খেলার খবর

খেলার খবর আমার কুষ্টিয়া হতে প্রকাশিত

লেবাননকে ৮-০ গোলে হারাল বাংলাদেশের মেয়েরা

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের বাছাই পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচেও বিশাল ব্যবধানে লেবাননকে হারাল বাংলাদেশের মেয়েরা। ৮-০ গোলে হারতে হয় লেবাননকে। আজ বুধবার বেলা ১১টায় কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হয়। খেলা শুরুর ১৪ মিনিট পর মনিকার বাড়ানো বল গায়ের সঙ্গে লেগে থাকা ডিফেন্ডারের পায়ের ফাঁক দিয়ে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন সাজেদা।

এর ফলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ২০ মিনিটের মাথায় ফের জটলার মধ্যে থেকে সাজেদার পাসে তহুরার শট গোলকিপারের গায়ে লাগার পর ডিফেন্ডার মারিয়া ইসলামের পায়ে লেগে প্রতিপক্ষের জালে জড়ায়। এতে গোল ব্যবধান দ্বিগুন হয়। এর ঠিক তিন মিনিট পর লেবাননের জালে ফের বল জড়ান তহুরা।  আখিঁ খাতুনের লম্বা করে বাড়ানো বল তহুরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কোনাকুনি শটে গোল করেন। এতে স্কোরলাইন দাড়ায় ৩-০।

২৬ মিনিটের মাথায় আবারও আখিঁর বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান দিক দিয়ে প্রতিপক্ষের বক্সের ভিতরে ঢুকে কোনাকুনি শটে গোল করেন আনাই মোগিনী। ১৪ মিনিট পর আবারও আক্রমণে আসেন আখিঁ। তার বাড়ানো বল থেকে আসে পঞ্চম গোল।

পাঁচ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধেও আধিপত্য ধরে রাখে বাংলাদেশের মেয়েরা। ৪৭ মিনিটে ষষ্ঠ গোল তুলে নেয় শামসুন্নাহার জুনিয়র। এবার তিনি প্রতিপক্ষের গোলকিপারের পাশ দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন। ৬৩ মিনিটে বাঁ দিক থেকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা সুলতানার নিচু ক্রসে সাইড ভলিতে আবারও জাল কাঁপান শামসুন্নাহার।

৭০ মিনিটে ইলা মনির মাইনাসে রোজিনা আক্তার ফের প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ান। এতে স্কোর দাড়ায় ৮-০। এর পর আর কোনো গোল করতে না পারলেও বিশাল ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। অপরদিকে লেবানন লজ্জাজনক হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

সুপার ফোর নিশ্চিত হলেও কেন স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ

এশিয়া কাপের গ্রুপপর্বের সূচিতে দুই দিনে টানা দুই ম্যাচ রাখা হয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের। মঙ্গলবার হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার পরদিনই হাইভোল্টেজ ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে চির প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ভারতীয় ক্রিকেট দলের এই সূচিকে ঘিরে হয়েছে তুমুল সমালোচনা।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রবল আপত্তির মুখেও সূচিতে কোনরকম পরিবর্তন আনেনি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল। যার ফলে বাধ্য হয়েই দুই দিনে দুই ম্যাচ খেলতে হবে রোহিত শর্মার দলকে।

ভারতের এ সূচির ঝামেলা নিয়ে নানান আলোচনা-সমালোচনা হলেও সকলের নজর এড়িয়ে গেছে একইরূপ আরেকটি সমস্যা। যা কিনা ভারতের চেয়েও গুরুতর। এশিয়া কাপের সূচি অনুযায়ী ২০ তারিখ গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ‘বি’ গ্রুপের দুই দল বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান।

‘বি’ গ্রুপের তৃতীয় দল শ্রীলঙ্কা নিজেদের দুই ম্যাচ হেরে যাওয়ায় এরই মধ্যে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের সুপার ফোর। কিন্তু সুপার ফোর নিশ্চিত হলেও স্বস্তিতে থাকার সুযোগ নেই বাংলাদেশ কিংবা আফগানিস্তানের।

কেননা সূচি মোতাবেক ২০ তারিখ গ্রুপ পর্বে শেষ ম্যাচ খেলার পরদিনই মাঠে নেমে যেতে হবে সুপার ফোর রাউন্ডের প্রথম ম্যাচ খেলতে। শুধু তাই নয় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলে আবুধাবি থেকে উড়াল দিতে হবে দুবাইতে।

গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান নিজেদের শেষ ম্যাচটি খেলবে আবুধাবির শেখ আবু জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। পরের দিন মাঠে গড়াবে সুপার ফোরের দু’টি ম্যাচ। আবুধাবিতে খেলবে গ্রুপ ‘এ’ রানারআপ ও গ্রুপ ‘বি’ চ্যাম্পিয়ন এবং দুবাইতে খেলবে গ্রুপ ‘এ’ চ্যাম্পিয়ন ও গ্রুপ ‘বি’ রানার আপ।

অর্থ্যাৎ ২০ তারিখ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে যেই হারবে গ্রুপ রানারআপ হয়ে তাদের পাড়ি দিতে হবে ১৪০ কিলোমিটার। আগেরদিন রাতে ম্যাচ শেষ করে এই ১৪০ কিমি ভ্রমণ করে পরদিন দুপুরে আবার নেমে পড়তে হবে মাঠে। আরব আমিরাতের উত্তপ্ত গরমে যা কিনা খুবই কঠিন কাজ।

আর এই কঠিন কাজ থেকে রেহাই পেতে গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে স্বস্তিতে থাকার সুযোগ নেই বাংলাদেশ দলের। তামিম ইকবালের দল থেকে ছিটকে পড়া, মুশফিকুর রহিমের পাজরের ইনজুরি কিংবা সাকিব আল হাসানের বাঁ হাতের কণিষ্ঠার ইনজুরির কারণে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে তাদের বিশ্রাম দেয়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশ দলের। কিন্তু সুপার ফোরের কঠিন সূচির সামনে দাঁড়িয়ে ‘মাস্ট উইন’ পরিস্থিতিতে সাকিব-মুশফিকের মতো খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেয়ার ব্যাপারে চিন্তা বেশ কঠিনই হবে টিম ম্যানেজম্যান্টের জন্য

এশিয়া কাপ: তামিমের এই ত্যাগ চোখে জল এনে দেয়

চারদিকে খবর ছড়িয়ে পড়েছে, শুধু এ ম্যাচ নয়, তামিম ইকবালের এশিয়া কাপই শেষ! বাঁ-হাতি ওপেনারকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া-আসার মধ্যে দুবাই থেকে মুঠোফোনে দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ অবশ্য নিশ্চিত করতে পারেননি তামিমের টুর্নামেন্ট শেষ কি না। তবে তিনিও জানালেন, এই ম্যাচে আর খেলা হচ্ছে না বাঁ-হাতি ওপেনারের।

হাসপাতাল থেকে ফিরে বিষণ্ন মুখে বসে ছিলেন ড্রেসিংরুমে। হয়তো ভাবছিলেন, ‘ইশ্‌! আবার যদি ব্যাট হাতে নামতে পারতাম…।’ কল্পচোখেও যদি দেখেন, তামিমের ভাবনায় বিদ্যুচ্চমকের মতো তখন কী খেলে গেছে, সেটি পড়ে ফেলা কঠিন কিছু নয়। মুশফিকুর রহিম উইকেট থিতু হয়ে গেছেন। লেজের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে লড়াই করে সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন। মুশফিকের শুধু একজন সঙ্গী দরকার, যাঁর শুধু অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকলেই চলবে। বাকিটা মুশফিকই করে নেবেন।

সাহস, ভীষণ সাহস শুধু দেখাননি, এ তো রীতিমতো পাগলামো! ৪৭তম ওভারের এক বল বাকি থাকতে সুরঙ্গা লাকমলের বলে মোস্তাফিজুর রহমান ফিরে যেতে বাংলাদেশের স্কোর হয়ে গেল ৯ উইকেটে ২২৯। বাংলাদেশের স্কোর ওখানেই থেমে যেতে পারত। থামতে দেননি তামিম। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে সবাইকে অবাক করে যে দৃশ্যের অবতারণা হলো, সেটি শুধু বাংলাদেশ ক্রিকেট কেন, ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সুন্দর দৃশ্য। সাহসের অনন্য উদাহরণ হয়ে ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে তামিম নামলেন। বাঁ-হাতি ওপেনারের এই সাহস, এই ত্যাগ চোখে জল এনে দিতে বাধ্য! দেশের জন্য, জাতীয় দলের জন্য তীব্র ব্যথাও তাঁর কাছে তুচ্ছ।

বাঁ-হাতটা ঝুলিয়ে রেখেছেন, যে হাত তাঁর মূল শক্তি! আরেকবার যদি বল লাগে আঘাত পাওয়া জায়গাটায়, এই টুর্নামেন্ট কেন পুরো ক্যারিয়ারটাই তাঁর পড়ে যাবে হুমকিতে। এবার বাঁ-হাতি ওপেনারের ভাগ্যটাই খারাপ। ভিসা বিড়ম্বনায় আরব আমিরাতে যেতে কত ঝক্কি পোহাতে হয়েছে। গেছেনও ডান হাতের আঙুলের চোট নিয়ে। কপাল তাঁর এতই খারাপ, আজ আবারও সেই চোট। এবার বাঁ-হাতের কবজিতে। সব জেনে-বুঝেই শেষে আবার তামিম নামলেন। লাকমল করলেন কী, যে শর্ট বলে বাংলাদেশ ওপেনারকে মাঠছাড়া করতে বাধ্য করেছিলেন, তামিমকে সেই হাত বরাবর আবারও শর্ট বল।

বাঁ-হাতটা কোনোভাবে সামলে, এক হাতেই বলটা খেললেন তামিম। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের উদ্দেশ্যে তিনি নামেননি। বাংলাদেশের হাতে ১৯ বল আছে। মুশফিককে যদি এ সময়টা সঙ্গ দেওয়া যায়, স্কোরটা অনায়াসে চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায় প্রতিপক্ষের কাছে। এ পরিকল্পনা মেনেই মুশফিক চালিয়ে গেছেন, তামিম চোট পাওয়া হাত নিয়ে অন্য প্রান্তে সঙ্গ দিয়ে গেছেন। আর তাতেই দুজনের শেষ উইকেটে ১৬ বলে ৩২ রানের অতিমূল্যবান জুটি হয়েছে। বাংলাদেশ পেয়েছে ২৬১ রানের লড়াইয়ের স্কোর।

স্কোর, সংখ্যা, ম্যাচ, জয়, পরাজয়—সব তুচ্ছ হয়ে যায় তামিমের এই সাহসিকতা আর উদার মানসিকতার কাছে। মাশরাফি বিন মুর্তজা প্রায় বলেন, এটা শুধুই খেলা, যুদ্ধ তো আর নয়! অধিনায়কের কথায় যুক্তি আছে অবশ্যই। তবে এটিও লড়াই। এ যে দেশের সম্মান-গৌরব বয়ে আনার লড়াই। আর এ লড়াইয়ে কখনো কখনো নিজেকে যে ঝুঁকির মধ্যে অনায়াসে ফেলে দেওয়া যায়, তামিম সেটিই আজ প্রমাণ করলেন।

দলের প্রয়োজনে তামিম বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তবে দিন শেষে চিকিৎসাবিদ্যাকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তামিমের চোট এতটাই গুরুতর, এশিয়া কাপ আসলেই শেষ কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। থাকুক। তামিম যদি আর না-ও খেলতে পারেন, আজ যে সুন্দরতম দৃশ্য উপহার দিয়েছেন, সেটি এই এশিয়া কাপ কেন, হৃদয়ে গেঁথে থাকবে বহুদিন। সময়ের তীব্র স্রোতও অনিন্দ্যসুন্দর এই দৃশ্য মুছতে পারবে না নিশ্চিত।

শ্রীলংকাকে ১৩৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে টাইগারদের উড়ন্ত সূচনা

এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলংকাকে ১৩৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশে। প্রথমে ব্যাট করতে  নেমে মুশফিকুর রহিমের দুর্দান্ত ও ক্যারিয়ারসেরা ১৪৪ রানের সুবাদে ২৬২ রানের বড় লক্ষ্য দেয় টাইগাররা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে মাশরাফি বাহিনীর বোলিং তান্ডবে মাত্র ১২৪ রানে গুটিয়ে যায় লংকানদের ইনিংস। প্রথম ম্যাচের এই অনবদ্য জয়ে বাংলাদেশের সুপার ফোরে খেলা নিশ্চিত হল। ২০ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানদের মুখোমুখি হবে টাইগাররা। এর আগে, লাসিথ মালিঙ্গার বোলিং ঝড়েও প্রথমে ব্যাট করে শ্রীলংকাকে ২৬২ রানের বিশাল লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তবে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। পরে মুশফিক ও মিথুনের ব্যাটিং নৈপুণ্যে ২৬১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর পায় টাইগাররা। নান্দনিক ব্যাটিংশৈলীতে ১৪৪ রানের  সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিকুর রহিম। ১১ চার ও চারটি বিশাল ছক্কায় করেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারে পঞ্চম শতক। তার সেঞ্চুরি ও মিথুন আলির ৬৩ রানের ইনিংস ছাড়া সুবিধা করতে পারেননি আর কেউ। তবে শেষদিকে চোট সত্ত্বেও মাঠে ব্যাটিংয়ে নেমে ব্যতিক্রমী এক ইতিহাস গড়েছেন তামিম ইকবাল। এক হাতে তার ব্যাট করার দৃষ্টান্ত স্মরণীয় হয়ে থাকবে এদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে। ২৩ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়েছেন মালিঙ্গা। একপ্রান্ত থেকে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত একাকী লড়াই করে যান মিস্টার ডিপেন্ডেবল মুশফিক।

২৬২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় শ্রীলংকা। দলীয় ২২ রানে কুশল মেন্ডিসকে শূণ্য হাতে প্যাভিলিয়নে ফেরান  মোস্তাফিজ। এরপর থেকে একটু পর পরই উইকেট পড়েছে লংকানদের। টাইগারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে এক পর্যায়ে মাত্র ৬২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে তারা। যা খানিকটা তান্ডব তা একাই চালানোর  চেষ্টা করেন থারাঙ্গা। তার বিদায়ের পর কেউই  সেভাবে সুবিধা করতে পারেননি। বাংলাদেশের ধারাবাহিক বোলিং আগ্রাসনের মুখে শেষ পর্যন্ত ১২৪ রানেই  থেমে যায় ম্যাথুসবাহিনীর ইনিংস। ১৩৭ রানের বিশাল জয় পায় বাংলাদেশ। ম্যাচসেরা হয়েছেন ১৪৪ রান করা মুশফিকুর রহিম।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড ঃ  বাংলাদেশ: ২৬১ (৪৯.৩ ওভার)। মুশফিক ১৪৪, মিথুন ৬৩, মিথুন ১৫, মাশরাফি ১১। মালিঙ্গা ৪/২৩। শ্রীলংকা: ১২৪ (৩৫.২ ওভার)। থারাঙ্গা ২৭, লাকমল ২০। মাশরাফি ২/২৫, মোস্তাফিজ ২/২০, মিরাজ ২/২১। বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম , মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত,  মোহাম্মদ মিথুন, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), মেহেদী হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান। শ্রীলংকা একাদশ: উপুল থারাঙ্গা, ধনঞ্জয় ডি সিলভা, কুশল পেরেরা, কুশল মেন্ডিস, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস (অধিনায়ক), থিসারা পেরেরা, দাসুন শানাকা, লাসিথ মালিঙ্গা, সুরাঙ্গা লাকমল, অমিলা অপন্সো, দিলরুয়ান পেরেরা।

মুশফিকের সেরা সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের ২৬১ রান

ধ্বংসস্তুপের মাঝে একাই ‍বুক চিতিয়ে লড়াই করলেন মুশফিকুর রহিম। চাপের মধ্যে থেকেও কি দুর্দান্ত ব্যাটিংটাই না করলেন তিনি। তার অন্যবদ্য সেঞ্চুরিতেই এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৬১ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

এদিন নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি তুলে শেষ পর্যন্ত ক্যারিয়ার সেরা ১৪৪ করে আউট হন মুশফিক। ২০১৪ সালে ফতুল্লায় ভারতের বিপক্ষে ১১৭ রানের ইনিংসটি ছিল তার আগের ওয়ানডে সেরা।

এর আগে এশিয়া কাপের ১৪তম আসরে উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ। যেখানে লঙ্কানদের বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটায় মাঠে নামে দু’দল।

শেষ পর্যন্ত ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান মালিঙ্গার তৃতীয় শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন। ২৬তম ওভারের তৃতীয় বলে তুলে মারতে গিয়ে উইকেটরক্ষক পেরেরার তালুবন্দি হন তিনি। ৬৮ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৩ করেছিলেন মিঠুন। তৃতীয় উইকেট জুটিতে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ১৩১ রান করেছিলেন তিনি।

মুশফিকের সঙ্গে ভালো ব্যাটিং করতে থাকা মেহেদি হাসান মিরাজ ৩৪তম ওভারে ফিরে যান। ১৫ রান করা এই অলরাউন্ডার সুরাঙ্গা লাকমালের কট এন্ড বোল্ডের শিকার হন।

১৮ বলে ১১ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি। ৩৯ ওভারের শেষ বলে ডি সিলভা আউট করেন তাকে। পরে ডি সিলভার শিকারে ২ রান করে ফেরেন রুবেল হোসেন।

৪১তম ওভারে দলীয় দুশো রানের গণ্ডি পার করে বাংলাদেশ। পরে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরির দেখা পান মুশফিকুর রহিম। ১৮৮ ম্যাচ ও ১৭৩ ইনিংসে এই কীর্তি গড়েন তিনি। ১২৩ বলে ৭টি চার ও এক ছক্কায় সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন মুশফিক।

৪৭তম ওভারে ১০ রান করা মোস্তাফিজুর রহমান রান আউটের শিকার হন। তবে মোস্তাফিজের বিদায়ে বাংলাদেশ যখন নমব উইকেট হারায়, ঠিক তখনই সবাইকে চমক দেখিয়ে মাঠে নামেন এশিয়া কাপ থেকে ইতোমধ্যে ছিটকে পড়া ওপেনার তামিম। ইনিংসের শুরুতে চোট পাওয়া এই তারকা নাকি হাসপাতাল পর্যন্ত গিয়েছিলেন। পরে চোট পাওয়া হাত নিয়েই মাঠে নেমে এক হাতে একটি বল মোকাবেলা করেন।

তামিম মাঠে আসার পর নিজের সংগ্রহে আর কোনো রান (২) যোগ করতে না পারলেও, ঝড় তুলতে শুরু করেন মুশফিক। শেষ পর্যন্ত তিনি ১৫০ বলে ১১টি চার ও ৪টি বিশাল ছক্কায় ১৪৪ করে থিসারা পেরার বলে বিদায় নেন। ৪৯.৩ ওভারে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয়।

শ্রীলঙ্কান বোলারদের মধ্যে মালিঙ্গা এক বছরের বেশি সময় পর মাঠে নেমেই ৪টি উইকেট তুলে নেন। এদিন আবার স্বদেশি মুত্তিয়া মুরালিধরনকে পেছনে ফেলে এশিয়া কাপের শীর্ষ উইকেট শিকারি হন তিনি (৩২)। ডি সিলভা দুটি উইকেট তুলে নেন।

গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা ছাড়াও আফগানিস্তানের মোকাবেলা করবে বাংলাদেশ। যেখানে গ্রুপ পর্বের একটি ম্যাচ জিতেও দ্বিতীয় পর্বের সুযোগ থাকছে। দুটি গ্রুপ থেকে সেরা দুটি দল দ্বিতীয় পর্বে খেলবে। তবে এ ম্যাচে জয় ছাড়া কিছুই ভাবছেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি।

৬ দলের অংশগ্রহনে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান খেলবে ‘এ’ গ্রুপে। অন্য গ্রুপে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও হংকং।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষ), মাহমুদউল্লাহ, মোহাম্মদ মিঠুন, মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদি হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান।

শ্রীলঙ্কা একাদশ: উপুল থারাঙ্গা, ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা, কুশাল পেরেরা (উইকেটরক্ষক), কুশাল মেন্ডিস, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ (অধিনায়ক), থিসারা পেরেরা, দাসুন শানাকা, লাসিথ মালিঙ্গা, সুরাঙ্গা লাকমাল, আমিলা আপোনসো,দিলরুয়ান পেরেরা।

এক নজরে এশিয়া কাপের সূচি

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই 'এশিয়ার বিশ্বকাপ' খ্যাত এশিয়া কাপ মাঠে গড়াবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও হংকংকে নিয়ে শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) শুরু হবে এশিয়া কাপের ১৪ তম আসর। 

ওয়ানডে ফরম্যাটের এবারের আসরের প্রতিটি ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫.৩০মিনিটে। ১৩ দিন ব্যাপী এই টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। ২৮ সেপ্টেম্বর ফাইনালের মধ্য দিয়ে পাওয়া যাবে এশিয়ার শ্রেষ্ঠ দলের নাম।

দুই গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুইটি করে দল খেলবে সুপার ফোরে। যেখানে চার দল একে অপরের বিপক্ষে খেলবে একটি করে ম্যাচ। সেখান থেকে শীর্ষ দুই দল নিয়ে হবে ফাইনাল ম্যাচ। 

এশিয়া কাপের পূর্ণাঙ্গ সূচি:

গ্রুপ 'এ': বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান
গ্রুপ 'বি': পাকিস্তান, ভারত, হংকং

১৫ সেপ্টেম্বর – বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা (দুবাই)
১৬ সেপ্টেম্বর – পাকিস্তান বনাম হংকং (দুবাই)
১৭ সেপ্টেম্বর – শ্রীলঙ্কা বনাম আফগানিস্তান (আবুধাবি)
১৮ সেপ্টেম্বর – ভারত বনাম হংকং (দুবাই)
১৯ সেপ্টেম্বর – ভারত বনাম পাকিস্তান (দুবাই)
২০ সেপ্টেম্বর – বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান (আবুধাবি)

সুপার ফোরের সূচি:
২১ সেপ্টেম্বর- গ্রুপ 'এ' বিজয়ী বনাম গ্রুপ 'বি' রানার্স আপ (দুবাই)
২১ সেপ্টেম্বর- গ্রুপ 'বি' বিজয়ী বনাম গ্রুপ 'এ' রানার্স আপ (আবুধাবি)
২৩ সেপ্টেম্বর- গ্রুপ 'এ' রানার্স আপ বনাম গ্রুপ 'বি' রানার্স আপ (দুবাই)
২৩ সেপ্টেম্বর- গ্রুপ 'এ' বিজয়ী বনাম গ্রুপ 'বি' বিজয়ী (আবুধাবি)
২৫ সেপ্টেম্বর– গ্রুপ 'এ' বিজয়ী বনাম গ্রুপ 'এ' রানার্স আপ (দুবাই)
২৬ সেপ্টেম্বর- গ্রুপ 'বি' বিজয়ী বনাম গ্রুপ 'বি' রানার্স আপ (আবুধাবি)

ফাইনাল
২৮ সেপ্টেম্বর (দুবাই)

বাংলাদেশের গাজী টিভি, চ্যানেল নাইন ও বিটিভি প্রতিটি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে। এছাড়া এবারের এশিয়া কাপ বিভিন্ন ভাষায় সম্প্রচার করবে স্টার স্পোর্টস। তাছাড়া এই আসরের ম্যাচগুলো দর্শকরা দেখতে পাবেন অললাইনের হটস্টার এপ ও হটস্টারের ওয়েবসাইটে।

এশিয়া কাপের ম্যাচগুলো সম্প্রচার করবে স্টার স্পোর্টস ১, স্টার স্পোর্টস ১ এইচডি, স্টার স্পোর্টস ১ হিন্দি, স্টার স্পোর্টস ১ হিন্দি এইচডি, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট, স্টার স্পোর্টস এইচডি, স্টার স্পোর্টস ২, স্টার স্পোর্টস ২ এইচডি এবং স্টার স্পোর্টস তামিল।

এশিয়া কাপের দলগুলোর শক্তি ও দুর্বলতা

এশিয়ার পাঁচটি টেস্ট খেলুড়ে দেশের সঙ্গে যোগ দিয়েছে বাছাই পর্ব থেকে আসা হংকং। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান আছে গ্রুপ ‘বি’-তে। আর চিরপ্রতিদ্বন্দি ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে গ্রুপ ‘এ’ তে আছে হংকং। প্রতিটি দল একে অপরের বিপক্ষে খেলবে প্রথম পর্বে। সেখান থেকে চারটি দল যাবে পরের পর্বে। 

এশিয়া সেরা হতে প্রতিটি দলই তাদের সেরা দল পাঠিয়েছে আরব আমিরাতে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, দলগুলোর শক্তি ও দুর্বলতাগুলো।

বাংলাদেশ:

নিজেদের প্রিয় ফরম্যাটে এশিয়া কাপ খেলতে নামা বাড়তি সুবিধা দেবে টাইগারদের। সবশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সীমিত ওভারের সিরিজ জয় বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে মাশরাফি বিন মর্তুজাদের। এছাড়া এশিয়া কাপের শেষ তিন আসরের দুটিতেই ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা তো আছেই। 
আরব আমিরাতের মাটিতে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসানের মতো ক্রিকেটারদের। ওপেনিংয়ে তামিমের সঙ্গে থাকতে পারেন লিটন দাস। জাতীয় লিগের দারুণ অভিজ্ঞতা আছে লিটনের। এছাড়া মিডল অর্ডারে আছেন মুশফিকুর রহিমের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। তার সঙ্গে সঙ্গী হতে পারেন মৌম্য সরকার বা মুমিনুল হক।
দলে আছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব, তার সঙ্গে থাকবেন আরেক অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ। 
দলে আছেন মোহাম্মদ মিঠুন, আরিফুল হক, নাজমুল হাসান শান্তর মতো তরুণ। আছেন অনুর্ধ্ব-১৯ দলকে নেতৃত্ব দেওয়া মেহেদি হাসান মিরাজ, যিনি সময়ের সঙ্গে নিজেকে একজন শক্তিশালী অলরাউন্ডার প্রমান করছেন। পেস অ্যাটাক শক্তিশালী করতে আছেন মোসাতফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, আবু হায়দার রনির মতো বোলার। সাকিব ছাড়াও স্পিনার হিসেবে আছেন নাজমুল ইসলাম, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের মতো বোলার। আর আছেন মাশরাফির মতো অধিনায়ক। যিনি তার বিচক্ষনতায় ম্যাচের রুপ পাল্টে দিতে পারেন।

তবে সব কিছুর পরও সাকিব ও তামিমের আঙুলের ইনজুরি ভোগাতে পারে দলকে। 

স্কোয়াড: মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, লিটন কুমার দাস, মোহাম্মদ মিথুন, মুশফিকুর রহীম, আরিফুল হক, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদি হাসান মিরাজ, নাজমুল ইসলাম অপু, রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান এবং আবু হায়দার রনি।

ভারত: 

ছয়টি দলের মধ্যে পরিসংখ্যান ও দলীয় পারফরম্যান্সের দিক থেকে সবার থেকে এগিয়ে আছে ভারত। যদিও তাদের নিয়মিত অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে। তার পরিবর্তে অধিনায়ক হিসেবে আছেন রোহিত শর্মা। দুই ওপেনার শিখর ধাওয়ান ও কে এল রাহুলের ব্যাট ইংল্যান্ড সিরিজে তেমন ছন্দে ছিল না। 

তবে মিডেল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে ভারত বি দলের হয়ে মনিশ পান্ডে আশা জাগিয়েছেন বেশ। আরও আছেন আম্বাতি রাইডু। কেদার যাদব। এদের উপর আস্থা রাখতে পারে ভারত। দলে আছে মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো অভিজ্ঞ পিঞ্চ হিটার ও উইকেটরক্ষক। সাথে রাখা হয়েছে দীনেশ কার্তিক। 

একমাত্র অলরাউন্ডার হিসেবে আছেন হার্দিক পান্ডিয়া। তার উপরে অনেক দায়িত্ব থাকবে। ইংল্যান্ড সফরেও দলের চাহিদার অনেকটাই পূরণ করেছেন, যার ফলে এশিয়া কাপে চার উপর চাপ বেশিই থাকবে। এছাড়া শক্ত বোলিং ইউনিট নিয়ে এশিয়া কাপে অংশ নিচ্ছে ভারত।
শুরুর দিকে কোহলির অভাব ভোগাতে পারে দুলকে। এছাড়া কোহলির বিচক্ষণ সিদ্ধান্তগুলোও পেছনে ফেলতে পারে ভারতকে।     

স্কোয়াড: রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, লোকেশ রাহুল, আম্বাতি রাইডু, মনিশ পান্ডে, কেদার যাদভ, এমএস ধোনি, দীনেশ কার্তিক, হার্দিক পান্ডিয়া, কুলদ্বীপ যাদভ, ইয়ুজভেন্দ্র চাহাল, অক্ষর প্যাটেল, ভুবনেশ্বর কুমার, জাসপ্রতি বুমরাহ, শার্দুল ঠাকুর ও খলিল আহমেদ।

পাকিস্তান:

বর্তমান টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানকে অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরাই এবারের এশিয়া কাপের ফেভারিট ভাবছেন। গেলো ২ বছরে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে পাকিস্তানের ধারাবাহিকতা চোখে পড়ার মতো। তাই ওয়ানডে ফরম্যাটের এশিয়া কাপে পাকিস্তান এগিয়ে থাকছে। এছাড়া কন্ডিশনের সুবিধা তো থাকছেই। কারণ আরব আমিরাত নিজেদের হোম গ্রাউন্ড হিসেবেই ব্যবহার করে পাকিস্তান।
 
ওপেনার ফখর জামান আছেন দারুণ ফর্মে। তার নামের পাশে আছে ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি। তার সঙ্গে ওপেনিংয়ে আছেন ইমাম উল হক, যিনি জিম্বাবুয়ে সিরিজে নজর কেড়েছেন। তাদের ব্যাকআপ হিসেবে রাখা হয়েছে নতুন মুখ শান মাসুদকে।

মিডল অর্ডারে আছেন বাবর আজম, শোয়েব মালিক ও আসিফ আলীর মতো ব্যাটসম্যান। যারা বর্তমানে যেকোনো দলের জন্য ভীতির কারণ হতে পারেন। এদের সঙ্গে যোগ হতে পারেন হারিস সোহেল। দলে আছে ফর্মে থাকা দুই অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফ ও মুহাম্মদ নওয়াজ। 

এছাড়া সাদাব খান, হাসান আলী, মোহাম্মদ আমিরের মতো বোলারদের নিয়ে গড়া দল নিজেদের মাটিতে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী থাকবে এটা অনুমেয়ই।

স্কোয়াড: ফাখর জামান, ইমাম উল হক, বাবর আজম, শান মাকসুদ, সরফরাজ আহমেদ, শোয়েব মালিক, হারিস সোহেল, শাদাব খান, মোহাম্মদ নওয়াজ, ফাহিম আশরাফ, হাসান আলি, জুনায়েদ খান, উসমান খান, শাহিন আফ্রিদি, আসিফ আলি ও মোহাম্মদ আমির।

শ্রীলঙ্কা:

যদিও সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীলঙ্কা দলের ফলাফল খুব একটা ভালো নয়। তবু এশিয়ার এই দলকে সহজভাবে নেয়ার উপায় নেই। ওপেনার হিসেবে থাকা কুশল পেরেরা ও উপুল থারাঙ্গা দল যেকোনো দলের জন্য ভয়ের কারণ হতে পারে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ফর্মে নেই, কিন্তু তাদের দিনে তারা অঘটন ঘটিয়ে দিতে পারেন।

দলে আছেন ম্যাথুস ও কুশল মেন্ডিসের মতো ব্যাটসম্যান। দলে আছেন দাসুন শানাকা ফর্মে থাকা ক্রিকেটার। থিসারা পেরেরা এশিয়া কাপ থেকে নতুন এক শুরু প্রত্যয় রাখতে পারেন। দিলরুয়ান পেরেরা অভিজ্ঞ লাসিথ মালিঙ্গা, সুরঙ্গ লাকমল, দুশমন্থা ক্যামেরাদের নিয়ে গড়া বোলিং ইউনিটও বেশ শক্তিশালী।
    
স্কোয়াড: অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ, কুশল পেরেরা, কুশল মেন্ডিস, উপুল থারাঙ্গা, শেহান জয়াসুরিয়া, থিসারা পেরেরা, দাসুন শানাকা, ধনঞ্জয় ডি সিলভা, আকিলা ধনঞ্জয়, দিলরুয়ান পেরেরা, আমিলা আপোনসো, কাসুন রাজিথা, সুরাঙ্গা লাকমল, দুশমন্থ চামিরা, লাসিথ মালিঙ্গা, শেহান জয়সুরিয়া ও নিরোশান ডিকভেলা।

আফগানিস্তান:

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো উন্নতি করেছে আফগানিস্তান। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দারুণ ফর্মে আছে পুরো দল। মোহাম্মদ শেহজাদ-ইশানুল্লাহ জানাত থাকবেন ওপেনিংয়ে। ব্যাকআপ হিসেবে রাখা হয়েছে তরুণ মুনির আহমেদকে। মিডল অর্ডারে আছে আসগর আফগান, নাজিবুল্লাহ জাদরান ও হাশমাতুল্লাহ শহীদির মতো ক্রিকেটার।

অলরাউন্ডার হিসেবে আছেন অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবী। বোলিং ইউনিটে একটি নামই যথেষ্ট, রশিদ খান! তার সঙ্গে ঘূর্নিঝড় তুলতে প্রস্তুত মুজিব উর রহমান। পেসার হিসেবে আছেন সাইদ সিরাজ-ওয়াফাদার।  

স্কোয়াড: আজগর আফগান, মোহাম্মদ শাহজাদ, এহসানউল্লাহ জান্নাত, জাভেদ আহমাদি, রহমত শাহ, হাশমতউল্লাহ শহিদী, মোহাম্মদ নাবী, গুলবদিন নাইব, রশিদ খান, নাজিবউল্লাহ জাদরান, মুজিব উর রহমান, আফতাব আলম, সামিউল্লাহ শেনওয়ারি, মুনির আহমাদ, সায়েদ শিরজাদ, শারাফউদ্দিন আশরাফ ও ইয়ামিন আহমেদজাই।
হংকং:

যদিও হংকংয়ের স্কোয়াড নিয়ে খুব একটা আলোচনা নেই, তবুও বাছাই পর্ব থেকে উঠে আসা দল হিসেবে হিসেবে থাকবে হংকংও। আরব আমিরাতের মতো দলকে হারিয়ে মূল পর্বে উঠে আসা হংকংয়ের একাধিক ক্রিকেটার আছেন আলোচনায়। এদের মধ্যে আংশুমান রাথ ও নিজাকাত খান সম্প্রতি তাদের পারফরম্যান্স দিয়ে নজর কেড়েছেন। 

স্কোয়াড: আংশুমান রাথ, আইজাজ খান, বাবর হায়াৎ, ক্যামেরুন ম্যাকেলসান, ক্রিস্টোফার কার্টার, এহসান খান, এহসান নওয়াজ, আরশাদ মোহাম্মদ, কিনচিত শাহ, নাদিম আহমেদ, নিজাকাত খান, রাগ কাপুর, স্কট ম্যাককেনি, তানভীর আহমেদ, তাম্ভীর আফজাল, ওয়াকাস খান ও আফতাব হুসেইন।

অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আর্জেন্টি না-ব্রাজিল ম্যাচ

 ফুটবল মানেই উত্তেজনা-উন্মাদনা। আর এই উত্তেজনা যদি আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিলের ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়ায় তাহলে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ভালই হয়। চলতি বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার এই দুই পরাশক্তির হাইভোল্টেজ ম্যাচ।

সম্প্রতি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) পক্ষ থেকে তাদের বিশ্ব ভ্রমণের সূচি প্রকাশ করা হয়। সূচিতে দেখা যায়, ১২ অক্টোবরে রিয়াদে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে মাঠে নামবে তিতের শিষ্যরা।

এর চারদিন পর ১৬ অক্টোবর বিশ্ব ফুটবল দেখবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের লড়াই। জেদ্দার কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটিতে এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, রাশিয়া বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেয় আসরের অন্যতম ফেভারিট ব্রাজিল। অপরদিকে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা।

শুরুটা ভালো চাইছেন মাশরাফি

গতবার ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে হেরেছিল বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের এবারের আসরে শিরোপা জেতার জন্যই মাঠে নামবে টাইগাররা। বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) এশিয়া কাপের প্রস্ততি নিয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা বলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তবে এর জন্য শুরুটা ভালো চান টাইগার অধিনায়ক।

আগামী রোববার বাংলাদেশ এশিয়া কাপ খেলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে উড়াল দেবে। এরই মধ্যে স্কোয়াড ঘোষণা হয়ে গেছে, নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছে ক্রিকেটাররা। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের এশিয়া কাপ মিশন। গ্রুপপর্বে বাংলাদেশের অপর প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচকে পাখির চোখ করেছেন মাশরাফি। তিনি জানালেন, যে কোনো ইভেন্টেই প্রথম ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এশিয়া কাপে কেমন করব, সেটা নির্ভর করবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের পারফরম্যান্স। ওদের বিপক্ষে আমরা যদি ম্যাচটা জিততে পারি, তাহলে আমরা শুরুতেই আত্মবিশ্বাস পেয়ে যাব। কারণ, আমাদের আত্মবিশ্বাস এখন অনেক উঁচুতে। আমাদের সামর্থ্য আছে ভালো খেলার। প্রথম ম্যাচটা জিতলে সম্ভাবনা আছে অনেক দূর যাওয়ার।

দেশের সেরা অস্ত্র নিয়েই এবার এশিয়ার মিশনে যাচ্ছে বাংলাদেশ। টাইগার অধিনায়ক যোগ করেন, আমাদের স্কোয়াডে অনেক ভালোমানের ক্রিকেটার আছে, যারা প্রত্যেকেই ম্যাচ উইনার। তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস আছে। তারপরও প্রত্যেকটা টিমেরই দুর্বলতা আছে, আমাদেরও আছে। কিন্তু আমরা অবশ্যই সেটা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছি। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা ওয়ানডে বলেন আর টি-টোয়েন্টি বলেন, অনেক ম্যাচ জিতেছি, সিরিজ জিতেছি। দলের সবাই ভালো টাচে আছে। তারা আমাদের প্রথম ম্যাচে ভালো খেলতে সহায়তা করবে ইনশাআল্লাহ। আর প্রথম ম্যাচটা ভালো করলে পুরো টুর্নামেন্টে ভালো করার সম্ভাবনা আছে।

দলে ফিরলেন রোমেরো

রাশিয়া বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে বড় ধাক্কা খেয়ে আসর থেকে বাদ পড়তে হয় আর্জেন্টিনা দলকে। বিশ্বকাপে বাজে পারফরম্যান্সের কারণে কোচ সাম্পাওয়ালিকে বিদায় জানায় আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।দলটির অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় লিওনেল স্কালোনিকে। আর্জেন্টিনার সাবেক এই ফুটবলার দায়িত্ব নিয়েই দলকে ঢেলে সাজিয়েছেন। সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসিকে ছাড়াই আসন্ন প্রীতি ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করেছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এতে বাদ দেয়া হয়েছে সার্জিও অ্যাগুয়েরো, অ্যাঞ্জেলো ডি মারিয়া, গঞ্জালো হিগুয়াইনদের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের। আগামী সপ্তাহে দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে এক নতুন আর্জেন্টিনার দল খেলবে।

ম্যাচ দুটিতে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে আর্জেন্টিনার অন্যতম সেরা গোলকিপার সার্জিও রোমেরোর। চলতি বছর বিশ্বকাপ শুরু হবার ঠিক আগ মুহূর্তে ইনজুরির কারণে দল থেকে ছিটকে যান এই তারকা। তার বদলে চেলসির উইলি কাবায়েরো ও রিভারপ্লেটের ফ্রাঙ্কো আরমানি মাঠে নেমেছিলেন। যার ফলে হতাশ হতে হয় দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।

স্কালোনির স্কোয়াডে আরমানি থাকলেও গুরুত্ব পাবেন রোমেরোই। সম্প্রতি এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছে এএফএর অফিসিয়াল টুইটার পেজ। ৩১ বছর বয়সী এই তারকার ছবি দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য সম্পূর্ণ ফিট তিনি।২০০৯ সালে জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হয় এই গোলকিপারের।টানা ৮৩ ম্যাচে গোল পোস্টের নিচে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ২০১০ ও ২০১৪ সালে লাতিন দেশটির হয়ে বিশ্বকাপ মাতিয়েছিলেন রোমেরো।

আগামী শনিবার ৮ সেপ্টেম্বর গুয়েতমালার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের মেমোরিয়াল কলিসিয়ামে বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টায় ম্যাচটি শুরু হবে।তুলনা মূলক সহজ এই প্রতিপক্ষের পর কঠিন ম্যাচ অপেক্ষা করছে স্কালোনির শিষ্যদের জন্য। বুধবার ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় ভোর ছয়টায় শক্তিশালী কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টাইনরা।

আর্জেন্টিনা স্কোয়াড

গোলকিপার সার্জিও রোমেরা, ফ্রাঙ্কো আরমানি, গেরোনিমো রুলি।

ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মার্কাদো, ফ্যাব্রিসিও বুস্তোস, রামিরো ফিউন্স মোরি, ওয়াল্টার কানেম্যান, নিকোলাস তাগলিয়াফিসো, এদুয়ার্দো স্যালভিও, অ্যালান ফ্রাঙ্কো, লিওনেল ডি প্লাসিডো, মার্কোস অ্যাকুনা।

মিডফিল্ডার সান্তিয়াগো আস্কাসিবার, গঞ্জালো মার্টিনেজ, লিন্দ্রো প্যারেডেস, রদ্রিগো বাত্তাগলিয়া, ম্যাক্সিমিলিয়ানো মেজা, গিওলানি লো সেলসো, ফ্রাঙ্কো কার্ভি, ফ্রাঙ্কো ভ্যাজকুয়েজ, এক্সিকুয়েল প্যালাসিওস, মাতিয়াস ভার্গাস।

ফরোয়ার্ড ক্রিশ্চিয়ান প্যাভন, লাওতারো মার্টিনেজ, গিওভান্নি সিমিওনে, অ্যাঞ্জেল কোরেয়া, পাওলো দিবালা, মাউরো ইকার্দি।

ভুটানকে হারিয়ে শুভ সূচনা বাংলাদেশের

তী

গ্যালারিতে 'বাংলাদেশ, বাংলাদেশ' গর্জন আর মুহুর্মুহু উল্লাসধ্বনি। মাঠে এমন অসামান্য সমর্থনের দারুণ প্রতিদান দিলো বাংলাদেশের ফুটবলাররা। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী দিনে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সাফ সুজুকি কাপ-২০১৮ এর উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় মুখোমুখি হয় 'এ' গ্রুপের দুই দল বাংলাদেশ-ভুটান।

ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার তিন মিনিট পরেই পেনাল্টি থেকে গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন ডিফেন্ডার তপু বর্মন। নিজেদের ডি বক্সে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখার পাশাপাশি বাংলাদেশকে পেনাল্টি উপহার দেন ভুটানের শেরিং দর্জি। তপুর দ্রুতগতির শট ঠেকানোর কোনো উপায় ছিল না ভুটানের গোলরক্ষকের।

এরপর আরও বেশকিছু গোলের সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পান নি সাদ-জামালরা। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ব্যবধানে।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে (৪৭ মিনিট) অসাধারণ এক গোল করে বাংলাদেশকে আবারও এগিয়ে দেন ফরোয়ার্ড মাহবুবুর রহমান। ম্যাচে গোল হতে পারতো আরও কয়েকটি। কিন্তু ফিনিশিং ভাল না হওয়ায় গোল পান নি জনি-মাহবুবরা। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা।

ম্যাচে ভুটানের বেশকিছু গোলের প্রচেষ্টা রুখে দিয়ে ম্যাচে প্রশংসা পাওয়ার মতো পারফর্ম করেছেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেল। এই জয়ে 'এ' গ্রুপের শীর্ষস্থান এখন বাংলাদেশের। দিনের প্রথম ম্যাচে নেপালকে ২-১ হারানো পাকিস্তান নেমে গেছে দুইয়ে।

আজকের ম্যাচের সবচেয়ে বড় পাওয়া সম্ভবত গ্যালারি ভর্তি দর্শক আর দলের সমর্থনে তুমুল উল্লাসে 'বাংলাদেশ, বাংলাদেশ' গর্জন। এমন দৃশ্য এদেশের ফুটবলে এখন বিরল। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম বহুদিন পর এমন উল্লাসে মেতেছে।

স্বাগতিক বাংলাদেশকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার ভাবা হচ্ছে। সেই লক্ষ্যে ভুটানের বিপক্ষে খেলতে নেমে শুরুটা হলো স্বস্তির জয়ে। ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ

য় ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ

থামানোই যাচ্ছে না শারাপোভাকে

খারাপ সময় পেছনে ফেলে স্বরূপে দেখা দিয়েছে রুশ টেনিস সুন্দরী মারিয়া শারাপোভা। ইউএস ওপেনে বিশ্বের ১০ নম্বর ইয়েলেনা অস্তাপেঙ্কোকে ৬-৩, ৬-২ সেটে হারিয়ে সহজ জয় পেয়েছেন তিনি। প্রায় এক যুগ আগে ‌এই মঞ্চে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন শারাপোভা। ডোপ কেলেঙ্কারির নির্বাসন কাটিয়ে কোর্টে ফেরার পরে গ্র্যান্ড স্ল্যামে ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ওপেনে তিনি দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। তার আরও একটা বড় কারণ তিনি এখানে রাতে খেলতে দারুণ পছন্দ করেন।

জয়ের পর তিনি বলেন, ‘এখানে খেললেই মনে হয় নিজের মধ্যে আলাদা একটা শক্তি কাজ করছে। সেটা পাই আমার ভক্তদের জন্য। মনে পড়ছে না এখানে প্রথম ম্যাচ খেলার সময় আমার বয়স কত ছিল। কিন্তু তখন থেকেই আমি এই শহরের রাতের সৌন্দর্যের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছি। কেন জানি না এখানে রাতে খেলতেই সব চেয়ে বেশি ভাল লাগে।’

অস্তাপেঙ্কোকে হারানোর পরে তার রাতের ম্যাচে টানা জয়ের সংখ্যা দাঁড়াল ২২। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীই তাকে রাতে বিলি জিন কিং ন্যাশনাল টেনিস সেন্টারে হারাতে পারেননি। প্রথম দুটো ম্যাচে অবশ্য শারাপোভাকে অতটা ছন্দে মনে হয়নি। অস্তাপেঙ্কোর বিপক্ষে অবশ্য তিনি প্রথম থেকেই ছন্দে ছিলেন। তাতে আরও সাহায্য পান গত বারের ফরাসি ওপেন জয়ী টানা আনফোর্সড এরর করে যাওয়ায়। প্রথম সেটেই তিনি ২৭টি আনফোর্সড এরর করেন। দ্বিতীয় সেটে অবশ্য ভুল হয়নি। কিন্তু এতে কোনো লাভ হয়নি।

শারাপোভা বলেন, ‘আমরা সবাই প্রচুর সময় খরচ করি অনুশীলনে। তার পরে যখন কোর্টে নামার সুযোগ পাই, কেন সর্বস্ব উজাড় করে দেব না!’

মেসির অনন্য রেকর্ড

বর্তমান ফুটবল জগতের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি। আর তারই জের ধরে এবার নিজেকেই ছাড়িয়ে গেলেন তিনি। লা লিগার নতুন দল হুয়েস্কার বিপক্ষে জোড়া গোল করে দারুণ এক কীর্তি গড়েন বার্সেলোনা অধিনায়ক।

রবিবার লা লিগার ম্যাচের হুয়েস্কাকে ৮-২ গোলে বিধ্বস্ত করে বার্সা। আর এ ম্যাচে গোল করার মাধ্যমে লা লিগায় ৪০ দলের বিপক্ষে খেলে ৩৭টি ক্লাবের জালেই বল প্রবেশ করার বিরল এক রেকর্ডে নিজেকে ছাড়িয়ে যান। যেখানে লিগে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টাইন তারকার গোল সংখ্যা ৩৮৬।

অন্যদিকে, ৩৫টি দলের বিপক্ষে গোল করে এই তালিকায় যুগ্মভাবে দ্বিতীয় রিয়ালের সাবেক ফরোয়ার্ড রাউল গঞ্জালেস ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ স্ট্রাইকার আরতিজ আদুরিজ। বার্সার সাবেক স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড হুলিও সালিনাস ৩৪টি দলের বিপক্ষে গোল করেছেন। ৩৩টি দলের বিপক্ষে গোল করে যুগ্মভাবে চতুর্থ বেনজেমা, হুগো সানচেজ ও রাউল তামুদো।

বাসের কাগজ ঠিক নেই, নেমে গেলেন ফুটবলাররা

সচেতনতাই পারে পরিবর্তন আনতে। নিজের অবস্থান থেকে সচেতন হলে যেকোনো ‘সিস্টেম’কেই পাল্টে দেওয়া সম্ভব। এটাই যেনো প্রমাণ করলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ ও সদস্যরা।

ঘটনাটি আরও তিন দিন আগের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাফ ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে নীলফামারী থেকে প্লেনে ঢাকায় ফেরে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সদস্যরা। হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে ভাড়া করা তুবা লাইনের বাসে ওঠে কোচসহ ফুটবলারর। কিন্তু সে বাসের কোনো কাগজই ঠিক ছিল না। এমন কী চালকের লাইসেন্সও ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ।

বিমানবন্দর এলাকার ট্রাফিক পুলিশ বাসটি আটকে দিলে এসব অসঙ্গতী জানতে পারেন দলের সদস্যরা। বিষয়টি জানতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই ফুটবলারদের নিয়ে বাস থেকে নেমে যান জাতীয় দলের প্রধান কোচ জেমি ডে। পরবর্তীতে তারা নিজের মতো করে ট্যাক্সি ও উবারে করে চলে যান।

দৃষ্টান্ত সৃষ্টিকারী এই ঘটনা সম্পর্কে পরবর্তীতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষে (বাফুফে) ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপু জানান, বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের চেকিংয়ে বিষয়টি ধরা পড়ে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে কোচ জেমি ডে ওই গাড়িতে চড়তে অস্বীকৃতি জানান। পরে ফুটবলারদের নিয়ে বাস থেকে নেমে পড়েন। এরপর ট্যাক্সি ও উবারে চড়ে হোটেলে ফেরেন তারা। 

গেল ২৯ জুলাই রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম। সে ঘটনায় আরও ১২ জন গুরুত্বর আহত হন। এই ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করে ও গণপরিবহনের চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিশ্চিত করাসহ ৯ দফা দাবিতে প্রায় সপ্তাহখানেক ঢাকাসহ পুরো দেশে সোচ্চার ছিল কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস যাচাই করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা মোটরসাইকেল চালকের হেলমেট, প্রাইভেট কারের সিটবেল্ট বাঁধাও নিশ্চিত করেছে এ কদিন। শিক্ষার্থীদের ওই  আন্দোলন অনেকটাই ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে সমাজে। সচেতনতাসহ সড়ক আইনেও এসেছে পরিবর্তন।

জাতীয় ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হচ্ছেন সাব্বির?

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজে সুবিধা করতে পারেননি সাব্বির রহমান। ওয়ানডে সিরিজের তিন ম্যাচে তার স্কোর ৩, ১২, ১২। এছাড়া মাঠের বাইরের বিতর্ক তো ছিলই। সব মিলে এশিয়া কাপের দল থেকে সাব্বিরের বাদ পড়া অনিবার্যই ছিল। তবে শাস্তিটা আরও কঠিন হতে পারে সাব্বির রহমানের জন্য। ঘরোয়া ক্রিকেটে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ করা সাব্বিরকে জাতীয় দল থেকেও ৬ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

শাস্তি চূড়ান্ত করার আগে অবশ্য আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাচ্ছেন সাব্বির। শনিবার বিসিবি কার্যালয়ে সাব্বিরের শুনানি হবে। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ইঙ্গিত দিয়েছেন, এশিয়া কাপের দল থেকে সাব্বিরের বাদ পড়া শৃঙ্খলাভঙ্গের ফল।

তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তিকে আমরা শাস্তি দিয়েছি। যদি দেখি তাতেও কোনো প্রভাব পড়ছে না, তখন তো আমাদের কড়া শাস্তি দিতেই হবে। কেউ যদি খারাপ কিছু করে, নিশ্চয়ই আমরা চেষ্টা করবো তাকে বিরত রাখার। কেউ যদি বিরত না হয় তখন আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সে জাতীয় দলে খেলতে পারবে না। কেউ যদি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে না পারে এরচেয়ে বেশি আর কী করতে পারব। আমরা তো কাউকে জেল দিতে পারবে না।

বোর্ডের একটি সূত্রে জানা গেছে, সাব্বিরকে ৩ বছর নিষিদ্ধ করার আলোচনা হয়েছিল বিসিবি সভায়। তবে এ ক্রিকেটারের ভবিষ্যতের কথা ভেবে শাস্তি কমিয়ে ৬ মাস করার কথা হয়।

কুষ্টিয়ার খোকসায় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে মানিকগঞ্জকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা

 খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনাল খেলায় মানিকগঞ্জ কে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে চুয়াডাঙ্গা। আজ শুক্রবার বিকালে খোকসা-জানিপুর পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে চুয়াডাঙ্গা জেলা ফুটবল একাদশ ও মানিকগঞ্জ জেলা একাদশের মধ্যকার খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও খোকসা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান এর পৃষ্ঠপোষকতায় টুর্নামেন্টটি পরিচালিত হচ্ছে। আজকের খেলায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী। খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বেতবাড়ীয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাবুল আক্তার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র প্রভাষক তারিকুল ইসলাম তারিক এর তত্ত্বাবধানে উক্ত খেলাটি ভাদ্রের তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে হাজার হাজার ক্রীড়ামোদি খেলোয়ারদের খেলা উপভোগ করেন।

খেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে খোকসা থানা পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে। খেলোয়াড়ের চিকিৎসার বিষয়ে তৎপরতা ছিলেন খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারদের চৌকস একটি টিম।

উল্লেখ্য আগামী ৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টায় এই মাঠে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় কুষ্টিয়া জেলা ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতি ও চুয়াডাঙ্গা জেলা ফুটবল একাদশের মধ্যকার খেলা অনুষ্ঠিত হবে।.

বয়স লুকিয়ে বিয়ে করেছিলেন জাতীয় দলের তরুণ ক্রিকেটার মোসাদ্দেক

সোমবার থেকে পূর্ণ উদ্যমে অনুশীলন শুরু করার সূচি ঘোষণা করা হয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তরফ থেকে। কিন্তু তার আগের দিন অর্থ্যাৎ রোববারেই বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে বয়ে গেল এক ঝড়। যেখানে ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে জাতীয় দলের তরুণ ক্রিকেটার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের।

রোববার দুপুর গড়িয়ে বিকেল আসতেই ক্রিকেট পাড়ায় জানা গেল এরই মধ্যে বিয়ে করে ফেলেছেন বিসিবির কাগজে-কলমে ২২ বছর বয়সী মোসাদ্দেক। শুধু তাই নয়, সেই বিয়ের দাম্পত্য জীবনে কলহের জের ধরে তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলাও দায়ের করেছেন মোসাদ্দেকের স্ত্রী সামিয়া শারমিন।

মোসাদ্দেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখানেই শেষ হচ্ছে না। কারণ সামিয়া শারমিনের দায়েরকৃত অভিযোগপত্রের সাথে সংযুক্ত বিবাহের কাবিননামায় দেখা যায় তাদের বিয়ে হয়েছে ২৮ অক্টোবর ২০১২ সালে। কিন্তু বিসিবির কাছে মোসাদ্দেকের যেসব তথ্যাদি দেয়া রয়েছে তা অনুযায়ী ২০১২ সালের ২৮ অক্টোবর তারিখে মোসাদ্দেকের বয়স মাত্র ১৬ বছর।

তাহলে কি মাত্র ১৬ বছর বয়সে বাল্যবিবাহের অপরাধ করেছিলেন মোসাদ্দেক? আপাতদৃষ্টিতে এই বিয়েকে বাল্যবিবাহই বলা যায়। কারণ ২০১২ সালে মোসাদ্দেক বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এমনকি বিয়ের ঠিক আগে যুব দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া সফরও করেছিলেন তিনি।

পরে দেশে ফিরে এই বিয়ে করতে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন মোসাদ্দেক। সামিয়া শারমিনের বড় ভাই (সম্পর্কে মোসাদ্দেকেরও খালাতো ভাই) অভিযোগপত্র জানান যে বাল্যবিবাহের বৈধতা দিতে তখন নিজের বয়স বাড়িয়ে ২২ বছর লিখে দেন মোসাদ্দেক। কিন্তু কাগজপত্র অনুযায়ী ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ২২ বছর পূর্ণ হয়েছে তার।

শুধু বিয়ের কাগজে বয়স লুকিয়েই নয়, মোসাদ্দেক ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছে বিসিবির সাথেও, এমনটাই জানান মোজাম্মেল কবির। এতো অল্প বয়সে জাতীয় দলে কোন বিবাহিত ক্রিকেটার নেয়া হবে না জানিয়ে মোসাদ্দেক নিজের বিয়ের খবরটি গোপন রেখেছিলেন বলে জানান মামলার প্রধান সাক্ষী ও সামিয়া শারমিনের বড় ভাই মোজাম্মেল কবির।

ক্রিকেটারদের একের পর এক নারী কেলেঙ্কারি !

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন কিছুদিন আগেই বলেছিলেন, মাঠের বাইরে অন্যায় কাজে জড়িয়ে পড়া ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে বোর্ড। এর মধ্যেই ঘটে গেল আরেক ঘটনা। তরুণ অল-রাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের বিরুদ্ধে যৌতুক ও নির্যাতনের মামলা ঠুকে দিয়েছেন তার স্ত্রী সামিয়া। অভিযোগ অস্বীকার করে মোসাদ্দেক তালাকের কথা বলেছেন। চলছে পাল্টাপাল্টি বাকযুদ্ধ। কিন্তু কী ভাবছে বিসিবি?

বিসিবি প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী বললেন, ‘এটা তাদের একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যাপার। অভিভাবক হিসেবে আমরা যেটা করণীয় করব। এসব ব্যাপারে বোর্ড যে কঠোর হবে এতটুকু বলতে পারি। বোর্ড সভাপতি দেশের বাইরে আছেন। তিনি যাওয়ার আগে এসব নিয়ে আলোচনা করেছেন। মোসাদ্দেকের বিষয়টা আসার আগে আরও কিছু বিষয় ছিল যেগুলো নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে যেটা আপনারা শিগগির জানতে পারবেন।’

মোসাদ্দেকের আগে একের পর এক নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটিয়েছেন ক্রিকেটাররা। যেতে হয়েছে জেলে।  শাহাদাত হোসেন, রুবেল হোসেন, আরাফাত সানি, মোহাম্মদ শহীদ, নাসির হোসেন, সাব্বির রহমানের পর মোসাদ্দেক। বিভিন্ন নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানো আরও কয়েকজন ক্রিকেটার বিপদসীমার শেষ প্রান্তে আছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। যে কোনো মুহূর্তে সেইসব ঘটনাও প্রকাশ্যে আসতে পারে। এখন দেখার, বিসিবি কী পদক্ষেপ নেয়।

বিপাকে পিএসজি, শাস্তি হলে ছাড়তে হবে নেইমার-এমবাপ্পেকে!

এবার কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে ফ্রান্সের ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই। স্পেনের রেডিও স্টেশন ‘ওন্দা সেরো’র রিপোর্ট ঘিরে চাঞ্চল্য শুরু হয়েছে শুক্রবার সকাল থেকেই। উয়েফার ক্লাবগুলোর অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি তদন্তের শেষে পিএসজির আর্থিক অনিয়মের জন্য শাস্তির পথে হাঁটে তাহলে ক্লাবটিকে ছেড়ে দিতে হতে পারে নেইমার এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের যেকোন একজনকে।

এছাড়া ওন্দা সেরোর রিপোর্ট অনুযায়ী, উয়েফার অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার শাস্তি কার্যকর হলে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য তৈরি রিয়াল মাদ্রিদ, মোনাকো, বার্সেলোনা। নেইমারের জন্য প্রস্তুত করতে পারে রিয়াল মাদ্রিদ। মোনাকো তাদের পুরোনো তারকা এমবাপ্পেকে নিতে তৎপর হবে। বার্সেলোনার ভূমিকা আপাতত দর্শকের।

এদিকে, ফিনান্সিয়াল ফেয়ার (প্লে এফএফপি) কথায়, ফুটবলার কেনা-বেচার ক্ষেত্রে আর্থিক নিয়ম মেনে চলা, যাতে কোন ক্লাব অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বাড়তি সুবিধা না নিতে পারে। এই নিয়মের দিকে চোখ রেখে সব সময় পা ফেলতে হয় ম্যানচেস্টার সিটি, কখনও পিএসজি, কখনও রিয়াল মাদ্রিদ বা বার্সেলোনার মতো ধনী ক্লাবগুলোকে।

উল্লেক্য, গত বছর নেইমারের জন্য বার্সেলোনাকে ২২ কোটি ২০ লক্ষ ইউরো ট্রান্সফার মূল্য দিয়েছিল পিএসজি। তারপর মোনাকো থেকে এমবাপ্পেকে নিতে আইনের ফাঁক খুঁজে বের করেছিল পিএসজি কর্তারা। গত বছরেই এমবাপ্পেকে তারা নিয়েছিল লোনে। কিন্তু একটি শর্ত চুক্তিতে রাখা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, এখন লোনে নিলেও পরে পাকাপাকি ভাবে এমবাপেকে কিনে নেওয়ার ‘অপশন’ আছে। সেখানে ট্রান্সফার মূল্য উল্লেখ ছিল ১৮ কোটি ইউরো।

সেই সময় পিএসজি ঘোষণা করেনি, তারা এমবাপ্পের সঙ্গে পাকাপাকি চুক্তি করছে। তাহলে সেই বছরের অ্যাকউন্টেই ১৮ কোটি ইউরো ট্রান্সফার মূল্যের হিসেব ঢুকে যেত। সরাসরি আর্থিক বেনিয়মের খাতায় চলে যেত তাদের বার্ষিক হিসাব। এখন যা পরিস্থিতি তাতে এফএফপি নিয়ে পিএসজির বিরুদ্ধে তদন্তে যদি তারা দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহলে কোপ পড়বে এই দুই তারকার যেকোন যে একজনের উপর। নেইমারকে বিক্রি করতে হতে পারে। অথবা, এমবাপ্পের সঙ্গে যে লোন চলছে, তা বাতিল করতে হতে পারে।

অক্টোবরে বাংলাদেশে আসছে বিশ্বকাপ ট্রফি

২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের ‘ট্রফি ট্যুর’ ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে আগামী বছর বিশ্বকাপের আসর বসবে ৩০ মে থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত। তার আগে আর মাত্র দু’দিন পর ২৭ আগস্ট বিশ্ব ভ্রমণে বের হচ্ছে বিশ্বকাপ ট্রফি। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি এই ঘোষণা দেয়। বাংলাদেশে বিশ্বকাপের ট্রফি আসবে ১৭ অক্টোবর।

দুবাইয়ে আইসিসির কার্যালয় থেকে ২৭ আগস্ট বিশ্ব ভ্রমণে বের হবে বিশ্বকাপের ট্রফিটি। এবার ৫টি মহাদেশের ২১টি দেশের মোট ৬০টি শহর ভ্রমণ করবে ট্রফিটি। প্রথম গন্তব্য ওমানের রাজধানী মাসকট। সর্বাধিক জায়গায় ভ্রমণ শেষে আমাগী বছর ১৪ জুলাই লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে পৌঁছাবে ট্রফিটি।

নয় মাসের সফরে শুধু মাত্র টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দেশগুলোতেই যে ট্রফিটি ভ্রমণ করবে তা নয়, বাইরের দেশেও যাবে ক্রিকেট বিশ্বকাপের ট্রফি। নেপাল, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতেও ভ্রমণ করবে ট্রফিটি। দুবাই থেকে প্রথম ওমানে যাবে বিশ্বকাপের ট্রফি। এরপর একে একে যুক্তরাষ্ট্র, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, নাইজেরিয়া, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানি ভ্রমণ করবে।

বাংলাদেশে এবার চারটি শহরে যাবে বিশ্বকাপের ট্রফি। মোট সাত দিন থাকবে বাংলাদেশে। ১৭ অক্টোবর থেকে ১৯ অক্টোবর ঢাকায় থাকবে বিশ্বকাপ ট্রফি। এরপর যাবে খুলনা ও সিলেটে। যথক্রমে ২০ ও ২১ অক্টোবর থাকবে সেখানে। ২২ ও ২৩ অক্টোবর থাকবে চট্টগ্রামে।

মোট ১০ দল নিয়ে হবে এবারের ক্রিকেট বিশ্বকাপ। যেখানে ৮টি দল খেলবে সরাসরি। দলগুলো হলো- ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। সঙ্গে অন্য দুই দল আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এসেছে বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব পেরিয়ে।

কাতারকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশ

ইতিহাস গড়া থেকে কেবল একটি জয় দূরে ছিল বাংলাদেশ। সেই জয়টা হাতছানি দিচ্ছিল ম্যাচজুড়েই। কাতারের বিপক্ষে মাঠের দুর্দান্ত ফুটবলের সঙ্গে মহামূল্যবান গোলের উপলক্ষটা আসে যোগ করা সময়ে। যখন মনে হচ্ছিল এই বুঝি হল না, তখনই দারুণ এক গোলে লাল-সবুজদের ইতিহাস গড়ার মঞ্চ তৈরি করে দেন অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া। জেমি ডের শিষ্যরা প্রথমবারের মতো পৌঁছে যায় এশিয়ান গেমসের দ্বিতীয় রাউন্ডে।

ইন্দোনেশিয়ায় এশিয়ান গেমস ফুটবলে ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক কাতারকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নক আউট পর্ব নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ের এই লড়াইয়ে গ্রুপ ‘বি’তে রাতের আরেক খেলায় উজবেকিস্তানের কাছে ১-০ গোলে থাইল্যান্ডের হারে রানার্সআপ হয়ে পরের রাউন্ডে যাচ্ছে জামাল ভুঁইয়ার দল।

গ্রুপ ‘বি’তে সবগুলো ম্যাচ জিতে সর্বোচ্চ ৯ পয়েন্টে নিয়ে পরের রাউন্ডে উঠে গেছে উজবেকিস্তান। একটি করে জয় ও ড্রয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হওয়া বাংলাদেশের পয়েন্ট ৪। ড্র হলেও পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ থাকতো লাল-সবুজদের, তবে অনিশ্চিতায় যাওয়ার প্রয়োজনই পড়েনি তাদের। নক আউটে ২৪ আগস্ট গ্রুপ ‘এ’র চ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ফিলিস্তিন বা হংকংয়ের মধ্যের একটি দল।