরুমের দরজা আটকে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করছিল। স্ত্রীর চিৎকার শুনে দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে এডিনসন। তখনও কোরেয়ার অত্যাচার চলছিল এডিনসনের স্ত্রীর উপর। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ওই মুহূর্তে কোরেয়াকে খুন করে সে।

এডিনসন ধর্ষণের তত্ত্ব খাড়া করে আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করলেও ক্রিশ্চিনার সঙ্গে কোরোয়ার পূর্ব সম্পর্ক ছিল বলে তার পরিচিতজনেরা জানিয়েছেন। সেই সূত্রে ড্যানিয়েলের সঙ্গে ক্রিশ্চিনার ঘনিষ্ট মুহূর্তের বেশ কিছু ছবিও হাতে এসেছে পুলিশের। এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, কে সত্য বলছে আর কে মিথ্যা। তাহলেই জানা যাবে, সেদিন আসলে কী ঘটেছিল।

টাইগারদের লজ্জার হার

 জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে বাংলাদেশ এমনভাবে নাস্তানাবুদ হয়ে হেরে গেল যেন শোক করারও সুযোগ পাচ্ছেন না ভক্তরা। চতুর্থ দিনেই ১৫১ রানের লজ্জার হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো টাইগারদের। এদিন শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা।

গতকালের ১৪ রানে অপারজিত থাকা টাইগার ওপেনার লিটন দাশ জ্বলে উঠতে পারেননি আজ। ৭৫ বলে ব্যক্তিগত ২৩ রানে বিদায় নেন তিনি। সিকান্দার রেজার ঘূর্ণির ফাঁদে পড়োন লিটন। এরপর পেসার কাইল জারভিসের বলে ব্যক্তিগত ৯ রানে বোল্ড হন মুমিনুল হক। এদিকে, লড়াই করতে থাকা আরেক ওপেনার ইমরুল কায়েসও নিজের রানের স্কোরটা বড় করতে পারেননি। ৪৩ রান করে সিকান্দার রেজার বলে বোল্ড হন তিনি।

জ্বলে উঠতে পারেননি টাইগার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও। ১৬ রান করে রেজার বলে বিদায় নেন তিনি। পরে ১৩ রানে মাভুতার বলে রেজার তালুবন্দী হয় নাজমুল হোসেন শান্ত। মুশফিকুর রহিমও ব্যাট হাতে ব্যর্থ, মাভুতার বরে ১৩ রান করে ক্রিজ ছাড়েন এই টাইগার তারকা। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাজমুল ইসলাম যথাক্রমে ৭, ০, ০ রানে আউট হন।

অবশেষে উইলিংটন মাসাকাজার বলে আরিফুল হক ৩৮ রান করে বিদায় নিলে ১৫১ রানের লজ্জার হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।

এর আগে তৃতীয় দিনে টাইগারদের ৩২১ রানের পাহাড়সম টার্গেট ছুঁড়ে দেয় জিম্বাবুয়ে।

পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

এক আসর পর দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব ফিরিয়ে আনলো বাংলাদেশের কিশোররা। শনিবার নেপালের কাঠমান্ডুতে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে হারিয়েছে পাকিস্তানকে। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে অমীমাংসিত থাকলে ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে।

সেমিফাইনালে ভারতকেও টাইব্রেকারে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচের নায়ক গোলরক্ষক মেহেদী হাসান ফাইনালেও ছিলেন সুপার হিরো। তিনি টাইব্রেকারে পাকিস্তানের তিনটি শট ঠেকিয়ে হয়ে যান ম্যাচসেরা পারফরমার।

অথচ টাইব্রেকার পর্বের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। রাজন হাওলাদারের নেয়া প্রথম শট ক্রববারের উপর দিয়ে গেলে হতাশা নেমে আসে বাংলাদেশ শিবিরে। কিন্তু পাকিস্তানের জুনায়েদের নেয়া প্রথম শট বাম দিকে ঝাপিয়ে ঠেকিয়ে বাংলাদেশকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফিরিয়ে আনেন গোলরক্ষক মেহেদী হাসান।

দ্বিতীয় শটে হৃদয় গোল করলে বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ১-০ গোলে। পাকিস্তানের আদনানের নেয়া দ্বিতীয় শট ডান দিকে ঝাপিয়ে রুখে দেন গোলরক্ষক মেহেদী। মোদসসর নজরের নেয়া পাকিস্তানের পঞ্চম শট ঠেকিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন মেহেদী হাসান।

তার আগে বাংলাদেশের রবিউল নিজেদের পঞ্চম শট পাকিস্তানের গোলরক্ষকের হাতে তুলে দিয়ে চাপে ফেলেছিলেন দলকে। টাইব্রেকারে বাংলাদেশের ৩ গোল করেছেন হৃদয়, রাজা আনসারী ও রুস্তম। পাকিস্তানের গোল করেছেন মহিবুল্লাহ ও ওয়াসিফ।

নির্ধারিত সময়ের ২৫ মিনিটে পাকিস্তানের আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। কর্নারের বল সেভ করতে গিয়ে পাকিস্তানের ডিফেন্ডার হাসিব হেড নিলে বল চলে যায় জালে।

৫৪ মিনিটে পেনাল্টি গোলে ম্যাচে ফেরে পাকিস্তান। পাকিস্তানের এক ফরোয়ার্ড বল নিয়ে বক্সে ঢুকলে ফেলে দেন বাংলাদেশের হেলাল। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে গোল করেন পাকিস্তানের মহিবুল্লাহ।

দক্ষিণ এশিয়ার কিশোরদের লড়াইয়ে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় শিরোপা। লাল-সবুজ জার্সিধারীরা শিরোপা জয়ে ছুঁয়ে ফেললো ভারতকে। তারাও এ টুর্নামেন্টে দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

এর আগে ২০১৫ সালে সিলেটে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে। সেবারও বাংলাদেশ ফাইনাল জিতেছিল টাইব্রেকারে। ফলাফল ছিল নির্ধারিত সময়ে ১-১ এবং টাইব্রেকারে ৩-২।

জেনে নিন : এবার বিপিএলে কে কোন দলের হয়ে খেলবেন !

বিপিএলের ৬ষ্ঠ আসরের জন্য অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো প্লেয়ার ড্রাফট। যেখান থেকে আগামী আসরের জন্য দলগুলো বাছাই করে নিয়েছে তাদের স্কোয়াড। আগামী আসরের জন্য বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল আগের আসর থেকে ৪ জন করে খেলোয়াড় ধরে রাখার সুযোগ দিয়েছিল। সঙ্গে আরও দু’জন করে বিদেশি ক্রিকেটারের সঙ্গে ড্রাফটের আগেই চুক্তি করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল।

সে হিসেবে ড্রাফটের আগেই ৬ জন করে ক্রিকেটারকে দলভুক্ত করে নিতে পেরেছিল ফ্রাঞ্চাইজিগুলো। বাকি ক্রিকেটারদের বাছাই করে নেয়ার জন্যই অংশ নিয়েছিল প্লেয়ার ড্রাফটে। দুপুর ১২টায় রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেল র‌্যাডিসন ব্লুতে অনুষ্ঠিত ড্রাফট থেকে নিজেদের মতো করে দল গঠন করে নিয়েছে বিপিএলে অংশ নিতে যাওয়া ৭টি দল।

এবার জেনে নিন আগামী বিপিএলে কোন কোন ক্রিকেটার খেলবেন কোন কোন ফ্রাঞ্চাইজির হয়ে-

রংপুর রাইডার্স
মাশরাফি বিন মুর্তজা, ক্রিস গেইল, নাজমুল ইসলাম অপু, মোহাম্মদ মিঠুন, এবি ডি ভিলিয়ার্স, অ্যালেক্স হেইলস, শফিউল ইসলাম,সোহাগ গাজী, ফরহাদ রেজা, মেহেদি মারুফ, রবি বোপারা, রিলে রুশো, নাহিদুল ইসলাম, নাদিফ চৌধুরী, আবুল হোসেন রাজু, ফারদিন হোসেন অনি, বেনি হাওয়েল, ওশানে থমাস।

ঢাকা ডায়নামাইটস
সাকিব আল হাসান, সুনিল নারাইন, রোভম্যান পাওয়েল, কাইরন পোলার্ড, আন্দ্রে রাসেল ও হজরতউল্লাহ জাজাই, শুভাগত হোম, রনি তালুকদার, নুরুল হাসান সোহান, রুবেল হোসেন, অ্যান্ড্র বার্জ, ইয়ান বেল, কাজী অনিক, মিজানুর রহমান, আসিফ হাসান, শাহাদাত হোসেন রাজীব, নাইম শেখ।

রাজশাহী কিংস
মুমিনুল হক, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, জাকির হাসান, কায়েস আহমেদ, ক্রিস্টিয়ান জাঙ্কার, আলাউদ্দিন বাবু, আরাফাত সানি, ফজলে রাব্বি, সৌম্য সরকার, ইসুরু উদানা, লরি ইভেনস, মার্শাল আইয়ুব, কামরুল ইসলাম রাব্বি, রাহায় টেন ডেসকাট, সেকুগে প্রশন্ন, মোহাম্মদ সামি।

সিলেট সিক্সার্স
নাসির হোসেন, সাব্বির রহমান, লিটন দাস, সোহেল তানভির, ডেভিড ওয়ার্নার, সন্দীপ লামিচানে, আফিফ হোসেন ধ্রুব, তাসকিন আহমেদ, মোহাম্মদ আল আমিন হোসেন, তৌহিদ হৃদয়, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, মোহাম্মদ ইরফান, নাবিল সামাদ, এবাদত হোসেন, অলক কাপালি, জাকির আলী, গুলবাদিন নাইব, আন্দ্রে ফ্লেচার, মেহেদি হাসান রানা, প্যাট ব্রাউন, নিকোলাস পুরান।

খুলনা টাইটানস
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আরিফুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট, ডেভিড মালান, আলী খান, মোহাম্মদ আল আমিন, তাইজুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, জহুরুল ইসলাম অমি, জহির খান, সেলফেইন রাদারাফোর্ড, শুভাশিষ রায়, জুনায়েদ সিদ্দিকী, তানভীর ইসলাম, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, লাসিথ মালিঙ্গা, ইয়াসির শাহ, ব্রেন্ডন টেলর।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস
তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, শোয়েব মালিক, অ্যাসেলা গুনারত্নে, লিয়াম ডসন, আবু হায়দার রনি, এনামুল হক বিজয়, মেহেদি হাসান, জিয়া-উর রহমান, শহীদ আফ্রিদি, থিসারা পেরেরা, মোশরারফ হোসেন রুবেল, মোহাম্মদ শহীদ, শামসুর রহমান শুভ, সঞ্জিত সাহা, এভিন লুইস, ওয়াকার সালমা খাই, আমের ইয়ামিন।

চিটাগং ভাইকিংস
সিকান্দার রাজা, লুক রনকি, মুশফিকুর রহীম, নজিবুল্লাহ জাদরান, সানজামুল ইসলাম, রবি ফ্রাইলিংক, নাঈম হাসান, সৈয়দ খালেদ, আহমেদ আবু যায়েদ রাহি, মোসাদ্দে হোসেন সৈকত, ক্যামেরন ডেলপোর্ট, দাসুন সানাকা, মোহাম্মদ আশরাফুল, রবিউল হক, ইয়াসির আলী চৌধুরী রাব্বি, নিহাদুজ্জামান, নাজিবুল্লাহ জাদরান, সাদমান ইসলাম।

হোয়াইটওয়াশ করেই সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়েকে হ্যাটট্রিক হোয়াইটওয়াশ করল টাইগাররা। ২০১৪ সালে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ও ২০১৫ সালে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের পর এবার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। টেস্টেও জিম্বাবুয়েকে সর্বশেষ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ।

শুক্রবার তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পায় সাত উইকেটে। সফরকারীদের দেয়া ২৮৭ রানের জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েসের সেঞ্চুরির সুবাদে ৪২.১ ওভারে সাত উইকেট হাতে রেখে ম্যাচ জিতে নেয় টাইগাররা। এর আগে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২৮ রানে ও দ্বিতীয় ম্যাচে সাত উইকেটে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।

সৌম্য সরকার দলে সুযোগ পেয়েই আজ দুর্দান্ত একটি ইনিংস খেলেছেন। ৯২ বলে ১১৭ রান করে আউট হন তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। এই রান করার পথে তিনি নয়টি চার মারেন ও ছয়টি ছক্কা হাঁকান। সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় পর সেঞ্চুরি দেখা পেলেন এই টাইগার ক্রিকেটার।

এর আগে ২০১৫ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন সৌম্য সরকার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই সিরিজে প্রথমে দলে ছিলেন না সৌম্য। কিন্তু প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করায় ও জাতীয় লিগে ভালো করায় সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে তাকে দলে ডাকেন নির্বাচকরা।

গত দুই ম্যাচে ভালো খেলা ইমরুল কায়েস আজ ১১৫ রান করে আউট হন। ওয়ানডেতে এটি তার চতুর্থ সেঞ্চুরি। এই সিরিজের প্রথম ম্যাচেও ইমরুল কায়েস সেঞ্চুরি করেছিলেন। ওই ম্যাচে ১৪৪ রান করেছিলেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে ৯০ রান করে আউট হন কায়েস।

ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। কাইল জারভিসের বলে এলবিডব্লিউ হন লিটন দাস। এরপর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার ২২০ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। ইনিংসের ৩০তম ওভারে হ্যামিলটন মাসাকাদজার বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ডোনাল্ড তিরিপানোর হাতে ক্যাচ হন তিনি।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে ওয়ানডেতে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ইমরুল-সৌম্যর এই জুটিই এখন সেরা। এর আগে ওয়ানডে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের ২০৭ রানের জুটি সেরা ছিল। যেকোনো জুটিতে ইমরুল-সৌম্যর এই জুটি দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। প্রথম অবস্থানে আছে সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ২২৪ রানের জুটি।

সৌম্য সরকার ফিরে যাওয়ার পর ইমরুল কায়েস ও মুশফিকুর রহিম ৫৪ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। ইনিংসের ৪০তম ওভারে ওয়েলিংটন মাসাকাদজার বলে এলটন চিগুম্বুরার হাতে ক্যাচ হন ইমরুল কায়েস। এরপর মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিথুন দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে পাঁচ উইকেটে ২৮৬ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। সফরকারীদের পক্ষে সেঞ্চুরি করেন শন উইলিয়ামস। ১২৯ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।

অন্যদের মধ্যে ব্রেন্ডন টেইলর করেন ৭৫ রান। ওয়ানডেতে এটি তার ৩৬তম অর্ধশত। এছাড়া সিকান্দার রাজা ৪০ ও পিটার মুর ২৮ রান করেন। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাজমুল ইসলাম অপু ২টি, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ১টি ও আবু হায়দার রনি ১টি করে উইকেট শিকার করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: সাত উইকেটে জয়ী বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ে ইনিংস: ২৮৬/৫ (৫০ ওভার)

(হ্যামিলটন মাসাকাদজা ২, চেফাস ঝুওয়াও ০, ব্রেন্ডন টেইলর ৭৫, সিকান্দার রাজা ৪০, শন উইলিয়ামস ১২৯, পিটার মুর ২৮, এলটন চিগাম্বুরা ১; আবু হায়দার রনি ১/৩৯, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ১/৫১, আরিফুল হক ০/১৭, মাশরাফি বিন মুর্তজা ০/৫৬, সৌম্য সরকার ০/১৬, নাজমুল ইসলাম অপু ২/৫৮, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ০/৪০)।

বাংলাদেশ ইনিংস: ২৮৮/৩ (৪২.১ ওভার)

(লিটন দাস ০, ইমরুল কায়েস ১১৫, সৌম্য সরকার ১১৭, মুশফিকুর রহিম ২৮*, মোহাম্মদ মিথুন ৭*; কাইল জারভিস ১/৪৭, রিচার্ড এনগারাভা ০/৪৪, ডোনাল্ড তিরিপানো ০/৩৩, সিকান্দার রাজা ০/৪৭, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ১/৭১, শন উইলিয়ামস ০/৪৩, হ্যামিলটন মাসাকাদজা ১/৩)।

সব সময় নিজেকে সৎ ও স্বচ্ছ রেখেছি’

শ্রীলঙ্কান ব্যাটিং গ্রেট সনাৎ জয়সুরিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে আইসিসি। সংস্থাটির দুর্নীতি দমন শাখার তদন্তে তিনি সহযোগিতা করেননি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে তিনি সেই অভিযোগের বিষয়ে খুব দ্রুত প্রতিক্রিয়াও জানান।

এক বিবৃতিতে নিজেকে সৎ ও স্বচ্ছ বলে দাবি করেন মাতারা হারিকেন খ্যাত এই ক্রিকেটার।

শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন এই তারকার বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগিতার পাশাপাশি তথ্য প্রমাণ লোপাটেরও অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্বাসনের মুখে পড়তে পারেন। ক্রিকেটের যে কোনও পদ থেকে তাকে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত নির্বাসিত হবেন। অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য ১৪ দিন অর্থাৎ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় পেয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ক্রিকেটে বরাবরই নিজেকে সৎ ও স্বচ্ছ রেখেছি আমি। ভবিষ্যতেও তেমনই থাকব। তবে এই ব্যাপারে আমাকে মন্তব্য করতে বারণ করা হয়েছে। মন্তব্য করলে সেটা আইসিসি’র নিয়ম ভাঙা হবে।

আইসিসি যে অভিযোগগুলো করেছে, তার সঙ্গে ম্যাচ ফিক্সিং, পিচ ফিক্সিং বা সেই ধরনের দুর্নীতির কোনও সম্পর্ক নেই।

শেষ মুহূর্তের গোলে ব্রাজিলের জয়

আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের পরও খেলার নির্ধারিত সময় শেষে যখন স্কোরবোর্ড খালি, তখন অনেকেই হয়তো হিসাবের ইতি টানতে শুরু করছিলেন- ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ম্যাচ গোলশূন্য ড্র, এমন কিছু দিয়ে। কিন্তু আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসি মাঠে না থাকতে পারেন, ব্রাজিলের হয়ে তো আছেন নেইমার! তাহলে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্তও কি কিছু আন্দাজ করা ঠিক? ঠিক নয়।

নেইমার সেটাই যেন বোঝালেন। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে কর্নার কিক থেকে তার বাড়িয়ে দেওয়া বলই দুর্দান্ত হেডে আর্জেন্টিনার জালে জড়িয়ে দিলেন মিরান্ডা। সাম্বার দেশের সমর্থকরা মেতে উঠলো বিজয়োল্লাসে। ফুটবলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের মধ্যে উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচে এই গোলের সুবাদেই জয় তুলে নিলো তিতের শিষ্যরা।

সৌদি আরবের বাদশাহ আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটিতে প্রীতি ম্যাচে নামলেও দুই দলের অতীতের দ্বৈরথ উত্তাপেরই জানান দিচ্ছিলো। সেজন্য গ্যালারিতেও ছিল স্থানীয় ও বিদেশি ফুটবলপ্রেমীদের ভিড়।

খেলা শুরুর ৮ মিনিটেই প্রথম সুযোগ পেয়ে যায় মেসি ছাড়া খেলতে নামা আর্জেন্টিনা। নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর কাছ থেকে বল পেয়ে শট নেন পিএসজি তারকা জিওভানি লো সেলসো। কিন্তু সেটা গোলবারের পাশ দিয়ে চলে যায়।

তার ২০ মিনিটের মধ্যেই দারুণ সুযোগ আসে নেইমারদের সামনে। পিএসজি তারকা নেইমার ফ্রি কিক নিলে সেটা ক্লিয়ার করে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ। কিন্তু কাসেমিরো আবার জালে জড়াতে চাইলে বক্সের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি তারকা নিকোলাস ওতামেন্ডি অনেকটা মাথা-বুক একসঙ্গে পেতে দিয়ে রক্ষা করেন আর্জেন্টিনা।

সৌদি আরবের আবহাওয়ার গরমে দু’পক্ষের খেলোয়াড়দেরই তখন হাসফাঁস দশা। রেফারি তাই ৩০ মিনিটের মাথায়ই পানীয় পানের সুযোগ করে দেন। 

এরপর খেলা শুরু হতেই আবার সামনে সুযোগ আসে আর্জেন্টিনার। ব্রাজিলের ফাউলের সুবাদে ফ্রি কিক পায় আর্জেন্টিনা। জুভেন্টাসের ‘নাম্বার টেন’ পাওলো দিবালার সেই কিক গোলপোস্টের একেবারে পাশ দিয়ে চলে যায়। 

৪০ মিনিটের মাথায় প্রায় আর্জেন্টিনার রক্ষণভেঙে ঢুকে পড়তে থাকা নেইমারকে থামিয়ে দেন সেই ওতামেন্ডি। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তেও আর্জেন্টিনা-শিবিরে কাঁপন ধরিয়েছিলেন নেইমার।

দ্বিতীয়ার্ধে গোল পেতে দু’পক্ষ আক্রমণে শান দেয়। আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে তুলনামূলকভাবে ভালো খেলতে থাকা দিবালাকে উঠিয়ে ৫৮ মিনিটের মাথায় ইন্টার মিলানের তারকা লাওতারো মার্তিনেজকে নামান অন্তর্বর্তী কোচ লিওনেল স্কালোনি।

৬০ মিনিটের মাথায় আক্রমণে ওঠে আর্জেন্টিনা। পারাদেসের লম্বা শট অবশ্য লক্ষভ্রষ্ট হয়। পরের মিনিটে সেলসোকে হতাশ করেন মারকুইনহোস।

গত বিশ্বকাপে আলোচনায় থেকেও পুরো ফ্লপ হওয়া জেসুসকে তিতে উঠিয়ে নেন ৬৫ মিনিটের মাথায়। তার বদলে নামান রিচার্লিসনকে। এরমধ্যে অবশ্য আর্জেন্টিনার বক্সে ঢুকেও গোল দিতে না পারা নেইমার প্রতিপক্ষের পারাদেসকে ফাউল করে হলুদ কার্ড হজম করেন।

৭০ মিনিটের মাথায় আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে নেইমার বল বাড়িয়ে দেন বক্সের মাঝে। বার্সেলোনার তারকা ম্যালকম আর্থার ক্ষিপ্রগতির শটও নিয়েছিলেন, কিন্তু ২০১৪ বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক রোমেরো সেটা দারুণভাবে ফিরিয়ে দেন। তার এই ‘ফর্ম’ গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দল থেকে ইনজুরির কারণে ছিটকে পড়ার দুঃখকেই যেন উসকে দিলো।

৭৭ মিনিটের মাথায় নেইমারের আরেকটি ফ্রি কিক গোলপোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়। এই অবস্থায় সবাই যখন গোলশূন্য ড্র ম্যাচের হিসাব কষছিলেন, তখনই পার্থক্য গড়ে দেন মিরান্ডা, নেইমারের বাড়ানো বল পেয়ে। অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটের খেলার সময় নেইমার কর্নার নিলে পোস্টের পাশেই দাঁড়ানো মিরান্ডা দারুণ হেডে সেই বল জালে জড়িয়ে দেন। ব্যস, ফলাফল এটাই শেষ পর্যন্ত দাঁড়ায়।

পুরো ম্যাচে ফাউল হয়েছে প্রচুর। যেজন্য হলুদ কার্ডই খেয়েছেন ৭ জন খেলোয়াড়। তবে গোল না পেলেও দারুণ খেলে দর্শকের মন জয় করেছেন নেইমার। অন্যদিকে, দিবালা তার খেলা সময়ে নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টা দেখালেও নিষ্প্রভ দেখা গেছে মাউরো ইকার্দিকে, অথচ ব্রাজিলের সঙ্গে নামার আগে মন্তব্য করে উত্তাপ ছড়িয়েছিলেন তিনিই।

আজ মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

অপেক্ষায় প্রহর শেষ করে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবলের দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা।
আজ (মঙ্গলবার) সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।

তবে ‘প্রীতি ম্যাচ’ শব্দযুগল নিয়ে আপত্তি উঠেছে দুই শিবির থেকেই। শুক্রবার ব্রাজিল কোচ তিতে বলেন, ‘ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা কখনও প্রীতি ম্যাচ হয় না।’

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা ফরোয়ার্ড মাউরো ইকার্দি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মধ্যে কখনও প্রীতি ম্যাচ হয় না। এ ম্যাচ ঘিরে থাকে অনেক আবেগ ও উত্তেজনা। গত মাসে আমরা কলম্বিয়ার মতো দলের বিপক্ষে খেলেছি। তারাও দুর্দান্ত দল। কিন্তু ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলা মানে অন্য কিছু। ওদের বিপক্ষে মাঠে নামলে সেটা আর প্রীতি ম্যাচ থাকে না।’

নতুন চেহারার এক দল নিয়ে ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। মেসি, আগুয়েরো, হিগুয়াইন ও ডি মারিয়ার মতো মহাতারকাদের অনুপস্থিতিতে দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে ইরাককে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিলেও ব্রাজিলের বিপক্ষে কোনোভাবেই ফেভারিট বলা যাচ্ছে না আর্জেন্টিনাকে।

তরুণ দলটি এই দলটিকেই আর্জেন্টাইন ফুটবলের ভবিষ্যৎ মনে করছেন ইকার্দি, ‘আমরা একটি নতুন প্রকল্প অনুসরণ করছি। অনেক নতুন খেলোয়াড় আসছে, যাদের অনেকের গায়ে প্রথমবারের মতো উঠছে আর্জেন্টিনার জার্সি। পালাবদলের এই সময়ে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। আমরা সবাই মিলে ভবিষ্যতের জন্য একটি ভিত তৈরি করার চেষ্টা করছি। কিছু নির্মাণের চেষ্টা চলছে। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

ব্রাজিলের বিপক্ষে অনভিজ্ঞ এই দলটিকে নেতৃত্ব দেবেন পাওলো দিবালা ও ইকার্দি। শতভাগ ফিট না হওয়ায় ইরাকের বিপক্ষে খেলা হয়নি ইকার্দির। চোট কাটিয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামতে প্রস্তুত ইন্টার মিলান তারকা, ‘এখন আমি পুরোপুরি সুস্থ। মাঠে নামতে প্রস্তুত।’

এদিকে গত মাসে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ২-০ ও এল সালভাদোরকে ৫-০’তে হারানোর পর শুক্রবার স্বাগতিক সৌদি আরবের বিপক্ষে ২-০’তে জয় পায় নেইমাররা। রিয়াদে মেসিবিহীণ আর্জেন্টিনাও বৃহস্পতিবার ৪-০ গোলে ইরাককে হারিয়ে জয়ে ফেরে।

প্রথম ম্যাচে গুয়াতেমালাকে ৩-০’তে হারিয়ে পরের ম্যাচে কলম্বিয়ার সাথে গোলশূন্য ড্র করে স্কালোনির শিষ্যরা। ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ সামনে রেখে এই অন্তর্বতীকালীন কোচও দলে ফিরিয়েছেন তিন অভিজ্ঞ অ্যাগুয়েরো, ডি মারিয়া ও হিগুয়াইনকে। দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বীর সর্বশেষ সাক্ষাতটি মেলবোর্নে গত বছর জুনে আর্জেন্টিনা জিতেছিলো ১-০’তে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে বেশি বয়সে অভিষেক হয়েছে যাদের

ত্রিশোর্ধ বছর বয়সে জাতীয় ওয়ানডে দলে ডাক পেয়েছেন ফজলে মাহমুদ রাব্বি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আসন্ন হোম সিরিজে এটাই সবচেয়ে বড় চমক। মূলত ‘এ’ দলের হয়ে তার পারফরমেন্সের কারণে ওয়ানডে দলে ডাক পান ফজলে রাব্বি। তিরিশ বছর বয়সে বাংলাদেশের জাতীয় দলে ডাক পাওয়া ক্রিকেটারের সংখ্যা কম। সেই শর্টলিস্টে নতুন সংযোজন রাব্বি।

বাংলাদেশে কম বয়সেই সিংহভাগ ক্রিকেটারদের অভিষেক হয়ে গেলেও বেশি বয়সে অভিষেকের ঘটনাও আছে। নিকট অতীতে এই ঘটনার সাক্ষী পেসার শুভাশীস রায়। ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ড সফরের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অভিষেক হয়েছিল শুভাশিস রায়ের।২০০১ সালের পর টেস্ট ক্রিকেটে অভিষিক্ত ক্রিকেটারদের মধ্যেও শুভাশিষ সবচেয়ে বেশি বয়সী। ২৮ বছর ৪৪ দিন বয়সে অভিষিক্ত শুভাশিস টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর সবচেয়ে বেশি বয়সে ওয়ানডেতে অভিষিক্ত বাংলাদেশি।

তবে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল এনামুল হক মনির। বর্তমানে আম্পায়ারিংয়ে ক্যারিয়ার গড়া মনির ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলার সময় বয়স ছিল ৩৫ বছর ৫৮ দিন। ওয়ানডে ক্রিকেটে জাহাঙ্গীর শাহ বাদশা ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচের সবচেয়ে বেশি বয়সী ক্রিকেটার ছিলেন। সেদিন তার বয়স ছিল ৩৬ বছর ২৫৫ দিন। বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে উইকেট শিকারি এই পেস বোলার ৮৬র এশিয়া কাপে পাকিস্তানের মহসিন কামাল এবং রমিজ রাজাকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেছিলেন।

বাংলাদেশে যেখানে ১৯ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে স্বভাবত একজন ক্রিকেটারের অভিষেক হয়ে যায়, সেখানে কি রাব্বি কখনো ভেবেছেন যে ৩০ বছর বয়েসে জাতীয় দলে ডাক পাবেন? সংবাদমাধ্যমকে ২০০৪ সালে ঘরোয়া ক্রিকেটে অভিষিক্ত রাব্বি বলেন, ‘একটা সময় আর জাতীয় দলের নিয়ে ভাবিনি, শুধু খেলা নিয়ে ভেবেছি। আমি প্রফেশনার ক্রিকেটার সেভাবেই ভেবেছি। ফিটনেসটাই এক্ষেত্রে মূল বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আগে ক্রিকেটাররা এতো ভাবতো না, এখন ফিটনেস নিয়ে সবাই সচেতন। আমার মনে হয় এমন বয়সী আরো ক্রিকেটার সুযোগ পেতে পারে।’

-বিবিসি বাংলা

নেপালকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মেয়েরা

অনূর্ধ্ব-১৮ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশের মেয়েরা। রবিবার ভুটানের চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে শিরোপা জিতল কৃষ্ণা-সানজিদারা।

শুরু থেকে দুই দলই আক্রমণে গেলেও রক্ষণ ও গোলরক্ষকের কারণে সুবিধা করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত একটি গোলই গড়ে দিয়েছে ম্যাচের পার্থক্য।

৭ মিনিটে নেপালের একটি চেষ্টা রুখতে বেশি কষ্ট করতে হয়নি বাংলাদেশের গোলরক্ষককে। বল হাতে নিয়েই রুপনা চাকমা গোল কিকে নেপালের প্রান্তে বল পাঠান। কেবল গোলরক্ষককে একা পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি কৃষ্ণা রানী সরকার। অঞ্জনা রানা মাগারের মাথার উপর দিয়ে তিনি বল তুলে দিলে গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

নেপালের আরেকটি চেষ্টা ১৫ মিনিটে ঠেকান বাংলাদেশের গোলরক্ষক রুপনা চাকমা। ২২ মিনিটে আবারও কৃষ্ণা আক্রমণে যান। ডিবক্সের প্রান্ত থেকে তার ডান পায়ের দুর্বল শট খুব সহজেই হাতে নিয়ে নেন নেপালের গোলরক্ষক। বিরতির আগে শেষবার বাংলাদেশ লক্ষ্যে শট নেয় ৪৪ মিনিটে। সিরাত জাহান স্বপ্না দুজন ডিফেন্ডারকে কাটালেও বক্সে ঢুকতে পারেননি। বক্সের বাইরে থেকে শট নিতে বাধ্য হন তিনি। সেটা সহজে প্রতিহত করেন অঞ্জনা।

বিরতির পর ফিরেই ৪৭ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে নেপাল একটি সুযোগ তৈরি করেছিল। রুপনা দারুণ দক্ষতায় তাদের ব্যর্থ করে দেন। দুই মিনিট পর ফ্রি কিক কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। বক্সের মধ্যে উড়ে আসা বলে হেড করে লক্ষ্যভেদ করেন মাসুরা পারভীন।

৫১ ‍মিনিটে মাঝমাঠ থেকে উড়ে আসা বল ঠেকাতে গিয়ে পড়ে যান রুপনা। বাংলাদেশি গোলরক্ষকের হাত ফসকে পাওয়া বলে শট নেয় নেপাল। কিন্তু গোলপোস্টে বল লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৬১ মিনিটে বাংলাদেশের একটি শট সহজে রুখে দেন অঞ্জনা। তবে ৬৮ ও ৭২ মিনিটে গোলবারের সামনে দারুণ দুটি সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি নেপাল।

কোহলির সাইট ‘হ্যাক’ করেছে বাংলাদেশি সমর্থকেরা?

এশিয়া কাপ ফাইনালে লিটন দাসের সেই আউট নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আউটটির বৈধতার প্রশ্নে পক্ষে-বিপক্ষে তর্ক চলছেই। বাংলাদেশের বেশির ভাগ সমর্থক আউটটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। এর রেশ ধরে ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ‘হ্যাক’ করেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা, এমনই এক খবর প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। তারা জানিয়েছে, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স (সিএসআই) নামের বাংলাদেশের একটি গ্রুপ কোহলির অফিশিয়াল সাইট ‘হ্যাক’ করেছে।

এশিয়া কাপ ফাইনালে ব্যক্তিগত ১২১ রানে মহেন্দ্র সিং ধোনির স্টাম্পিংয়ের শিকার হন লিটন। রিপ্লেতে দেখা গেছে, লিটনের পা লাইনে ছিল। বেশ কয়েকটি অ্যাঙ্গেল থেকে দেখেও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এর ফলে ‘জুম ইন’ করে দেখার সিদ্ধান্ত নেন তৃতীয় আম্পায়ার রড টাকার। দৃশ্যপট বড় করার পর দেখা যায়, লাইনের ওপরেই ছিল লিটনের পা। তবে লাইনের পেছনে কোনো অংশে তাঁর পা ছিল না। ‘অন দ্য লাইন’-এর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত পুরোপুরি আম্পায়ারের হাতে এবং লিটনকে আউট ঘোষণা করা হয়। যদিও ‘বেনিফিট অব ডাউট’ ব্যাটসম্যানের পক্ষেই যায়।

ফাইনাল ম্যাচ মাঠে থাকতেই লিটনের সেই আউট নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। দুই দেশের সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। তারই রেশ ধরে সিএসআই কোহলির সাইট ‘হ্যাক’ করেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। এই সংগঠনটি কোহলির সাইটে আইসিসিকে প্রশ্ন করেছে, ক্রিকেট কি ভদ্রলোকের মতো খেলা হচ্ছে?

কোহলির সাইটে ‘গ্যালারি’ অংশে তিনটি ছবি আপলোড করেছে এই সংগঠন। প্রথম ছবির বাঁ পাশে লেখা ‘হ্যাকড বাই সিএসআই’। তার ওপরে স্যুট পরিহিত একটি দেহাবয়ব, যার মস্তিষ্ক নেই এবং পেছনে পাখির ডানা। ডান পাশে লিটনের সেই আউটের পাঁচটি ছবি একত্রে সংযুক্ত করে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। পরের ছবিতে চারটি অংশ—যেখানে বাঘের ছবিসহ ওপরে লেখা সিএসআই। ডান পাশে স্যুট পরা সেই দেহাবয়ব আর নিচে বাঁ পাশে লিটনের আউটের সেই ছবি, যেখানে ছবির ওপরে একটি বার্তাও রয়েছে। পরের ছবিতে সেই বার্তা রয়েছে পুরো অংশে।

বার্তায় বলা হয়েছে, ‘প্রিয় আইসিসি, ক্রিকেট তো ভদ্রলোকের খেলা? সব দলেরই কি সমান অধিকার থাকা উচিত নয়? দয়া করে ব্যাখ্যা করো, এটা কীভাবে আউট? তোমরা যদি বিশ্বের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা না চাও এবং আম্পায়ারদের শাস্তি না দাও, তাহলে যতবার সাইট পুনরুদ্ধার করবে ততবারই হ্যাক করা হবে। ভারতীয় ভাই-বোনদের বলছি, তোমাদের অসম্মান করছি না। অনুগ্রহ করে একটু ভেবে দেখ, তোমাদের দলের সঙ্গে এমন অবিচার হলে কেমন লাগত? ম্যাচে প্রতিটি দলকে সমান চোখে দেখা উচিত। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।’

বিশ্রাম পাওয়ায় এশিয়া কাপে খেলেননি কোহলি। তাঁকে ছাড়াই ফাইনালে বাংলাদেশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় রোহিত শর্মার ভারত। আজ সন্ধ্যায় দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ক্রিকেটারের সাইটে গিয়ে দেখা গেছে ছবি ও বার্তাটা এখনো রয়েছে।

মেসিকে অবসরে যাওয়ার পরামর্শ!

 রাশিয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ভরাডুবির পর জাতীয় দল থেকে সাময়িক অবসরে যান বার্সেলোনা তারকা মেসি। অবশ্য তিনি ক্লাব বার্সার হয়ে নিয়মিত খেলে যাচ্ছেন। তবে ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনার হয়ে অনেক শিরোপা জিতলেও এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে কোনো শিরোপাই জেতা হয়নি আর্জেন্টিনার এই প্রাণভোমরার।

বিশ্বকাপ শেষে গুঞ্জন উঠে, তবে কী এটাই ছিল আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মেসির শেষ বিশ্বকাপ? যদিও এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে মুখ খোলেননি মেসি। তবে রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর সাময়িকভাবে জাতীয় দলের বাইরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেসি।

চলতি বছর আর্জেন্টিনার হয়ে কোনো ম্যাচে অংশ নিবেন না মেসি। জাতীয় দলের হয়ে খেললেও ফিরতে পারেন ২০১৯ কোপা আমেরিকাতে। আর তা না হলে নিতে পারেন অবসর। এ নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। কেননা জাতীয় দলে খেলার প্রসঙ্গে এখন পর্যন্ত মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছেন মেসি। এমন অবস্থায় মেসিকে আর্জেন্টিনার হয়ে আর না খেলার পরামর্শ দিলেন দেশটির বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনা।

মেসির সেই অবসর প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনা জানান, সবকিছুতেই মেসির দোষ খুঁজে বেড়ায় সবাই। তাই তিনি মনে করেন, জাতীয় দলে আর না ফেরাটা উত্তম মেসির জন্য। এ নিয়ে ম্যারাডোনার ভাষ্য, ‘আমি মেসিকে কী বলব? বলব, আর্জেন্টিনার হয়ে আর না খেলতে। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে নিতে। অনূর্ধ্ব-১৫ দল হারে, দোষ মেসির। তাকে সবসময়ই দোষ দেওয়া হচ্ছে।’

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক আরো বলেন, ‘গত বিশ্বকাপে জাতীয় দলের বাজে পারফরম্যান্সের জন্য মেসিকে দায়ী করা হয়। আসলেই কী সে দায়ী? আমরা সব আশা তাকে নিয়ে করি। কিন্তু একা তো আর দলকে জেতানো যায় না। আমি মেসিকে বলব আর না ফিরতে। তার উচিত অ্যাসোসিয়েশনকে দেখতে দেওয়া যে, মেসিকে ছাড়া কতটা ভালো করতে পারে তারা’।

লাওসকে হারিয়ে সিলেট মাতাল লাল-সবুজের দল

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে লাওসকে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আজ সোমবার গ্যালারি ভর্তি দর্শকের তুমুল হর্ষধ্বনির মাঝে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে জেমি ডের দল। একমাত্র গোলটি করেছেন মিডফিল্ডার বিপলু আহমেদ।

ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। একের পর এক সুযোগ নষ্ট করেছে লাল-সবুজের দল। মাহবুবুর রহমান সুফিল, নাবীব নেওয়াজ জীবনরা লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে গ্যালারিতে আসা হাজারো সমর্থকের হতাশা বাড়াতে থাকেন। দ্বিতীয় মিনিটে বাঁ দিক থেকে সুফিলের বাড়ানো বলের নাগাল বিপলু পাওয়ার আগেই গোলকিপারের গ্লাভসবন্দি হয়।

বাংলাদেশের আরেকটি বড় সুযোগ নষ্ট হয় ২২তম মিনিটে। ডান দিক থেকে বিপলুর ক্রসে ঠিকঠাক হেড করতে পারেননি রবিউল হাসান। ২৯তম মিনিটে বিপলুর লম্বা করে বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান দিক দিয়ে আক্রমণ করেন জীবন। কিন্তু এই ফরোয়ার্ডের দুর্বল শট গ্লাভসবন্দি করতে বেগ পেতে হয়নি গোলকিপারের। ৩৬তম মিনিটে লাওসের একটি আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানা।

দ্বিতীয়ার্ধের ৪৯তম মিনিটে ফরোয়ার্ড সুফিলের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে যাওয়ার পর ৫৪তম মিনিটের হেডও অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। ৫৯তম মিনিটে বিপলুর গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। জীবনের হেড গোলকিপার ফিস্ট করার পর ক্রসবারে লেগে ফেরে। এরপর এক ডিফেন্ডারের বিপদমুক্ত করতে শট নিলে বল জীবনের পায়ে লেগে চলে যায় ডান দিকে থাকা বিপলুর কাছে; এই মিডফিল্ডারের শট গোলকিপারে পায়ে লেগে কাছের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ালে উৎসবে নেচে ওঠে গ্যালারি।

লাওসের বিপক্ষে বাংলাদেশের এটাই প্রথম জয়। এর আগে দুইবারের লড়াইয়ে একটিতে জিতেছিল লাওস, অন্যটি ড্র হয়েছিল। আগামী শুক্রবার ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে ফিলিপিন্সের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

হংকংকে ৯১ রানে গুটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ

যুব এশিয়া কাপের ‘বি’ গ্রুপের খেলায় হংকংয়ের বিপক্ষে জয় পেতে ৯২ রানের প্রয়োজন বাংলাদেশের যুবাদের। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ৪৬.৫ ওভারে ৯১ রানে গুটিয়ে যায় হংকং।

এদিন টসে জিতে হংকংকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়ে শুরু থেকেই আগুন ঝরাতে থাকে বাংলাদেশের বোলাররা। হংকংয়ের ওপেনার হারপ্রিত সিংকে আউট করে প্রথম আঘাত হানেন শরিফুল ইসলাম। এরপর ধারাবাহিক ভাবে উইকেট তুলতে থাকেন মিনহাজুর রহমান, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরি ও রাকিবুল হাসান। এরপর সেই দলে যোগ দেন স্পিনার রিশাদ হোসেনও।

হংকংয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ১৬ রান করে করেছেন কালহান চাল্লু ও অদিত গোরাওরা। এছাড়া অধিনায়ক কবির সোধি ১৩ রান করেছেন।

বাংলাদেশের হয়ে ১১ রানে ৩ উইকেট নিয়েছের রিশাদ। এছাড়া মৃত্যুঞ্জয় ও রাকিবুল নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। আর একটি করে উইকেট নিয়েছেন শরিফুল, মিনহাজুর ও শামিম হোসেন।

জিম্বাবুয়ে সিরিজে টেস্ট অধিনায়ক কে?

জীবনের নানা শাখা-প্রশাখার মতো ক্রিকেটেও ওঠানামা আর পালাবদল হয় প্রতিনিয়ত। ক্রিকেটেও কারো দিনকাল ও সময় এক রকম কাটে না, থাকে না। এই পৌষমাস, সাফল্যের বৃহস্পতি তুঙ্গে তো কখনও কখনও সর্বনাশও নেমে আসে। শনির দশা হয় সঙ্গী।

কবে, কখন কার কি অবস্থা হয়, পালাবদলের পালায় কার সু-সময়ে কখন যে শনি ভর করে কেউ তা আগাম বলতে পারেন না। অনুমানও করা সম্ভব হয় না।

দেশের ক্রিকেটের দুই জনপ্রিয় তারকা এবং ‘পঞ্চ পান্ডবের’ দুই মূল স্তম্ভ তামিম ইকবাল এবং সাকিব আল হাসান যে প্রায় একসঙ্গে ইনজুরির ভয়াল থাবায় আক্রান্ত হয়ে মাঠের বাইরে ছিটকে পড়বেন, আরব আমিরাতের দুবাইতে এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের সাথে ঘটনাবহুল ও রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে খেলতে পারবেন না, তা কে ভেবেছিলেন?

সেটাই শেষ নয়। এরপর অক্টোবর-নভেম্বরে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজেও সাকিব-তামিমকে পাবে না টিম বাংলাদেশ। ওই দুই শীর্ষ তারকা এবং দুই অপরিহার্য সদস্য একসঙ্গে খেলতে পারবেন না, তাইবা কে জানতো? কেউ হয়ত কল্পনাও করেননি দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজে তামিম ও সাকিবের সার্ভিস পাবে না দল। তাদের ছাড়াই খেলতে হবে।

কেউ আগাম না ভাবলেও কঠিন সত্য হলো, এখন সেটাই বড় বাস্তব। দু’জনার ইনজুরির সর্বশেষ যে অবস্থা, তাতে মোটামুটি নিশ্চিত যে এ বছর অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে জিম্বাবুইয়ানদের বিপক্ষে টাইগারদের যে টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি সিরিজ হবে তাতে খেলা হবে না সাকিব ও তামিমের।

এখন সাকিবের বাঁ-হাতের কনিষ্ঠা আঙুলের যে অবস্থা তাতে, সাকিবের ভালো হয়ে মাঠে ফিরতে ফিরতে আড়াই থেকে তিন মাস। তার মানে ডিসেম্বরের আগে তার সুস্থ হবার সম্ভাবনা খুব কম।

অন্যদিকে সবে লন্ডনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখিয়ে ও চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরা তামিম ডাক্তারের উদ্ধৃতি দিয়ে কাল রাতেই জানিয়েছেন অন্তত সাত থেকে আট সপ্তাহর আগে তার বাঁ হাতের কব্জির ফ্র্যাকচার ভালো হবার সম্ভাবনা খুব কম। এখন থেকে আট সপ্তাহ মানে অক্টোবর ও নভেম্বর- দুই মাস খেলতে পারবেন না তামিমও। কাজেই ১৫ নভেম্বর টেস্ট দিয়ে জিম্বাবুয়ের সাথে যে সিরিজ শেষ হবে- তাতে মাঠে নামা সম্ভব নয়।

জিম্বাবুয়ের সাথে পারফরমার ক্রিকেটার, ওপেনার তামিম এবং এবং অলরাউন্ডার সাকিবের সাথে আরও একটা বড় শূন্যতা দেখা দেবে। বাংলাদেশ দল মিস করবে টেস্ট ক্যাপ্টেন সাকিবকে।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে তামিম ও সাকিবের বিকল্প পারফরমার খোঁজার কাজ শুরু করে দিয়েছেন নির্বাচকরা; কিন্তু টেস্টে পারফরমার সাকিবের পাশাপাশি একজন অধিনায়কও খুঁজতে হচ্ছে। এখনই টিম ম্যানেজমেন্ট, নির্বাচক এবং বোর্ড কর্মকর্তাদের ভাবনায় চলে এসেছে টেস্ট ক্যাপ্টেন ঠিক করা।

ক্রিকেটপাড়া, ভক্ত- অনুরাগি মহলে কৌতূহলী প্রশ্ন, ‘আচ্ছা সাকিব তো খেলতে পারবেন না, তাহলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের জায়গায় অধিনায়কত্ব করবেন কে?’

কি আশ্চর্য্য, এ বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও এমন পরিস্থিতির উদ্রেক ঘটেছিল। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ছিলেন না সাকিব। প্রথম টেস্টে তামিম-সাকিব দু’জনই খেলতে পারেননি। সাকিবের বদলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। লঙ্কানদের বিপক্ষে টেস্টের পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি সিরিজেও টিম বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

খুব স্বাভাবিক সমীকরণে তাই তার নামই উঠে আসছে সবার আগে। চারিদিকে গুঞ্জন, কৌতূহলী প্রশ্ন, ‘এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টেও সেই মাহমুদউল্লাহই অধিনায়ক? নাকি বোর্ড নতুন কারো কথা ভাবছে?’

কেউ কেউ হয়ত তেমনি ভাবছেন। বাংলাদেশ ভক্ত-সমর্থকদের একাংশের ধারণা, এ বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার সাথে যখন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন, এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাকিবের অনুপস্থিতিতে তিনিই নেতৃত্ব দেবেন হয়ত বা।

ভিতরের খবর কিন্তু ভিন্ন। মাহমুদউল্লাহ নন, এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে আবার দল পরিচালনার দায়িত্ব বর্তাতে পারে মুশফিকুর রহীমের কাঁধে।

বোর্ডের অভ্যন্তরে খোঁজ নিয়ে এবং শীর্ষ কর্তাদের সাথে কথা বলে তেমন ইঙ্গিতই মিলেছে। যদিও এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ইস্যুতে কেউ আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি প্রধান আকরাম খান, বোর্ডের নির্ধারনী মহলের অন্যতম সদস্য জালাল ইউনুস এবং প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর মত ব্যক্তিত্বও এ নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে রাজি হননি।

তবে প্রত্যেকে স্বীকার করেছেন, সাকিব যেহেতু খেলতে পারবে না, তার বদলে টেস্ট অধিনায়ক নির্বাচন করতেই হবে। আর অধিনায়ক মনোনয়ন যেহেতু বোর্ড করে, এটা পরিচালক পর্ষদের এখতিয়ার তাই হয়ত বোর্ডের সর্বোচ্চ ফোরামেই তা নির্ধারিত হবে।’

তবে যেহেতু আগে ওয়ানডে সিরিজ। তারপর টেস্ট সিরিজ শুরু হতে এখনও এক মাস বাকি (প্রথম টেস্ট আগামী ৩ নভেম্বর সিলেটে শুরু হবে)। তাই টেস্ট ক্যাপ্টেন মনোনয়নের জন্য হাতে পর্যাপ্ত সময় আছে।

তাই বোর্ড যে তড়িঘড়ি করে আজ-কালের মধ্যেই টেস্ট অধিনায়ক চূড়ান্ত করে ফেলবে- এমন নয়। জানা গেছে বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান পাপন আজ-কালের মধ্যে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন। তিনি ফেরার পরই হয়ত টেস্ট অধিনায়ক নির্বাচনের অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হবে। সেখানে সবার মতামতের ভিত্তিতে টেস্ট ক্যাপ্টেন চূড়ান্ত হলেও তাতে বোর্ড প্রধানের মত পাবে সর্বাধিক গুরুত্ব। তার পছন্দই শেষ কথা বলে বিবেচিত হবে।

এ বছর শুরুর দিকে শ্রীলঙ্কার সাথে টেস্ট সিরিজে ফল ভালো হয়নি। চট্টগ্রামে কোনরকমে ড্র করা সম্ভব হলেও ঢাকায় ন্যাক্কারজনকভাবে ইনিংস পরাজয় ঘটে। টিম পারফরমেন্স খারাপ হওয়াই শুধু নয়। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর পারফরমেন্সও ভালো ছিল না।

কাজেই এমন একজনকে খোঁজা হচ্ছে যিনি পারফরমার ভালো, দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন এমন এবং পারফরমেন্স পুরো দলকে চাঙ্গা ও উজ্জীবিত করতে পারে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, পরিসংখ্যানকে মানদণ্ড ধরলে মুশফিক সন্দেহাতীতভাবেই বাংলাদেশের সফলতমত টেস্ট অধিনায়ক। এ দেশের টেস্ট ইতিহাসের তিন তিনটি বড়, অবিস্মরনীয় ও ঐতিহাসিক অর্জন তার নেতৃত্বেই।

মুশফিকের অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্বশক্তির বিপক্ষে টেস্ট জিতেছে। শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় লঙ্কানদের বিপক্ষে শততম টেস্টের অবিস্মরনীয় ও ঐতিহাসিক জয়ের মিশনেও মুশফিকুর রহীমই ছিলেন অধিনায়ক।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, টেস্ট অধিনায়কের আর্মব্যাজ পরে ব্যাটসম্যান মুশফিকও টেস্টে অনেক বেশি সফল। তার টেস্ট ক্যারিয়ারের মোট রানের ৬০ ভাগেরও বেশি করেছেন অধিনায়ক হয়ে খেলার সময়। অধিনায়কত্ব ছাড়া মুশফিক ২৮ টেস্টে ৫৫ ইনিংসে তিনবার অপরাজিত থেকে করেছেন ১৩৭৮ রান। শতরান মাত্র একটি। অর্ধশতক সাতটি। গড় ২৬.৫০।

অন্যদিকে টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকের পরিসংখ্যান অনেক সমৃদ্ধ। তার টেস্ট রান; ৩৪ টেস্টে ৬১ ইনিংস পাঁচবার নটআউট সহ ২৩২১। একটি ডাবল সেঞ্চুরিসহ সর্বোচ্চ ২০০। গড় অনেক বেশি; ৪১.৪৪। মোট পাঁচ শতকের চারটি অধিনায়ক হিসেবেই। ১২টি হাফ সেঞ্চুরিও আছে।

অন্যদিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের টেস্ট পরিস্যখ্যান ওয়ানডের মতো উজ্জ্বল নয়। ৩৯ টেস্টে (৭৪ ইনিংসে চারবার নটআউট থেকে) রান ২০৮৪। সর্বোাচ্চ ১১৫। গড় ২৯.৭৭। শতরান মাত্র একটি। হাফ সেঞ্চুরি ১৫টি।

শতরান পেয়ে গিয়েছিলেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম টেস্টেই; কিন্তু ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শতরান করার পর ৩৪ টেস্টে আর শতরান নেই। এ বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবার টেস্টে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে রিয়াদ চার ইনিংসে করেছেন (২৮*+৮৩*+১৭+৬) ১৩৪ রান।

টেস্টে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বল হাতে তেমন উজ্জ্বল না রিয়াদ। ৩৯ টেস্টে উইকেট পেয়েছেন ৪০টি। সেরা বোলিং ৫/৫১। ম্যাচসেরা ফিগার ৮/১১০। সেটাও ৯ বছর আগে ২০০৯ সালের জুলাই মাসে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংসটাউনে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্টে; কিন্তু অভিষেকে বল হাতে নৈপুণ্য দেখানোর পর রিয়াদ আর কখনও তারপর টেস্টে পাঁচ উইকেট বহুদুরে চার উইকেটও পাননি।

কাজেই পারফরমেন্সের বিচারের মাহমুদউল্লাহর চেয়ে মুশফিক অনেক এগিয়ে। কাজেই মাশরাফি ও সাকিবের মতো সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার পারফরমারকেই যদি সাকিবের বদলে টেস্ট ক্যাপ্টেন করা হয়, তাহলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ নন, প্রথম পছন্দ হবেন মুশফিক। তাইতো ভিতরে ভিতরে তার কথাই ভাবা হচ্ছে বেশি।

সেই জায়গা এবং ভূমিকায় সাকিব ছাড়া তামিম হতে পারতেন, ভালো বিকল্প। টেস্টে তামিমের পারফরমেন্স বরাবরই ভালো; কিন্তু এবার তো সাকিবের সাথে তামিমও নেই। তাই মাহমুদউল্লাহর বদলে অন্য কারো কথা ভাবা হলে সবার আগে চলে আসছে মুশফিকুর রহীমের নাম।

বোর্ডের ভেতরেও আছে মুশফিকের প্রতি অন্যরকম সহানুভূতি ও ভালো লাগা। আছে পরিশ্রম, অধ্যবসায়, আত্মনিবেদন এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের বিচার বিবেচনায় মাহমুদউল্লাহর চেয়ে টেস্টে মুশফিকই সবচেয়ে ভালো বিকল্প।-সৌজন্যে : জাগোনিউজ।

বদলে গেলো ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ দুটি নিয়ম

রোববার থেকে বদলে গেলো আইসিসির গুরুত্বপূর্ণ দুটি নিয়ম। দক্ষিণ আফ্রিকার কিম্বার্লিতে স্বাগতিকদের সঙ্গে জিম্বাবুয়ের ওয়ানডে ম্যাচেই বদলে ফেলা হয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম। একটি বল টেম্পারিং এবং অন্যটি হচ্ছে বৃষ্টি আইন ডার্কওয়ার্থ-লুইস মেথড (ডিএল মেথড)।

চলতি বছর কেপটাউন টেস্টে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটারদের বল বিকৃতির ঘটনা থেকে ভালোই শিক্ষা নিল আইসিসি। যে কারণে অনেক গবেষণা করে আইসিসি এবার বল বিকৃতির অপরাধে শাস্তি কঠোর করে নিলো ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটি।

খেলার মাঠে যদি কোনো ক্রিকেটার বলের আকার পরিবর্তনের চেষ্টা করেন, তাহলে সেটা আইসিসি’র লেভেল থ্রি অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। আগে যা লেভেল টু অপরাধ বলে গণ্য করা হতো। নতুন নিয়ম চালু করা হলো, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে। এদিন নতুন নিয়মের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হলো দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ে।

নতুন নিময়ে এবার বল বিকৃতি করলে (লেভেল থ্রি অপরাধের জন্য) ১২ ডিমেরেট পয়েন্ট যোগ করা হবে। আগে যে অপরাধের জন্য শাস্তি ছিল আট ডিমেরিট পয়েন্ট। অর্থ্যাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বল বিকৃতির অপরাধের শাস্তি হিসেবে অভিযুক্ত ক্রিকেটারকে ৬ টেস্ট বা ১২টি ওয়ান ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হবে।

এছাড়া মাঠে অসভ্য আচরণ কিংবা আম্পায়ারের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ালেও শাস্তি কঠিন করলো আইসিসি। একই সঙ্গে বৃষ্টি আইন ডার্কওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হলো।

শনিবারই আইসিসি জানিয়েছিল, নতুন বৃষ্টি আইনের কথা। রোববার থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকা-জিম্বাবুয়ে ম্যাচ থেকে চালু হলো নতুন এই নিয়ম। একই সঙ্গে চালু হল আইসিসি’র নতুন কোড অব কন্ডাক্ট এবং প্লেয়িং কন্ডিশন।

ডার্কওয়ার্থ-লুইস মেথডের এটি হল তৃতীয় ভার্সন। এর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডিএল মেথডের দ্বিতীয় ভারসন করা হয়েছিল ২০১৪ সালে। ডিএল মেথডে বল-বাই-বল বিশ্লেষণ করা হয়। এমনকি পাওয়ার প্লে-তেও। এই চার বছরে খেলা হয়েছে ৭০০টি ওয়ানডে এবং ৪২৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।

নতুন নিয়মে ইনিংসের শেষ দিকে যে দল বেশি রান করতে তারা একটু বেশি সুবিধা পাবে। যেমন ওয়ানডে’র ক্ষেত্রে ইনিংসের শেষ ২০ ওভারের রান রেট বেশি গুরুত্ব পাবে। পুরুষ ও নারী- উভয় ক্রিকেটেই এই নিয়ম প্রজোয্য হবে। তবে ২০১৯ বিশ্বকাপের (ওয়ানডে) কথা ভেবে বিশেষ কোনও পরিবর্তনের রাস্তায় হাঁটেনি আইসিসি।

এছাড়াও নতুন নিয়মে খেলোয়াড়দের কোড অব কান্ডাক্টেও বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত জুলাই মাসের ২ তারিখ ডাবলিনে আইসিসির বোর্ড মিটিংয়ে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নতুন নিয়মে লেভেল ৩ অপরাধের জন্য ৮ থেকে সাসপেনসন্স পয়েন্ট বেড়ে হয় ১২। অর্থাৎ ৬টি টেস্ট এবং ১২টি ওয়ানডে ম্যাচের সমতুল্য। এখন থেকে লেভেল ১, ২, ৩ অপরাধের শাস্তি দিতে পারবেন ম্যাচ রেফারি। লেভেল ৪ অপরাধের শুনানি হবে জুডিসিয়াল কমিশনে।

উল্লেখ্য চলতি বছরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের কেপটাউন টেস্টে বল বিকৃতি করায় দোষী সাব্যস্ত হন অস্ট্রেলিযার তিন ক্রিকেটার। অসি দলনেতা স্মিভেন স্মিথ ও সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারকে দেশের হয়ে ক্রিকেট খেলা থেকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড (ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া)। মূল অভিযুক্ত ক্যামেরন ব্যানক্রফ্টকে ক্রিকেট থেকে ৯ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।

পাকিস্তানকে ১৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করল বাংলাদেশ

মাত্র দেড় মাস আগে ভুটানের থিম্পুতে অনূর্ধ্ব-১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের জালে ১৪ বার বল জড়িয়ে গোল উৎসব করেছিল বাংলাদেশের কিশোরী মেয়েরা। এবার ভুটানের সেই একই মাঠে সেই একই প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের জালে ১৭ বার বল জড়াল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবল দল। সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ১৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ভুটানের থিম্পুতে শুরু হয়েছে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ। সাফ অঞ্চলে অনূর্ধ্ব-১৮ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রথমবারের মতো। অংশ নিচ্ছে মোট ৬টি দল। বাংলাদেশের গ্রুপে পাকিস্তান ছাড়াও রয়েছে নেপাল। থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম ম্যাচ পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে নামে বাংলাদেশের মেয়েরা।

পাকিস্তানকে যে এবারও বাংলাদেশের মেয়েরা উড়িয়ে দেবে, সেটা ছিল অনুমিত। সেই অনুমিত কাজটা যে এত বেশি গোলের ব্যবধানে করবে, সেটাই ভাবতে পারেনি কেউ। বোঝাই যাচ্ছে, গোলের পর গোল দিয়ে গেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। খেলার প্রথমার্ধেই ৮-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর করে আরও ৯ গোল।

বাংলাদেশের হয়ে সিরাত জাহান স্বপ্না একাই করেন ডাবল হ্যাটট্রিকসহ ৭ গোল। হ্যাটট্রিক করেছে মারজিয়াও। তিনি করেন ৪ গোল। ২ গোল করেছেন শিউলি আজিম। এছাড়া ১টি করে গোল করেন তহুরা খাতুন, কৃষ্ণা রাণী সরকার, অধিনায়ক মিসরাত জাহান মৌসুমি এবং আখি খাতুন।

খেলার ৭ মিনিটে গোলের সূচনা করেন মারজিয়া। সেই থেকে শুরু। পাকিস্তান গোলরক্ষক তোবা ইদ্রিস শুধু বল কুড়িয়েই গেছেন। পাকিস্তান পারেনি একবারের জন্যও বাংলাদেশের অর্ধে গিয়ে আক্রমণ পরিচালনা করতে। ১০ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করেন সিরাত জাহান স্বপ্না।

১৩ মিনিটে মারজিয়া ব্যবধান বাড়ান ৩-০ তে। ২২ মিনিটে আবারও গোল মারজিয়ার, ৪-০। ৩০ মিনিটে ৫-০ ব্যবধান করেন সিরাত জাহান স্বপ্না।

৩২ মিনিটে শিউলি আজিমের গোলে হলো ৬-০। ৩৭ মিনিটে অধিনায়ক মিসরাত জাহান মৌসুমি করেন ৭-০। ৪৪ মিনিটে ৮-০ করে ফেলেন সিরাত জাহান স্বপ্না।

৫৮ মিনিটে আখি খাতুন করেন ৯-০। ৬২ মিনিটে ১০ম গোল করেন সিরাত জাহান স্বপ্না। এরপর ৬৯ মিনিটে ১১-০ করেন শিউলি আজিম। ৭১ মিনিটে মারজিয়া করলেন আরেক গোল। হলো ১২-০। ৭৩ মিনিটে সিরাত জাহান স্বপ্নার আরেক গোল। এবার হলো ১৩-০।

৭৪ মিনিটে হলো কৃষ্ণা রাণী সরকারের গোল, ১৪-০। ৭৬ মিনিটে সিরাত জাহান স্বপ্না করলেন ১৫তম গোল। ৮৭ মিনিটে গোল করলেন তহুরা খাতুন, ১৬-০। সর্বশেষ ৯০ মিনিটে ১৭তম গোল করেন সিরাত জাহান স্বপ্না।

স্যালুট বাংলাদেশ: শেবাগ

ভারতের সাবেক হার্ড হিটার ব্যাটসম্যান বীরেন্দ্র শেবাগ। ক্রিকেট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সবসময় সরব থাকেন তিনি। এশিয়া কাপ নিয়েও তিনি নিয়মিত নিজের মতামত জানিয়েছেন। পাকিন্তানের কাছে জেতার পরে বাংলাদেশ দলকে ভাসিয়েছেন প্রশংসায়। তবে বাংলাদেশকে নিয়ে বিভিন্ন সময় খোঁচাও দিয়েছেন তিনি।

এদিকে গতকালের ফাইনালে শিরোপা জেতার পরই ভারতীয় ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ট্রফিটা কত কাছে, কিন্তু এখনও অনেক দূরে। দলের মূল খেলোয়াড়দের ছাড়াই বীরত্বপূর্ণ লড়াই দেখানোর জন্য বাংলাদেশ দলকে হ্যাটস অফ (স্যালুট)।

তবে ভারতের খেলায় খুশি নন তিনি। তিনি লিখেছেন, ‘জিতলেও ভারতের কিছু জায়গায় এখনও অনেক কাজ করার দরকার রয়েছে। আমি আশা করি, তারা ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে।