প্রযুক্তির খবর

প্রযুক্তির খবর আমার কুষ্টিয়া হতে প্রকাশিত

নতুন আইফোনে পানি ঢুকবে না, ছবি রাখা যাবে দুই লাখ

বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল নতুন সংস্করণের তিনটি আইফোন ও একটি অ্যাপল ওয়াচ (ঘড়ি) উন্মুক্ত করেছে। আইফোন তিনটি হলো- ‘আইফোন টেনএস’, ‘আইফোন টেনএস ম্যাক্স’ এবং ‘আইফোন টেনআর’। এর মধ্যে আইফোন টেনএস ম্যাক্সের ডিসপ্লে ৬.৫ ইঞ্চি, যা আইফোনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ডিসপ্লে। এছাড়া নতুন উন্মুক্ত অ্যাপল ওয়াচটি ব্যবহারকারীর হৃদপিণ্ড ঠিকমতো কাজ করছে কিনা তার তথ্য জানাবে।

নতুন সংস্করণের আইফোন কেনার জন্য শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) থেকে বিশ্বের ৩০টি দেশে প্রি-অর্ডার করা যাবে। তবে সে সব দেশের অ্যাপল স্টোরে এ ফোনগুলো পাওয়া যাবে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে।

শুরুতে আইফোন টেনএস এর দাম ধরা হয়েছে ৯৯৯ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় (৮৩.৪১ প্রতি ডলার) প্রায় ৮৪ হাজার টাকা। আইফোন টেনএস ম্যাক্স এর দাম ১০৯৯ ডলার, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯২ হাজার এবং ২৫৬ জিবির আইফোন টেনআর এর দাম ধরা হয়েছে ৮৯৯ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭৫ হাজার।

অ্যাপল নতুন সংস্করণের এ তিনটি আইফোন ও ওয়াচ নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ‘আইফোন টেনএস’ এবং ‘আইফোন টেনএস ম্যাক্স’ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। তিনিটি নতুন সংস্করণের মধ্যে ‘আইফোন টেনআর’-এর দাম কম। অ্যাপল বলছে, স্মার্ট ফোনের ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় ধরনের অগ্রগতি।

নতুন সংস্করণের তিনটি আইফোনে যা রয়েছে

১. নতুন সংস্করণের ‘আইফোন টেনএস’ এবং ‘আইফোন টেনএস ম্যাক্স’-এর ডিসপ্লে হবে আগের তুলনায় অনেক ঝকঝকে। এখানে সুপার রেটিনা ডিসপ্লে সংযোজন করা হয়েছে। এ ফোন সেট পানি ঢুকবে না। দুই মিটার পানির নিচে ৩০ মিনিট পর্যন্ত থাকতে পারবে। এছাড়া প্রতিদিনের ব্যবহার সময় চা, কফি কিংবা অন্যকোনো ধরনের তরল জিনিস ফোন সেটের উপর পড়লেও কোনো সমস্যা হবে না।

২. নতুন এ দুটো আইফোন সেটে ছবি, ভিডিও, ভিডিও এডিটিং এবং গ্রাফিক্সের জন্য ভালো ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। এর ধারণ ক্ষমতা সর্বোচ্চ ৫১২ জিবি।

৩. ৫১২ জিবিতে সর্বোচ্চ দুই লাখ ছবি রাখা যাবে। ফোন সেটে ব্যবহার করা হয়েছে এ ১২ বায়োনিক চিপ। স্মার্ট ফোনের জগতে এটি সবচেয়ে উন্নত বলে বলছে অ্যাপল।

৪. নতুন সংস্করণের আইফোনে ছবি তোলার পর সেটির ব্যাকগ্রাউন্ডের গভীরতা পরিবর্তন করা যাবে। আইফোন টেনএস ম্যাক্স এর ডিসপ্লে ৬.৫ ইঞ্চি, যা এ যাবতকালে আইফোনের সবচেয়ে বড় ডিসপ্লে।

৫. ব্যাটারির ক্ষমতা পুরনো সংস্করণের চেয়ে কিছুটা উন্নত। আইফোন টেন-এর চেয়ে টেনএস-এর ব্যাটারিতে চার্জ থাকবে ৩০ মিনিট বেশি। অন্যদিকে টেনএস ম্যাক্স-এ ব্যাটারির চার্জ থাকবে দেড় ঘণ্টা বেশি।

৬. আইফোন টেনএস এবং টেনএস ম্যাক্স পাওয়া যাবে ৬৪ জিবি, ২৫৬ জিবি এবং ৫১২ জিবি। শুরুতে এর মূল্য হবে যথাক্রমে ৯৯৯ মার্কিন ডলার এবং ১০৯৯ মার্কিন ডলার।

৭. নতুন সংস্করণের আইফোনের একটিতে পেছনে তিনটি ক্যামেরা থাকবে বলে বাজারে জোর গুজব উঠেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেল ‘আইফোন এক্সএস’ এবং ‘আইফোন এক্সএস ম্যাক্স’-এ ১২ মেগাপিক্সেল-এর দুটো ক্যামেরা রয়েছে। এখানে রয়েছে টুএক্স অপটিক্যাল জুম এবং ডুয়াল অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন। ফটোগ্রাফির জগতে এটি নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে অ্যাপল জানিয়েছে।

শুধু ছবি নয়, উন্নত মানের ভিডিও ধারণ করা যাবে এ ফোন সেটের মাধ্যমে। ভিডিও ধারণের সময় নড়াচড়া হলেও ভিডিওতে সেটির প্রভাব পড়বে না এবং কম আলোতেও ভালো মানের ভিডিও ধারণ সম্ভব হবে। কারণ এখানে রয়েছে উন্নত মানের ইমেজ স্ট্যাবিলাইজার। ভিডিও’র শব্দ হবে উন্নত মানের। এর আগে সর্বশেষ ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে আইফোন এক্স বাজারে এনেছিল অ্যাপল।

এছাড়া অ্যাপলের নতুন সংস্করণের হাতঘড়ি ব্যবহারকারীর হৃদপিণ্ডের অবস্থা পরিমাপ করতে পারবে। হৃদযন্ত্রের কম্পন অনিয়মিত হচ্ছে কিনা সেটি চিহ্নিত করতে পারবে এ অ্যাপল ঘড়ি। এটা অনেকটা ইসিজি যন্ত্রের মতো কাজ করবে।

নতুন অ্যাপল ওয়াচে এমন একটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যার মাধ্যমে ঘড়ির ব্যবহারকারী কোথাও পড়ে গেলে এবং এক মিনিট নড়াচড়া না করলে অ্যাপল ওয়াচ থেকে জরুরি সেবায় বার্তায় পাঠাবে। সে বার্তায় ব্যবহারকারী অবস্থান সম্পর্কেও তথ্য থাকবে।

সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ, বিবিসি

বিশ্বের ১'শ ব্যক্তির মধ্যেই প্রতিমন্ত্রী পলককে রাজনীতিবিদ ক্যাটাগরিতে মূল্যায়ন

বাংলাদেশের সাংবিধানিক নামের এইদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। এমন এই দেশ সুুুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা, মাছে-ভাতের নদী মাতৃক দেশ। এমন দেশের সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। সুতরাং এমন এই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার উঠে পড়েই লেগেছে। বলতে বাধা নেই এই দেশ, একটি উন্নয়নশীল দেশ। এইদেশে শিক্ষার হার উন্নত দেশের তুলনায় কম বলা চলে। দেখা যায় স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পেলেও শিক্ষার মানের উন্নয়ন ঘটেনি সেই হারে। আবার মানুষের জীবন যাপনের ব্যাপক পরিবর্তনও ঘটেছে। সাথে সাথে রুচিবোধের পাশা পাশি সামাজিক রীতিনীতি, কৃষ্টি কালচারের চর্চাটাও অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এই দেশের সরকার বৃহৎ একটি স্বপ্ন কিংবা আশা আকাঙ্ক্ষার আলোকে সমাজ পরিচালিত করছে। 

বাংলাদেশকে নিয়ে সুচিন্তিত পরিকল্পনায় আওয়ামী লীগ সরকার বিরাট এক পরিবর্তন আর ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ নামক একটি প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
বর্তমান সরকার ডিজিটাল কার্যক্রমের মাধ্যমে সারা বিশ্বে তথ্য প্রযুক্তির সুফল পাওয়ার লক্ষ্যেই নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগ সরকার মহাকাশে খুব গুরুত্বপূর্ণ এক সফল নির্মাণ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। তবে জানা দরকার মহাকাশে বিভিন্ন প্রকার স্যাটেলাইট রয়েছে। এই গুলোর মধ্যে- 'আবহাওয়া স্যাটেলাইট,' 'পর্যবেক্ষক স্যাটেলাইট,' 'ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট'। তাছাড়া বিএস-ওয়ান স্যাটেলাইট হচ্ছে যোগাযোগ ও সম্প্রচার স্যাটেলাইট।
"বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট" এর কাজ মুলত টিভি চ্যানেল গুলোর স্যাটেলাইট সেবা নিশ্চিত করা। এমন এই স্যাটেলাইটের সাহায্যে চালু করা যাবে ডিটিএইচ বা ডিরেক্ট টু হোম ডিশ সার্ভিস। তাছাড়াও এই 'বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট' যেসব জায়গায় অপটিক কেবল কিংবা সাবমেরিন কেবল পৌঁছায়নি সে সব জায়গায় এমন স্যাটেলাইটের সাহায্যে নিশ্চিত ভাবেই তা পৌঁছাবে।আরও পারে ইন্টারনেট সংযোগ। সুতরাং আওয়ামী লীগ সরকার স্যাটেলাইটের সুফল পৌঁছে দিতে যেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের দোরগোড়ায় অনেকে কাজ করছে। তাদেরই মধ্যে ‘'সবচেয়ে প্রভাবশালী'’ ও "কর্মদক্ষ" ১০০ জন ব্যক্তির নামের এক তালিকা "আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক অ্যাপলিটিক্যাল" প্রকাশ করেছে। এমন এই তালিকায় উল্লেখ যোগ্য ব্যক্তির মধ্যেই 'অস্ট্রেলিয়ার প্রধান মন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল,' 'ঘানার প্রেসিডেন্ট নানা-আকুফো আদো' ও 'ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের প্রতিষ্ঠাতা টিম বারনার্সলি'র সঙ্গে বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রতিমন্ত্রী 'জুনাইদ আহমেদ পলক' এর নামও স্থান পেয়েছে।একুশ শতকে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই শেখ হাসিনা ছয় জানুয়ারি ২০০৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয় বারের মতো শপথ নিয়েছিলেন। সুতরাং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের বছরে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ ও তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণই ছিল সরকারের মূল নির্বাচনী ইশতেহার। তাই সরকার চ্যালেঞ্জ নিয়েই যেন দিনে দিনে তথ্য প্রযুক্তির অনেক ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনে সক্ষম।
অ্যাপলিটিক্যালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা "রবিন স্কট" বলেছেন, 'বিশ্বের নানা প্রান্তে যারা ডিজিটাল গভার্নেন্স প্রতিষ্ঠায় রত তারা নিরলস ভাবেই কাজ করছে, তাদের খুঁজে পেরেছি এটা অনেক আনন্দের বিষয়। এমন এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিগণ স্ব স্ব ক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়ন। তাঁরা জ্ঞানের আলোকে সারাবিশ্ব সহ বাংলাদেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছায়ে দিচ্ছে এবং বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তির কাজ করছে। এই প্রযুক্তির ঝুঁকি কমানোর অনেক চেষ্টাও করছেন।' বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমন এই উদ্যোগের আলোকে বলা যায়, ১২ ডিসেম্বর, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ এর নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা ছিল ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছরে এদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত হবে। একটি উন্নত দেশ হবে, সমৃদ্ধশালী ডিজিটাল সমাজ হবে, এমন ডিজিটাল যুগের জন সাধারণ অনেকাংশেই যেন সফলতার দ্বার প্রান্তেই পৌঁছাবে, রূপান্তরিত অনেক উৎপাদন ব্যবস্থা চালু হবে, নতুন নতুন জ্ঞানভিত্তিক সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সমন্বয়ে একটি জ্ঞান ভিত্তিক সমাজের স্বপ্নেই বিভর ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ১মবারের মতো ‘'ওয়ার্ল্ডস হান্ড্রেড মোস্ট ইনফ্লুয়েনশিয়াল পিপল ইন ডিজিটাল গভার্নমেন্ট’'- শীর্ষক তালিকায় প্রতিমন্ত্রী পলকের নাম এসেছে ‘রাজনীতিবিদ’ ক্যাটাগরিতে।
সুতরাং তাঁদের প্রধান এই বিষয়ের কাজও ত্বরান্বিত হচ্ছে।
আসলেই এমন এই উদ্যোগের ডিজিটাল বাংলাদেশ সত্যিই বিশ্বের জ্ঞানভিত্তিক সমাজের সঙ্গে মিলিয়েই বাংলার জনগোষ্ঠীকে উপহার দেওয়া খুব প্রয়োজন বৈকি। আমাদের দামাল ছেলেরা অনেক রক্ত দিয়ে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আজকের এই বাংলাদেশ পেয়েছে। আজ আমরা তিল তিল করেই দাঁড়াতে শিখছি। তাই বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের সোনার ছেলেরা হাতের নাগালে পেয়ে যাবে অনেক আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ। তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর উন্নয়নশীল দেশ ও সমৃদ্ধশালী নতুন জীবন।
‘বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি’ ২০০৯ সালের ১৭ থেকে ১২ নভেম্বরে “ডিজিটাল বাংলাদেশ সামিট” নামক এ বিষয়ে প্রথম শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল, যাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো আলোচিত হয়। প্রচলিত শিক্ষা ও সংস্কৃতিতেও আমূল পরিবর্তন এনেই তথ্য প্রযুক্তির সমন্বয় করতে হবে। আর না পারলেই যেন ভবিষ্যতে তরুণ প্রজন্মের কর্ম সংস্থান নিয়ে খুব বড় ধরনের জটিলতায় পড়তে হবে। এমন একথা গুলো বলেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য প্রযুক্তির মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। ডিজিটাল বাংলার এই তথ্য প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা থেকে মন্ত্রিত্ব পাওয়া এমন মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার আরও বলেন, প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় বেকার তৈরির কারখানা। আসলেইতো এই প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রকৃত পক্ষে সামনের দিন গুলোতে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা অসম্ভব হবে। কারণ, বর্তমানে দেখা যায় যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা পাঠ্যক্রম, পাঠদান পদ্ধতি এবং শিক্ষক সহ শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। সুুতরাং এই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অভিযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘সঠিক সময়েই’ মোস্তাফা জব্বারকে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন। 
এদিকে আবার "তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ" থেকে পাঠানো একটি বিবৃতিতে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং তাঁর সুযোগ্য সন্তান মাননীয় আইসিটি উপদেষ্টা জনাব, সজীব ওয়াজেদ জয় এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে দেশীয় "ডিজিটাল বাংলাদেশ" নির্মাণের অভিযাত্রায় ডিজিটাল সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তনে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই এক অনবদ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে এটি তার বৈশ্বিক স্বীকৃতি।”
ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তাঁর অবদান আসলেই অনেক উল্লেখযোগ্য।বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে তিনি বয়সের বিবেচনায় সবচেয়ে তরুণ। পলক আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছে ২০১৪ সাল থেকে। ২০১৬ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘ইয়াং গ্লোবাল লিডার্স’ তালিকাতেও পলক এর নাম আসে। তিনি আরও বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। মানুষ হতে হলে যা কিছুর প্রয়োজন তার সব টুকুই আসে শিক্ষা থেকে। দ্রুতগতিতে বাড়ছে প্রাথমিক শিক্ষার হার। শক্তিশালী হচ্ছে জাতীর বুনিয়াদ। সমাজ হয়ে উঠছে উজ্জল। এই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এক উজ্জল সম্ভাবনায়। এরই নাম ডিজিটাল বাংলাদেশ। চলতি বছরের মধ্যেই এদেশের চার হাজার ইউনিয়নে খুব দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। গ্রাম এবং শহরের ব্যবধান কমিয়ে ডিজিটাল প্লাটফর্মকে আরও অনেকাাংশে প্রসারিত করতে সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জনপ্রিয় নেতা জুনায়েদ আহমেদ পলক। বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯ কোটির মতো। তিনি বলেন, ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে নয় কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। আজ থেকে নয় বছর আগে, অর্থাৎ ২০০৮ সালে এই দেশে যেটা ছিল মাত্র নয় লাখ, নয় বছরের ব্যবধানে তা নয় লাখ থেকে নয় কোটিতেই উন্নীত হয়েছ।’ ইন্টারনেটের খরচ খুব কমের ফলেই ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি। পলক বলেছেন, ‘ইন্টারনেট সংযোগ সহজলভ্য এবং সুলভ মূল্যে সবার কাছেই পৌঁছায়ে দিতে না পারলে আমরা অর্থাৎ এ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ই-কমার্স কিংবা ডিজিটাল প্লাটফর্ম করতে পারব না।’ সুতরাং জনপ্রিয় এনেতা হয়তো বা তাঁর চৌকস ও সুদক্ষ কর্মদক্ষতায় তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞানের আলোকে জননেত্রী শেখ হাসিনার সহায়তায় খুব দ্রুতগতিতে গড়ে তোলবে "ডিজিটাল সোনার বাংলাদেশ।"

ইরাম হাবিব প্রথম কাশ্মীরি নারী পাইলট

 ইরাম হাবিব। সংবাদ মাধ্যমে এখন জায়গা করে নিয়েছে এই নামটা। কারণ ৩০ বছর বয়স্ক ইরাম হলেন কাশ্মীরের প্রথম মুসলিম নারী পাইলট। এ মাসেই একটি প্রাইভেট এয়ারলাইনে পাইলট হিসেবে যোগ দিতে যাচ্ছেন তিনি।

তবে কাশ্মীরের মুসলিম সমাজ থেকে ইরামের এগিয়ে যাওয়ার লড়াইটা সহজ ছিল না বলেই জানা যায়। দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশোনা শেষে ইরাম পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু এক্ষেত্রে তাকে সবাই নিরুৎসাহিত করে। তিনি ফরেস্ট্রিতে দেরাদুন থেকে স্নাতক এবং শের-ই-কাশ্মীর ইউনিভার্সিটি অব অ্যাগ্রিকালচারাল সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে স্নাতকোত্তর পাস করেন। ফরেস্ট্রি নিয়ে লেখাপড়া করলেও তার পাইলট হওয়ার স্বপ্ন মরেনি।

তার পরিবার চেয়েছিল স্নাতকোত্তরের পর তিনি যেন ফরেস্ট্রিতে পিএইডি নিয়ে সরকারি চাকরি করেন। কিন্তু তিনি পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ নেয়ার সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। পিএইডি শেষ করার পর ইরাম পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যান। মিয়ামি থেকে ইরাম তাঁর প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করেন। বর্তমানে দিল্লিতে কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স নেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

শোরুমেই অ্যাইপ্যাড বিস্ফোরণ !

অ্যাপলের একটি শোরুমে অ্যাইপ্যাড বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে শোরুমের তিনজন কর্মী আহত হয়েছেন। আইপ্যাডের ব্যাটারিতে আগুন ধরে যাওয়ার পর ওই কর্মীরা উদ্ভূত ধোঁয়ার মধ্যে নিঃশ্বাস নিয়েছিলেন। তবে ঠিক কোনো ধরনের শারীরিক ক্ষতির কারণে তাদের চিকিৎসা নিতে হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

রবিবার নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডামে এ ঘটনা ঘটেছে। আপলের সংবাদ বিষয়ক ওয়েবসাইট নাইন টু ফাইভ ম্যাক বলেছে, আইপ্যাডের ব্যাটারি প্রতিস্থাপন কর্মসূচি চালু করার পর তারা এ ধরনের আরও কিছু অভিযোগ পেয়েছে।

আইফোন ও আইপ্যাডের ব্যাটারি নিয়ে গ্রাহকদের অসংখ্য অভিযোগের প্রেক্ষাপটে অ্যাপল ব্যাটারি প্রতিস্থাপন কর্মসূচি চালু করে।

যানজট নিরসনে হচ্ছে ১১ ইউটার্ন

যানজটে প্রতিদিন নগরবাসীর ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। ফলে অর্থনীতিতে পড়ছে বিরূপ প্রভাব। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৩২ লাখ কর্মঘণ্টায় আরও চার লাখ লোকের সমান কাজ পাওয়া যেত। যানজট সমস্যার সমাধান সম্ভব হলে রাজধানীসহ দেশের অর্থনীতিতে আরও ইতিবাচক প্রভাব পড়ত। সরকারের ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নও অনেক সহজ হয়ে যেত।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) বলছে, যানজটের কারণে বছরে যে আর্থিক ক্ষতি হয়, অঙ্কের হিসাবে তা প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। এই শহরে এখন ঘণ্টায় গড়ে প্রায় সাত কিলোমিটার গতিতে চলছে যানবাহন। এভাবে চলতে থাকলে আর কিছুদিন পর হেঁটেই গাড়ির আগে যেতে পারবে মানুষ। অসহনীয় যানজটে অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী। এ সমস্যা দিনদিন আরও ভয়াবহ হচ্ছে।

অসহনীয় যানজট এবং নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা থেকে উত্তরা হাউস বিল্ডিং পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে মোট ১১টি ইউটার্ন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। কিন্তু হঠাৎ করে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। তাদের দাবি, জমির মূল্য ও বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতিপূরণ না দিয়ে ইউটার্নের কোনো কাজ করতে দেয়া হবে না। ফলে প্রকল্পটিতে আর গতি আসেনি।

প্রকল্প অনুযায়ী ইউটার্ন নির্মাণ হওয়ার কথা ছিল তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা, তিব্বত মোড়, মহাখালী বাস টার্মিনাল, মহাখালী ফ্লাইওভার, বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি, বনানী কবরস্থান, বনানী ওভারপাস, শেওড়া, কাওলা, উত্তরার র্যাব-১ অফিসের সামনের সড়ক এবং জসিম উদ্দিন এভিনিউয়ের সামনে।

তবে আশার কথা, সব ধরনের জটিলতা নিরসন ও বাধা পেরিয়ে ফের ১১টি ইউটার্ন নির্মাণের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। ইউটার্ন নিমার্ণ প্রকল্পের পরিচালক ও ডিএনসিসির প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

খন্দকার মাহবুব আলম বলেন, ‘সব বাধা পেরিয়ে এবং সব সমস্যা সমাধানের মাধ্যেমে আমরা ইউটার্নগুলো নির্মাণের কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) ক্ষতিপূরণের দাবি অনুযায়ী সমস্ত কাগজপত্র স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। উত্তরায় তিনটি ইউটার্ন নির্মাণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যে আশা করছি বাকি ইউটার্নগুলোর নির্মাণকাজ আমরা শেষ করতে পারবো।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১১টি ইউটার্নের নির্মাণকাজ শুরু হলে সওজ কর্তৃপক্ষ এসে নিজেদের জমির ক্ষতিপূরণ দাবি করে এবং বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখতে বলে।

এই প্রকল্পে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, সিভিল এভিয়েশন ও রেলওয়ের কিছু জমি ব্যবহৃত হবে। প্রকল্পের শুরুতে ক্ষতিপূরণ কেউ দাবি করেনি। কিন্ত পরে এসে সওজ তাদের ১ দশমিক ৩৬ একর জমির ক্ষতিপূরণ দাবি করে। পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যেম সওজকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। ফলে ইউটার্ন নির্মাণে আর কোনো বাধা রইলো না।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, উত্তরার আব্দুল্লাহপুর থেকে তেজগাঁও সাতরাস্তা পর্যন্ত ১১টি পয়েন্টে ইউটার্ন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য ব্যয় ধরা হয় ২৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৯ কোটি ৮৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেবে সরকার। বাকি চার কোটি ৯৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা দেবে ডিএনসিসি। ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল রাজধানীর সাতরাস্তা থেকে উত্তরা হাউস বিল্ডিং পর্যন্ত ১১টি পয়েন্টে ইউটার্ন নির্মাণ প্রকল্পটি অবগতির জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উত্থাপন করা হয়।

এর আগে ১২টি ইউলোপ নির্মাণের এ প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছিল, পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে ইউটার্ন নামকরণ করা হয়। একই সঙ্গে ইউটার্নের সংখ্যাও কমানো হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে রাজধানীর যানজট ২৫ শতাংশ কমবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

খাল উদ্ধার করে ঢাকা শহরে এলিভেটেড সড়ক করার পরিকল্পনা

আগামীতে ক্ষমতায় এলে ঢাকা শহরের সব বক্স কালভার্ট ভেঙে খালগুলো উদ্ধার করে সেগুলোর ওপর এলিভেটেড ওয়ে নির্মাণ করার পরিকল্পনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

রোববার (১৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসেফিক সোনারগাঁওয়ে ঢাকা ওয়াসার ‘দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্প’ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের তো সময় শেষ, আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন। যদি আগামীতে আসতে পারি, আমার একটা টার্গেট বা লক্ষ্য থাকবে – প্রত্যেকটা বক্স কালভার্ট ভেঙে ফেলে দেবো আমি। আশা করি পর্যাপ্ত টাকা পয়সা হবে আমাদের।

‘আর ওই বক্স কালভার্টগুলোকে খালে উন্মুক্ত করে দেবো। আর খালের ওপর দিয়ে এলিভেটেড রাস্তা করে দেবো। রাস্তা প্রয়োজন আছে আমার, কিন্তু রাস্তাগুলো আমি যদি খালের ওপর করে ফেলি তাহলে সমস্যা থাকলো না। রাস্তায়ও থাকলো, খালও থাকলো। আবার পয়ঃনিষ্কাশন, পানির সরবরাহ ব্যবস্থাও ভালো হলো।’

রাজধানীর বিভিন্ন খাল ও জলাধার বন্ধ হওয়ার ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মতিঝিলে বিশাল ঝিল ছিলো, সেটা বন্ধ করে দিলো আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর। কতোগুলো খাল ছিলো, ধোলাই খাল, শান্তিনগর খাল, সেগুনবাগিচা খাল, পান্থপথ খালসহ অগণিত খালে ভরা ছিলো এই শহরটা। 

‘ঢাকা শহরের চারদিকে পাঁচটি নদী- বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, বালু নদী, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা। নদী দিয়ে ঘেরা ঢাকা শহর। ঢাকা শহরের ভেতর খালগুলো ছিলো শিরা-উপশিরার মতো। সেখানে আমরা দেখলাম সেগুনবাগিছা খাল সেখানে বক্স কালভার্ট করা হলো, আজকে পান্থপথ সেটা কিন্তু খাল। সেখানেও বক্স কালভার্ট, শান্তিনগর খাল সেটাও বক্স কালভার্ট। আর তার ফলে জলাবদ্ধতা, নানা সমস্যা।’

হাতিরঝিল ভরাট করে দালান কোঠা নির্মাণের চেষ্টার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

খাল উদ্ধার ও নতুন খাল খননে প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা যখন নতুন নতুন খাল খনন করে দিচ্ছি, সেটাও কিন্তু অনেক বাধা অতিক্রম করে করা হচ্ছে। বাধা আসবে, কিন্তু বাধা অতিক্রম করে আমাদের কাজটা করতে হবে।

বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করতে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুড়িগঙ্গা পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়, সেখান থেকে প্রচুর ময়লা বের করা হয়েছে। তারপরও এখন সেভাবে (দূষণমুক্ত) হয়নি। ওখানে সুয়ারেজ সিস্টেম তৈরি করতে হবে। সেখানে নানা ধরনের বর্জ্য আছে। কিছু হচ্ছে বসতবাড়ির বর্জ্য, কিছু আছে শিল্প বর্জ্য। কাজেই সেখানে দুই রকমের ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি করা দরকার। 

ঢাকার চারপাশের নদীগুলোতে পানি প্রবাহ বাড়িয়ে দূষণমুক্ত করতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যমুনা নদী থেকে ড্রেজিং করে, ধলেশ্বরী নদী ড্রেজিং করে, তুরাগ নদী হয়ে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত ড্রেজিং করে দিতে পারি, যে প্রকল্পের কাজ আমরা শুরু করেছিলাম। মাঝখানে আবার একটু বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আবার শুরু করেছি। এভাবে যদি আমরা পানির ধারাটা অব্যহত রাখতে পারি, তাহলে কিন্তু এই বুড়িগঙ্গা নদীতে আর কোনো রকম দূষণ থাকবে না। পাশাপাশি আমাদের বালু নদী সেটাও ড্রেজিং করতে হবে। যেন ওই নদীতে পানির ধারাটা অব্যহত থাকে। 

পা রক্ষা করবে অভিনব জুতা!

গাড়ি ও বাইক যারা চালান তারা ‘শক অ্যাবজরভারের’ সঙ্গে পরিচিত। এবার জুতাতেই ‘শক অ্যাবজর্ভার’ স্থাপন করল এক প্রতিষ্ঠান। এ জুতা পরিধানকারীরা বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে সহায়তা করবে বলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাস। বিশেষ করে পাহাড়ি উঁচু-নিচু পথে পায়ের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে দেবে না এ জুতা।

অন্যান্য জুতা থেকে এটি আলাদা। এ জুতার তলে স্প্রিংয়ের মতো শক অ্যাবজরভার রয়েছে, যা ব্যবহারকারীকে কিছু বাড়তি সুবিধা দেয়। বিশেষ করে যারা হাঁটু কিংবা পায়ের কোনো অংশের আঘাতজনিত সমস্যায় পড়েছেন তাদের বাড়তি চাপ থেকে রক্ষা করতে পারে এ জুতা।

গাড়ির শক অ্যাবজরভার গাড়িকে অমসৃণ রাস্তাতেও প্রবল ঝাঁকি থেকে রক্ষা করে- আঘাত সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসে। একইভাবে এ জুতাও উঁচু-নিচু পথে পায়ের ওপর বাড়তি চাপ পড়া থেকে রক্ষা করে।

বর্তমানে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ইনকো নামে জুতাটি। এটি ফ্রান্স ও ইতালির যৌথ উদ্যোগে তৈরি। নির্মাতারা বলছেন, তারা প্রায় এক যুগের গবেষণার পর জুতাটি বাজারে এনেছেন। এটি পায়ের আঘাত থেকে ব্যবহারকারীর পা রক্ষার জন্যই তৈরি।

চলন্ত গাড়িতে আইফোন ৬ বিস্ফোরণ!

আইফোন। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিপণ্য প্রেমীদের কাছে কাঙ্খিত একটি ব্রান্ড। আইফোনের প্যারেন্ট কোম্পানি মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই বাজারে ছাড়ে অাইফোন। তবে এবার চীনের সাংহাইয়ে একটি চলন্ত গাড়ির মধ্যেই আইফোন ৬ বিস্ফোরিত হয়েছে। গাড়ির ড্যাশক্যামে বিস্ফোরণের ভিডিওটি ধারণ হয়েছে, যা পরে ভাইরাল হয়।

ভিডিওতে দেখা গেছে, গাড়ির ড্যাশবোর্ডে আইফোন ৬ মডেলের ডিভাইসটি রাখা ছিল। গাড়ি চলার সময় হঠাৎ করে সেটিতে আগুন ধরে যায়। এতে ফোনটি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় গাড়িতে থাকা ব্যক্তির চিত্কার শোনা যায়। তবে এ ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ফোনটির ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, প্রায় ছয় মাস আগে তিনি চীনের স্থানীয় এক দোকান থেকে ডিভাইসটির ব্যাটারি পরিবর্তন করে নিয়েছিলেন। যদিও ডিভাইসটিতে হঠাৎ করে আগুন ধরার কারণ জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যাটারি পরিবর্তনের কারণেই এমনটা হয়ে থাকতে পারে।

স্মার্টফোন বিস্ফোরণের বড় কারণ অতিরিক্ত চার্জ বা নকল ব্যাটারি। এমনকি নকল চার্জার ব্যবহারের কারণেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে।

চালু হচ্ছে ‘ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেম’

রাজধানীতে ‘ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেম’ চালু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। রোববার দুপুরে হোটেল সোনারগাঁওয়ে ডিএসসিসির নির্মল বায়ু ও টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প (কেইস) আয়োজিত ‘ক্লিন অ্যান্ড সেইফ মোবিলিটি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

মেয়র বলেন, প্রকল্পের আওতায় মহানগরীর ফুলবাড়িয়া, পল্টন, মহাখালী ও গুলশান-১ এ চারটি ইন্টারসেকশন নির্মিত হবে। এতে ভিডিও ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে চলমান গাড়ির সংখ্যা কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং হবে। এছাড়া ডিএসসিসির ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ৭৫ জন নিয়ে একটি কারিগরি ইউনিট সৃষ্টির প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে যত দ্রুত সম্ভব বাসরুট ফ্রাঞ্জাইজি-ভিত্তিক হবে। অর্থাৎ ছয় কোম্পানির অধীনে বাস চালানোর ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, বাসরুট ফ্রাঞ্জাইজি করলে সেটি হতে পারে নিরাপদ সড়কের জন্য একটি কার্যকর উদ্যোগ।

তিনি আরও বলেন, ডিএসসিসি এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে জরুরি কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- নিরাপদ সড়ক সৃষ্টি করা, বেপরোয়া গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকা, রাস্তা পারাপারে ফুটওভার ব্রিজ ও জেব্রাক্রসিং ব্যবহারে উৎসাহিত করা, বিনা প্রয়োজনে হর্ণ বাজানো নিরুৎসাহিত করা, পথচারী চলাচলে ফুটপাত ব্যবহার করা, লেন মেনে গাড়ি চলানো, যত্রতত্র যাত্রী ওঠা-নামা না করে নির্ধারিত স্টপেজে গাড়ি থামানো।

এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ৯২টি সড়ক ইন্টারসেকশনে জেব্রাক্রসিং, লেন সেপারেটর ডট ও ২৯৪টি পথচারী পারাপার নির্মাণসহ ৬০০টি ট্রাফিক সাইন লাগানো হবে। আমাদের স্লোগান হবে- ‘আমাদের পথ, আমাদের হাতেই নিরাপদ’- যোগ করেন মেয়র।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিল্লাল, কলামিস্ট আবুল মকসুদ, নগর পরিকল্পনাবিদ মোবাশ্বর হোসেন, ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক রকিবুল রহমান প্রমুখ।

গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কের এমইএস এলাকায় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় নিহত হন রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজীব।

ওই ঘটনার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। শিক্ষার্থীদের অন্যতম দাবি ছিল, সড়কে মৃত্যুর জন্য দায়ী বেপরোয়া চালকদের মৃত্যুদণ্ডের আইন করা।

আন্দোলনের মুখে সরকার দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সড়ক নিরাপত্তা আইনের যে খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করে সেখানে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর জন্য সর্বোচ্চ সাজা তিন বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হয়। তবে তদন্তে ‘ইচ্ছাকৃত হত্যা’ প্রমাণিত হলে গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা করার কথা উল্লেখ করা হয়।

ওই সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে নয় দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো মেনে নিয়ে সরকার নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়।

শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ প্রত্যক্ষ করল বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ

বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ দেখেছে ‘ব্লাড মুন’। শতাব্দীর দীর্ঘতম এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণে মূলত সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ একই সরলরেখায় চলে আসে। ফলে পৃথিবীর পরোক্ষ ছায়ায় চাঁদকে রক্তাভ দেখায়। এর জন্যই এই চাঁদকে ডাকা হয় ‘ব্লাড মুন’।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টা ১৩ মিনিটি ৬ সেকেন্ডের পর থেকে চমকপ্রদ এই মহাজাগতিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে বিশ্ব। ঢাকার আকাশে চন্দ্রগ্রহণ শুরু হয় রাত ১১টা ১৩ মিনিটি ৬ সেকেন্ডে। কেন্দ্রীয়গ্রহণ হয়েছে রাত ২টা ২১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে আর গ্রহণ শেষ হয়েছে ভোর ৫টা ৩০ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে।

এই গ্রহণ দেখার জন্য নানা আয়োজন করা হয়েছে গোটা বিশ্বে। ঢাকায়ও বিজ্ঞান যাদুঘরের পক্ষ থেকেও দেখা হয় ‘ব্লাড মুন’। ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের দেশগুলো থেকেও দেখা যাচ্ছে এই মহাজাগতিক দৃশ্য। এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ থেকে ২৭ জুলাই দিনগত মধ্যরাতের পর থেকে চাঁদের এমন বিরল সৌন্দর্য অবলোকন করা গেছে। ২৮ তারিখ ভোর থেকেও চন্দ্রগ্রহণ উপভোগ করছে অনেক দেশ।

বজ্রপাত থেকে কৃষককে সুরক্ষা দিতে তরুণ প্রকৌশলীর উদ্যোগ

ফাঁকা মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাত থেকে সুরক্ষায় কিছু কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারে কৃষক। কিছু প্রস্তুতি ও সতর্কতায় রক্ষা পেতে পারে তার জীবন। কৃষকের উপযোগী কিছু বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছেন এক তরুণ প্রকৌশলী।

ফাঁকা মাঠে কাজে ব্যস্ত কৃষকের জন্য বজ্রপাত এক প্রাণঘাতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। দেশে বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, এর মধ্যে সিংহভাগই কৃষক।

এ বিষয়গুলো উপলব্ধি করেই সুউচ্চ বাঁশের মাথায় লোহার দণ্ড বেঁধে তার সংযোগ আরেকটি ধাতব দণ্ডের মাধ্যমে মাটিতে পুঁতে কিছু এলাকা বজ্রপাত সুরক্ষার কথা জানাচ্ছেন তরুণ প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন।

একই সঙ্গে মনির জানাচ্ছেন বজ্রপাত সুরক্ষায় আরো কিছু সর্তকতার কথা।

মনিরের এই পদ্ধতির কিছুটা পরিমার্জন ও সংযোজনের কথা জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, কৃষকের সচেতনতাই তার সুরক্ষার জন্য রাখতে পারে কার্যকর ভূমিকা।

ফেনিক্স’ অ্যান্ড্রয়েড ব্রাউজার আনছে ফায়ারফক্স

অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের (ওএস) গ্রাহকদের জন্য নতুন ব্রাউজার আনছে ওপেন সোর্স ব্রাউজারের নির্মাতা জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজার মজিলা ফায়ারফক্স। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ে ‘ফেনিক্স’ নামে ওই অ্যাপটি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করছে লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মজিলা ফাউন্ডেশন।

নতুন ওই অ্যাপটি তরুণ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষদের নজর কাড়বে বলে রোববার (০৮ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে ডেস্কটপ ওয়েব ব্রাউজারের এ প্রতিষ্ঠানটি।

নতুন ওই অ্যাপটি সাজানো হচ্ছে ভিন্নভাবে। রাখা হচ্ছে নতুন নতুন ফিচার। সঙ্গে আকর্ষণীয় থিমও থাকছে। যা অন্যান্য অ্যান্ড্রয়েড ব্রাউজারকে ছাড়িয়ে যাবে বলে মজিলার প্রত্যাশা।

গত জুন থেকে ‘ফেনিক্স’ অ্যাপটি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন মজিলার কর্মকর্তারা। জনপ্রিয় ভার্সন ‘গিটহাবে’ সাজানো হচ্ছে এ অ্যাপটি।

ফেসবুক, টুইটার ও ইউটিউবসহ ওয়েবসাইট ব্রাউজ করতে নতুন এ অ্যাপটিতে তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ-সুবিধা থাকবে বলে তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।

গুগল ড্রাইভের প্রয়োজনীয় ৮ ফিচার

অনলাইনে তথ্য সংরক্ষণের জন্য গুগল ড্রাইভ বেশ জনপ্রিয়। ২০১৭ সালের হিসাবে, গুগলের এ সেবার গ্রাহক ৮০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। গুগল ড্রাইভ আরও সহজভাবে ব্যবহারের জন্য রয়েছে কিছু শর্টকার্ট টিপস, বেশ কিছু ফিচার। 

গুগল ড্রাইভের প্রয়োজনীয় টিপসসহ ৮টি ফিচার পাঠকদের জন্য আলোচনা করা হলো-

১. সহজেই ছবি বের করা: গুগল ড্রাইভে ছবিসহ ওয়ার্ড ফাইল, পিডিএফ ফাইল সংরক্ষণ করা যায়। ড্রাইভের হোম পেজে সাম্প্রতিক দেখা জিনিসগুলোই আগে দেখা যায়। সেক্ষেত্রে অনেক দিন আগে আপলোড করা প্রয়োজনীয় ছবি খুঁজে পেতে কষ্ট হয়। 

এজন্য ড্রাইভের সার্চ অপশনে গিয়ে Jpg লিখে সার্চ দিলে আপলোড করা সব ছবি খুঁজে পাওয়া যাবে। মোবাইল অ্যাপেও এভাবে খুব দ্রুত ছবি খুজে পাওয়া যাবে। 

২. সার্চ ফিল্টার: গুগল ড্রাইভের সার্চ অপশনে নির্দিষ্ট সার্চ করার জন্য সার্চ ফিল্টার ব্যবহার করা যায়। এক্ষেত্রে সার্চ অপশনের ডান দিকে ছোট অ্যারোর মতো জায়গাটিতে ক্লিক করতে হবে। এরপর সার্চ অপশনে নিজের ইচ্ছামতো ফিল্টার ব্যবহার করা যাবে। 

৩. ‘কুইক অ্যাকসেস’ চালু: গুগল ড্রাইভের কুইক অ্যাকসেস ফিচারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট হোম পেজে খুঁজে পাওয়া যাবে। এজন্য ড্রাইভের সেটিং অপশনের ‘কুইক অ্যাকসেস’ এ গিয়ে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট কুইক অ্যাকসেস করতে হবে। 

৪. মেইলে ফাইল অ্যাটাচমেন্ট না করে লিংক পাঠানো: জিমেইলের অ্যাটাচমেন্টে ড্রাইভের একটি অপশন রয়েছে। সেখানে ক্লিক করে ড্রাইভে সংরক্ষিত ডকুমেন্টের লিংক পাঠানো যাবে। মেইলে ২৫ এমবির বড় সাইজের ফাইল পাঠানো না গেলেও এতে তার চেয়ে বড় সাইজের ফাইল পাঠানো যাবে। 

৫. ব্যাক-আপ: ফোনের প্রয়োজনীয় ডাটাও এখন গুগল ড্রাইভের ব্যাপ-আপে সংরক্ষণ করা যাবে। এজন্য মোবাইল অ্যাপের সেটিং অপশনে গিয়ে ব্যাক-আপে যেতে হবে। এরপর যা ব্যাক-আপ করতে চান তা সিলেক্ট করতে হবে। 

৬. কম্পিউটারের ফোল্ডার ব্যাক-আপ: কম্পিউটারের প্রয়োজনীয় ফোল্ডারও ব্যাক-আপে রাখা যাবে। এজন্য ব্যাক-আপের অ্যাপ ডাউনলোড দিতে হবে। এরপর ড্রাইভারের বাম দিকে কম্পিউটার অপশনে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় ফাইল ব্যাক-আপে রাখা যাবে।

৭. মাইক্রোসফট অফিস ফাইলে কমেন্ট: মাইক্রোসফট অফিসের সব প্যাকেজে (যেমন: ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট) প্রভৃতির ক্ষেত্রে গুগল ড্রাইভেই প্রয়োজনীয় কমেন্ট করা যাবে। এজন্য ফাইলটি ওপেন করে ‘অ্যাড ইউর কমেন্ট’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর লেখাটি সিলেক্ট করে কমেন্ট করতে হবে।   

৮. ইন্টারনেট না থাকলেও গুগল ড্রাইভ ব্যবহার: ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও ব্যবহার করা যাবে গুগল ড্রাইভ। এজন্য প্রথমে ‘গুগল ডক অফলাইন’ ইনস্টল করতে হবে। ‘গুগল ডক অফলাইন’ ইনস্টল হয়ে গেলে গুগল ড্রাইভে লগ ইন করতে হবে। এরপর সেটিংসের অফলাইন অপশনে গিয়ে অন করে দিতে হবে।

জুলাই মাসে শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ

বিশ্ব আগামী জুলাই মাসেই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে চলেছে। এই শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হবে ২৭ ও ২৮ জুলাই। ওই দুই দিন দেখা যাবে ‘ব্লাড মুন’ বা রক্তাভ চাঁদও।

গোটা চন্দ্রগ্রহণ প্রক্রিয়াটি হবে টানা ৪ ঘণ্টা ধরে। তার মধ্যে ১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট ধরে চলবে পূর্ণগ্রাস। এ বছর শেষ বার রক্তাভ চাঁদ বা ব্লাড মুন দেখা গিয়েছিল জানুয়ারি মাসে ৪৫ মিনিট ধরে।

জানা গিয়েছে আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী, গ্রহণ হবে রাত ৮টা ২২ মিনিটে। চাঁদ একেবারে অদৃশ্য হবে না। রক্তাভ চাঁদ দেখবে বিশ্ব। ঠিক সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় যেমন লাল দেখায় সূর্যকে। ঠিক সেরকম। হলুদ ও লালের সংমিশ্রণ।

পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ কী?

সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই পথে চলে এলে গ্রহণ হয়। পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদ পুরোপুরি ঢেকে গেলে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হয়। পুরো গ্রহণ হওয়া চাঁদকে ব্লাড মুন বলা হয়।

ব্লাড মুন কী?

বাতাসে কত ধুলো রয়েছে তার ভিত্তিতে চাঁদের রঙ জায়গা বিশেষে পাল্টে যায়। কোথাও বেশি লাল হয় তো কোথাও ধূসর। পৃথিবীকে আমরা কতটা দূষিত করেছি তার প্রমাণ এতে পাওয়া যায়। যে অঞ্চল যতটা দূষিত সেখানে চাঁদের রঙ বায়ুমন্ডল ভেদ করে দেখতে গেলে ততটা লালচে দেখায়।

কিটি হকের উডুক্কুযান

যাত্রী নিয়ে আকাশে উড়বে এমন যান উন্মোচন করেছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কিটি হক। উড়ুক্কু যানকে মানুষের ‘দৈনন্দিন জীবনের অংশ’ করার লক্ষ্যে ‘ফ্লাইয়ার’ নামের এই যানটি উন্মোচন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

কিটি হক প্রধান সেবাস্টিয়ান থ্রুন বলেন, ফ্লাইয়ার ‘ওড়ানো সহজ’ এবং এটি বিনোদনমূলক কাজের জন্য নিখুঁত। এর আগে গুগল এক্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন থ্রুন, বলা হয়েছে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড মিররের প্রতিবেদনে।

ছোট এই উডুক্কুযানটির পাখার বিস্তৃতি ৮ঢ১৩ ইঞ্চি। মাত্র একজন ব্যক্তিকে উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারবে এটি।

গতি এবং সর্বোচ্চ উচ্চতার দিক থেকে কিছুটা কম আকর্ষণীয় হতে পারে ফ্লাইয়ার। তিন মিটার উচ্চতায় ঘন্টায় সর্বোচ্চ ২০ মাইল বেগে উড়তে পারে উডুক্কুযানটি।

নতুন এই উডুক্কুযানটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক বলা হচ্ছে এটি অত্যন্ত নিঃশব্দে চলে।

প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে কিটি হক জানায়, “সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক মোটর থেকে চালিকা শক্তি পায় ফ্লাইয়ার, যা যেকোনো জীবাশ্ম জ¦ালানী চালিত উডুক্কুযানের চেয়ে নিঃশব্দে চলে।”

“ফ্লাইয়ার যখন আকাশে থাকে দূরত্বের ওপর নির্ভর করে ঘাস কাটার যন্ত্র (৫০ ফুট) বা জোড়ে কথোপকথনের (২৫০ ফুট) মতো শব্দ করে।”

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায় গ্রাহক চাইলে এখনই কিনতে পারবেন ফ্লাইয়ার। তবে এটির বাজার মূল্য এখনও নিশ্চিত করে বলা হয়নি।

‘২০২১ সালে বাংলাদেশে চালু হবে ৫জি’

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, আমাদের টার্গেট হচ্ছে ২০২১ সালে বাংলাদেশে ৫জি সেবা চালু করা। তবে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার সাথে সঙ্গতি রেখে এই সর্বাধুনিক সেবা চালু করা দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আজ বুধবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চতুর্থ বার্ষিক ‘হুয়াওয়ে এশিয়া-প্যাসিফিক ইনোভেশন ডে’ সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মেলনে ডিজিটাল এশিয়া প্যাসেফিক অঞ্চল গড়তে নতুন উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। সেই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের জন্য ৮১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণাও দেওয়া হয়।

হুয়াওয়ে টেকনোলজিস এবং থাইল্যান্ডের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘ডিজিটাল এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য উদ্ভাবন’। অনুষ্ঠানে সারা বিশ্ব থেকে মোট ৩০০ জন সরকারি প্রতিনিধি ও প্রযুক্তি খাত বিশেষজ্ঞরা ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বাংলাদেশ থেকে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

সম্মেলনে যোগ দিতে ইস্তোনিয়ায় গেলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী পলক

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক উত্তর ইউরোপের দ্বীপরাষ্ট্র ইস্তোনিয়ায় একটি সম্মেলনে যোগ দিতে রোববার ঢাকা ত্যাগ করেছেন।
আগামী ২৯-৩০ মে ইস্তোনিয়ার রাজধানী তাল্লিনে অনুষ্ঠিতব্য ‘তাল্লিন ই-গভার্নেন্স কনফারেন্স ২০১৮’-এ তিনি যোগদান করবেন।
ইস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট ক্রিস্তি কালজুলেড এ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন। এতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় ই-গভর্নেন্স বিশেষজ্ঞ, নীতি নির্ধারক ও সিভিল সোসাইটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করবেন। সম্মেলনে ই-গভর্নেন্স অ্যাপ্লিকেশন এর উন্নয়ন ও বাস্তবায়নে সরকারের সহায়তার বিষয়ে কর্মকৌশল নিয়ে নীতি নির্ধারণী আলোচনা হবে।
প্রতিমন্ত্রী পলক আগামী ১ জুন দেশে ফিরবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

ফেসবুকের দায়িত্ব নিতে চান হিলারি

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হতে চান সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গুটিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম এই মাধ্যমের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

ম্যাসাচুসেটস রাজ্যের ডেমোক্রেট দলীয় অ্যাটর্নি জেনারেল মাওরা হেলি হিলারিকে প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি কোন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী হতে চান?

জবাব দিতে একটুও সময় নেননি হিলারি। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি বলেন, ফেসবুক। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সি নেট এ খবর দিয়েছে।

সতর্ক হোন হেডফোন ব্যবহারে: জেনে নিন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উন্নত হচ্ছে প্রযুক্তি। আর প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় মানুষের দৈনন্দিন জীবন হয়ে উঠছে গতিময় ও আরামদায়ক। কিন্তু বিজ্ঞানের এই আশির্বাদই কখনো কখনো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটায়। হেডফোন হচ্ছে তেমনই একটি প্রযুক্তি যার বেশকিছু ক্ষতিকর দিক রয়েছে। ছোট্ট এই গেজেটটি ছোট-বড় সবাই ব্যবহার করলেও এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না। তাহলে আর দেরি না করে চলুন জেনে নেই হেডফোনের কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে।

১. শ্রবণ জটিলতা
যখন আপনি হেডফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহার করেন তখন সরাসরি অডিও আপনার কানে যায়। ৯০ ডেসিবেল বা তার বেশি মাত্রার শব্দ যদি আপনার কানে যায় তাহলে শ্রবণ জটিলতা ঘটাতে পারে এবং এমনকি আপনি চিরতরে আপনার শ্রবণ ক্ষমতা হারাতেও পারেন। এছাড়া ১০০ ডেসিবলের উপর মাত্র ১৫ মিনিট এয়ারফোন ব্যবহার করলে শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে।

২. বাতাস প্রবেশে বাধা
বর্তমানে কিছু এয়ারফোনে চমৎকার শব্দ পাওয়া গেলেও তার স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। এসব এয়ারফোন এয়ারক্যানেল পর্যন্ত প্রবেশ করানো হয়। এতে কানের ভিতর বায়ু প্রবেশ করতে পারে না। যার ফলে ইনফেকশনের সম্ভাবনা আরো বেশি হয়।

৩. কানে ব্যাথা
যারা অতিরিক্ত হেডফোন ব্যবহার করেন তারা সাধারনত এর সমস্যায় ভুগেন। মাঝে মাঝে কানের ভেতরে ভোঁ ভোঁ আওাজ হয়ে থাকে। এটিও কিন্তু ক্ষতির লক্ষণ।

৪. কানে ইনফেকশন বা প্রদাহ
একটি হেডফোন একজনেরই ব্যবহার করা উচিৎ। কিন্তু আমরা একটি এয়ারফোন একাধিক ব্যক্তি, বন্ধু-বান্ধবদের সাথে শেয়ার করে থাকি। এতে কানে ইনফেকশনের সম্ভাবণা থাকে। কারণ এয়ারফোনের মাধ্যমে একজনের কানের জীবাণু অন্যজনে বাহিত হয়। সুতরাং এখন থেকে এয়ারফোন শেয়ার করবেন না। করলে অবশ্যই ব্যবহারের পূর্বে জীবাণুনাশক ব্যবহার করে নিবেন।

৫. শ্রবণশক্তির জড়তা
কিছু সমীক্ষায় জানা যায়, যারা এয়ারফোন ব্যবহার করে উচ্চ শব্দে মিউজিক শোনেন তাদের কানে জড়তা চলে আসে। এই জড়তা স্বাভাবিক হলেও দীর্ঘ সময় উচ্চস্বরে মিউজিক বাজালে শ্রবণশক্তিও হারাতে পারেন।

৬. মস্তিষ্কের উপর খারাপ প্রভাব
হেডফোনের দ্বারা সৃষ্ট ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক তরঙ্গ আপনার মস্তিষ্কের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। আর যারা ব্লুটুথ হেডফোন ব্যবহার করেন তারা আরো বেশি ঝুঁকিতে আছেন। কান সরাসরি মস্তিষ্কের সাথে যুক্ত। তাই হেডফোন সরাসরি আপনার মস্তিষ্কে আঘাত হানে।

অ্যাপল-স্যামসাং মামলা ৫৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারে

পেটেন্ট করা স্মার্টফোন ফিচার নকলের দায়ে অ্যাপলকে ৫৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার পরিশোধ করা উচিত স্যামসাংয়ের, পাঁচদিনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার এই রায় দিয়েছেন এক মার্কিন বিচারক।

কয়েক বছর ধরে পেটেন্ট নিয়ে এই লড়াই চালাচ্ছে দুই স্মার্টফোন জায়ান্ট। এই রায়ের মাধ্যমে এই লড়াইয়ের অবসান ঘটলো, এমনটাই বলা হয়েছে রয়টার্সের প্রতিবেদনে।

২০১১ সাল থেকে এই মামলা নিয়ে আদালতে লড়ছে এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠানটি আইফোনে অ্যাপলের আনা একাধিক উদ্ভাবনী ফিচারের পেটেন্ট লঙ্ঘন করেছে, এমন সন্ধান পাওয়ার পর ২০১২ সালে এক বিচারক অ্যাপলের পক্ষে রায় দেন। এই রায়ে অ্যাপল ১০৫ কোটি ডলার জিতে নেয়।

কিন্তু এ নিয়ে গ্যালাক্সি স্মার্টফোন নির্মাতার করা প্রথম আপিলের শুনানিতে অ্যাপলের জিতে নেওয়া অর্থের পরিমাণ কমিয়ে ৪০ কোটি ডলার করা হয়। কিন্তু এই জরিমানা কীভাবে গণণা করা হয়েছে তা জানতে সুপ্রিম কোর্ট রুল জারি করলে তা নিয়ে নতুন একটি শুনানির প্রয়োজন হয়।

এর আগে স্যামসাং অ্যাপল-কে এই মামলার কিছু পেটেন্ট লঙ্ঘন বাবদ ইতোমধ্যেই ৩৯ কোটি ৯০ ডলার জরিমানা পরিশোধ করেছে। ফলে সর্বশেষ রায় অনুসারে স্যামাসাংকে আরও ১৪ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হবে।

সর্বশেষ রায় নিয়ে অ্যাপলের পক্ষ থেকে বলা হয়, “আমাদের পণ্য নকল করায় স্যামসাংয়ের পরিশোধ করা উচিৎ”- বিচারকরা এতে সম্মতি দেওয়ায় অ্যাপল সন্তুষ্ট। মার্কিন টেক জায়ান্টটি বলে, “আমরা নকশার মূল্য দিতে গভীরভাবে বিশ্বাস করি। এই মামলা সবসময়ই অর্থের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”

এই রায় নিয়ে স্যামসাং আপিলের পরিকল্পনা করছে কিনা তা নিয়ে তাৎক্ষগণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। কিন্তু দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, এই লড়াইয়ে হাতে থাকা “সব সুযোগ” কাজে লাগাতে যাচ্ছে তারা।

বীভৎস ছবি মুছে ফেলেছে ফেসবুক !

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ৩৪ লাখ বীভৎস ছবি মুছে ফেলেছে ফেসবুক। যা গত বছরের তিন গুণ বলে দাবি সংস্থার। তবে আপত্তিকর পোস্ট চিহ্নিত করতে মূলত ব্যবহারকারীদের ওপরেই ভরসা করেছে ফেসবুক। ব্যবহারকারীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৮৫.৬ শতাংশ আপত্তিকর পোস্ট সনাক্ত করা হয়েছে।

এছাড়াও কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কাণ্ডের জেরে প্রায় ৫৮ কোটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট মুছে দিল ফেসবুক। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এই অ্যাকাউন্টগুলি মুছে হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ফেসবুকের দাবি, তাদের নীতিমালার পরিপন্থী হওয়ায় এই পদক্ষেপ করেছে তারা।

কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা বিতর্কের পর বেজায় বিপাকে পড়েছে ফেসবুক। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ব্রিটেন সরকার। নানা দিক থেকে আসা চাপের মুখে অবশেষে ফেসবুক এই পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফেসবুকের দাবি, এত কিছুর পরেও ফেসবুকে অন্তত ৩-৪ শতাংশ ভুয়ো অ্যাকাউন্ট রয়ে গেছে। এছাড়া মুছে ফেলা হয়েছে প্রায় ৮৪ লক্ষ অবাঞ্ছিত মেসেজ। আপত্তিকর মেসেজ পাঠানোয় সতর্ক করা হয়েছে ৩ কোটি ব্যবহারকারীকে।