খেলার খবর

খেলার খবর আমার কুষ্টিয়া হতে প্রকাশিত

প্রথম পর্ব শেষে বিপিএলের পয়েন্ট টেবিল

শেষ হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ঢাকার প্রথম পর্ব। এক দিনের বিরতি দিয়ে ১৫ জানুয়ারি থেকে সিলেটে শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব।

প্রথম পর্বে শতভাগ সফলতা দেখিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে ঢাকা ডায়নামাইটস। দলগত পারফরম্যান্সে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে প্রথম পর্বে চারটি ম্যাচ খেলে ঢাকা। আর প্রতিটি ম্যাচে দাপটের সঙ্গে জয় তুলে নেয় তারা।

ভালো অবস্থানে আছে চিটাগং ভাইকিংসও। চার ম্যাচের তিনটিতে জয় ও একটি হারে রয়েছে টেবিলের দুইয়ে।

রংপুর রাইডার্স আছে তালিকার তিনে। পাঁচ ম্যাচের দুটি জয়ের বিপরীতে তিনটিতে হেরেছে মাশরাফি বিন মর্তুজার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন এই দল।

চারে রয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। চার ম্যাচ খেলে দুটি জয় ও সমান দুটিতে হেরেছে তামিম-ইমরুলরা।

কুমিল্লার মতো ঠিক একই পরিসংখ্যান রাজশাহী কিংসের। তবে নেট রান রেটে পিছিয়ে পাঁচে রয়েছে মেহেদি হাসান মিরাজের দল।

ছয় নম্বরে থাকা সিলেট সিক্সার্স তিন ম্যাচে একটি জয়ের বিপরীতে হেরেছে দুটিতে।

তবে সবচেয়ে নাকাল অবস্থান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের খুলনা টাইটান্সের। চার ম্যাচ খেলে সবকটিতেই হার দেখেছে তারা। ফলে টেবিলের একেবারে তলানিতে তাদের অবস্থান।

পর্দা উঠছে বিপিএলের

 শেষ বিকালে ড্রোন-ক্যামেরায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম ও আশপাশের নিরাপত্তা বেষ্টনী পরিদর্শন করা হয়। আজ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসর মাঠে গড়াচ্ছে। তবে নিরাপত্তার বাড়াবাড়ি ছাড়া বিপিএলের এই আসর নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিকতা থাকছে না। যদিও আগের পাঁচ আসরের তুলনায় এবার বড় তারকার অংশ বেশি। ক্রিস গেইল, আন্দ্রে রাসেল, কাইরন পোলার্ডদের সঙ্গে এবার থাকছে এবি ডি ভিলিয়ার্স, ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভ স্মিথের মতো তারকা। আজ চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স ও চিটাগাং ভাইকিংসের ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াবে বিপিএল। প্রথম দিনে দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় ম্যাচে ঢাকা ডায়নামাইটস মুখোমুখি রাজশাহী কিংসের।

জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আজ প্রথমবারের মতো খেলতে নামছেন মাশরাফি। তার প্রতিপক্ষ মিস্টার ডিপেন্ডেবল মুশফিকুর রহিমের ভাইকিংস। তবে সপ্তাহখানেক আগে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও খেলার মাঠে রাজনীতিকে টেনে আনছেন না নড়াইল এক্সপ্রেস। তিনি আপাতত রাজনীতি ভুলে ক্রিকেট নিয়েই মেতে থাকতে চাচ্ছেন। খেলার মাঠে কেবল খেলোয়াড় পরিচয়েই তিনি গর্বিত, ‘অন্য সময় যেভাবে খেলি, সেভাবেই খেলব।  খেলোয়াড় হিসেবেই এখানে আমি পরিচিত এবং মাঠেও নামছি খেলোয়াড় হিসেবে, সংসদ সদস্য হিসেবে নয়। আমি আশা করি আপনারা সবাই আমাকে সেভাবেই দেখবেন।’ এবারও রংপুরের হয়ে শিরোপা জিততে চান মাশরাফি। মুশফিকের দলের বিরুদ্ধে লড়াইটা হাড্ডাহাড্ডি হবে বলে মনে করেন রাইডার্স ক্যাপ্টেন। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ভাইকিংসও। দলপতি মুশফিক বলেন, ‘আমাদের দলটা কাগজে-কলমে হয়তো ততটা শক্তিশালী নয়, তবে টি-২০তে যে কোনো দলই জিততে পারে। নির্দিষ্ট দিনে যারা ভালো  খেলবে তারাই জিতবে।’ রংপুর বনাম চট্টগ্রাম ম্যাচটি শুরু হবে বেলা সাড়ে ১২টায়। দ্বিতীয় ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৫টা ২০ মিনিটে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস ও মেহেদী হাসান মিরাজের রাজশাহী কিংস। বিপিএলে সবচেয়ে বেশি শিরোপা জিতেছে ঢাকা। তা ছাড়া বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের নেতৃত্বে দলে সুপারস্টারে ভরপুর ডায়নামাইটস। তবে ছেড়ে কথা বলবে না কিংসও। তবে প্রথম ম্যাচে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে খেলবে সব দলই।

যেসব চ্যানেলে বিপিএল দেখা যাবে

৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসর। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে ২০১৮ সালের এই আসর অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২০১৯ সালে এসে। রংপুর রাইডার্স বনাম চিটাগং ভাইকিংসের ম্যাচের মধ্য দিয়ে শুরু হবে আসর। ৮ ফেব্রুয়ারি ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এই আসরের।

বিপিএলে অংশ নিচ্ছে সাতটি দল, ঢাকা ডায়নামাইটস, রংপুর রাইডার্স, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, খুলনা টাইটান্স, রাজশাহী কিংস, চিটাগং ভাইকিংস এবং সিলেট সিক্সার্স। খেলা হবে তিনটি ভেন্যুতে, মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম এবং সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম।

এদিকে বিপিএলের গতবারের আসর বাংলাদেশে শুধুমাত্র গাজী টিভিতে (জিটিভি) সম্প্রচার হলেও এবারের আসরে যুক্ত হয়েছে মাছরাঙ্গা টিভি। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের নানা প্রান্তে বিপিএল ছড়িয়ে যাবে বিদেশি স্পোর্টস চ্যানেলের মাধ্যমে।

যেসব চ্যানেলে দেখাবে বিপিএল:

বাংলাদেশ
জিটিভি, মাছরাঙ্গা
আফগানিস্তান
লেমার টিভি
ক্যারিবীয়ান দেশসমূহ
ফ্লো টিভি
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা
ক্রিক ইন জিপ
পাকিস্তান
জিও সুপার
দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফ্রিকা মহাদেশ
স্টার টাইম
দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, রাশিয়া
টিকন সিস্টেম লি:
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে
স্পোর্টস ফিক্স
যুক্তরাজ্য
ফ্রি স্পোর্টস, স্টার গোল্ড, হট-স্টার
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা
উইলো, হট-স্টার

বিপিএলষষ্ঠ আসর মাঠে গড়াবে ৫ জানুয়ারি

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসর মাঠে গড়াবে ৫ জানুয়ারি। এরমধ্যেই অনুশীলনে নেমে গেছে অংশগ্রহণকারী ৭টি দল। আসা শুরু করেছে বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটাররা। সব মিলিয়ে একটা সাজ সাজ রব দেখা দিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে।

বিপিএলের এই আসরে প্রথমবারের মতো দুই অস্ট্রেলিয়ান তারকা স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার যোগ দিচ্ছেন। এছাড়া আরো আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান এবি ডিভিলিয়ার্সও। এবার বিপিএল অনুষ্ঠিত হবে তিন ভেন্যুতে। ৫- ১৩ জানুয়ারি প্রথম পর্ব মিরপুরে, ১৫-১৯ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্ব সিলেটে, ২১-২৩ জানুয়ারি তৃতীয় পর্ব মিরপুরে, ২৫-৩০ জানুয়ারি চতুর্থ পর্ব চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টের বাকি সব ম্যাচ মিরপুরে অনুষ্ঠিত হবে। এবার দেখে নেওয়া যাক বিপিএলের দলগুলো।

ঢাকা ডায়নামাইটস:

দেশি ক্রিকেটার: সাকিব আল হাসান, শুভাগত হোম, রনি তালুকদার, নুরুল হাসান সোহান, রুবেল হোসেন, শাহাদাত হোসেন রাজীব, কাজী অনিক, মিজানুর রহমান, আসিফ হাসান ও নাইম শেখ।

বিদেশি ক্রিকেটার: সুনিল নারিন, আন্দ্রে রাসেল, রোভম্যান পাওয়েল, কাইরন পোলার্ড, হজরত উল্লাহ জাজাই, অ্যান্ড্র বার্জ এবং ইয়ান বেল।

রংপুর রাইডার্স:

দেশি ক্রিকেটার: মাশরাফি বিন মুর্তজা (আইকন), মোহাম্মদ মিঠুন, নাজমুল ইসলাম অপু, শফিউল ইসলাম, ফরহাদ রেজা, সোহাগ গাজী, মেহেদি মারুফ, ফারদিন হোসেন এনি, নাহিদুল ইসলাম, আবুল হাসান রাজু ও নাদিফ চৌধুরী।

বিদেশি ক্রিকেটার: ক্রিস গেইল, এবি ডি ভিলিয়ার্স, রবি বোপারা, অ্যালেক্স হেলস, রিলে রুশো, শেন উইলিয়ামস, বেনি হাওয়েল ও শেলডন কটরেল।

সিলেট সিক্সার্স:

দেশি ক্রিকেটার: লিটন দাস (আইকন), সাব্বির রহমান, তাসকিন আহমেদ, নাসির হোসেন, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মোহাম্মদ আল আমিন হোসেন, তৌহিদ হৃদয়, নাবিল সামাদ, এবাদত হোসেন, অলক কাপালি, জাকির আলী ও মেহেদি হাসান রানা।

বিদেশি ক্রিকেটার: ডেভিড ওয়ার্নার, সোহেল তানভির, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, সন্দীপ লামিচানে, মোহাম্মদ ইরফান, গুলবাদিন নাইব, আন্দ্রে ফ্লেচার, প্যাট ব্রাউন, নিকোলাস পুরান।

চিটাগং ভাইকিংস:

দেশি ক্রিকেটার: মুশফিকুর রহিম (আইকন), আবু জায়েদ রাহী, মোহাম্মদ আশরাফুল, মোসাদ্দেক হোসেন, নাঈম হাসান, খালেদ আহমেদ, সানজামুল ইসলাম, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, রবিউল হক, ইয়াসির আলী চৌধুরী রাব্বি, নিহাদুজ্জামান এবং সাদমান ইসলাম।

বিদেশি ক্রিকেটার: সিকান্দার রাজা, লুক রঙ্কি, রবি ফ্রাইলিংক, নজিবুল্লাহ জাদরান, ক্যামেরন ডেলপোর্ট, দাসুন সানাকা ও নাজিবুল্লাহ জাদরান।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস:

দেশি ক্রিকেটার: তামিম ইকবাল (আইকন), এনামুল হক, আবু হায়দার, ইমরুল কায়েস, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদি হাসান, জিয়াউর রহমান, মোশরারফ হোসেন রুবেল, মোহাম্মদ শহীদ, শামসুর রহমান শুভ ও সঞ্জিত সাহা।

বিদেশি ক্রিকেটার: স্টিভ স্মিথ, শহীদ আফ্রিদি, শোয়েব মালিক, এভিন লুইস, থিসারা পেরেরা, অ্যাসেলা গুনারত্নে, লিয়াম ডসন, ওয়াকার সালমা খাই, আমের ইয়ামিন।

রাজশাহী কিংস:

দেশি ক্রিকেটার: মুস্তাফিজুর রহমান (আইকন), মুমিনুল হক, মেহেদি হাসান মিরাজ, সৌম্য সরকার, জাকির হাসান, আলাউদ্দিন বাবু, আরাফাত সানি, ফজলে রাব্বি,মার্শাল আইয়ুব, কামরুল ইসলাম রাব্বি।

বিদেশি ক্রিকেটার: মোহাম্মদ হাফিজ, ক্রিস্টিয়ান জাঙ্কার, লরি ইভেনস, ইসুরু উদানা, রায়ান টেন ডেসকাট, কাইস আহমেদ, সেকুগে প্রশন্ন।

খুলনা টাইটানস:

দেশি ক্রিকেটার: মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (আইকন), নাজমুল হোসেন শান্ত, আরিফুল হক, মোহাম্মদ আল আমিন, তাইজুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, জহুরুল ইসলাম অমি, জহির খান, শুভাশিষ রায়, জুনায়েদ সিদ্দিকী, তানভীর ইসলাম এবং মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন।

বিদেশি ক্রিকেটার: কার্লোস ব্র্যাথওয়েট, লাসিথ মালিঙ্গা, ডেভিড মালান, আলী খান, সেলফেইন রাদারাফোর্ড, ইয়াসির শাহ ও ব্রেন্ডন টেলর।

আইসিসির কাছ থেকে উপহারের বদলে যেনো দুঃসংবাদই পেলো বাংলাদেশ

নতুন বছরের প্রথম দিনে আইসিসির কাছ থেকে উপহারের বদলে যেনো দুঃসংবাদই পেলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে এতে অবশ্য দায়টা নিজেদেরই। কেননা আইসিসির বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ঠিক ততোটা উন্নতি করতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

যে কারণে ২০২০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি মূলপর্বে খেলতে পারবে না সাকিব আল হাসানের দল। অস্ট্রেলিয়ায় হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এ আসরে আইসিসির নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী মূলপর্ব অনুষ্ঠিত হবে ১২ দল নিয়ে।

যেখানে সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ ৮ দল। বর্তমান টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে ১০ নম্বরে থাকায় কপাল পুড়েছে টাইগারদের। নয় নম্বরে থাকা শ্রীলঙ্কার সাথে বাংলাদেশকেও খেলতে হবে মূলপর্বে খেলার বাছাইপর্ব।

২০১৮ সালের র‍্যাংকিং অনুযায়ী টি-টোয়েন্টির শীর্ষ আট দল পাকিস্তান, ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তান। এই ৮ দলই সরাসরি খেলবে মূল পর্বে।

টুর্নামেন্টের মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ১২ দল নিয়ে। যেখানের বাকি ৪ দল নির্ধারিত হবে গ্রুপ পর্বের খেলার পরে। এই গ্রুপ পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ৮ দল নিয়ে। গ্রুপ পর্বের জন্য বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা ব্যতীত বাকি ছয় দল বাছাই করা হবে ২০১৯ সালে হতে যাওয়া বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের মাধ্যমে।

সরাসরি বিশ্বকাপ খেলতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক লাসিথ মালিঙ্গা। তবে টাইগার অধিনায়কের দৃঢ় বিশ্বাস, গ্রুপ পর্ব খেলতে হলেও সেখানে জিতে মূল পর্বেও চমক দেখাবে তার দল।

আইসিসিকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় সাকিব বলেন, ‘এটা হতাশাজনক যে আমরা সেরা ১২ তথা মূল পর্বে জায়গা পাইনি। তবে আমি আত্মবিশ্বাসী গ্রুপ পর্ব পার করে টুর্নামেন্টের মূল পর্বেও ভালো খেলবো আমরা। নিজেদের দিনে আমরা যে কাউকে হারানোর সামর্থ্য রাখি এবং টুর্নামেন্টে ভালো না করার কোনো কারণ দেখছি না আমি।’

২০১৮ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটি থেকে সিরিজ জেতার সুখস্মৃতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে সাকিব আরও বলেন, ‘আমাদের এখনো সময় আছে হাতে, বিশ্বকাপের আগের সময়ের সেরা ব্যবহারই করতে হবে আমাদের। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে গিয়ে আমরা টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে এসেছি। সে সিরিজের পারফরম্যান্স আমাদের অনেক বিশ্বাস জুগিয়েছে যে আমরাও বিশ ওভারের ক্রিকেটে ভালো খেলতে পারি।’

সিরিজে ফিরল বাংলাদেশ

প্রতিপক্ষ যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তখন বাংলাদেশের বোলারদের সমস্যার দিকটি আবার একদিক থেকে সুবিধারও। সুবিধার বলেই বেদম মার খাওয়ার পরও পাল্টা চড়ে বসার সুযোগ থাকে।

সুযোগ থাকল বাঁচা-মরার ম্যাচেও। এই ম্যাচে যেমন বেদম মার খেলেন মুস্তাফিজুর রহমান। এক ওভারেই খরচ করলেন ২৪ রান। এক সাকিব আল হাসান বাদে তাঁর সঙ্গে অল্পবিস্তর মার হজম করতে হলো অন্য বোলারদেরও। যাঁরা মারলেন, সেই ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের বৈশিষ্ট্যই হলো তাঁদের মারে ঝুঁকিও থাকে। মারতে মারতে তৈরি হওয়া আউটের সুযোগগুলো কাজে লাগানোর মধ্যেই লুকিয়ে ছিল বাংলাদেশের জয়ের সূত্র।

সেই সূত্রও কাল ফিল্ডাররা মেলালেন ঠিকঠাক। একের পর এক ক্যাচ উঠল; কিন্তু পড়ল না। নিয়মিত বিরতিতে আসতে থাকা সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশও ফিরল সিরিজে। ৩৬ রানের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে সমতা ফেরানোর দিনটি ‘মধ্যমণি’ অধিনায়ক সাকিবের জন্য আবার বিশেষ দিনও। এ ম্যাচে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে নতুন রেকর্ড গড়ার মতো অনেক কিছুই তো যোগ হলো তাঁর অর্জনের ভারেই শুধু মোটা হতে থাকা খাতায়।

সেই খাতায় আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচে ৫ উইকেট ছিল না আগে। ২০১৬-র টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে ওমানের বিপক্ষে ১৫ রানে ৪ উইকেট নেওয়াই এত দিন এই ফরম্যাটে তাঁর সেরা বোলিং ছিল। কাল ফ্যাবিয়ান অ্যালেনকে বোল্ড করে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়া সাকিবের ২১ রানে ৫ শিকার দেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশির সেরা টি-টোয়েন্টি বোলিংও। সব মিলিয়ে সেরা বোলিং অবশ্য ২০১২-র আয়ারল্যান্ড সফরে বেলফাস্টে আইরিশদের বিপক্ষে ১৩ রানে ৫ উইকেট নেওয়া বাঁহাতি স্পিনার ইলিয়াস সানিরই।

তবে অর্জনে-রেকর্ডে অনেক দিন থেকেই আর দেশের গণ্ডিতে সীমিত হয়ে নেই সাকিব। কাল তাঁর হাত ধরে বৈশ্বিক এক রেকর্ডের নতুন পাতাও তো খোলা হয়ে গেল। দেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ২১১ রান করার পথে ব্যাট হাতেও তো ২৬ বলে ৪২ রানের হার না মানা অবদান আছে তাঁর। এর সঙ্গে ৫ শিকার যোগ হয়ে অনন্য এক রেকর্ডও হয়ে গেল। বাংলাদেশ অধিনায়ক বনে গেলেন ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম অলরাউন্ডার, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে যিনি চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংস খেলার পাশাপাশি নিয়েছেন ৫ উইকেটও। টেস্টেও ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি তাঁর আছে ১৮ বার, ওয়ানডেতে একবার। এবার টি-টোয়েন্টির ‘প্রথম’ তাঁকে বানিয়ে দিল ইতিহাসের অষ্টম বোলার, তিন ফরম্যাটেই যাঁর ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব আছে।

এক ম্যাচেই এত কিছু! সিরিজ জেতার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে তাঁর সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার দিন স্বাগতিকরা চেয়েছিল আগের ম্যাচের ভুল থেকে বের হতেও। তাঁরা বের হলোও। কিন্তু এ দিনেই আবার ভুলের মহোৎসব করলেন দুই বাংলাদেশি ফিল্ড আম্পায়ার গাজী সোহেল ও তানভীর আহমেদ। এভিন লুইস ও শিমরন হেটমায়ারের ব্যাটে বল লাগার পরও তাঁদের বিপক্ষে এলবিডাব্লিউর আবেদনে সাড়া দেওয়ার ভুল করেছেন তাঁরা। ওই দুজন রিভিউ নিয়ে সেই যাত্রায় বেঁচেছেন। অবশ্য আম্পায়ারদের ভুলের সুবিধাভোগী হিসেবে দিনের শেষে সাকিবের নামটিও আসছে।

মাহমুদ উল্লাহর (২১ বলে ৭ বাউন্ডারিতে অপরাজিত ৪৩) সঙ্গে তাঁর গড়া অবিচ্ছিন্ন ৯১ রানের পার্টনারশিপটি টি-টোয়েন্টিতে পঞ্চম উইকেটে বাংলাদেশের সেরা। সেটি গড়ার পথেই ২০ রানে থাকা সাকিব প্রতিপক্ষ অধিনায়ক কার্লোস ব্রাথওয়েটের অফস্টাম্পের বেশ বাইরের বলে চালাতে গিয়েছিলেন। বল ব্যাটেও লেগেছিল, উইকেটরক্ষকের গ্লাভসেও জমা পড়েছিল। আশ্চর্যজনকভাবে ক্যারিবীয়রাও আবেদন করেনি। আরো আশ্চর্যজনক যে আম্পায়ার গাজী সোহেল তাতে ওয়াইড বলের সংকেত দেন!

সাকিবের ইনিংস তাতে আরো বড় হয়। আরো ২২টি রান যোগ হয়। যা যোগ না হলে বাংলাদেশের ইনিংস হয়তো প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতে ২০০-ও পেরোয় না! সিরিজে ফেরার জন্য এমন বড় ইনিংসের চাহিদার দিনে ভিত্তিটা দিলেন লিটন কুমার দাশ। যাঁর ব্যাটিংয়ের বৈশিষ্ট্যই হলো এটা যে ভীষণ অধারাবাহিক এ ব্যাটসম্যান নিজের দিনে প্রতিপক্ষের বোলারদের ছারখার করে দেবেন। যা দিয়েছিলেন নিজেদের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ফ্লোরিডায় সিরিজ নির্ধারণী টি-টোয়েন্টির দিনও। ৩১ বলে ৬২ রানের ইনিংসে ম্যাচভাগ্য গড়ে দিয়েছিলেন। সেবার ২৪ বলে ফিফটি করা লিটন কাল তাতে পৌঁছলেন ২৬ বলে। শেষ পর্যন্ত ৩৪ বলে ৬ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায় ৬০ রানের ইনিংসে শুরুর ছন্দটা ধরে দিয়ে যাওয়ার পর বাকি কাজ সারলেন সাকিব-মাহমুদ উল্লাহ।

এরপর ক্যারিবীয়দের রান তাড়ায় বেদম মার হজম করলেন বোলাররা। কিন্তু মারতে মারতে প্রচুর সুযোগও দিলেন ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা। সেগুলো ঠিকঠাক কাজে লাগানোর দিনে টপাটপ উইকেট তুলে নেওয়া সাকিবের নতুন রেকর্ড গড়া সিরিজেও ফেরাল বাংলাদেশকে!

মাশরাফিকে দেখলেই এখন ‘নৌকা’ ‘নৌকা’ স্লোগান

মাশরাফি বিন মুর্তজা মাঠে থাকবেন আর গ্যালারিতে দর্শকরা চিৎকার করবেন না এটা হতেই পারে না। দেশের জনপ্রিয় এই অধিনায়কের ছোঁয়া পেতে মাঠে পর্যন্ত দর্শক ঢুকে যায়। এতিদন গ্যালারিতে ‘ম্যাশ’ কিংবা ‘মাশরাফি’ তালে তালে ধ্বনিত হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে গেছে মাশরাফিকে নিয়ে স্লোগান। বল হাতে মাশরাফিকে দেখলেই শের-ই-বাংলায় স্লোগান উঠল ‘নৌকা’ ‘নৌকা’….। যদিও এই স্লোগান নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি ক্রিকেটে মজে থাকা অধিনায়ক।

মাশরাফি এখন শুধু জাতীয় ওয়ানডে দলের অধিনায়কই নন; তিনি জাতীয় রাজনীতির হবু নেতাও বটে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের হয়ে রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়বেন নিজ এলাকা নড়াইল-২ আসনে। মাশরাফি বিন মুর্তজাকে দেখলে ‘নৌকা-নৌকা’ স্লোগান হওয়াটা অস্বাভাবিকও নয়। তবে বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়কের জন্য অবশ্য এই অভিজ্ঞতা একেবারেই নতুন। রাজনীতিতেও তো মাশরাফি একেবারে নতুন। সিরিজ শেষে শুরু করবেন নির্বাচনী প্রচার।

তিনি যখন বোলিং করতে এসেছেন; তখনই গ্যালারি থেকে ভেসে আসছিল ‘নৌকা’ স্লোগান। যা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক। রাজনীতিতে নেমে খেলায় ফোকাস রাখতে পারবেন কিনা এমন প্রশ্ন যখন সবখানে উঠছিল; তখনই রবিবার বল হাতে বিধ্বংসী হয়ে উঠলেন ম্যাশ। ১০ ওভারে ৩১ রান, এবং ৪১ ডট দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, ক্রিকেটটাই তার কাছে আগে। তাই ম্যাচসেরার পুরস্কার নিয়ে ফিরছেন ড্রেসিংরুমের দিকে, অমনি গ্যালারিতে শুরু হয়ে গেলে ‘নৌকা’ ‘নৌকা’।

এই তো কয়দিন আগেও দলমত নির্বিশেষে সবাই তাকে ভালোবাসত। রাজনীতিতে নাম লেখানোর পর থেকেই এ দৃশ্য বদলে গেছে। তবু এমন পারফর্মেন্স করে ম্যাশ বলছেন, কাউকে জবাব দেওয়ার কিছু নেই তার, ‘না, জবাবের কী আছে? জবাব দেওয়ার কিছু নেই। খারাপ হলেই কথা বলত। ১৮ বছর ধরে খেলছি। এত সহজে মনোযোগ সরার কথা না। আমি আমার নিজেকে তো চিনি। গত কিছুদিন চেষ্টা করেছি বলটা যেখানে ফেলতে চাই সেখানে পড়ছে কিনা। এটাতে মনোযোগ দিয়ে যাচ্ছি। জবাব দেওয়ার কিছু নেই।’

সিলেটের নতুন অধিনায়ক ওয়ার্নার

বাংলাদেশি তারকা নাসির হোসেনকে সরিয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসরে সিলেট সিক্সার্সের অধিনায়ক করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার তারকা ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারকে।

শুক্রবার রাতে সিলেট সিক্সার্স-এর ভেরিফাইড ফেসবুকে পেজে নতুন অধিনায়ক হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়।ক্যাপশনে লিখেছে, নতুন অধিনায়ককে স্বাগত জানান। তিনি হচ্ছেন ডেভিড ওয়ার্নার।

আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে অধিনায়কত্ব করতে দেখা গেছে ওয়ার্নারকে। বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) আরোপিত ১ বছরের নিষেধাজ্ঞায় জাতীয় দলের বাইরে থাকার আগে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের সহ অধিনায়কও ছিলেন ওয়ার্নার। তবে নানাভাবে খেলার মধ্যে আছেন তিনি। বিপিএল খেলতে সমস্যা হবে না বাঁহাতি ওপেনারের।

ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ

আগামী ২০১৯ বিশ্বকাপের আসর বসবে ইংল্যান্ডে। এর আগে বাংলাদেশের খেলার কথা রয়েছে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ। আজ সেটা নিশ্চিত করল আইসিসির ভবিষ্যৎ সফরসূচি (এফটিপি)।

যদিও আগে থেকে বলা হয়েছিল আয়ারল্যান্ড-বাংলাদেশের সঙ্গে তৃতীয় দল হিসেবে থাকবে আফগানিস্তান। কিন্তু আজ এফটিপি সূচিতে বলা হয়েছে তৃতীয় দল হিসেবে থাকছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
আগামী বছরের ৫ মে থেকে শুরু হবে এই সিরিজ, শেষ হবে ১৭ মে।।

গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগেও আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। সেখানে তৃতীয় দল হিসেবে ছিল নিউজিল্যান্ড।

সে সিরিজে দুর্দান্ত পারফর্ম করে সেই ধারাবাহিকতা দেখা গিয়েছিল চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও। এই সিরিজেও একটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে অন্য দুই দলের বিপক্ষে। আর যদি বাংলাদেশ ফাইনালে খেলে তাহলে একদলের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলবে।

যদিও বাছাই পর্বে উন্নীত না হতে পেরে আয়ারল্যান্ড এবারের বিশ্বকাপে নেই। তারা না থাকলেও তাদের মাঠে পেস কন্ডিশনে খেলা এতো সহজ হবে না বাংলাদেশের জন্য। তাছাড়া ক্যারিবীয় বোলারদের বিপক্ষে খেলে বাড়তি প্রস্তুতির সুযোগ তো থাকছেই।

যে কারণে আইপিএল নিলামে নেই মোস্তাফিজ

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দ্বাদশ আসরের পরবর্তী নিলাম হবে ১৮ ডিসেম্বর। সেই নিলামের জন্য ৯ ক্রিকেটারের তালিকা পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে সেই তালিকায় নেই টাইগার পেস সেনসেশন মোস্তাফিজুর রহমান।

এ তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে অভিষিক্ত হওয়া অফস্পিনার নাঈম হাসান। বাকি আট ক্রিকেটার হচ্ছেন-তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, লিটন দাস, ইমরুল কায়েস ও আবু হায়দার রনি।

চমক নাঈম হলেও সবচেয়ে বড় বিস্ময় মোস্তাফিজ। আইপিএল নিলামে নামই দেননি তিনি। চোটে পড়ার প্রবণতা থাকায় বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে তাকে খেলতে দিতে বহুবার আপত্তির কথা জানিয়েছে বিসিবি। এ কারণে নিলামে নামই দেননি কাটার মাস্টার।

২০১৯ বিশ্বকাপে পাখির চোখ বাংলাদেশের। সেখানে ভালো করতে মরিয়া টাইগাররা। এ জন্য পরিকল্পনামাফিক এগোচ্ছে বিসিবি। ইনজুরির হাত থেকে খেলোয়াড়দের রক্ষার পাশাপাশি ভালো প্রস্তুতি সারতে নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে বোর্ড। এর আগে মোস্তাফিজকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না বিসিবি। বিশ্বকাপের আগে চোট নিয়ে সতর্কতার কারণেই মূলত এবারের আইপিএলে থাকছেন না তিনি।

আইপিএলের আসন্ন আসরে অংশ নেবে আট ফ্র্যাঞ্চাইজি। ইতিমধ্যে খেলোয়াড় ধরে রাখা এবং ছেড়ে দেয়ার কাজ সেরে ফেলেছে তারা। বাকি আছে ৭০ জনের জায়গা। এ জায়গায় লড়বেন এক হাজার ৩ ক্রিকেটার। এখন দেখার বিষয়, সেই লড়াইয়ে বাংলাদেশের কে জেতেন?

সেই ২০১১ সাল থেকে আইপিএল খেলে আসছেন সাকিব আল হাসান। এবারও তাকে ধরে রেখেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। গেল তিন মৌসুম বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগে খেলেছেন মোস্তাফিজ। তবে এবার তাকে ছেড়ে দিয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। শেষ পর্যন্ত নিলামেই নাম দিলেন না দ্য ফিজ।

২০১৯ সালের ২৯ মার্চ শুরু হবে মাল্টি মিলিয়ন ডলারের এ টুর্নামেন্ট।

প্রথম নারী ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন আদা হেগেরবার্গ

প্রথম নারী ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন অলিম্পিক লিঁওর নরওয়ের ফরোয়ার্ড আদা হেগেরবার্গ। ফুটবলে নারীদের সমান সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এবারই প্রথম বর্ষসেরার পুরস্কার চালু হয়েছে।

সোমবার প্যারিসে এক জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঘোষণা করা হয় ২০১৮ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ীদের নাম। পুরুষ বিভাগে মেসি-রোনালদোর রাজত্বের অবসান ঘটিয়ে পুরস্কার জিতে নেন ক্রোয়েশিয়ান তারকা লুকা মদ্রিচ।

নারী ফুটবলে গেল মৌসুমটি অসাধারণ কাটিয়েছেন। লিঁওর হয়ে জিতেছেন ফ্রেঞ্চ শিরোপা। এদিকে ফরাসি তরুণ ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপেও প্রথমবারের মতো সেরা উদীয়মান তরুণের পুরস্কার।

অবশেষে ইনিংস ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশ

টেস্ট ক্রিকেটে যাত্রা শুরুর পর থেকে এমন একটি দিনেরই স্বপ্ন দেখে এসেছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ১১২টি টেস্ট খেলা হয়েছে বাংলাদেশের। এর মধ্যে জিতেছেও ১২টিতে। কিন্তু টাইগারদের কপালে একটিও ইনিংস ব্যবধানে জয়ের সৌভাগ্য জোটেনি। বরং, একের পর এক ইনিংস ব্যবধানে হারতেই ছিল অভ্যস্ত।

এবার সেই অধরা স্বাদটিও পেয়ে গেলো টাইগাররা। এক সময় যারা ক্রিকেট বিশ্বে নিজেদের একাধিপত্য বিস্তার করে ফেলেছিল, এক সময় যাদের মনে করা হতো- ক্যারিবীয়দের ক্রিকেট সূর্য বুঝি কখনোই অস্ত যাবে না, সেই দেশটিকেই বাংলাদেশ নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারেরমত ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে রেকর্ড গড়ে ফেললো। ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের গৌরবম জয়টি এলো ইনিংস ও ১৮৪ রানের ব্যবধানে।

সে সঙ্গে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করলো বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে ৬৪ রানে জয়ের পর এই টেস্টে ইনিংস ও ১৮৪ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়। নিশ্চিত এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এক সিরিজ হয়ে থাকবে। অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডকে হারানোর চেয়েও কম গুরুত্বপূর্ণ নয় এই সিরিজ জয়।

এ নিয়ে ক্যারিবীয়দের দ্বিতীয়বার হোয়াইটওয়াশ করলো বাংলাদেশ। এর আগে ২০০৯ সালে ক্যারিবীয়দের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে জিতে এসেছিল সাকিবের নেতৃত্বে। এবার ৯ বছর পর আবারও সেই সাকিবের নেতৃত্বেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশ করলো টাইগাররা। এ নিয়ে মোট তিনবার প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারলো বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংসে ৫০৮ রানের পাহাড় গড়ার পর সেই পাহাড়ে চাপা দিতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল বোলারদের জ্বলে ওঠা। স্পিনিং উইকেট। সেখানে বাংলাদেশের চার স্পিনার এক সঙ্গে জ্বলে উঠবেন সেটাই ছিল প্রত্যাশা। যেমনটা হয়েছিল চট্টগ্রাম টেস্টে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে চারজনের সবাইকে প্রয়োজন হয়নি। একা সাকিব-মিরাজই ধ্বস নামিয়ে দিলেন। ১১১ রানে অলআউট করে দিলেন ক্যারিবীয়দের। মিরাজ একাই নিলেন ৭ উইকেট। বাকি ৩টি সাকিবের।

৩৯৭ রানের বিশাল লিড। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দলকে ফলোঅন করালো বাংলাদেশ। ৩৯৭ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে নিজেদের অবস্থার উন্নতি করতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। শুরু থেকেই সাকিব মিরাজের ঘূর্ণিতে দিশেহারা। এই ইনিংসে একা সাকিব আর মিরাজ সফরকারীদের ওপর হামলে পড়েননি। তাইজুল এবং নাঈমও যোগ দিয়েছেন।

তবুও কাজের কাজটি করে দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এই ইনিংসেও তিনি নিলেন ৫ উইকেট। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা শিমরন হেটমায়ারকে ফিরিয়েছেন। বাংলাদেশের জয়ের মূল ভিতটাই রচনা করে দিয়েছেন তিনি। তার ঘূর্ণি ফাঁদে জড়িয়ে একের পর এক উইকেট হারিয়েছেন ক্যারিবীয়রা। দুই ইনিংস মিলে মিরাজ উইকেট নিলেন ১২ টি। দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হলো ২১৩ রানে।

দুর্দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাল ধরেছিলেন শিমরন হেটমায়ার। ধ্বংসস্তুপে দাঁড়িয়ে একের পর এক ছক্কা হাঁকাচ্ছিলেন তিনি। একের পর এক ৯টি ছক্কা হাঁকিয়ে ৯২ বলে তিনি করেছিলেন ৯৩ রান। এর মধ্যে সাকিবের এক ওভারেই মেরেছেন ৩টি ছক্কা। টেস্ট ম্যাচে এসে ওয়ানডেও নয়, রীতিমত টি-টোয়েন্টি স্টাইলে ব্যাট খেলেছিলেন ক্যারিবীয় এই ব্যাটসম্যান।

এক পাশে যখন নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ছিল, তখন অন্যপ্রান্তে হেটমায়ারের এমন তাণ্ডব খানিকটা চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটার এবং সমর্থকদের কপালে। অবশেষে সেই চিন্তার ভাঁজ থেকে সবাইকে মুক্তি দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাকে ছক্কা মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়লেন হেটমায়ার। তার করা ৯৩ রানের মধ্যে ৯টি ছক্কার সঙ্গে বাউন্ডারি ছিল মাত্র একটি।

স্বাগতিক বাংলাদেশের করা ৫০৮ রানের বিশাল রানের নিচে চাপা পড়েই কি তবে পিলে চমকে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের! না হয়, মাত্র ১১১ রানেই অলআউট হয়ে যায় তারা! ৩৯৭ রানের বিশাল লিড। সঙ্গত কারণেই ফলো অন করানোটা বাংলাদেশের জন্য খুবই সহজ একটি কাজ। সেই কাজটিই করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দলকে ফলোঅনে ফেলে বাংলাদেশ।

ফলোঅনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা। ইনিংসের শুরুতেই সাকিব আল হাসান আর মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণি ফাঁদে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তারা। শুরুতেই হারায় উইকেট।

প্রথম ইনিংসের শুরুতেই, অর্থ্যাৎ প্রথম ওভারেই আউট হয়েছিলেন অধিনায়ক ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট। এবারও একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি। এবারও প্রথম ওভারে আউট হলেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। এবারও তিনি আউট হলেন সাকিব আল হাসানের বলে। দুই ইনিংসের শুরুতেই, অর্থ্যাৎ প্রথম ওভারেই সাকিবের হাতে উইকেট হারিয়ে ক্যারিবীয় ইনিংসের বিপর্যয়ের সূচনা করে দিয়েছেন তাদের অধিনায়কই।

ওভারের পঞ্চম বলে সাকিবের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে মাত্র ১ রান করেই সাজঘরের পথে পা বাড়িয়েছেন ব্র্যাথওয়েট। সাকিবের দেখাদেখি মিরাজও মেতে ওঠেন উইকেট উৎসবে। ইনিংসের চতুর্থ ওভারের শেষ বলে মিরাজ তুলে নেন কাইরন পাওয়েলের উইকেট। মিরাজের বলে সামনে এগিয়ে এসে খেলতে যান তিনি। কিন্তু বল মিস করেন। উইকেটের পেছনে তড়িৎ গতিতে বল ধরে বেলস ফেলে দেন মুশফিকুর রহীম।

ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশ দলে কোনো পেসার নেই। চারজন স্পেশালিস্ট স্পিনার। চট্টগ্রাম টেস্টেও ছিলেন তারা চারজন। যদিও চট্টগ্রামে সাফল্য কম বেশি পেয়েছেন সবাই। কিন্তু ঢাকা টেস্টে সাকিব আর মিরাজ যেন কৃপণ হয়ে উঠেছিলেন। প্রথম ইনিংসে ক্যারিবীয়দের ১০ উইকেটের সবগুলোই ভাগ করে নিয়েছিলেন তারা দু’জন। মিরাজ ৭টি, সাকিব ৩টি।

বাকি দু’জন বোলিংই করার খুব একটা সুযোগ পাননি। নাঈম হাসান করেছেন মাত্র ৩ ওভার। তাইজুল ইসলাম করেছেন আরও কম, মাত্র ১ ওভার। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে দিয়েও ১ ওভার বল করিয়েছিলেন অধিনায়ক সাকিব। কিন্তু উইকেট সবই গেলো মিরাজ-সাকিবের পকেটে।

দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি শুরু করেছিলেন বাংলাদেশ দলের এই দুই বোলার। শুরুতেই উইকেট নিয়ে নেন সাকিব। তার দেখাদেখি মিরাজও নিলেন ১টি। অর্থ্যাৎ ক্যারিবীয়দের প্রথম ১২ উইকেটের সবগুলোই নিয়েছেন মিরাজ (৮টি) এবং সাকিব (৪টি)। অবশেষে এই দু’জনের সাম্রাজ্যে ভাগ বসালেন তাইজুল ইসলাম। ক্যারিবীয়দের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩য় উইকেটটি নেলন তাইজুল ইসলাম। ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি সুনিল আমব্রিসকে।

তাইজুলের ঘূর্ণি এরপরও অব্যাহত ছিল। তার ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে এবার ক্যাচ তুললেন রস্টোন চেজ। তাইজুলের বল ড্রাইভ করতে গিয়েই ব্যাটের কানায় লাগিয়ে বসেন চেজ। এক্সট্রা কভারে ক্যাচ উঠে গেলে সেটা ধরেন মুমিনুল হক। ৩ রান করে ফিরলেন রস্টোন।

সাকিব-মিরাজ-তাইজুলের সঙ্গে উইকেট নেয়ার তালিকায় নাম লেখান নাঈম হাসানও। ৩৩তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ৩ রান করে আউট হন শেন ডওরিচ। নাঈম হাসানের বলে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ২৯ রানে পড়ে ৪ উইকেট।

এরপর জুটি বাধেন সাই হোপ আর শিমরন হেটমায়ার। এ দু’জন মিলে ৪ উইকেটে ৪৬ রান নিয়ে লাঞ্চে যান। লাঞ্চ থেকে ফিরে আসার পর সাই হোপ আর হেটমায়ারের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দু’জনের ব্যাটে গড়ে ওঠে ৫৬ রানের জুটি। পুরো ঢাকা টেস্টে এটাই ছিল ক্যারিবীয়দের সেরা জুটি।

মধ্যাহ্ন বিরতির পর হেটমায়ার আর সাই হোপের এই জুটি যখন ভাঙা খুব প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তখন ব্রেক থ্রুটা এনে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ইনিংসের ২৮তম ওভারের চতুর্থ বলে মিরাজকে খেলতে গিয়ে শর্ট মিডউইকেটে ধরা পড়েন সাই হোপ। ক্যাচ ধরেন সাকিব আল হাসান। ৭৫ বলে ২৫ রান করে বিদায় নেন হোপ। ৫ম উইকেপ পড়ে ৮৫ রানে।

মেহেদী হাসান মিরাজের ঝুলিতে এরপর যোগ হয়েছে আরও একটি উইকেট। জোমেল ওয়ারিকান রিটার্ন ক্যাচ দেন মিরাজের হাতে। ১৭১ রানে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৯ম উইকেট। এরপর দ্রুত শেষ উইকেট পড়ে যাবে, তাই চা পানের বিরতিতেও যাচ্ছিল না কোনো দল। কিন্তু সবাইকে বিলম্বিত করে দেয় শেষ উইকেট জুটি। ৪২ রানের জুটি গড়ে ফেলেন কেমার রোচ আর শেরমন লুইস। অবশেষে লুইসকে এলবিডব্লিউ করে বাংলাদেশকে গৌরবময় ইনিংস ব্যবধানে জয় এনে দেন তাইজুল ইসলাম।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ : ৫০৮/১০, ১৫৪ ওভার (মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১৩৬, সাকিব আল হাসান ৮০, সাদমান ইসলাম ৭৬, লিটন দাস ৫৪, মুমিনুল ২৯, মিঠুন ২৯, তাইজুল ২৬, সৌম্য ১৯, মিরাজ ১৮, মুশফিক ১৪ এবং নাঈম হাসান ১২; ব্র্যাথওয়েট ২/৫৭, কেমার রোচ ২/৬১, ওয়ারিকান ২/৯১, বিশু ২/১০৯)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ১১১/১০, ৩৬.৪ ওভার (হেটমায়ার ৩৯, ডওরিচ ৩৭, হোপ ১০; মেহেদী মিরাজ ৭/৫৮, সাকিব আল হাসান ৩/২৭) ও ২১৩/১০, ৫৯.২ ওভার (হেটমায়ার ৯৩, রোচ ৩৭*, হোপ ২৫, লুইস ২০, বিশু ১২; মিরাজ ৫/৫৯, তাইজুল ৩/৪০, সাকিব ১/৬৫ ও নাঈম হাসান ১/৩৪)।

ফল : বাংলাদেশ এক ইনিংস ও ১৮৪ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : মেহেদী হাসান মিরাজ ।
সিরিজ সেরা : সাকিব আল হাসান।

নড়াইলে মনোনয়ন পেলেন মাশরাফি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা নয়, নড়াইল থেকেই মনোনয়ন পেলেন জাতীয় ক্রিকেট তারকা মাশরাফি বিন মুর্তজা। চূড়ান্ত প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেয়া শুরু করেছে আওয়ামী লীগ।

আজ রবিবার সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এ চিঠি তুলে দেয়া হচ্ছে। নড়াইল-২ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মাশরাফি।

গত ৯ নভেম্বর থেকে মনোনয়ন পত্র বিক্রি শুরু করে আওয়ামী লীগ। মাশরাফি নিজে হাজির হয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পত্র ক্রয় করে হইচই ফেলে দেন।

অল্প পুঁজিতেও দারুণ জয় পেলো বাংলাদেশ

লক্ষ্য মাত্র ২০৪ রান। চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে এই রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। স্বাগতিক স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দলীয় মাত্র ১১ রানেই চার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বসে। সে অবস্থা থেকে আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি ক্যারিবীয় দলটি। ৬৪ রানের ব্যবধানে হেরেই মাঠ ছড়াতে হয়েছে অতিথি দলটিকে।

শনিবার চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের তৃতীয় দিনে ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৩৯ রানে দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাইজুল ইসলাম ও সাকিব আল হাসানের বোলিং তোপেই উড়ে যায় ক্যারিবীয় দলটির ব্যাটিং লাইন।

তাইজুল ১১.২ ওভারে মাত্র ৩৩ রান খরচায় ছয় উইকেট নেন। আর সাকিব ও মিরাজ পান দুটি করে উইকেট। অবশ্য এই ম্যাচে সাকিব দারুণ একটি কীর্তি গড়েছেন। টেস্টে ক্রিকেটে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ২০০ উইকেট ও তিন হাজার রান নিয়েছেন।

এদিকে ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৩২৪ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করে ২৪৬ রান। প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকরা ৭৮ রানে লিড পেয়েছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে সাকিবরা মাত্র ১২৫ রান করলে প্রতিপক্ষের সামনে দুই শতাধিক রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেওয়া সম্ভব হয়।

অবশ্য দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরাও আত্মহত্যার মিছিলে অংশ নিয়েছিল। ইমরুল কায়েস (২), সৌম্য সরকার (১১), মুমিনুল হক (১২), মোহাম্মদ মিঠুন (১৭) ও সাকিব আল হাসান (১) আগেরদিনই সাজঘরে ফিরেন। মাহমুদউল্লাহ ছাড়া সবাই আসা-যাওয়ায় ব্যস্ত ছিলেন। এই ইনিংসে তিনি সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন।

এর আগে অভিষিক্ত স্পিনার নাঈম হাসানের বোলিং তোপে ক্যারিবীয় দলটির প্রথম ইনিংস ২৪৬ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল। তিনি একাই পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়েন। এ ছাড়া সাকিব আল হাসান তিনটি এবং তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ একটি করে উইকেট পান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের হয়ে শিমরন হেটমায়ার (৬৩) ও শেন ডাওরিচ (৬৩) ছাড়া কেউই দৃঢ়তা দেখানে পারেননি। অন্যরা একরকম আসা-যাওয়ায় ব্যস্ত ছিলেন।

আর মুমিনুল হকের চমৎকার সেঞ্চুরির পোপর ভর করে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৩২৪ রান করে। যদিও শুরুটা ভালো হয়নি। ম্যাচের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে সাজঘরে ফিরে যান ওপেনার সৌম্য সরকার (০)। বেশ কিছুদিন পর ফিরে দলের শুরুটা ভালো এনে দিতে পারেননি এই বাঁহাতি ওপেনার। আরেক ওপেনার ইমরুল ফেরেন ৪৪ রান করে। বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি মোহাম্মদ মিঠুনও (২০)।

পরে মুমিনুল ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি করে দলকে বড় সংগ্রহের পথ দেখিয়ে ছিলেন। খেলেন ১২০ রানের চমৎকার একটি ইনিংস। এই সেঞ্চুরি করে তিনি ছুঁয়ে ফেললেন তামিম ইকবালকে। দুজনেরই এখন আটটি করে টেস্ট শতক।

তবে একটি জায়গায় এগিয়ে মুমিনুল। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ছয়টি সেঞ্চুরি করেন তিনি। যেখানে তামিমের একটি।

তবে মুমিনুল সাজঘরে ফেরার পরই বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের আশা শেষ হয়ে যায়। এরপর পরই অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম (৪) দ্রুত ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে যায় দল।তাঁর পথ ধরে দ্রুত ফিরে যান মাহমুদউল্লাহও (৩)।

তখনো ভরসা ছিল সাকিব পিচে আছেন। কিন্তু তিনিও ৬৮বলে ৩৪ রানের একটি ইনিংস খেলে আউট হলে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে দল।

তবে নবম উইকেটে তাইজুল ইসলামও অভিষিক্ত নাঈম হাসান দারুণ দুটি ইনিংস খেলে বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই ইনিংসেও ভালো কিছু করা সম্ভব। তাইজুল ৩৯ রানে অপরাজিত থাকলেও নাঈম ২৬ রান করে আউট হন।

লঙ্কান কিংবদন্তি জয়াসুরিয়ার বিরুদ্ধে সুপারি চোরাচালানের অভিযোগ !

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন বিপদে পড়লেন লঙ্কান কিংবদন্তি সনাথ জয়াসুরিয়া। ‘মাতার হারিক্যান’ খ্যাত বিশ্বকাপজয়ী এই সাবেক ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে এবার সুপারি চোরাচালানের অভিযোগ উঠেছে! অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্যি যে, শ্রীলঙ্কা থেকে বিপুল পরিমান সুপারি ভারতে পাচারে নাকি যুক্ত ছিলেন জয়াসুরিয়া!

লঙ্কান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের রাজস্ব তদন্ত বিভাগের উপপরিচালক দিলীপ সিভার দেশটির গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিপুল পরিমাণ সুপারি শ্রীলঙ্কা থেকে ভারতে পাচার করা হয়েছে। এই সুপারি ইন্দোনেশিয়া থেকে শ্রীলঙ্কায় আনা হয়েছিল। এই বেআইনি কাজটি করার জন্য শ্রীলঙ্কায় কিছু ভুয়া প্রতিষ্ঠানও সৃষ্টি করেছিলেন জয়াসুরিয়া। এসব করতে তিনি ব্যক্তিগত ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন লঙ্কান মহাতারকা।

ইন্দোনেশিয়া থেকে সুপারি আমদানি করা হলে বিপুল অঙ্কের (১০৮ শতাংশ) আমদানি শুল্ক দিতে হয়। এর থেকে বাঁচার জন্য শ্রীলঙ্কা থেকে সুপারি আনার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সার্কের বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা থাকায় শ্রীলঙ্কা থেকে সুপারি আমদানি করা বেশি লাভজনক। ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি খরচের চার ভাগের এক ভাগ লাগে। তাই ইন্দোনেশিয়ার সুপারি শ্রীলঙ্কার মাধ্যমে ভারতে এনে দেশীয় পণ্যের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলা হতো।

শুধু জয়াসুরিয়াই নয়, এই তালিকায় নাকি একাধিক শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারের নাম আছে। যদিও সেসব নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটাররা তাদের তারকাখ্যাতি ব্যবহার করে এসব ভুয়া প্রতিষ্ঠানের জন্য লাইসেন্স জোগাড় করে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে যাচ্ছে ভারতের রাজস্ব তদন্ত বিভাগ। তবে অভিযোগের ব্যাপারে জয়াসুরিয়ার কোনো বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।

লিটন দাসকে দলে ভেড়াতে আগ্রহী পাঞ্জাব

আসছে ডিসেম্বরেই আইপিএল’র নিলাম। তার আগে প্রত্যেক ফ্র্যাঞ্চাইজি নিজেদের দল গোছাতে ব্যস্ত। চলছে ক্রিকেটারদের নিয়ে আলোচনা। ইতিমধ্যেই আইপিএল’র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিটি দল তাদের ধরে রাখা (রিটেনড) এবং ছেড়ে দেওয়া (রিলিজড) ক্রিকেটারদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে। এর মধ্যেই খবর, বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান লিটন দাসকে নিতে আগ্রহী একাধিক আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি।

জানা গেছে, লিটনকে নেওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। এশিয়া কাপে লিটন দাসের আউট নিয়ে উত্তাল হয়েছিল ক্রিকেট মহল। তবে লিটন যে উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে বেশ পরিণত তা নজর এড়ায়নি আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবে এই মুহূর্তে কোনও নিয়মিত উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নেই। গত আইপিএলে এই কারণেই পাঞ্জাব ভুগেছে। সেই সঙ্গে লিটনের ব্যাটের হাতও ভাল। লিটন নিজের সামর্থ্যে দলকে টানার ক্ষমতা রাখেন। তাই লোকেশ রাহুলের সঙ্গে লিটনকে ওপেনিংয়ে দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

এমন একাধিক কারণের জন্যই পাঞ্জাবের কাছে লিটন দাস অটোমেটিক চয়েস। গত কয়েকটি সিরিজে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে চলেছেন লিটন। তাই লিটনকে আইপিএলে পেলে উপকৃতই হবে কিংস ব্রিগেড, এমনটাই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। তবে সূত্রের খবর, পাঞ্জাব ছাড়াও আরও তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিটনকে পেতে আগ্রহী। এখন দেখার লিটন কোন ফ্র্যাঞ্চাইজির জার্সি গায়ে চাপান।

এশিয়ান ক্রি‌কেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি হলেন পাপন

 এশিয়ান ক্রি‌কেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পুননির্বাচিত সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। এর ফলে আগামী ২ বছরের জন্য চতুর্থ বাংলাদেশি হিসেবে এসিসি’র সভাপতিত্ব করবেন তিনি। জানা গেছে, আজ শনিবার লাহোরে এসিসি’র বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন বিদায়ী পাকিস্তান সভাপতি এহসান মানি। এর আগে ১৯৮৯-৯১ মেয়াদে প্রথম বাংলাদেশি সভাপতি ছিলেন আনিসুল ইসলাম মামুদ। ২০০২-০৪ পর্যন্ত দ্বিতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আলী আজগর লবি। আর ২০১০-১২ পর্যন্ত তৃতীয় মেয়াদে সভাপতি ছিলেন আহ ম মোস্তফা কামাল।

১৫ মিনিটেই ২৯ লাখ টাকার মদ গিলেছেন দুজনে !

বড় লোকের (টাকাওয়ালারা) কতরকম বিলাসিতাই না দেখান, কতভাবেই না টাকা উড়ান। তাই বলে মাত্র ১৫ মিনিটেই ২৯ লাখ টাকা উড়িয়ে দিতে হবে মদ গিলে! অবিশ্বাস্য এই কাণ্ডটিই করেছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও তার বান্ধবী জর্জিনা রদ্রিগেজ মিলে! দুজনে মাত্র ১৫ মিনিটেই ২৯ লাখ টাকার মদ সাবাড় করেছেন!

মদের গ্লাসে টাকা গেলার এই কাণ্ডটি তারা করেছেন গত সোমবার। সেদিন কোনো ম্যাচ না থাকায় জুভেন্টাসের পর্তুগিজ সুপারস্টার রোনালদো বান্ধবী জর্জিনা ও ছেলে ক্রিস্তিয়ানো জুনিয়রকে নিয়ে উড়ে যান লন্ডনে। উদ্দেশ্য ছিল লন্ডনে টেনিস টুর্নামেন্ট এটিপি ফাইনালসের ম্যাচ দেখা। তা ভিাইপি গ্যালারিতে বসে ছেলে-বান্ধবী নিয়ে টেনিস ম্যাচ দেখেছেনও রোনালদো।

সার্বিয়ান তারকা নোভাক জোকোভিচ ও মার্কিন তারকা ন ইসনারে মধ্যকার ম্যাচটি দেখার সময় অন্য একটা হাস্যকর কাণ্ডও ঘটিয়ে ফেলেন তিনি। তারা যেখানে বসেছিলেন, ঠিক সেখানেই জোকোভিচ বা ইসনারে একটা শট উড়ে যায়। রোনালদো ডান দিকে ঝাপিয়ে পড়ার মতো করে বলটি ক্যাচ নিতে যান। পড়িমরি করে চেষ্টা করলেও রোনালদো ক্যাচ নিতে পারেননি।

বল বরং সিটে লেগে তার বান্ধবী জর্জিনার মাথায় আঘাত করে। ঘটনার পর তারাই হেসেই খুন। ক্যাচ নিতে বাবাকে হতে দেখে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন ছেলে ক্রিস্তিয়ানো জুনিয়র। সিটের নিচ দিয়ে গড়ানো বল কুড়িয়ে সে বাবা রোনালদোর হাতে দেয়। পর্তুগিজ তারকা টেনেসের বলবয় সেজে সেই বল থ্রু করেন কোর্টে। ঘটনাটি দেখে গ্যালারির দর্শকেরা খুব মজা পেয়েছেন, সেটা হাসিতেই স্পষ্ট। সবাই হুহু করে হেসে উঠেন।

এই টেনিস দর্শন শেষেই কিনা ছেলে ও বান্ধবীকে নিয়ে লন্ডনের এক স্কটিশ হোটেলে ঢুকেন। সেখানে ক্রিস্তিয়ানো জুনিয়রকে দর্শক বানিয়ে রোনালদো ও তার বান্ধবী মিলে দুই বোতল মদ গিলেন। যে দুই বোতল মদের দাম ৩১ হাজার ইউরো। বাংলাদেশী মুদ্রায় অঙ্কটা ২৯ লাখ ৪ হাজার ৫৪০ টাকা মাত্র! রোনালদোর কাছে এটা সামান্য টাকাই!

মদ্যপানের সময় তাদের সঙ্গে আরও এক জোড়া কপতকপতি ছিলেন। তবে তারা তাদের আপনজন বা সঙ্গে গিয়েছিলেন কিনা, সেটা জানা যায়নি

সাকিবের পর অনন্য কীর্তিতে তাইজুল

আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে টানা তিন ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেয়ার কীর্তি ছিল বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। এবার সাকিবের পর অনন্য কীর্তি গড়লেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

২০০৮ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নেন সাকিব। এরপর একই বছরের ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট তোলেন সাকিব। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম কোনো বোলার হিসেবে টানা তিন ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেয়ার কীর্তিটা গড়েছিলেন দেশসেরা এই অলরাউন্ডার।

এরপর ৯ বছরে সাকিবের এমন কীর্তিতে ভাগ বসাতে পারেননি দেশের কেউই। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চলতি সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট তোলেন তাইজুল। মিরপুরে চলছে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। এই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট তুলে নিলেন তাইজুল। তাতেই সাকিবের পর টানা তিন ইনিংসে ৫ উইকেট তোলার কীর্তি গড়লেন তাইজুল। তবে সাকিবের কীর্তিটা আলাদা দুটি দলের বিপক্ষে হলেও, তাইজুল গড়েছেন একই দলের বিপক্ষে (জিম্বাবুয়ে)।

বাংলাদেশের হয়ে এক টেস্টে ১০ উইকেট নেয়ার কীর্তি আছে চারজনের। প্রথমবার এক টেস্টে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন এনামুল হক জুনিয়র। সেই ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক টেস্টে ১২ উইকেট নিয়েছিলেন এই স্পিনার। এরপর টেস্ট ক্রিকেটে একই কীর্তি গড়েছেন সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ। এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে ১১ উইকেট নেন তাইজুল (৬,৫)।

তবে এক টেস্টে ১০ উইকেট চার জন নিলেও সাকিব আল হাসানের সেই কীর্তি আছে দুই বার। প্রথমবার ২০১৪ সালে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পেয়েছিলেন ১০ উইকেট। আর গত বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১০ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে এনে দিয়েছিলেন স্মরণীয় এক জয়।

এবার তাইজুলের সামনে সুযোগ থাকছে সাকিবের সঙ্গে আরেকটি কীর্তিতে ভাগ বসানোর। চলতি টেস্টের শেষ ইনিংসে ৫ উইকেট পেলেই বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে দুই টেস্টে ১০ উইকেট করে নেয়ার কীর্তি গড়বেন তাইজুল।
এ নিয়ে ২১তম টেস্টে ৮৫ উইকেট হলো তাইজুলের।

বিতর্কের মধ্যেই খুশির খবর: বাবা হচ্ছেন বিরাট কোহলি!

 বিতর্কের মধ্যেই খুশির খবর কোহলি পরিবারে। শোনা যাচ্ছে, আনুষ্কা শর্মা নাকি সন্তানসম্ভবা! আনুষ্কার ঘনিষ্ঠরা বলাবলি করছেন, নতুন বছরেই মা হতে চলেছেন বিরুষ্কা।

বলিউড পাড়ায় কান পাতলে এমনও শোনা যাচ্ছে রেড চিলিজ-এর জিরো রিলিজ করার পর আর কোনও সিনেমাতে সই করেননি আনুষ্কা। তিনি চিত্রনাট্য শুনছেন, তবে তাতে অভিনয় করার জন্য নয়। তিনি নাকি প্রযোজনার জন্যই চিত্রনাট্য লেখিয়েদের থেকে গল্প শুনছেন। যদিও মা হওয়ার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও কিছু নিজ মুখে স্বীকার করেননি আনুষ্কা। কোনও কথা বলেননি ক্রিকেট তারকাও। তাদের পরিবারের নতুন সদস্য নিয়ে একেবারে মুখে কুলুপ এঁটেছেন বিরাট-আনুষ্কা দু জনেই।

আনুষ্কার গর্ভবতী হওয়া নিয়ে আগেও অনেক জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে আদতে তেমন কিছু ঘটেনি। উল্টো দেখা গিয়েছে নিজের একের পর এক ছবি নিয়ে চুটিয়ে প্রচার করেছেন আনুষ্কা। সাম্প্রতিক সময়ে ‘সুই ধাগা’ ছবির প্রচারেই সব থেকে ব্যস্ত থাকতে দেখা গিয়েছে তাকে। যদিও সেই ছবি দর্শক মহলে তেমন ভাবে সাড়া ফেলতে পারেনি। এবার তার পরবর্তী ছবি আসছে ডিসেম্বরে। রেড চিলিজের প্রযোজনায় শাহরুখ, ক্যাটরিনার সঙ্গে ‘জিরো’-তে দেখা যাবে তাকে। ২১ ডিসেম্বর ছবি মুক্তি। আনন্দ এল রাই পরিচালিত ছবির প্রচারে ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে শাহরুখ অ্যান্ড কোং। তবে এই ছবি মুক্তির পর নতুন বছরে আনুষ্কার এখনও কোনও প্রোজেক্টে থাকার খবর নেই, এটা ভেবেই সন্দেহ দানা বেঁধেছে বি-টাউনে।

এই তারকা দম্পতি এখন এক সঙ্গেই সময় কাটাচ্ছেন। উইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট ও একদিনের সিরিজ খেলার পর টি-টোয়েন্টি-তে বিশ্রাম নিচ্ছেন কিং কোহলি। খেলছেন না একটি ম্যাচও। ছুটি পেয়ে জন্মদিনে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে এসেছেন দেরাদুনেও। সেখানে আনুষ্কার পারিবারিক গুরু মহারাজ অনন্ত বাবার সঙ্গেও দেখা করে এসেছেন তিনি।

অতীতে কোনও শুভ কাজ করার আগে একাধিক বার এই অনন্ত বাবার সঙ্গে দেখা করেই কাজে হাত দিয়েছেন আনুষ্কা এবং বিরাট। বিয়ের সময়ও তাই করেছেন তাঁরা। তাহলে, এবারও কি কোনও শুভ খবর আসছে, আর সে জন্যই কি পারিবিরিক গুরুর সঙ্গে দেখা করে এলেন তাঁরা? এ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

খলিল আহমেদ কষিয়ে চড় দিলেন রোহিত শর্মার গালে!

 লখনউয়ে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে খুব সহজেই জিতেছে ভারত। ক্যারিবিয়ানরা কোনও চ্যালেঞ্জই ছুড়ে দিতে পারেনি। এই ম্যাচ চলাকালীন একাধিক ঘটনা ঘটেছে, যা চোখ এড়িয়ে গিয়েছে ক্রিকেটপাগলদের।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই এড়িয়ে যাওয়া দৃশ্যগুলোই উঠে এসেছে।

একটি দৃশ্য হল, যশপ্রীত বুমরাহ ক্যাচ ধরার সময়ে কাইরন পোলার্ড ভারতীয় পেসারের ফোকাস নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও একটি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। তা হল, ভারতীয় দলের তরুণ সদস্য খলিল আহমেদ কষিয়ে চড় দেন রোহিত শর্মার গালে। খলিলের চড়ের আঘাতে রোহিত হতভম্ব হয়ে যান।

খলিল অবশ্য ইচ্ছাকৃতভাবে তার অধিনায়ককে মারেননি। উইকেট শিকারের পরে উল্লসিত হয়ে সতীর্থদের সঙ্গে সাফল্য উদযাপন করছিলেন। তখনই লেগে যায় রোহিতের গালে। দ্রুত নিজের ভুল বুঝতে পারেন খলিল। সঙ্গে সঙ্গে রোহিতের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি।

ABOUT US

এটি একটি অনলাইন খবরের তথ্য ভান্ডার। যা কুষ্টিয়াকে সমৃদ্ধ করতে তথ্য নির্দেশ করে।

This is a online news portal.
Which contain directory of enriched kushtia.