প্রযুক্তির খবর

প্রযুক্তির খবর আমার কুষ্টিয়া হতে প্রকাশিত

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মালিকানা বুঝে নিল বাংলাদেশ

উৎক্ষেপণের ছয় মাসের মাথায় আজ (শুক্রবার) বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মালিকানা বুঝে নিয়েছে বাংলাদেশ। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের কাছ থেকে সন্ধ্যায় দেশের প্রথম এ স্যাটেলাইটের মালিকানা সম্পূর্ণভাবে বুঝে নেয়া হয়।

রাজধানীর বাংলামোটরে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসসিএল) কার্যালয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বিসিএসসিএল চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক, ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত উপস্থিতিতে মালিকানার কাগজপত্র হস্তান্তর করা হয়।

এ বছরের গত ১১ মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়। এর মধ্যে দিয়ে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করে।

নিজ কক্ষপথ ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রিতে পৌঁছানোর পর এটির ইন অরবিট টেস্টসহ (আইওটি) নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সবই সম্পন্ন হয়েছে।

এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চাম্পিয়নশিপ সরাসরি সম্প্রচার করার পরীক্ষাতেও এটি সফলতা দেখিয়েছে। পরে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দুবাইতে এশিয়াকাপ ক্রিকেটের সম্প্রচারসহ আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করেছে বাংলাদেশ টেলিভিশন।

একইসঙ্গে অন্য কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশনের সঙ্গেও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে গত ৩১ জুলাই এ স্যাটেলাইটের জন্য গাজীপুর ও রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় দুটি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গাজীপুর গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে সার্বক্ষণিক মহাকাশে থাকা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর গতিবিধি ও অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিষয়গুলো দেখভাল করছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া। স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণের পর এখন গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে সংকেত দিচ্ছে ও নিচ্ছে। গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে ট্র্যাকিং ও কন্ট্রোলিংয়ের কাজ হচ্ছে এবং পুরো সিস্টেমটিকে টেস্ট করা হচ্ছে।

এ স্যাটেলাইটটিকে ব্যবসায়িকভাবে সফল করতে ইতোমধ্যে থাইল্যান্ডের কোম্পানি থাইকমের সঙ্গে চুক্তি করেছে বিসিএসসিএল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসার দিকটি তারাই দেখবে। বর্তমানে বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ যে ১৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে সেই অর্থ সাশ্রয় বলে আশা করছে সরকার।

সব মিলে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করতে সরকারের খরচ হয়েছে দুই হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। আগামী সাত বছরের মধ্যে এ খরচ উঠে আসবে বলে হিসাব করেছে উৎক্ষেপণকারী সংস্থা বিটিআরসি।

ইতোমধ্যে সরকারের বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় এ স্যাটেলাইট থেকে সংযোগ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তাছাড়া কোম্পানির পক্ষ থেকে সেবা নিতে ৪৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে চিঠি দেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। এর ২০টি বাংলাদেশে ব্যবহারের জন্য এবং বাকিগুলো ভাড়া দেয়া হবে।

প্রাথমিকে ৯ নির্দেশনা, বদলে যাচ্ছে পাঠদান পদ্ধতি

প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নে এর পাঠদান পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসছে। সম্প্রতি পাঠদান পদ্ধতি পরিবর্তনের নির্দেশনা দিয়ে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯টি নির্দেশনা জারি করেছেন সদ্য যোগদানকৃত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হাসান। গত ১৫ অক্টোবর সচিব আকরাম আল হাসান স্বাক্ষরিত এমন নির্দেশনা দেশের সব প্রাথমিক স্কুলে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষাকে যুগোপযোগীকরণ এখন সময়ের দাবি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন অত্যাবশ্যক। এ জন্য প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধি করতে হবে। এ লক্ষ্যে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাস্তবায়ন করতে নতুন করে ৯ টি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে ভাষাজ্ঞান বাড়াতে নিয়মিত পাঠ্যভ্যাস অত্যন্ত জরুরি। তাই প্রতিদিন বাংলা ও ইংরেজি বই থেকে একটি পৃষ্ঠা পঠনের জন্য বাড়ির কাজ দিতে হবে। এক পৃষ্ঠা হাতের লেখা বাড়িতে থেকে লিখে আনতে বাড়ির কাজ দিতে হবে। ক্লাসে প্রথমেই সংশ্লিষ্ট শ্রেণি শিক্ষক সব শিক্ষার্থীকে আবশ্যিকভাবে পঠন করাবেন। শিক্ষকরা নিজেরা শিশুদের সঙ্গে উচ্চারণ করে পাঠ করবেন,এতে শিক্ষার্থীদের উচ্চারণ জড়তা দূর হবে এবং প্রমিত উচ্চারণ শৈলী সৃষ্টি হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্চারণ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মনোবল বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। বুক কর্ণার ও এসআরএমের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি শব্দ পড়া,বলা ও লেখা শেখাতে হবে, এর ফলে শিক্ষার্থীদের ভাষার ভাণ্ডার বাড়বে এবং এতে শিশুর বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে ও লিখতে পারবে।

বলা হয়েছে, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ করবেন এবং সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা,উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, ইন্সট্রাক্টর,জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা,বিভাগীয় উপপরিচালকরা তাদের পরিদর্শন প্রতিবেদনে শিক্ষকদের বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে শিশুদের পাঠ্যভ্যাস সংক্রান্ত এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে কী না তা নজরদারিকরবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. গিয়াসউদ্দিন আহমেদ বলেন,  ‘শিশুদের গুণগত শিক্ষার মান বাড়াতে এবং বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় পঠন ও লিখনশৈলী নিশ্চিত করতে নতুন করে কয়েকটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে ক্লাসে পাঠদানের ধরন বদলে যাচ্ছে। প্রতিদিন বাংলা-ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের নতুনভাবে জ্ঞান দান করতে হবে। বিষয়গুলো বিদ্যালয়ে মূল্যালয় করা হচ্ছে কিনা তা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা মনিটরিং করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মাধ্যমে আমাদের মাসিক প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’

তিতলি-মাইকেল-লুবান : একসঙ্গে তিন ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পৃথিবী

বিশ্বের দু’টি অংশের মানুষ এখন একসঙ্গে তিনটি বড় ধরনের ঝড়ের মোকাবিলা করছে। ভারতের ওড়িশা রাজ্যে বৃহস্পতিবার ভোরে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি।’ ভারতের ঠিক অন্যপাশের উপকূলে, আরব সাগরের তীরে আঘাত হানতে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোন ‘লুবান’। প্রায় ৪০ বছর পর ভারতের একই অংশে একই সঙ্গে দুইটি সাইক্লোন আঘাত করতে যাচ্ছে।

আবার একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হেনেছে হ্যারিকেন মাইকেল। সবমিলিয়ে এ বছরের দশ মাসেই ছোট-বড় মিলিয়ে ৫০টির বেশি ঝড়ের মুখে পড়তে হয়েছে এ পৃথিবীকে। আশঙ্কা রয়েছে, বছরের বাকি দু’মাসে কেবল প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতেই সাত থেকে ১১টি সাইক্লোন তৈরি হতে পারে, যার মধ্যে তিন থেকে চারটি হবে বড় ধরনের।

এসব ছাড়াও ভূমিকম্প, বনের আগুন, ভূমি ধস এবং বন্যার ঘটনা তো রয়েছেই।

এতো বেশি ঝড়ের জন্য পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান বলছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর ঝড় বেশি হচ্ছে। এমনকি একই সময়ে বিশ্বে একাধিক ঝড়েরও তৈরি হচ্ছে। বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং এল নিনোর নিরপেক্ষতার কারণে সাগরের পরিবেশগুলোও অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। যেমন ভারত মহাসাগরে স্বাভাবিকের তুলনায় তাপমাত্রা একদুই ডিগ্রি বেশি উষ্ণ ছিল। এসব কারণে এখানে ঝড়গুলো দ্রুত তৈরি হচ্ছে। তার অনেকগুলো পরবর্তীতে বড় হয়ে যাচ্ছে, অনেকগুলো আর বাড়ছে না।

তিনি বলছেন, যতদিন পর্যন্ত এসব সাগরের উষ্ণতা যথেষ্ট মাত্রায় নীচে নেমে না আসবে,ততদিন এসব ঝড়ের দেখা পাওয়া যাবে। সাইক্লোনের পরিবেশ তৈরির একটি বড় কারণ সাগরের ওপরের তাপমাত্রা ২৬.৫ বা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকা। এখন বিশ্বের অনেক এলাকার সমুদ্রেই এমনটা দেখা যাচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, নভেম্বর থেকে প্রশান্ত মহাসাগরে দুর্বল এল নিনো তৈরি হতে পারে। এল নিনো তৈরির ৭৫ শতাংশ সম্ভাবনা দেখছেন তারা।

আবদুল মান্নান বলছেন, এল নিনো তৈরি হলে বিশ্বের অন্যান্য এলাকায় সাগরের উষ্ণতা কমে যাবে। তখন এসব সাগরে ঝড়ের প্রবণতাও কমবে। তবে সেটি বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধিকে আবার প্রভাবিত করবে। গত বছর ঝড় কম হয়েছে। এবার আবার বেশি হচ্ছে। এভাবে আবার একটি মৌসুম আসবে, যখন দেখা যাবে ঝড়ের প্রবণতা অনেক কমে যাবে। বিশেষ করে এল নিনো (পেরুর উপকূলে সমুদ্রের উপরের পানি গরম হয়ে যাওয়া, যা সেখানে মেঘ সৃষ্টি আর প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়, দুই বা সাত বছর পরপর তৈরি হয়) তৈরি হলে সেটি বিশ্বের অন্যান্য এলাকায় একযোগে ঝড়ের প্রবণতা অনেক কমে যাবে।

ঝড় কেন তৈরি হয়

সমুদ্রের উষ্ণ পানির কারণে বায়ু উত্তপ্ত হয়ে হঠাৎ করে এসব ঝড়ের তৈরি হয়। তখন তুলনামূলক উষ্ণ বাতাস হালকা হয়ে যাওয়ার কারণে ওপরে উঠে যায়, আর ওপরের ঠাণ্ডা বাতাস নীচে নেমে আসে। এতে নীচের বায়ুমণ্ডলের বায়ুর চাপ কমে যায়। তখন আশপাশের এলাকার বাতাসে তারতম্য তৈরি হয়।

সেখানকার বাতাসের চাপ সমান করতে আশপাশের এলাকা থেকে প্রবল বেগে বাতাস ছুটে আসে। আর এ কারণেই তৈরি হয় ঘূর্ণিঝড়ের। এরফলে প্রবল বাতাস ও স্রোতের তৈরি হয়।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ : বিশ্বব্যাংক

ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিদ্যমান মান বিবেচনা করলে বাংলাদেশের শিশুরা ভারত ও পাকিস্তানের শিশুদের চেয়ে বেশি উৎপাদনশীল হবে। বিশ্বব্যাংকের ২০১৮ সালের মানবসম্পদ সূচকে এই চিত্র পাওয়া গেছে। এই সূচক অনুযায়ী, ১৫৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১০৬ তম। ভারত ও পাকিস্তান যথাক্রমে ১১৫ ও ১৩৪তম।

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে চলমান বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) যৌথ বার্ষিক সভায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ ভালো করেছে। আরও ভালো করার সুযোগ আছে। কেননা, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এগিয়ে থাকলেও অন্য দেশগুলো আরও অনেক ভালো করছে।

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার, শিশুদের স্কুলে পাঠ গ্রহণের সময়কাল, শিক্ষার মান, প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তত ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকা এবং শিশুদের সঠিক আকারে বেড়ে ওঠাসহ বেশ কয়েকটি সূচক দিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। আদর্শ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসুবিধা পেলে একটি শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে শতভাগ উৎপাদনশীলতা দেখাতে পারে। কিন্তু নিজ নিজ দেশে ভিন্ন ভিন্ন মানের সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী বেড়ে ওঠে শিশুরা। তাই সবাই সমানভাবে শতভাগ উৎপাদনশীলতা দেখাতে পারে না।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের একজন শিশু বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা পেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গড়ে ৪৮ শতাংশ উৎপাদনশীলতা দেখাতে পারবে। আদর্শ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসুবিধা পেলে তারা শতভাগ কর্মদক্ষতা দেখাতে পারত, সেখানে তারা অর্ধেকের কম দেখাতে পারবে। অন্যদিকে ভারত ও পাকিস্তান এ ক্ষেত্রে আরও পিছিয়ে। ভারতের শিশুরা ৪৪ শতাংশ ও পাকিস্তানের শিশুরা ৩৯ শতাংশ কর্মদক্ষতা দেখাতে পারবে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য শামসুল আলম গতকাল বলেন, এক দশক ধরেই সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। প্রতিবছর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকার বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। এ জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, যা মেধাসম্পদ তৈরি করছে। এর প্রতিফলন দেখা গেছে বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিবেদনে। তিনি জানান, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা হয়েছে। সেখানে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ থেকে ৪ শতাংশ শিক্ষা খাতে এবং ২ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে খরচ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

যেখানে এগিয়ে বাংলাদেশ
স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ এগিয়ে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে যত শিশু জন্ম নেয় এবং পাঁচ বছর বয়স হওয়ার পর ৯৭ শতাংশ শিশুই বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বা উপযোগী থাকে। নবজাতক ও শিশুমৃত্যুর হার কমাতে বেশ সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ভারতে এমন প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে ৯৬ শিশু বেঁচে থাকে। পাকিস্তানে এই হার ৯৩ শতাংশ।

বাংলাদেশের একটি শিশু ৪ বছর বয়সে পড়াশোনা শুরু করে ১৮ বছর পার হওয়ার আগে গড়ে ১১ বছর শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় থাকে। অন্যদিকে ভারতের শিশু ১০ দশমিক ২ বছর ও পাকিস্তানের শিশু ৮ দশমিক ৮ বছর স্কুলশিক্ষা পায়।

বাংলাদেশের ১৫ বছরের বেশি বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে গড়ে ৮৭ শতাংশ কমপক্ষে ৬০ বছর বেঁচে থাকবে। ভারতের ৮৩ শতাংশ শিশু-কিশোর কমপক্ষে ৬০ বছর বেঁচে থাকবে। আর পাকিস্তানের ৮৪ শতাংশ শিশু-কিশোরেরা এই বয়সসীমা পার করবে।

১০০ বাংলাদেশি শিশুর মধ্যে ৬৪ জন যথাযথ উচ্চতা নিয়ে বেড়ে ওঠে। প্রতি ১০০ জনে ভারতে তা ৬২ জন ও পাকিস্তানে ৫৫ জন। বিশ্বব্যাংক বলছে, এই ধরনের খর্বাকৃতি জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত বয়ে বেড়াতে হয়।

বিশ্বব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ মানবসম্পদ উন্নয়নে বেশ ভালো করছে। বিশ্বব্যাংক মনে করে, খর্বাকৃতি ও মানসম্পন্ন শিক্ষার অভাবই বাংলাদেশের শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়তে বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। কোনো দেশের শিশুরা যদি ভবিষ্যতে অর্ধেক উৎপাদনশীলতা দেখাতে পারে, তাহলে ওই দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অর্ধেকই হারিয়ে যায়।

অন্যরা আরও ভালো
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে ১৫৭টি দেশের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এই তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশ আছে। বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। দক্ষিণ এশিয়ার শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে শ্রীলঙ্কা। দেশটি ৭৪ তম স্থানে। শ্রীলঙ্কায় শিশুদের উৎপাদনশীলতা হবে ৫৮ শতাংশ। এরপর নেপালের অবস্থান ১০২ তম। নেপালের শিশুদের উৎপাদনশীলতা ৪৯ শতাংশ। আর ১৩৩ তম স্থানে থাকা আফগানিস্তানের শিশুদের উৎপাদনশীলতার হার ৩৯ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের সূচকে শীর্ষ তিনটি স্থানেই এশিয়ার তিনটি দেশ। প্রথম স্থানে থাকা সিঙ্গাপুরের শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসুবিধা এমন যে তারা ভবিষ্যতে ৮৮ শতাংশ উৎপাদনশীলতা দেখাতে পারবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে যথাক্রমে কোরিয়া ও জাপান। ওই দেশেরই শিশুদের উৎপাদনশীলতা ৮৪ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের সূচকে সবচেয়ে খারাপ, মানে ১৫৭ তম স্থানে আছে আফ্রিকার দেশ শাদ। দেশটির শিশুরা ভবিষ্যতে মাত্র ২৯ শতাংশ কর্মদক্ষতা দেখাতে পারবে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, এখন সারা বিশ্বে যত শিশু জন্ম নেবে, এর ৫৬ শতাংশই তাদের অর্ধেক উৎপাদনশীলতা হারিয়ে ফেলবে। কেননা ওই সব দেশের সরকার নিজ নিজ দেশের ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ গড়ে তোলার জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করতে পারছে না।

জেনে নিন,পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে ফোন আনলক করবেন যেভাবে

ফোনের তথ্যকে সুরক্ষিত রাখতে অনেকেই ব্যবহার করেন পাসওয়ার্ড৷ কিন্তু বেশীরভাগ সময়ই পাসওয়ার্ড মনে রাখা বেশ কষ্টকর হয়ে ওঠে৷ বার বার ভুল প্যার্টান বা পাসওয়ার্ড দেওয়ার ফলে ফোনে তৈরি হয় সমস্যা৷ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বেশীরভাগ সময়ই তথ্য সুরক্ষিত রাখতে কঠিন পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পরামর্শ দেন৷ আর সেখানেই তৈরি হয় সমস্যা৷ ভুলের যাওয়ার সম্ভবনা বাড়ে৷ কিন্তু এখন পাসওয়ার্ড ভুলে গেলেও সহজে ‘আনলক’ করতে পারবেন ফোনটিকে৷ চলুন জেনে নেই সেই পদ্ধতিটা-

Android Device Manager ব্যবহার করে কীভাবে ফোনকে আনলক করবেন?
নিজের ফোন বা PC থেকে ওপেন করুন https://myaccount.google.com/find-your-phone-guide৷ এরপর ফোনের সঙ্গে লিঙ্ক থাকা গুগল অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করুন৷ লগ-ইনের পর তালিকাতে থাকা ডিভাইসটিকে আনলক করার জন্য বেছে নিন৷

‘Lock your phone’ অপশনটিকে সিলেক্ট করে নতুন একটি পাসওয়ার্ড দিন৷ যেটি রিপ্লেস করবে আপনার ফোনের পুরনো পিন, প্যার্টান অথবা পাসওয়ার্ডটিকে৷ এবার ক্লিক করুন ‘Lock’অপশনে৷ এরপর নতুন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সেট করুন নতুন পিন অথবা প্যার্টানকে৷

Android Device Manager ছাড়াও রইল ফোন আনলকের আরও একটি উপায়৷ Google Assistant সঠিকভাবে সেট করার পর একটি অপশন আসবে ‘Unlock with voice’৷ ফিচারটি কাজ করবে আগে থেকে রেকর্ড থাকা ভয়েসের উপর৷ স্মার্টফোন আনলক করতে ফিচারটি অন থাকাকালীন বলুন ‘Ok Google’৷ ব্যাস তাহলেই এক নিমেষে আপনার ফোন হয়ে যাবে আনলক৷c

মোবাইল নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর পরিবর্তন শুরু

রীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) সেবা। গ্রাহকেরা এখন মোবাইল নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলাতে পারবেন।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), এমএনপি সেবার দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠান ইনফোজিলিয়ন টেলিটেক-বিডি ও মোবাইল অপারেটরেরা জানিয়েছেন, তারা এ সেবা দিতে প্রস্তুতি শেষ করেছে।

ইনফোজিলিয়নের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাবরুর হোসেন রোববার সন্ধ্যায় বলেন, সেবাটি চালু করতে শনিবার রাত থেকেই পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। ছোট খাট সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। গ্রাহকেরা সোমবার থেকে অপারেটর বদল করতে পারবেন।

অপারেটর বদলাতে গ্রাহককে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যাবলি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের (যেটায় যেতে আগ্রহী) কাস্টমার কেয়ার বা সেবা কেন্দ্রে যেতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নতুন সিমটি চালু হওয়ার কথা। একবার অপারেটর বদলালে গ্রাহককে নতুন অপারেটরে ৯০ দিন থাকতে হবে।

একবার অপারেটর বদলাতে গ্রাহকের ফি ৫০ টাকা। এর ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আছে। ফলে গ্রাহকের ফি দাঁড়াচ্ছে ৫৭ টাকা ৫০ পয়সা। প্রতিবার অপারেটর বদলাতে গ্রাহককে নতুন সিম নিতে হবে। সিম পরিবর্তন বা রিপ্লেসমেন্টের ওপরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ১০০ টাকা কর আছে। ফলে সব মিলিয়ে গ্রাহকের ফি দাঁড়াচ্ছে ১৫৮ টাকা। অবশ্য অপারেটরেরা গ্রাহক টানতে তাদের কাছ থেকে ফি কম নিতে পারে। ফলে অপারেটরেরা কত টাকা নেবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। এর বাইরে অপারেটরের ফি আছে ১০০ টাকা, যা এমএনপি সেবাদাতাকে দিতে হবে।

জানা গেছে, সব কটি অপারেটরই এ সেবা দিতে প্রস্তুত। এ বিষয়ে সবচেয়ে বড় অপারেটর গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অফিসার মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘আমরা গ্রাহকদের স্বাগত জানাতে সব প্রস্তুতি শেষ করেছি। আমাদের নেটওয়ার্ক দেশসেরা। গ্রাহকেরা এ নেটওয়ার্কে এলে তাদের অর্থের সবচেয়ে বেশি উপযোগিতা পাবেন। গ্রাহকেরা গ্রামীণফোনের ওপর তাদের আস্থা অব্যাহত রাখবে, এ আত্মবিশ্বাস আমাদের আছে।’

এ দিকে দ্বিতীয় শীর্ষ অপারেটর রবি আজিয়াটা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, তাদের গড়া দেশের বৃহত্তম ৪ দশমিক ৫ জি নেটওয়ার্কে গ্রাহককে স্বাগত জানানোর সুযোগ পেয়ে তারা আনন্দিত। তাদের গ্রাহক হলে যেকোনো অপারেটরে ৫০ পয়সা মিনিট রেটে কথা বলা যাবে। রবির গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকরাম কবীর বলেন, রবি ও এয়ারটেল নেটওয়ার্কে যোগ দিলে সেরা ভিডিও ও ইন্টারনেট সেবা উপভোগ করতে পারবেন গ্রাহকেরা।

ধর্ষণের শিকার তরুণীর মামলা ফেসবুকের বিরুদ্ধে

পনেরো বছর বয়সে এক ফেসবুক ফ্রেন্ডের দ্বারা ধর্ষিত, নির্যাতিত ও যৌনদাসী হিসেবে পাচার হওয়ার পর এক মার্কিন নারী সামাজিক মাধ্যমটির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ওই দালাল ফেসবুকে বন্ধু হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে। ফেসবুকের কর্মচারীরা জানতো তাদের সাইটে একটি চক্র এভাবে শিশুদের যৌনকর্মী হিসেবে পাচারে সক্রিয় রয়েছে।

জেন ডো নামের ওই নারী সোমবার হ্যারিস কাউন্টি ডিসট্রিক্ট কোর্টে এই মামলা দায়ের করেন। ফেসবুকের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাকপেজ ডট কম নামের একটি সাইটের বিরুদ্ধেও মামলা করেছেন তিনি। ব্যাকপেজের সাইট মার্কিন কর্তৃপক্ষ কয়েকদিন আগে বন্ধ করে দিয়েছে।

এ বিষয়ে রয়টার্সকে কোনো মন্তব্য দেয়নি ফেসবুক বা ব্যাকপেজ।

মামলায় বলা হয়, ২০১২ সালে ওই দালাল মেয়েটিকে ফেসবুক মেসেজে জানায় সে ওই মেয়ের বন্ধুদেরকে চেনে। এরপর তাদের মধ্যে বন্ধুত গড়ে ওঠে।

একসময় মেয়েটি তার মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করলে, ওই ফেসবুক ব্যবহারকারী তাকে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে আসে। কিন্তু মেয়েটিকে তার বাড়ি থেকে নিয়ে আসার পর ওই পাচারকারী তাকে মারধর এবং ধর্ষণ করে। এরপর তার ছবি তুলে ব্যাকপেজ ডটকমে বিজ্ঞাপন দেয়।

মেয়েটির অভিযোগ, ফেসবুক ওই লোকের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়নি। ওই ব্যক্তি ভুয়া নাম-পরিচয় ব্যব্হার করছিল। সামাজিক মাধ্যমে যৌনদাসী পাচারকারীরা সক্রিয় রয়েছে এ বিষয়ে ফেসবুক সাইটটি কখনোই জেন ডোকে সতর্ক করেনি।

বিকল্প নিয়ে আসছেন ইন্টারনেটের উদ্ভাবক

ড. ফ্রাঙ্কেন্সটাইন যেমন তার তৈরি করা দানবের কাজে আতঙ্কিত ছিলেন, তেমনই ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের অর্থাৎ ইন্টারনেটের উদ্ভাবক টিম বার্নারস-লিও তার উদ্ভাবনের কুফলে বিরক্ত।

ইন্টারনেট ‘অসাম্য ও বিভাজনের উৎপাদনের যন্ত্র’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। কিন্তু বার্নার্স-লি বিশ্বাস করেন তিনি এখন ইন্টারনেটের বিকল্প একটি ওয়েব উদ্ভাবন করেছেন যেখানে ইউজাররা ফেসবুক, অ্যামাজন ও গুগলের মতো ইন্টারনেট জায়ান্টকে এড়িয়ে চলতে পারবে।

সবার জন্য উন্মুক্ত এই প্রকল্পের নাম ‘সলিড’। এখানে ইউজাররা তাদের তথ্য কোথায় রাখবেন এবং কাদের সঙ্গে শেয়ার করবেন বা কারা এগুলো দেখতে পারবে সেটা তারা নিজেরাই ঠিক করতে পারবেন। বিপুল পরিমাণ তথ্য গুটিকয় বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের হাতে কুক্ষিগত হয়ে না থাকার ফলে ওয়েবের ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ঘটবে।

একটি ব্লগ পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এখন ইউজাররা জরুরী মনে করায় তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ডিজিটাল জায়ান্টগুলোকে দিয়ে থাকেন। কিন্তু সলিড এই ব্যবস্থা বদলে দিবে। আমরা সবাই দেখেছি প্রচলিত পদ্ধতি আমাদের জন্য বিশেষ উপকারী নয়।’

‘কার্যত সলিড প্রত্যেক ইউজারকে তাদের নিজস্ব ইন্টারনেট দিয়ে থাকে’, মার্কিন মাগাজিন ফাস্ট কোম্পানিকে জানান বার্নার্স-লি।

বিদেশি হ্যাকারদের দ্বারা ফেসবুকের তথ্য বেহাত হয়ে যাওয়ার প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদেরকে এখনই করতে হবে, কারণ এটা একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত।’

এছাড়াও, ‘আমরা এখন সলিডের জমানায় উপস্থিত’ হয়েছি, যোগ করেন তিনি।

অক্সফোর্ডে শিক্ষিত ৬৩ বছর বয়সী বার্নার্স-লি বেশ কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজিতে (এমআইটি) সলিড প্রকল্পে কাজ করছেন। অক্সফোর্ডের সঙ্গে সঙ্গে তিনি এমআইটিতেও অধ্যাপনা করেন।

বার্নার্স-লি ইনরাপ্ট নামের একটি ব্যবসার উদ্যোগ শুরু করেছেন, যা সপ্তাহে উদ্বোধন করা হবে। এটির মাধ্যমে ইউজাররা সলিডে তাদের নিজস্ব বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করতে পারবেন।

সলিডের ইন্টারনেটের প্রযুক্তির মতোই কাজ করবে কিন্তু, বিভিন্ন অ্যাপ ও সাইটের সঙ্গে ডেভেলপারদের সলিডকে সংযুক্ত করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় প্রথম পর্যায়ের অ্যাপগুলোর বাজারে আনার কাজ চলছে, ইনরাপ্টের বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানায় এনগ্যাজেট সাইট।

সর্বনাশের আরেক নাম ফেসবুক!

ফেসবুকের দুর্বলতা আরও একবার দেখল বিশ্ব। ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষা দিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটটির কর্তৃপক্ষ। ফেসবুক থেকে পাঁচ কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে সাইবার দুর্বৃত্তরা।

এই পাঁচ কোটি ব্যবহারকারীর মধ্যে আপনার অ্যাকাউন্ট থাকতে পারে। প্রায় এক বছর ধরে ঝুলে থাকা ফেসবুকের কোডের নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে যাঁরা আক্রমণের শিকার হননি, তাঁরাই–বা কতটুকু নিরাপদ?

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেসবুক নিয়ে এখন পুরোপুরি নিরাপদ বোধ করার কোনো উপায় নেই। ফেসবুকের ব্যর্থতায় আপনাকেও কোনো না কোনো সময় পস্তাতে হবে। ফেসবুক আপনার নিরাপত্তা দিতে সক্ষম নয়।

টেকক্রাঞ্চ বলছে, ফেসবুক বারবার এটা প্রমাণ করেছে যে তারা শুধু নিজেদের পণ্যের এজেন্ডা বাস্তবায়নে বেশি জোর দেয়। তারা ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা ও প্রাইভেসিকে গুরুত্ব দেয় কম। এটা না করলে ফেসবুক থেকে বারবার বিশাল আকারের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব ছিল না।

একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, ফেসবুক এখন যতটা বড় হয়েছে, তাতে এর বিশাল তথ্যভান্ডারকে পুরোপুরি নিরাপদ রাখা অসম্ভব। গত ২৬ সেপ্টেম্বরে ফেসবুকের এ রকম ব্যর্থতার বিষয়টি সামনে এল। হ্যাকাররা প্রায় এক বছর আগেই ফেসবুকের নিরাপত্তা ত্রুটির কথা জানত এবং পাঁচ কোটি ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে ঢোকার সুযোগ ছিল তাদের কাছে।

ফেসবুকের এ হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি কদর্য ঘটনার কাছাকাছি বলা যায়। ফেসবুকের কাছে কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে অস্বাভাবিক আচরণের বিষয়টি ধরা যায়নি। অর্থাৎ হ্যাকারদের আচরণ ছিল সাধারণ ব্যবহারকারীর আচরণের মতোই। এতে ব্যবহারকারীর টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন নোটিফিকেশন দেখায়নি। অ্যাপ ইনস্টল করা, সেটিংস পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোর মতো বিষয়গুলোও খুব স্বাভাবিকভাবে করতে পেরেছে হ্যাকাররা।

এর কারণ হচ্ছে ফেসবুকের ব্যাপকতা ও জটিলতা। ফেসবুকে বিশ্বের সবচেয়ে সেরা সফটওয়্যার প্রকৌশলীরা কাজ করেন। তাঁদের পক্ষেও যৌক্তিক নকশা ও কোড করা সম্ভব হয়নি, যাতে এ ধরনের সম্ভাব্য আক্রমণ ঠেকানো যায়। এর আগে অবশ্য ফেসবুকের কোড নিয়ে এত বড় ধাক্কা খেতে হয়নি তাঁদের। এর আগে গত মার্চে ঘটে যাওয়া কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারি ছিল তাঁদের নীতি ও বিচারের দুর্বলতা, সেখানে কোডের বিষয় ছিল না।

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলেন, হ্যাকারদের মধ্যে কোনো কোডের ব্যর্থতা মানে পুরস্কার জয়ের একটা সম্ভাবনার বিষয় হিসেবে দেখা হয়। বড় বড় সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বাগ বাউন্টি কর্মসূচির অধীনে তাদের কোডের দুর্বলতা বের করে দিলে বড় অঙ্কের অর্থ পুরস্কার দেয়। অবশ্য সব হ্যাকার এক রকম নয়। অনেকেই ডার্ক ওয়েবে হাতিয়ে নেওয়া তথ্য বিক্রি করে দেন। এ ক্ষেত্রে ফেসবুক সবচেয়ে বড় ও মূল্যবান ব্যক্তিগত তথ্যের খনি। তাই স্বাভাবিকভাবেই এটা হ্যাকারদের লক্ষ্যবস্তু হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ফেসবুকের নেটওয়ার্কে হানা দিয়ে কোডের দুর্বলতা কাজে লাগানো এবং তথ্য হাতিয়ে নেওয়া কোনো ছেলেখেলা নয়। অবসরে অগোছালো কোড লিখে ফেসবুকের তথ্য হাতানো সহজ কাজ নয়।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের নেটওয়ার্কে যে হামলা চালানো হয়েছে, তা সহজ ছিল না। এটা জটিল আক্রমণ। যৌথভাবে খুবই জটিল প্রক্রিয়ায় একসঙ্গে যুক্ত হয়েছে ওই দুর্বলতা কাজে লাগানো হয়েছে। যারা এ কাজ করেছে, তারা খুবই দক্ষ। তাদের কাজের জন্য ব্যাপক পুরস্কার পাবে তারা।

এ হ্যাকিংয়ের ফলে ফেসবুকের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। আস্থার সংকটে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এটাকে এক ঝুড়িতে সব ডিম রাখার মতো ঘটনা বলা যায়। একটি সমস্যার কারণে ওই প্ল্যাটফর্মের সব তথ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ছোট ত্রুটি কাজে লাগিয়ে ব্যাপকসংখ্যক মানুষের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব।

অনলাইন ব্যবহারকারীকে প্রলুব্ধ করে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া বা সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও কৌশলতে কারও লগইন ও পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নিতে পারে সাইবার দুর্বৃত্তরা। একে ফেসবুকের দুর্বলতা বলা যায় না। ফেসবুক যেভাবে নকশা করা হয়েছে, তাতে সামান্য ত্রুটি কাজে লাগিয়ে পুরো প্রাইভেসিকে তছনছ করে ফেলা যায়।

শুধু ফেসবুক নয়, অন্য সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা দুর্বলতা ব্যাপক। কিন্তু ফেসবুকের ক্ষেত্রে বারবার ব্যর্থতার ঘটনা ঘটছে।

এর আগে যুক্তরাজ্যের নির্বাচনী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা ফেসবুক থেকে তথ্য হাতিয়ে নিয়েছিল। ওই সময় ফেসবুকের তথ্য সুরক্ষা দেওয়া উচিত ছিল তাতে ব্যর্থ হয়েছে।

ফেসবুকের আরেকটি ব্যর্থতা হচ্ছে তাদের প্ল্যাটফর্মে কনটেন্টের সুরক্ষা। স্প্যাম, বট, ঘৃণা ছড়ানো বক্তব্যর মতো নানা বিষয় এখানে ছড়িয়ে পড়েছে। ফেসবুকের ২০ হাজার শক্তিশালী মডারেশন টিম তা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। বৈশ্বিক পর্যায়ে নানা জটিলতা, নানা সংস্কৃতি ও আইনের বেড়াজালে ফেসবুক ঘিরে নানা সহিংসতা ও নাখোশের বিষয়টি সহজে যাবে না। ফেসবুক সর্বোচ্চ যেটা করতে পারে, তা হলো এসব বিষয় ছড়িয়ে পড়া বা প্রচার হওয়ার পর কেবল সরিয়ে নেওয়া।

ফেসবুক প্ল্যাটফর্মটিকে অপব্যবহারের দোষ ফেসবুককে দেওয়া ঠিক হবে না। এর জন্য কিছু মানুষই দায়ী। ফেসবুককে এসব ঠেকানোর জন্য জোরালো ভূমিকা নিতে হবে। নতুন ধরনের যেসব ক্ষতির বিষয় উঠে আসছে, ফেসবুক সেগুলো থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।

আইএএনএসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিভিন্ন সাইট থেকে তথ্য চুরির ঘটনায় সহজলভ্য তথ্যের ভূমিকাও কম নয়। ফেসবুকের তথ্য হ্যাক করার বিভিন্ন টিউটোরিয়াল ইউটিউবের মতো সাইটে বিনা মূল্যে পাওয়া যায়।

টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শুক্রবার ফেসবুকের হ্যাকিংয়ের খবর যখন জানাজানি হলো, তখন ইউটিউবে কিছু ভিডিও বারবার দেখা হয়। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট যেভাবে হ্যাক হয়েছে, অনুরূপ ভিডিও ইউটিউবে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি স্বীকার করেছেন ফেসবুকের সাইবার নিরাপত্তা পলিসি বিভাগের প্রধান নাথানিয়েল গ্লেইসার। তিনি বলেছেন, আক্রমণ শেখানো বিভিন্ন ভিডিওর বিষয়টি সম্পর্কে তাঁরা অবগত। ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট সুরক্ষা দিতে এসব ভিডিও বিষয়ে তাঁরা ব্যবস্থা নেবেন।

গুগল বলছে, যেসব ভিডিও সম্পর্কে ব্যবহারকারীরা পতাকা দেখান, সেগুলো পর্যালোচনা করে তারা এবং সরিয়ে ফেলে। ক্ষতিকর উদ্দেশ্য পোস্ট করা কোনো ভিডিও তারা রাখে না।

একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী হিসেবে আপনি কী করতে পারেন? সত্যি কথা বলতে কি, আপনার কিছু করার নেই। আপনি যদি এখন ফেসবুক ব্যবহার ছেড়ে দেন, তাতেও খুব বেশি লাভ নেই। আপনার ব্যক্তিগত তথ্য হয়তো কোথাও ফাঁস হয়ে রয়ে গেছে। অনলাইনে কোথাও না কোথাও আপনার অস্তিত্ব থেকে যাবে। যদি এখনো কেউ এর ব্যতিক্রম থাকেন, তবে তিনিও ঝুঁকিতে আছেন। ফেসবুক আপনাকে সেই ঝুঁকিতে ফেলছে। যত দ্রুত আপনি ও ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মেনে নেবেন, তত দ্রুত নিরাপত্তা ও প্রাইভেসি বিষয়ে সত্যিকারের পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।

পদার্থবিদ্যায় নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী

তারা হলেন আর্থার অ্যাশকিন (যুক্তরাষ্ট্র), জেরার্ড মোরো (ফ্রান্স) এবং ডনা স্ট্রিকল্যান্ড (কানাডা)। ডনা পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে গত ৫৫ বছরের নারীদের নোবেল বন্ধ্যাত্ব ঘোচালেন।

রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি জানিয়েছে, এবছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারের অর্ধেক পাবেন আর্থার অ্যাশকিন আর বাকি অর্ধেক পাবেন জেরার্ড মোরো এবং ডনা স্ট্রিকল্যান্ড।

বিজ্ঞানী আর্থার অ্যাশকিন অপটিকাল টুইজারস আবিস্কার করেন, যেটা আলোকে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাকেও নিপূণভাবে ব্যাবহার করার সুযোগ দেয়। অন্য দুই বিজ্ঞানী জেরার্ড মোরো ও ডনা স্ট্রিকল্যান্ড কাজ করেছেন খুবই ছোট ও তীব্র লেজার পালসের উন্নয়ন নিয়ে।

৫৫ বছর আগে ১৯৬৩ সালে দ্বিতীয় ও সর্বশেষ নারী হিসেবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান মারিয়া গোপার্ট মেয়ার। এর আগে ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান মেরি কুরি।

২০১৭ সালে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ (গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ) সনাক্ত করে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান লিগোর (লেজার ইন্টারফেরোমিটার গ্রাভিটেশনাল-ওয়েভ অবজারভেটরি) তিন বিজ্ঞানী রাইনার উইস, কিপ এস থর্ন, ব্যারি সি ব্যারিশ।

সুইডিশ রসায়নবিদ আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছানুসারে ১৯০১ সাল থেকে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, মেডিসিন, শান্তি ও সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। অর্থনীতিতে নোবেল দেওয়া হয় ১৯৬৯ সাল থেকে।

নতুন আইফোনে পানি ঢুকবে না, ছবি রাখা যাবে দুই লাখ

বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল নতুন সংস্করণের তিনটি আইফোন ও একটি অ্যাপল ওয়াচ (ঘড়ি) উন্মুক্ত করেছে। আইফোন তিনটি হলো- ‘আইফোন টেনএস’, ‘আইফোন টেনএস ম্যাক্স’ এবং ‘আইফোন টেনআর’। এর মধ্যে আইফোন টেনএস ম্যাক্সের ডিসপ্লে ৬.৫ ইঞ্চি, যা আইফোনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ডিসপ্লে। এছাড়া নতুন উন্মুক্ত অ্যাপল ওয়াচটি ব্যবহারকারীর হৃদপিণ্ড ঠিকমতো কাজ করছে কিনা তার তথ্য জানাবে।

নতুন সংস্করণের আইফোন কেনার জন্য শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) থেকে বিশ্বের ৩০টি দেশে প্রি-অর্ডার করা যাবে। তবে সে সব দেশের অ্যাপল স্টোরে এ ফোনগুলো পাওয়া যাবে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে।

শুরুতে আইফোন টেনএস এর দাম ধরা হয়েছে ৯৯৯ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় (৮৩.৪১ প্রতি ডলার) প্রায় ৮৪ হাজার টাকা। আইফোন টেনএস ম্যাক্স এর দাম ১০৯৯ ডলার, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯২ হাজার এবং ২৫৬ জিবির আইফোন টেনআর এর দাম ধরা হয়েছে ৮৯৯ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭৫ হাজার।

অ্যাপল নতুন সংস্করণের এ তিনটি আইফোন ও ওয়াচ নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ‘আইফোন টেনএস’ এবং ‘আইফোন টেনএস ম্যাক্স’ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। তিনিটি নতুন সংস্করণের মধ্যে ‘আইফোন টেনআর’-এর দাম কম। অ্যাপল বলছে, স্মার্ট ফোনের ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় ধরনের অগ্রগতি।

নতুন সংস্করণের তিনটি আইফোনে যা রয়েছে

১. নতুন সংস্করণের ‘আইফোন টেনএস’ এবং ‘আইফোন টেনএস ম্যাক্স’-এর ডিসপ্লে হবে আগের তুলনায় অনেক ঝকঝকে। এখানে সুপার রেটিনা ডিসপ্লে সংযোজন করা হয়েছে। এ ফোন সেট পানি ঢুকবে না। দুই মিটার পানির নিচে ৩০ মিনিট পর্যন্ত থাকতে পারবে। এছাড়া প্রতিদিনের ব্যবহার সময় চা, কফি কিংবা অন্যকোনো ধরনের তরল জিনিস ফোন সেটের উপর পড়লেও কোনো সমস্যা হবে না।

২. নতুন এ দুটো আইফোন সেটে ছবি, ভিডিও, ভিডিও এডিটিং এবং গ্রাফিক্সের জন্য ভালো ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। এর ধারণ ক্ষমতা সর্বোচ্চ ৫১২ জিবি।

৩. ৫১২ জিবিতে সর্বোচ্চ দুই লাখ ছবি রাখা যাবে। ফোন সেটে ব্যবহার করা হয়েছে এ ১২ বায়োনিক চিপ। স্মার্ট ফোনের জগতে এটি সবচেয়ে উন্নত বলে বলছে অ্যাপল।

৪. নতুন সংস্করণের আইফোনে ছবি তোলার পর সেটির ব্যাকগ্রাউন্ডের গভীরতা পরিবর্তন করা যাবে। আইফোন টেনএস ম্যাক্স এর ডিসপ্লে ৬.৫ ইঞ্চি, যা এ যাবতকালে আইফোনের সবচেয়ে বড় ডিসপ্লে।

৫. ব্যাটারির ক্ষমতা পুরনো সংস্করণের চেয়ে কিছুটা উন্নত। আইফোন টেন-এর চেয়ে টেনএস-এর ব্যাটারিতে চার্জ থাকবে ৩০ মিনিট বেশি। অন্যদিকে টেনএস ম্যাক্স-এ ব্যাটারির চার্জ থাকবে দেড় ঘণ্টা বেশি।

৬. আইফোন টেনএস এবং টেনএস ম্যাক্স পাওয়া যাবে ৬৪ জিবি, ২৫৬ জিবি এবং ৫১২ জিবি। শুরুতে এর মূল্য হবে যথাক্রমে ৯৯৯ মার্কিন ডলার এবং ১০৯৯ মার্কিন ডলার।

৭. নতুন সংস্করণের আইফোনের একটিতে পেছনে তিনটি ক্যামেরা থাকবে বলে বাজারে জোর গুজব উঠেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেল ‘আইফোন এক্সএস’ এবং ‘আইফোন এক্সএস ম্যাক্স’-এ ১২ মেগাপিক্সেল-এর দুটো ক্যামেরা রয়েছে। এখানে রয়েছে টুএক্স অপটিক্যাল জুম এবং ডুয়াল অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন। ফটোগ্রাফির জগতে এটি নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে অ্যাপল জানিয়েছে।

শুধু ছবি নয়, উন্নত মানের ভিডিও ধারণ করা যাবে এ ফোন সেটের মাধ্যমে। ভিডিও ধারণের সময় নড়াচড়া হলেও ভিডিওতে সেটির প্রভাব পড়বে না এবং কম আলোতেও ভালো মানের ভিডিও ধারণ সম্ভব হবে। কারণ এখানে রয়েছে উন্নত মানের ইমেজ স্ট্যাবিলাইজার। ভিডিও’র শব্দ হবে উন্নত মানের। এর আগে সর্বশেষ ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে আইফোন এক্স বাজারে এনেছিল অ্যাপল।

এছাড়া অ্যাপলের নতুন সংস্করণের হাতঘড়ি ব্যবহারকারীর হৃদপিণ্ডের অবস্থা পরিমাপ করতে পারবে। হৃদযন্ত্রের কম্পন অনিয়মিত হচ্ছে কিনা সেটি চিহ্নিত করতে পারবে এ অ্যাপল ঘড়ি। এটা অনেকটা ইসিজি যন্ত্রের মতো কাজ করবে।

নতুন অ্যাপল ওয়াচে এমন একটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যার মাধ্যমে ঘড়ির ব্যবহারকারী কোথাও পড়ে গেলে এবং এক মিনিট নড়াচড়া না করলে অ্যাপল ওয়াচ থেকে জরুরি সেবায় বার্তায় পাঠাবে। সে বার্তায় ব্যবহারকারী অবস্থান সম্পর্কেও তথ্য থাকবে।

সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ, বিবিসি

বিশ্বের ১'শ ব্যক্তির মধ্যেই প্রতিমন্ত্রী পলককে রাজনীতিবিদ ক্যাটাগরিতে মূল্যায়ন

বাংলাদেশের সাংবিধানিক নামের এইদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। এমন এই দেশ সুুুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা, মাছে-ভাতের নদী মাতৃক দেশ। এমন দেশের সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। সুতরাং এমন এই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার উঠে পড়েই লেগেছে। বলতে বাধা নেই এই দেশ, একটি উন্নয়নশীল দেশ। এইদেশে শিক্ষার হার উন্নত দেশের তুলনায় কম বলা চলে। দেখা যায় স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পেলেও শিক্ষার মানের উন্নয়ন ঘটেনি সেই হারে। আবার মানুষের জীবন যাপনের ব্যাপক পরিবর্তনও ঘটেছে। সাথে সাথে রুচিবোধের পাশা পাশি সামাজিক রীতিনীতি, কৃষ্টি কালচারের চর্চাটাও অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এই দেশের সরকার বৃহৎ একটি স্বপ্ন কিংবা আশা আকাঙ্ক্ষার আলোকে সমাজ পরিচালিত করছে। 

বাংলাদেশকে নিয়ে সুচিন্তিত পরিকল্পনায় আওয়ামী লীগ সরকার বিরাট এক পরিবর্তন আর ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ নামক একটি প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
বর্তমান সরকার ডিজিটাল কার্যক্রমের মাধ্যমে সারা বিশ্বে তথ্য প্রযুক্তির সুফল পাওয়ার লক্ষ্যেই নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগ সরকার মহাকাশে খুব গুরুত্বপূর্ণ এক সফল নির্মাণ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। তবে জানা দরকার মহাকাশে বিভিন্ন প্রকার স্যাটেলাইট রয়েছে। এই গুলোর মধ্যে- 'আবহাওয়া স্যাটেলাইট,' 'পর্যবেক্ষক স্যাটেলাইট,' 'ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট'। তাছাড়া বিএস-ওয়ান স্যাটেলাইট হচ্ছে যোগাযোগ ও সম্প্রচার স্যাটেলাইট।
"বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট" এর কাজ মুলত টিভি চ্যানেল গুলোর স্যাটেলাইট সেবা নিশ্চিত করা। এমন এই স্যাটেলাইটের সাহায্যে চালু করা যাবে ডিটিএইচ বা ডিরেক্ট টু হোম ডিশ সার্ভিস। তাছাড়াও এই 'বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট' যেসব জায়গায় অপটিক কেবল কিংবা সাবমেরিন কেবল পৌঁছায়নি সে সব জায়গায় এমন স্যাটেলাইটের সাহায্যে নিশ্চিত ভাবেই তা পৌঁছাবে।আরও পারে ইন্টারনেট সংযোগ। সুতরাং আওয়ামী লীগ সরকার স্যাটেলাইটের সুফল পৌঁছে দিতে যেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের দোরগোড়ায় অনেকে কাজ করছে। তাদেরই মধ্যে ‘'সবচেয়ে প্রভাবশালী'’ ও "কর্মদক্ষ" ১০০ জন ব্যক্তির নামের এক তালিকা "আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক অ্যাপলিটিক্যাল" প্রকাশ করেছে। এমন এই তালিকায় উল্লেখ যোগ্য ব্যক্তির মধ্যেই 'অস্ট্রেলিয়ার প্রধান মন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল,' 'ঘানার প্রেসিডেন্ট নানা-আকুফো আদো' ও 'ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের প্রতিষ্ঠাতা টিম বারনার্সলি'র সঙ্গে বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রতিমন্ত্রী 'জুনাইদ আহমেদ পলক' এর নামও স্থান পেয়েছে।একুশ শতকে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই শেখ হাসিনা ছয় জানুয়ারি ২০০৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয় বারের মতো শপথ নিয়েছিলেন। সুতরাং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের বছরে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ ও তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণই ছিল সরকারের মূল নির্বাচনী ইশতেহার। তাই সরকার চ্যালেঞ্জ নিয়েই যেন দিনে দিনে তথ্য প্রযুক্তির অনেক ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনে সক্ষম।
অ্যাপলিটিক্যালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা "রবিন স্কট" বলেছেন, 'বিশ্বের নানা প্রান্তে যারা ডিজিটাল গভার্নেন্স প্রতিষ্ঠায় রত তারা নিরলস ভাবেই কাজ করছে, তাদের খুঁজে পেরেছি এটা অনেক আনন্দের বিষয়। এমন এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিগণ স্ব স্ব ক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়ন। তাঁরা জ্ঞানের আলোকে সারাবিশ্ব সহ বাংলাদেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছায়ে দিচ্ছে এবং বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তির কাজ করছে। এই প্রযুক্তির ঝুঁকি কমানোর অনেক চেষ্টাও করছেন।' বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমন এই উদ্যোগের আলোকে বলা যায়, ১২ ডিসেম্বর, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ এর নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা ছিল ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছরে এদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত হবে। একটি উন্নত দেশ হবে, সমৃদ্ধশালী ডিজিটাল সমাজ হবে, এমন ডিজিটাল যুগের জন সাধারণ অনেকাংশেই যেন সফলতার দ্বার প্রান্তেই পৌঁছাবে, রূপান্তরিত অনেক উৎপাদন ব্যবস্থা চালু হবে, নতুন নতুন জ্ঞানভিত্তিক সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সমন্বয়ে একটি জ্ঞান ভিত্তিক সমাজের স্বপ্নেই বিভর ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ১মবারের মতো ‘'ওয়ার্ল্ডস হান্ড্রেড মোস্ট ইনফ্লুয়েনশিয়াল পিপল ইন ডিজিটাল গভার্নমেন্ট’'- শীর্ষক তালিকায় প্রতিমন্ত্রী পলকের নাম এসেছে ‘রাজনীতিবিদ’ ক্যাটাগরিতে।
সুতরাং তাঁদের প্রধান এই বিষয়ের কাজও ত্বরান্বিত হচ্ছে।
আসলেই এমন এই উদ্যোগের ডিজিটাল বাংলাদেশ সত্যিই বিশ্বের জ্ঞানভিত্তিক সমাজের সঙ্গে মিলিয়েই বাংলার জনগোষ্ঠীকে উপহার দেওয়া খুব প্রয়োজন বৈকি। আমাদের দামাল ছেলেরা অনেক রক্ত দিয়ে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আজকের এই বাংলাদেশ পেয়েছে। আজ আমরা তিল তিল করেই দাঁড়াতে শিখছি। তাই বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের সোনার ছেলেরা হাতের নাগালে পেয়ে যাবে অনেক আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ। তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর উন্নয়নশীল দেশ ও সমৃদ্ধশালী নতুন জীবন।
‘বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি’ ২০০৯ সালের ১৭ থেকে ১২ নভেম্বরে “ডিজিটাল বাংলাদেশ সামিট” নামক এ বিষয়ে প্রথম শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল, যাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো আলোচিত হয়। প্রচলিত শিক্ষা ও সংস্কৃতিতেও আমূল পরিবর্তন এনেই তথ্য প্রযুক্তির সমন্বয় করতে হবে। আর না পারলেই যেন ভবিষ্যতে তরুণ প্রজন্মের কর্ম সংস্থান নিয়ে খুব বড় ধরনের জটিলতায় পড়তে হবে। এমন একথা গুলো বলেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য প্রযুক্তির মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। ডিজিটাল বাংলার এই তথ্য প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা থেকে মন্ত্রিত্ব পাওয়া এমন মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার আরও বলেন, প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় বেকার তৈরির কারখানা। আসলেইতো এই প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রকৃত পক্ষে সামনের দিন গুলোতে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা অসম্ভব হবে। কারণ, বর্তমানে দেখা যায় যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা পাঠ্যক্রম, পাঠদান পদ্ধতি এবং শিক্ষক সহ শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। সুুতরাং এই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অভিযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘সঠিক সময়েই’ মোস্তাফা জব্বারকে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন। 
এদিকে আবার "তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ" থেকে পাঠানো একটি বিবৃতিতে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং তাঁর সুযোগ্য সন্তান মাননীয় আইসিটি উপদেষ্টা জনাব, সজীব ওয়াজেদ জয় এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে দেশীয় "ডিজিটাল বাংলাদেশ" নির্মাণের অভিযাত্রায় ডিজিটাল সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তনে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই এক অনবদ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে এটি তার বৈশ্বিক স্বীকৃতি।”
ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তাঁর অবদান আসলেই অনেক উল্লেখযোগ্য।বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে তিনি বয়সের বিবেচনায় সবচেয়ে তরুণ। পলক আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছে ২০১৪ সাল থেকে। ২০১৬ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘ইয়াং গ্লোবাল লিডার্স’ তালিকাতেও পলক এর নাম আসে। তিনি আরও বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। মানুষ হতে হলে যা কিছুর প্রয়োজন তার সব টুকুই আসে শিক্ষা থেকে। দ্রুতগতিতে বাড়ছে প্রাথমিক শিক্ষার হার। শক্তিশালী হচ্ছে জাতীর বুনিয়াদ। সমাজ হয়ে উঠছে উজ্জল। এই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এক উজ্জল সম্ভাবনায়। এরই নাম ডিজিটাল বাংলাদেশ। চলতি বছরের মধ্যেই এদেশের চার হাজার ইউনিয়নে খুব দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। গ্রাম এবং শহরের ব্যবধান কমিয়ে ডিজিটাল প্লাটফর্মকে আরও অনেকাাংশে প্রসারিত করতে সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জনপ্রিয় নেতা জুনায়েদ আহমেদ পলক। বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯ কোটির মতো। তিনি বলেন, ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে নয় কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। আজ থেকে নয় বছর আগে, অর্থাৎ ২০০৮ সালে এই দেশে যেটা ছিল মাত্র নয় লাখ, নয় বছরের ব্যবধানে তা নয় লাখ থেকে নয় কোটিতেই উন্নীত হয়েছ।’ ইন্টারনেটের খরচ খুব কমের ফলেই ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি। পলক বলেছেন, ‘ইন্টারনেট সংযোগ সহজলভ্য এবং সুলভ মূল্যে সবার কাছেই পৌঁছায়ে দিতে না পারলে আমরা অর্থাৎ এ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ই-কমার্স কিংবা ডিজিটাল প্লাটফর্ম করতে পারব না।’ সুতরাং জনপ্রিয় এনেতা হয়তো বা তাঁর চৌকস ও সুদক্ষ কর্মদক্ষতায় তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞানের আলোকে জননেত্রী শেখ হাসিনার সহায়তায় খুব দ্রুতগতিতে গড়ে তোলবে "ডিজিটাল সোনার বাংলাদেশ।"

ইরাম হাবিব প্রথম কাশ্মীরি নারী পাইলট

 ইরাম হাবিব। সংবাদ মাধ্যমে এখন জায়গা করে নিয়েছে এই নামটা। কারণ ৩০ বছর বয়স্ক ইরাম হলেন কাশ্মীরের প্রথম মুসলিম নারী পাইলট। এ মাসেই একটি প্রাইভেট এয়ারলাইনে পাইলট হিসেবে যোগ দিতে যাচ্ছেন তিনি।

তবে কাশ্মীরের মুসলিম সমাজ থেকে ইরামের এগিয়ে যাওয়ার লড়াইটা সহজ ছিল না বলেই জানা যায়। দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশোনা শেষে ইরাম পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু এক্ষেত্রে তাকে সবাই নিরুৎসাহিত করে। তিনি ফরেস্ট্রিতে দেরাদুন থেকে স্নাতক এবং শের-ই-কাশ্মীর ইউনিভার্সিটি অব অ্যাগ্রিকালচারাল সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে স্নাতকোত্তর পাস করেন। ফরেস্ট্রি নিয়ে লেখাপড়া করলেও তার পাইলট হওয়ার স্বপ্ন মরেনি।

তার পরিবার চেয়েছিল স্নাতকোত্তরের পর তিনি যেন ফরেস্ট্রিতে পিএইডি নিয়ে সরকারি চাকরি করেন। কিন্তু তিনি পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ নেয়ার সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। পিএইডি শেষ করার পর ইরাম পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যান। মিয়ামি থেকে ইরাম তাঁর প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করেন। বর্তমানে দিল্লিতে কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স নেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

শোরুমেই অ্যাইপ্যাড বিস্ফোরণ !

অ্যাপলের একটি শোরুমে অ্যাইপ্যাড বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে শোরুমের তিনজন কর্মী আহত হয়েছেন। আইপ্যাডের ব্যাটারিতে আগুন ধরে যাওয়ার পর ওই কর্মীরা উদ্ভূত ধোঁয়ার মধ্যে নিঃশ্বাস নিয়েছিলেন। তবে ঠিক কোনো ধরনের শারীরিক ক্ষতির কারণে তাদের চিকিৎসা নিতে হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

রবিবার নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডামে এ ঘটনা ঘটেছে। আপলের সংবাদ বিষয়ক ওয়েবসাইট নাইন টু ফাইভ ম্যাক বলেছে, আইপ্যাডের ব্যাটারি প্রতিস্থাপন কর্মসূচি চালু করার পর তারা এ ধরনের আরও কিছু অভিযোগ পেয়েছে।

আইফোন ও আইপ্যাডের ব্যাটারি নিয়ে গ্রাহকদের অসংখ্য অভিযোগের প্রেক্ষাপটে অ্যাপল ব্যাটারি প্রতিস্থাপন কর্মসূচি চালু করে।

যানজট নিরসনে হচ্ছে ১১ ইউটার্ন

যানজটে প্রতিদিন নগরবাসীর ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। ফলে অর্থনীতিতে পড়ছে বিরূপ প্রভাব। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৩২ লাখ কর্মঘণ্টায় আরও চার লাখ লোকের সমান কাজ পাওয়া যেত। যানজট সমস্যার সমাধান সম্ভব হলে রাজধানীসহ দেশের অর্থনীতিতে আরও ইতিবাচক প্রভাব পড়ত। সরকারের ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নও অনেক সহজ হয়ে যেত।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) বলছে, যানজটের কারণে বছরে যে আর্থিক ক্ষতি হয়, অঙ্কের হিসাবে তা প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। এই শহরে এখন ঘণ্টায় গড়ে প্রায় সাত কিলোমিটার গতিতে চলছে যানবাহন। এভাবে চলতে থাকলে আর কিছুদিন পর হেঁটেই গাড়ির আগে যেতে পারবে মানুষ। অসহনীয় যানজটে অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী। এ সমস্যা দিনদিন আরও ভয়াবহ হচ্ছে।

অসহনীয় যানজট এবং নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা থেকে উত্তরা হাউস বিল্ডিং পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে মোট ১১টি ইউটার্ন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। কিন্তু হঠাৎ করে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। তাদের দাবি, জমির মূল্য ও বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতিপূরণ না দিয়ে ইউটার্নের কোনো কাজ করতে দেয়া হবে না। ফলে প্রকল্পটিতে আর গতি আসেনি।

প্রকল্প অনুযায়ী ইউটার্ন নির্মাণ হওয়ার কথা ছিল তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা, তিব্বত মোড়, মহাখালী বাস টার্মিনাল, মহাখালী ফ্লাইওভার, বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি, বনানী কবরস্থান, বনানী ওভারপাস, শেওড়া, কাওলা, উত্তরার র্যাব-১ অফিসের সামনের সড়ক এবং জসিম উদ্দিন এভিনিউয়ের সামনে।

তবে আশার কথা, সব ধরনের জটিলতা নিরসন ও বাধা পেরিয়ে ফের ১১টি ইউটার্ন নির্মাণের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। ইউটার্ন নিমার্ণ প্রকল্পের পরিচালক ও ডিএনসিসির প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

খন্দকার মাহবুব আলম বলেন, ‘সব বাধা পেরিয়ে এবং সব সমস্যা সমাধানের মাধ্যেমে আমরা ইউটার্নগুলো নির্মাণের কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) ক্ষতিপূরণের দাবি অনুযায়ী সমস্ত কাগজপত্র স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। উত্তরায় তিনটি ইউটার্ন নির্মাণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যে আশা করছি বাকি ইউটার্নগুলোর নির্মাণকাজ আমরা শেষ করতে পারবো।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১১টি ইউটার্নের নির্মাণকাজ শুরু হলে সওজ কর্তৃপক্ষ এসে নিজেদের জমির ক্ষতিপূরণ দাবি করে এবং বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখতে বলে।

এই প্রকল্পে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, সিভিল এভিয়েশন ও রেলওয়ের কিছু জমি ব্যবহৃত হবে। প্রকল্পের শুরুতে ক্ষতিপূরণ কেউ দাবি করেনি। কিন্ত পরে এসে সওজ তাদের ১ দশমিক ৩৬ একর জমির ক্ষতিপূরণ দাবি করে। পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যেম সওজকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। ফলে ইউটার্ন নির্মাণে আর কোনো বাধা রইলো না।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, উত্তরার আব্দুল্লাহপুর থেকে তেজগাঁও সাতরাস্তা পর্যন্ত ১১টি পয়েন্টে ইউটার্ন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য ব্যয় ধরা হয় ২৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৯ কোটি ৮৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেবে সরকার। বাকি চার কোটি ৯৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা দেবে ডিএনসিসি। ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল রাজধানীর সাতরাস্তা থেকে উত্তরা হাউস বিল্ডিং পর্যন্ত ১১টি পয়েন্টে ইউটার্ন নির্মাণ প্রকল্পটি অবগতির জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উত্থাপন করা হয়।

এর আগে ১২টি ইউলোপ নির্মাণের এ প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছিল, পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে ইউটার্ন নামকরণ করা হয়। একই সঙ্গে ইউটার্নের সংখ্যাও কমানো হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে রাজধানীর যানজট ২৫ শতাংশ কমবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

খাল উদ্ধার করে ঢাকা শহরে এলিভেটেড সড়ক করার পরিকল্পনা

আগামীতে ক্ষমতায় এলে ঢাকা শহরের সব বক্স কালভার্ট ভেঙে খালগুলো উদ্ধার করে সেগুলোর ওপর এলিভেটেড ওয়ে নির্মাণ করার পরিকল্পনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

রোববার (১৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসেফিক সোনারগাঁওয়ে ঢাকা ওয়াসার ‘দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্প’ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের তো সময় শেষ, আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন। যদি আগামীতে আসতে পারি, আমার একটা টার্গেট বা লক্ষ্য থাকবে – প্রত্যেকটা বক্স কালভার্ট ভেঙে ফেলে দেবো আমি। আশা করি পর্যাপ্ত টাকা পয়সা হবে আমাদের।

‘আর ওই বক্স কালভার্টগুলোকে খালে উন্মুক্ত করে দেবো। আর খালের ওপর দিয়ে এলিভেটেড রাস্তা করে দেবো। রাস্তা প্রয়োজন আছে আমার, কিন্তু রাস্তাগুলো আমি যদি খালের ওপর করে ফেলি তাহলে সমস্যা থাকলো না। রাস্তায়ও থাকলো, খালও থাকলো। আবার পয়ঃনিষ্কাশন, পানির সরবরাহ ব্যবস্থাও ভালো হলো।’

রাজধানীর বিভিন্ন খাল ও জলাধার বন্ধ হওয়ার ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মতিঝিলে বিশাল ঝিল ছিলো, সেটা বন্ধ করে দিলো আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর। কতোগুলো খাল ছিলো, ধোলাই খাল, শান্তিনগর খাল, সেগুনবাগিচা খাল, পান্থপথ খালসহ অগণিত খালে ভরা ছিলো এই শহরটা। 

‘ঢাকা শহরের চারদিকে পাঁচটি নদী- বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, বালু নদী, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা। নদী দিয়ে ঘেরা ঢাকা শহর। ঢাকা শহরের ভেতর খালগুলো ছিলো শিরা-উপশিরার মতো। সেখানে আমরা দেখলাম সেগুনবাগিছা খাল সেখানে বক্স কালভার্ট করা হলো, আজকে পান্থপথ সেটা কিন্তু খাল। সেখানেও বক্স কালভার্ট, শান্তিনগর খাল সেটাও বক্স কালভার্ট। আর তার ফলে জলাবদ্ধতা, নানা সমস্যা।’

হাতিরঝিল ভরাট করে দালান কোঠা নির্মাণের চেষ্টার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

খাল উদ্ধার ও নতুন খাল খননে প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা যখন নতুন নতুন খাল খনন করে দিচ্ছি, সেটাও কিন্তু অনেক বাধা অতিক্রম করে করা হচ্ছে। বাধা আসবে, কিন্তু বাধা অতিক্রম করে আমাদের কাজটা করতে হবে।

বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করতে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুড়িগঙ্গা পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়, সেখান থেকে প্রচুর ময়লা বের করা হয়েছে। তারপরও এখন সেভাবে (দূষণমুক্ত) হয়নি। ওখানে সুয়ারেজ সিস্টেম তৈরি করতে হবে। সেখানে নানা ধরনের বর্জ্য আছে। কিছু হচ্ছে বসতবাড়ির বর্জ্য, কিছু আছে শিল্প বর্জ্য। কাজেই সেখানে দুই রকমের ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি করা দরকার। 

ঢাকার চারপাশের নদীগুলোতে পানি প্রবাহ বাড়িয়ে দূষণমুক্ত করতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যমুনা নদী থেকে ড্রেজিং করে, ধলেশ্বরী নদী ড্রেজিং করে, তুরাগ নদী হয়ে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত ড্রেজিং করে দিতে পারি, যে প্রকল্পের কাজ আমরা শুরু করেছিলাম। মাঝখানে আবার একটু বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আবার শুরু করেছি। এভাবে যদি আমরা পানির ধারাটা অব্যহত রাখতে পারি, তাহলে কিন্তু এই বুড়িগঙ্গা নদীতে আর কোনো রকম দূষণ থাকবে না। পাশাপাশি আমাদের বালু নদী সেটাও ড্রেজিং করতে হবে। যেন ওই নদীতে পানির ধারাটা অব্যহত থাকে। 

পা রক্ষা করবে অভিনব জুতা!

গাড়ি ও বাইক যারা চালান তারা ‘শক অ্যাবজরভারের’ সঙ্গে পরিচিত। এবার জুতাতেই ‘শক অ্যাবজর্ভার’ স্থাপন করল এক প্রতিষ্ঠান। এ জুতা পরিধানকারীরা বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে সহায়তা করবে বলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাস। বিশেষ করে পাহাড়ি উঁচু-নিচু পথে পায়ের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে দেবে না এ জুতা।

অন্যান্য জুতা থেকে এটি আলাদা। এ জুতার তলে স্প্রিংয়ের মতো শক অ্যাবজরভার রয়েছে, যা ব্যবহারকারীকে কিছু বাড়তি সুবিধা দেয়। বিশেষ করে যারা হাঁটু কিংবা পায়ের কোনো অংশের আঘাতজনিত সমস্যায় পড়েছেন তাদের বাড়তি চাপ থেকে রক্ষা করতে পারে এ জুতা।

গাড়ির শক অ্যাবজরভার গাড়িকে অমসৃণ রাস্তাতেও প্রবল ঝাঁকি থেকে রক্ষা করে- আঘাত সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসে। একইভাবে এ জুতাও উঁচু-নিচু পথে পায়ের ওপর বাড়তি চাপ পড়া থেকে রক্ষা করে।

বর্তমানে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ইনকো নামে জুতাটি। এটি ফ্রান্স ও ইতালির যৌথ উদ্যোগে তৈরি। নির্মাতারা বলছেন, তারা প্রায় এক যুগের গবেষণার পর জুতাটি বাজারে এনেছেন। এটি পায়ের আঘাত থেকে ব্যবহারকারীর পা রক্ষার জন্যই তৈরি।

চলন্ত গাড়িতে আইফোন ৬ বিস্ফোরণ!

আইফোন। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিপণ্য প্রেমীদের কাছে কাঙ্খিত একটি ব্রান্ড। আইফোনের প্যারেন্ট কোম্পানি মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই বাজারে ছাড়ে অাইফোন। তবে এবার চীনের সাংহাইয়ে একটি চলন্ত গাড়ির মধ্যেই আইফোন ৬ বিস্ফোরিত হয়েছে। গাড়ির ড্যাশক্যামে বিস্ফোরণের ভিডিওটি ধারণ হয়েছে, যা পরে ভাইরাল হয়।

ভিডিওতে দেখা গেছে, গাড়ির ড্যাশবোর্ডে আইফোন ৬ মডেলের ডিভাইসটি রাখা ছিল। গাড়ি চলার সময় হঠাৎ করে সেটিতে আগুন ধরে যায়। এতে ফোনটি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় গাড়িতে থাকা ব্যক্তির চিত্কার শোনা যায়। তবে এ ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ফোনটির ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, প্রায় ছয় মাস আগে তিনি চীনের স্থানীয় এক দোকান থেকে ডিভাইসটির ব্যাটারি পরিবর্তন করে নিয়েছিলেন। যদিও ডিভাইসটিতে হঠাৎ করে আগুন ধরার কারণ জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যাটারি পরিবর্তনের কারণেই এমনটা হয়ে থাকতে পারে।

স্মার্টফোন বিস্ফোরণের বড় কারণ অতিরিক্ত চার্জ বা নকল ব্যাটারি। এমনকি নকল চার্জার ব্যবহারের কারণেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে।

চালু হচ্ছে ‘ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেম’

রাজধানীতে ‘ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেম’ চালু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। রোববার দুপুরে হোটেল সোনারগাঁওয়ে ডিএসসিসির নির্মল বায়ু ও টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প (কেইস) আয়োজিত ‘ক্লিন অ্যান্ড সেইফ মোবিলিটি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

মেয়র বলেন, প্রকল্পের আওতায় মহানগরীর ফুলবাড়িয়া, পল্টন, মহাখালী ও গুলশান-১ এ চারটি ইন্টারসেকশন নির্মিত হবে। এতে ভিডিও ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে চলমান গাড়ির সংখ্যা কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং হবে। এছাড়া ডিএসসিসির ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ৭৫ জন নিয়ে একটি কারিগরি ইউনিট সৃষ্টির প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে যত দ্রুত সম্ভব বাসরুট ফ্রাঞ্জাইজি-ভিত্তিক হবে। অর্থাৎ ছয় কোম্পানির অধীনে বাস চালানোর ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, বাসরুট ফ্রাঞ্জাইজি করলে সেটি হতে পারে নিরাপদ সড়কের জন্য একটি কার্যকর উদ্যোগ।

তিনি আরও বলেন, ডিএসসিসি এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে জরুরি কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- নিরাপদ সড়ক সৃষ্টি করা, বেপরোয়া গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকা, রাস্তা পারাপারে ফুটওভার ব্রিজ ও জেব্রাক্রসিং ব্যবহারে উৎসাহিত করা, বিনা প্রয়োজনে হর্ণ বাজানো নিরুৎসাহিত করা, পথচারী চলাচলে ফুটপাত ব্যবহার করা, লেন মেনে গাড়ি চলানো, যত্রতত্র যাত্রী ওঠা-নামা না করে নির্ধারিত স্টপেজে গাড়ি থামানো।

এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ৯২টি সড়ক ইন্টারসেকশনে জেব্রাক্রসিং, লেন সেপারেটর ডট ও ২৯৪টি পথচারী পারাপার নির্মাণসহ ৬০০টি ট্রাফিক সাইন লাগানো হবে। আমাদের স্লোগান হবে- ‘আমাদের পথ, আমাদের হাতেই নিরাপদ’- যোগ করেন মেয়র।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিল্লাল, কলামিস্ট আবুল মকসুদ, নগর পরিকল্পনাবিদ মোবাশ্বর হোসেন, ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক রকিবুল রহমান প্রমুখ।

গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কের এমইএস এলাকায় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় নিহত হন রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজীব।

ওই ঘটনার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। শিক্ষার্থীদের অন্যতম দাবি ছিল, সড়কে মৃত্যুর জন্য দায়ী বেপরোয়া চালকদের মৃত্যুদণ্ডের আইন করা।

আন্দোলনের মুখে সরকার দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সড়ক নিরাপত্তা আইনের যে খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করে সেখানে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর জন্য সর্বোচ্চ সাজা তিন বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হয়। তবে তদন্তে ‘ইচ্ছাকৃত হত্যা’ প্রমাণিত হলে গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা করার কথা উল্লেখ করা হয়।

ওই সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে নয় দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো মেনে নিয়ে সরকার নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়।

শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ প্রত্যক্ষ করল বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ

বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ দেখেছে ‘ব্লাড মুন’। শতাব্দীর দীর্ঘতম এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণে মূলত সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ একই সরলরেখায় চলে আসে। ফলে পৃথিবীর পরোক্ষ ছায়ায় চাঁদকে রক্তাভ দেখায়। এর জন্যই এই চাঁদকে ডাকা হয় ‘ব্লাড মুন’।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টা ১৩ মিনিটি ৬ সেকেন্ডের পর থেকে চমকপ্রদ এই মহাজাগতিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে বিশ্ব। ঢাকার আকাশে চন্দ্রগ্রহণ শুরু হয় রাত ১১টা ১৩ মিনিটি ৬ সেকেন্ডে। কেন্দ্রীয়গ্রহণ হয়েছে রাত ২টা ২১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে আর গ্রহণ শেষ হয়েছে ভোর ৫টা ৩০ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে।

এই গ্রহণ দেখার জন্য নানা আয়োজন করা হয়েছে গোটা বিশ্বে। ঢাকায়ও বিজ্ঞান যাদুঘরের পক্ষ থেকেও দেখা হয় ‘ব্লাড মুন’। ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের দেশগুলো থেকেও দেখা যাচ্ছে এই মহাজাগতিক দৃশ্য। এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ থেকে ২৭ জুলাই দিনগত মধ্যরাতের পর থেকে চাঁদের এমন বিরল সৌন্দর্য অবলোকন করা গেছে। ২৮ তারিখ ভোর থেকেও চন্দ্রগ্রহণ উপভোগ করছে অনেক দেশ।

বজ্রপাত থেকে কৃষককে সুরক্ষা দিতে তরুণ প্রকৌশলীর উদ্যোগ

ফাঁকা মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাত থেকে সুরক্ষায় কিছু কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারে কৃষক। কিছু প্রস্তুতি ও সতর্কতায় রক্ষা পেতে পারে তার জীবন। কৃষকের উপযোগী কিছু বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছেন এক তরুণ প্রকৌশলী।

ফাঁকা মাঠে কাজে ব্যস্ত কৃষকের জন্য বজ্রপাত এক প্রাণঘাতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। দেশে বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, এর মধ্যে সিংহভাগই কৃষক।

এ বিষয়গুলো উপলব্ধি করেই সুউচ্চ বাঁশের মাথায় লোহার দণ্ড বেঁধে তার সংযোগ আরেকটি ধাতব দণ্ডের মাধ্যমে মাটিতে পুঁতে কিছু এলাকা বজ্রপাত সুরক্ষার কথা জানাচ্ছেন তরুণ প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন।

একই সঙ্গে মনির জানাচ্ছেন বজ্রপাত সুরক্ষায় আরো কিছু সর্তকতার কথা।

মনিরের এই পদ্ধতির কিছুটা পরিমার্জন ও সংযোজনের কথা জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, কৃষকের সচেতনতাই তার সুরক্ষার জন্য রাখতে পারে কার্যকর ভূমিকা।